WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

ক্লাস 11 প্রবন্ধ রচনা | Class 11 2nd Semester Bengali Probondho Rochona | একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিষ্টার প্রবন্ধ রচনা

0

ক্লাস 11 প্রবন্ধ রচনা PDF

ভূ(caps)মিকা : একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা বিষয়ে মোট 40 নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এই 40 নম্বরের মধ্যে একটি 10 নম্বরের প্রবন্ধ রচনা লিখতে হবে। বাংলা প্রশ্নপত্রে সাধারণত দুটি প্রবন্ধ রচনা দেওয়া থাকবে, তার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে লিখতে হবে। এই কারণে প্রবন্ধ রচনা পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই তোমাদের প্রবন্ধ রচনার সঠিক প্রস্তুতি থাকলে ভালো নম্বর পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে। তাই তোমাদের সুবিধার জন্য নিচে মানস মানচিত্র অবলম্বনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনাসহ PDF দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় এখান থেকেই অনেক প্রশ্ন কমন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুক (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। ভাষা একেবারে সহজ রাখা হয়েছে এবং উত্তরগুলো পরীক্ষায় লেখার উপযোগী করে সাজানো হয়েছে। তাই যারা বাংলা ই-বুক (PDF)টি কিনতে চান, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

Class 11 2nd Semester Bengali Probondho Rochona

🔹 Class 11 Semester 2 Bengali Probondho Rochona

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 10]

1. বাংলার উৎসব

[রচনা সংকেত : উৎসব সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা - উৎসবের উৎপত্তি ও শ্রেণীবিভাগ - উৎসবের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা - ধর্মীয় উৎসব - সামাজিক ও পারিবারিক উৎসব - উৎসবের আনন্দ]
উত্তর : ভূমিকা : মানুষের জীবন নিয়ম, দায়িত্ব ও সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে চলে। এই একঘেয়ে জীবনে উৎসব আসে আনন্দ ও স্বস্তির বার্তা নিয়ে। উৎসব মানুষের মনকে হালকা করে এবং দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে উৎসব অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই বাংলাকে উৎসবের দেশ বলা হয়, কারণ এখানে সারা বছর নানা উৎসব উদযাপিত হয়।
(ক) উৎসব সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা : উৎসব হল মানুষের সম্মিলিত আনন্দ প্রকাশের একটি রূপ। মানুষ যখন একত্রে মিলিত হয়ে হাসি-আনন্দ ভাগ করে নেয়, তখনই উৎসবের সৃষ্টি হয়। উৎসব মানুষের মনে নতুন উদ্দীপনা আনে এবং দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি দূর করে। ব্যক্তিগত আনন্দ সামাজিক রূপ নিলেই তা উৎসবে পরিণত হয়।
