WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

ক্লাস 12 বারিমন্ডল প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 12 ভূগোল বারিমন্ডল প্রশ্ন উত্তর | দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিষ্টার ভূগোল প্রশ্ন ও উত্তর

0

Unit : 5 বারিমন্ডল PDF

ভূ(caps)মিকা : দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টারে ভূগোল বিষয়ে 35 নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এই 35 নম্বরের মধ্যে ‘প্রাকৃতিক ভূগোলের ধারণা’ অধ্যায় থেকে মোট 15 নম্বর প্রশ্ন থাকবে। এই অধ্যায় থেকে দুই নম্বরের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (4 নম্বর), তিন নম্বরের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (6 নম্বর) এবং পাঁচ নম্বরের প্রশ্ন দুটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো একটি করতে হবে (5 নম্বর)। অর্থাৎ মোট 4 + 6 + 5 = 15 নম্বর। এই ‘প্রাকৃতিক ভূগোলের ধারণা’ অধ্যায়টি মোট ছয়টি ইউনিটে বিভক্ত। এর মধ্যে পঞ্চম ইউনিট হল 'বারিমন্ডল'। এই ইউনিটটি পরীক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা এই 'বারিমন্ডল' ইউনিট থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ 2 নম্বর মানের, 3 নম্বর মানের এবং 5 নম্বর মানের প্রশ্ন-উত্তর সহ একটি PDF এখানে প্রদান করেছি। এছাড়াও আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এখন থেকে অনেক প্রশ্ন পরীক্ষায় কমন পাবেন। এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুসারে অত্যন্ত সহজ ও পরীক্ষামুখীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আপনাদের অনেকটাই সাহায্য করবে। তাই ই-বুক (PDF)টি কিনতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

ক্লাস 12 ভূগোল বারিমন্ডল প্রশ্ন উত্তর

🔹 Class 12 4th Semester  QuestIon Answer

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 2]
1. সমুদ্রস্রোত কাকে বলে ? 
উত্তর : সমুদ্রের জলে উষ্ণতা, লবণাক্ততা ও ঘনত্বে পার্থক্য হলে সেই জল এক দিক থেকে অন্য দিকে অনুভূমিকভাবে প্রবাহিত হয়। এইভাবে চলমান জলপ্রবাহকেই সমুদ্রস্রোত বলা হয়।
সমুদ্রস্রোতের বৈশিষ্ট্য :
i. সমুদ্রস্রোত কখনো সমুদ্রের উপরিভাগে আবার কখনো গভীর স্তরে প্রবাহিত হতে পারে।
ii. এই স্রোত অনেক সময় উপকূল বরাবর চলে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ুর ওপর প্রভাব ফেলে।

2. শৈবাল সাগর কাকে বলে ?
উত্তর : সমুদ্রের যে অংশে স্রোতের গতি খুব কম বা প্রায় নেই, সেখানে প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক শৈবাল বা শ্যাওলা জন্মায়। এই কারণে ওই ধরনের সমুদ্রাঞ্চলকে শৈবাল সাগর বলা হয়। যেমন - উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে শৈবাল সাগরের একটি পরিচিত উদাহরণ পাওয়া যায়।
শৈবাল সাগরের বৈশিষ্ট্য : 
i. এখানে স্রোতহীন বা খুব ধীরগতির জলাবর্ত থাকায় শৈবাল সহজে ও বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।
ii. আয়নবায়ু ও পশ্চিমা বায়ুর মিলনস্থলে অবস্থানের ফলে এই অঞ্চলে বায়ু শান্ত থাকে।

3. হিমপ্রাচীর কাকে বলে ? 
উত্তর : মেরু অঞ্চল থেকে আগত শীতল স্রোত এবং নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে আগত উষ্ণ স্রোত সমুদ্রে যে কাল্পনিক রেখা বরাবর মিলিত হয়, সেই মিলনরেখাকেই হিমপ্রাচীর বলা হয়। যেমন - উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে হিমপ্রাচীরের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ দেখা যায়।
হিমপ্রাচীরের বৈশিষ্ট্য : 
i. উষ্ণ ও শীতল স্রোতের ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে হিমপ্রাচীর সৃষ্টি হয়।
ii. হিমপ্রাচীর গঠিত হলে ওই অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও ঝড়ের প্রবণতা দেখা যায়।

