WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

ক্লাস 12 বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া | 3 নম্বরের প্রশ্নোত্তর | Class 12 4th Semester Geography QuestIon Answer

0

Unit : 2 বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া PDF

প্রা(caps)রম্ভিক তথ্য : দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টারে ভূগোল বিষয়ে ৩৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এই ৩৫ নম্বরের মধ্যে ‘প্রাকৃতিক ভূগোলের ধারণা’ অধ্যায় থেকে মোট ১৫ নম্বর প্রশ্ন থাকবে। এই অধ্যায় থেকে দুই নম্বরের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (৪ নম্বর), তিন নম্বরের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (৬ নম্বর) এবং পাঁচ নম্বরের প্রশ্ন দুটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো একটি করতে হবে (৫ নম্বর)। অর্থাৎ মোট ৪ + ৬ + ৫ = ১৫ নম্বর। এই ‘প্রাকৃতিক ভূগোলের ধারণা’ অধ্যায়টি মোট ছয়টি ইউনিটে বিভক্ত। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট হল বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া। এই ইউনিটটি পরীক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা এই 'বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া' ইউনিট থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ৩ নম্বরের প্রশ্ন-উত্তর সহ একটি PDF এখানে প্রদান করেছি। এছাড়াও, আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুসারে অত্যন্ত সহজ ও পরীক্ষামুখীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আপনাদের অনেকটাই সাহায্য করবে। তাই ই-বুক (PDF)টি কিনতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

Class 12 4th Semester Geography QuestIon Answer

🔹 Class 12 Geography 4th Semester  Question Answer

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 3]
1. আরোহণ ও অবরোহণের পার্থক্য লেখো।
উত্তর : ভূমিরূপ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে আরোহণ ও অবরোহণ দুটি বিপরীতধর্মী প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ভূমিভাগের উচ্চতা বৃদ্ধি বা হ্রাস ঘটে।
আরোহণ ও অবরোহণের মূল পার্থক্যসমূহ : 
১. সংজ্ঞাগত পার্থক্য : আরোহণ হলো সেই প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো নিম্নভূমি সঞ্চয়কার্যের ফলে ধীরে ধীরে উচ্চভূমিতে পরিণত হয়। অন্যদিকে, অবরোহণ হলো সেই প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো উচ্চভূমি ক্ষয়কার্যের ফলে নিম্নভূমিতে পরিণত হয়।
২. ভূমির উচ্চতার পরিবর্তন : আরোহণ প্রক্রিয়ায় ভূমিভাগের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, কারণ এখানে ক্ষয়জাত পদার্থ সঞ্চিত হয় এবং অবরোহণ প্রক্রিয়ায় ভূমিভাগের উচ্চতা হ্রাস পায়, কারণ এই প্রক্রিয়ায় শিলাস্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
৩. প্রক্রিয়া ও পর্যায় : নদী, বায়ু ও হিমবাহের মতো প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা আরোহণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হয় এবং এটি সাধারণত অবরোহণের পরে ঘটে। অন্যদিকে, অবরোহণ প্রক্রিয়া আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় ও ক্ষয়ীভবনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং এটি আরোহণের আগে সংঘটিত হয়।

2. ইয়ার্দাং এবং জুগ্যানের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : মরু অঞ্চলে বায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে শিলার অবস্থানভেদে ভিন্ন ভিন্ন ভূমিরূপ গড়ে ওঠে। ইয়ার্দাং ও জুগ্যান এই দুটি ভূমিরূপের গঠন ও বৈশিষ্ট্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়।
ইয়ার্দাং এবং জুগ্যানের মূল পার্থক্য :
১) শিলার অবস্থান অনুযায়ী পার্থক্য : ইয়ার্দাং গঠিত হয় যখন কঠিন ও কোমল শিলা উল্লম্বভাবে অবস্থান করে। অন্যদিকে, জুগ্যান সৃষ্টি হয় যখন কঠিন ও কোমল শিলা অনুভূমিকভাবে অবস্থান করে।
২) আকৃতি ও ঢালের পার্থক্য : ইয়ার্দাং দেখতে মোরগের ঝুটির মতো এবং এর দুই পাশ অসম ঢালযুক্ত হয়। কিন্তু জুগ্যান দেখতে টেবিলের মতো চ্যাপ্টা এবং এর দুই পাশ সমান ঢালযুক্ত।
৩) উচ্চতার পার্থক্য : ইয়ার্দাং-এর উচ্চতা তুলনামূলক কম, গড়ে প্রায় ৭ মিটার। অপরদিকে জুগ্যানের উচ্চতা বেশি, যা সাধারণত ২০-৪০ মিটার পর্যন্ত হয়।
মূল্যায়ন : শিলার অবস্থান, আকৃতি ও উচ্চতার ভিন্নতার জন্য ইয়ার্দাং ও জুগ্যান মরু অঞ্চলের দুটি পৃথক ও স্বতন্ত্র ভূমিরূপ।

