🔹 Bhab Sommelon Kobita Question Answer
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 5]
1. "ভাব-সম্মিলন" কাকে বলে? আলোচ্য পদটিতে রাধার আনন্দের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় লেখো।
অথবা, "কি কব রে সখি আনন্দ ওর"- এখানে রাধার আনন্দের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর : বৈষ্ণব পদাবলীতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কখনও মিলন, কখনও বিরহ, আবার কখনও কল্পনার মিলনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। প্রিয়জনকে মনে মনে ফিরে পাওয়ার এই অনুভূতি থেকেই রাধার আনন্দের বিশেষ এক রূপ ফুটে ওঠে।
ভাব-সম্মিলন : কৃষ্ণ মথুরায় চলে যাওয়ার পরে বৃন্দাবনে রাধার পক্ষে তাঁর সঙ্গে বাস্তব মিলন আর সম্ভব হয় না। তবু প্রেম থেমে থাকে না। কবিরা কল্পনার জগতে রাধার সঙ্গে কৃষ্ণের মিলন ঘটান। স্বপ্নে বা মনে মনে প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে রাধা যে আনন্দে ভরে ওঠেন, সেই মানসিক মিলনের উচ্ছ্বাসকেই ভাব-সম্মিলন বা ভাবোল্লাস বলা হয়।
রাধার আনন্দের চিত্র : কৃষ্ণের বিরহে কষ্ট পাওয়া রাধা যখন ভাবনায় অনুভব করেন যে মাধব আবার তাঁর হৃদয়ে ফিরে এসেছেন, তখন তাঁর দুঃখ মিলিয়ে যায়। তিনি মনে করেন, প্রিয়তম চিরদিনের জন্য তাঁর অন্তরে বাস করছেন। এই অনুভূতিতে রাধার মন ভরে ওঠে অপরিসীম আনন্দে। সখীর কাছে তিনি বলেন তাঁর হৃদয়ে যেন অনন্ত সুখের ধারা বইছে, যার কোনো শেষ নেই।
আগে চাঁদের আলো তাঁর যন্ত্রণা বাড়াত, কিন্তু এখন প্রিয়মুখের কল্পনা সেই কষ্টকে তুচ্ছ করে দিয়েছে। জগতের ধনসম্পদও তাঁর কাছে মূল্যহীন; কৃষ্ণই তাঁর আসল রত্ন। রাধার কাছে কৃষ্ণ শীতের উষ্ণতা, গ্রীষ্মের শীতল হাওয়া, বর্ষার আশ্রয় এবং জীবনযাত্রার ভরসা। প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার ভাবনায় তিনি প্রেমে তন্ময় হয়ে ওঠেন এবং মিলনের সুখসাগরে ডুবে গিয়ে গভীর পরিতৃপ্তি অনুভব করেন। এভাবেই কল্পিত মিলনের আনন্দে রাধা সম্পূর্ণভাবে সুখমগ্ন হয়ে পড়েন।
উপসংহার : সুতরাং দেখা যায়, বাস্তবে দূরে থাকলেও ভাবনার মিলনে কৃষ্ণকে কাছে পেয়ে রাধা বিরহের সব কষ্ট ভুলে যান। এই মানসিক মিলনই তাঁকে অসীম সুখ ও পরিতৃপ্তি দেয়।
2. "পাপ সুধাকর যত দুখ দেল,"
পিয়া-মুখ-দরশনে তত সুখ ভেল।" - সুধাকরকে পাপী বলা হয়েছে কেন? উদ্ধৃত অংশের তাৎপর্য আলোচনা করো।
উত্তর : বৈষ্ণব কাব্যে বিরহ ও মিলনের অনুভূতি পাশাপাশি চলে। প্রিয়জন দূরে থাকলে চারপাশের সুন্দর জিনিসও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উদ্ধৃত পংক্তিতে রাধার সেই মানসিক অবস্থারই প্রকাশ পাওয়া যায়।
সুধাকরকে পাপী বলার কারণ : সুধাকর অর্থাৎ চাঁদ সাধারণত শান্তি ও সৌন্দর্যের প্রতীক। কিন্তু কৃষ্ণ বৃন্দাবন ছেড়ে চলে যাওয়ার পরে তার আলো রাধার মনে প্রিয়তমের স্মৃতি জাগিয়ে তুলত। চাঁদের জ্যোৎস্না দেখলেই তিনি কৃষ্ণের মুখ মনে করে আরও বেশি বিরহে কষ্ট পেতেন। তাই দুঃখ বাড়ানোর জন্যই রাধা চাঁদকে ‘পাপী’ বলেছেন।
