WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

ক্লাস 12 বায়ুমণ্ডল প্রশ্ন উত্তর | 3 নম্বরের প্রশ্নোত্তর | দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিষ্টার ভূগোল প্রশ্ন ও উত্তর

0

Unit : 4 বায়ুমণ্ডল (5 মার্ক) PDF

প্রা(caps)রম্ভিক তথ্য : দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টারে ভূগোল বিষয়ে ৩৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এই ৩৫ নম্বরের মধ্যে ‘প্রাকৃতিক ভূগোলের ধারণা’ অধ্যায় থেকে মোট ১৫ নম্বর প্রশ্ন থাকবে। এই অধ্যায় থেকে দুই নম্বরের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (৪ নম্বর), তিন নম্বরের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (৬ নম্বর) এবং পাঁচ নম্বরের প্রশ্ন দুটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো একটি করতে হবে (৫ নম্বর)। অর্থাৎ মোট ৪ + ৬ + ৫ = ১৫ নম্বর। এই ‘প্রাকৃতিক ভূগোলের ধারণা’ অধ্যায়টি মোট ছয়টি ইউনিটে বিভক্ত। এর মধ্যে চতুর্থ ইউনিট হল 'বায়ুমণ্ডল'। এই ইউনিটটি পরীক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা এই 'বায়ুমণ্ডল' ইউনিট থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ 3 নম্বরের প্রশ্ন-উত্তর সহ একটি PDF এখানে প্রদান করেছি। এছাড়াও আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এখন থেকে অনেক প্রশ্ন পরীক্ষায় কমন পাবেন। এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুসারে অত্যন্ত সহজ ও পরীক্ষামুখীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আপনাদের অনেকটাই সাহায্য করবে। তাই ই-বুক (PDF)টি কিনতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিষ্টার ভূগোল প্রশ্ন ও উত্তর

🔹 Class 12 4th Semester Atmosphere QuestIon Answer

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 3]
1. বিশ্ব উন্নায়নের কারণগুলি লেখো।
উত্তর : পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলা হয়। এটি মূলত কিছু প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ও মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপের ফলে ঘটে।
বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রাকৃতিক কারণসমূহ : 
i. অগ্ন্যুৎপাত :  আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় SO₂, CO₂, N₂O, N₂S প্রভৃতি গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এই গ্যাসগুলি বায়ুমণ্ডলে তাপ ধরে রেখে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।
ii. বনাঞ্চলে অগ্নিসংযোগ : শুকনো গাছের ডালপালার ঘর্ষণে সৃষ্ট দাবানল থেকে CO₂ ও CO গ্যাস নির্গত হয়। এসব গ্যাস বায়ুমণ্ডলে জমে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা নেয়।
বিশ্ব উষ্ণায়নের মনুষ্যসৃষ্ট কারণসমূহ : 
ii. জীবাশ্ম জ্বালানির দহন : যানবাহন ও বিভিন্ন যন্ত্রে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে CO₂, CO ও N₂O গ্যাস নির্গত হয়। এগুলি পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়িয়ে তোলে।
iv. বৃক্ষচ্ছেদন ও CFC-এর ব্যবহার : জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ব্যাপক বৃক্ষচ্ছেদ হচ্ছে, ফলে CO₂-এর পরিমাণ বাড়ছে। এছাড়া রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, প্লাস্টিক শিল্প ও কীটনাশকে ব্যবহৃত CFC গ্যাসও পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, প্রাকৃতিক ঘটনা ও মানুষের কার্যকলাপ উভয়ই বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য দায়ী এবং এর ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

2. ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : বায়ুমণ্ডলে বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে দুটি বিপরীতধর্মী আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি দেখা যায় ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাত। এদের সৃষ্টি, গঠন ও বায়ুর চলাচলের ধরন একে অপরের থেকে ভিন্ন।
ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য :
i. অবস্থানগত পার্থক্য : ঘূর্ণবাত সাধারণত ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলে সৃষ্টি হয়। কিন্তু , প্রতীপ ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয় মূলত নাতিশীতোষ্ণ ও হিমমণ্ডলে।
ii. ব্যাসের পার্থক্য : ঘূর্ণবাতের আকার ছোট থেকে বড় হতে পারে এবং এর ব্যাস প্রায় ১০০ মিটার থেকে ৩০০০ কিমি পর্যন্ত হয়। কিন্তু  প্রতীপ ঘূর্ণবাত আকারে তুলনামূলকভাবে বৃহৎ এবং এর ব্যাস প্রায় ৩০০ কিমি থেকে ৯০০০ কিমি।
iii. বায়ুর অভিমুখের পার্থক্য : ঘূর্ণবাতে চারদিকের বায়ু কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে, অর্থাৎ বায়ু কেন্দ্রমুখী হয়। কিন্তু প্রতীপ ঘূর্ণবাতে বায়ু কেন্দ্র থেকে বাইরে দিকে সরে যায়, অর্থাৎ বায়ু কেন্দ্র বহির্মুখী হয়।
iv. গতিবেগের পার্থক্য : ঘূর্ণবাতে বায়ুর গতি তুলনামূলকভাবে বেশি হয়, সাধারণত ৪০ থেকে ৪০০ কিমি প্রতি ঘণ্টা। কিন্তু  প্রতীপ ঘূর্ণবাতে বায়ুর গতি কম, প্রায় ৩০ থেকে ৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টা।
মূল্যায়ন : সার্বিকভাবে বলা যায়, অবস্থান, আকার, বায়ুচাপ, বায়ুর অভিমুখ ও গতিবেগের ভিত্তিতে ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, যা তাদের প্রভাব ও প্রকৃতিকে পৃথক করে।

3. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন অক্ষাংশে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয়। অবস্থান, গঠন ও প্রকৃতির পার্থক্যের কারণে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত এবং নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত একে অপরের থেকে অনেক দিক দিয়ে আলাদা।
ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের পার্থক্য : 
i. অক্ষাংশগত পার্থক্য : ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত উভয় গোলার্ধে সাধারণত ৫° থেকে ৩০° অক্ষাংশের মধ্যে সৃষ্টি হয়। অপরদিকে, নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয় ৩০° থেকে ৬৫° অক্ষাংশের মধ্যে।
ii. উৎপত্তিস্থলের পার্থক্য : ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত মূলত উষ্ণ সমুদ্রের ওপরেই গঠিত হয়। কিন্তু নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত সমুদ্র ও স্থলভাগ উভয় স্থানেই সৃষ্টি হতে পারে।
iii. ধ্বংসসাধন ক্ষমতার পার্থক্য : ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতে ঝড়ের গতিবেগ খুব বেশি ফলে এর ধ্বংসক্ষমতা অত্যন্ত প্রবল। কিন্তু নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতে বাতাসের গতি কম, তাই এর বিধ্বংসী ক্ষমতাও কম।
iv. কেন্দ্রের অবস্থার পার্থক্য : ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে সাধারণত শান্ত ও স্থির অবস্থা দেখা যায়। অন্যদিকে, নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে অস্থিরতা ও অশান্ত পরিবেশ বিরাজ করে।
মূল্যায়ন : সার্বিকভাবে বলা যায়, অক্ষাংশ, উৎপত্তিস্থল, কেন্দ্রের অবস্থা, গতিবেগ ও স্থায়িত্বের দিক থেকে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত ও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, যা তাদের প্রকৃতি ও প্রভাবকে আলাদা করে চিহ্নিত করে।