4. মগ্নচড়া কী ? 
উত্তর : মেরু অঞ্চল থেকে আসা শীতল স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে গলে যায়। হিমশৈল গলে গেলে তার সঙ্গে থাকা নুড়ি, বালি ও পাথরের টুকরো সমুদ্রের তলদেশে জমা হয়। এইভাবে সমুদ্রের নিচে যে নিমজ্জিত চড়া বা উঁচু অংশ তৈরি হয়, তাকে মগ্নচড়া বলা হয়। যেমন - আটলান্টিক মহাসাগরের গ্র্যান্ড ব্যাংক একটি সুপরিচিত মগ্নচড়া।
মগ্নচড়ার বৈশিষ্ট্য :
i. হিমশৈল গলে যাওয়ার ফলে জমা হওয়া নুড়ি, বালি ও পাথর থেকেই মগ্নচড়া সৃষ্টি হয়।
ii. এই অঞ্চলে প্ল্যাঙ্কটনের পরিমাণ বেশি থাকায় গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যক্ষেত্র গড়ে ওঠে।

5. জায়র বা কুণ্ডলী কাকে বলে ?
উত্তর : উপক্রান্তীয় সমুদ্র অঞ্চলে পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে সৃষ্টি হওয়া কোরিওলিস শক্তির প্রভাবে বিভিন্ন সমুদ্রস্রোত বাঁক নিয়ে একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়। এর ফলে যে চক্রাকার জলআবর্ত গঠিত হয়, তাকে জায়র বা কুণ্ডলী বলা হয়। যেমন  - আটলান্টিক মহাসাগরের লক্ষ্য করা যায়।
জায়র বা কুণ্ডলীর বৈশিষ্ট্য :
i. জায়র সাধারণত ধীরগতির এবং প্রায় স্রোতহীন জলপ্রবাহ দ্বারা গঠিত হয়।
ii. এই ধরনের অঞ্চলে শৈবালের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়।

6. পৃষ্ঠস্রোত বা বহিঃস্রোত কাকে বলে ?
উত্তর : যে সমুদ্রস্রোতের ঘনত্ব কম এবং যা সমুদ্রের তলের উপরের অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে পৃষ্ঠস্রোত বা বহিঃস্রোত বলা হয়। যেমন - উপসাগরীয় স্রোত একটি পরিচিত পৃষ্ঠস্রোত।
পৃষ্ঠস্রোত বা বহিঃস্রোতের বৈশিষ্ট্য :
i. প্রধানত বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে এই ধরনের পৃষ্ঠ সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়।
ii. এই স্রোত হালকা প্রকৃতির এবং সাধারণত উষ্ণ স্বভাবের হয়।

7. অন্তঃস্রোত কাকে বলে ?
উত্তর : সমুদ্রের গভীর স্তর দিয়ে, সাধারণত প্রায় ২০০ মিটার থেকে ১০০০ মিটার গভীরতার মধ্যে যে সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয়, তাকে অন্তঃস্রোত বলা হয়। উদাহরণ: ল্যাব্রাডর স্রোত একটি পরিচিত অন্তঃস্রোত।
অন্তঃস্রোতের বৈশিষ্ট্য :
i. সমুদ্রজলের ঘনত্বের তারতম্যের ফলে এই ধরনের অন্তঃস্রোতের সৃষ্টি হয়।
ii. অন্তঃস্রোত ভারী ও শীতল প্রকৃতির হয়ে থাকে।

বি.দ্র : আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিষ্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক (PDF)টিতে এই Unit থেকে আরো অনেকগুলি 2 নম্বর মানের প্রশ্নোত্তর দেওয়া আছে।

