🔹 Class 10 Bohurupi Question Answer
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 3]
1. "বড়ো চমৎকার আজকের এই সন্ধ্যার চেহারা"- কোন্ সন্ধ্যার কথা বলা হয়েছে ? সন্ধ্যাটি চেহারা বর্ণনা দাও। ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে কাহিনির আবহ গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। গল্পকথক ও তার বন্ধুরা এক বিশেষ সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে গেলে সেই সময়ের পরিবেশ তাদের মনে বিশেষ অনুভূতি জাগায়।
যে সন্ধ্যায় গল্পকথক ও তার সঙ্গীরা স্পোর্টের চাঁদা তুলতে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছিল, সেই সন্ধ্যার কথাই বলা হয়েছে।
সন্ধ্যাটির বর্ণনা : সেদিনের সন্ধ্যা ছিল শান্ত ও মোহনীয়। চাঁদের আলো চারদিকে কোমল আভা ছড়িয়ে দিয়েছিল, যা শহরকে নতুন রূপে সাজিয়েছিল। হালকা বাতাস বইছিল এবং গাছের পাতা মৃদু শব্দ তুলছিল। প্রকৃতির এই নীরব সৌন্দর্য চারপাশে এক স্বপ্নময় পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা সবাইকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছিল।
উপসংহার : অতএব, মনোরম প্রকৃতি ও শান্ত পরিবেশের জন্যই সেই সন্ধ্যাকে অত্যন্ত চমৎকার ও স্মরণীয় বলে মনে হয়েছিল।
2."ওই ধরনের কাজ হরিদার জীবনের পছন্দই নয়"- কোন্ ধরনের কাজ হরিদার পছন্দ নয়? পছন্দ না হওয়ার কারণ কি ? ১+২
অথবা, "একঘেয়ে কাজ করতে ভয়ানক আপত্তি"- কার কেন এই আপত্তি ?
অথবা, "কাজ করতে হরিদার প্রাণের মধ্যেই যেন একটা বাধা আছে"- কেন কাজ করতে তার প্রাণের মধ্যে বাধা আছে ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা ছিলেন স্বাধীনচেতা ও খামখেয়ালি স্বভাবের মানুষ। সাধারণ মানুষের মতো বাঁধাধরা নিয়মে জীবন কাটানো তার স্বভাবের সঙ্গে একেবারেই মানানসই ছিল না।
যে ধরনের কাজ পছন্দ নয় : নিয়ম মেনে প্রতিদিন একইভাবে করা একঘেয়ে ও বৈচিত্র্যহীন কাজ হরিদার মোটেও ভালো লাগত না।
পছন্দ না হওয়ার কারণ : হরিদা ছিলেন মুক্তমনা মানুষ, তাই লাভ-ক্ষতির হিসাব করে বাঁধা জীবনে থাকতে চাননি। তিনি চাইলে চাকরি বা দোকানের কাজ করতে পারতেন, কিন্তু নির্দিষ্ট সময় মেনে প্রতিদিন একই কাজ করা তার স্বভাবের বিরুদ্ধে ছিল। নিয়মের গণ্ডিতে আবদ্ধ জীবন তার কাছে বিরক্তিকর মনে হতো, তাই এমন কাজে তার মনে বাধা সৃষ্টি হতো।
উপসংহার : অতএব, স্বাধীন জীবনযাপন করতে চাওয়ার কারণেই হরিদা একঘেয়ে ও নিয়মবাঁধা কাজ অপছন্দ করতেন। উক্ত বাক্যের মাধ্যমে সেই স্বভাবই প্রকাশ পেয়েছে।
3. "ও চেহারা কি সত্যিই কোনো বহুরূপীর হতে পারে?"- বক্তা কে ? তার দেখা চেহারাটির বর্ণনা করো। ১+২
অথবা, "আগন্তুক এই মানুষটি যেন এই জগতের সীমার ওপার থেকে হেঁটে হেঁটে চলে এসেছেন"- আগন্তুক মানুষটির সাজসজ্জা বর্ণনা করো।
অথবা, বিরাগী বেশে হরিদার সাজ পোশাকের বর্ণনা দাও।
অথবা, "বারান্দার সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে জগদীশবাবুর দুই বিস্মিত চোখ অপলক হয়ে গেল"- জগদীশ বাবুর এমন অবস্থা কোন্ দৃশ্য দেখে হয়েছিল ?