4. গ্রিন হাউস এফেক্টের প্রভাব বা ফলাফলগুলি লেখো। 
উত্তর : বায়ুমণ্ডলে CO₂, CFC ও O₃ এর মতো গ্রিন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে যায়। এই উষ্ণতা বৃদ্ধির ঘটনাকেই গ্রিন হাউস এফেক্ট বলা হয়। এর ফলে পৃথিবীর পরিবেশ ও জীবজগতে নানা ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
গ্রিন হাউস এফেক্টের প্রভাব বা ফলাফল : 
i. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও হিমবাহ ক্ষয় : গ্রিন হাউস এফেক্টের ফলে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা ক্রমশ বাড়ছে। এর প্রভাবে মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলতে শুরু করেছে। যেমন - গঙ্গোত্রী হিমবাহ প্রতি বছর প্রায় ২-৩ সেমি করে হ্রাস পাচ্ছে।
ii. উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের সংকট : উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী নিজেদের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না। এর ফলেই বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদ বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে। যেমন-পেঙ্গুইন বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
iii. জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া : সমুদ্রের জলস্তর ও উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং CO₂-এর পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে জলজ পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে জলজ বাস্তুতন্ত্রের অবনতি ঘটছে।
মূল্যায়ন : সুতরাং বলা যায়, গ্রিন হাউস এফেক্ট বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে বরফ গলন, সমুদ্রস্তর বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির মতো গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা সৃষ্টি করছে।

5. এল-নিনো ও লা-লিনার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রজলের উষ্ণতা ও স্রোতের পরিবর্তনের ফলে এল-নিনো ও লা-লিনা নামক দুটি ভিন্নধর্মী অবস্থা সৃষ্টি হয়। এই দুই অবস্থার প্রকৃতি ও প্রভাব একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
এল-নিনো ও লা-লিনার পার্থক্য :
i. উষ্ণতার পার্থক্য : এল-নিনোর সময় সমুদ্রজলের উষ্ণতা প্রায় ৪°–৫° পর্যন্ত বেড়ে যায়। অন্যদিকে, লা-লিনার ক্ষেত্রে সমুদ্রজলের উষ্ণতা কমে যায়।
ii. সমুদ্রস্রোতের গতিমুখের পার্থক্য : এল-নিনো অবস্থায় সমুদ্রস্রোত দক্ষিণমুখীভাবে প্রবাহিত হয়। বিপরীতে, লা-লিনার সময় সমুদ্রস্রোত উত্তরমুখীভাবে প্রবাহিত হয়।
iii. প্রকৃতিগত পার্থক্য : এল-নিনো সাধারণত অস্থির প্রকৃতির হয়ে থাকে এবং পরিবেশে অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি করে। অপরদিকে, লা-লিনা শান্ত প্রকৃতির, যেখানে পরিবেশ অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল থাকে।
iv. সামগ্রিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য : এল-নিনোতে উষ্ণতা বৃদ্ধি ও অস্থিরতা একসঙ্গে দেখা যায়, আর লা-লিনায় উষ্ণতা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে শান্ত ও স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে ওঠে।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, সমুদ্রজলের উষ্ণতা, স্রোতের দিক, প্রকৃতি ও থার্মোক্লাইন স্তরের পরিবর্তনের ভিত্তিতে এল-নিনো ও লা-লিনার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

6. কোপেনকৃত জলবায়ুর শ্রেণিবিভাগের 'BW' এবং 'BS' জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : কোপেন জলবায়ু শ্রেণিবিভাগে শুষ্ক অঞ্চলের জলবায়ুকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে BW ও BS। এই দুটি জলবায়ুর মধ্যে প্রকৃতি, বৃষ্টিপাত, উষ্ণতা ও উদ্ভিদের দিক থেকে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়।
'BW' এবং 'BS' জলবায়ুর পার্থক্য :
i. জলবায়ুর প্রকৃতি ও বৃষ্টিপাত : BW জলবায়ু মূলত মরু অঞ্চলের জলবায়ু, যেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অত্যন্ত কম, প্রায় ১২.৫ সেমি। অন্যদিকে, BS জলবায়ু হল নাতিশুষ্ক বা স্তেপ জলবায়ু, যেখানে বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে বেশি, প্রায় ২০-২৫ সেমি হয়ে থাকে।
ii. উষ্ণতার পরিমাণ ও বার্ষিক পার্থক্য : BW জলবায়ু অঞ্চলে উষ্ণতার পরিমাণ খুব বেশি হয় এবং কখনও কখনও সর্বোচ্চ ৫২°C পর্যন্ত পৌঁছায়। পাশাপাশি এখানে বার্ষিক উষ্ণতার পার্থক্যও অনেক বেশি। কিন্তু BS জলবায়ু অঞ্চলে উষ্ণতা তুলনামূলকভাবে কম ও সহনীয়, গড়ে প্রায় ২৭°C এবং বার্ষিক উষ্ণতার পার্থক্যও কম হয়।
iii. উদ্ভিদের পার্থক্য : BW জলবায়ু অঞ্চলে শুষ্ক পরিবেশের জন্য প্রধানত ক্যাকটাস ও ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ জন্মায়। অপরদিকে, BS জলবায়ু অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি আর্দ্রতার কারণে তৃণজাতীয় উদ্ভিদ বেশি পরিমাণে দেখা যায়।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, প্রকৃতি, বৃষ্টিপাত, উষ্ণতা ও উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কোপেনের BW ও BS জলবায়ুর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