3. সম্মুখ তটভূমি ও পশ্চাৎ তটভূমির পার্থক্য লেখো।
উত্তর : উপকূল অঞ্চলে সমুদ্রজলের প্রভাব অনুযায়ী তটভূমিকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন - সম্মুখ তটভূমি ও পশ্চাৎ তটভূমি। এই দুই অংশের অবস্থান ও বিস্তারে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়।
সম্মুখ তটভূমি ও পশ্চাৎ তটভূমির পার্থক্য :
১. অবস্থান ও বিস্তার অনুযায়ী : সম্মুখ তটভূমি তটভূমির সামনের দিকে অবস্থিত এবং এর বিস্তার তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্যদিকে, পশ্চাৎ তটভূমি তটভূমির পিছনের দিকে অবস্থান করে এবং এর বিস্তার কম হয়।
২. জলসীমার সঙ্গে সম্পর্ক : সম্মুখ তটভূমি জোয়ার ও ভাটার জলের প্রভাবে নিয়মিতভাবে পরিবর্তিত হয়।
পশ্চাৎ তটভূমি মূলত জোয়ার জলসীমার উপরে অবস্থিত এবং সমুদ্রজলের প্রভাব এখানে তুলনামূলক কম।
৩. ঊর্ধ্বসীমা ও নিম্নসীমা : সম্মুখ তটভূমির ঊর্ধ্বসীমা হল জোয়ার জলসীমা এবং নিম্নসীমা হলো ভাটার জলসীমা।
পশ্চাৎ তটভূমির ঊর্ধ্বসীমা উপকূলের ভৃগুরেখা এবং নিম্নসীমা জোয়ার জলসীমা দ্বারা নির্ধারিত হয়।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, অবস্থান, বিস্তার এবং জলসীমার প্রভাবের পার্থক্যের জন্যই সম্মুখ তটভূমি ও পশ্চাৎ তটভূমি একে অপরের থেকে পৃথক।

4. মন্থকূপ ও প্রপাতকূপ এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : নদীর ক্ষয়কার্যের ভিন্নতার ফলে নদীপথে মন্থকূপ ও প্রপাতকূপের মতো কূপাকার ভূমিরূপ গঠিত হয়। এই মন্থকূপ ও প্রপাতকূপ এর পার্থক্য হল -
মূল পার্থক্যসমূহ : 
১. সংজ্ঞা : পার্বত্য গতিতে নদীবাহিত নুড়ি, বালি ও প্রস্তরখণ্ডের অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে নদীর তলদেশে যে ক্ষুদ্র বর্তুলাকার গর্ত সৃষ্টি হয়, তাকে মন্থকূপ বলে। আর জলপ্রপাতের বিপুল জলরাশি যে স্থানে পতিত হয়, সেখানে যে বৃহৎ আয়তনবিশিষ্ট গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে প্রপাতকূপ বলে।
২. আয়তন ও গভীরতা : মন্থকূপের আয়তন ও গভীরতা তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু প্রপাতকূপের আয়তন ও গভীরতা তুলনামূলকভাবে বেশি।
৩. ক্ষয়ের প্রকৃতি ও অবস্থান : মন্থকূপে অবঘর্ষ ক্ষয় সক্রিয় থাকে এবং এটি নদীখাতের তলদেশে অবস্থান করে। কিন্তু প্রপাতকূপে বুদবুদ ও জলপ্রবাহজনিত ক্ষয় ক্রিয়াশীল হয় এবং এটি জলপ্রপাতের তলদেশে অবস্থান করে।

5. রিয়া উপকূল ও ফিয়র্ড উপকূলের পার্থক্য লেখো।
উত্তর : সমুদ্রস্তর বৃদ্ধির ফলে উপকূল অঞ্চলের কিছু নদী ও উপত্যকা জলে ডুবে গিয়ে বিশেষ ধরনের উপকূলের সৃষ্টি হয়। রিয়া উপকূল ও ফিয়র্ড উপকূল এই ধরনের নিমজ্জিত উপকূলের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
রিয়া উপকূল ও ফিয়র্ড উপকূলের পার্থক্য :
১. গঠন ও সংজ্ঞা অনুযায়ী : রিয়া উপকূলে পাহাড়ের মাঝের নদী উপত্যকাগুলি উপকূল রেখার সঙ্গে সমকোণে অবস্থান করে এবং সমুদ্রজলে ডুবে ফানেল আকৃতির হয়। অন্যদিকে, ফিয়র্ড উপকূলে হিমবাহের দ্বারা সৃষ্ট ‘U’ আকৃতির উপত্যকা উপকূল রেখার সঙ্গে আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে এবং গভীরভাবে সমুদ্রে নিমজ্জিত থাকে।
২. সৃষ্টিকারী শক্তির প্রকৃতি : রিয়া উপকূল গঠিত হয় নদী দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত উপত্যকা নিমজ্জিত হওয়ার ফলে। কিন্তু ফিয়র্ড উপকূল সৃষ্টি হয় হিমবাহের ক্ষয়কাজে গঠিত উপত্যকা সমুদ্রে ডুবে গেলে।
৩. ঢাল ও প্রকৃতি : রিয়া উপকূল সাধারণত মৃদু ঢালযুক্ত এবং তুলনামূলকভাবে কম গভীর হয়। কিন্তু ফিয়র্ড উপকূল অত্যন্ত খাড়া ঢালবিশিষ্ট ও গভীর প্রকৃতির হয়।
মূল্যায়ন : সুতরাং বলা যায়, উৎপত্তির কারণ, গঠনের ধরন ও ঢালের প্রকৃতির পার্থক্যের জন্যই রিয়া উপকূল ও ফিয়র্ড উপকূল একে অপরের থেকে স্পষ্টভাবে ভিন্ন।