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 3]
1. সমুদ্রতরঙ্গ ও সমুদ্রস্রোতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : সমুদ্রের জলের গতিবিধি বিভিন্ন রূপে প্রকাশ পায়। এর মধ্যে সমুদ্রতরঙ্গ ও সমুদ্রস্রোত দুটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ, যেগুলি সমুদ্রের জলকে ভিন্ন ভিন্নভাবে সচল করে এবং উপকূলীয় পরিবেশের উপর আলাদা আলাদা প্রভাব ফেলে।
সমুদ্রতরঙ্গ ও সমুদ্রস্রোতের প্রধান পার্থক্য :
১. সংজ্ঞা ও দিক : সমুদ্রতরঙ্গ প্রবল বায়ুপ্রবাহের কারণে জল উপরে-নিচে ওঠানামা করে। অন্যদিকে সমুদ্রস্রোতে জল অনুভূমিকভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়।
২. নিয়ন্ত্রণ ও অবস্থান : সমুদ্রতরঙ্গ বায়ু, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প নিয়ন্ত্রণ করে এবং উপকূলের সঙ্গে সমকোণে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে, সমুদ্রস্রোত উষ্ণতা, লবণতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং উপকূলের সঙ্গে সমান্তরাল প্রবাহিত।
৩. গুরুত্ব : সমুদ্রতরঙ্গ উপকূলীয় ক্ষয় ও সঞ্চয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, সমুদ্রস্রোত সামুদ্রিক বহন ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, উভয়ই সমুদ্রের গতিকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করে, যা উপকূলীয় পরিবেশ ও জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

2. উষ্ণস্রোত ও শীতল স্রোতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : সমুদ্রস্রোত পৃথিবীর উপকূলীয় জলবায়ু ও আবহাওয়াকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। উৎপত্তিস্থল, প্রবাহের ধরন এবং তাপমাত্রার ভিন্নতার ভিত্তিতে সমুদ্রস্রোতকে মূলত উষ্ণস্রোত ও শীতল স্রোত এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
উষ্ণস্রোত ও শীতল স্রোতের পার্থক্য মূল পার্থক্য :
১. উৎপত্তি ও প্রবাহের প্রকৃতি : উষ্ণস্রোত সাধারণত ক্রান্তীয় বা নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বহিঃস্রোত রূপে প্রবাহিত হয়। অপরদিকে, শীতল স্রোতের উৎপত্তি মেরু অঞ্চলে এবং তা সাধারণত অন্তঃস্রোত রূপে প্রবাহিত হয়।
২. উপকূলীয় জলবায়ু ও বৃষ্টিপাতের প্রভাব : উষ্ণস্রোত উপকূলীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়ায় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে, শীতল স্রোত উপকূল অঞ্চলের তাপমাত্রা কমিয়ে দেয় এবং বৃষ্টিপাত হ্রাস করে, ফলে অনেক ক্ষেত্রে মরুভূমির সৃষ্টি হতে পারে।
৩. জলের ভৌত বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ : উষ্ণস্রোতের জলে ঘনত্ব ও লবণতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে; যেমন উপসাগরীয় স্রোত ও কুরেশিও স্রোত। বিপরীতে, শীতল স্রোতের জলে ঘনত্ব ও লবণতা বেশি হয়; যেমন ল্যাব্রাডর স্রোত ও হ্যামব্রোড স্রোত।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, উষ্ণস্রোত ও শীতল স্রোত উপকূলীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে বিপরীতধর্মী কিন্তু সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

3. গ্র্যান্ড ব্যাংক মৎস্য চাষে উন্নত হওয়ার কারণ কি ?
উত্তর : আটলান্টিক মহাসাগরের কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের দক্ষিণ–পূর্ব উপকূলে অবস্থিত গ্র্যান্ড ব্যাংক পৃথিবীর বৃহত্তম মগ্নচড়াগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামুদ্রিক অবস্থার অনুকূলতার কারণে এই অঞ্চলটি একটি উন্নত মৎস্যক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।
গ্র্যান্ড ব্যাংক মৎস্য চাষে উন্নত হওয়ার কারণ :
১. অগভীর সমুদ্রতল ও খাদ্যসমৃদ্ধ পরিবেশ : গ্র্যান্ড ব্যাংকের সমুদ্রতল তুলনামূলকভাবে অগভীর, প্রায় ৯০ মিটারেরও কম গভীর। এর ফলে সূর্যালোক সহজেই সমুদ্রের তলদেশে পৌঁছায় এবং প্রচুর পরিমাণে প্ল্যাঙ্কটন জন্মায়, যা মাছের প্রধান খাদ্য।
২. উষ্ণ-শীতল স্রোতের মিলনস্থল : এই অঞ্চলে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত ও শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের মিলন ঘটে। দুই বিপরীত প্রকৃতির স্রোতের সংযোগস্থলে প্রচুর প্ল্যাঙ্কটন সৃষ্টি হয়, যার ফলে মাছের সমাগম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
৩. অনুকূল জলবায়ু, মাছের বৈচিত্র্য ও আধুনিক মৎস্যব্যবস্থা : গ্র্যান্ড ব্যাংকের নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু মাছের বেঁচে থাকা ও বংশবৃদ্ধির জন্য উপযোগী। এখানে কড, হেরিং, ম্যাকারেল, হ্যাডক, হ্যালিবাট প্রভৃতি নানা প্রজাতির বাণিজ্যিক মাছ পাওয়া যায়। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, ট্রলার ও দক্ষ মৎস্যজীবীর উপস্থিতিও মৎস্য চাষকে উন্নত করেছে।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায় প্রাকৃতিক অনুকূলতা ও মানবীয় সহায়তার সমন্বয়ের ফলেই গ্র্যান্ড ব্যাংক পৃথিবীর অন্যতম উন্নত মৎস্য চাষ অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠেছে।

4. নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে ঘন কুয়াশা ও ঝড়বৃষ্টি হওয়ার কারণ কি ?
উত্তর : উত্তর-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরে কানাডার পূর্ব উপকূলে অবস্থিত নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের আশেপাশের এলাকায় প্রায়ই ঘন কুয়াশা ও ঝড়বৃষ্টি দেখা যায়। এর পিছনে সমুদ্রস্রোতের প্রভাব বিশেষভাবে কাজ করে।
নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে ঘনকুয়াশা ও ঝড়বৃষ্টি সংঘটিত হওয়ার কারণ :
১ সমুদ্রস্রোতের সংযোগ : এই অঞ্চলের কাছে মেরু অঞ্চল থেকে আগত শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত এবং নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে আগত উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়, ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে।
২ বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতার আধিক্য : উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের সঙ্গে প্রচুর জলীয় বাষ্প বহন হয়ে আসে, যার ফলে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেড়ে যায়।
৩ ঘনীভবন প্রক্রিয়া : উষ্ণ ও শীতল স্রোত একত্রে মিলিত হলে উষ্ণ স্রোতের জলীয় বাষ্প শীতল পরিবেশে ঘনীভূত হয়। এর ফলেই ঘন কুয়াশা ও ঝড়বৃষ্টির সৃষ্টি হয়।
মূল্যায়ন : সুতরাং বলা যায়, উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের মিলন এবং তার ফলে সৃষ্ট ঘনীভবন প্রক্রিয়ার কারণেই নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে ঘন কুয়াশা ও ঝড়বৃষ্টি সংঘটিত হয়।

5. বহিঃস্রোত ও অন্তঃস্রোতের পার্থক্য লেখো।
উত্তর : সমুদ্রে বিভিন্ন ধরনের স্রোত প্রবাহিত হয়, যার মধ্যে বহিঃস্রোত ও অন্তঃস্রোত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এদের অবস্থান, তাপমাত্রা ও জলের প্রকৃতির পার্থক্যের কারণে এরা একে অপরের থেকে আলাদা।
বহিঃস্রোত ও অন্তঃস্রোতের পার্থক্য :
১. অবস্থান : বহিঃস্রোত মূলত সমুদ্রের উপরিভাগ দিয়ে প্রবাহিত হয়। অপরদিকে অন্তঃস্রোত সমুদ্রের নিচের বা গভীর স্তর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা যায়।
২. তাপমাত্রা : বহিঃস্রোত সাধারণত উষ্ণ প্রকৃতির হয় এবং এটি নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে অন্তঃস্রোত সাধারণত শীতল প্রকৃতির এবং মেরু অঞ্চল থেকে আগত হয়।
৩. প্রবাহের দিক : বহিঃস্রোত নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। কিন্তু অন্তঃস্রোত মেরু অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হয়।
৪. জলের ঘনত্ব : বহিঃস্রোতের জল তুলনামূলকভাবে হালকা প্রকৃতির হয়। অপরদিকে অন্তঃস্রোতের জল তুলনামূলকভাবে ভারী হয়।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, অবস্থান, তাপমাত্রা, প্রবাহের দিক ও জলের ঘনত্বের পার্থক্যের মাধ্যমে বহিঃস্রোত ও অন্তঃস্রোতকে স্পষ্টভাবে আলাদা করা যায়।

