এই ব্লগটি সন্ধান করুন

নদীর বিদ্রোহ গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর পর্ব 2 | Nadir Bidroho Question Answer in Bengali

0

নদীর বিদ্রোহ গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর পর্ব 2

ভূমিকা : WBBSE বোর্ডের মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষা মোট ৯০ নম্বরের হয়। এই ৯০ নম্বরের মধ্যে পাঠ্য গল্প থেকে মোট ১৫ নম্বর থাকে। পাঠ্য গল্পগুলি থেকে ৫ নম্বর মানের ২টি প্রশ্ন পরীক্ষায় এসে থাকে, যার মধ্যে যেকোনো ১টি প্রশ্নের উত্তর করতে হয়। তাই তোমাদের সুবিধার জন্য এই দ্বিতীয় পর্বে কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫ নম্বর মানের কিছু প্রশ্নোত্তর নিচে আলোচনা করা হলো। তবে 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে ৩ নম্বরের প্রশ্নোত্তর পড়তে চাইলে এই গল্পের আগে দেওয়া 'নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর পর্ব ১' এই পোস্টটি পড়তে হবে। নিচে 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পের ৫ নম্বর মানের প্রশ্নোত্তরগুলি দেওয়া হলো —

নদীর বিদ্রোহ গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর পর্ব 2

Nadir Bidroho Question Answer :

[প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫]

1. "ত্রিশ বছর বয়সে নদীর জন্য নদেরচাঁদের এত বেশি মায়া একটু অস্বাভাবিক"- নদেরচাঁদের পরিচয় দাও? নদীর প্রতি তার এই অস্বাভাবিক মায়া কীরূপ তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো।
উত্তর :
বাংলা সাহিত্যের কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ত্রিশ বছরের যুবক নদেরচাঁদের নদীর প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসার কাহিনি ফুটে উঠেছে।
নদেরচাঁদের পরিচয় : পেশাগতভাবে নদেরচাঁদ একটি ছোট স্টেশনের কর্তব্যপরায়ণ স্টেশনমাস্টার। তবে যান্ত্রিক পেশার আড়ালে তার জীবনের মূল পরিচয় হলো, সে একজন পরম নদীপ্রেমিক মানুষ।
নদীর প্রতি অস্বাভাবিক মায়া : ত্রিশ বছরের পরিণত মানুষ হলেও নদীর প্রতি তার আকর্ষণ ছিল সাধারণের চোখে অস্বাভাবিক। এর প্রমাণগুলি হল -
(ক) প্রাণের আত্মীয় ভাবা : নদেরচাঁদের কাছে নদী কোনো প্রাণহীন বিষয় ছিল না। গ্রামের ক্ষীণ স্রোতের নদীটিকে সে রুগ্‌ণ আত্মীয়ের মতোই গভীরভাবে ভালোবাসত।
(খ) নদীর সংকটে অস্থিরতা : একবার অনাবৃষ্টিতে গ্রামের নদীটির জল প্রায় শুকিয়ে যাচ্ছিল। তখন প্রিয়জনের মৃত্যুর আশঙ্কার মতো গভীর বেদনায় সে কেঁদে ফেলেছিল।
(গ) শিশুসুলভ প্রবল আগ্রহ : টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির পর বর্ষণ থামলে, নদেরচাঁদ সহকারীর ওপর স্টেশনের ভার দিয়ে অবিকল শিশুর মতোই নদীকে দেখতে ছুটে যায়।
(ঘ) স্রোতে আবেগ সমর্পণ : ব্রিজে বসে নদীর প্রমত্ত রূপ দেখার সময় সে স্ত্রীকে লেখা পাঁচ পাতার চিঠিটি বের করে নদীর জলে ভাসিয়ে দেয়।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় একজন পরিণত মানুষের মনে নদীর প্রতি এমন সীমাহীন আবেগ সত্যিই বিরল। তাই বাস্তববাদী মানুষদের কাছে নদেরচাঁদের এই তীব্র নদীপ্রেমকে 'অস্বাভাবিক' মনে হওয়াই স্বাভাবিক।

