WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্পের প্রশ্ন উত্তর | Telenapota Abishkar Golpo Question Answer | Telenapota Abishkar Question Answer

0

তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্পের প্রশ্ন উত্তর​ PDF

ভূ(caps)মিকা : একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা পরীক্ষার জন্য দুটি গল্প পড়তে হবে। সেগুলি হল - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'ছুটি' গল্প এবং প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্প। এই দুটি গল্প থেকে পরীক্ষায় 40 নম্বরের মধ্যে মোট 5 নম্বর আসবে। অর্থাৎ এই দুটি গল্প থেকে পরীক্ষায় 5 নম্বরের বড়ো প্রশ্ন দুটি (ছুটি গল্প থেকে একটি এবং তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্প থেকে একটি) থাকবে, তার-মধ্যে যে-কোন একটি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্প থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর সহ Free PDF নিচে দিলাম। এছাড়াও আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুক (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। তাই এখান থেকে পরীক্ষায় অনেক প্রশ্ন কমন পাবেন। সুতরাং যারা বাংলা ই-বুক (PDF)টি কিনতে চান, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

Telenapota Abishkar Golpo Question Answer

🔹 Telenapota Abishkar Class 11 PDF

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 5]
1। প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পটি আসলে আত্ম আবিষ্কার-এর গল্প-বিষয়বস্তুর নিরিখে বক্তব্যটি ব্যাখ্যা করো। [HS Model Question 2024]
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের গল্পকার প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পে তেলেনাপোতায় যাওয়া শুধু একটি ভ্রমণের ঘটনা নয়। এই যাত্রার মধ্যে দিয়ে কথক নিজের মন, অনুভূতি এবং বাস্তব সত্তাকে চিনতে শেখে। তাই একে আত্ম-আবিষ্কারের গল্প বলা হয়।
‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পটি আত্ম-আবিষ্কারের গল্প :
(ক) প্রাত্যহিক জীবন থেকে দূরে সরে যাওয়া : কথক ব্যস্ত শহুরে জীবনের একঘেয়েমি থেকে দু’দিনের ছুটি পেয়ে তেলেনাপোতায় যায়। এই স্থান তার চেনা জীবনের বাইরে। তাই এখানে এসে সে নিজের ভেতরের মানুষটিকে নতুনভাবে অনুভব করার সুযোগ পায়।
(খ) অন্ধকার ও দীর্ঘ পথের প্রতীকী অর্থ : তেলেনাপোতায় পৌঁছতে যে বিস্তীর্ণ মাঠ ও ঘন অন্ধকার পার হতে হয়, তা যেন পরিচিত জীবন ছাড়িয়ে মনের গভীরে প্রবেশ করার ইঙ্গিত দেয়। এই পরিবেশ কথককে নিজের অন্তরের সামনে দাঁড় করায়।
(গ) যামিনীর উপস্থিতি : নির্জন প্রকৃতি ও ভাঙা অট্টালিকার সঙ্গে যামিনীর জীবন মিশে আছে। ‘যামিনী’ মানেই রাত আর রাত মানুষকে নিজের মুখোমুখি হতে বাধ্য করে। যামিনীর সংস্পর্শে এসে কথক নিজের অনুভূতির সত্যতা টের পায়।
(ঘ) দুর্বল মুহূর্তের প্রতিশ্রুতি : এক আবেগঘন অবস্থায় কথক যামিনীর মাকে কথা দেয় যে সে যামিনীকে ছেড়ে যাবে না। তেলেনাপোতা ছাড়ার সময়ও তার মনে আবার ফিরে আসার ইচ্ছে ছিল। এতে তার মনের টান স্পষ্ট হয়।
(ঙ) শহরে ফিরে মানসিক পরিবর্তন : কলকাতায় ফিরে অসুস্থতার পরে কথক বুঝতে পারে তার মন বদলে গেছে। তেলেনাপোতা তার কাছে কেবল অস্পষ্ট স্মৃতি হয়ে যায়, আর যামিনীকে সে ক্ষণিকের কল্পনা বলে ভাবতে থাকে। তখন সে নিজের প্রকৃত মানসিকতাকে চিনতে পারে।
মূল্যায়ন : অতএব গল্পের শেষে বোঝা যায়, কথক আসলে নিজের মনকেই আবিষ্কার করেছে। নির্জনে যে টান অনুভব করেছিল, শহরে ফিরে তা আর থাকে না। এই উপলব্ধিই তার আত্ম-আবিষ্কার। তাই বলা যায়, ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ মূলত নিজের সত্তাকে চেনার গল্প।

