WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

ক্লাস 12 বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া প্রশ্ন উত্তর | 2 মার্কের প্রশ্নোত্তর | Class 12 4th Semester Geography QuestIon Answer

0

Unit : 2 বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া PDF

প্রা(caps)রম্ভিক তথ্য : দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টারে ভূগোল বিষয়ে মোট ৩৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এই ৩৫ নম্বরের মধ্যে ‘প্রাকৃতিক ভূগোলের ধারণা’ অধ্যায় থেকে মোট ১৫ নম্বর প্রশ্ন থাকবে। এই অংশে দু’নম্বরের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (৪ নম্বর), তিন নম্বরের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (৬ নম্বর) এবং পাঁচ নম্বরের প্রশ্ন দুটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো একটি করতে হবে (৫ নম্বর)। অর্থাৎ মোট ৪ + ৬ + ৫ = ১৫ নম্বর। ‘প্রাকৃতিক ভূগোলের ধারণা’ অংশটি মোট ছয়টি ইউনিটে বিভক্ত। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট হল বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া। এই ইউনিটটি পরীক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা এই Unit : 2 বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ২ নম্বরের প্রশ্ন-উত্তর সহ একটি PDF এখানে প্রদান করেছি। এছাড়াও, আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুসারে অত্যন্ত সহজ ও পরীক্ষামুখীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আপনাদের অনেকটাই সাহায্য করবে। তাই ই-বুক (PDF)টি কিনতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

ক্লাস 12 বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া প্রশ্ন উত্তর

🔹 Class 12 4th Semester Geography QuestIon Answer

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 2]
1. আবহবিকার কাকে বলে ?
উত্তর : আবহবিকার শব্দটি ‘আবহাওয়া’ থেকে এসেছে। আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান যেমন উষ্ণতা, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের প্রভাবে শিলাস্তর ভেঙে চূর্ণ হয়ে যায় অথবা বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলের উপস্থিতিতে শিলাস্তর রাসায়নিকভাবে বিয়োজিত হয়। এইভাবে শিলাস্তর নিজ স্থানে অবস্থান করেই পরিবর্তিত হলে তাকে আবহবিকার বলা হয়। আবহবিকারের ক্ষেত্রে শিলার অপসারণ ঘটে না, এটি একটি ধীরগতির প্রক্রিয়া এবং এতে ভূমির উচ্চতার কোনো পরিবর্তন হয় না।

2. আরোহণ কাকে বলে ?
উত্তর : যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সঞ্চয়কার্যের ফলে কোনো নিম্নভূমি ধীরে ধীরে উচ্চভূমিতে পরিণত হয়, তাকে আরোহণ বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ভূমিভাগের উচ্চতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। নদী, বায়ু ও হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি এই প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে।

3. অবরোহণ কাকে বলে ?
উত্তর : যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো উচ্চভূমি ক্ষয়কার্যের প্রভাবে ধীরে ধীরে নিচু হয়ে নিম্নভূমিতে পরিণত হয়, তাকে অবরোহণ বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ভূমিভাগের উচ্চতা ক্রমশ হ্রাস পায়। আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় ও ক্ষয়ীভবন প্রভৃতি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া অবরোহণকে নিয়ন্ত্রণ করে।

4. বহির্জাত প্রক্রিয়া কাকে বলে?
উত্তর : ভূ-পৃষ্ঠে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটাতে যে সমস্ত প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া আবহবিকার, ক্ষয়ীভবন ও পুঞ্জিত ক্ষয়ের মাধ্যমে কাজ করে, সেগুলিকেই বহির্জাত প্রক্রিয়া বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। বহির্জাত প্রক্রিয়া সাধারণত ধীর গতিতে ঘটে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। ভূমিধস বা ধস বহির্জাত প্রক্রিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

