🔹 Class 11 2nd Semester Political Science Question Answer
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 4]
1. ভারতীয় সংবিধানে মৌলিক অধিকারগুলিকে লিপিবদ্ধ করার কারণগুলি লেখো ? [HS Model Question]
উত্তর : ভারতীয় সংবিধান রচনার সময় সংবিধান প্রণেতারা নাগরিকদের অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাই নাগরিকদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যে মৌলিক অধিকারগুলিকে সংবিধানে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবিধানে মৌলিক অধিকারগুলিকে লিপিবদ্ধ করার কারণসমূহ :
(১) সংবিধান প্রণেতাদের সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য : ভারতীয় সংবিধানে মৌলিক অধিকার অন্তর্ভুক্ত করার পেছনে সংবিধান প্রণেতাদের একটি সুস্পষ্ট চিন্তাধারা কাজ করেছিল। একদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবিধানের প্রভাব এবং অন্যদিকে তৎকালীন ভারতের সামাজিক বাস্তবতা এই দুইয়ের সমন্বয়েই মৌলিক অধিকারগুলিকে লিখিত আকারে সংবিধানে স্থান দেওয়া হয়।
(২) সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষার প্রয়োজন : মৌলিক অধিকারগুলি লিখিতভাবে সংবিধানে থাকলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করা সহজ হয়। যদি শাসন বিভাগ বা আইনসভা তাদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে, তবে বিচার বিভাগ সংবিধানের ভিত্তিতে সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
(৩) গণতান্ত্রিক শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা : গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই অধিকারগুলির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে অধিকারচেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। তাই ভারতের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে কার্যকর করার জন্য সংবিধানে মৌলিক অধিকার লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।
(৪) জনগণের সচেতনতা ও চেতনার বিকাশ : সংবিধানে মৌলিক অধিকার অন্তর্ভুক্ত থাকার ফলে নাগরিকরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারও তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করে, যা একটি সুস্থ রাষ্ট্র পরিচালনায় সহায়ক।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, ভারতীয় সংবিধানে মৌলিক অধিকারগুলিকে লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়েছে, সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা পেয়েছে এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই কারণেই মৌলিক অধিকারগুলি ভারতীয় সংবিধানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃত।
2. ভারতীয় সংবিধানে কি কি মৌলিক অধিকার স্বীকৃত হয়েছে ?
অথবা, ভারতীয়রা মৌলিক অধিকার হিসেবে কী কী অধিকার ভোগ করে আলোচনা করো। (HS (XI) 2012)
উত্তর : ভারতীয় সংবিধানে নাগরিকদের জন্য কয়েকটি মৌলিক অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। এগুলি সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ে ১২ থেকে ৩৫ নং ধারার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে সংবিধানে মোট ছয় ধরনের মৌলিক অধিকার স্বীকৃত। এছাড়া, সংবিধানের ১২ ও ১৩ নং ধারায় নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ ও সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারসমূহ :
১. সাম্যের অধিকার : সংবিধানের ১৪-১৮ নং ধারায় সাম্যের অধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমতা, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সামাজিক মর্যাদার সমান অধিকার, সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ, অস্পৃশ্যতা ও উপাধি প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
২. স্বাধীনতার অধিকার : সংবিধানের ১৯-২২ নং ধারায় স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত। এর মধ্যে বাক্স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়া, সংঘ গঠন, দেশের যে-কোনো স্থানে চলাফেরা ও বসবাস এবং পেশা বা ব্যবসা করার অধিকার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গ্রেফতার সংক্রান্ত সুরক্ষাও দেওয়া হয়েছে।
