🔹 দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিষ্টার ভূগোল প্রশ্ন উত্তর
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 2]
1. পাত কাকে বলে ?
উত্তর : পৃথিবীর ভূ-অভ্যন্তরে অবস্থিত অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার স্তরের গলিত ম্যাগমার উপর ভাসমান যে বৃহৎ ও কঠিন শিলাস্তরগুলি ধীরে ধীরে চলাচল করে, সেগুলিকেই পাত বা প্লেট বলা হয়। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকান ভূবিজ্ঞানী উইলসন প্রথম Nature পত্রিকায় ‘প্লেট’ শব্দটি ব্যবহার করেন। পাতগুলির আয়তন প্রায় ১০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার থেকে ১০ কোটি বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং এগুলি বছরে প্রায় ১–১৫ সেন্টিমিটার হারে সঞ্চালিত হয়।
2. Hotspot কাকে বলে ?
উত্তর : ভূগর্ভের যে সব অঞ্চলে আশপাশের এলাকার তুলনায় তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকে, সেই অঞ্চলকে হটস্পট বলা হয়। হটস্পটের ঠিক উপরে সাধারণত সক্রিয় আগ্নেয়গিরির অবস্থান দেখা যায়। এই ধরনের তত্ত্ববিন্দু প্রধানত প্রতিসারী পাতসীমান্ত অঞ্চলে বেশি পরিলক্ষিত হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে মোট ২১টি হটস্পট বা তত্ত্ববিন্দু অঞ্চল আবিষ্কৃত হয়েছে। আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিতে অবস্থিত টিবেস্টি আগ্নেয়গিরি একটি হটস্পটের ওপর অবস্থিত।
3. সিবনরেখা কী ?
উত্তর : অভিসারী পাতসীমান্তের ক্ষেত্রে যে কাল্পনিক রেখা বরাবর দুটি ভিন্ন ধর্মী মহাদেশীয় পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে এসে মিলিত হয়, সেই কাল্পনিক রেখাকেই সিবনরেখা বলা হয়। এই রেখা বরাবর পাতের প্রবল চাপ ও সংঘর্ষের ফলে চ্যুতি সৃষ্টি হয়। সিবনরেখা মূলত অভিসারী পাতসীমান্ত অঞ্চলে গঠিত হয়। হিমালয় পর্বতের সিন্ধু সিবনরেখা এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
4. পাতসীমান্ত কাকে বলে ?
উত্তর : পৃথিবীর ভূত্বক যে বড় বড় পাত নিয়ে গঠিত, সেই পাতগুলির পারস্পরিক সংযোগস্থলকেই পাতসীমান্ত বলা হয়। এই সীমানা বরাবর পাতগুলির চলনের ফলে বিভিন্ন ভূ-প্রাকৃতিক গঠনের সৃষ্টি হয়।
পাতসীমান্ত প্রধানত তিন প্রকার - i. গঠনকারী পাতসীমান্ত, ii. বিনাশকারী পাতসীমান্ত, ও iii. নিরপেক্ষ পাতসীমান্ত।
5. অভিসারী পাতসীমান্ত কাকে বলে ?
উত্তর : যে পাতসীমান্ত বরাবর দুটি ভূ-প্লেট পরস্পরের দিকে এগিয়ে এসে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তাকে অভিসারী পাতসীমান্ত বলা হয়। ম্যাগমার পরিচলন স্রোতের নিম্নমুখী গতির ফলে এই ধরনের পাতসীমান্তের সৃষ্টি হয়। অভিসারী পাতসীমান্ত অঞ্চলে ভূত্বকের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে, যার ফলে এখানে তীব্র ভূমিকম্প ঘটে। ভারতীয় পাত ও ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষের ফলেই হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি হয়েছে, যা অভিসারী পাতসীমান্তের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
6. নিরপেক্ষ পাতসীমান্ত কাকে বলে ?
