WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর | জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Gyanchakshu Class 10 Question Answer | Gyanchakshu Class 10 Long Question Answer

0

জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF

ভূ(caps)মিকা : মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষা 90 নম্বরের হবে। এই 90 নম্বরের মধ্যে কবিতা থেকে মোট 15 নম্বর থাকবে। তাই গল্প থেকে পুরো নম্বর পেতে হলে জ্ঞানচক্ষু, বহুরূপী, পথের দাবী, অদল বদল, এবং নদীর বিদ্রোহ এই পাঁচটি গল্প ভালোভাবে পড়তে হবে। এই পাঁচটি গল্প থেকে 15 নম্বরের মধ্যে 3টি MCQ প্রশ্ন আসবে (3 নম্বর), 4টি SAQ প্রশ্ন আসবে (4 নম্বর), 3 নম্বর মানের বড়ো প্রশ্ন পরীক্ষায় দুটি দেওয়া থাকবে, তার মধ্যে যে-কোনো একটি করতে হবে (3 নম্বর) এবং 5 নম্বর মানের বড়ো প্রশ্ন পরীক্ষায় দুটি দেওয়া থাকবে তার মধ্যে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে (5 নম্বর) অর্থাৎ মোট 3+4+3+5=15 নম্বর। তাই তোমাদের সুবিধার জন্য এখন আমি আশাপূর্ণা দেবীর লেখা 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ 5 নম্বর মানের প্রশ্ন উত্তর সহ Free PDF নিচে দিলাম। তবে আমাদের প্রকাশিত মাধ্যমিক সাজেশন ই-বুকগুলি (PDF) সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এই ই-বুকগুলি WBBSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এখান থেকে পরীক্ষায় অনেক প্রশ্ন কমন পাবেন। সুতরাং যারা মাধ্যমিক সাজেশন ই-বুকগুলি (PDF) নিতে চাও, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর

🔹 Gyanchakshu Class 10 Long Question Answer

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 3]
1. 'কোথাও কিছু উল্টোপাল্টা নেই, অন্যরকম নেই, একেবারে নিছক মানুষ"- এই উক্তি কার সম্পর্কে ? তিনি যে একেবারে নিছক মানুষ তপন কীভাবে বুঝেছিলেন ? 
অথবা, 'লেখক মানে কোনো আকাশ থেকে পড়া জীব না, তপনদের মতোই মানুষ"- তপন কিভাবে বুঝতে পেরেছিল আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর লেখা 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। তপন ছোটবেলা থেকেই লেখকদের সম্পর্কে এক অদ্ভুত কল্পনা পোষণ করত। তার মনে হতো, তারা সাধারণ মানুষের মতো নন। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা তার এই ধারণা বদলে দেয়।
উক্তিটির প্রাসঙ্গিক ব্যক্তি : “কোথাও কিছু উল্টোপাল্টা নেই, অন্যরকম নেই, একেবারে নিছক মানুষ”-এই কথাটি তপনের নতুন মেসোমশাইকে উদ্দেশ করে বলা। তিনি পেশায় লেখক হলেও আচরণে সম্পূর্ণ সাধারণ মানুষ।
তপন যেভাবে বুঝতে পেরেছিলে : তপন ভাবত, লেখকরা যেন বিশেষ ধরনের মানুষ, তাদের জীবনযাপন আলাদা। কিন্তু নতুন মেসোমশাইকে কাছ থেকে দেখে তার ধারণা পাল্টে যায়। তিনি অন্য সবার মতোই দাড়ি কামান, খাওয়া-দাওয়া করেন, বিশ্রাম নেন, গল্প-আড্ডা দেন। বাড়ির অন্য বড়দের মতোই তিনি খবরের কাগজ নিয়ে আলোচনা করেন এবং কখনও তর্কেও জড়িয়ে পড়েন। আবার সুযোগ পেলে সিনেমা দেখতে বা বেড়াতে যান। তার দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কোনো অস্বাভাবিকতা বা রহস্যময়তা তপন খুঁজে পায় না। এতে তপন বুঝতে পারে, লেখক মানেই আলাদা কোনো সত্তা নয়; তারাও সাধারণ মানুষের মতোই জীবন কাটান। এই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তপন উপলব্ধি করে যে লেখকও নিছক মানুষ।
উপসংহার : অতএব, নতুন মেসোমশাইকে কাছ থেকে দেখে তপনের ভুল ধারণা ভেঙে যায় এবং সে বুঝতে পারে লেখকরাও সাধারণ মানুষ। 