৩. শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার : সংবিধানের ২৩ ও ২৪ নং ধারায় শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার দেওয়া হয়েছে। বেগার খাটানো, মানুষ কেনাবেচা এবং ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের বিপজ্জনক কাজে নিয়োগ আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য।
৪. ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার : সংবিধানের ২৫-২৮ নং ধারায় ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে। নাগরিকরা নিজের বিবেক অনুযায়ী ধর্ম পালন করতে পারে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গঠন করতে পারে এবং ধর্মের নামে জোরপূর্বক কর আদায় নিষিদ্ধ।
৫. সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত অধিকার : সংবিধানের ২৯ নং ধারা অনুযায়ী নাগরিকরা নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি রক্ষা করতে পারে। ৩০ নং ধারায় সংখ্যালঘুদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার অধিকার দেওয়া হয়েছে।
৬. সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার : সংবিধানের ৩২ ও ২২৬ নং ধারায় মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার স্বীকৃত। এই ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট প্রয়োজনীয় লেখ জারি করতে পারে।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, এই ছয়টি মৌলিক অধিকার ভারতীয় নাগরিকদের স্বাধীনতা, সমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।
3. অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে পার্থক্য করো। [HS (XI) 2012, 11, 10, 07]
উত্তর : মানুষ সমাজে বসবাস করার ফলে কিছু অধিকার লাভ করে এবং মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করার কারণেও কিছু অধিকার তার থাকে। এই দুই ধরনের অধিকারকে যথাক্রমে অধিকার ও মানবাধিকার বলা হয়। এদের মধ্যে কয়েকটি মৌলিক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে পার্থক্য :
১. ধারণার পার্থক্য : অধিকার বলতে সেই সব দাবি বা সুযোগকে বোঝায়, যা সমাজের স্বার্থে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয় ও রক্ষা করে। অন্যদিকে, মানবাধিকার হল সেই অধিকারসমূহ যা মানুষ কেবল মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করার জন্যই পায়, এর জন্য রাষ্ট্রের অনুমতির প্রয়োজন হয় না।
২. প্রকৃতিগত পার্থক্য : অধিকার যেহেতু রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত ও সংরক্ষিত, তাই এর প্রকৃতি মূলত আইনগত ও নৈতিক। কিন্তু মানবাধিকার মানুষের সহজাত অধিকার হওয়ায় এর প্রকৃতি স্বাভাবিক ও জন্মগত।
৩. তত্ত্বাবধানের কর্তৃত্বের পার্থক্য : সাধারণ অধিকার রাষ্ট্রের সার্বভৌম সীমার মধ্যেই কার্যকর হয় এবং রাষ্ট্রই এর তত্ত্বাবধান করে। কিন্তু মানবাধিকার সমগ্র বিশ্বের মানুষের জন্য প্রযোজ্য এবং এর তত্ত্বাবধানের ক্ষেত্রে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের আন্তর্জাতিক ভূমিকা রয়েছে।
৪. বিশ্বজনীনতার পার্থক্য : অধিকার মানুষকে সমাজ ও রাষ্ট্রের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়, তাই এগুলি স্থায়ী নয়। কিন্তু মানবাধিকার জন্মগত ও চিরস্থায়ী। কোনো আইন বা সংবিধানের মাধ্যমে এগুলি পরিবর্তন বা বিলুপ্ত করা যায় না।
মূল্যায়ন : সার্বিকভাবে বলা যায়, অধিকার রাষ্ট্রনির্ভর ও সীমাবদ্ধ হলেও মানবাধিকার মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত এবং সর্বজনীন। তাই মানবাধিকার অধিক বিস্তৃত ও শাশ্বত, যেখানে অধিকার নির্দিষ্ট সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ।
4. ভারতীয় সংবিধানে স্বীকৃত সাম্যের অধিকার আলোচনা করো।
উত্তর : ভারতীয় সংবিধানে নাগরিকদের জন্য যে ছয়টি মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে প্রথম ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হল সাম্যের অধিকার। এই অধিকার সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। সংবিধানের ১৪ থেকে ১৮ নং ধারা পর্যন্ত সাম্যের অধিকার সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবিধানে স্বীকৃত সাম্যের অধিকার :
১. আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠা (১৪ নং ধারা) : এই ধারায় বলা হয়েছে যে আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং প্রত্যেককেই নিজের কাজের জন্য আইনের কাছে সমানভাবে জবাবদিহি করতে হবে। ব্রিটিশ সংবিধানবিদ ডাইসির ‘Rule of Law’ ধারণার প্রভাব এখানে লক্ষ করা যায়। একই অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের জন্য আইন একইভাবে প্রযোজ্য হবে এবং রাষ্ট্র কোনো বৈষম্যমূলক আইন প্রয়োগ করতে পারবে না।
২. রাষ্ট্রকর্তৃক বৈষম্যের অনুপস্থিতি (১৫ নং ধারা) : রাষ্ট্র ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের অজুহাতে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করতে পারবে না। বিশেষ করে দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁ, বিনোদনস্থল, সরকারি কূপ, স্নানঘাট বা রাস্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না।
৩. সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগের অধিকার (১৬ নং ধারা) : এই ধারা অনুযায়ী সরকারি চাকরির নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি বা পেনশনের ক্ষেত্রে কোনো নাগরিকের সঙ্গে ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য করা নিষিদ্ধ। সকল নাগরিকের জন্য সরকারি কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
৪. অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে অধিকার (১৭ নং ধারা) : অস্পৃশ্যতার ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অযোগ্য বা অক্ষম বলে ঘোষণা করা আইনত অপরাধ। এই ধরনের আচরণ দণ্ডনীয় এবং তা প্রতিরোধের জন্য পার্লামেন্ট ‘পৌর অধিকার রক্ষা আইন’ প্রণয়ন করেছে।
৫. খেতাব বা উপাধির বিলুপ্তি (১৮ নং ধারা) : সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র সামরিক ও শিক্ষাগত উপাধি ছাড়া অন্য কোনো খেতাব দিতে পারে না। পাশাপাশি কোনো ভারতীয় নাগরিক বিদেশি রাষ্ট্রের দেওয়া খেতাব গ্রহণ করতে পারবে না।
মূল্যায়ন : পরিশেষে বলা যায় সাম্যের অধিকার আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও অর্থনৈতিক সাম্যের উল্লেখ কম। তবুও একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে এই অধিকার অপরিহার্য।
5. মৌলিক অধিকার ও নির্দেশমূলক নীতির মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : ভারতীয় সংবিধানে নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নির্ধারণ এই দুই উদ্দেশ্যে মৌলিক অধিকার ও নির্দেশমূলক নীতি রাখা হয়েছে। উদ্দেশ্য কাছাকাছি হলেও কার্যকারিতা ও প্রকৃতিতে এদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য আছে।
মৌলিক অধিকার ও নির্দেশমূলক নীতির পার্থক্য :
১. প্রকৃতি ও নির্দেশনা : মৌলিক অধিকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উপর সীমা আরোপ করে, যাতে নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়। অন্যদিকে নির্দেশমূলক নীতি রাষ্ট্রকে জানায় নাগরিক কল্যাণে কী কী কাজ করা উচিত।
২. বলবৎযোগ্যতা : মৌলিক অধিকার আদালতের মাধ্যমে কার্যকর করা যায়। কিন্তু নির্দেশমূলক নীতি আদালতে বলবৎযোগ্য নয়।
৩. কার্যকারিতা (আইন প্রণয়ন) : মৌলিক অধিকার কার্যকর করতে আলাদা আইন প্রয়োজন হয় না। কিন্তু নির্দেশমূলক নীতি কার্যকর করতে হলে আইনসভাকে পৃথক আইন করতে হয়।
৪. বাতিলকরণ ও পরিধি : মৌলিক অধিকার বিরোধী আইন বা নির্দেশ আদালত বাতিল করতে পারে এবং এতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সীমিত হয়। কিন্তু নির্দেশমূলক নীতির বিরোধী আইন আদালত বাতিল করতে পারে না; এগুলি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে আর্থ-সামাজিক লক্ষ্য পূরণে প্রসারিত করে।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায় মৌলিক অধিকার রাজনৈতিক গণতন্ত্রের ভিত্তি গড়ে তোলে, আর নির্দেশমূলক নীতি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্যের দিশা দেখায়। উভয় মিলেই সংবিধানের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব।
6. ভারতের সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক কর্তব্যগুলি লেখো।
