WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

ক্লাস 11 সমকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা প্রশ্ন উত্তর | একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর

0

চতুর্থ অধ্যায় : সমকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা PDF

ভূ(caps)মিকা : একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিষ্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে 40 নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এই 40 নম্বরের মধ্যে চতুর্থ অধ্যায় : 'সমকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা' থেকে মোট 6 নম্বর প্রশ্ন থাকবে। এই অধ্যায় থেকে 6 নম্বর মানের 1 টি প্রশ্ন করতে হবে। অর্থাৎ 6 নম্বর। তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চতুর্থ অধ্যায় 'সমকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা' থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ 6 নম্বর মানের প্রশ্ন-উত্তর সহ একটি PDF এখানে প্রদান করেছি। এছাড়াও আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন ই-বুক (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এখন থেকে অনেক প্রশ্ন পরীক্ষায় কমন পাবেন। এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুসারে অত্যন্ত সহজ ও পরীক্ষামুখীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আপনাদের অনেক সাহায্য করবে। তাই ই-বুক (PDF)টি কিনতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

ক্লাস 11 সমকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা প্রশ্ন উত্তর

🔹 একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 6]
1. গান্ধিজির সত্যাগ্রহ সম্পর্কিত ধারণাটি ব্যাখ্যা করো। [HS Model Question 24]
অথবা, টীকা লেখো : গান্ধিজির সত্যাগ্রহ ধারণা।
উত্তর : গান্ধিজির চিন্তাধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সত্যাগ্রহ। তাঁর মতে, সত্যাগ্রহ কেবল রাজনৈতিক আন্দোলনের কৌশল নয়, বরং এটি মানুষের নৈতিক জীবনদর্শনের প্রকাশ, যা ব্যক্তিকে স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত করে সমাজের কল্যাণের পথে নিয়ে যায়।
গান্ধিজির সত্যাগ্রহ সম্পর্কিত ধারণা :
1. সত্যাগ্রহের অর্থ : সত্যাগ্রহ শব্দের অর্থ হল সত্যের প্রতি অনুরাগ। গান্ধিজির মতে, এটি এমন এক সংগ্রাম পদ্ধতি যেখানে বলপ্রয়োগ বা হিংসার আশ্রয় না নিয়ে সত্য ও নৈতিকতার মাধ্যমে অন্যায়ের বিরোধিতা করা হয়।
2. নৈতিক সংগ্রামের পথ : সত্যাগ্রহ কোনো ঘৃণা বা ক্রোধের উপর ভিত্তি করে নয়। এটি ভালোবাসা ও নৈতিক শক্তির সাহায্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি মানবিক উপায়।
3. নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নয় : গান্ধিজি মনে করতেন, সত্যাগ্রহ কোনো নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল প্রতিরোধ নয়। এটি নৈতিক ও আত্মিক শক্তির মাধ্যমে অন্যায়কে সক্রিয়ভাবে প্রতিহত করার সাহসী পদ্ধতি।
4. অহিংসা নীতির গুরুত্ব : সত্যাগ্রহ সম্পূর্ণভাবে অহিংসার উপর নির্ভরশীল। একজন সত্যাগ্রহী কখনো হিংসার পথ গ্রহণ করে না, কারণ অহিংসার মাধ্যমেই সত্যের উপলব্ধি সম্ভব বলে গান্ধিজি বিশ্বাস করতেন।
5. আত্মনিগ্রহ ও আত্মত্যাগ : সত্যাগ্রহে আত্মসংযম ও আত্মত্যাগের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিপক্ষের হৃদয় জয় করার জন্য সত্যাগ্রহীকে প্রয়োজনে কষ্ট সহ্য করতেও প্রস্তুত থাকতে হয়।
6. সত্যাগ্রহের রূপ ও কৌশল : গান্ধিজি সত্যাগ্রহের বিভিন্ন রূপের কথা বলেছেন, যেমন- অহিংস অসহযোগ, আইন অমান্য, অনশন ও পিকেটিং। এসব আন্দোলনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, প্রলোভনে না পড়া এবং প্রয়োজনে চরম ত্যাগ স্বীকার করা জরুরি।
মূল্যায়ন : সুতরাং আলোচনার শেষে বলতে পারি গান্ধিজির সত্যাগ্রহ ধারণা নিয়ে সমালোচনা থাকলেও, মানবমুক্তির সংগ্রামে এটি একটি অনন্য ও ঐতিহাসিক অবদান। নৈতিকতা ও অহিংসার উপর প্রতিষ্ঠিত এই আন্দোলন বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।

