🔹 Class 12 4th Semester Atmosphere QuestIon Answer
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 2]
1. পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কী ?
উত্তর : শীতকালে উত্তর-পশ্চিম ভারতে ভূমধ্যসাগর থেকে আগত আকস্মিক বায়ুর কারণে যে ঝড়-বৃষ্টি হয়, তাকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলা হয়। এটি রবিশস্য চাষের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে এবং শীতের ধারাবাহিকতাকে বিঘ্নিত করে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ফলে ভারতের শীতকালে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতও ঘটে। উদাহরণ হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে এটি দেখা যায়।
2. Monex কী ?
উত্তর : Monex-এর পূর্ণরূপ হলো Monsoon Experiment। এটি ভারতীয় উপমহাদেশে মৌসুমি বায়ু সম্পর্কিত গবেষণার একটি প্রকল্প। ১৯৭৮-৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প পরিচালিত হয়। Monex-এর মাধ্যমে উপগ্রহ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মৌসুমি বায়ুর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাষ উন্নত করা হয়।
3. ঘূর্ণবাত কাকে বলে ?
উত্তর : যখন কোনো স্বল্প এলাকা বা স্থানে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়, তখন পার্শ্ববর্তী উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বায়ু প্রবেশ করে এবং উপরের দিকে উঠে যায়। এই ধরনের কেন্দ্রমুখী বায়ুকে ঘূর্ণবাত বলা হয়। এর কেন্দ্রে সর্বদা নিম্নচাপ থাকে, বায়ু প্রবাহ কেন্দ্রমুখী হয় এবং এর প্রভাবে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়।
4. প্রতীপ ঘূর্ণবাত কাকে বলে ?
উত্তর : যখন কোনো বিস্তীর্ণ অঞ্চলে উচ্চচাপ তৈরি হয়, তখন সেই অঞ্চল থেকে বায়ু পার্শ্ববর্তী নিম্নচাপ এলাকায় প্রবাহিত হয়। এই ধরনের কেন্দ্রবহির্মুখী বায়ুকে প্রতীপ ঘূর্ণবাত বলা হয়। এর কেন্দ্রে সর্বদা উচ্চচাপ থাকে, বায়ু কেন্দ্রবহির্মুখীভাবে প্রবাহিত হয় এবং এর প্রভাবে আবহাওয়া সাধারণত শান্ত থাকে।
5. টর্নেডো কাকে বলে ?
উত্তর : টর্নেডো হল মেঘ থেকে ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত সংযুক্ত এক ধরনের বায়ুস্তম্ভ, যা অত্যন্ত দ্রুত ঘূর্ণায়মান ঝড় হিসেবে চলে। এটি ফানেল আকৃতির হয় এবং ২০০ থেকে ৪৫০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত গতিবেগ থাকতে পারে। সাধারণত এর বিস্তার সীমিত থাকে। উদাহরণস্বরূপ, আমেরিকার মিসিসিপি অববাহিকায় এটি দেখা যায়।
6. এল-নিনো কাকে বলে ?
উত্তর : প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব তীরে পেরু ও ইকুয়েডরের উপকূলে যে উষ্ণ দক্ষিণমুখী স্রোত গড়ে ওঠে, তাকে এল-নিনো বলা হয়। এটি উষ্ণ প্রকৃতির এবং দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। এল-নিনোর প্রভাবে ভারতের বিভিন্ন স্থানে খরা দেখা দেয়।
7. লা-নিনা কাকে বলে ?
উত্তর : প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব তীরে, পেরু ও ইকুয়েডরের উপকূলে যে শীতল উত্তরমুখী স্রোত গড়ে ওঠে, তাকে লা-নিনা বলা হয়। এটি শীতল প্রকৃতির এবং উত্তরমুখীভাবে প্রবাহিত হয়। লা-নিনোর প্রভাবে ভারতের কিছু অঞ্চলে বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
8. রসবি তরঙ্গ কী ?