2. 'এই ভয়ানক আনন্দের খবরটা ছোট মাসিকে সর্বাগ্র দিয়ে বসে' - এখানে কোন ভয়ানক আনন্দের কথা বলা হয়েছে ? ছোট মাসিকে খবরটি দেওয়ার পর কি হয়েছিল ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর লেখা 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। তপনের মনে লেখালেখি নিয়ে নতুন উৎসাহ জেগেছিল। সেই উত্তেজনার মুহূর্তে সে নিজের সৃষ্টির কথা সবচেয়ে আপনজনের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায়। এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে পরবর্তী পরিস্থিতির সূচনা হয়।
ভয়ানক আনন্দের খবর : তপন এক দুপুরে নিজের খাতায় একটি সম্পূর্ণ গল্প লিখে ফেলে। জীবনে প্রথমবার গল্প রচনার এই ঘটনাটিকেই সে অত্যন্ত আনন্দের খবর হিসেবে ছোট মাসিকে জানায়।
খবরটি ছোট মাসিকে দেওয়ার ফল ও কারণ : গল্প লেখার উত্তেজনায় তপন আর অপেক্ষা করতে পারেনি। ছোট মাসির সঙ্গে তার আন্তরিক সম্পর্ক ছিল, তাই সবার আগে তাকেই জানায়। ছোট মাসি গল্পটি পড়ে প্রথমে প্রশংসা করলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন যে এটি কোথাও থেকে নকল করা কি না। এরপর তিনি গল্পটি তার লেখক স্বামীর হাতে তুলে দেন। তপনের আপত্তি সত্ত্বেও মেসোমশাই গল্পটি পড়েন। তিনি লেখাটির সম্ভাবনা লক্ষ্য করে সেটি পত্রিকায় পাঠানোর কথা বলেন। তপন প্রথমে বিষয়টিকে মজা ভেবেছিল, কিন্তু পরে সত্যি প্রস্তাব শুনে আনন্দে অভিভূত হয়। ছোট মাসির কাছে খবরটি দেওয়ার ফলেই গল্পটি পত্রিকায় পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়।
উপসংহার : অতএব, নিজের প্রথম গল্প লেখার আনন্দের খবর ছোট মাসিকে জানানোর ফলেই তপনের লেখকজীবনের সূচনা ঘটে।

3. 'গল্প ছাপা হলে যে ভয়ঙ্কর আহ্লাদটা হওয়ার কথা, সে আহ্লাদটা খুঁজে পায় না' - কার কোথায় গল্প ছাপা হয়েছিল ? এখানে কোন্ আহ্লাদের কথা বলা হয়েছে ? তিনি কেন সেই আহ্লাদ খুঁজে পায়নি ? 
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর লেখা 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। গল্পের প্রধান চরিত্র তপনের রচনা ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল।
আহ্লাদটি হল : নিজের লেখা প্রথমবার মুদ্রিত আকারে পত্রিকায় প্রকাশিত হলে যে গভীর সৃষ্টিসুখ ও গর্বের অনুভূতি জন্মায়, সেই প্রবল আনন্দের কথাই এখানে বোঝানো হয়েছে।
আহ্লাদ না পাওয়ার কারণ : তপনের গল্প পত্রিকায় ছাপা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাড়ির সবাই খুব উৎসাহিত হয়ে ওঠে এবং তাকে অভিনন্দন জানাতে থাকে। প্রথমে মনে হয়েছিল, তার এই সাফল্যে সকলে সত্যিই খুশি। কিন্তু ঠিক তখনই মেসোমশাই হালকা হেসে বলেন যে গল্পটিতে তাঁকে নাকি একটু ‘কারেকশন’ করতে হয়েছে, কারণ তপন এখনও কাঁচা লেখক। এই কথাতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। বাড়ির লোকজনের মনে ধারণা জন্মায় যে মেসোমশাইয়ের প্রভাব বা সাহায্য না থাকলে গল্পটি হয়তো ছাপা হতো না। বাবার মন্তব্য ও মেজকাকুর কটাক্ষ তপনের কৃতিত্বকে আরও ছোট করে দেয়। ফলে নিজের পরিশ্রমের সাফল্য নিয়ে গর্ব করার বদলে তাকে বিদ্রূপ ও সন্দেহের মুখোমুখি হতে হয়। এই কারণেই তার প্রত্যাশিত সৃষ্টিসুখ ও গভীর আহ্লাদ সম্পূর্ণভাবে ম্লান হয়ে যায়।
উপসংহার : অতএব, বাহ্যিক সাফল্য থাকা সত্ত্বেও সন্দেহ ও কটুক্তির কারণে তপন সেই প্রত্যাশিত আহ্লাদ অনুভব করতে পারেনি।