অথবা, "আমরাও চমকে উঠেছি বৈকি। আশ্চর্য হয়েছিল, একটু ভয়ও পেয়েছি।'- এমন অবস্থার কারণ কী ।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের লেখা 'বহুরূপী' গল্পে হরিদা নানা রূপ ধারণ করে মানুষকে বিস্মিত করতেন। একবার তিনি বিরাগীর বেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে উপস্থিত হন। তার অদ্ভুত সাজসজ্জা ও শান্ত উপস্থিতি দেখে মনে হয়েছিল, যেন তিনি সাধারণ মানুষ নন, অন্য এক জগত থেকে হেঁটে এসে দাঁড়িয়েছেন।
আগন্তুক মানুষটির সাজসজ্জা / বিরাগী বেশে হরিদার সাজপোশাক : বিরাগীর রূপে হরিদার চেহারা ছিল অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু আকর্ষণীয়। তার গায়ে ছিল ধবধবে সাদা উত্তরীয় এবং পরনে ছোট সাদা থান। ধুলো লেগে থাকা হাত-পা ও হাতে একটি ঝোলা ছিল। শুকনো সাদা চুল বাতাসে উড়ছিল। রোগা শরীর তাকে প্রায় অশরীরী মনে করাচ্ছিল। তার চোখে শান্ত ও উজ্জ্বল দৃষ্টি ছিল, যা সবাইকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছিল।
উপসংহার : এই অদ্ভুত ও শান্ত বিরাগী সাজেই হরিদা সকলকে বিস্মিত করেছিলেন, তাই তাকে দেখে মনে হয়েছিল তিনি যেন এই জগতের সীমার বাইরে থেকে এসে উপস্থিত হয়েছেন।
4. "পরদিন অবশ্য স্কুলের মাস্টারমশায়ের জানতে বাকি থাকেনি, কাকে তিনি আট আনা ঘুষ দিয়েছেন" - কাকে কেন মাস্টার মশাই ঘুষ দিয়েছিলেন ? সত্যিটা জানার পর মাস্টারমশাইয়ের কী প্রতিক্রিয়া ছিল ? ১+২
অথবা, হরিদা পুলিশ সেজে মাস্টারমশাইকে কীভাবে বোকা বানিয়েছিলেন।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে মানুষকে সহজেই বিভ্রান্ত করতেন। একবার তিনি পুলিশ সেজে এমন এক ঘটনা ঘটান, যার ফলে স্কুলের মাস্টারমশাই অজান্তেই তার ফাঁদে পড়ে যান।
মাস্টারমশাইয়ের ঘুষ দেওয়ার কারণ : হরিদা পুলিশ সেজে লিচুবাগানে ঢোকা চার ছাত্রকে ধরে রাখেন। ভয় পেয়ে ছাত্ররা কান্না শুরু করলে মাস্টারমশাই এসে তাদের মুক্তির জন্য অনুরোধ করেন। ছেলেদের বাঁচানোর উদ্দেশ্যে তিনি বাধ্য হয়ে সেই ভুয়া পুলিশকে আট আনা টাকা দেন।
মাস্টারমশাইয়ের প্রতিক্রিয়া : পরদিন সত্য ঘটনা জানার পরও মাস্টারমশাই রাগ করেননি। বরং হরিদার চমৎকার ছদ্মবেশ ও অভিনয় দেখে তিনি মুগ্ধ হন এবং তার দক্ষতার প্রশংসা করেছিলেন।
উপসংহার : অতএব, হরিদার নিখুঁত বহুরূপী সাজার কারণেই মাস্টারমশাই তাকে সত্যিকারের পুলিশ ভেবে ঘুষ দিয়েছিলেন এবং পরে সত্য জেনেও বিষয়টি হাসিমুখে গ্রহণ করেছিলেন।
5. "বাইজির ছদ্মবেশে সেদিন হরিদার রোজগার মন্দ হয়নি"- বাইজি সেজে হরিদা কত উপার্জন করেছিলেন ? তার বাইজি সাজের বর্ণনা দাও। ১+২
অথবা, "এই শহরের জীবনে মাঝে মাঝে বেশ চমৎকার ঘটনা সৃষ্টি করেন বহুরূপী হরিদা"- এ প্রসঙ্গে উল্লেখিত একটি চমৎকার ঘটনা উল্লেখ করো।