6. সোয়াশ ও ব্যাকওয়াশ-এর পার্থক্য লেখো।
উত্তর : সমুদ্রের তরঙ্গ উপকূলে আছড়ে পড়লে জল দুইভাবে চলাচল করে। এই আগমন ও প্রত্যাগমন প্রক্রিয়াকেই সোয়াশ ও ব্যাকওয়াশ বলা হয়।
সোয়াশ ও ব্যাকওয়াশ এর পার্থক্য :
১. চলাচলের ধরন অনুযায়ী : সোয়াশ হলো সমুদ্রের জলরাশি উপকূলের দিকে এগিয়ে এসে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, ব্যাকওয়াশ হলো সেই জল উপকূলের ঢাল বরাবর আবার সমুদ্রে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া।
২. পর্যায় ও নির্ভরতা : সোয়াশ প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটে এবং এটি সমুদ্রের বিস্তার ও বায়ুপ্রবাহের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু ব্যাকওয়াশ সোয়াশের পরবর্তী পর্যায়ে ঘটে এবং এটি সোয়াশের শক্তি ও উপকূলের ঢালের উপর নির্ভর করে।
৩. প্রভাব ও কার্যকারিতা : সোয়াশ শক্তিশালী হলে উপকূলে সঞ্চয় কাজ বেশি হয়। কিন্তু ব্যাকওয়াশ শক্তিশালী হলে উপকূলে ক্ষয় কাজের প্রাধান্য দেখা যায়।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, চলাচলের দিক, ঘটনার পর্যায় ও উপকূলের উপর প্রভাবের পার্থক্যের জন্যই সোয়াশ ও ব্যাকওয়াশ একে অপরের থেকে ভিন্ন।

7. গিরিখাত ও ক্যানিয়ন এর মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : নদীর ক্ষয়কার্যের প্রকৃতি, জলবায়ু ও ভূমির ঢালের তারতম্যের ফলে গিরিখাত ও ক্যানিয়নের মতো ভিন্ন ভিন্ন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়।
গিরিখাত ও ক্যানিয়ন এর মূল পার্থক্যসমূহ : 
১. সংজ্ঞা ও ক্ষয়ের প্রকৃতি : গিরিখাত আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত হয়, যেখানে নিম্নক্ষয়ের তুলনায় পার্শ্বক্ষয় বেশি কার্যকর হওয়ায় উপত্যকাটি গভীর ও প্রশস্ত হয়ে ওঠে। আর ক্যানিয়ন শুষ্ক পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্টি হয়, যেখানে পার্শ্বক্ষয়ের তুলনায় নিম্নক্ষয় বেশি হওয়ায় উপত্যকাটি অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ হয়।
২. গভীরতা : গিরিখাতের গভীরতা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এর পার্শ্বভাগ প্রশস্ত দেখা যায়। আর ক্যানিয়নের গভীরতা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় এর পার্শ্বভাগ খাড়া ও সংকীর্ণ হয়।
৩. আকৃতি ও জলবায়ু : গিরিখাত সাধারণত ‘V’ আকৃতির হয় এবং এটি আর্দ্র জলবায়ু অঞ্চলে গঠিত হয়। আর ক্যানিয়ন সাধারণত ‘I’ আকৃতির হয় এবং এটি শুষ্ক জলবায়ু অঞ্চলে দেখা যায়।

8. উত্থিত উপকূল ও নিমজ্জিত উপকূলের পার্থক্য লেখো।
উত্তর : ভূ-আন্দোলনের প্রভাবে উপকূল অঞ্চলে কখনও ভূমি উপরে উঠে আসে, আবার কখনও নীচে নেমে যায়। এর ফলেই উত্থিত উপকূল ও নিমজ্জিত উপকূলের সৃষ্টি হয়।
উত্থিত উপকূল ও নিমজ্জিত উপকূলের পার্থক্য :
১. সৃষ্টির ধরন অনুযায়ী : উত্থিত উপকূল ভূ-আন্দোলনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরে উঠে গঠিত হয়। অন্যদিকে, নিমজ্জিত উপকূল ভূ-আন্দোলনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের নীচে নেমে গিয়ে গঠিত হয়।
২. উচ্চতা ও ঢালের প্রকৃতি : উত্থিত উপকূল সাধারণত তুলনামূলকভাবে উঁচু এবং মৃদু ঢালবিশিষ্ট হয়। অন্যদিকে, নিমজ্জিত উপকূল অপেক্ষাকৃত নিচু এবং খাড়া ঢালযুক্ত হয়ে থাকে।
৩. প্রধান ভূ-কার্য : উত্থিত উপকূলে ক্ষয়কার্য বেশি সক্রিয় থাকে। অন্যদিকে, নিমজ্জিত উপকূলে সঞ্চয় কাজের প্রাধান্য বেশি দেখা যায়।
মূল্যায়ন : সুতরাং বলা যায়, ভূ-আন্দোলনের প্রভাব, উচ্চতা, ঢাল এবং কার্যকারিতার পার্থক্যের জন্যই উত্থিত উপকূল ও নিমজ্জিত উপকূল একে অপরের থেকে ভিন্ন।