উত্তর : ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বাংশে পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত দীর্ঘাকার ও তরঙ্গায়িত বায়ুপ্রবাহকে রসবি তরঙ্গ বলা হয়। এই বায়ুপ্রবাহ সর্পিল বা বাঁকানো পথে অগ্রসর হয় এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০০০ থেকে ৬০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। রসবি তরঙ্গের প্রভাবে তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে এবং বিভিন্ন ধরনের আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যায়।
9. ব্যারোট্রপিক অবস্থা কী ?
উত্তর : বায়ুমণ্ডলে সমচাপতল ও সমঘনত্বতল যখন পরস্পরের সমান্তরাল অবস্থায় থাকে, তখন সেই অবস্থাকে ব্যারোট্রপিক অবস্থা বলা হয়। এই অবস্থায় বায়ুপ্রবাহ সাধারণত একদিকে ও সরল পথে প্রবাহিত হয়। এখানে তাপমাত্রা ও বায়ুর ঘনত্বের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে এই ধরনের অবস্থা দেখা যায়।
10. ব্যারোক্লিনিক অবস্থা কী ?
উত্তর : বায়ুমণ্ডলে সমচাপতল ও সমঘনত্বতল যদি উলম্বভাবে ছেদ করে, তখন সেই অবস্থাকে ব্যারোক্লিনিক অবস্থা বলা হয়। এই অবস্থায় বায়ুতরঙ্গের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০০-৩০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং এটি নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এই অবস্থা লক্ষ্য করা যায়।
11. গ্রিনহাউস এফেক্ট কী ?
উত্তর : বায়ুমণ্ডলে CO₂, CFC, CH₄, O₃-এর মতো গ্রিনহাউস গ্যাস থাকলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এই প্রক্রিয়াটিকেই গ্রিনহাউস এফেক্ট বলা হয়। এর ফলে বায়ুমণ্ডল গরম হয়ে যায়।
12. সীমান্ত কাকে বলে ?
উত্তর : উষ্ণ ও শীতল প্রকৃতির দুটি ভিন্ন বায়ুপুঞ্জ যেখানে এসে মুখোমুখি হয়, সেই মিলনরেখাকেই সীমান্ত বলা হয়। এই ধরনের সীমান্ত সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ঘূর্ণবাতের সঙ্গে যুক্ত থাকে। প্রকৃতিগতভাবে সীমান্ত দুই রকমের হয়ে থাকে। একটি উষ্ণ সীমান্ত এবং অন্যটি শীতল সীমান্ত।
13. শীতল সীমান্তের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর : শক্তিশালী শীতল বায়ুপুঞ্জ যখন দুর্বল উষ্ণ বায়ুপুঞ্জকে একটি সীমান্তপৃষ্ঠ বরাবর দ্রুত সরিয়ে দেয়, তখন যে সীমান্ত গঠিত হয় তাকে শীতল সীমান্ত বলা হয়। এই সীমান্ত সাধারণত খাড়া ঢালযুক্ত হয়। শীতল সীমান্ত অতিক্রমের সময় তাপমাত্রা কমে যায় এবং বায়ুচাপ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টি দেখা যায়।
14. উষ্ণ সীমান্তের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর : শক্তিশালী উষ্ণ বায়ুপুঞ্জ যখন দুর্বল শীতল বায়ুপুঞ্জকে একটি সীমান্তপৃষ্ঠ বরাবর ধীরে ধীরে সরিয়ে দেয়, তখন যে সীমান্তের সৃষ্টি হয় তাকে উষ্ণ সীমান্ত বলা হয়। এই সীমান্ত সাধারণত তির্যক ও মৃদু ঢালযুক্ত হয়। উষ্ণ সীমান্ত অতিক্রমের সময় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শান্ত ও স্থির থাকে।
15. ডোলড্রাম কাকে বলে ?
উত্তর : নিরক্ষরেখার উভয় দিকে প্রায় ৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে যে অঞ্চলে সূর্যের কিরণ লম্বভাবে পড়ে এবং গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়, তাকে ডোলড্রাম বলা হয়। এই নিম্নচাপের আকর্ষণে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বায়ু এসে মিলিত হয় এবং উপরের দিকে উঠে যায়। ফলে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল কোনো পার্শ্বপ্রবাহ থাকে না, তাই আবহাওয়া শান্ত থাকে।
16. ঘূর্ণবাতের চক্ষু বলতে কী বোঝ ?