5. খাঁড়ি কাকে বলে ?
উত্তর : নদীর নিম্নগতিতে যেখানে বদ্বীপ গঠিত হয় না, সেই চওড়া নদী মোহনাকে খাঁড়ি বলা হয়। খাঁড়ির জল সাধারণত লবণাক্ত প্রকৃতির হয় এবং এই অঞ্চলে নদীর স্রোত তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। রাশিয়ার ওব নদীর খাঁড়ি এবং সুন্দরবনের দুর্গাদুয়ানি খাঁড়ির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

6. নগ্নীভবন কাকে বলে ?
উত্তর : আবহবিকার, ক্ষয়ীভবন ও পুঞ্জিত ক্ষয়ের সম্মিলিত প্রভাবে শিলাস্তরের উপরিভাগ ধীরে ধীরে ভেঙে অপসারিত হলে ভিতরের অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়াকেই নগ্নীভবন বলা হয়। নগ্নীভবন একটি ব্যাপক প্রক্রিয়া, যেখানে শিলার ভাঙন, ক্ষয় ও অপসারণ একসঙ্গে ঘটে। এই প্রক্রিয়া মৃত্তিকা গঠন এবং ভূমিরূপের ক্রমাগত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত শুষ্ক অঞ্চলে নগ্নীভবনের মাত্রা কম এবং আর্দ্র অঞ্চলে এর মাত্রা বেশি দেখা যায়।

7. ক্ষয়ীভবন কাকে বলে ?
উত্তর : আবহবিকারের ফলে উৎপন্ন শিলা ও মৃত্তিকা কণা যখন নদী, বায়ু ও হিমবাহের মতো প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অপসারিত হয়, তখন সেই প্রক্রিয়াকে ক্ষয়ীভবন বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় আবহবিকারজাত পদার্থের স্থানান্তর ঘটে এবং এর ফলে ভূমির উচ্চতা ধীরে ধীরে কমে যায়।

8. গ্রেড বা পর্যায়ন কাকে বলে ?
উত্তর : ক্ষয়কার্যের ফলে উচ্চভূমি ধীরে ধীরে নিচু হয়ে আসে এবং সঞ্চয়কার্যের মাধ্যমে নিম্নভূমি ভরাট হয়ে সমতল হয়ে ওঠে, এই সমগ্র প্রক্রিয়াকেই গ্রেড বা পর্যায়ন বলা হয়। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ভূবিজ্ঞানী জি. কে. গিলবার্ট প্রথম এই ধারণাটি ব্যাখ্যা করেন। পর্যায়ন মূলত দুটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যথা- আরোহণ প্রক্রিয়া ও অবরোহণ প্রক্রিয়া।

9. জলবিভাজিকা কাকে বলে ?
উত্তর : যে উচ্চভূমি পাশাপাশি প্রবাহিত দুটি নদী বা নদীগোষ্ঠীকে আলাদা করে রাখে, তাকে জলবিভাজিকা বলা হয়। সাধারণত পাহাড় ও পর্বতই জলবিভাজিকার ভূমিকা পালন করে। জলবিভাজিকা বৃহৎ নদীর প্রধান ধারা, উপনদী ও শাখানদীর বিভাজন ঘটায়। মধ্য এশিয়ার উচ্চভূমি জলবিভাজিকার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

10. নদী অববাহিকা কাকে বলে ?
উত্তর : প্রধান নদী, তার উপনদী ও শাখানদীগুলি যে বিস্তৃত অঞ্চলের উপর দিয়ে একত্রে প্রবাহিত হয়, সেই সমগ্র অঞ্চলকে নদী অববাহিকা বলা হয়। নদী অববাহিকার আয়তন সাধারণত অনেক বড় হয়। এর উচ্চ অংশে ক্ষয়কার্য, মধ্য অংশে বহনকার্য এবং নিম্ন অংশে সঞ্চয়কার্য বেশি লক্ষ্য করা যায়। ভারতের বৃহত্তম নদী অববাহিকা হলো গঙ্গা নদীর অববাহিকা এবং পৃথিবীর বৃহত্তম নদী অববাহিকা হলো আমাজন নদীর অববাহিকা।