উত্তর : যে পাতসীমান্ত বরাবর দুটি পাত পরস্পরের পাশ কাটিয়ে পাশাপাশি অগ্রসর হয়, তাকে নিরপেক্ষ পাতসীমান্ত বলা হয়। এই ধরনের পাতসীমান্তে পাত দুটি একে অপরের সঙ্গে ঘর্ষণ করতে করতে সরে যায়। এখানে নতুন ভূত্বকের সৃষ্টি হয় না এবং পুরোনো ভূত্বকের ধ্বংসও ঘটে না। আমেরিকান পাত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের চলনের ফলে সৃষ্ট সান আন্দ্রিজ চ্যুতি নিরপেক্ষ পাতসীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
7. অধঃপাত মণ্ডল কাকে বলে ?
উত্তর : অভিসারী পাতসীমান্তে যখন ভারী মহাসাগরীয় পাতটি হালকা মহাদেশীয় পাতের নীচে ধীরে ধীরে প্রবেশ করে, তখন যে বিশেষ অঞ্চলটির সৃষ্টি হয় তাকে অধঃপাত মণ্ডল বলা হয়। এই অঞ্চলে পাতের সংঘর্ষের কারণে ভূত্বকের মধ্যে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়, ফলে এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ হয়ে ওঠে। অধঃপাত মণ্ডল সাধারণত শুধুমাত্র অভিসারী পাতসীমান্তেই গঠিত হয়। ভারতীয় পাত ও ইউরেশীয় পাতের মিলনস্থল এই ধরনের অধঃপাত মণ্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
8. বেনীয়ফ মণ্ডল কাকে বলে ?
উত্তর : অভিসারী পাতসীমান্তে যখন ভারী মহাসাগরীয় পাতটি হালকা মহাদেশীয় পাতের নীচে ঢালু পথে গমন করে, তখন যে বিশেষ ঢালু পাতসীমান্ত তল গঠিত হয় তাকে বেনীয়ফ মণ্ডল বলা হয়। এই মণ্ডলের নামকরণ করা হয়েছে বিজ্ঞানী হুগো বেনীয়ফের নাম অনুসারে। সাধারণত এই ঢালু অঞ্চলের কৌণিক মান প্রায় ৪৫° হয় এবং এই অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। ভারতীয় পাত ও ইউরেশীয় পাতের মিলনস্থল বরাবর বেনীয়ফ মণ্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ দেখা যায়।
9. ত্রিপাত সম্মেলন কাকে বলে ?
উত্তর : ভূ-পৃষ্ঠে যে পাত সীমানা বরাবর তিনটি ভিন্ন ধর্মী ভূ-প্লেট একসঙ্গে এসে মিলিত হয়, সেই মিলনস্থলকে ত্রিপাত সম্মেলন বলা হয়। এই ধরনের সম্মেলন সাধারণত Y-আকৃতির হয়ে থাকে। এতে তিনটি বাহুর মধ্যে দুটি বাহু সক্রিয় থাকে এবং একটি বাহু নিষ্ক্রিয় হয়, যা অ্যালকোজেন নামে পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত, নাসকা পাত ও আন্টার্কটিকা পাতের মিলনস্থলে ত্রিপাত সম্মেলনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ দেখা যায়।
10. অধঃপাত মণ্ডল কাকে বলে ?
উত্তর : অভিসারী পাতসীমান্তে যখন ভারী মহাসাগরীয় পাতটি হালকা মহাদেশীয় পাতের নীচে ধীরে ধীরে প্রবেশ করে, তখন যে বিশেষ অঞ্চলটির সৃষ্টি হয় তাকে অধঃপাত মণ্ডল বলা হয়। এই অঞ্চলে পাতের সংঘর্ষের কারণে ভূত্বকের মধ্যে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়, ফলে এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ হয়ে ওঠে। অধঃপাত মণ্ডল সাধারণত শুধুমাত্র অভিসারী পাতসীমান্তেই গঠিত হয়। ভারতীয় পাত ও ইউরেশীয় পাতের মিলনস্থল এই ধরনের অধঃপাত মণ্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
11. নিরপেক্ষ পাতসীমান্ত কাকে বলে ?