7. জেট বায়ু কাকে বলে। এর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর : বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ারের একেবারে উপরের দিকে একটি বিশেষ ধরনের শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ লক্ষ্য করা যায়, যা সাধারণ বায়ুর তুলনায় অনেক বেশি দ্রুতগতিতে প্রবাহিত হয়। ট্রপোস্ফিয়ারের উচ্চ অংশে প্রায় ১০-১২ কিমি উচ্চতায় শীতকালে যে অত্যন্ত দ্রুতগতির বায়ু পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে জেট বায়ু বলা হয়। 
জেট বায়ুর বৈশিষ্ট্য :
i. উচ্চতার বৈশিষ্ট্য : জেট বায়ু ভূপৃষ্ঠের অনেক উপরে, অর্থাৎ ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বস্তর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
ii. গতির প্রকৃতি : এই বায়ুর গতি খুব বেশি হয়। শীত ঋতুতে এর গড় গতি প্রায় ১৬০ থেকে ৩২০ কিমি প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছায়।
iii. ঋতুভিত্তিক আচরণ : জেট বায়ু মূলত শীতকালে বেশি সক্রিয় থাকে এবং তখনই এর প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
iv. অবস্থানগত বিস্তার : উভয় গোলার্ধে জেট বায়ু সাধারণত ২০° থেকে ৯০° অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে প্রবাহিত হয়।
v. প্রবাহের দিক : উত্তর গোলার্ধে এই বায়ু পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে বাঁকানো পথে প্রবাহিত হয়, অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধে এর প্রবাহের দিক হয় পূর্ব থেকে পশ্চিমে।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, ট্রপোস্ফিয়ারের উচ্চ স্তরে শীত ঋতুতে প্রবাহিত এই তীব্রগতির বায়ুই জেট বায়ু, যা তার গতি, উচ্চতা ও প্রবাহদিকের কারণে বিশেষভাবে চিহ্নিত।

8. ওজোন স্তর ক্ষয় বা হ্রাসের প্রভাবগুলি লেখো।
উত্তর : বায়ুদূষণের কারণে CFC, নাইট্রোজেন যৌগ ও হ্যালোন যৌগ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওজোন গ্যাসের সঙ্গে বিক্রিয়ায় যুক্ত হয়। এর ফলস্বরূপ ওজোন গ্যাসের পরিমাণ ২০০ ডবসনের নিচে নেমে এলে ওজোন স্তরের ক্ষয় ঘটে, যা পরিবেশ ও জীবজগতের উপর বিভিন্ন বিরূপ প্রভাব ফেলে।
ওজোন স্তর ক্ষয়ের প্রধান প্রভাব : 
i. জলবায়ুর উপর প্রভাব : ওজোন স্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিকে বাধা দিয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রার স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখে এবং জীবজগতের বসবাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলে। তাই একে প্রাকৃতিক সৌরপর্দা বলা হয়। কিন্তু ওজোন স্তর ক্ষয় হলে এই সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা বাড়ে।
ii. মানবস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব : ওজোন স্তর হ্রাসের কারণে অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি মানুষের শরীরে প্রভাব ফেলে। এর ফলে মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। পাশাপাশি ত্বকের ক্যানসারের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায় এবং চোখে ছানি পড়া ও কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
iii. উদ্ভিদজগতের উপর প্রভাব : ওজোন স্তর না থাকলে উদ্ভিদের পাতার কোষ নষ্ট হতে শুরু করে। এর কারণে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় এবং উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হয়, যা সামগ্রিকভাবে উদ্ভিদজগতের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মূল্যায়ন : সুতরাং বলা যায়, ওজোন স্তর ক্ষয়ের ফলে জলবায়ু, মানবস্বাস্থ্য ও উদ্ভিদজগত সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পড়ে।