4. "তপন আর পড়তে পারে না। বোবার মত বসে থাকে' - তপনের এরকম অবস্থার কারণ বর্ণনা করো। [Madhyamik 2018] 
অথবা, 'এর প্রত্যেকটি লাইন তো নতুন আনকোরা, তপনের অপরিচিত। এর মধ্যে তপন কোথায়?'-'এর' বলতে কীসের কথা বলা হয়েছে ? তপনের কাছে কেন তা অপরিচিত মনে হয়েছিল আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর লেখা 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। এখানে ‘এর’ বলতে পত্রিকায় ছাপা হওয়া তপনের গল্পটির কথাই বলা হয়েছে। গল্পটি যখন সে হাতে নিয়ে পড়ে, তখন তার মনে হয় প্রতিটি লাইন যেন নতুন ও অপরিচিত। নিজের লেখা বলে যে পরিচিত অনুভূতি থাকার কথা, তা সে খুঁজে পায় না।
তপনের এমন অবস্থার কারণ : মেসোমশাই আগেই বলেছিলেন যে তিনি গল্পটিতে সামান্য ‘কারেকশন’ করেছেন। তখন তপন ভেবেছিল, হয়তো দু-একটি শব্দ বা বাক্য ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু পত্রিকার পাতায় ছাপা গল্পটি পড়তে গিয়ে সে বিস্মিত হয়ে যায়। তার চোখে পড়ে, প্রতিটি লাইনই যেন অপরিচিত ও নতুন। নিজের ভাবনা, ভাষা বা বাক্যগঠন কোথাও খুঁজে পায় না সে। তখন তার মনে হয়, তার কাঁচা লেখাকে প্রায় পুরোপুরি বদলে অন্যভাবে লেখা হয়েছে। ফলে গল্পটি ছাপা হলেও সেখানে তার সৃষ্টির স্বকীয়তা আর অবশিষ্ট নেই। এই উপলব্ধি তপনের মনে গভীর আঘাত আনে। আনন্দের জায়গায় জন্ম নেয় হতাশা ও অভিমান। তাই সে আর পড়তে পারে না, চুপ করে বোবার মতো বসে থাকে।
উপসংহার : অতএব, নিজের সৃষ্টির স্বত্ব ও পরিচয় হারানোর বেদনাই তপনকে স্তব্ধ ও নিস্তব্ধ করে দেয়।