2. গান্ধিজির রাজনৈতিক দর্শনের মূল সূত্রগুলি আলোচনা করো। [HS-2013]
অথবা, গান্ধির চিন্তাধারার মূল বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তর : গান্ধিজি মানুষের নৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণকে কেন্দ্র করে যে রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার কথা বলেছেন, তাই তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি। ভারতীয় দর্শন ও মানবিক মূল্যবোধ তাঁর চিন্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। গান্ধিজির রাজনৈতিক দর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল অহিংস ও নৈতিক সমাজ গঠন। ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নৈতিক শক্তিকেই তিনি প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি মনে করতেন।
গান্ধিজির রাজনৈতিক দর্শনের মূল সূত্রসমূহ :
1. অহিংসা : গান্ধিজির কাছে অহিংসা ছিল কেবল হিংসা ত্যাগ নয়, বরং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও নৈতিক শক্তির প্রকাশ। তাঁর মতে অহিংসা দুর্বলতার চিহ্ন নয়, বরং এটি মানুষের আত্মিক শক্তিকে জাগ্রত করে এবং প্রত্যেকের জীবনে পালনযোগ্য একটি নৈতিক আদর্শ।
2. সত্যাগ্রহ : সত্যাগ্রহের অর্থ হল সত্যের প্রতি দৃঢ় অনুগত থাকা। গান্ধিজির মতে, সত্যাগ্রহে ভয় বা কাপুরুষতার কোনো স্থান নেই। এটি নিষ্ক্রিয় প্রতিবাদ নয়, বরং ভালোবাসা ও নৈতিক সাহসের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এক শক্তিশালী পদ্ধতি।
3. সর্বোদয় : সর্বোদয় বলতে গান্ধিজি সমাজের সকল মানুষের উন্নয়নকে বোঝাতে চেয়েছিলেন। এখানে কোনো বিশেষ শ্রেণির স্বার্থ নয়, বরং সমাজের সব স্তরের মানুষের কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁর মতে সমাজে পুঁজি কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত না হয়ে সকলের মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত হওয়া উচিত।
4. রাষ্ট্রহীন গণতন্ত্র : গান্ধিজি বিশ্বাস করতেন যে প্রকৃত গণতন্ত্র ব্যক্তিস্বাধীনতার উপর নির্ভরশীল। অহিংস নীতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এমন এক সমাজ তিনি কল্পনা করেছিলেন, যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রয়োজন হবে না এবং মানুষ নিজেই আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সমাজ পরিচালনা করবে।
5. স্বরাজ : গান্ধিজির স্বরাজের ধারণা কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর মতে, জাতি, ধর্ম বা বর্ণভেদ না করে সকল মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই প্রকৃত স্বরাজ সম্ভব এবং এর মধ্য দিয়েই আদর্শ সমাজ গঠন করা যায়।
6. রামরাজ্য : রামরাজ্য বলতে গান্ধিজি এমন এক সমাজব্যবস্থাকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যেখানে শোষণ, বৈষম্য ও হিংসার কোনো স্থান নেই। এই সমাজ হবে অহিংস, সাম্যভিত্তিক, শ্রেণিহীন এবং বিকেন্দ্রীভূত ক্ষমতার উপর প্রতিষ্ঠিত।
সমালোচনা : গান্ধিজির রাজনৈতিক দর্শনকে অনেকে সমালোচনা করেছেন এই কারণে যে, তাঁর চিন্তাধারায় কিছু ক্ষেত্রে স্ববিরোধিতা লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া রাষ্ট্রের শ্রেণিচরিত্রকে তিনি যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি বলে সমালোচকেরা মনে করেন। তবে তিনি রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম ও নৈতিকতার গভীর সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন, যা তাঁর দর্শনকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে।