11. পুঞ্জিত ক্ষয় কাকে বলে ?
উত্তর : পর্বতের উচ্চ অংশ থেকে বিপুল পরিমাণ প্রস্তরখণ্ড যখন পার্বত্য ঢাল বরাবর নিচের দিকে গড়িয়ে বা পতিত হয়, তখন সেই ক্ষয়প্রক্রিয়াকে পুঞ্জিত ক্ষয় বলা হয়। এই প্রক্রিয়া প্রধানত মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে সংঘটিত হয়। পুঞ্জিত ক্ষয় কখনো ধীরে আবার কখনো হঠাৎ দ্রুত ঘটতে পারে। সাধারণত পার্বত্য অঞ্চলে এই ধরনের ক্ষয়প্রক্রিয়া বেশি দেখা যায়।

12. ঊর্মিভঙ্গ কী ?
উত্তর : প্লাঞ্জরেখা বরাবর সমুদ্রতরঙ্গ ভেঙে পড়লে, তাকে ঊর্মিভঙ্গ বলা হয়। এটি সাধারণত অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ থেকে সৃষ্টি হয় এবং প্লাঞ্জরেখা বরাবর সংঘটিত হয়। উর্মিভঙ্গ অগভীর সমুদ্রে প্রধানত দেখা যায়।

13. ইনসেলবার্গ কাকে বলে ?
উত্তর : মরু অঞ্চলে পেডিপ্লেনের উপর যে কঠিন শিলাগঠিত, খাড়া ঢালযুক্ত ক্ষয়প্রাপ্ত পাহাড় থাকে, তাকে জার্মান ভাষায় ইনসেলবার্গ বলা হয়। সাধারণত এই পাহাড়ের উচ্চতা ১০–৩০ মিটার হয় এবং এটি খাড়া ঢালযুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়ার মাউন্ট ওলগা ইনসেলবার্গের পরিচিত উদাহরণ।

14. সমুদ্রতরঙ্গ কাকে বলে ?
উত্তর : প্রবল বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে সমুদ্রের জলরাশি যখন একই স্থানে উল্লম্বভাবে বারবার ওঠানামা করে এবং সেই জলরাশি উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়, তখন তাকে সমুদ্রতরঙ্গ বলা হয়। এই তরঙ্গ সাধারণত উপকূলের সমকোণে আছড়ে পড়ে এবং উপকূলের ক্ষয় ও সঞ্চয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

15. বিনাশকারী তরঙ্গ কাকে বলে ?
উত্তর : প্রবল ঝড় বা সুনামির ফলে সৃষ্ট উচ্চ ও শক্তিশালী সমুদ্রতরঙ্গ যখন তীব্র বেগে উপকূলে আছড়ে পড়ে এবং উপকূলীয় ভূমিভাগে ব্যাপক ক্ষয় সাধন করে, তখন তাকে বিনাশকারী তরঙ্গ বলে। এ ধরনের তরঙ্গে ব্যাকওয়াশ সোয়াশের তুলনায় বেশি শক্তিশালী হয় এবং উপকূলের ঢাল সাধারণত খাড়া প্রকৃতির হয়।

16. গঠনকারী তরঙ্গ কাকে বলে ?
উত্তর : যে সমুদ্রতরঙ্গ উপকূলে নুড়ি, বালি প্রভৃতি বহন করে এনে সঞ্চয় ঘটায় এবং উপকূলের গঠনকার্যে সাহায্য করে, তাকে গঠনকারী তরঙ্গ বলে। এই ধরনের তরঙ্গে সোয়াশের শক্তি ব্যাকওয়াশের তুলনায় বেশি হওয়ায় উপকূলে সঞ্চয় প্রক্রিয়া প্রবল হয়। সাধারণত এ ক্ষেত্রে উপকূলের ঢাল ও উচ্চতা কম থাকে এবং সামুদ্রিক তরঙ্গের উচ্চতাও তুলনামূলকভাবে কম হয়।