অথবা, "দোকানদার হেসে ফেলে হরির কান্ড"- হরির কান্ডটি উল্লেখ করো।
অথবা, "এক রূপসি বাইজি প্রায় নাচতে নাচতে চলে যাচ্ছে"- বাইজি কে ? এরপর বাইজি কী কী করেছিল নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা নিজের অভিনয় ও ছদ্মবেশের মাধ্যমে শহরের মানুষকে অবাক করে দিতেন। একদিন তিনি বাইজির সাজে উপস্থিত হয়ে সকলের সামনে এক অভিনব ঘটনার সৃষ্টি করেছিলেন।
হরিদার বাইজি সেজে উপার্জন : বাইজির ছদ্মবেশে শহরের দোকানদারদের কাছ থেকে বকশিশ সংগ্রহ করে হরিদা সেদিন মোট আট টাকা দশ আনা আয় করেছিলেন।
তার বাইজি সাজের বর্ণনা : সেদিন হরিদা পায়ে ঘুঙুর বেঁধে রূপসী বাইজির বেশে রাস্তায় বের হন। নাচের ভঙ্গিতে হাঁটতে হাঁটতে তিনি মুচকি হাসতেন ও ইশারায় সবাইকে আনন্দ দিতেন। হাতে ফুলের সাজি নিয়ে প্রতিটি দোকানের সামনে দাঁড়াতেন। অনেকেই তাকে সত্যিকারের বাইজি ভেবে বকশিশ দেন, যদিও পরিচিত দোকানদাররা তাকে চিনে হাসছিলেন।
উপসংহার : অতএব, অভিনব ছদ্মবেশ ও অভিনয়ের দক্ষতার মাধ্যমে হরিদা শহরের মানুষের মনে আনন্দ সৃষ্টি করেছিলেন এবং সেই ঘটনাই গল্পে এক চমৎকার মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
6. "সন্ন্যাসী হাসলেন আর চলে গেলেন"- এখানে কোন্ সন্ন্যাসীর কথা বলা হয়েছে ? তার এমন আচরণের কারণ কী ? ১+২
অথবা, "হরিদার কাছে আমরাই গল্প করে বললাম, শুনছেন হরিদা কী কান্ড হয়েছে"- বক্তারা হরিদাকে কোন কান্ডের কথা বলেছিলেন ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে নানা অদ্ভুত চরিত্র ও ঘটনাকে ঘিরে কাহিনি এগিয়েছে। জগদীশবাবুর বাড়িতে এক রহস্যময় সন্ন্যাসীর আগমনও সকলের মনে কৌতূহল ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছিল।
সন্ন্যাসীটি হল : এখানে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা এক হিমালয়বাসী উঁচু দরের সন্ন্যাসীর কথা বলা হয়েছে।
তার এমন আচরণের কারণ : সন্ন্যাসী নিজেকে সর্বস্ব ত্যাগী বলে পরিচয় দিলেও বিদায়ের সময় জগদীশবাবু গোপনে তার ঝোলায় একশো টাকার নোট রেখে দেন। অর্থ পাওয়ার পর তিনি সন্তুষ্ট হয়ে হাসেন। অর্থ গ্রহণের আনন্দেই তিনি কিছু না বলে হাসিমুখে সেখান থেকে চলে যান। এই ঘটনাই তার আচরণের প্রকৃত কারণ প্রকাশ করে।
উপসংহার : অতএব, বাহ্যিকভাবে ত্যাগী সন্ন্যাসী হলেও অর্থ পাওয়ার আনন্দেই তিনি হাসতে হাসতে বিদায় নিয়েছিলেন। এই ঘটনাই উক্ত বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করে।
7. "তবে কিছু উপদেশ শুনিয়ে যান"- বক্তা কাকে একথা বলেছেন ? উদ্দিষ্ট ব্যক্তি তাকে কী কী উপদেশ শুনিয়েছিলেন ? ১+২