2। "হঠাৎ একদিন তেলেনাপোতা আপনিও আবিষ্কার করতে পারেন"-তেলেনাপোতায় যাত্রাপথের বর্ণনা নিজের ভাষায় দাও।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পে তেলেনাপোতায় পৌঁছনোর আগে যাত্রাপথটি খুব কষ্টকর ও রহস্যময়। এই পথ অতিক্রম করতে গিয়েই কথক ও তার সঙ্গীরা এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়ে। তাই যাত্রাপথের বর্ণনা গল্পে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
তেলেনাপোতায় যাত্রাপথের বর্ণনা :
(ক) বাসে দীর্ঘ ও কষ্টকর ভ্রমণ : বিকেলের দিকে তিন বন্ধু ভিড়ে ঠাসা একটি বাসে ওঠে। রাস্তার ঝাঁকুনি আর মানুষের ধাক্কা সামলাতে সামলাতে প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা ক্লান্ত শরীরে হঠাৎ নির্জন রাস্তায় নেমে পড়ে।
(খ) অন্ধকার জঙ্গলে প্রতীক্ষা : বাস থেকে নেমে তারা কাদাযুক্ত একটি নালার ধারে আসে। চারপাশে ঘন বন আর নামতে থাকা অন্ধকার তাদের মনকে ভয়ে আচ্ছন্ন করে। মশার উৎপাত সহ্য করতে করতে তারা পরের যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করে।
(গ) লণ্ঠনের আলো ও গোরুর গাড়ি : অপেক্ষার পরে দূরে দুলতে থাকা ক্ষীণ আলো দেখা যায়। জঙ্গল ফুঁড়ে ছোট আকারের একটি গোরুর গাড়ি বেরিয়ে আসে। তারা কোনো কথা না বাড়িয়ে সেই গাড়িতে উঠে বসে।
(ঘ) গোরুর গাড়ির যাত্রাপথ : গাড়িটি ধীরে ধীরে অন্ধকার ভেদ করে এগোয়। গাড়োয়ান শব্দ করতে করতে বন্য জন্তু দূরে রাখার চেষ্টা করে। যেতে যেতে মনে হয়, তারা যেন পরিচিত জগৎ ছেড়ে অন্য এক অচেনা পরিবেশে ঢুকে পড়ছে।
(ঙ) তেলেনাপোতায় পৌঁছনো : তারপর গোরুর গাড়ি একটি বড় মাঠ পেরিয়ে এগিয়ে যায়। কৃষ্ণপক্ষের ফিকে চাঁদের আলোয় রাস্তার দুই পাশে পুরোনো ভাঙা দালানগুলো নীরব প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। শেষে কয়েকটি মোড় ঘুরে গভীর রাতে গাড়িটি গন্তব্যে এসে থামে। পুকুরের পচা জলের গন্ধ তাদের স্বাগত জানায়, আর তারা গিয়ে দাঁড়ায় একটি ভাঙাচোরা, জরাজীর্ণ অট্টালিকার সামনে।
মূল্যায়ন : এই পুরো যাত্রাপথে কষ্ট, অন্ধকার, ভয় এবং রহস্য মিলিয়ে এক বিশেষ আবহ তৈরি হয়। এর ফলে তেলেনাপোতায় পৌঁছানো শুধু ভ্রমণ নয়, এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। এইভাবেই নানা অদ্ভুত অনুভূতি ও রোমাঞ্চ সঙ্গে নিয়ে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত তেলেনাপোতায় পৌঁছে যায়।