2. 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প অবলম্বনে নদীর প্রতি নদেরচাঁদের অকৃত্রিম ভালোবাসার পরিচয় দাও। [Madhyamik 2019]
উত্তর :
বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদেরচাঁদের হৃদয়ে নদীর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার পরিচয় পাওয়া যায়। যা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করছি -
নদীর প্রতি নদেরচাঁদের অকৃত্রিম ভালোবাসা :
(ক) শৈশব ও নদী : নদেরচাঁদের জীবনের সঙ্গে নদী শৈশব থেকেই জড়িয়ে ছিল। গ্রামের ক্ষীণস্রোতা নদীকে সে অসুস্থ আত্মীয়ার মতো ভালোবেসেছিল। অনাবৃষ্টির বছরে নদীর জল শুকানোর উপক্রম হলে তার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠেছিল।
(খ) যৌবন ও নদী সান্নিধ্য : কর্মজীবনে প্রবেশ করেও নদীর প্রতি তার টান কমেনি। স্টেশন মাস্টারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তার দৈনিক নদী সান্নিধ্যে ছেদ পড়েনি। নদীকে দেখার আশায় সে প্রতিদিন এক মাইল পথ হেঁটে নদী দেখতে যেত।
(গ) উন্মত্ত ব্যাকুলতা ও আনন্দ : পাঁচদিন বৃষ্টির পর নদীকে দেখতে না পেয়ে ব্যাকুল নদেরচাঁদ সহকারীকে দায়িত্ব দিয়ে নদী দেখতে যায়। ব্রিজের ধারে বসে পঙ্কিল জলস্রোত দেখে রোমাঞ্চিত হয়ে সে স্ত্রীকে লেখা পাঁচ পৃষ্ঠার চিঠি ছিঁড়ে নদীর বুকে ভাসিয়ে দেয়।
(ঘ) নদীর বিদ্রোহ অনুধাবন : নদীর রুদ্ররূপ দেখে নদেরচাঁদ বোঝে, ইট-সিমেন্টের ব্রিজ ও কৃত্রিম বাঁধ ভেঙে নদী স্বাভাবিক গতিতে বয়ে যাওয়ার জন্য 'বিদ্রোহ' করেছে। বন্দি নদীর এই মুক্তি সে উপলব্ধি করে।
(ঙ) ভালোবাসার করুণ পরিণতি : নদীর মুক্তির কথা ভাবতে ভাবতে ফেরার সময় '৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার' ট্রেন তাকে পিষে দেয়। প্রিয় নদীর বুকেই যান্ত্রিক সভ্যতার চাকায় পিষ্ট হয়ে তার জীবনাবসান ঘটে।
উপসংহার: অতএব বলা যায়, শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নদেরচাঁদের জীবন নদীর ভালোবাসায় গাঁথা এক চিরন্তন উপাখ্যান।

3. 'জলপ্রবাহকে আজ তাহার জীবন্ত মনে হল।'- কার জলপ্রবাহকে জীবন্ত মনে হল? জীবন্ত মনে হওয়ার কারণ কী ছিল তা বর্ণনা করো।
উত্তর :
বাংলা সাহিত্যের কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। গল্পের প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদের তার কর্মস্থলের পাশের নদীটির জলপ্রবাহকে জীবন্ত বলে মনে হয়েছিল।
জীবন্ত মনে হওয়ার কারণ : নদেরচাঁদের নিজের গ্রামের নদীটি ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ ও রুগ্‌ণ। একজন রোগাক্রান্ত পরমাত্মীয়ার প্রতি মানুষের যেমন গভীর মায়া ও সহানুভূতি থাকে, গ্রামের সেই নদীর প্রতিও তার ঠিক তেমনই টান ছিল। কিন্তু কর্মসূত্রে স্টেশনে আসার পর এখানকার প্রশস্ত নদীর সঙ্গে তার এক নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই নদীর জলপ্রবাহ অত্যন্ত উদ্দাম ও উন্মত্ত রূপ নিত। আর সেই টানে নদেরচাঁদ প্রতিদিন ব্রিজের ধারে ছুটে যেত।
এক বর্ষায় টানা বৃষ্টির পর নদীর প্রবল জলস্রোত ব্রিজের ধারকস্তম্ভে প্রচণ্ড জোরে বাধা পেয়ে ফেনা জড়ানো এক বিশাল আবর্ত তৈরি করেছিল। নদীর সেই ভয়ংকর রূপ দেখতে দেখতে নদেরচাঁদ তার স্ত্রীকে লেখা একটি পুরোনো চিঠি ওই ফেনিল আবর্তের দিকে ছুড়ে দেয়। চিঠিটি জলে পড়ার সাথে সাথেই তার মনে হয়, নদীটি যেন সেটি সানন্দে লুফে নিয়ে নিজের স্রোতের গভীরে লুকিয়ে ফেলেছে। এই দৃশ্য দেখে তার মনে হয় নদীও যেন তার সাথে এক অদ্ভুত খেলায় মেতে উঠেছে।
উপসংহার : সুতরাং নিজের ছোড়া চিঠিটিকে নদীর এভাবেই যেন গ্রহণ করা এবং জলপ্রবাহের এমন দুরন্ত, উন্মত্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ প্রত্যক্ষ করেই মূলত নদেরচাঁদের কাছে ওই প্রমত্ত নদীটিকে একটি সম্পূর্ণ জীবন্ত সত্তা বলে মনে হয়েছিল।