উত্তর : যে পাতসীমান্ত বরাবর দুটি পাত পরস্পরের পাশ কাটিয়ে পাশাপাশি অগ্রসর হয়, তাকে নিরপেক্ষ পাতসীমান্ত বলা হয়। এই ধরনের পাতসীমান্তে পাত দুটি একে অপরের সঙ্গে ঘর্ষণ করতে করতে সরে যায়। এখানে নতুন ভূত্বকের সৃষ্টি হয় না এবং পুরোনো ভূত্বকের ধ্বংসও ঘটে না। আমেরিকান পাত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের চলনের ফলে সৃষ্ট সান আন্দ্রিজ চ্যুতি নিরপেক্ষ পাতসীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
12. প্রতিসারী পাতসীমান্ত কাকে বলে ?
উত্তর : যে পাতসীমান্ত বরাবর দুটি ভূ-প্লেট পরস্পরের বিপরীত দিকে সরে যায়, তাকে প্রতিসারী পাতসীমান্ত বলা হয়। ম্যাগমার পরিচলন স্রোতের ঊর্ধ্বমুখী গতির ফলে এই ধরনের পাতসীমান্তের সৃষ্টি হয়। প্রতিসারী পাতসীমান্ত সাধারণত মাঝ সমুদ্র অঞ্চলে দেখা যায়। আমেরিকান পাত ও ইউরেশীয় পাতের বিপরীত গতির ফলেই মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরার সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রতিসারী পাতসীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
13. পুরা চুম্বকত্ব কাকে বলে ?
উত্তর : পুরা চুম্বকত্ব বা প্যালিওম্যাগনেটিজম হলো ভূবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যেখানে শিলা ও খনিজের মধ্যে সংরক্ষিত প্রাচীন পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের তথ্য নিয়ে গবেষণা করা হয়। এই গবেষণার মাধ্যমে জানা যায় যে অতীতে পৃথিবীর চৌম্বক মেরু বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে এবং মহাদেশগুলির অবস্থানও সময়ের সঙ্গে বদলেছে।
পুরা চুম্বকত্বের মাধ্যমে মহাদেশীয় প্রবাহ ও পাত টেকটনিক্স তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি সমুদ্রতলের প্রসারণ এবং পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক ইতিহাস নির্ধারণেও এটি বিশেষভাবে সহায়তা করে।
14. প্লিউম কী ?
উত্তর : ভূগর্ভের গভীর অংশ থেকে গরম ও গলিত ম্যাগমা যখন উর্ধ্বমুখে প্রবাহিত হয়, তখন সেই প্রবাহকে প্লিউম বলা হয়। প্লিউম সাধারণত গুরুমণ্ডল থেকে উৎপন্ন হয় এবং এর গড় ব্যাস প্রায় ১০০ কিলোমিটার। প্লিউমের প্রভাবে ভূ-পৃষ্ঠে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে এবং আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়। আফ্রিকার টিবেস্টি আগ্নেয়গিরিটি প্লিউমের উপর অবস্থিত একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 2]
1. অভিসারী পাতসীমান্ত ও প্রতিসারী পাতসীমান্তের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : অভিসারী পাতসীমান্ত ও প্রতিসারী পাতসীমান্তের মধ্যে পার্থক্য :
(১) সংজ্ঞাগত পার্থক্য : যে পাতসীমান্তে দুটি ভূত্বকীয় পাত পরস্পরের দিকে অগ্রসর হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তাকে অভিসারী পাতসীমান্ত বলে। অপরদিকে, যে পাতসীমান্তে দুটি পাত পরস্পর বিপরীত দিকে সরে যায়, তাকে প্রতিসারী পাতসীমান্ত বলা হয়। এই চলনের দিকগত পার্থক্যই এদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য সৃষ্টি করে।
(২) প্রকৃতি ও ভূমিরূপের পার্থক্য : অভিসারী পাতসীমান্তে পাতের সংঘর্ষের ফলে ভূত্বকের বিনাশ ঘটে, তাই একে বিনাশকারী পাতসীমান্ত বলা হয়। অন্যদিকে, প্রতিসারী পাতসীমান্তে পাতগুলির বিচ্ছেদের ফলে ফাটল বরাবর ম্যাগমা নির্গত হয়ে নতুন ভূত্বক গঠিত হয়, এজন্য একে গঠনকারী পাতসীমান্ত বলা হয় ।
(৩) উৎপত্তি ও অবস্থানের পার্থক্য : ম্যাগমার পরিচলন স্রোতের নিম্নমুখী চলনের ফলে অভিসারী পাতসীমান্তের সৃষ্টি হয় এবং এটি সাধারণত উপকূলীয় অঞ্চলে দেখা যায়। অপরদিকে, ম্যাগমার পরিচলন স্রোতের ঊর্ধ্বমুখী চলনের ফলে প্রতিসারী পাতসীমান্তের উৎপত্তি ঘটে এবং এটি প্রধানত মধ্য-সমুদ্র অঞ্চলে অবস্থিত।
(৪) ভূমিকম্পগত পার্থক্য : অভিসারী পাতসীমান্তে পাতের তীব্র সংঘর্ষের কারণে শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। বিপরীতে, প্রতিসারী পাতসীমান্তে পাতের ধীর বিচ্ছেদের জন্য তুলনামূলকভাবে মৃদু ভূমিকম্প দেখা যায়।
2. অধঃপাত মণ্ডল ও বেনিয়ফ মণ্ডলের পার্থক্য লেখো ?