অথবা, ভারতীয় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত যে-কোনো পাঁচটি মৌলিক কর্তব্য সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর : ভারতীয় সংবিধানে নাগরিকের অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই নাগরিকের দায়িত্বও সমান প্রয়োজনীয়। এই উদ্দেশ্যে সংবিধানের চতুর্থ-ক অধ্যায়ের ৫১ (A) নং ধারায় ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ১১টি মৌলিক কর্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারতের সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক কর্তব্যসমূহ :
১. সংবিধান ও জাতীয় প্রতীকের প্রতি শ্রদ্ধা : প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য হল সংবিধান মেনে চলা এবং সংবিধানের আদর্শ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।
২. স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শ অনুসরণ : যে মহান আদর্শগুলি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে পরিচালিত করেছিল, সেগুলিকে রক্ষা করা ও দৈনন্দিন জীবনে অনুসরণ করা নাগরিকের দায়িত্ব।
৩. সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষা : ভারতের স্বাধীনতা, একতা ও সংহতি বজায় রাখার জন্য কাজ করা এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।
৪. দেশরক্ষা ও জাতীয় সেবায় অংশগ্রহণ : দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনে এবং বিভিন্ন জাতীয় সেবামূলক কাজে নাগরিকদের সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসা উচিত।
৫. জাতীয় ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ গঠন : ধর্ম, ভাষা, অঞ্চল বা শ্রেণিগত বিভেদ ভুলে সকল ভারতীয়ের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা এবং নারীর মর্যাদাহানিকর প্রথা পরিত্যাগ করা নাগরিকের কর্তব্য।
৬. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ : ভারতের বহুমুখী ও মিশ্র সংস্কৃতির গৌরবময় ঐতিহ্যকে সম্মান করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা সংরক্ষণ করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
৭. পরিবেশ ও জীবজগত সংরক্ষণ : বন, নদী, হ্রদ, বন্যপ্রাণীসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়নে সচেষ্ট হওয়া এবং জীবজন্তুর প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করা নাগরিকের কর্তব্য।
৮. বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রসার : যুক্তিনির্ভর চিন্তা, মানবিকতা, অনুসন্ধিৎসা ও সংস্কারমুখী মনোভাব গড়ে তুলে সমাজের অগ্রগতিতে সহায়তা করা নাগরিকের দায়িত্ব।
৯. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা ও অহিংসা পালন : সরকারি ও জাতীয় সম্পত্তির ক্ষতি না করা এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে হিংসার পথ পরিহার করা নাগরিকের অবশ্যপালনীয় কর্তব্য।
১০. উৎকর্ষ সাধনের চেষ্টা : ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান অর্জনের জন্য চেষ্টা করা, যাতে জাতীয় উন্নয়নের গতি বজায় থাকে।
১১. শিশু শিক্ষার দায়িত্ব পালন : ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি প্রতিটি শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করা পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।
মূল্যায়ন : সুতরাং মৌলিক কর্তব্যগুলি নাগরিককে সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলে। এগুলি পালন করলে রাষ্ট্র ও সমাজের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : WB Semester Team প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন ই-বুক(PDF)টিতে পুরো সিলেবাসের প্রশ্ন উত্তর রয়েছে এবং এই অধ্যায় থেকে 4 নম্বর মানের আরো অনেকগুলি প্রশ্ন উত্তর রয়েছে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : ক্লাস 11 মৌলিক অধিকারসমূহ প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. ক্লাস 11 রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ | Click here |
| 2. ক্লাস 12 জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ | Click here |
| 3. ক্লাস 11 সরকারের বিভিন্ন রূপ প্রশ্ন উত্তর | Click here |
| 4. নানা রঙের দিন নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
