🔹 Class 11 2nd Semester Political Science Question Answer PDF
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 6]
1. গণতন্ত্র কাকে বলে ? গণতন্ত্রের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো। (2+4)
উত্তর : গণতন্ত্র এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে দেশের শাসনক্ষমতা সাধারণ মানুষের হাতেই থাকে। এখানে জনগণ নিজেরাই বা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করে।
গণতন্ত্রের সংজ্ঞা : ‘গণতন্ত্র’ শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে এসেছে। ‘ডিমোস’ শব্দের অর্থ জনগণ এবং ‘ক্রেটোস’ শব্দের অর্থ শাসন। অর্থাৎ গণতন্ত্র বলতে বোঝায় জনগণের শাসন। এই ব্যবস্থায় জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার মূল উৎস। মার্কিন রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকনের মতে, গণতন্ত্র হল জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য এবং জনগণের শাসন।
গণতন্ত্রের প্রকৃতি :
(১) সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত : গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়। যদিও সকলের মতামত শোনা হয়, তবুও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছাই কার্যকর হয়।
(২) জনগণের সর্বময় ক্ষমতা : গণতন্ত্রে জনগণই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। প্রাচীনকালে জনগণ সরাসরি শাসনকার্যে অংশ নিত, যাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলা হয়। বর্তমানে অধিকাংশ দেশে জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে শাসন পরিচালনা করে, যা পরোক্ষ গণতন্ত্র নামে পরিচিত।
(৩) জনমতের গুরুত্ব : গণতন্ত্রে জনমত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাসকরা জনগণের ইচ্ছা ও মতামত উপেক্ষা করতে পারে না। জনগণের মতের বিরুদ্ধে গেলে নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা থাকে।
(৪) সাম্য ও স্বাধীনতার স্বীকৃতি : গণতন্ত্রে সকল মানুষ সমান অধিকার ও মর্যাদা ভোগ করে। জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা বর্ণভেদে কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়। স্বাধীনতা, সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্ব গণতন্ত্রের প্রধান ভিত্তি।
(৫) জীবনদর্শন হিসেবে গণতন্ত্র : গণতন্ত্র শুধু শাসনব্যবস্থা নয়, এটি একটি জীবনদর্শন। পারস্পরিক সহনশীলতা, আলোচনা, সহযোগিতা ও মতের প্রতি সম্মান এই সবই গণতান্ত্রিক মানসিকতার অংশ।
মূল্যায়ন : সুতরাং বর্তমানে গণতন্ত্রই বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থা। যদিও সমালোচকরা বলেন অর্থনৈতিক অসমতা থাকলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কঠিন, তবুও মানুষের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।
2. গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো। (HS Model Question)
উত্তর : গণতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে দেশের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতেই ন্যস্ত থাকে। জনগণের সম্মতি ও অংশগ্রহণের উপর ভিত্তি করেই এই শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। গণতন্ত্রকে সঠিকভাবে বোঝার জন্য এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা প্রয়োজন।
গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ :
(১) জনগণের সর্বোচ্চ ক্ষমতা : গণতন্ত্রে জনগণই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। সরকারের জন্ম ও স্থায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে জনগণের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ প্রতিনিধি বেছে নিয়ে শাসনক্ষমতা প্রয়োগ করে।
(২) রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সমান সুযোগ : গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সকল নাগরিক রাজনৈতিক দিক থেকে সমান। ভোট দেওয়া, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বা রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে সবাই সমান সুযোগ পায়।
(৩) সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন ও সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষা : নির্বাচনে যে দল বা গোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তারাই সরকার গঠন করে। তবে একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের মতামত ও অধিকারও রক্ষা করা হয়, যাতে তাদের উপর অন্যায় না হয়।