3। "তেলেনাপোতা আবিষ্কার" গল্প অবলম্বনে যামিনী চরিত্রটি আলোচনা করো। 
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পে যামিনীর উপস্থিতি খুব বেশি না হলেও গুরুত্বে অনেক বড়। তাকে কেন্দ্র করেই নায়কের আবেগ জাগ্রত হয় এবং কাহিনির মর্মার্থ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার জীবনসংগ্রাম, দায়িত্ববোধ ও নীরব সহ্যশক্তি চরিত্রটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।
যামিনী চরিত্রের বৈশিষ্ট্য :
(ক) আড়ষ্টতাহীন স্বভাব : গ্রামের সাধারণ মেয়েদের মতো অকারণ লজ্জা তাকে আটকে রাখেনি। পুকুরঘাটে নিজে থেকে নায়কের সঙ্গে কথা বলতে আসার মধ্যে তার সহজ ও স্বাভাবিক ব্যবহার প্রকাশ পায়। এতে বোঝা যায়, সে খোলামেলা মন নিয়ে মানুষের সঙ্গে মিশতে পারে।
(খ) সেবামনস্কতা : নায়ক ও তার বন্ধুদের জন্য নিজের ঘরে খাবারের আয়োজন করা ছিল তার আন্তরিকতার প্রমাণ। শুধু আয়োজনই নয়, সে নিজ হাতে অতিথিদের যত্ন করে খাইয়েছিল। এতে তার ভদ্রতা, আন্তরিকতা এবং অতিথিদের প্রতি টান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
(গ) সংকোচ ও সংযম : স্বভাবে সরল হলেও অন্তরে ভদ্রতা ছিল। মায়ের অস্থির হয়ে পড়ার খবর অন্যকে জানাতে গিয়ে সে খুব অস্বস্তি বোধ করেছিল। এই দ্বিধা তার নম্র স্বভাব ও মার্জিত মানসিকতার পরিচয় দেয়।
(ঘ) মাতৃনিষ্ঠা : অন্ধ ও অসুস্থ মায়ের দেখাশোনায় সে কখনো অবহেলা করেনি। নির্জন জায়গায় থেকেও একাই সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল। সন্তানের কর্তব্য পালনে তার নিষ্ঠা স্পষ্ট।
(ঙ) ধৈর্য ও প্রজ্ঞা : মায়ের তিরস্কার বা বিরক্তি সে মুখ বুজে মেনে নিয়েছে। আবার নিরঞ্জনের প্রতারণার কথা জেনেও মায়ের মন ভাঙতে চায়নি। পরিস্থিতি বুঝে নীরব থাকার মধ্যেই তার গভীর বুদ্ধি ও সহনশীলতা প্রকাশ পায়।
উপসংহার : এইভাবে দেখা যায়, কঠোর জীবনযন্ত্রণা যামিনীকে ভেঙে দেয়নি, বরং তাকে আরও সহনশীল ও দায়িত্ববান করেছে। তার ভালোবাসা, ধৈর্য এবং নীরব ত্যাগ তাকে গল্পের এক সত্যিকারের করুণ নায়িকায় পরিণত করেছে।