17. ধারণ অববাহিকা কাকে বলে ?
উত্তর : নদীর উৎসস্থলের কাছে যে সংকীর্ণ ও খাড়া ঢালযুক্ত অববাহিকা গঠিত হয়, তাকে ধারণ অববাহিকা বলা হয়। এই অববাহিকার প্রধান কাজ হলো ক্ষয়কার্য, কারণ নদীর গতি এখানে বেশি থাকে। ধারণ অববাহিকার আয়তন তুলনামূলকভাবে কম এবং এর গঠন সংকীর্ণ ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট। গঙ্গা নদীর ধারণ অববাহিকা কুমায়ুন হিমালয়ে অবস্থিত।

18. জলপ্রপাতের পশ্চাৎ অপসারণ কাকে বলে ?
উত্তর : নদীর গতিপথে যদি কঠিন শিলাস্তরের নীচে কোমল শিলাস্তর অবস্থান করে, তবে জলপ্রবাহের ফলে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সংকীর্ণ হয়ে যায়। এর ফলে উপরের কঠিন শিলাস্তরটি কোমল শিলার উপর ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। পরে জলরাশির চাপের কারণে এই ঝুলন্ত কঠিন শিলাস্তর ভেঙে পড়ে এবং জলপ্রপাতটি ধীরে ধীরে উৎসের দিকে বা পশ্চাৎ দিকে সরে যায়। এই প্রক্রিয়াকেই জলপ্রপাতের পশ্চাৎ অপসারণ বলা হয়। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নায়াগ্রা জলপ্রপাত প্রায় ১১ কিলোমিটার পশ্চাৎ দিকে সরে গেছে।

19. তটভূমি কাকে বলে ?
উত্তর : উপকূলের সামনের দিকে বিস্তৃত যে ভূমিভাগ জোয়ার-ভাটার প্রভাবে নিয়মিত প্রভাবিত হয়, তাকে তটভূমি বলা হয়। এই ভূমিভাগ জোয়ারের জলে প্লাবিত হয় এবং এর বিস্তার জোয়ারের জলের নিম্নসীমা থেকে ঊর্ধ্বসীমা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

20. সম্মুখ তটভূমি কাকে বলে ?
উত্তর : সমুদ্র জলের নিম্নসীমা থেকে সমুদ্র জলের ঊর্ধ্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত তটভূমির অংশকে সম্মুখ তটভূমি বলা হয়। এটি তটভূমির সামনের দিকের অংশ এবং নিয়মিত জোয়ারের জলে প্লাবিত হয়। সম্মুখ তটভূমি পশ্চাৎ তটভূমি ও পুরোদেশীয় তটভূমির মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে।

21. পশ্চাদ্‌ তটভূমি কাকে বলে ?
উত্তর : সমুদ্র জলের ঊর্ধ্বসীমা থেকে উপকূলের ভৃগুরেখা পর্যন্ত বিস্তৃত যে অংশটি থাকে, তাকে পশ্চাদ্‌ তটভূমি বলা হয়। এটি তটভূমির পিছনের দিকের অংশ এবং সাধারণত প্রায় সবসময় উন্মুক্ত থাকে। তবে ঝটিকা তরঙ্গের প্রভাবে এই তটভূমি সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

22. পুরোদেশীয় তটভূমি কাকে বলে ?
উত্তর : সম্মুখ তটভূমির নিম্নসীমা থেকে মহীসোপানের শেষপ্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত যে সামুদ্রিক অঞ্চল সর্বদা সমুদ্রজলে নিমজ্জিত থাকে, তাকে পুরোদেশীয় তটভূমি বলে। এটি সম্মুখ তটভূমির সামনের দিকে অবস্থিত এবং সমুদ্রের গভীর অংশের সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলের সংযোগ রক্ষা করে।