বি.দ্র : আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিষ্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক (PDF)টিতে এই Unit থেকে আরো অনেকগুলি 3 নম্বর মানের প্রশ্নোত্তর দেওয়া আছে।

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 5]
1. সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর : সমুদ্রের জল নানা প্রাকৃতিক কারণে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অনুভূমিকভাবে চলাচল করলে তাকে সমুদ্রস্রোত বলা হয়। পৃথিবীর গতি, বায়ুপ্রবাহ এবং সমুদ্রজলের ভৌত বৈশিষ্ট্যের তারতম্যের জন্য এই স্রোতের সৃষ্টি হয়।
সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণসমূহ :
1. পৃথিবীর আবর্তন গতি ও কোরিওলিস বল : পৃথিবীর আবর্তনের ফলে কোরিওলিস বল সৃষ্টি হয়, যা সমুদ্রস্রোতের গতিপথ বেঁকিয়ে দেয়। এই কারণে উত্তর গোলার্ধে স্রোত ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
2. নিয়ত বায়ুপ্রবাহের প্রভাব : আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু সারা বছর নির্দিষ্ট দিক ও বেগে প্রবাহিত হয়। এই বায়ুর ঘর্ষণে সমুদ্রপৃষ্ঠের জল একই দিকে সরে গিয়ে সমুদ্রস্রোতের জন্ম দেয়। যেমন- আয়ন বায়ুর প্রভাবে নিরক্ষীয় স্রোত সৃষ্টি হয়।
3. সমুদ্রজলের উষ্ণতার তারতম্য : নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ায় জল উষ্ণ ও হালকা হয়ে মেরুর দিকে বহিঃস্রোত হিসেবে প্রবাহিত হয়। আবার মেরু অঞ্চলে জল শীতল ও ভারী হয়ে অন্তঃস্রোত রূপে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে আসে।
4. লবণতা ও ঘনত্বের পার্থক্য : সমুদ্রজলের লবণতা সর্বত্র সমান নয়। লবণতার তারতম্যের ফলে জলের ঘনত্বের পার্থক্য ঘটে এবং এর ফলেই সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। কম ঘনত্বের জল উপরের দিকে এবং বেশি ঘনত্বের জল নীচের দিকে প্রবাহিত হয়।
5. বরফগলনের প্রভাব : মেরু অঞ্চলে বরফ গলে সমুদ্রে স্বাদু জল মিশে লবণতা ও ঘনত্ব কমিয়ে দেয়। এই হালকা জল বহিঃস্রোত বা মধ্যস্তরীয় স্রোত হিসেবে প্রবাহিত হয়। যেমন গ্রিনল্যান্ড স্রোত।
মূল্যায়ন : অতএব সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির পেছনে পৃথিবীর গতি, বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রজলের ভৌত বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে কাজ করে। এই কারণগুলির সমন্বিত প্রভাবেই পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। তাই সমুদ্রস্রোত প্রাকৃতিক পরিবেশ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

2. সমুদ্রস্রোতের প্রভাব বা গুরুত্ব/ফলাফল লেখো।
উত্তর : সমুদ্রের জল যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অনুভূমিকভাবে প্রবাহিত হয়, তাকে সমুদ্রস্রোত বলা হয়। সমুদ্রস্রোতের অনেক প্রভাব আছে, যা মানুষের অর্থনীতি, জলবায়ু এবং প্রকৃতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
সমুদ্রস্রোতের প্রভাব বা গুরুত্ব : 
1. মগ্নচড়া সৃষ্টি : শীতল স্রোত যখন উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে আসে, তাতে থাকা হিমশৈল গলে যায়। এর ফলে বালি, পলি ও পাথর সমুদ্রের তলদেশে জমে মগ্নচড়া তৈরি হয়। যেমন: উত্তর-পশ্চিম আটলান্টিকের গ্র্যান্ড ব্যাংক।
মৎস্যক্ষেত্র গঠন: দুটি ভিন্ন ধরনের স্রোতের মিলনে পানি উষ্ণ ও আর্দ্র হয়, যা প্ল্যাঙ্কটন জন্ম দেয়। এই প্ল্যাঙ্কটন মাছের খাদ্য হিসেবে কাজ করে, ফলে মাছ ধরার জন্য উপযোগী এলাকা গড়ে ওঠে। উদাহরণ : ডগার্স ব্যাংক, গ্র্যান্ড ব্যাংক।
2. জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ : সমুদ্রস্রোত উপকূলীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। উষ্ণ স্রোত থাকলে উপকূল উষ্ণ হয়, শীতল স্রোত থাকলে উপকূল শীতল হয়। যেমন: কোরেশিও স্রোতের কারণে জাপান উপকূল উষ্ণ, ল্যাব্রাডর স্রোতের কারণে কানাডার পূর্ব উপকূল শীতল।
3. প্রতিকূল আবহাওয়া সৃষ্টি : উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে বায়ুর সংঘর্ষ ঘটে। এর ফলে বজ্রসহ ঝড়, কুয়াশা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হয়। যেমন: নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে।
৪. বৃষ্টিপাত ও মরুভূমি : উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু আর্দ্র হয়ে উপকূলীয় এলাকায় প্রচুর বৃষ্টি আনে। শীতল স্রোত কম আর্দ্রতা দেয়, ফলে কিছু অঞ্চলে মরুভূমির সৃষ্টি হয়। যেমন: ক্রান্তীয় অঞ্চলের পশ্চিম উপকূল।
মূল্যায়ন : অতএব সমুদ্রস্রোত পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলবায়ু গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি উপকূলীয় এলাকার তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং মৎস্যসম্পদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও মানবজীবনের সঙ্গে সমুদ্রস্রোতের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