4। তেলেনাপোতায় কারা কেন যাচ্ছিল? যেখানে বাস থেকে তারা নামে সেই স্থানটির বর্ণনা নিজের ভাষায় দাও।
অথবা, 'বাস থেকে তিনটে চরিত্র যেখানে নামলো সেই জায়গাটির বর্ণনা নিজের ভাষায় দাও। 
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের গল্পকার প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পে নায়ক ও তার দুই সঙ্গীর তেলেনাপোতায় যাওয়ার পথে এক অদ্ভুত ও রহস্যময় পরিবেশের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। বাস থেকে নামার পর জায়গাটির পরিবেশ তাদের মনে ভয় ও রহস্যের অনুভূতি তৈরি করে।
গল্পের নায়ক মূলত মাছ ধরার উদ্দেশ্যেই তেলেনাপোতায় যাচ্ছিল। তার সঙ্গে আরও দুজন সঙ্গী ছিল। তারা নায়কের সঙ্গে এলেও আসল কারণ সম্পর্কে তেমন কিছু জানত না। নায়কের আগ্রহ ও উদ্যোগেই এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। অনেক দূরের পথ পাড়ি দিয়ে তারা বাসে করে সেখানে পৌঁছায় এবং এক অজানা জায়গার দিকে এগিয়ে যায়।
স্থানটির বর্ণনা : ভাদ্র মাসের পড়ন্ত বিকেলে তারা ভিড়ে ঠাসা বাস থেকে হঠাৎ নেমে পড়ে। দীর্ঘ সময়ের ঝাঁকুনি আর ভিড়ের চাপে তারা খুব ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল, শরীর ঘামে ভিজে উঠেছিল। সূর্য তখনও পুরোপুরি অস্ত যায়নি, কিন্তু চারদিকের ঘন জঙ্গল আলোকে ঢেকে দিয়ে জায়গাটাকে অনেক বেশি অন্ধকার করে তুলেছিল। চারপাশে এমন নীরবতা ছিল যে মনে হচ্ছিল সেখানে কোনো মানুষ থাকে না। পাখিদের ডাকও শোনা যাচ্ছিল না, যেন তারাও ভয় পেয়ে জায়গা ছেড়ে গেছে। ভ্যাপসা, স্যাঁতসেঁতে বাতাসে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছিল। ভিজে জলার ধারে দাঁড়িয়ে সামনে একটি কাদা জলের নালা দেখা যাচ্ছিল, যা জঙ্গলের ভিতর দিকে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে বাঁশঝাড় ও ঘন বনের মাঝে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়।
উপসংহার : অতএব তেলেনাপোতায় পৌঁছানোর আগেই বাস থেকে নামার মুহূর্তে নায়ক ও তার সঙ্গীরা যে পরিবেশের সম্মুখীন হয়, তা ছিল ভীষণ নির্জন, স্যাঁতসেঁতে এবং ভয়ের আবেশে ভরা। এই দৃশ্য তাদের মনে অজানা আশঙ্কা তৈরি করে এবং আগাম রহস্যময় ঘটনার ইঙ্গিত দেয়।