3. স্বামী বিবেকানন্দের রাজনৈতিক সংস্কারগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো।
অথবা, স্বামী বিবেকানন্দ কি প্রত্যক্ষ রাজনীতি করতেন? তার রাজনৈতিক সংস্কারগুলি সম্পর্কে নিজের ভাষায় আলোচনা করো।
উত্তর : স্বামী বিবেকানন্দ সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ না করলেও ভারতের রাজনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করেছিলেন। তিনি মনে করতেন, পাশ্চাত্য শাসনের প্রভাবে ভারতের আত্মপরিচয় ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তাই রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য মানসিক ও নৈতিক সংস্কার অপরিহার্য।
স্বামীজির রাজনৈতিক সংস্কারের প্রধান দিকসমূহ :
1. জাতীয়তাবোধ ও ঐতিহ্যচেতনা : স্বামী বিবেকানন্দ জাতীয়তাবাদকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের গৌরবময় ঐতিহ্যকে পুনরায় জানার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর মতে, নিজের অতীত ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হলেই ভারতবাসীর মধ্যে জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটবে।
2. জাতীয় পুনরুজ্জীবনের ভাবনা : তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারতের জাতীয় পুনরুজ্জীবনের জন্য আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ অত্যন্ত জরুরি। ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতাকেই তিনি ভারতের জাতীয় জীবনের মূল চালিকাশক্তি বলে মনে করতেন।
3. জনজাগরণ ও যুবসমাজের উদ্বুদ্ধকরণ : পরাধীন ভারতের মানুষকে জাগিয়ে তুলতে স্বামী বিবেকানন্দের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তৎকালীন সমাজে যুবসমাজকে উৎসাহিত করার জন্য তিনি আহ্বান জানান -'ওঠো, জাগো এবং যতক্ষণ না লক্ষ্যে পৌছাঁতে পারছো থেমো না।' বিশেষত যুবসমাজকে তিনি আত্মবিশ্বাস ও লক্ষ্যনিষ্ঠার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। 
4. আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা : স্বামীজি এমন এক আদর্শ রাষ্ট্রের কল্পনা করেছিলেন যেখানে জ্ঞান, শাসনক্ষমতা, অর্থনৈতিক শক্তি ও সামাজিক সাম্য সব কিছুর সুষম সমন্বয় থাকবে। এই রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ।
5. রাজনীতিতে নৈতিকতা ও ধর্মের ভূমিকা : তিনি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের সমর্থক ছিলেন না। তবে ন্যায়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের উপর রাজনীতি পরিচালনার পক্ষে মত দেন, যা হবে ধর্মনিরপেক্ষ কিন্তু নৈতিকতায় সমৃদ্ধ।
6. জনগণের সার্বিক উন্নয়ন : স্বামী বিবেকানন্দ মনে করতেন, দারিদ্র্য ও দুর্দশাগ্রস্ত সমাজে রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। তাই রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আগে সাধারণ মানুষের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নকে তিনি অপরিহার্য বলে মনে করেছিলেন।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, স্বামী বিবেকানন্দ প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও তাঁর চিন্তাধারা, জাতীয় জাগরণ, আধ্যাত্মিক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ ভারতের রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য একটি শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছিল। তাঁর রাজনৈতিক ভাবনা পরোক্ষভাবে ভারতের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রচিন্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