অথবা, 'নইলে আমি শান্তি পাব না'- বক্তা কাকে একথা বলেছেন ? কি না হলে তিনি শান্তি পাবেন না ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত বিরাগীর সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। সেই সময় জগদীশবাবু গভীর আগ্রহ নিয়ে বিরাগীর কাছে কিছু উপদেশ শোনার অনুরোধ করেন।
বক্তার এই আর্জি : জগদীশবাবু তার বাড়িতে আসা বিরাগীর উদ্দেশ্যে এই অনুরোধ করেছিলেন, যাতে তিনি বিদায়ের আগে কিছু উপদেশ দিয়ে যান।
উদ্দিষ্ট ব্যক্তির উপদেশ : বিরাগী তাকে বোঝান যে ধন, মানুষ বা যৌবনের গর্ব স্থায়ী নয়; এগুলো মানুষকে ভুল ধারণায় রাখে। তিনি আরও বলেন, সব ইচ্ছা ও অনুভূতি একমাত্র একজনের প্রতি নিবেদন করতে পারলে জীবনের প্রকৃত অর্থ ও সত্যিকারের প্রাপ্তি উপলব্ধি করা সম্ভব।
উপসংহার : অতএব, শান্তি লাভের আশায় জগদীশবাবু বিরাগীর কাছে উপদেশ চেয়েছিলেন এবং সেই উপদেশ তার জীবনবোধ সম্পর্কে নতুন উপলব্ধির ইঙ্গিত দেয়।
8. "আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো ?"- বক্তা এই প্রশ্ন কেন করেছেন ? উদ্দিষ্ট ব্যক্তি এ প্রশ্নের কী জবাব দিয়েছিলেন ? ১+২
অথবা, "আমার অপরাধ হয়েছে। আপনি রাগ করবেন না”- বক্তা কোন্ অপরাধ করেছিলেন ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবু ও আগন্তুক সন্ন্যাসীর সাক্ষাৎ একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। সামান্য আচরণগত ভুল থেকেই তাদের মধ্যে তীব্র কথোপকথনের জন্ম হয়।
বক্তার এই প্রশ্ন করার কারণ : দরজায় দাঁড়িয়ে জগদীশবাবু সন্ন্যাসীকে অভ্যর্থনা জানালেও নিচে নেমে আসেননি। এতে রুষ্ট সন্ন্যাসী মনে করেন ১১ লক্ষ টাকার সম্পত্তির অহংকারে তিনি নিজেকে ভগবানের চেয়েও বড়ো ভাবছেন।
উদ্দিষ্ট ব্যক্তির জবাব : সন্ন্যাসীর কথা শুনে জগদীশবাবু নিজের ভুল বুঝতে পারেন। তিনি দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এসে বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমা চান এবং স্বীকার করেন যে তার আচরণ অনুচিত হয়েছে। তিনি অনুরোধ করেন যেন সন্ন্যাসী তার ওপর রাগ না করেন।
উপসংহার : অতএব, অহংকারের অভিযোগে লজ্জিত হয়ে জগদীশবাবু অনুতপ্ত মনে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন, যা উক্ত ঘটনার প্রকৃত তাৎপর্য প্রকাশ করে।
9. "পরদিন অবশ্য স্কুলের মাস্টারমশাইয়ের জানতে বাকি থাকেনি"- মাস্টারমশাই কী জেনেছিলেন? ঘটনাটি জানার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া কী ছিল ? ১+২
অথবা, হরিদা পুলিশ সেজে কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন ? মাস্টারমশাইকে তিনি কীভাবে বোকা বানিয়েছিলেন ?
অথবা, "খুব চমৎকার পুলিশ সেজেছিল হরি"- পুলিশ সেজে বহুরূপী হরি কোথায় কোন্ কাণ্ড ঘটিয়েছিল ?
অথবা, "মাস্টারমশাই একটুও রাগ করেননি'- মাস্টারমশাই কোন ঘটনায় রাগ করেননি ? ফলে তার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল ?