5। "তাহলে হঠাৎ একদিন তেলেনাপোতা আপনিও আবিষ্কার করতে পারেন"-তেলেনাপোতা বলতে কী বোঝো? তেলেনাপোতা আবিষ্কারের শর্তগুলি লেখো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের গল্পকার প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পের সূচনাতেই কথক এক আশ্চর্য, রহস্যে ঘেরা স্থানের উল্লেখ করেন। জায়গাটি বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকলেও তার চারপাশে কল্পনার আবরণ লেগে আছে।
তেলেনাপোতার পরিচয় : তেলেনাপোতা কলকাতা থেকে প্রায় ত্রিশ মাইল দূরের একটি নিরিবিলি গ্রাম। কিন্তু এটি সাধারণ ভৌগোলিক স্থানের চেয়ে বেশি, যেন মানুষের অনুভূতি আর কল্পনার মধ্যে বাস করে। গল্পের নায়ক তাঁর দুই সঙ্গীকে নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে এই জায়গায় গিয়েছিলেন।
তেলেনাপোতা আবিষ্কারের শর্ত : কথকের মতে, তেলেনাপোতায় পৌঁছনো সহজ ব্যাপার নয়। কয়েকটি বিশেষ পরিস্থিতি একসঙ্গে মিলে গেলেই কেবল এই জায়গার সন্ধান পাওয়া যায়।
শর্তগুলি হল -
(ক) দিন নির্বাচন : যাত্রার জন্য ঠিক দিন হওয়া দরকার। শনি বা মঙ্গলবারের মধ্যে বিশেষ করে মঙ্গলবার সুযোগ মিললে তেলেনাপোতার পথ খুলে যেতে পারে বলে কথকের ধারণা। সময়ের এই মিলটাকেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন।
(খ) ছুটির সুযোগ : ইচ্ছা থাকলেই হয় না, হাতে কিছু অবসরও প্রয়োজন। হঠাৎ দু-দিনের ছুটি না পেলে শহর ছেড়ে এত দূরে যাওয়ার পরিকল্পনা সফল হয় না।
(গ) মানসিক অবস্থা : শহরের ব্যস্ততা, কোলাহল আর একঘেয়ে জীবনে হাঁপিয়ে উঠতে হবে। মনে যখন মুক্তির তীব্র ইচ্ছে জাগবে, তখনই মানুষ অজানার দিকে পা বাড়াতে প্রস্তুত হয় এবং তেলেনাপোতার সন্ধান পেতে পারে।
(ঘ) বন্ধুর প্রলোভন : সহজে মাছ ধরা যাবে বন্ধুর এমন লোভনীয় কথাই যাত্রার পেছনে বড় প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়। এই উৎসাহ না থাকলে হয়তো তেলেনাপোতায় যাওয়ার চিন্তাই আসত না।
(ঙ) অদক্ষ শিকারি হওয়া : জীবনে বড় মাছ ধরার অভিজ্ঞতা না থাকাই এখানে এক ধরনের শর্ত। কারণ নতুন আশায়, নতুন উত্তেজনায় ভর করেই মানুষ অজানা জায়গায় ছুটে যায়।
উপসংহার : সুতরাং বলা যায়, তেলেনাপোতা এমন এক রহস্যময় স্থান যার দেখা পাওয়া ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল। দিন, সুযোগ, মানসিক প্রস্তুতি সব শর্ত মিলে গেলেও নিশ্চয়তা নেই। তাই কথক ইঙ্গিত দেন, হঠাৎ কোনো একদিন অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে তবেই তেলেনাপোতা আবিষ্কার করা সম্ভব।

6. "পুকুর ঘাটের নির্জনতা আর ভঙ্গ হবে না তারপর" -পুকুর ঘাটে নির্জনতার বর্ণনা দাও। সেই নির্জনতা কীভাবে ভঙ্গ হয়েছিল লেখো ?
অথবা, "তেলেনাপোতা আবিষ্কার" গল্পে মাছ ধরার সময় পুকুরঘাটের ঘটনাটির বর্ণনা দাও। 
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের গল্পকার প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ গল্পে মৎস্যশিকারপ্রিয় নায়ক পুকুরঘাটে বসে মাছ ধরছিলেন। সেই সময় পুকুরপাড়ের পরিবেশে গভীর নিস্তব্ধতা নেমে এসেছিল। পরে হঠাৎ এক ঘটনার মাধ্যমে সেই নীরবতা ভেঙে যায়।
পুকুরঘাটে নির্জনতার বর্ণনা : নায়ক শ্যাওলা ধরা ভাঙা ঘাটের উপর বসে ছিপ ফেলেছিলেন। চারদিকে মানুষের কোনো চিহ্ন নেই। সবুজ পানায় ঢাকা স্থির জলের দিকে তাকিয়ে তিনি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছিলেন। সেখানে নিস্তব্ধতা এতটাই বেশি ছিল যে সামান্য শব্দও আলাদা করে বোঝা যাচ্ছিল। এই চুপচাপ পরিবেশে মাঝে মাঝে একটি মাছরাঙা বাঁশের ডগা থেকে জলে নেমে মাছ তুলে আবার ফিরে যাচ্ছিল। ঘাটের ফাটল থেকে একটি লম্বা সাপ বেরিয়ে ধীর গতিতে পুকুর পার হয়ে গেল এবং ছিপের ফাতনার ওপর দুটো ফড়িং বসার জন্য প্রতিযোগিতা করছিল। দূরে ঘুঘুর টানা ডাক নীরবতাকে আরও গভীর করে তুলেছিল। প্রকৃতির এই সামান্য নড়াচড়া ছাড়া চারপাশে আর কোনো প্রাণের সাড়া ছিল না। ফলে পুকুরঘাটে এক ধরনের ভয়মিশ্রিত একাকিত্ব তৈরি হয়েছিল।
সেই নির্জনতা ভঙ্গ হয়েছিল : ঠিক এমন সময় এক শীর্ণকায়া নারী কলসি নিয়ে জল তুলতে এল। পুকুরের পানা সরিয়ে জল ভরতে ভরতে সে নায়ক ও ফাতনার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বলে উঠল, “বসে আছেন কেন? টান দিন।” তার এই আচমকা কথায় নায়ক হতভম্ব হয়ে যান। পরে দেখা গেল বঁড়শিতে আর টোপ নেই। নায়কের একাকী মাছ ধরা, চারপাশের স্তব্ধ প্রকৃতি এবং শেষে নারীর হঠাৎ আগমনে পরিবেশ বদলে যাওয়া এসবের মধ্য দিয়ে পুকুরঘাটের নির্জনতা ও তার ভঙ্গ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