23. ষষ্ঠঘাতের সূত্র কী ?
উত্তর : নদীবিজ্ঞানে নদীর গতিবেগের সঙ্গে নদীর বহনক্ষমতার যে অনুপাতিক সম্পর্ক রয়েছে, তাকে ষষ্ঠঘাতের সূত্র বলা হয়। এই সূত্র অনুযায়ী, কোনো কারণে নদীর গতিবেগ যদি ২ গুণ বেড়ে যায়, তবে নদীর বহনক্ষমতা ২⁶ অর্থাৎ ৬৪ গুণ বৃদ্ধি পায়। এই সূত্রটি প্রথম প্রস্তাব করেন বিজ্ঞানী উইলিয়াম হপকিনস।

24. প্লাঞ্জরেখা কাকে বলে ?
উত্তর : যে কাল্পনিক রেখা বরাবর ঊর্মিভঙ্গ ঘটে, তাকে প্লাঞ্জরেখা বলা হয়। এই রেখা অগভীর সমুদ্রে অবস্থান করে এবং বরাবর অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ ভেঙে ঊর্মিভঙ্গের সৃষ্টি করে।

25. সোয়াশ কাকে বলে ?
উত্তর : সমুদ্রের জলরাশি যখন প্রবল বেগে উপকূলে আছড়ে পড়ে, তাকে সোয়াশ বলা হয়। সোয়াশের শক্তি সমুদ্রের বিস্তার ও বায়ুপ্রবাহের উপর নির্ভর করে। যদি সোয়াশ ব্যাকওয়াশের তুলনায় শক্তিশালী হয়, তবে উপকূলের সঞ্চয় প্রক্রিয়াই প্রধান হয়ে আসে।

26. ব্যাকওয়াশ কাকে বলে ?
উত্তর : উপকূলে আছড়ে পড়া সমুদ্রজল আবার ঢাল অনুসারে সমুদ্রে ফিরে গেলে তাকে ব্যাকওয়াশ বলা হয়। ব্যাকওয়াশের শক্তি মূলত সোয়াশ ও উপকূলের ঢালের উপর নির্ভরশীল। যদি ব্যাকওয়াশ সোয়াশের তুলনায় শক্তিশালী হয়, তবে উপকূলের ক্ষয় প্রক্রিয়াই প্রধান হয়ে আসে।

27. আবদ্ধ বা শৃঙ্খলিত শৈলশিরা কাকে বলে ?
উত্তর : পার্বত্য অঞ্চলে নদীর উচ্চপ্রবাহ অংশে শৈলশিরাগুলি এমনভাবে পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে যে নদীটি এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হতে বাধ্য হয় এবং শৈলশিরাগুলি নদীর স্বাভাবিক গতিপথকে আড়াল করে রাখে। এই ধরনের ভূমিরূপকে আবদ্ধ বা শৃঙ্খলিত শৈলশিরা বলা হয়। এটি মূলত নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্টি হয়। হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে মন্দাকিনী নদীর গতিপথে এই ধরনের শৈলশিরা লক্ষ্য করা যায়।

28. কিউসেক ও কিউমেক কী?
উত্তর : নদীর জলপ্রবাহের পরিমাণ মাপার জন্য যে এককগুলি ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে কিউসেক ও কিউমেক অন্যতম। নদীর কোনো নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘনফুট জল প্রবাহিত হয়, তাকে কিউসেক বলা হয়। আবার নদীর কোনো নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে যত ঘনমিটার জল প্রবাহিত হয়, তাকে কিউমেক বলা হয়। এই দুটি একক নদীর প্রবাহের পরিমাণ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

29. অনুপ্রস্থ তরঙ্গ কাকে বলে ?
উত্তর : গভীর সমুদ্রে সমুদ্রপৃষ্ঠের জলরাশি যখন একই স্থানে উল্লম্বভাবে ওঠানামা করে, তখন সেই তরঙ্গকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। এই তরঙ্গ মূলত গভীর সমুদ্রে সৃষ্টি হয় এবং উপকূলে পৌঁছাতে পারে না বলে উপকূলের ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যে এর ভূমিকা প্রায় নগণ্য।

30. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কাকে বলে ?
উত্তর : অগভীর সমুদ্রে সমুদ্রপৃষ্ঠের জলরাশি যখন অনুভূমিকভাবে উপকূলের দিকে প্রবাহিত হয়, তখন তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। উপকূলের কাছাকাছি এসে এই তরঙ্গের উচ্চতা বৃদ্ধি পায় এবং উর্মিভঙ্গ ঘটে। ফলে উপকূলের ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

31. মরুদ্যান কাকে বলে ?
উত্তর : মরু অঞ্চলে বায়ুর অপসারণ প্রক্রিয়ার ফলে যে জলাশয় সৃষ্টি হয় এবং তার চারপাশে সবুজায়নের সমারোহ দেখা যায়, তাকে মরুদ্যান বলা হয়। সাধারণত মরু অঞ্চলের বালিরাশি অপসারণ হলে ধান্দের গভীরতা বৃদ্ধি পায়, যা ভূগর্ভস্থ জলের দ্বারা জলমগ্ন হয় এবং এর চারপাশে কিছু উদ্ভিদ জন্মায়। কৃষিকাজও এ ধরনের অঞ্চলে সম্পন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবের রিয়াধ মরুদ্যানের একটি পরিচিত স্থান।

32. ক্ল্যাপোটিস কাকে বলে ?
উত্তর : প্রত্যাগমনকারী তরঙ্গ ও সম্মুখ তরঙ্গ যখন দুই দিক থেকে এসে মিলিত হয় এবং শব্দসহ তরঙ্গ সৃষ্টি করে, তাকে ক্ল্যাপোটিস বলা হয়। এটি স্থির তরঙ্গ নামে পরিচিত এবং সংঘটিত হওয়ার সময় এটি সশব্দভাবে দেখা যায়।

33. গৌর কাকে বলে ?
উত্তর : মরু অঞ্চলে বায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে যে শিলাস্তূপ সৃষ্টি হয়, তার নিম্নাংশ সংকীর্ণ এবং উচ্চাংশ প্রশস্ত, যার আকৃতি ব্যাঙের ছাতার মতো, তাকে গৌর বলা হয়। গৌরের উচ্চতা সাধারণত ১০–১৫ মিটার হয় এবং এটি সাহারা মরুভূমিতে সহজে দেখা যায়।

34. Blow Out বা ধান্দ কাকে বলে ?
উত্তর : মরু অঞ্চলে বায়ুর অপসারণ প্রক্রিয়ার ফলে বালিরাশি অপসারিত হয়ে যে অবনমিত স্থান বা গর্ত সৃষ্টি হয়, তাকে Blow Out বা ধান্দ বলা হয়। এই ধান্দের আকার মাঝারি বা বৃহৎ হতে পারে এবং যদি ধান্দের গভীরতা বেশি হয়, তবে সেখানে ভৌমজল জমে মরুদ্যানও সৃষ্টি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, রাজস্থানের থর মরুভূমিতে ধান্দ দেখা যায়।

35. ফেচ্ কী ?
উত্তর : উন্মুক্ত সমুদ্রপৃষ্ঠের উপর দিয়ে বায়ু বাঁধাহীনভাবে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকে ফেচ্ বলা হয়। ফেচ সমুদ্রের উন্মুক্ততার পরিমাণ বোঝায় এবং এটি নটিক্যাল মাইলে পরিমাপ করা হয়। ফেচের দূরত্ব যত বেশি, সমুদ্রতরঙ্গের শক্তি ও তীব্রতাও তত বৃদ্ধি পায়।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানুন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 3
Mode : Read-only (Online)

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. ক্লাস 12 ভূতত্ত্ববিদ্যা প্রশ্ন ও উত্তর PDF Click here
2. হারুন সালেমের মাসি গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর Click here
3. ক্লাস 12 জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ PDF Click here
Regards,
WB Semester Team 
📞 & 💬 9883566115


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.