উত্তর : অধঃপাত মণ্ডল ও বেনিয়ফ মণ্ডলের পার্থক্য :
(১) সংজ্ঞাগত পার্থক্য : যে অঞ্চলে ভারী মহাসাগরীয় পাত হালকা পাতের নীচে প্রবেশ করে, তাকে অধঃপাত মণ্ডল বলে। অপরদিকে, অধঃপাত মণ্ডলের ভিতরে নিমজ্জিত পাত বরাবর যে ঢালু ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল সৃষ্টি হয়, তাকে বেনিয়ফ মণ্ডল বলা হয়।
(২) অবস্থানগত পার্থক্য : অধঃপাত মণ্ডল পাতসীমান্তে অবস্থিত, যেখানে পাতের নিমজ্জন ঘটে। কিন্তু বেনিয়ফ মণ্ডল নিমজ্জিত পাত বরাবর গভীরে বিস্তৃত থাকে এবং সাধারণত ৫০–৬৫০ কিমি গভীরতা পর্যন্ত প্রসারিত।
(৩) বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য : অধঃপাত মণ্ডলে মহীখাত, আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, বেনিয়ফ মণ্ডল প্রধানত বিভিন্ন গভীরতার ভূমিকম্প সংঘটনের অঞ্চল।
(৪) উদাহরণগত পার্থক্য : অধঃপাত মণ্ডলের একটি সুপরিচিত উদাহরণ হলো পেরু-চিলি খাত অঞ্চল। অন্যদিকে, ভারতীয় ও ইউরেশীয় পাতের মিলনস্থলে বেনিয়ফ মণ্ডলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
উপসংহার : অতএব বলা যায়, অধঃপাত মণ্ডল পাত নিমজ্জনের অঞ্চল, আর বেনিয়ফ মণ্ডল সেই নিমজ্জনের সঙ্গে যুক্ত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল।
3. পাতসঞ্চালনের কারণগুলি আলোচনা করো।
অথবা, পাতসঞ্চালনের প্রয়োজনীয় শক্তিগুলো কী কী ?