9. বার্খান বালিয়াড়ি এবং সিফ বালিয়াড়ির পার্থক্য লেখো।
উত্তর : মরু অঞ্চলে বায়ুর গতিবিধির তারতম্যের ফলে বিভিন্ন ধরনের বালিয়াড়ি গড়ে ওঠে। বার্খান ও সিফ বালিয়াড়ি এই দুটি বালিয়াড়ির গঠন, আকৃতি ও প্রকৃতিতে স্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
বার্খান বালিয়াড়ি এবং সিফ বালিয়াড়ির মূল পার্থক্য :
১) বায়ুর দিকের সঙ্গে অবস্থানগত পার্থক্য : বার্খান বালিয়াড়ি বায়ুর গতির সঙ্গে আড়াআড়ি বা তির্যকভাবে গঠিত হয়। অন্যদিকে সিফ বালিয়াড়ি বায়ুর গতির সঙ্গে সমান্তরালভাবে সৃষ্টি হয়।
২) আকৃতি ও বিস্তারের পার্থক্য : বার্খান বালিয়াড়ি অর্ধচন্দ্রাকার হয়। কিন্তু সিফ বালিয়াড়ি সুদীর্ঘ, সংকীর্ণ ও তলোয়ারের মতো আকৃতির হয়।
৩) উচ্চতা ও প্রকৃতির পার্থক্য : বার্খান বালিয়াড়ির উচ্চতা কম (প্রায় ২-৫ মিটার) এবং এটি অস্থায়ী ও চলনশীল প্রকৃতির। অপরদিকে সিফ বালিয়াড়ির উচ্চতা বেশি (কয়েকশো মিটার পর্যন্ত) এবং এটি তুলনামূলকভাবে স্থায়ী প্রকৃতির।
মূল্যায়ন : বায়ুর দিক, আকৃতি ও স্থায়িত্বের ভিন্নতার জন্য বার্খান ও সিফ বালিয়াড়ি মরু অঞ্চলের দুটি ভিন্ন ধরনের বালিয়াড়ি।

10. সমুদ্রতরঙ্গ ও সমুদ্রস্রোতের পার্থক্য লেখো।
উত্তর : সমুদ্রে জল বিভিন্নভাবে চলাচল করে। এই চলাচলের ধরন অনুযায়ী সমুদ্রের জলকে প্রধানত তরঙ্গ ও স্রোত এই দুই রূপে দেখা যায়।
সমুদ্রতরঙ্গ ও সমুদ্রস্রোতের পার্থক্য :
১. প্রবাহের ধরন অনুযায়ী : সমুদ্রতরঙ্গ হল সমুদ্রজলের উলম্ব চলাচল, যেখানে জল উপরে-নিচে ওঠানামা করে। অন্যদিকে, সমুদ্রস্রোত হল সমুদ্রজলের অনুভূমিক প্রবাহ, যেখানে জল একদিকে ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হয়।
২. প্রবাহের দিক ও নিয়ন্ত্রক শক্তি : সমুদ্রতরঙ্গ সাধারণত উপকূলের সঙ্গে সমকোণে প্রবাহিত হয় এবং বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রের বিস্তারের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু সমুদ্রস্রোত উপকূলের সঙ্গে সমান্তরালে প্রবাহিত হয় এবং নিয়তবায়ু, সমুদ্রজলের উষ্ণতা ও লবণতার পার্থক্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়।
৩. প্রভাব ও গুরুত্ব : সমুদ্রতরঙ্গ উপকূল অঞ্চলে ক্ষয় ও সঞ্চয় কার্যকে প্রভাবিত করে। কিন্তু সমুদ্রস্রোত উপকূলবর্তী অঞ্চলের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মূল্যায়ন  : অতএব বলা যায়, প্রবাহের দিক, নিয়ন্ত্রক কারণ ও প্রভাবের পার্থক্যের জন্যই সমুদ্রতরঙ্গ ও সমুদ্রস্রোত একে অপরের থেকে পৃথক।