(খ) উৎসবের উৎপত্তি ও শ্রেণীবিভাগ : বাংলার উৎসবের উৎপত্তি বিভিন্ন উৎস থেকে হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক রীতি, ঋতুচক্র ও লৌকিক প্রথা এই সব কিছুর সমন্বয়েই বাংলার উৎসব গড়ে উঠেছে। এই কারণে উৎসবকে ধর্মীয়, সামাজিক, পারিবারিক, ঋতুভিত্তিক ও লৌকিক উৎসব এই কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। এই শ্রেণীবিভাগ বাংলার সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে প্রকাশ করে।
(গ) উৎসবের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা : উৎসবের প্রধান উদ্দেশ্য হল মানুষের মধ্যে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহমর্মিতা গড়ে তোলা। উৎসব মানুষে মানুষে থাকা দূরত্ব ও বিভেদ কমায় এবং সামাজিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও গভীর করে। একই সঙ্গে উৎসব মানুষের মনে আনন্দ এনে দেয় ও মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে। দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি ও চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি দিয়ে উৎসব সমাজজীবনে নতুন উদ্দীপনা ও প্রাণসঞ্চার করে। এই কারণেই উৎসব সামাজিক জীবনের একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
(ঘ) ধর্মীয় উৎসব : বাংলা বহু ধর্মের মানুষের বাসভূমি হওয়ায় এখানে ধর্মীয় উৎসবের বৈচিত্র্য দেখা যায়। হিন্দুদের দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো ও রথযাত্রা বিশেষভাবে পালিত হয়। মুসলমানদের ঈদ, মহরম ও বকরিদ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপিত হয়। খ্রিস্টানদের বড়দিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবও সমাজজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(ঙ) সামাজিক ও পারিবারিক উৎসব : জন্মদিন, বিবাহ, অন্নপ্রাশন, নববর্ষ, ভাতৃদ্বিতীয়া ও জামাইষষ্ঠীর মতো উৎসবগুলি প্রথমে পারিবারিক হলেও বহু মানুষের অংশগ্রহণে তা সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়। এই উৎসবগুলির মাধ্যমে আত্মীয়তা ও সামাজিক বন্ধন আরও গভীর হয়। নবান্ন ও পৌষসংক্রান্তির মতো উৎসব মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক তুলে ধরে।
(চ) উৎসবের আনন্দ : উৎসবের আনন্দ কখনো একার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এই আনন্দ সকলের সঙ্গে মিলেই পূর্ণতা লাভ করে। ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড়, জাতি ও ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে সবাই উৎসবের আনন্দে সমানভাবে অংশ নেয়। উৎসবের দিনে মানুষ একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়, শুভেচ্ছা বিনিময় করে এবং আন্তরিক ভালোবাসা প্রকাশ করে। এই মিলন, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক ভালোবাসাই উৎসবের প্রকৃত আনন্দ ও সৌন্দর্যকে আরও গভীর করে তোলে।
উপসংহার : অতএব বলা যায়, উৎসব মানুষের জীবনে আনন্দ ও সম্প্রীতির ধারাকে বজায় রাখে। উৎসব ভেদাভেদ ভুলিয়ে মানুষকে মিলনের বন্ধনে আবদ্ধ করে। তাই মানবিক ঐক্য ও সামাজিক সৌহার্দ্য রক্ষায় বাংলার উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।