উত্তর : অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের গলিত ম্যাগমার উপর ভাসমান ভূত্বকের পাতগুলি স্থির নয়। এগুলি প্রতি বছরে প্রায় ১–১৫ সেন্টিমিটার হারে ধীরে ধীরে সঞ্চালিত হয়। এই পাতসঞ্চালনের পিছনে কয়েকটি কার্যকর শক্তি কাজ করে।
পাতসঞ্চালনের কারণ :
১. পরিচলন স্রোত : ব্রিটিশ ভূতত্ত্ববিদ আর্থার হোমসের মতে, ভূ-অভ্যন্তরের ম্যাগমায় সৃষ্ট তাপীয় পরিচলন স্রোতের ফলে পাতগুলির সঞ্চালন ঘটে। ঊর্ধ্বমুখী স্রোতে পাতগুলি দূরে সরে যায় এবং নিম্নমুখী স্রোতে পাতগুলি পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে।
২. অভিকর্ষজ বল : মধ্য-সামুদ্রিক শৈলশিরার ঢাল বরাবর অভিকর্ষজ বলের প্রভাবে পাতগুলি নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ে এবং এর ফলে পাতসঞ্চালন সংঘটিত হয়।
৩. নিম্নমুখী পাতের টান : অভিসারী পাতসীমান্তে ভারী মহাসাগরীয় পাত হালকা পাতের নীচে ঢুকে পড়ে। এই নিম্নমুখী পাতের টান পার্শ্ববর্তী পাতকেও টেনে নিয়ে যায়।
উপসংহার : অতএব বলা যায়, পরিচলন স্রোত, অভিকর্ষজ বল ও নিম্নমুখী পাতের টানের যৌথ প্রভাবে পৃথিবীর ভূত্বকের পাতগুলির সঞ্চালন ঘটে।
4. সমুদ্র বক্ষ বিস্তারের প্রধান কারণগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো
উত্তর : সমুদ্রতলদেশ ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে এই ধারণা প্রথম সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন ভূবিজ্ঞানী হ্যারি হেস। তাঁর মতে মধ্য-মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন সমুদ্রবক্ষ সৃষ্টি হওয়ার ফলে সমুদ্রের তলদেশ ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়।
সমুদ্র বক্ষ বিস্তারের প্রধান কারণ :
(১) ম্যাগমার পরিচলন স্রোত : অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের মধ্যে গরম ম্যাগমার ঊর্ধ্ব ও নিম্নমুখী পরিচলন স্রোত মধ্য-মহাসাগরীয় শৈলশিরা বরাবর পাতগুলিকে বিপরীত দিকে সরিয়ে দেয়। এর ফলে ফাটল সৃষ্টি হয় এবং সেই ফাটল দিয়ে ম্যাগমা উঠে এসে নতুন সমুদ্রবক্ষ গঠন করে।
(২) পাতের বিচ্ছেদ ও চলন : প্লেট টেকটনিক গতির ফলে প্রতিসারী পাতসীমান্তে পাতগুলি একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়। এই বিচ্ছেদের ফলে সৃষ্ট ফাঁকা স্থানে ম্যাগমা জমা হয়ে নতুন সমুদ্রতল তৈরি হয়।
(৩) তপ্তবিন্দু ও আগ্নেয় ক্রিয়া : কিছু স্থানে ভূ-অভ্যন্তরের তপ্তবিন্দুর কারণে ভূত্বকে ফাটল ধরে এবং সেখান দিয়ে ম্যাগমা নির্গত হয়। এই আগ্নেয় ক্রিয়াও নতুন সমুদ্রবক্ষ সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
উপসংহার : অতএব বলা যায়, ম্যাগমার পরিচলন স্রোত, পাতের বিচ্ছেদ ও চলন এবং আগ্নেয় ক্রিয়ার সম্মিলিত প্রভাবে সমুদ্র বক্ষের বিস্তার ঘটে।
5. অভিসারী পাতসীমান্তে সৃষ্টি ভূমিরূপগুলো আলোচনা করো।
উত্তর : পৃথিবীর ভূত্বক কয়েকটি বৃহৎ ও ক্ষুদ্র পাত নিয়ে গঠিত। এই পাতগুলি সব সময় স্থির না থেকে ধীরে ধীরে সঞ্চালিত হয়। যে পাতসীমান্তে দুটি পাত পরস্পরের দিকে অগ্রসর হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তাকে অভিসারী পাতসীমান্ত বলা হয়। এই ধরনের পাতসীমান্তে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।
অভিসারী পাতসীমান্তে সৃষ্ট ভূমিরূপ :
1. ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি : অভিসারী পাতসীমান্তে দুটি মহাদেশীয় পাত মুখোমুখি হলে তাদের মাঝখানে সঞ্চিত পলিরাশি প্রবল চাপে ভাঁজ পড়ে উঁচু হয়ে ওঠে। এর ফলেই ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়। হিমালয় পর্বত এই ধরনের ভঙ্গিল পর্বতের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
2. গভীর সমুদ্রখাত সৃষ্টি : অভিসারী পাতসীমান্তে যখন মহাসাগরীয় পাত মহাদেশীয় পাতের নীচে সঞ্চারিত হয়, তখন দুটি পাতের সংযোগস্থলে অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ সমুদ্রখাত গঠিত হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত এই ধরনের সমুদ্রখাতের একটি পরিচিত উদাহরণ।
3. আগ্নেয়গিরি সৃষ্টি : অভিসারী পাতসীমান্তে ভারী মহাসাগরীয় পাত হালকা মহাদেশীয় পাতের নীচে ঢুকে পড়ে। এতে নিম্নগামী পাতের কিছু অংশ গলে ম্যাগমায় পরিণত হয় এবং ভূত্বকের দুর্বল অংশ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি করে। মৌনালোয়া আগ্নেয়গিরি এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
উপসংহার : অতএব বলা যায়, পাতগুলির পারস্পরিক সংঘর্ষ ও নিমজ্জনের ফলে অভিসারী পাতসীমান্তে ভঙ্গিল পর্বত, আগ্নেয়গিরি ও সমুদ্রখাতের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।
6. প্রতিসারী পাতসীমান্তে সৃষ্ট তিনটি ভূমিরূপ আলোচনা করো
উত্তর : পৃথিবীর ভূত্বকের পাতগুলি অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের উপর ভাসমান অবস্থায় ধীরে ধীরে চলাচল করে। যে পাতসীমান্তে দুটি পাত পরস্পরের বিপরীত দিকে সরে যায়, তাকে প্রতিসারী বা অপসারী পাতসীমান্ত বলা হয়। এই ধরনের পাতসীমান্তে বিভিন্ন বিশেষ ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।
প্রতিসারী পাতসীমান্তে সৃষ্ট ভূমিরূপ :
১. নবীন মহাসাগরীয় ভূত্বকের গঠন : প্রতিসারী পাতসীমান্তে পাত দুটি সরে যাওয়ার ফলে মধ্যভাগে ফাটল সৃষ্টি হয়। এই ফাটল দিয়ে অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার থেকে নির্গত গলিত ম্যাগমা সমুদ্রগর্ভে জমা হয়ে ঠান্ডা হলে নতুন মহাসাগরীয় ভূত্বকের সৃষ্টি হয়।
২. মধ্য-সামুদ্রিক শৈলশিরার সৃষ্টি : ফাটল বরাবর নির্গত ম্যাগমা বারবার সঞ্চিত হয়ে সমুদ্রতলের উপর দীর্ঘ ও উঁচু শৈলশিরা গঠন করে, যাকে মধ্য-সামুদ্রিক শৈলশিরা বলা হয়। মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
৩. গ্রস্ত উপত্যকার সৃষ্টি : প্রতিসারী পাতসীমান্তে পাতগুলির বিপরীতমুখী গতির ফলে মধ্যভাগের ভূত্বকে টান সৃষ্টি হয়। এর ফলে ফাটল বরাবর ভূত্বকের অংশ নীচে বসে গিয়ে গ্রস্ত উপত্যকা গঠিত হয়। আইসল্যান্ডের গ্রস্ত উপত্যকা এর একটি পরিচিত উদাহরণ।
উপসংহার : অতএব বলা যায়, পাতগুলির পরস্পর বিচ্ছেদের ফলে প্রতিসারী পাতসীমান্তে নতুন ভূত্বক, মধ্য-সামুদ্রিক শৈলশিরা ও গ্রস্ত উপত্যকার মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।
7. পাত সংস্থান মতবাদের সমালোচনা বা ত্রুটি আলোচনা করো
উত্তর : ভূত্বকের পাতগুলির চলন ও ভূতাত্ত্বিক ঘটনাবলি ব্যাখ্যা করার জন্য পাত সংস্থান মতবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক তত্ত্ব। তবে এই মতবাদ অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি রয়েছে।
পাত সংস্থান মতবাদের ত্রুটি :