11. ব-দ্বীপের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো।
উত্তর : নদীর নিম্নগতিতে নদীবাহিত পলি, বালি ও কাদা প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে যে মাত্রাহীন ‘△’ আকৃতির দ্বীপ গঠিত হয়, তাকে ব-দ্বীপ বলে। ব-দ্বীপ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যেমন :
ব-দ্বীপের শ্রেণিবিভাগ : 
১. অবস্থান অনুসারে ব-দ্বীপের শ্রেণিবিভাগ : অবস্থানের ভিত্তিতে ব-দ্বীপকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। নদী ব-দ্বীপ উপনদী মূল নদীর সঙ্গে মিলিত হলে গঠিত হয়। হ্রদ ব-দ্বীপ তখনই সৃষ্টি হয়, যখন নদী কোনো স্থির হ্রদে পতিত হয়। সমুদ্র ব-দ্বীপ নদী সমুদ্রে পতিত হলে মোহনায় পলি জমে গঠিত হয়।
২. আকৃতি ও গঠন প্রকৃতি অনুসারে ব-দ্বীপের শ্রেণিবিভাগ : এই ভিত্তিতে ব-দ্বীপের নানা রূপ দেখা যায়। ধনুকাকৃতি ব-দ্বীপ ধনুক বা বাঁকা ফলার মতো আকৃতির, যেমন গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপ। পাখির পায়ের মতো ব-দ্বীপে বহু শাখানদী থাকে এবং পাখির পায়ের মতো ছড়ানো আকৃতি দেখা যায়, যেমন মিসিসিপি নদীর বদ্বীপ। কাসপেট বা তীক্ষ্ণাগ্র ব-দ্বীপ ত্রিকোণাকার এবং দুই পাশে সমানভাবে পলি জমে গঠিত হয়, যেমন টাইবার নদীর ব-দ্বীপ। এছাড়া মোহনা বদ্বীপ জোয়ার-ভাটার প্রভাবে গঠিত হয় এবং সামুদ্রিক বদ্বীপ সমুদ্রের শান্ত অঞ্চলে সৃষ্টি হয়, যেমন বঙ্গোপসাগর অঞ্চল।
৩. গঠনকাল বা কার্যকারিতা অনুযায়ী ব-দ্বীপের শ্রেণিবিভাগ : গঠনকাল ও কার্যকারিতার ভিত্তিতে ব-দ্বীপ তিন প্রকার। সক্রিয় বদ্বীপে এখনও পলি জমা হচ্ছে এবং নদী ও সমুদ্রের প্রভাব সক্রিয় থাকে। আর পরিণত বদ্বীপে পলি জমা প্রায় শেষ হয়ে যায়, ভূমি শক্ত হয় ও জলাভূমি কমে আসে। মৃতপ্রায় বদ্বীপে পলি জমা বন্ধ হয়ে যায়, নদী বিচ্ছিন্ন হয় এবং জলাভূমি ও ঝিলের আধিক্য দেখা যায়।

12. ব-দ্বীপ সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ আলোচনা করো।
উত্তর : নদীর নিম্নগতিতে অর্থাৎ মোহনা অঞ্চলে নদীবাহিত পলি, বালি ও কাদা সঞ্চিত হয়ে যে মাত্রাহীন ‘ব’ আকৃতির দ্বীপ গঠিত হয়, তাকে ব-দ্বীপ বলে।
ব-দ্বীপ সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ :
১. নদীতে পলির অধিক্য : নদীর মোহনা অঞ্চলে যদি প্রচুর পরিমাণে পলি, বালি ও কাদার জোগান থাকে, তবে নদীর তলদেশে সেগুলি দ্রুত জমা হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে ব-দ্বীপ গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
২. নদীস্রোতের বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ : নদীর প্রবাহের বিপরীত দিক থেকে আগত তীব্র বায়ু নদীর জলের বেগ কমিয়ে দেয়। এর ফলে নদীবাহিত পলি, বালি ও কাদা মোহনা অঞ্চলে সঞ্চিত হয়ে ব-দ্বীপ সৃষ্টি করে।
৩. অগভীর ও শান্ত সমুদ্র পরিবেশ : নদীর মোহনার কাছে সমুদ্রের মহীসোপান অঞ্চল যদি অগভীর হয়, তবে সেখানে পলিরাশি দ্রুত ভরাট হয়। পাশাপাশি জোয়ার-ভাটার প্রভাব কম এবং সমুদ্র শান্ত থাকলে পলি অপসারিত না হয়ে ব-দ্বীপ গঠনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায় যে, নদীর নিম্নগতিতে পর্যাপ্ত পলির জোগান, নদীস্রোতের বেগ হ্রাসকারী প্রতিকূল বায়ুপ্রবাহ এবং মোহনা অঞ্চলে অগভীর ও শান্ত সমুদ্র পরিবেশ এই সব অনুকূল শর্ত একত্রে উপস্থিত থাকলেই ব-দ্বীপ সৃষ্টির উপযোগী পরিবেশ গড়ে ওঠে।

13. বিভিন্ন প্রকার প্রবাল প্রাচীর সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর : উষ্ণ ও অগভীর সমুদ্রজলে প্রবাল কীটের দেহাবশেষ জমে বিভিন্ন ধরনের প্রবাল প্রাচীর গঠিত হয়। 
বিভিন্ন প্রকার প্রবাল প্রাচীর : উৎপত্তি ও প্রকৃতি অনুসারে প্রবাল প্রাচীরকে ৩টি ভাগে ভাগ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন -
১. প্রান্তদেশীয় প্রবাল প্রাচীর : উপকূলের খুব কাছাকাছি বা কোনো দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জের চারদিকে যে সরু ও ছোট আকৃতির প্রবাল প্রাচীর তৈরি হয়, তাকে প্রান্তদেশীয় প্রবাল প্রাচীর বলা হয়। এটি সাধারণত উপকূলের সঙ্গে প্রায় সমান্তরালভাবে অবস্থান করে এবং আকারে ছোট হয়। যেমন - ভারতের আন্দামান ও লাক্ষাদ্বীপ।
২. প্রতিবন্ধক প্রবাল প্রাচীর (ব্যারিয়ার রিফ) : উপকূল থেকে কিছুটা দূরে, উপকূলের সঙ্গে প্রায় সমান্তরালভাবে বিস্তৃত বৃহৎ ও উঁচু প্রবাল প্রাচীরকে প্রতিবন্ধক প্রবাল প্রাচীর বলা হয়। এই ধরনের প্রবাল প্রাচীর উপকূল থেকে উপহ্রদ দ্বারা পৃথক থাকে এবং আকারে অনেক বড় হয়। যেমন - অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ।
৩. অ্যাটল : উপকূল থেকে অনেক দূরে কোনো দ্বীপ বা দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার আকৃতিতে যে সংকীর্ণ প্রবাল প্রাচীর গঠিত হয়, তাকে অ্যাটল বলা হয়। এর উচ্চতা কম এবং এটি সমুদ্রের গভীরে অবস্থিত থাকে। যেমন - প্রশান্ত মহাসাগরের ফিজি অ্যাটল।