অথবা, "পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানের ভিতরে দাঁড়িয়েছিলেন হরিদা"- দয়ালবাবুর লিচু বাগানের ঘটনাটি লেখো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদার অভিনয় দক্ষতা বারবার মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। একবার তিনি পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচুবাগানে এমন এক ঘটনা ঘটান, যা পরে সকলকে বিস্মিত করেছিল।
মাস্টারমশাই যা জেনেছিলেন : পরদিন মাস্টারমশাই জানতে পারেন যে যাকে তিনি সত্যিকারের পুলিশ ভেবেছিলেন, সে আসলে বহুরূপী হরিদা ছাড়া অন্য কেউ নয়।
দয়ালবাবুর লিচু বাগানের ঘটনা / ঘটনাটি জানার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া : দয়ালবাবুর লিচু বাগানে একদিন বহুরূপী হরিদা পুলিশ সেজে দাঁড়িয়ে চারজন স্কুলছাত্রকে আটক করেন। পুলিশের ভয়ে ছেলেরা কেঁদে ফেলে। পরে তাদের স্কুলের মাস্টারমশাই এসে নকল পুলিশের কাছে ক্ষমা চান এবং আট আনা ঘুষ দিয়ে ছাত্রদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান। পরদিন তিনি জানতে পারেন যে সেই পুলিশ আসলে হরিদা ছিল। তবুও তিনি রাগ না করে হরিদার নিখুঁত সাজের প্রশংসা করেছিলেন।
উপসংহার : অতএব, হরিদার বাস্তবসম্মত অভিনয়ের কারণেই সবাই প্রতারিত হয়েছিল এবং ঘটনাটি জানার পরও মাস্টারমশাই সেটিকে হাসিমুখে গ্রহণ করেছিলেন।
10. পাগল বেশে হরিদার সাজ-পোশাক কেমন ছিল বর্ণনা করো। ৩
অথবা, "খুব চমৎকার পাগল সাজতে পেরেছে তো লোকটা' - লোকটা পরিচয় দাও? তার পাগল সাজের বর্ণনা দাও। এই সাজ দর্শকদের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল লেখো ? ১+২
অথবা, "একটা উন্মাদ পাগল"- পাগলটিকে কোথায় দেখা গিয়েছিল ? পাগলটির সাজপোশাক বর্ণনা দাও।
অথবা, "একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল'- কোথায় কেন আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল ? তা দর্শকদের মধ্যে কেমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল?
অথবা, "একদিন চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঠিক দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল"- বাসস্ট্যান্ডের কাছে কী ঘটনা ঘটেছিল আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে মানুষকে বিস্মিত করতেন। একদিন বাসস্ট্যান্ডের কাছে পাগলের বেশে হাজির হয়ে তিনি এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন।
লোকটা : লোকটি ছিল বহুরূপী হরিদা, যিনি চাকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে দুপুরবেলায় উন্মাদ পাগলের ছদ্মবেশ ধারণ করে উপস্থিত হয়েছিলেন।
পাগল সাজের বর্ণনা : তার চোখ লাল ছিল এবং মুখ থেকে লালা ঝরছিল। কোমরে ছেঁড়া কম্বল জড়ানো, গলায় টিনের কৌটার মালা ছিল। হাতে ইট নিয়ে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া : হঠাৎ পাগলের মতো আচরণ দেখে বাসযাত্রীরা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে থাকে। কেউ নিরাপত্তার জন্য পয়সা ছুড়ে দেয়। পরে সত্য পরিচয় প্রকাশ পেলে কেউ হাসে, কেউ বিস্মিত হয় এবং কেউ বিরক্তি প্রকাশ করে।
উপসংহার : অতএব, বাস্তবের মতো নিখুঁত পাগল সাজের মাধ্যমে হরিদা মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ও বিস্ময়ের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যা গল্পে একটি স্মরণীয় ঘটনারূপে উঠে এসেছে।
11. "বিরাগীর পায়ের কাছে থলিটাকে রেখে দিয়ে ব্যাকুল স্বরে প্রার্থনা করেন জগদীশবাবু"- জগদীশবাবু কী প্রার্থনা করেছিলেন ? বিরাগী কী জবাব দিয়েছিলেন ? ১+২
অথবা, "আপনার তীর্থভ্রমণের জন্য এই টাকা আমি দিলাম"- বক্তা কাকে কত টাকা দান করতে চেয়েছিলেন ? ফলে উদ্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া কী ছিল ?
অথবা, "আপনি একটা মিনিট থাকুন বিরাগীজি"- বক্তা কে ? তিনি কেন একথা বলেছেন ?