4. স্বামী বিবেকানন্দের সামাজিক সংস্কারগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো।
অথবা, বিবেকানন্দের সামাজিক সংস্কার সংক্রান্ত চিন্তাভাবনাগুলি আলোচনা করো।
উত্তর : স্বামী বিবেকানন্দের সামাজিক সংস্কার ভাবনা ছিল মানবকল্যাণমূলক ও বাস্তবধর্মী। তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত মানুষের অবস্থার উন্নতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেন এবং সামাজিক অসাম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।
স্বামীজির সামাজিক সংস্কারের প্রধান দিকসমূহ : 
1. দারিদ্র্য দূরীকরণ : স্বামী বিবেকানন্দ ভারতের দারিদ্র্য ও অজ্ঞতার অবস্থায় গভীরভাবে ব্যথিত ছিলেন। তিনি মনে করতেন, দারিদ্র্য দূর না হলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই তিনি ভারতবাসীর আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার উপর জোর দেন।
2. শিক্ষার বিস্তার : স্বামীজির মতে, শিক্ষা হল সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। তিনি সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি নারী ও নিম্নবর্গের মানুষের শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ব্যবহারিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তিনি উপলব্ধি করেছিলেন।
3. নারীমুক্তি ও নারীশিক্ষা : স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন, শিক্ষিত নারী ছাড়া সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই তিনি নারীশিক্ষা, নারীর মর্যাদা ও সমানাধিকারের পক্ষে মত দেন। সমাজে প্রচলিত নারী–পুরুষ বৈষম্য ও কুপ্রথার তিনি বিরোধিতা করেছিলেন।
4. সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা : বর্ণাশ্রম ব্যবস্থার সমালোচনা করে স্বামীজি বলেন, বংশগত বিভেদের কারণেই সমাজে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। বেদান্তের সাম্যের আদর্শ অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের আত্মা সমান। এই ধারণাই তাঁর সামাজিক সাম্যের ভিত্তি গড়ে তোলে।
6. কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস দূরীকরণ : সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে স্বামীজি সংগ্রাম করেছিলেন। তাঁর মতে, শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমেই সমাজকে এসব কুপ্রথা থেকে মুক্ত করা সম্ভব।
5. অস্পৃশ্যতার বিরোধিতা : স্বামী বিবেকানন্দ অস্পৃশ্যতাকে মানবতাবিরোধী বলে মনে করতেন। তিনি জাতিভেদ ও বর্ণভেদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মানুষকে সহানুভূতিশীল ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানান।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায় স্বামী বিবেকানন্দের সামাজিক সংস্কার ভাবনা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায় ও সাম্যের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শিক্ষা, মানবিকতা ও সাম্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তাঁর চিন্তাধারা আজও সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।

5. ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং ভারতের উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে নেতাজির স্বাধীনতা সম্পর্কিত ধারণা বিশ্লেষণ করো।
অথবা, স্বাধীনতা সম্পর্কে নেতাজির ধারণা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : স্বাধীনতা বলতে বোঝায় নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করার অধিকার। যে দেশ পরাধীন থাকে বা যেখানে মানুষকে বিদেশি শক্তির শাসনে চলতে হয়, সেখানে স্বাধীনতার মূল্য খুব বেশি। সেই দাসত্ব থেকে দেশকে মুক্ত করতে স্বাধীনতা আন্দোলন প্রয়োজন। এই আন্দোলনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন একজন সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ সেনানায়ক। তিনি মানুষকে ত্যাগের জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।” নেতাজির স্বাধীনতার ভাবনা তাঁর গভীর দেশপ্রেম, নিপীড়িত মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের আদর্শের মধ্যেই প্রকাশ পায়।
নেতাজির স্বাধীনতার ধারণা : নেতাজির স্বাধীনতার ভাবনাকে চারটি দিক থেকে বোঝা যায়। যেমন -
1. রাজনৈতিক স্বাধীনতা : নেতাজির মতে, ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতকে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত করা ছিল সবচেয়ে জরুরি কাজ। তিনি মনে করতেন, কেবল শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে নয়, প্রয়োজনে শক্তিশালী সংগ্রামের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব।
2. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা : নেতাজি বিশ্বাস করতেন যে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী না হলে রাজনৈতিক স্বাধীনতার মূল্য থাকে না। তাই তিনি দেশের শিল্প ও উৎপাদনের উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, দেশীয় শিল্পের বিকাশ হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দারিদ্র্য ধীরে ধীরে কমবে।
3. সামাজিক স্বাধীনতা : নেতাজির ধারণায় প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই আসবে, যখন সমাজের সব মানুষ সমান মর্যাদা পাবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য থাকবে নাএমন একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের কথা তিনি ভাবতেন।
4. ধর্মীয় স্বাধীনতা : নেতাজি ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর মতে, ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মীয় বিভাজনের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে এবং জাতীয় ঐক্য বজায় থাকবে। এই ছিল তাঁর ধর্মীয় স্বাধীনতার মূল ভাবনা।
মূল্যায়ন : আলোচনার শেষে বলা যায়, নেতাজির স্বাধীনতার ধারণা ছিল সর্বাঙ্গীণ ও বাস্তবমুখী। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সব দিক থেকেই তিনি ভারতকে মুক্ত ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। আজও তাঁর স্বাধীনতা সম্পর্কিত চিন্তাভাবনা আমাদের পথ দেখায় ও অনুপ্রেরণা জোগায়।