14. জলপ্রপাতের শ্রেণিবিভাগ করো।
উত্তর : পর্বত, পাহাড় বা মালভূমির উঁচু অংশ থেকে নদীর জল যখন হঠাৎ করে নীচে পড়ে, তখন যে দৃশ্যমান প্রাকৃতিক জলধারা সৃষ্টি হয়, তাকে জলপ্রপাত বলা হয়।
জলপ্রপাতের শ্রেণিবিভাগ : জলের প্রবাহের ধরন অনুযায়ী জলপ্রপাতকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১. ক্যাটারাক্ট : যখন পর্বতের উচ্চ স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ জল একসঙ্গে খুব জোরে সোজা নীচে গভীর খাদে পড়ে, তখন সেই জলপ্রপাতকে ক্যাটারাক্ট বলা হয়। যেমন - ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত।
২. র‍্যাপিডস : যে জলপ্রপাত আকারে ছোট এবং দৈর্ঘ্যে কম, তাকে র‍্যাপিডস বলা হয়। সাধারণত এই ধরনের জলপ্রপাত খুব বেশি উঁচু হয় না। যেমন - কঙ্গো নদীর র‍্যাপিডস।
৩. কাসকেড : কোনো উঁচু ভূমি থেকে জল ধাপে ধাপে নীচে নামলে তাকে কাসকেড বলা হয়। এখানে জল একবারে না পড়ে পর্যায়ক্রমে নেমে আসে। যেমন - রাঁচির পোনহা জলপ্রপাত।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, জলের পতনের ধরন ও প্রবাহের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করেই জলপ্রপাতকে এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।

15. জলপ্রপাত সৃষ্টির কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর : পর্বত, পাহাড় বা মালভূমির উঁচু অংশ দিয়ে নদীর জল প্রবাহিত হওয়ার সময় হঠাৎ করে জল যদি সোজা নীচে পড়ে, তবে সেই জলধারাকে জলপ্রপাত বলা হয়।
জলপ্রপাত সৃষ্টির কারণগুলি :
১. শিলাস্তরের প্রকৃতি ও বিন্যাস : নদীর পথে যদি কঠিন ও কোমল শিলা পাশাপাশি থাকে, তবে নদীর জল প্রথমে কোমল শিলাকে বেশি ক্ষয় করে। এর ফলে সেই অংশ নিচু হয়ে যায় এবং উপরের কঠিন শিলাস্তর থেকে জল সোজা নীচে পড়ে জলপ্রপাত গঠিত হয়। যেমন - নায়াগ্রা জলপ্রপাত।
২. চ্যুতি : নদীর গতিপথে আড়াআড়িভাবে চ্যুতি সৃষ্টি হলে ভূমির এক অংশ উঁচু এবং অন্য অংশ নিচু হয়ে যায়। এই উচ্চ অংশ থেকে নদীর জল হঠাৎ নীচে পড়ে জলপ্রপাত তৈরি করে। যেমন - ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত।
৩. ঝুলন্ত উপত্যকা : হিমবাহের দ্বারা গঠিত ঝুলন্ত উপত্যকার উপর দিয়ে নদী প্রবাহিত হলে সেই নদীর জল হঠাৎ করে প্রধান উপত্যকার উপর থেকে নীচে পড়ে জলপ্রপাত সৃষ্টি করে। যেমন - আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রোসেমিতি জলপ্রপাত।
মূল্যায়ন : সুতরাং বলা যায়, শিলাস্তরের ভিন্নতা, চ্যুতিজনিত ভূমি পরিবর্তন এবং ঝুলন্ত উপত্যকার উপস্থিতি এই কারণগুলির ফলেই বিভিন্ন স্থানে জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়।