4. "তার চার বছরের চেনা এই নদীর মূর্তিটিকে তাই যেন আরো বেশি ভয়ংকর আরও বেশি অপরিচিত মনে হইল"- এখানে কোন নদীটির কথা বলা হয়েছে? নদীটির কোন রূপ দেখে আরো বেশি ভয়ংকর আরো বেশি অপরিচিত মনে হয়েছিল?
উত্তর :
বাংলা সাহিত্যের কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। এখানে নদেরচাঁদের কর্মস্থলের কাছের চার বছরের পরিচিত প্রিয় নদীটির কথা বলা হয়েছে। টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির পর বর্ষণ থামলে নদেরচাঁদ এক মাইল হেঁটে তার প্রিয় নদীটিকে দেখতে যায়।
আরো বেশি ভয়ংকর আরো বেশি অপরিচিত মনে হওয়ার কারণ :
(ক) নদীর উন্মত্ত রূপ : মাত্র পাঁচ দিন আগেই নদেরচাঁদ তার চেনা নদীটিকে শান্ত অবস্থায় দেখে গিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ দিনের একটানা বর্ষণের জলে পুষ্ট হয়ে চিরচেনা নদীটিই যেন ভয়ংকরভাবে খেপে গিয়ে সম্পূর্ণ উন্মত্ত রূপ ধারণ করেছে।
(খ) জলের বিপজ্জনক উচ্চতা : অবিরাম বৃষ্টির কারণে নদীর জলস্তর ফুলেফেঁপে এতটাই ওপরে উঠে এসেছে যে, ব্রিজের ওপর বসে থাকা নদেরচাঁদের মনে হচ্ছিল, এই ভয়ংকর জীবন্ত জলপ্রবাহে বুঝি সামান্য হাত বাড়ালেই অনায়াসে জল ছোঁয়া যাবে।
(গ) ফেনিল আবর্তের সৃষ্টি : পূর্ণ নদীর প্রবল স্রোত তীব্র বেগে ছুটে এসে ব্রিজের ধারকস্তম্ভগুলোতে সজোরে ধাক্কা খাচ্ছিল। আর সেই প্রচণ্ড ধাক্কায় চারদিকে ফেনা জড়ানো এক বিশাল ও ভয়ংকর আবর্ত তৈরি করেছিল।
(ঘ) আচরণের আমূল পরিবর্তন : পাঁচ দিন আগে নদীর চঞ্চলতায় একটা পরিপূর্ণতার আনন্দ মিশে থাকলেও, এখন তার চিরপরিচিত শান্ত ভাব একেবারে কেটে গিয়ে এক ভয়ংকর পরিবর্তন দেখা যাচ্ছিল।
(ঙ) ক্ষুব্ধ ও হিংস্র ধারা : বৃষ্টির জলে পরিপূর্ণ হয়ে নদীটি এক হিংস্র মূর্তি ধারণ করেছিল। তার স্রোতের ধারা আগের চেয়ে অনেক বেশি বিদ্রোহী, চঞ্চল এবং ফেনোচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিল।
উপসংহার : সুতরাং চার বছরের চেনা নদীর এমন বিদ্রোহী ও রুদ্রমূর্তি দেখে নদেরচাঁদ আতঙ্কে স্তম্ভিত হয়ে যায়। মূলত এই ক্ষুব্ধ রূপের জন্যই নদীটিকে তার অপরিচিত মনে হয়েছিল।