3. প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন স্রোতগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর : প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর এবং এখানে নানা ধরনের সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয়। এই স্রোতগুলিকে প্রধানত উষ্ণ ও শীতল এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলি প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ু ও সামুদ্রিক পরিবেশকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
প্রশান্ত মহাসাগরের প্রধান স্রোতসমূহ :
1. উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত (উষ্ণ) : নিরক্ষরেখার উত্তরে এই উষ্ণ স্রোত পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্রোত।
2. দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত (উষ্ণ) : নিরক্ষরেখার দক্ষিণে অবস্থানকারী এই উষ্ণ স্রোতও পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয় এবং উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের সঙ্গে মিল রেখে কাজ করে।
3. আলাস্কা স্রোত (উষ্ণ) : আলাস্কা উপকূল বরাবর এই উষ্ণ স্রোত উত্তরের দিকে প্রবাহিত হয়, ফলে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
4. ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত (শীতল) : উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূল ধরে এই শীতল স্রোত দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয় এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।
5. কুমেরু স্রোত (শীতল) : দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে এই শীতল স্রোত পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয় এবং দক্ষিণ গোলার্ধের জলবায়ুতে প্রভাব ফেলে।
6. পেরু বা হ্যামবোল্ড স্রোত (শীতল) : দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূল বরাবর এই শীতল স্রোত উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়, যা উপকূলীয় অঞ্চলের আবহাওয়া শীতল রাখে।
মূল্যায়ন : অতএব প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ ও শীতল স্রোতগুলি ওই মহাসাগরের জলবায়ু, সামুদ্রিক জীবন ও নৌপরিবহণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই স্রোতগুলির ভৌগোলিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

4. ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন স্রোতগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর : ভারত মহাসাগর পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মহাসাগর। এই মহাসাগরের স্রোতগুলির প্রকৃতি অন্যান্য মহাসাগরের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন, কারণ এর উত্তরাংশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব খুব বেশি দেখা যায়। ফলে অনেক স্রোত ঋতুভেদে দিক পরিবর্তন করে প্রবাহিত হয়।
ভারত মহাসাগরের প্রধান স্রোতসমূহ :
1. উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত (উষ্ণ) : নিরক্ষরেখার উত্তরে ও দক্ষিণে যে উষ্ণ স্রোতগুলি প্রবাহিত হয়, সেগুলিকে যথাক্রমে উত্তর নিরক্ষীয় ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত বলা হয়। এই স্রোতগুলি সাধারণত পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়।
2. কুমেরু স্রোত ও পশ্চিম অস্ট্রেলীয় স্রোত (শীতল) : কুমেরু মহাসাগর অঞ্চল থেকে আগত শীতল স্রোত অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে পৌঁছে স্থলভাগের বাধায় উত্তর দিকে মোড় নেয়। এই উত্তরমুখী শীতল স্রোতই পশ্চিম অস্ট্রেলীয় স্রোত নামে পরিচিত।
3. মোজাম্বিক স্রোত (উষ্ণ) : মোজাম্বিক স্রোত মাদাগাস্কার দ্বীপ ও আফ্রিকার মূল ভূখণ্ডের মাঝ দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। এটি একটি উষ্ণ স্রোত এবং আফ্রিকার পূর্ব উপকূলের জলবায়ুতে প্রভাব ফেলে।
4. মাদাগাস্কার স্রোত (উষ্ণ) : এই স্রোত মাদাগাস্কার দ্বীপের পূর্ব উপকূল বরাবর দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। এটি ভারত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উষ্ণ স্রোত।
5. সোমালি স্রোত ও মৌসুমি স্রোত : সোমালি স্রোত মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দিক পরিবর্তন করে। গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এটি আফ্রিকার পূর্ব উপকূল ধরে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়, আর শীতকালে বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়।
মূল্যায়ন : অতএব ভারত মহাসাগরের স্রোতগুলির উপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এই স্রোতগুলি উপকূলীয় জলবায়ু, বৃষ্টিপাত ও সামুদ্রিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ভারত মহাসাগরের স্রোতসমূহ ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