6. ভারতে স্বাধীনতা আন্দোলন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে মৌলানা আবুল কালাম আজাদের অবদান সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর : মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, চিন্তাবিদ ও শিক্ষানীতির রূপকার হিসেবে দেশকে পথ দেখিয়েছেন। জাতীয় ঐক্য ও শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
স্বাধীনতা আন্দোলন ও শিক্ষাক্ষেত্রে আজাদের অবদান :
1. জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে অংশগ্রহণ : স্বদেশি আন্দোলনের সময় মৌলানা আজাদ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। তিনি খুব অল্প বয়সেই জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং কংগ্রেসের অন্যতম তরুণ নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
2. সাংবাদিকতা ও ব্রিটিশ বিরোধী ভূমিকা : তিনি সাংবাদিকতার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের শোষণমূলক দিক সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর সম্পাদিত সংবাদপত্রে ব্রিটিশ সরকারের সমালোচনা প্রকাশিত হওয়ায় সরকার সেগুলি নিষিদ্ধ করে। এর ফলে তাঁর দেশপ্রেমিক মানসিকতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
3. খিলাফৎ ও অসহযোগ আন্দোলনে ভূমিকা : খিলাফৎ আন্দোলনের সময় তিনি নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। গান্ধিজির সঙ্গে মিলিতভাবে অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। 
4. হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি রক্ষা : আজাদ আজীবন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধিতা করেছেন। তিনি মুসলিম লিগের সংকীর্ণ রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন এবং ধর্মের উদার ব্যাখ্যায় বিশ্বাস করতেন। দ্বি-জাতি তত্ত্বের বিরোধিতা করে তিনি জাতীয় ঐক্যের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।
5. বিপ্লবী আন্দোলন ও গণআন্দোলনে অংশ : বঙ্গভঙ্গের (1905) বিরুদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং বিভিন্ন অঞ্চলের বিপ্লবী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। লবণ সত্যাগ্রহ(1930) ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
6. শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান : স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেন। তাঁর প্রচেষ্টায় IIT ও UGC গঠিত হয়। এছাড়া জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। তাঁর জন্মদিন জাতীয় শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায় মৌলানা আবুল কালাম আজাদ স্বাধীনতা আন্দোলন ও শিক্ষার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জাতীয় ঐক্য ও আধুনিক শিক্ষার প্রতি তাঁর চিন্তাভাবনা ভারতীয় ইতিহাসে তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : WB Semester Team প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন ই-বুক(PDF)টিতে পুরো সিলেবাসের প্রশ্ন উত্তর রয়েছে এবং এই অধ্যায় থেকে 6 নম্বর মানের আরো অনেকগুলি প্রশ্ন উত্তর রয়েছে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : ক্লাস 11 সমকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রচিন্তা PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. ক্লাস 11 রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ  Click here
2. ক্লাস 12 জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ Click here
3. ক্লাস 11 সরকারের বিভিন্ন রূপ প্রশ্ন উত্তর Click here
4. নানা রঙের দিন নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
Regards,
WB Semester Team 
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.