16. বিনাশকারী তরঙ্গ ও গঠনকারী তরঙ্গের পার্থক্য লেখো।
উত্তর : সমুদ্রের তরঙ্গ উপকূলে পৌঁছে ভিন্ন ভিন্ন কাজ করে। তরঙ্গের শক্তি ও প্রকৃতির উপর নির্ভর করে কোনোটি উপকূল ভাঙে, আবার কোনোটি উপকূল গঠনে সাহায্য করে।
বিনাশকারী তরঙ্গ ও গঠনকারী তরঙ্গের পার্থক্য :
১. কার্যকারিতা অনুযায়ী : বিনাশকারী তরঙ্গ উপকূলের শিলা ও বালুকাকে ক্ষয় করে উপকূল ভাঙার কাজ করে। অন্যদিকে, গঠনকারী তরঙ্গ উপকূলে বালি ও অন্যান্য পদার্থ জমা করে উপকূল গঠনে সহায়তা করে।
২. উপকূলের প্রভাব ও প্রকৃতি : বিনাশকারী তরঙ্গের প্রভাবে উপকূল সংকীর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু গঠনকারী তরঙ্গের ফলে উপকূল ক্রমে প্রশস্ত আকার ধারণ করে।
৩. তরঙ্গের শক্তি ও ঢাল : বিনাশকারী তরঙ্গে ব্যাকওয়াশের শক্তি সোয়াশের তুলনায় বেশি হওয়ায় উপকূলের ঢাল খাড়া হয়। কিন্তু গঠনকারী তরঙ্গে সোয়াশ তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় উপকূলের ঢাল মৃদু থাকে।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, তরঙ্গের শক্তি, কাজের ধরন ও উপকূলের ঢালের পার্থক্যের জন্যই বিনাশকারী তরঙ্গ ও গঠনকারী তরঙ্গ একে অপরের থেকে ভিন্ন।

17. প্রবাল প্রাচীর সৃষ্টির শর্ত লেখো।
উত্তর : ক্রান্তীয় অঞ্চলের উষ্ণ সমুদ্রের অগভীর অংশে প্রবাল কীটের দেহাবশেষ দীর্ঘদিন ধরে জমতে জমতে যে প্রাচীরের মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়, তাকে প্রবাল প্রাচীর বলা হয়।
প্রবাল প্রাচীর সৃষ্টির শর্ত :
১. সমুদ্রজলের উপযুক্ত উষ্ণতা : প্রবাল কীটের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য সমুদ্রজলের উষ্ণতা প্রায় ২০°-২১° সেলসিয়াস হওয়া প্রয়োজন।
২. অগভীর সমুদ্রজল : প্রবাল জন্মানোর জন্য সমুদ্রের জল খুব গভীর হওয়া চলবে না। সাধারণত প্রায় ৬০-৭০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত সূর্যালোক পৌঁছায়, যা প্রবালের বৃদ্ধিতে সহায়ক।
৩. পলিমুক্ত ও স্বচ্ছ জল : সমুদ্রজলে যদি বেশি পলি থাকে, তবে তা প্রবাল কীটের মুখে জমে অক্সিজেন গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। তাই প্রবাল প্রাচীর গঠনের জন্য স্বচ্ছ ও পলিমুক্ত জল দরকার।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, উষ্ণ সমুদ্রজল, অগভীরতা এবং পলিমুক্ত স্বচ্ছ পরিবেশ এই তিনটি শর্ত একসঙ্গে থাকলেই প্রবাল প্রাচীর সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

18. নদীর ক্ষয়কার্যের প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি আলোচনা করো।
উত্তর : নদী তার উচ্চ গতির জলপ্রবাহের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় নদীপথের শিলা ও ভূমিকে ক্ষয় করে। এই ক্ষয়কার্যের মাধ্যমেই নদী নানা ধরনের ভূমিরূপ গঠন করে।
নদীর ক্ষয়কার্যের প্রক্রিয়া / পদ্ধতি :
১. জলস্রোতের প্রত্যক্ষ আঘাতজনিত ক্ষয় : নদীর প্রবল স্রোত সরাসরি নদীর তলদেশ ও দুই পাশের কোমল শিলার উপর আঘাত করে। এর ফলে শিলাস্তর ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
২. নদীবাহিত কণার আঘাতজনিত ক্ষয় : নদীর সঙ্গে ভেসে আসা নুড়ি, বালি ও প্রস্তরখণ্ড নদীর তলদেশ ও পার্শ্বদেশে আঘাত করে গর্ত ও অসমতল ভূমির সৃষ্টি করে। এতে ক্ষয়কার্য আরও দ্রুত হয়।
৩. পারস্পরিক সংঘর্ষজনিত ক্ষয় : নদীর সঙ্গে বহন হওয়া নুড়ি ও পাথর পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে ভেঙে ছোটো ছোটো কণায় পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াতেও নদীর ক্ষয়কার্য ঘটে।
৪. দ্রবণ ও বুদবুদজনিত ক্ষয় : নদীর জলে চুনাপাথর, ডলোমাইট, জিপসামের মতো দ্রবণীয় শিলা দ্রবীভূত হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। পাশাপাশি নদীর স্রোতে সৃষ্টি হওয়া বুদবুদের ভেতরের বায়ুচাপ শিলাস্তরের উপর ফেটে পড়ে শিলাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায় নদীর জলপ্রবাহ, নদীবাহিত কণার আঘাত, পারস্পরিক সংঘর্ষ এবং দ্রবণ ও বুদবুদের প্রভাব ইত্যাদি এই সব প্রক্রিয়ার সম্মিলিত ফলেই নদীর ক্ষয়কার্য সম্পন্ন হয়।