5. 'তপন যেন কোথায় হারিয়ে যায় এইসব কথার মধ্যে'- কোন্ সব কথার মধ্যে তপন হারিয়ে গিয়েছিল ? কেন হারিয়ে গিয়েছিলো আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর লেখা 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। নিজের লেখা গল্প পত্রিকায় ছাপা হলে তপনের মনে যে আনন্দ জন্মানোর কথা, তা পূর্ণতা পায়নি। বরং বাড়ির লোকজনের নানা মন্তব্যে তার মন অন্যরকম হয়ে ওঠে।
তপন যেসব কথার ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছিল : গল্পটি ছাপা হওয়ার খবর শুনে প্রথমে বাড়িতে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। সবাই পত্রিকা হাতে নিয়ে তপনকে অভিনন্দন জানায়। ঠিক তখনই মেসোমশাই হালকা হাসি দিয়ে জানান যে গল্পে নাকি তিনি কিছু ‘কারেকশন’ করেছেন, কারণ লেখাটি কাঁচা ছিল। এই কথার পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। বাবা মন্তব্য করেন, এত তাড়াতাড়ি লেখা ছাপা হওয়া সহজ নয়। মেজকাকু কটাক্ষ করে বলেন, এমন লেখক আত্মীয় থাকলে তাদেরও সুবিধা হতো। বাড়ির অন্যরাও ইঙ্গিত করতে থাকে যে মেসোমশাই না গেলে সম্পাদক গল্পটি গ্রহণ করতেন না।
তপনের হারিয়ে যাওয়ার কারণ : এই মন্তব্যগুলিতে তপনের ব্যক্তিগত কৃতিত্ব অস্বীকার করা হয়। তার পরিশ্রম ও প্রতিভার বদলে মেসোমশাইয়ের প্রভাবকেই বড় করে দেখা হয়। ফলে আনন্দের জায়গায় লজ্জা, কষ্ট ও অভিমান জন্ম নেয়। সে অনুভব করে, তার সৃষ্টিসুখকে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাই বিদ্রূপ ও সন্দেহের পরিবেশে তপন মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
উপসংহার : অতএব, পরিবারের বিদ্রূপ ও সন্দেহপূর্ণ মন্তব্যের মাঝেই তপনের সৃষ্টিসুখ চাপা পড়ে যায় এবং সে মানসিকভাবে হারিয়ে যায়।

6. 'তপনের মনে হয় তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন'-কোন্ দিনটির কথা বলা হয়েছে ? কেন তা দুঃখের ? [Madhyamik 2023] 
অথবা, 'সত্যিই তপনের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন এলো আজ'- তপনের কখন এমন মনে হয়েছে ? কেন তা সুখের ? [উত্তর একি হবে। বুদ্ধি খাটিয়ে পয়েন্ট নাম পরিবর্তন করে লিখতে হবে]
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর লেখা 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। তপনের জীবনে এক বিশেষ দিন প্রথমে আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছিল। কিন্তু দিনের শেষে সেই আনন্দই গভীর কষ্টে পরিণত হয়। তাই দিনটি তার মনে ভিন্ন অর্থ পায়।
দুঃখের দিন : যেদিন ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত নিজের প্রথম গল্পটি মায়ের অনুরোধে তপন সবার সামনে পড়ে শোনাতে যায়, সেই দিনটিকেই সে জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন বলে মনে করে।
দিনটি দুঃখের মনে হওয়ার কারণ : শুরুতে পত্রিকায় নিজের নাম ছাপা দেখে তপনের মনে অপরিসীম আনন্দ জেগেছিল। সে ভেবেছিল, এ যেন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সুখের মুহূর্ত। বাড়ির সবাইও প্রথমে তাকে অভিনন্দন জানায়। কিন্তু মেসোমশাই জানান যে গল্পে তিনি কিছু 'কারেকশন' করেছেন। এরপর বাড়িতে নানা মন্তব্য শুরু হয় এবং তপনের কৃতিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। তবু সে আশা করেছিল, গল্পটি পড়ে শোনালে নিজের সৃষ্টির গর্ব অনুভব করবে। কিন্তু পড়তে গিয়ে সে বুঝতে পারে, ছাপা লেখার সঙ্গে তার আসল লেখার মিল খুবই কম। প্রায় পুরো গল্পই বদলে গেছে। নিজের ভাবনা ও ভাষা খুঁজে না পেয়ে সে গভীর আঘাত পায়। নিজের নামে অন্যের লেখা পড়ার অপমান তাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। তার আনন্দ মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে এবং আত্মসম্মানে ধাক্কা লাগে।
উপসংহার : অতএব, যে দিনটি প্রথমে সবচেয়ে সুখের মনে হয়েছিল, সেই দিনই নিজের সৃষ্টিকে হারানোর যন্ত্রণায় তপনের জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিনে পরিণত হয়।