উত্তর : ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের একেবারে কেন্দ্রস্থলে একটি মেঘহীন ও বৃষ্টিহীন শান্ত অঞ্চল দেখা যায়, যাকে ঘূর্ণবাতের চক্ষু বলা হয়। এই অংশে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্থির থাকে। ঘূর্ণবাতের চক্ষুর ব্যাস সাধারণত প্রায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার হয়। এর আকৃতি অনেক সময় বৃত্তাকার আবার কখনও উপবৃত্তাকার হতে পারে। সাধারণত ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের মাঝখানের অংশেই ঘূর্ণবাতের চক্ষু স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
17. প্রাকৃতিক সৌরপর্দা কী এবং কেন ?
উত্তর : বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে থাকা ওজোন স্তরকে প্রাকৃতিক সৌরপর্দা বলা হয়। এটি সূর্যের অতিবেগুণি রশ্মি শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে। ওজোন স্তর ছাতা বা পর্দার মতো কাজ করে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুণি রশ্মিকে সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছতে বাধা দেয়, তাই এটি প্রাকৃতিক সৌরপর্দা নামে পরিচিত।
18. ওয়াকার সার্কুলেশন কাকে বলে ?
উত্তর : প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে পূর্ব-পশ্চিম দিকে বিস্তৃত একটি বৃহৎ বায়ুমণ্ডলীয় কোশকে ওয়াকার সার্কুলেশন বলা হয়। এটি মূলত সমুদ্রের উপর তাপমাত্রা ও বায়ুচাপের তারতম্যের ফলে সৃষ্টি হয়। এই বায়ুচক্রের ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উপরের দিকে উঠে যায়। ওয়াকার সার্কুলেশন ভারতীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মৌসুমি বায়ু ও বৃষ্টিপাতের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
19. কোরিওলিস বল কী ?
অথবা, কোরিওলিস শক্তি কাকে বলে ?
উত্তর : পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে যে শক্তি কোনো চলমান বস্তুর পথকে বাঁকিয়ে দেয়, তাকে আবিষ্কারক কোরিওলিসের নামে কোরিওলিস শক্তি বলা হয়। এটি নিরক্ষরেখায় শূন্য এবং মেরু অঞ্চলের দিকে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বয়ে যায়।
20. অক্লুডেড সীমান্ত কাকে বলে ?
উত্তর : নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতে দ্রুতগতির শীতল সীমান্ত ধীরগতির উষ্ণ সীমান্তকে ঘিরে ধরলে যে নতুন সীমান্ত সৃষ্টি হয়, তাকে অক্লুডেড সীমান্ত বলা হয়। এটি সাধারণত মধ্য অক্ষাংশীয় নিম্নচাপের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং এখানে দীর্ঘ সময় ধরে মৃদু বৃষ্টিপাত দেখা যায়।
21. ITCZ কাকে বলে ?
উত্তর : নিরক্ষরেখার উভয় দিকে প্রায় ৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে যে অঞ্চল রয়েছে, সেখানে সূর্যের কিরণ লম্বভাবে পড়ে এবং গভীর নিম্নচাপের বলয় তৈরি হয়। এই নিম্নচাপের আকর্ষণে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বায়ু এসে মিলিত হয়। এই অঞ্চলের অবস্থানকে Inter Tropical Convergence Zone বা আন্তঃক্রান্তীয় সম্মেলন বলা হয়।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : বায়ুমণ্ডল প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. ক্লাস 12 ভূতত্ত্ববিদ্যা প্রশ্ন ও উত্তর PDF | Click here |
| 2. ক্লাস 12 বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া প্রশ্ন উত্তর | Click here |
| 3. ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়াসমূহ প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
WB Semester Team
📞 & 💬 9883566115