উদ্ধৃত অংশের তাৎপর্য : প্রথমে চাঁদের আলো রাধার হৃদয়ে যন্ত্রণা বাড়িয়ে দিত। সেই আলো যেন বারবার তাঁকে মনে করিয়ে দিত, কৃষ্ণ তাঁর কাছে নেই। কিন্তু পরে ভাবনার জগতে প্রিয়তমের সঙ্গে মিলিত হওয়ার অনুভূতি রাধার মনে এক নতুন আনন্দ এনে দেয়। কৃষ্ণমুখ দর্শনের কল্পনা তাঁর সমস্ত দুঃখ মুছে দেয়। তখন তিনি বুঝতে পারেন, আগে যত কষ্ট পেয়েছিলেন, তার চেয়ে অনেক বেশি সুখ তিনি এখন অনুভব করছেন। অর্থাৎ বিরহের স্মৃতি মিলনের আনন্দে ঢাকা পড়ে যায়। এই কথার মধ্য দিয়ে বোঝানো হয়েছে প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি সব যন্ত্রণাকে তুচ্ছ করে দেয়।
উপসংহার : অতএব, চাঁদের আলো রাধার বিরহযন্ত্রণা বাড়িয়েছিল বলেই তিনি সুধাকরকে পাপী বলেছেন। কিন্তু প্রিয় কৃষ্ণের মুখের কল্পিত দর্শনে সেই দুঃখ দূর হয়ে গভীর আনন্দে পরিণত হয়। বিরহের কষ্টকে মিলনের সুখ ছাপিয়ে যাওয়াই উদ্ধৃত পংক্তিটির আসল তাৎপর্য।
3. "আঁচর ভরিয়া যদি মহানিধি পাই/তব হাম পিয়া দূর দেশে না পাঠাই"- দূর দেশে পিয়া গিয়েছেন কেন ? উদ্ধৃত অংশের তাৎপর্য আলোচনা করো।
উত্তর : বৈষ্ণব পদাবলীতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের সঙ্গে গভীর ভক্তিভাব জড়িয়ে আছে। বিরহের মধ্যেও কল্পনায় মিলনের আনন্দ ফুটে ওঠে। এই আবেগ থেকেই রাধার উক্তিটি বিশেষ অর্থ বহন করে।
পিয়া দূর দেশে যাওয়ার কারণ : এখানে ‘পিয়া’ বলতে শ্রীকৃষ্ণকে বোঝানো হয়েছে। কংসকে দমন করার জন্য তিনি বৃন্দাবন ছেড়ে 'দূর দেশ' তথা মথুরায় চলে যান। প্রিয়জনের এই বিদায়ে বৃন্দাবন শূন্য হয়ে পড়ে এবং রাধা গভীর বিরহযন্ত্রণায় কাতর হয়ে ওঠেন। বাস্তবে কাছে না পেলেও তিনি মনে মনে কৃষ্ণকে অনুভব করে সান্ত্বনা খোঁজেন।
উদ্ধৃত অংশের তাৎপর্য : কৃষ্ণ দূরে চলে যাওয়ায় রাধার হৃদয়ে তীব্র শূন্যতা তৈরি হয়। তাই কল্পনার মিলনে প্রিয়তমকে ফিরে পেয়ে তিনি সখীর কাছে নিজের মনের কথা খুলে বলেন। তিনি জানান অমূল্য ধনরত্ন পেলেও তিনি আর কৃষ্ণকে দূরে পাঠাতে চান না। কারণ তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলেন স্বয়ং মাধব। জাগতিক সম্পদের মূল্য তাঁর কাছে নেই, যদি তাতে প্রিয়জনকে হারাতে হয়। এই উক্তির মধ্যে প্রেমের গভীরতা যেমন আছে, তেমনি ভক্তির দৃঢ়তাও প্রকাশ পেয়েছে। ভক্ত যেমন ঈশ্বরকে হৃদয়ে ধরে রাখতে চান, রাধার মনও তেমনি প্রিয় কৃষ্ণকে চিরদিন কাছে পেতে চায়।
উপসংহার : সুতরাং এই পঙ্ক্তিতে বোঝা যায়, রাধার কাছে পার্থিব ধনের চেয়ে কৃষ্ণসঙ্গলাভই শ্রেষ্ঠ। প্রেম ও ভক্তির এই অটুট বন্ধনই উক্তিটির মূল তাৎপর্য।
4. "শীতের ওড়নী পিয়া গিরিশির বা,
বরিষার ছত্র পিয়া তরিয়ার না"- এই মন্তব্যের তাৎপর্য লেখো।
উত্তর : বৈষ্ণব পদাবলীতে রাধা-কৃষ্ণের সম্পর্কের মধ্যে প্রেম ও ভক্তির অপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায়। বিরহের কষ্ট থাকলেও কল্পনার মিলনে সেই প্রেম আরও গভীরভাবে প্রকাশিত হয়। উদ্ধৃত উক্তিতে রাধার হৃদয়ের এই নির্ভরতার কথাই ফুটে উঠেছে।