4. 'নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে'- এখানে কার পাগলামির কথা বলা হয়েছে? গল্পে তার কোন পাগলামির পরিচয় পাই লেখো। ২+৩ [Madhyamik 2023]
উত্তর :
বাংলা সাহিত্যের কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র স্টেশন মাস্টার নদেরচাঁদের নদীর প্রতি গভীর টান ও ভালোবাসাকেই এখানে 'পাগলামি' বলা হয়েছে। গল্পে তার এই নদীপ্রীতির ভিন্ন রূপ বা দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করা যায়। যেমন -
(ক) জন্মলগ্ন থেকেই নদীর প্রতি টান : নদীর প্রতি নদেরচাঁদের এই আসক্তি কোনো ক্ষণস্থায়ী আবেগ ছিল না। কর্মক্ষেত্রে নানা ঝামেলার মাঝেও তার নদী দেখার অভ্যাসে কখনো ভাটা পড়েনি। প্রিয় নদীকে একনজর দেখার জন্য সে রোজ নিয়ম করে এক মাইল রাস্তা হেঁটে ব্রিজে চলে আসত।
(খ) নদী দর্শনের তীব্র আকুলতা : একটানা পাঁচ দিন ভারী বৃষ্টির কারণে সে নদীটিকে দেখতে পায়নি। তাই বৃষ্টি থামামাত্রই সহকারীর কাছে কাজের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে সে একরকম ছোটোবেলার শিশুর মতো উৎসাহ ও অস্থিরতা নিয়ে নদী দেখতে ছুটে গিয়েছিল।
(গ) নদীর রূপ নিয়ে মনের কল্পনা : রেললাইনের উঁচু বাঁধের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তার মাথায় অন্য কোনো সাধারণ চিন্তা ছিল না। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি নদীর চেহারায় কী দারুণ ও অদ্ভুত পরিবর্তন এনেছে, মনে মনে সে কেবল সেই দৃশ্যই কল্পনা করছিল।
(ঘ) নদীর সঙ্গে খেলা করার আনন্দ : ফুলে ফেঁপে ওঠা নদীর দুরন্ত রূপ দেখে তার মধ্যে খেলার নেশা চেপে বসেছিল। সেই লোভ সামলাতে না পেরে সে পকেট থেকে নিজের স্ত্রীর কাছে লেখা পাঁচ পাতার একটি চিঠি বের করে, তার প্রতিটি পাতা ছিঁড়ে জলে ভাসিয়ে দিয়ে আনন্দ পেয়েছিল।
(ঙ) বৃষ্টির জলে ভিজে সংজ্ঞাহীন হওয়া : চিঠির পাতা ছেঁড়ার পর যখন আবার মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়, তখন নদীর গর্জন আর বৃষ্টির শব্দ মিলে তৈরি হওয়া এক অদ্ভুত সুর সে উপভোগ করতে থাকে। এই মোহময় শব্দে তার সারা শরীর অবশ হয়ে আসে এবং সে মন্ত্রমুগ্ধের মতো চুপ করে বসে থাকে।
উপসংহার : নদেরচাঁদের এই আচরণ কোনো পাগলামি বা অসুস্থ মানসিকতা নয়, বরং প্রকৃতির প্রতি তার খাঁটি ভালোবাসার প্রকাশ। আর এর মধ্যেই সে নিজের মনের গভীপ্রশান্তি ও আনন্দ খুঁজে পেয়েছিল।

5. 'নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ৎ নদেরচাঁদ দিতে পারে"- নদেরচাঁদ কোন কৈফিয়ৎ দিতে পারে? এভাবে ভালোবাসার শেষে কি পরিণতি হয়েছিল? [2+3]
উত্তর :
বাংলা সাহিত্যের কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। এই গল্পের মূল চরিত্র নদেরচাঁদের নদীপ্রীতি অনেকের কাছে পাগলামি মনে হলেও, নিজের স্বপক্ষে তার একটি জোরালো যুক্তি ছিল।
নদীপ্রেমের কৈফিয়ৎ : নদেরচাঁদের এই প্রবল আকর্ষণ আচমকা গড়ে ওঠা কোনো ক্ষণস্থায়ী অনুভূতি ছিল না। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা নদীর তীরেই সম্পন্ন হয়েছিল। শৈশব থেকেই নদীর জল ও বাতাসের সাথে তার অস্তিত্বের এক নিবিড় যোগসূত্র তৈরি হয়েছিল। মূলত নদীর প্রতি এই আত্মিক টান থেকেই সে তাকে এত গভীরভাবে ভালোবাসতো।
ভালোবাসার মর্মান্তিক পরিণতি : নদেরচাঁদের এই তীব্র নদীপ্রেমের শেষটা ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। নদীর ভয়ংকর মূর্তি দেখে সে উপলব্ধি করে যে, মানুষের বানানো ইট-সিমেন্টের ব্রিজ ও কৃত্রিম বাঁধের শেকল ছিঁড়ে নিজের স্বাধীন ছন্দে বয়ে চলার জন্যই নদীর এই বিদ্রোহ। রাতের অন্ধকারে সেই অবরুদ্ধ নদীর মুক্তির কথা ভাবতে ভাবতে সে যখন অন্যমনস্কভাবে রেললাইন দিয়ে হাঁটছিল, তখন যন্ত্রসভ্যতার নির্মম প্রতীক '৭ নম্বর ডাউন প্যাসেঞ্জার' ট্রেন তাকে পিষ্ট করে যায়।
উপসংহার : যে নদীকে সে আজীবন নিজের প্রাণের অধিক ভালোবেসেছিল, শেষমেশ সেই নদীর বুকেই যন্ত্রসভ্যতার চাকায় তার মৃত্যু ঘটে। আর এভাবেই নদেরচাঁদের জন্ম, শৈশব, যৌবন ও মৃত্যু নদীর সাথে মিলেমিশে এক শাশ্বত ভালোবাসার কাহিনিতে পরিণত হয়।