(৪) স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা : গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা। এখানে যোগ্য প্রতিটি নাগরিক নিজের পছন্দমতো প্রার্থী বা দলকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায় এবং কোনো প্রকার চাপ বা প্রভাব থাকা উচিত নয়।
(৫) প্রতিনিধি নির্বাচন ব্যবস্থা : বর্তমান সময়ে অধিকাংশ রাষ্ট্র আকার ও জনসংখ্যায় বড় হওয়ায় জনগণের পক্ষে সরাসরি শাসনকার্য চালানো সম্ভব নয়। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের হাতেই শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
(৬) নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ : গণতন্ত্রে নাগরিকরা রাষ্ট্রের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। কখনও তারা সরাসরি মত প্রকাশ করে, আবার কখনও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থায় যুক্ত থাকে।
মূল্যায়ন : অতএব গণতন্ত্রের মূল শক্তি হল জনগণের অংশগ্রহণ ও সম্মতি। জনগণের অধিকার, মতামত ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এই শাসনব্যবস্থা সবচেয়ে কার্যকর বলে বিবেচিত হয়। তাই আধুনিক বিশ্বে গণতন্ত্র একটি জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
3. গণতন্ত্র কাকে বলে ? গণতন্ত্রের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি ব্যাখ্যা করো। [HS-2022, 15, 06]
উত্তর : গণতন্ত্র হল এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে দেশের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতেই ন্যস্ত থাকে। জনগণ সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে।
গণতন্ত্রের সংজ্ঞা : ‘গণতন্ত্র’ শব্দটি গ্রিক ভাষার দুটি শব্দ থেকে এসেছে। ‘ডিমোস’ শব্দের অর্থ জনগণ এবং ‘ক্রেটোস’ শব্দের অর্থ শাসন বা ক্ষমতা। সুতরাং গণতন্ত্র বলতে বোঝায় জনগণের শাসন। আব্রাহাম লিংকনের মতে, গণতন্ত্র হল জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য এবং জনগণের শাসন। জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, গণতন্ত্রে সকল নাগরিকের সমানভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার স্বীকৃত হয়।
গণতন্ত্রের সুবিধা :
(১) সাম্য ও স্বাধীনতার স্বীকৃতি : গণতন্ত্র সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে সকল নাগরিক সমান মর্যাদা ভোগ করে এবং ব্যক্তিস্বাধীনতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার এই ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
(২) শাসকের দায়িত্বশীলতা : গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় শাসকরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। সংসদীয় ব্যবস্থায় মন্ত্রীপরিষদ জনপ্রতিনিধিদের কাছে তাদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকে।
(৩) রাজনৈতিক চেতনা ও দেশপ্রেমের বিকাশ : নির্বাচন, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও জাতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা নাগরিকদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে। এর ফলে জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে।
গণতন্ত্রের অসুবিধা :
(১) সীমিত সংখ্যকের হাতে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ : বাস্তবে গণতন্ত্রে ক্ষমতা কয়েকজন প্রভাবশালী ও বাগ্মী নেতার হাতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ অনেক সময় ভুল প্রতিশ্রুতিতে প্রভাবিত হয়ে অযোগ্য নেতাকে নির্বাচন করে।
(২) অযোগ্য নেতৃত্বের সম্ভাবনা : পরোক্ষ গণতন্ত্রে জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ রাজনৈতিকভাবে অজ্ঞ হওয়ায় অনেক সময় যোগ্য ব্যক্তির পরিবর্তে অযোগ্য ব্যক্তিরাই নির্বাচিত হয়।
(৩) দলীয় ব্যবস্থার কুফল : আধুনিক গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলির স্বার্থ প্রাধান্য পায়। ক্ষমতা দখল বা রক্ষার জন্য দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও গোষ্ঠীস্বার্থকে উৎসাহিত করা হয়, যা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে তোলে।
মূল্যায়ন : সুতরাং গণতন্ত্রের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও জনগণের অধিকার, স্বাধীনতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি অন্যান্য শাসনব্যবস্থার তুলনায় শ্রেষ্ঠ। তাই ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্রই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।
4. গণতন্ত্রের সাফল্যের শর্তগুলি কী কী ?