এই মন্তব্যের তাৎপর্য : কৃষ্ণ কংসবধের উদ্দেশ্যে মথুরায় যাওয়ার পর রাধা বিরহে অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে পড়েন। তখন কবির কল্পনায় তিনি প্রিয়তমের সঙ্গে মানসিক মিলনের সুখ অনুভব করেন। সেই আনন্দঘন মুহূর্তে রাধা সখীকে বোঝাতে চান কৃষ্ণ তাঁর জীবনে কতটা প্রয়োজনীয়। তাই তিনি একের পর এক উপমা ব্যবহার করেন।
শীতের সময় যেমন গায়ে জড়ানোর কাপড় মানুষকে উষ্ণ রাখে, তীব্র গরমে ছায়া যেমন আরাম দেয়, বর্ষায় ছাতা যেমন রক্ষা করে, আর নদী পার হতে নৌকা যেমন একমাত্র ভরসা, তেমনি কৃষ্ণ রাধার জীবনের প্রধান আশ্রয়। তাঁর সুখ-দুঃখ, বাঁচা-মরা সবকিছুই কৃষ্ণকে কেন্দ্র করে। প্রিয়জন ছাড়া তাঁর অস্তিত্ব অর্থহীন। এই কথার মধ্যে শুধু সাধারণ প্রেমের প্রকাশ নেই, ভক্তির ভাবও লুকিয়ে আছে। এখানে কৃষ্ণ যেন ঈশ্বর, আর রাধা ভক্তের প্রতীক। ভক্ত যেমন ঈশ্বরকে ছাড়া চলতে পারেন না, রাধাও তেমনি কৃষ্ণকেই জীবনের অবলম্বন মনে করেন।
উপসংহার : অতএব এই মন্তব্যের তাৎপর্য হল রাধার জীবনে কৃষ্ণই সর্বস্ব ও একমাত্র আশ্রয়। নানা উপমার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, প্রিয়তমকে ছাড়া তাঁর অস্তিত্ব অসম্পূর্ণ। প্রেম ও ভক্তির এই গভীর নির্ভরতাই উক্তিটির মূল বক্তব্য।
5. 'সুজনক দুখ দিবস দুই-চারি।"-কে মন্তব্যটি করেছেন? মন্তব্যটির পরিপ্রেক্ষিত আলোচনা করো।
উত্তর : বৈষ্ণব পদাবলীতে বিরহের কষ্টের মধ্যেও আশার আলো থাকে। প্রিয়জনকে আবার ফিরে পাওয়ার বিশ্বাস থেকেই দুঃখের অবসান ঘটে। উদ্ধৃত মন্তব্যে কবির সেই সান্ত্বনামূলক ভাবই প্রকাশ পেয়েছে।
এই উক্তিটি পদকার বিদ্যাপতি নিজেই করেছেন। পদের ভণিতায় তিনি রাধার অবস্থার দিকে তাকিয়ে এ কথা বলেছেন।
মন্তব্যটির পরিপ্রেক্ষিত : কৃষ্ণ মথুরায় চলে গেলে রাধা গভীর বিরহে ভেঙে পড়েন। প্রিয়জনকে হারিয়ে তাঁর মনে অসহনীয় যন্ত্রণা জন্ম নেয়। কিন্তু পরে ভাবনার জগতে তিনি কৃষ্ণের সঙ্গে মিলনের সুখ অনুভব করেন। মানসিক পুনর্মিলনে তাঁর হৃদয় আনন্দে ভরে ওঠে। এই আনন্দ এত বেশি যে তিনি বলেন, কেউ যদি অমূল্য ধনও দেয়, তবু তিনি কৃষ্ণকে আর দূরে যেতে দেবেন না। আগে বিরহের সময়ে কবি তাঁকে ধৈর্য ধরতে বলেছিলেন। আর এখন মিলনের সুখের মুহূর্তে তিনি বোঝাচ্ছেন ভালো মানুষের দুঃখ স্থায়ী নয়, তা খুব অল্প সময়ের জন্য থাকে।
উপসংহার : অতএব, এই মন্তব্যের মাধ্যমে কবি বুঝিয়েছেন যে রাধার বিরহ কেটে গিয়ে আনন্দের সময় এসেছে। সুজনের দুঃখ ক্ষণস্থায়ী এই বিশ্বাসেই রাধার মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : WB Semester Team প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টিতে পুরো সিলেবাসের প্রশ্ন উত্তর রয়েছে এবং 'ভাব-সম্মিলন' পদ থেকে আরো অনেকগুলি প্রশ্ন উত্তর রয়েছে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : ভাব সম্মিলন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 2. তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 3. ক্লাস 11 প্রবন্ধ রচনা PDF | Click here |
| 4. নানা রঙের দিন নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