7। "আমি তোমায় কথা দিচ্ছি মাসিমা। আমার কথার নড়চড় হবে না"- কে কাকে কথাটি বলেছে ? তার কথার নড়চড় সত্যিই কি হয়নি ?
অথবা, "না মাসিমা, আর পালাবো না" - এই কথাটি কে কাকে বলেছিল? বক্তা তার কথা রাখতে কি পেরেছিলেন ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের গল্পকার প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পে মানবিক আবেগ, প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার টানাপোড়েন অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে ফুটে উঠেছে। আলোচ্য উক্তিটি সেই আবেগঘন মুহূর্তেরই প্রকাশ।
কার প্রতি উক্তি : গল্পের নায়ক যামিনীর অন্ধ মায়ের সামনে নিরঞ্জনের ছদ্মবেশে এই কথাটি বলেছিলেন। তিনি আগে বন্ধুর কাছে শুনেছিলেন, নিরঞ্জন যামিনীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে অন্য জায়গায় সংসার করেছে। কিন্তু অন্ধ মা এখনো বিশ্বাস করতেন, নিরঞ্জন ফিরে এসে মেয়ের দায়িত্ব নেবে। তাঁর কান্নাভেজা অনুরোধে নায়ক আবেগে এই প্রতিশ্রুতি দেন।
তার কথার নড়চড় হয়েছিল তার কারণ : প্রথমদিকে নায়ক সত্যিই নিজের দেওয়া আশ্বাস রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। শহরে ফিরে এসেও তাঁর মনে তেলেনাপোতায় আবার যাওয়ার ইচ্ছে জেগেছিল। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। হঠাৎ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুখের ধকল, শারীরিক দুর্বলতা ও সময়ের ব্যবধানে তেলেনাপোতার স্মৃতি ধীরে ধীরে তাঁর মন থেকে ফিকে হয়ে যায়। যে আবেগের বশে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা আর আগের মতো তীব্র থাকে না। শেষ পর্যন্ত যামিনী তাঁর কাছে দূরের, অস্পষ্ট এক কল্পনা হয়ে দাঁড়ায়। তাই তিনি আর ফিরে যেতে পারেননি এবং দেওয়া কথাও রক্ষা করা হয়নি।
উপসংহার : অবশেষে দেখা যায়, নায়ক সহানুভূতি ও আবেগে পড়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা রক্ষা করতে পারেননি। সময়, অসুস্থতা ও বাস্তবতার দূরত্ব তাঁর মনকে বদলে দেয়। ফলে যামিনীকে বিয়ে করার অঙ্গীকার ভঙ্গ হয় এবং তাঁর কথার সত্যিই নড়চড় হয়েছিল।