অথবা, "আমি যেমন অনায়াসে ধুলো মাড়িয়ে চলে যেতে পারি, তেমনই অনায়াসে সোনাও মাড়িয়ে চলে যেতে পারি"- কোন্ প্রসঙ্গে কেন এই মন্তব্য আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগীর সঙ্গে জগদীশবাবুর সাক্ষাতে ভক্তি ও বৈরাগ্যের এক অর্থপূর্ণ মুহূর্ত তৈরি হয়। বিদায়ের সময় জগদীশবাবুর আচরণে তার গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ পায়।
জগদীশবাবুর প্রার্থনা : বিরাগী বিদায় নিতে চাইলে জগদীশবাবু তাকে এক মিনিট অপেক্ষা করতে বলেন। এরপর ঘর থেকে টাকাভরা একটি থলি এনে তার পায়ের কাছে রেখে ভক্তিভরে অনুরোধ করেন, যেন তিনি তীর্থভ্রমণের কাজে এই অর্থ প্রণামি হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তাকে ধন্য করেন।
বিরাগীর জবাব : বিরাগী শান্তভাবে দান গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বলেন, তিনি যেমন সহজে ধুলো অতিক্রম করেন, তেমনি সোনাকেও তুচ্ছ করে চলে যেতে পারেন; অর্থের প্রতি তার কোনো আকর্ষণ নেই।
উপসংহার : অতএব, এই ঘটনার মাধ্যমে জগদীশবাবুর ভক্তি ও বিরাগীর সম্পূর্ণ অর্থবিমুখ মানসিকতা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
12. "সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস"- কোন জিনিসটিকে দুর্লভ বলা হয়েছে? কে কীভাবে তার লাভ করেছিলেন ? ১+২
অথবা, "বাঃ, এ তো বেশ মজার ব্যাপার"- কেন কোন ব্যাপারটিকে মজার বলা হয়েছে ?
অথবা, 'জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো কীভাবে সংগ্রহ করেছিল ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবুর ধর্মবিশ্বাস ও কৌতূহল থেকে একটি অভিনব ঘটনার সৃষ্টি হয়, যা পরে সকলের কাছে বিস্ময়কর ও মজার বলে মনে হয়েছিল।
জিনিসটিকে দুর্লভ বলার কারণ : হিমালয় থেকে আগত সেই সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলোকে দুর্লভ বলা হয়েছে, কারণ তিনি কখনোই ভক্তদের নিজের পদধূলি নিতে দিতেন না এবং তা পাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন।
কৌশলে পদধূলি সংগ্রহ : জগদীশবাবু কৌশলে সোনার বোল লাগানো একটি খড়ম সন্ন্যাসীর সামনে ধরেন। খড়ম পরার জন্য সন্ন্যাসী পা বাড়াতেই তিনি সুযোগ বুঝে পায়ের ধুলো সংগ্রহ করেন। সরাসরি অনুমতি না পেয়েও বুদ্ধি খাটিয়ে তিনি নিজের ইচ্ছা পূরণ করেছিলেন এবং এই ঘটনাই পরে সকলের আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
উপসংহার : অতএব, এই ঘটনার মাধ্যমে জগদীশবাবুর কৌশলী আচরণ এবং পদধূলি পাওয়ার বিরল ঘটনাটির তাৎপর্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
13."এবার আর কাঙালের মতো হাত পেতে বকশিশ নেওয়া"- কোন প্রসঙ্গে কেন এই মন্তব্য? ১+২
অথবা, "এবার মারি তো গন্ডার, লুঠি তো ভান্ডার"- কোন্ প্রসঙ্গে কেন এই মন্তব্য ?
অথবা, "মোটা মতন কিছু আদায় করে নেব”- বক্তা কোথা থেকে কীভাবে 'মোটা কিছু' আদায় করতে চেয়েছিলেন?
অথবা, "একবারেই যা ঝেলে নেব তাতে আমার সারা বছর চলে যাবে"- বক্তা কোথা থেকে কী ঝেড়ে নেওয়ার কথা বলেছেন ? এরজন্য তিনি কি পরিকল্পনা নিয়েছিলেন ?
অথবা, "তোমাদের একটা জবর খেলা দেখাবো"- বক্তা কেন খেলা দেখাতে চেয়েছিলেন ?