2. বিজ্ঞান ও কুসংস্কার

[রচনা সংকেত : বিজ্ঞানের অর্থ ও স্বরূপ - কুসংস্কারের অর্থ ও স্বরূপ - বিজ্ঞান ও কুসংস্কারের উৎস - কুসংস্কারের সামাজিক ক্ষতি - কুসংস্কার প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা - কুসংস্কার প্রতিরোধে ছাত্র-ছাত্রীদের ভূমিকা]
উত্তর : মানুষের চিন্তাজগতে বিজ্ঞান ও কুসংস্কার দুটি বিপরীত ধারার প্রতিনিধিত্ব করে। বিজ্ঞান যুক্তি, বিচার ও পরীক্ষার ওপর দাঁড়িয়ে সত্য অনুসন্ধান করে, আর কুসংস্কার গড়ে ওঠে অন্ধ বিশ্বাস ও ভয়-আশার ওপর। আধুনিক যুগে আমরা বিজ্ঞানের আশীর্বাদে জীবনযাপন করলেও বাস্তবে কুসংস্কারের প্রভাব এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। দৈনন্দিন জীবনের নানা আচরণে আমরা অজান্তেই কুসংস্কারের আশ্রয় নিয়ে থাকি। তাই বিজ্ঞান ও কুসংস্কারের দ্বন্দ্ব আজও সমাজে স্পষ্ট।
(ক) বিজ্ঞানের অর্থ ও স্বরূপ : বিজ্ঞান হল যুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চা, যার মাধ্যমে মানুষ প্রকৃতির নানা রহস্য বুঝতে চেষ্টা করে। পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও যুক্তির সাহায্যে সত্যকে খুঁজে বের করাই বিজ্ঞানের কাজ। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই মানুষ প্রকৃতিকে জানার আগ্রহে নানা প্রশ্ন করেছে। সেই প্রশ্নের ধারাবাহিক উত্তর অনুসন্ধানের ফলেই বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানচেতনার বিকাশ ঘটেছে। বিজ্ঞান মানুষকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে বিচার করতে শেখায়।
(খ) কুসংস্কারের অর্থ ও স্বরূপ : কুসংস্কার হল মানুষের যুক্তিহীন, অন্ধ ও ভ্রান্ত বিশ্বাস। কোনো ঘটনার পিছনে যুক্তি বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না খুঁজে অলৌকিক কারণ কল্পনা করাই কুসংস্কারের লক্ষণ। টিকটিকির ডাককে অশুভ ভাবা, হাঁচি পড়লে কাজ বন্ধ রাখা, তাবিজ-কবচে বিশ্বাস রাখা এসবই কুসংস্কারের উদাহরণ। ইংরেজিতে একে ‘Superstition’ বলা হয়। মূলত অজ্ঞতা থেকেই এই ধরনের বিশ্বাস জন্ম নেয়।
(গ) বিজ্ঞান ও কুসংস্কারের উৎস : মানবসভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে একদিকে বিজ্ঞানচেতনার জন্ম হয়েছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হয়েছে কুসংস্কার। প্রকৃতির অনেক রহস্য ব্যাখ্যা করতে না পেরে মানুষ ভয় ও আশার আশ্রয় নিয়েছে। এই অজানা ভয় এবং অদৃশ্য আশার উৎস থেকেই কুসংস্কারের জন্ম। বিজ্ঞান যেখানে যুক্তির আলো জ্বালিয়েছে, সেখানে কুসংস্কার মানুষকে অন্ধকারে আটকে রেখেছে।
(ঘ) কুসংস্কারের সামাজিক ক্ষতি : কুসংস্কার সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আজও ডাইনি হত্যা, শিশু বলির মতো নৃশংস ঘটনা সমাজে ঘটে। শুধু অশিক্ষিত নয়, শিক্ষিত সমাজেও কুসংস্কারের প্রভাব লক্ষ করা যায়। বিজ্ঞান জানার পরেও অনেকে জ্যোতিষের ওপর নির্ভর করেন, গ্রহরত্ন ধারণ করেন বা ঝাড়ফুঁকে বিশ্বাস করেন। এইসব কুসংস্কার সমাজের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে এবং মানবিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করে।
(ঙ) কুসংস্কার প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা : সমাজকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে হলে কুসংস্কার দূর করা অত্যন্ত জরুরি। অন্ধ বিশ্বাস মানুষকে যুক্তিহীন করে তোলে এবং সমাজকে পিছিয়ে দেয়। বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিবাদী চিন্তা গড়ে তুললেই কুসংস্কারের শিকড় দুর্বল হবে। তাই কুসংস্কার প্রতিরোধ সমাজের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
(চ) কুসংস্কার প্রতিরোধে ছাত্র-ছাত্রীদের ভূমিকা : ছাত্র-ছাত্রীরাই ভবিষ্যৎ সমাজের চালিকাশক্তি। যুক্তিনিষ্ঠ মন গড়ে তোলা, অন্ধ বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা এবং বিজ্ঞানচেতনার প্রসার ঘটানো তাদের প্রধান দায়িত্ব। সচেতন চিন্তা ও যুক্তিবাদী মনোভাবের মাধ্যমে তারা সমাজকে কুসংস্কারমুক্ত করার পথে এগিয়ে নিতে পারে।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, বিজ্ঞান ও কুসংস্কার উভয়ই মানব মনের সৃষ্টি হলেও সমাজের কল্যাণের পথ দেখায় বিজ্ঞানই। যুক্তি ও বিচারবুদ্ধির আলোয় চললে কুসংস্কারের অন্ধকার দূর হবে। নচেৎ বিজ্ঞান ও কুসংস্কার পাশাপাশি চলতেই থাকবে। মানবজাতির মঙ্গল নিশ্চিত করতে হলে বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী পথই আমাদের বেছে নিতে হবে।

3. পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার

[রচনা সংকেত : পরিবেশ দূষণের প্রাথমিক ধারণা - বায়ু দূষণ- জল দূষণে- মাটি দূষণ- শব্দ দূষণ - পরিবেশ দূষণের ফলাফল - পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা - পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও বিশ্ব পরিবেশ দিবস ]
উত্তর : মানুষের জীবন সম্পূর্ণভাবে পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। গাছপালা, পশুপাখি, জল, বায়ু, মাটি, আলো ও শব্দ এই সমস্ত উপাদান মিলেই আমাদের চারপাশের পরিবেশ গড়ে ওঠে। পরিবেশ যত পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ থাকে, মানুষের জীবনও তত সুন্দর হয়। কিন্তু আধুনিক যুগে যন্ত্রসভ্যতার অগ্রগতি, শিল্পায়ন ও নগরায়ণের প্রভাবে পরিবেশের উপর ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলেই আজ পরিবেশ দূষণ একটি গুরুতর সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
(ক) পরিবেশ দূষণের প্রাথমিক ধারণা : পরিবেশ দূষণ বলতে বোঝায় পরিবেশের স্বাভাবিক গঠন ও ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া, যার ফলে মানুষ, পশুপাখি ও উদ্ভিদের ক্ষতি হয়। পরিবেশ দূষণকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়, যেমন- বায়ু দূষণ, জল দূষণ, মাটি দূষণ, শব্দ দূষণ এবং সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দূষণ।
(খ) বায়ু দূষণের কারণ : বর্তমান বিশ্বে শিল্প-কলকারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের নির্গত বিষাক্ত গ্যাস, আবর্জনা পোড়ানো এবং পারমাণবিক পরীক্ষার ফলে বাতাসে ক্ষতিকর পদার্থ মিশে যাচ্ছে। এর ফলে বাতাস দূষিত হয়ে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা সৃষ্টি করছে। বায়ু দূষণের কারণে হাঁপানি, ফুসফুসের রোগ ও হৃদরোগের মতো নানা জটিল অসুখ বাড়ছে।
(গ) জল দূষণের কারণ : জল দূষণ আজ মানবজীবনের জন্য এক বড়ো হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, নর্দমার জল ও আবর্জনা নদী, খাল ও জলাশয়ে মিশে যাচ্ছে। এর ফলে পানীয় জলের উৎস দূষিত হচ্ছে। জল দূষণের কারণে মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং জলজ প্রাণীর জীবনও বিপন্ন হয়ে পড়ছে।
(ঘ) মাটি দূষণের কারণ : কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। শিল্প-কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ ও শহরের আবর্জনার স্তূপ মাটিকে দূষিত করছে। এর ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং নানা সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটছে।
(ঙ) শব্দ দূষণের কারণ : শব্দ দূষণ আধুনিক জীবনের আর এক ভয়াবহ সমস্যা। কলকারখানার যন্ত্রের শব্দ, যানবাহনের হর্ণ, বিমানের আওয়াজ ও বাজি-পটকার শব্দ পরিবেশের শান্তি নষ্ট করছে। অতিরিক্ত শব্দের কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং মানসিক অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে।
(চ) পরিবেশ দূষণের ফলাফল : পরিবেশ দূষণের কারণে প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বায়ু, জল ও মাটি দূষিত হওয়ার ফলে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের সংক্রামক ও জটিল রোগের বিস্তার ঘটছে। এর সঙ্গে সঙ্গে মানবজীবন ক্রমশ অনিশ্চিত ও বিপন্ন হয়ে উঠছে। দূষিত পরিবেশে বসবাসের ফলে মানুষের শারীরিক শক্তি কমে যাচ্ছে এবং মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অস্থিরতার মতো সমস্যাও বাড়ছে। ফলে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।
(ছ) পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা : পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা গাছ লাগানো, আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং শব্দ দূষণ এড়িয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি মানুষকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ গড়তে ছাত্রছাত্রীদের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
(জ) পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও বিশ্ব পরিবেশ দিবস : মানবসভ্যতার অস্তিত্ব ও সুস্থ জীবনযাপন বজায় রাখতে পরিবেশ রক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পরিবেশ নষ্ট হলে মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ উভয়ই বিপন্ন হয়ে পড়ে। তাই মানুষকে পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতন করার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ৫ই জুন ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ পালন করা হয়, যাতে সবাই পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পারে এবং দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে।
উপসংহার : অতএব বলা যায়,পরিবেশ যদি সুস্থ ও দূষণমুক্ত থাকে, তবে মানবজীবনও সুন্দর ও নিরাপদ হবে। তাই পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের। সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই আমরা পরিবেশকে রক্ষা করতে পারি। নচেৎ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক ভয়াবহ পৃথিবীর মুখোমুখি হবে।