5. আটলান্টিক মহাসাগরের বিভিন্ন স্রোত সম্পর্কে আলোচনা করো
উত্তর : আটলান্টিক মহাসাগরে উষ্ণ ও শীতল এই দুই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয়। এই স্রোতগুলি শুধু সমুদ্রের জলপ্রবাহই নিয়ন্ত্রণ করে না, বরং জলবায়ু, সামুদ্রিক পরিবেশ ও মানব কার্যকলাপের উপরও গভীর প্রভাব ফেলে।
আটলান্টিক মহাসাগরের প্রধান স্রোতসমূহ :
(১) উপসাগরীয় স্রোত : এই উষ্ণ স্রোতটি মেক্সিকো উপসাগর থেকে উৎপন্ন হয়ে ফ্লোরিডা প্রণালী অতিক্রম করে দ্রুত উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। এর প্রভাবে ইউরোপের জলবায়ু তুলনামূলকভাবে অনুকূল থাকে।
(৩) ব্রাজিল স্রোত : দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল বরাবর দক্ষিণমুখী যে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হয়, তাকে ব্রাজিল স্রোত বলা হয়। এটি দক্ষিণ আটলান্টিক অঞ্চলের জলপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
(২) উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত : নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ জলধারা এই স্রোতের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে উপসাগরীয় স্রোতের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং আটলান্টিক মহাসাগরের স্রোত ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।
(৪) ক্যানারি স্রোত : উত্তর-পূর্ব আটলান্টিক মহাসাগরে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল ঘেঁষে যে শীতল স্রোত দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়, সেটি ক্যানারি স্রোত নামে পরিচিত।
(৬) ল্যাব্রাডর স্রোত : উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল ধরে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত শীতল স্রোত উপসাগরীয় শীতল স্রোতের সঙ্গে মিলিত হয় এবং আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটায়।
(৫) বেঙ্গুয়েলা স্রোত : দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল বরাবর উত্তরের দিকে প্রবাহিত এই শীতল স্রোতটি সামুদ্রিক পরিবেশে বিশেষ প্রভাব ফেলে।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, আটলান্টিক মহাসাগরের উষ্ণ ও শীতল স্রোতগুলি জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, সামুদ্রিক পরিবেশ গঠন, মৎস্যক্ষেত্র সৃষ্টি এবং নৌ চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে ঘন কুয়াশা ও ঝড় সৃষ্টি হয়ে নৌপরিবহনে বাধার কারণও হয়ে দাঁড়ায়।

বি.দ্র : আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিষ্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক (PDF)টিতে এই Unit থেকে আরো অনেকগুলি 2, 3 এবং 5 নম্বর মানের প্রশ্নোত্তর দেওয়া আছে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : ক্লাস 12 ভূগোল বারিমন্ডল প্রশ্ন উত্তর
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. ক্লাস 12 ভূতত্ত্ববিদ্যা প্রশ্ন ও উত্তর PDF Click here
2. ক্লাস 12 বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া Click here
3. ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়াসমূহ প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
Regards,
WB Semester Team 
📞 & 💬 9883566115


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.