19. মরু সম্প্রসারণের প্রধান কারণ লেখো।
উত্তর : বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে যখন মরুভূমির এলাকা ধীরে ধীরে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাকে মরু সম্প্রসারণ বলা হয়।
মরু সম্প্রসারণের প্রধান কারণ :
১. জলবায়ু পরিবর্তন ও বৃষ্টির অভাব : বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত বা কম বৃষ্টিপাতের ফলে মাটিতে আর্দ্রতা কমে যায়। এর ফলে ভূমি ধীরে ধীরে শুষ্ক হয়ে মরু অঞ্চলে পরিণত হয়।
২. বন উজাড় ও ভূমির অপব্যবহার : নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অতিরিক্ত কৃষিকাজের জন্য বনভূমি ধ্বংস হলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারে ভূমি আরও অনুর্বর হয়ে পড়ে।
৩. অতিরিক্ত পশুচারণ ও ভূগর্ভস্থ জলের অতিব্যবহার : অতিরিক্ত পশুচারণে ঘাস ও গাছপালা নষ্ট হয় এবং ভূমিক্ষয় বাড়ে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলনের ফলে মাটিতে লবণতা বৃদ্ধি পায়, যা মরুকরণকে ত্বরান্বিত করে।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, জলবায়ুগত পরিবর্তন, বন ধ্বংস এবং ভূমি ও জলের অপব্যবহার এই সব কারণের সম্মিলিত ফলেই মরু সম্প্রসারণ ঘটে।

20. মরু সম্প্রসারণ বা মরুকরণ প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণের উপায় কী?
উত্তর : ভারতের রাজস্থানের মরু অঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ০.৮৬% ভূমি ধীরে ধীরে মরুকরণের শিকার হচ্ছে। তাই মরু সম্প্রসারণ রোধ করা আজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
মরুকরণ প্রতিরোধের প্রধান উপায় : 
১. বৃক্ষরোপণ ও পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ : বালিয়াড়ির বিস্তার ঠেকাতে মরু অঞ্চলে বালিয়াড়ির উপর ও আশপাশে ক্ষয়রোধী গাছ লাগানো দরকার। পাশাপাশি অতিরিক্ত পশুচারণ বন্ধ করতে হবে, কারণ পশুর চলাচলে আলগা মাটি আরও বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
২. ভূমিক্ষয় ও বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ : মরু অঞ্চলে প্রবল বায়ুপ্রবাহ ভূমিক্ষয় বাড়ায়। তাই বায়ুরোধক দেওয়াল বা প্রতিবন্ধক তৈরি করে বায়ুর গতি কমালে ভূমিক্ষয় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
৩. বৈজ্ঞানিক কৃষিকাজ ও জলব্যবস্থাপনা : অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। খরা সহনশীল মিলেট জাতীয় ফসল চাষ এবং পরিকল্পিত জলসেচ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে জমির উর্বরতা রক্ষা করা যায়।
মূল্যায়ন : উপযুক্ত বৃক্ষরোপণ, পশুচারণ ও ভূমিক্ষয় নিয়ন্ত্রণ এবং বৈজ্ঞানিক কৃষি ও জলব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মরু সম্প্রসারণ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

21. স্ট্যাক ও স্ট্যাম্প এর পার্থক্য লেখো।
উত্তর : সমুদ্রের তরঙ্গের দীর্ঘদিনের ক্ষয়কার্যের ফলে উপকূল অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের শিলাময় ভূমিরূপ গঠিত হয়। স্ট্যাক ও স্ট্যাম্প এই ধরনের ক্ষয়জাত ভূমিরূপের উদাহরণ।
স্ট্যাক ও স্ট্যাম্প-এর পার্থক্য :
১. গঠন ও উৎপত্তি অনুযায়ী : স্ট্যাক হলো সামুদ্রিক খিলান ভেঙে যাওয়ার পর অবশিষ্ট থাকা স্তম্ভের মতো উঁচু শিলা। অন্যদিকে, স্ট্যাম্প হলো স্ট্যাক আরও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যে নীচু অবশিষ্ট শিলাখণ্ড থাকে।
২. উচ্চতা ও অবস্থান : স্ট্যাক সাধারণত বেশি উঁচু হয় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। কিন্তু স্ট্যাম্পের উচ্চতা কম এবং এটি প্রায়ই সমুদ্রের জলতলের নীচে অবস্থান করে।
৩. আকারের পার্থক্য : স্ট্যাক আকারে তুলনামূলকভাবে বড় ও দৃশ্যমান। কিন্তু স্ট্যাম্প আকারে ছোট এবং তুলনামূলকভাবে কম স্পষ্ট।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, উৎপত্তি, উচ্চতা ও আকারের ভিন্নতার জন্যই স্ট্যাক ও স্ট্যাম্প একে অপরের থেকে পৃথক।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানুন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. ক্লাস 12 ভূতত্ত্ববিদ্যা প্রশ্ন ও উত্তর PDF Click here
2. ক্লাস 12 বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া প্রশ্ন উত্তর Click here
3. ক্লাস 12 জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ PDF Click here
Regards,
WB Semester Team 
📞 & 💬 9883566115


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.