8। তেলেনাপোতা যাওয়াকে লেখক 'আবিষ্কার' বলেছেন কেন ?
অথবা, তেলেনাপোতায় যাওয়ার কারণ কী? লেখক একে আবিষ্কার বলেছেন কেন ?
অথবা, তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের গল্পকার প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্পে নায়কের এক অদ্ভুত ভ্রমণের কথা বলা হয়েছে। এই যাত্রা শুধু স্থান পরিবর্তন নয়, নানা নতুন উপলব্ধির দরজাও খুলে দেয়। তাই তেলেনাপোতায় যাওয়া এবং তাকে ‘আবিষ্কার’ বলা দুটিই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
তেলেনাপোতায় যাওয়ার কারণ : শহরের নিরন্তর কাজের চাপ আর ভিড়ভাট্টায় নায়ক ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ দু-দিনের অবসর হাতে আসায় তিনি একটু অন্যরকম পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলেন। সঙ্গে ছিল দুই বন্ধু। মূল উদ্দেশ্য ছিল ছিপ ও বঁড়শি নিয়ে মাছ ধরা, যদিও সঙ্গীদের আগ্রহের কারণ স্পষ্ট ছিল না। এই ভাবেই তারা তেলেনাপোতার পথে বেরিয়ে পড়েন।
‘আবিষ্কার’ বলার কারণ : তেলেনাপোতায় পৌঁছে নায়ক কেবল একটি গ্রাম খুঁজে পাননি; তিনি নানা নতুন অভিজ্ঞতা ও সত্যের মুখোমুখি হয়েছেন। সেই অর্থেই এটি আবিষ্কার।
(ক) অচেনা স্থানের সন্ধান : তেলেনাপোতা যেন বিস্মৃত এক জায়গা। নায়ক তাকে অজানা অন্ধকার থেকে সামনে এনে পরিচিত করে তোলেন। এই খুঁজে পাওয়ার মধ্যেই আবিষ্কারের ভাব রয়েছে।
(খ) নতুন অভিজ্ঞতার প্রাপ্তি : যাত্রাপথের কষ্ট, গোরুর গাড়িতে চলা, ভাঙা বাড়িতে রাত কাটানো কিংবা পুকুরঘাটে মাছ ধরার চেষ্টা সবই নায়কের কাছে একেবারে নতুন ছিল। তাই প্রতিটি মুহূর্ত তার কাছে যেন অজানাকে জানা।
(গ) যামিনীর দুঃখের পরিচয় : এখানেই প্রকাশ পায় নিরঞ্জনের দেওয়া ভাঙা প্রতিশ্রুতির কথা। যামিনীর জীবনের বেদনাময় দিক নায়ক উপলব্ধি করেন। এটিও এক ধরনের গভীর আবিষ্কার।
(ঘ) পলায়নপ্রবণ মানসিকতা : শেষে দেখা যায়, নায়ক নিজেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেন না। এর মধ্য দিয়ে শহুরে মানুষের টালমাটাল মনোভাব ধরা পড়ে যা পাঠকের কাছে নতুন উপলব্ধি হয়ে ওঠে।
(ঙ) আত্মউপলব্ধি : ঘটনাগুলির ভেতর দিয়ে নায়ক যেমন বদলে যান, তেমনি পাঠকও নিজের মনকে যাচাই করার সুযোগ পান। এই নিজেকে চিনে নেওয়ার দিকটিও আবিষ্কারের অংশ।
উপসংহার : অতএব তেলেনাপোতায় যাওয়া শুধু ভ্রমণ নয়, এর মধ্যে লুকিয়ে আছে স্থান, মানুষ ও মানসিকতার নতুন পরিচয় লাভ। নানা স্তরের এই খুঁজে পাওয়ার কারণেই লেখক একে যথার্থই ‘আবিষ্কার’ বলেছেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : WB Semester Team প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টিতে পুরো সিলেবাসের প্রশ্ন উত্তর রয়েছে এবং 'তেলেনাপোতা আবিষ্কার' গল্প থেকে আরো অনেকগুলি প্রশ্ন উত্তর রয়েছে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1.  ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
2. ক্লাস 11 মৌলিক অধিকারসমূহ প্রশ্ন উত্তর Click here
3. ক্লাস 11 প্রবন্ধ রচনা PDF Click here
4. নানা রঙের দিন নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
Regards,
WB Semester Team 
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.