অথবা, "হঠাৎ জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখাবার জন্য আপনার এত উৎসাহ জেগে উঠল কেন?" - এই প্রশ্নের জবাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী উত্তর দিয়েছিলেন ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদার অর্থ উপার্জনের পরিকল্পনা বোঝাতে এই মন্তব্যটি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গ : জগদীশবাবু সন্ন্যাসীকে একশো টাকা দক্ষিণা দিয়েছেন শুনে হরিদা বুঝতে পারেন সেখানে গেলে ভালো আয় সম্ভব। তাই ছোটখাটো বকশিশ না নিয়ে বড় রোজগারের আশায় তিনি সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মন্তব্যের কারণ : হরিদার মতে, গন্ডারের মতো বিরাট প্রাণীই শিকার করাই উচিত; ছোট শিকারে বিশেষ লাভ নেই। একইভাবে বারবার অল্প বকশিশ নেওয়ার বদলে একবারেই বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করাই বেশি লাভজনক। ধর্মভীরু ও ধনী জগদীশবাবুর কাছ থেকে মোটা পারিশ্রমিক পাওয়ার আশা থেকেই তিনি খেলা দেখানোর পরিকল্পনা করেন এবং নিজের উদ্দেশ্য বোঝাতেই এই মন্তব্য করেছিলেন।
উপসংহার : অতএব, বেশি লাভের আশায় একবারেই বড় রোজগার করার মানসিকতা প্রকাশ করতেই হরিদা এই মন্তব্য করেছিলেন।
14. "অদৃষ্ট কখনো হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না"- এখানে কোন্ ভুলের কথা বলা হয়েছে? অদৃষ্ট কেন তা ক্ষমা করবে না ? ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদার শিল্পনিষ্ঠা ও তার জীবনের কঠিন বাস্তবতার সংঘাত বোঝাতে এই মন্তব্যটি করা হয়েছে।
ভুলটি হল : বিরাগী সন্ন্যাসীর বেশে গিয়ে জগদীশবাবুর দেওয়া মোটা প্রণামি গ্রহণ না করে, নিজের অভাব থাকা সত্ত্বেও অর্থ প্রত্যাখ্যান করাই হরিদার সেই ভুল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুলটি ক্ষমা না করার কারণ : হরিদার জীবন চরম অভাবের মধ্যে কাটত, তবু ভাগ্য তাকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু শিল্পের ঢং বজায় রাখতে তিনি সেই সুযোগ ফিরিয়ে দেন। ফলে দারিদ্র্য থেকে মুক্তির সম্ভাবনাও নষ্ট হয়। জীবনের প্রয়োজন উপেক্ষা করে এমন সুযোগ হারানোই কথকের মতে ভাগ্যের প্রতি অবহেলা, তাই অদৃষ্ট তাকে ক্ষমা করবে না।
উপসংহার : অতএব, শিল্পরক্ষার জন্য বাস্তব জীবনের প্রয়োজন অস্বীকার করাই হরিদার সেই ভুল, যার জন্যই কথক মনে করেন অদৃষ্ট তাকে ক্ষমা করবে না।
15. "তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়"- কোন্ প্রসঙ্গে এই মন্তব্য ? বক্তা কীভাবে তা রক্ষা করেছিলেন ? ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক সুবোধ ঘোষের লেখা ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদার শিল্পীসত্তা ও চরিত্রের প্রতি নিষ্ঠা বোঝাতে এই মন্তব্যটি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গ : হরিদা বিরাগী সন্ন্যাসীর বেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে যান। সেখানে জগদীশবাবু তাকে মোটা প্রণামি দিতে চাইলে, সন্ন্যাসীর চরিত্র বজায় রাখার জন্য তিনি সেই অর্থ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।
মন্তব্যের কারণ : হরিদার বিশ্বাস ছিল, যে রূপ তিনি ধারণ করেন তা সত্যিকারভাবে পালন করাই একজন বহুরূপীর কর্তব্য। সন্ন্যাসীর বেশ নিয়ে অর্থ গ্রহণ করলে চরিত্রের স্বাভাবিকতা ও শিল্পের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যেত। তাই নিজের অভাব থাকা সত্ত্বেও তিনি লোভ সংবরণ করেন এবং প্রকৃত সন্ন্যাসীর মতো সব প্রলোভন ত্যাগ করে নিজের অভিনয়ের ঢং অক্ষুণ্ণ রাখেন।
উপসংহার : অতএব, শিল্পের মর্যাদা ও চরিত্রের সত্যতা বজায় রাখতেই হরিদা অর্থ প্রত্যাখ্যান করে নিজের ঢং রক্ষা করেছিলেন।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টি নিতে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 2. অভিষেক কবিতা প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 3. জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 4. হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