উত্তর : গণতন্ত্র একটি আদর্শ শাসনব্যবস্থা হলেও এটি নিজে থেকেই সফল হয় না। গণতন্ত্রকে কার্যকর ও স্থায়ী করতে হলে সমাজে কিছু উপযুক্ত পরিবেশ ও শর্ত থাকা প্রয়োজন। এই শর্তগুলি পূরণ হলেই গণতন্ত্র প্রকৃত অর্থে সফল হতে পারে।
গণতন্ত্রের সাফল্যের শর্তসমূহ :
(১) শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক সমাজ : গণতন্ত্রে জনগণকে রাষ্ট্রকার্যে অংশ নিতে হয়, তাই তাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। এই সচেতনতা শিক্ষার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে। জনগণ শিক্ষিত না হলে সহজেই তারা ভুল পথে পরিচালিত হতে পারে। তাই গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য সর্বজনীন শিক্ষা অপরিহার্য।
(২) স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা : বিচার বিভাগ যদি সরকারের প্রভাবমুক্ত না হয়, তবে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে না। তাই গণতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতার জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
(৩) সংবিধান দ্বারা শাসন নিয়ন্ত্রণ : গণতন্ত্রকে সুশৃঙ্খলভাবে চালানোর জন্য একটি লিখিত সংবিধান প্রয়োজন। সংবিধানে সরকারের ক্ষমতা ও সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকলে শাসকরা ইচ্ছামতো কাজ করতে পারে না।
(৪) ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ : গণতন্ত্রে ক্ষমতা শুধু কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ থাকলে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ সম্ভব হয় না। কেন্দ্র থেকে স্থানীয় স্তর পর্যন্ত ক্ষমতা বণ্টন করলে মানুষ সরাসরি শাসনকার্যে যুক্ত হতে পারে এবং রাজনৈতিক সচেতনতাও বৃদ্ধি পায়।
(৫) মত সহনশীলতা ও স্বাধীন গণমাধ্যম : গণতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার থাকতে হবে। এই ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদপত্র যদি নিরপেক্ষভাবে সকল শ্রেণির মতামত তুলে ধরে, তবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাস্তব রূপ পায়।
(৬) অর্থনৈতিক সাম্যের প্রতিষ্ঠা : শুধু রাজনৈতিক অধিকার থাকলেই গণতন্ত্র সফল হয় না। যদি দেশের সম্পদ অল্প কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে, তবে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়ে। তাই গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
মূল্যায়ন : পরিশেষে বলা যায়, গণতন্ত্র তখনই সফল হয় যখন সমাজে শিক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, দায়িত্বশীলতা ও বৈষম্যহীন পরিবেশ বজায় থাকে। এই শর্তগুলি পূরণ হলেই গণতন্ত্র একটি কার্যকর ও স্থায়ী শাসনব্যবস্থায় রূপ নেয়।
5. কর্তৃত্ববাদের উপর একটি টীকা লেখো।
অথবা, কর্তৃত্ববাদের সুবিধা বা গুণাবলি আলোচনা করো।
উত্তর : কর্তৃত্ববাদ এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। এই মতবাদের মূল ভিত্তি ভাববাদী দর্শন। এখানে রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার গুরুত্ব খুবই কম। রাষ্ট্রের বিরোধিতা করার অধিকার এই ব্যবস্থায় স্বীকৃত নয়।
ভাববাদী দার্শনিক হেগেলের মতে, রাষ্ট্র একটি নৈতিক ও আত্মসচেতন সত্তা। তাঁর মতে রাষ্ট্রের বিরোধিতা করা মানে ব্যক্তির প্রকৃত ইচ্ছার বিরোধিতা করা। তাই কর্তৃত্ববাদে রাষ্ট্রের ক্ষমতা চরম, অবাধ ও নিরঙ্কুশ রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ব্যবস্থায় রাজনৈতিক বিরোধিতা রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তা কঠোরভাবে দমন করা হয়। এখানে জনমত বা জনগণের সার্বভৌমত্বের কোনো বিশেষ গুরুত্ব নেই।
কর্তৃত্ববাদের সুবিধা বা গুণ :
(১) দ্রুত সিদ্ধান্ত : কর্তৃত্ববাদে ক্ষমতা একজন শাসক বা অল্প কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। ফলে জরুরি অবস্থা, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
(২) রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা : এই শাসনব্যবস্থায় বিরোধী মতের অস্তিত্ব না থাকায় এবং ঘনঘন নির্বাচন না হওয়ায় সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম থাকে। এর ফলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