7. 'তপন ছাতে উঠে গিয়ে শার্টের তলাটা দিয়ে চোখ মোছে'- তপন কখন শার্টের তলাটা দিয়ে চোখ মোছে ? তপনের এই আচরণের কারণ কী ? 
অথবা, "তপন গড়গড়িয়ে পড়ে যায়। তপনের মাথায় ঢোকে না সে কী পড়ছে"- তপন গড়গড়িয়ে কী পড়ছিল ? এমনভাবে পড়ে যাওয়ার কারণ কী লেখো? 
অথবা, "তপনকে যেন নিজের গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা লাইন পড়তে না হয়"- তপন এই সংকল্প কোন্ ঘটনার প্রেক্ষিতে নিয়েছিল ? 
অথবা, 'তপন লজ্জায় ভেঙে পড়তে যায়"-তপন কী পড়তে গিয়ে লজ্জায় ভেঙে পড়ে ছিল? তার অভিজ্ঞতা কেমন হয়েছিল ?
অথবা, "তপন বইটা ফেলে রেখে চলে যায়, তপন ছাতে উঠে শার্টের তলাটা তুলে চোখ মোছে"- কোন্ বইটির কথা বলা হয়েছে? তপনের এমন আচরণের কারণ কী আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের অনন্যা লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর লেখা 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি গৃহীত হয়েছে। তপনের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার আনন্দ হঠাৎ করে গভীর লজ্জা ও কষ্টে বদলে যায়। নিজের সাফল্যের দিনেই সে অপমানিত ও ভেঙে পড়ে।
‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপা নিজের গল্পটি মায়ের কথায় বাড়ির সবার সামনে পড়তে গিয়ে তপন বুঝতে পারে লেখাটি বদলে গেছে। তখনই সে লজ্জা ও কষ্টে ছাতে উঠে গিয়ে শার্টের তলায় চোখের জল মুছে।
তপনের এই আচরণের কারণ : প্রথমে পত্রিকায় নিজের নাম দেখে তপন ভেবেছিল, এ তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। কিন্তু মেসোমশাই জানান যে তিনি গল্পে কিছু সংশোধন করেছেন। পরে গল্পটি জোরে পড়তে গিয়ে তপনের মাথা ঘুরে যায়। সে আসলে ‘প্রথম দিন’ নামের নিজের গল্পটিই পড়ছিল, কিন্তু ছাপা লাইনের সঙ্গে তার লেখা মিলছিল না। প্রায় প্রতিটি বাক্যই তার কাছে অচেনা মনে হয়। সে বুঝতে পারে, সামান্য সংশোধন নয়, পুরো লেখাই বদলে দেওয়া হয়েছে। নিজের সৃষ্টি খুঁজে না পেয়ে তার মাথায় কিছুই ঢুকছিল না এবং সে যেন গড়গড়িয়ে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছে যায়। নিজের নামে অন্যের লেখা পড়তে হচ্ছে, এই অপমান তার সহ্য হয়নি। আত্মসম্মানে আঘাত লাগায় সে গভীর লজ্জা ও অভিমানে ভেঙে পড়ে। তাই সবার চোখের আড়ালে গিয়ে সে কান্না চেপে রাখতে চেষ্টা করে।
উপসংহার : অতএব, নিজের সৃষ্টিকে হারানোর বেদনাই তপনকে লজ্জায় ভেঙে দেয় এবং তাকে নিঃশব্দে চোখের জল ফেলতে বাধ্য করে।