9. ওজোন গহ্বর সৃষ্টির কারণ কি কি লেখো।
উত্তর : বায়ুদূষণের ফলে সৃষ্ট CFC, নাইট্রোজেনযুক্ত যৌগ ও হ্যালোন যৌগ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওজোন গ্যাসের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। এর ফলে যখন ওজোনের ঘনত্ব ২০০ ডবসনের নিচে নেমে যায়, তখন সেই অবস্থাকে ওজোন গহ্বর বলা হয়।
ওজোন গহ্বর সৃষ্টির কারণসমূহ : 
i. অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব : সূর্য থেকে নির্গত অতিবেগুনি রশ্মির প্রোটন কণাগুলি ওজোন অণুর উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই প্রোটন কণার আঘাতে ওজোন অণু ধীরে ধীরে ভেঙে যায়। ফলে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ওজোন গ্যাসের পরিমাণ কমতে থাকে এবং এই প্রক্রিয়ার ফলেই ওজোন গহ্বর সৃষ্টি হয়।
ii. মেরু অঞ্চলের বায়ু সঞ্চালন : কুমেরু অঞ্চলে ঊর্ধ্বাকাশে অত্যন্ত প্রবল বেগে বায়ু সঞ্চালন ঘটে। এই শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ ওজোন গ্যাসকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে দেয়, যার ফলে নির্দিষ্ট অঞ্চলে ওজোন স্তরের ঘনত্ব হ্রাস পায়। এই ঘনত্ব কমে যাওয়াই ওজোন গহ্বর সৃষ্টির অন্যতম কারণ।
iii. CFC গ্যাসের নিঃসরণ : রেফ্রিজারেটর ও বাতানুকূল যন্ত্র থেকে নির্গত CFC যৌগ প্রথমে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে ঊর্ধ্বস্তরে পৌঁছে যায়। সেখানে এই যৌগগুলি ওজোন অণুর সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় লিপ্ত হয়ে ওজোনকে ধীরে ধীরে ভেঙে দেয়। এর ফলে ওজোন স্তরের অবক্ষয় ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।

10. ওজোন ক্ষয় নিয়ন্ত্রণের উপায় বা পদ্ধতিগুলি কি কি ?
উত্তর : ওজোন স্তরের ক্ষয় পরিবেশ ও জীবজগতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই ওজোন স্তরকে রক্ষা করার জন্য কিছু নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
ওজোন ক্ষয় নিয়ন্ত্রণের উপায়সমূহ : 
i. ক্ষতিকারক গ্যাসের ব্যবহার কমানো : ওজোন স্তরের ক্ষয় রোধের জন্য CFC গ্যাসের ব্যবহার হ্রাস করা প্রয়োজন। এর পরিবর্তে কম ক্ষতিকারক HCFC, HFC ও HC প্রভৃতি গ্যাস ব্যবহার করলে ওজোন স্তরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব কমে।
ii. হ্যালোন গ্যাসের বিকল্প ব্যবহার : ওজোন ক্ষয় নিয়ন্ত্রণের জন্য হ্যালোন গ্যাসের ব্যবহার কমাতে হবে। এর পরিবর্তে HBFC ব্যবহার করলে ওজোন স্তরের ক্ষয় কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব।
iii. শিল্প ও বিমানজনিত দূষণ নিয়ন্ত্রণ : শিল্প দূষণ রোধের জন্য প্রতিটি কারখানার চিমনিতে উন্নত দূষণ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্র বসানো প্রয়োজন, যাতে সালফেট জাতীয় পদার্থ বায়ুতে মিশতে না পারে। পাশাপাশি বিমান চলাচলের ফলে নির্গত নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড গ্যাস কমানোর জন্য বিমান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, ক্ষতিকারক গ্যাসের ব্যবহার হ্রাস, শিল্প দূষণ ও বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ওজোন ক্ষয় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