(৩) দ্রুত উন্নয়ন : একক নেতৃত্বের কারণে প্রশাসনিক জটিলতা কম থাকে। ফলে উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।
(৪) শৃঙ্খলা বজায় : কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার মাধ্যমে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে অপরাধ দমন করা সহজ হয় এবং সমাজে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
(৫) জাতীয় নিরাপত্তা : কর্তৃত্ববাদী সরকার অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। অন্য কোনো বিভাগের অনুমতির অপেক্ষা না করেই রাষ্ট্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যায়।
মূল্যায়ন : এই কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার কিছু বাস্তব সুবিধা থাকলেও এতে ব্যক্তিস্বাধীনতা, জনমত ও গণতান্ত্রিক অধিকার উপেক্ষিত হয়। তাই এই সুবিধাগুলি সত্ত্বেও কর্তৃত্ববাদের ত্রুটিই অধিক এবং এই শাসনব্যবস্থা আদর্শ বা কাম্য বলে গণ্য করা যায় না।
6. ফ্যাসিবাদী সর্বাত্মকবাদ কাকে বলে ? ফ্যাসিবাদী সর্বাত্মকবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখো।
উত্তর : ফ্যাসিবাদী সর্বাত্মকবাদ এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের ক্ষমতা সর্বক্ষেত্রে বিস্তৃত থাকে। এখানে রাষ্ট্র ব্যক্তি ও সমাজের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে এবং একজন শক্তিশালী নেতার নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হয়।
ফ্যাসিবাদী সর্বাত্মকবাদের ধারণা : ফ্যাসিবাদ হলো একটি চরম জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক মতাদর্শ। এই ব্যবস্থায় একজন স্বৈরী নেতা ও তাঁর কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাই শাসনের মূল ভিত্তি। রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ মনে করে ব্যক্তি স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
ফ্যাসিবাদী সর্বাত্মকবাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ :
(১) উগ্র জাতীয়তাবাদ : ফ্যাসিবাদ রাষ্ট্র ও জাতির শ্রেষ্ঠত্বকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। জাতীয় স্বার্থকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়।
(২) জাতিগত বিশুদ্ধতার ধারণা : এই মতাদর্শে শাসকগোষ্ঠী জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশুদ্ধ রক্তের তত্ত্ব প্রচার করে। এর মাধ্যমে একটি জাতিকে অন্য জাতির তুলনায় উচ্চতর বলে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়।
(৩) সর্বশক্তিমান নেতার নেতৃত্ব : ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে একজন শক্তিশালী ও প্রভাবশালী নেতার হাতে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে। জনগণের চিন্তা, মতাদর্শ ও শিক্ষাও নেতার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
(৪) রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি : ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। শিল্প, কৃষি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা মূলত রাষ্ট্রের অধীনেই পরিচালিত হয়।
(৫) প্রচারণা ও সেন্সরশিপ : গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকে। শাসককে মহিমান্বিত করার জন্য প্রচারণা চালানো হয় এবং ভিন্নমত প্রকাশ কঠোরভাবে বন্ধ করা হয়।
(৬) দমন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস : রাষ্ট্রবিরোধী যে কোনো মত বা আন্দোলন কঠোরভাবে দমন করা হয়। গোপন পুলিশ, অত্যাচার, কারাবন্দি ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হয়।
মূল্যায়ন : অতএব ফ্যাসিবাদী সর্বাত্মকবাদ রাষ্ট্রকে অত্যন্ত শক্তিশালী করলেও এতে ব্যক্তি স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়। তাই এই শাসনব্যবস্থা মানবিক ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : ক্লাস 11 সরকারের বিভিন্ন রূপ প্রশ্ন উত্তর
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. ক্লাস 11 রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ | Click here |
| 2. দ্বিতীয় অধ্যায় : জাতি ও জাতীয়তাবাদ PDF | Click here |
| 3. ক্লাস 12 বায়ুমণ্ডল প্রশ্ন উত্তর | Click here |
| 4. নানা রঙের দিন নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