8. "এই দুঃখের মুহূর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপন" - এখানে কোন দুঃখের মুহূর্তের কথা বলা হয়েছে ? তপন কী সংকল্প করেছিল ?
অথবা, "তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার চেয়ে অপমানের" - এখানে কার চেয়ে দুঃখের অপমানের কথা বলা হয়েছে ? এরকম মনে হওয়ার কারণ কী ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর লেখা 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। তপনের জীবনের এক বিশেষ অভিজ্ঞতা তার মনে গভীর আঘাত আনে। আনন্দের প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হওয়া সেই মুহূর্ত শেষ পর্যন্ত অপমান ও কষ্টে ভরে ওঠে। সেই পরিস্থিতিতেই তপন একটি দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়।
দুঃখের মুহূর্ত : মায়ের অনুরোধে ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকা থেকে নিজের গল্প পড়তে গিয়ে তপন বুঝতে পারে যে ছাপা লেখাটি তার আসল লেখা নয়। নিজের নামে অন্যের লেখা পড়ার সেই সময়টিই তার জীবনের গভীর দুঃখের মুহূর্ত।
তপনের সংকল্প /এরকম মনে হওয়ার কারণ : প্রথমে তপন ভেবেছিল, নিজের গল্প প্রকাশিত হওয়ায় সে গর্ব অনুভব করবে। কিন্তু পড়তে গিয়ে যখন দেখে প্রায় সব লাইন বদলে গেছে, তখন তার আত্মসম্মানে প্রচণ্ড আঘাত লাগে। সে উপলব্ধি করে, সামান্য সংশোধনের অজুহাতে পুরো লেখাই পরিবর্তিত হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা তার কাছে চরম অপমানজনক বলে মনে হয়। নিজের সৃষ্টিকে হারিয়ে ফেলার কষ্ট তাকে ভেতর থেকে নাড়া দেয়। তাই সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে, ভবিষ্যতে আর কারও উপর নির্ভর করবে না। যদি আবার কোনো লেখা ছাপাতে হয়, তবে নিজেই পত্রিকা অফিসে গিয়ে জমা দেবে। লেখা গ্রহণ হোক বা না হোক, তবু সে নিজের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবে। এই দৃঢ় সংকল্পই সে করে।
উপসংহার : অতএব, গভীর অপমানের সেই মুহূর্ত তপনকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রতিজ্ঞায় দৃঢ় করে তোলে।

9. 'নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের'- জ্ঞানচক্ষু শব্দের অর্থ কী ? তপনের জ্ঞানচক্ষু কীভাবে খুলে গিয়েছিল ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর লেখা 'জ্ঞানচক্ষু' গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। তপন ছোটবেলা থেকে লেখকদের সম্পর্কে এক ধরনের কল্পনা পোষণ করত। বাস্তবের অভিজ্ঞতা তাকে সেই ভুল ধারণা থেকে বের করে আনে এবং নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। এই পরিবর্তনকেই বলা হয়েছে তার ‘জ্ঞানচক্ষু’ খোলা।
জ্ঞানচক্ষু শব্দের অর্থ : ‘জ্ঞানচক্ষু’ বলতে অন্তরের বোধ জাগ্রত হওয়াকে বোঝায়। অর্থাৎ ভুল ধারণা ভেঙে সত্যকে স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করার ক্ষমতাই হল জ্ঞানচক্ষু খোলা।
তপনের জ্ঞানচক্ষু উন্মোচনের কারণ : তপন মনে করত, লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নন; তারা যেন আলাদা ধরনের মানুষ। কিন্তু নতুন মেসোমশাইকে দেখে তার সেই ধারণা বদলে যায়। তিনি অন্যদের মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। যেমন খাওয়া, ঘুম, কাজকর্ম সবই সাধারণ মানুষের মতো। এতে তপন বুঝতে পারে, যে কেউ চেষ্টা করলে লিখতে পারে। পরে নিজের লেখা গল্প পত্রিকায় ছাপা হলেও মেসোমশাই জানান যে তিনি সংশোধন করেছেন। গল্পটি পড়ে তপন বুঝতে পারে, তার লেখাই প্রায় বদলে দেওয়া হয়েছে। নিজের নামে অন্যের লেখা দেখে সে আঘাত পায়। তখন সে উপলব্ধি করে, পরের উপর নির্ভর করলে নিজের সত্তা হারাতে হয়। এই উপলব্ধিই তার প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু উন্মোচন করে।
উপসংহার : অতএব, ভুল ধারণা ভেঙে বাস্তবকে গ্রহণ করার মধ্য দিয়েই তপনের জ্ঞানচক্ষু সত্যিকার অর্থে খুলে যায়।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টি নিতে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. ভাব সম্মিলন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
2. অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
3. ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
4. আগুন নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.