11. উষ্ণ সীমান্ত ও শীতল সীমান্তের মধ্যে পার্থক্য লেখো। 
উত্তর : উষ্ণ ও শীতল প্রকৃতির দুটি ভিন্ন বায়ুপুঞ্জ যেখানে এসে মুখোমুখি হয়, সেই মিলনরেখাকেই সীমান্ত বলা হয়। এই ধরনের সীমান্ত সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ঘূর্ণবাতের সঙ্গে যুক্ত থাকে। প্রকৃতিগতভাবে সীমান্ত দুই রকমের হয়ে থাকে। একটি উষ্ণ সীমান্ত এবং অন্যটি শীতল সীমান্ত।
উষ্ণ সীমান্ত ও শীতল সীমান্তের পার্থক্য :
i. আকৃতিগত পার্থক্য : উষ্ণ সীমান্ত সাধারণত উত্তল আকৃতির হয় এবং এর ঢাল মৃদু প্রকৃতির। অন্যদিকে, শীতল সীমান্ত অবতল আকৃতির হয় এবং এর ঢাল খাড়া।
ii. সক্রিয়তার পার্থক্য : উষ্ণ সীমান্তে উষ্ণ বায়ুপুঞ্জই বেশি সক্রিয়, গতিশীল ও শক্তিশালী থাকে। বিপরীতে, শীতল সীমান্তে শীতল বায়ুপুঞ্জ সক্রিয় ও প্রভাবশালী ভূমিকা নেয়।
iii. উষ্ণতা ও বায়ুচাপের পার্থক্য : উষ্ণ সীমান্তে বায়ুর উষ্ণতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং একই সঙ্গে বায়ুচাপ দ্রুত হ্রাস পায়। কিন্তু শীতল সীমান্তে বায়ুর উষ্ণতা দ্রুত কমে যায় এবং বায়ুচাপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
iv. মেঘের প্রকৃতির পার্থক্য : উষ্ণ সীমান্তে বিভিন্ন স্তরের মেঘ যেমন নিম্বোস্ট্র্যাটাস ও অল্টোস্ট্র্যাটাস, সিরোস্ট্র্যাটাস, সিরাস মেঘ পর্যায়ক্রমে দেখা যায়। অন্যদিকে, শীতল সীমান্তে সাধারণত শুধুমাত্র কিউমুলোনিম্বাস মেঘ সৃষ্টি হয়।
v. ঝড়বৃষ্টির প্রকৃতির পার্থক্য : উষ্ণ সীমান্তে সাধারণত তীব্র ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাত লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু শীতল সীমান্তে ঝড়বৃষ্টি স্বল্প এলাকায়, অল্প সময়ের জন্য এবং কম মাত্রায় ঘটে।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, আকৃতি, বায়ুপুঞ্জের সক্রিয়তা, বায়ুর উন্নতা ও চাপ, মেঘের ধরন এবং ঝড়বৃষ্টির প্রকৃতির দিক থেকে উষ্ণ সীমান্ত ও শীতল সীমান্তের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : ক্লাস 12 বায়ুমণ্ডল প্রশ্ন উত্তর
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. ক্লাস 12 ভূতত্ত্ববিদ্যা প্রশ্ন ও উত্তর PDF Click here
2. ক্লাস 12 বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া প্রশ্ন উত্তর Click here
3. ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়াসমূহ প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
Regards,
WB Semester Team 
📞 & 💬 9883566115


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.