১. পরিচলন স্রোতের প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাব : অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারে পরিচলন স্রোত বিদ্যমান বলে ধরা হলেও এর কোনও প্রত্যক্ষ ও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে এই ধারণাটি অনেকটাই অনুমানের উপর নির্ভরশীল।
২. পাত চলনের প্রকৃত কারণ অস্পষ্ট : এই মতবাদে পাতগুলি কীভাবে এবং ঠিক কোন শক্তির প্রভাবে চলনশীল হয়, তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। এজন্য অনেক বিজ্ঞানী এই তত্ত্বকে অসম্পূর্ণ বলে মনে করেন।
৩. সব ভূ-গঠনের ব্যাখ্যা দিতে অক্ষম : কিছু অঞ্চলের পর্বত ও ভূমিরূপের গঠন, যেমন অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাংশের পর্বতশ্রেণি, পাত সংস্থান মতবাদ দ্বারা সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না।
উপসংহার : অতএব বলা যায়, পাত সংস্থান মতবাদ আধুনিক ভূবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর কয়েকটি ত্রুটির কারণে একে সম্পূর্ণ ও সর্বজনগ্রাহ্য তত্ত্ব বলা যায় না।
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 5]
১. পাতসংস্থান মতবাদটি আলোচনা করো।
উত্তর : পাতসংস্থান বা প্লেট টেকটনিক মতবাদ পৃথিবীর ভূত্বকের গঠন ও চলন বোঝানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব। ১৯৬০ খ্রিঃ আমেরিকান ভূবিজ্ঞানী উইলসন প্রথম ‘Nature’ পত্রিকায় ‘প্লেট’ শব্দটি ব্যবহার করেন। ১৯৬৮ খ্রিঃ ফরাসি বিজ্ঞানী পিঁচো এই মতবাদকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে ব্যাখ্যা করেন।
মূল মতবাদ : পাতসংস্থান মতবাদ অনুসারে পৃথিবীর ভূত্বক সাতটি বৃহৎ পাতের উপর স্থাপিত। এগুলো হল উত্তর আমেরিকান, দক্ষিণ আমেরিকান, আফ্রিকান, ইউরেশীয়, ভারতীয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং আন্টার্কটিকা পাত। এছাড়া কয়েকটি মাঝারি ও ২০টিরও বেশি ক্ষুদ্র পাত রয়েছে। এই পাতগুলি অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের গলিত ম্যাগমার ওপর ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং বছরে ১–১৫ সেন্টিমিটার গতিতে সঞ্চারিত হয়।
পাতসীমান্ত : প্লেটের প্রান্তগুলোকে পাতসীমান্ত বলা হয়। পাতসীমান্ত প্রধানত তিন ধরনের-
১. অভিসারী পাতসীমান্ত : যে পাতসীমান্ত বরাবর দুটি পাত পরস্পরের দিকে অগ্রসর হয়। এখানে সংঘর্ষের ফলে ভূত্বক বিনাশ হয়, তাই একে বিনাশকারী পাতসীমান্ত বলা হয়।
i. মহাদেশীয়-মহাসাগরীয় : যেমন আমেরিকান পাত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের সংঘর্ষে আন্দিজ পর্বত সৃষ্টি হয়েছে।
ii. মহাসাগরীয়-মহাসাগরীয় : যেমন জাপান ও অ্যালুশিয়ান পাতের সংঘর্ষে বৃত্তচাপীয় দ্বীপমালা তৈরি হয়েছে।
iii. মহাদেশীয়-মহাদেশীয় : যেমন ভারতীয় ও ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষে হিমালয় পর্বত সৃষ্টি হয়েছে।
২. প্রতিসারী পাতসীমান্ত : যে পাতসীমান্ত বরাবর দুটি পাত পরস্পর বিপরীত দিকে সরে যায়। এই চলনের ফলে ফাটল বরাবর ম্যাগমা নির্গত হয় এবং নতুন ভূত্বক গঠিত হয়, তাই একে গঠনকারী পাতসীমান্ত বলা হয়।
উদাহরণ: আমেরিকান ও ইউরেশীয় পাতের বিপরীতমুখী চলনে মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা গঠিত হয়েছে।
৩. নিরপেক্ষ পাতসীমান্ত : যে পাতসীমান্ত বরাবর দুটি পাত পরস্পরের পাশ কাটিয়ে সরে যায়।
উদাহরণ : আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের চলনে সান আন্দ্রিজ চ্যুতি সৃষ্টি হয়েছে।