6. 'ব্রিজের কাছাকাছি আসিয়া প্রথমবার নদীর দিকে দৃষ্টিপাত করিয়াই নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল।'- নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হওয়ার কারণ কী? নদীর পাঁচ দিন আগের রূপের সঙ্গে এই রূপের পার্থক্য লেখো। [2+3]
উত্তর :
বাংলা সাহিত্যের কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। টানা পাঁচ দিন অবিশ্রান্ত বৃষ্টির পর নদেরচাঁদ তার চেনা নদীটিকে দেখতে গিয়ে এক অভাবনীয় দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে।
নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হওয়ার কারণ : চার বছর ধরে চেনা নদীটির এমন উন্মত্ত ও ভয়ংকর রূপ সে আগে কখনো দেখেনি। নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গিয়ে ব্রিজের কাছাকাছি চলে এসেছিল এবং প্রবল স্রোত ধারকস্তম্ভগুলোতে ধাক্কা খেয়ে ফেনা জড়ানো আবর্ত তৈরি করেছিল। চিরচেনা নদীর এই সম্পূর্ণ অচেনা ও ভয়ংকর রুদ্রমূর্তি হঠাৎ প্রত্যক্ষ করেই নদেরচাঁদ বিস্ময় ও আতঙ্কে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল।
পাঁচ দিন আগের ও বর্তমান রূপের পার্থক্য : পাঁচ দিন আগে দেখা শান্ত নদীর সঙ্গে বর্তমান নদীর তফাত ছিল বিশাল।
(ক) আচরণের পরিবর্তন : পাঁচ দিন আগে নদীর জলে ছিল পরিপূর্ণতার আনন্দ, কিন্তু এখন সেই শান্ত ভাব কেটে গিয়ে নদীটি যেন ভয়ংকরভাবে খেপে উঠেছে।
(খ) ক্ষুব্ধ ও পঙ্কিল রূপ : আগে নদীর জল স্বাভাবিক থাকলেও, এখন তা বৃষ্টির জলে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে পঙ্কিল, বিদ্রোহী ও ফেনোচ্ছ্বসিত রূপ ধারণ করেছে।
(গ) বিপজ্জনক উচ্চতা : পাঁচ দিন আগে নদীর জলে কোনো বিপদের আশঙ্কা ছিল না, কিন্তু এখন জলস্তর এত উঁচুতে উঠেছে যে হাত বাড়ালেই যেন তা অনায়াসে ছোঁয়া যায়।
উপসংহার : আলোচ্য আলোচনার পর বলা যায়, পাঁচ দিন আগে যে নদী ছিল শান্ত ও সভ্যতার নিয়ন্ত্রণে আবদ্ধ, আজ তা সম্পূর্ণ অচেনা ও হিংস্র। মানুষের তৈরি ব্রিজ ভেঙে স্বাধীন হওয়ার জন্যই নদী যেন এক মরণপণ বিদ্রোহে মেতে উঠেছে।

❖ নদীর বিদ্রোহ গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর পর্ব 2 PDF

File Details :
PDF Name : Nadir Bidroho Question Answer Part 2 PDF
Size : 600 KB
No. of Pages : 3
Mode : Download
🔗 Link : Click here To Download PDF

জরুরি তথ্য : উপরের এই লিঙ্কে ক্লিক করে PDF টি Download করে পড়তে পারেন। পড়ার সুবিধার জন্য দেওয়া হয়েছে।
❖ লেখকের শেষ কথা : আশা করছি, উপরের দেওয়া 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর গুলি [পর্ব 2] ভালো করে পড়েছো। এই প্রশ্নগুলি মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তাই ভালো করে প্রস্তুতি নাও । এই রকম আরো অন্যান্য বিষয়গুলির প্রশ্নোত্তর খুব সহজ সরল ভাষায় আমি লিখে দিবো এই ওয়েবসাইটে তাই আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হতে ভুলবেন না।
আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. অদল বদল গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর পর্ব 1 Click here
2. বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর Click here
3. অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর Click here
1. অভিষেক কবিতার ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর পর্ব 1 Click here
5. ক্লাস 12 তৃতীয় সেমিস্টার পরিবেশবিদ্যা Mock Test [Part-2] Click here
Thank You !

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.