4. বিশ্ব উষ্ণায়ন

[রচনা সংকেত : বিশ্ব উষ্ণায়ন কী - বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ - বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব - বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলাফল - প্রতিকারের পথ - সচেতনতার প্রয়োজন - ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষা ]
উত্তর : আজকের পৃথিবী আর আগের মতো নেই। প্রকৃতির স্বাভাবিক রূপ ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। একসময় যে পৃথিবীতে ছয়টি ঋতুর স্পষ্ট উপস্থিতি ছিল, আজ সেখানে দীর্ঘ গ্রীষ্মই প্রধান হয়ে উঠছে। অতিরিক্ত গরমে পৃথিবী যেন এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হচ্ছে। মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে, বহু নদী শুকিয়ে যাচ্ছে এবং একসময়ের তুষারে ঢাকা পাহাড় আজ প্রায় বরফশূন্য। এই সমস্ত পরিবর্তনের পিছনে যে প্রধান কারণটি কাজ করছে, সেটি হল বিশ্ব উষ্ণায়ন।
(ক) বিশ্ব উষ্ণায়ন কী : মানুষের সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলে নানা ধরনের ক্ষতিকারক গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। এই গ্যাসগুলিকে গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয়। এগুলি সূর্যের আলো থেকে উৎপন্ন তাপকে পৃথিবীর বাইরে যেতে বাধা দেয়। ফলে তাপ বায়ুমণ্ডলে আটকে থাকে এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে। এইভাবে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা যে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাকেই বিশ্ব উষ্ণায়ন বলা হয়।
(খ) বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ : বিশ্ব উষ্ণায়নের পেছনে মানুষেরই বড় ভূমিকা রয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, সীমাহীন ভোগের মানসিকতা এবং অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়নের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়েছে। এসি, রেফ্রিজারেটরের অতিরিক্ত ব্যবহারে ক্লোরোফ্লুরো কার্বনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষিজমিতে বেশি নাইট্রোজেন সার ব্যবহার এবং পচনশীল আবর্জনা থেকে নির্গত মিথেন গ্যাসও বিশ্ব উষ্ণায়নের অন্যতম কারণ। এছাড়া অরণ্য ধ্বংস ও প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
(গ) বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব : বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব প্রকৃতির উপর অত্যন্ত মারাত্মক। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে যাচ্ছে। ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছাচ্ছে। অম্লবৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। এই সবই মানবসভ্যতার জন্য বড় বিপদের ইঙ্গিত।
(ঘ) বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলাফল : বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তার ফলাফল আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এই সমস্যার কারণে পৃথিবীর স্বাভাবিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। নানা ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান হারাচ্ছে। অনেক প্রজাতি ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। এছাড়া জলবায়ুর অনিয়মিত পরিবর্তনের ফলে কৃষিকাজে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কখনও অতিরিক্ত তাপ, কখনও অনাবৃষ্টি আবার কখনও অকাল বৃষ্টির কারণে ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এর ফলে কৃষকদের ক্ষতি হচ্ছে এবং খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা মানবসমাজের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
(ঙ) প্রতিকারের পথ : বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রতিরোধ করা অসম্ভব নয়। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে এবং বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করে বেশি করে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও জোয়ারভাটার শক্তির ব্যবহার বাড়ালে পরিবেশের ক্ষতি কমবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় বন্ধ করা জরুরি।
(চ) সচেতনতার প্রয়োজন : বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো বড় সমস্যার সমাধানে মানুষের সচেতনতার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। প্রত্যেক মানুষ যদি নিজের দৈনন্দিন জীবনে সামান্য হলেও দায়িত্বশীল আচরণ করে, তবে এই সমস্যার তীব্রতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় কমানো, পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ এড়িয়ে চলা এবং প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা থাকলেই বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
(ছ) ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষা : আজকের দিনে মানুষের ভুল সিদ্ধান্ত ও অবহেলার ফল ভোগ করতে হবে আগামী প্রজন্মকে। যদি এখন থেকেই আমরা পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সতর্ক না হই, তবে ভবিষ্যতে পৃথিবী মানুষের বসবাসের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়তে পারে। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়া আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।
উপসংহার : অতএব বলা যায়, আধুনিকতার পথে এগোতে গিয়ে প্রকৃতিকে ধ্বংস করা চলবে না। সুস্থ শরীর নিয়ে বেঁচে থাকার পাশাপাশি সুস্থ পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখাও জরুরি। বিশ্ব উষ্ণায়ন শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়, এটি গোটা বিশ্বের সমস্যা। সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্ববোধই পারে এই সংকট থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : WB Semester Team প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টিতে পুরো সিলেবাসের প্রশ্ন উত্তর রয়েছে এবং আরো অনেকগুলি প্রবন্ধ রচনা রয়েছে।

🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : ক্লাস 11 প্রবন্ধ রচনা PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. ক্লাস 11 রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ  Click here
2. ক্লাস 11 মৌলিক অধিকারসমূহ প্রশ্ন উত্তর Click here
3. ক্লাস 11 নির্বাচন এবং প্রতিনিধিত্ব প্রশ্ন উত্তর Click here
4. নানা রঙের দিন নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
Regards,
WB Semester Team 
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.