উপসংহার : পাতসংস্থান তত্ত্ব বহু সমালোচনার সম্মুখীন হলেও এটি ভূত্বকের চলন ও বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক ঘটনা বোঝাতে সর্বজনগ্রাহ্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২. সমুদ্র তলদেশের সম্প্রসারণ মতবাদটি আলোচনা করো।
উত্তর : ১৯৬০ খ্রিঃ মার্কিন ভূবিজ্ঞানী হ্যারি হেস History of the Ocean Basin-এ সমুদ্র তলদেশের সম্প্রসারণ বা সমুদ্রবক্ষ বিস্তারের ধারণা উপস্থাপন করেন। তার মতে, মধ্য-সমুদ্রশৈলশিরা থেকে সমুদ্রবক্ষ ক্রমশ প্রসারিত হয়। মহাদেশগুলির সঞ্চারণ বা সমুদ্রতলের ফাটল বরাবর অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার থেকে নির্গত ম্যাগমা নতুন সমুদ্রবক্ষ গঠনে সহায়তা করে।
সমুদ্র তলদেশের সম্প্রসারণ মতবাদটির প্রমাণসমূহ :
১. অবক্ষেপের গভীরতা ও বয়স : মধ্য-সমুদ্রশৈলশিরা থেকে উপকূলের দিকে সমুদ্র তলদেশের গভীরতা ও শিলার বয়স ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। নবীন শিলা শৈলশিরার কেন্দ্রে থাকে, দূরের অংশে শিলা প্রাচীন হয়। US National Science Foundation-এর JOIDES প্রকল্পে গ্লোমোর চ্যালেঞ্জার জাহাজে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করে এ তথ্য প্রমাণিত হয়েছে।
২. আগ্নেয় শিলার বয়স : সমুদ্রশৈলশিরার শীর্ষদেশে তৈরি হওয়া শিলা নবীন, তলদেশের শিলা প্রাচীন। Radiometric পদ্ধতিতে নির্ণয় করা যায়, এবং দেখা যায় সমুদ্রবক্ষের প্রসারণের সঙ্গে শিলার বয়স ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।
৩. তেজস্ক্রিয় পদার্থের কেন্দ্রীভবন : মধ্য-সমুদ্রশৈলশিরায় নবীন শিলায় তেজস্ক্রিয় মৌল বেশি কেন্দ্রীভূত থাকে, দূরের ভূত্বকে শিলা ঠান্ডা এবং প্রাচীন। এটি সমুদ্রবক্ষের ক্রমবর্ধমান প্রসারণের প্রমাণ দেয়।
৪. সামুদ্রিক অবক্ষেপের বয়স : শৈলশিরা থেকে উপকূলের দিকে যাওয়ার সাথে সাথে সামুদ্রিক অবক্ষেপের বয়স বৃদ্ধি পায়। নবীন শিলা শৈলশিরার কেন্দ্রে, প্রাচীন শিলা উপকূলে। এটি সমুদ্রবক্ষ বিস্তারের প্রমাণ।
৫. পুরা-চুম্বকীয় প্রমাণ : শিলা যখন কঠিন হয়, তখন এতে থাকা চুম্বকীয় খনিজ চৌম্বক অক্ষের সঙ্গে সমান্তরালভাবে স্থায়ী হয়। মধ্য-সমুদ্রশৈলশিরার নবীন শিলায় চুম্বকীয় দিকনির্দেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা সমুদ্রবক্ষের ক্রমবর্ধমান প্রসারণ নির্দেশ করে।
উপসংহার : মধ্য-সমুদ্রশৈলশিরা থেকে সমুদ্রবক্ষের ক্রমবর্ধমান প্রসারণ, শিলার বয়স, তেজস্ক্রিয়তা ও চুম্বকীয় তথ্যের মাধ্যমে হ্যারি হেসের মতবাদ সমর্থিত। যদিও কিছু সমালোচনা আছে, এটি সমুদ্র তলদেশের বিস্তারের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তত্ত্ব।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানুন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : Unit 1 ভূতত্ত্ববিদ্যা প্রশ্ন ও উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 3
Mode : Read-only (Online)
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. ক্লাস 12 শিক্ষাবিজ্ঞান শিক্ষা প্রযুক্তিবিদ্যা PDF | Click here |
| 2. হারুন সালেমের মাসি গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর | Click here |
| 3. ক্লাস 12 জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ PDF | Click here |
WB Semester Team
📞 & 💬 9883566115
