WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

ক্লাস 11 রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ প্রশ্ন উত্তর | Class 12 2nd Semester Political Science Question Answer

0

প্রথম অধ্যায় : রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ PDF

ভূ(caps)মিকা : একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিষ্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে 40 নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এই 40 নম্বরের মধ্যে প্রথম অধ্যায় : রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ থেকে মোট 8 নম্বর প্রশ্ন থাকবে। এই অধ্যায় থেকে 2 নম্বর মানের প্রশ্ন 2টি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো 1 টি করতে হবে (2 নম্বর), এবং 6 নম্বর মানের প্রশ্ন 2 টি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো 1 টি করতে হবে (6 নম্বর)। অর্থাৎ মোট 2 + 6 = 8 নম্বর। এই ইউনিটটি পরীক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় : রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ 6 নম্বর মানের প্রশ্ন-উত্তর সহ একটি PDF এখানে প্রদান করেছি। এছাড়াও আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন ই-বুক (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এখন থেকে অনেক প্রশ্ন পরীক্ষায় কমন পাবেন। এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুসারে অত্যন্ত সহজ ও পরীক্ষামুখীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আপনাদের অনেক সাহায্য করবে। তাই ই-বুক (PDF)টি কিনতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

Class 12 2nd Semester Political Science Question Answer

🔹 Class 12 4th Semester Political Science Question Answer

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 2]
1. আইনের প্রমুখ উৎসগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
অথবা, আইনের বিভিন্ন উৎস আলোচনা করো। [HS-2022, 17, 10]
উত্তর : প্রাচীন সমাজে মানুষ আইন বলতে মূলত ঈশ্বরের আদেশ, ধর্মীয় বিধান বা সামাজিক রীতিনীতিকেই বুঝত। সময়ের সঙ্গে সমাজের পরিবর্তন ঘটলে আইনও পরিবর্তিত হয়। বর্তমানে আইন বলতে রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও বিধিবদ্ধ নিয়মকানুনকেই বোঝানো হয়। আইন কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে তা বোঝার জন্য আইনের উৎসগুলি জানা প্রয়োজন।
আইনের উৎসসমূহ : অধ্যাপক হল্যান্ড-এর মতে, আইনের প্রধান ছয়টি উৎস রয়েছে। সেগুলি নীচে আলোচনা করা হল-
১. প্রথা : সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা আচার-আচরণ, রীতিনীতি ও লোকাচারকে প্রথা বলা হয়। কোনো প্রথা যখন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পায়, তখন তা আইনের মর্যাদা লাভ করে। অনেক দেশের সাধারণ আইন মূলত প্রথার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে, তাই একে আইনের প্রাচীন উৎস বলা হয়।
২. ধর্ম : প্রাচীনকালে মানুষের জীবন ধর্ম দ্বারা গভীরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। তখন ধর্মীয় নির্দেশই ছিল মানুষের কাছে আইনসমতুল্য। পরবর্তীকালে এই ধর্মীয় অনুশাসনগুলোই ধীরে ধীরে আইনের রূপ নেয়।
৩. বিচারালয়ের সিদ্ধান্ত : প্রাচীন সমাজে বিরোধ মেটানোর দায়িত্ব ছিল রাজা বা দলনেতার ওপর। তাঁদের দেওয়া রায় ভবিষ্যতে আইনের মতো ব্যবহার করা হতো। বর্তমানেও আদালতের রায় ও বিচারপতিদের ব্যাখ্যা আইন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
৪. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা : আইনজ্ঞ ও পণ্ডিতদের গবেষণালব্ধ মতামত, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ আইন গঠনের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়। বিচারপতিরা মামলার রায় দেওয়ার সময় এই ধরনের আলোচনা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন।
৫. ন্যায়নীতি : যখন প্রচলিত আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না, তখন বিচারক ন্যায়বোধ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই ন্যায়নীতি আইনকে আরও মানবিক ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
৬. আইনসভা : আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভাই আইনের প্রধান উৎস। এখানে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে, জনগণের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করা হয়, যা আধুনিক আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, আইনের কোনো একটি উৎস এককভাবে আইন সৃষ্টি করে না। বরং এই ছয়টি উৎস মিলিতভাবেই আইনকে গঠন ও বিকাশে সহায়তা করে। তাই প্রত্যেকটি উৎসের গুরুত্ব সমানভাবে অপরিহার্য।

2. সাম্য কাকে বলে? সাম্যের বিভিন্ন রূপ সম্পর্কে আলোচনা করো। [HS Model Question ’24]
উত্তর : রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সাম্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশের জন্য যে সমান সুযোগ ও সুবিধা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করাই সাম্যের মূল উদ্দেশ্য। সাম্য না থাকলে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি হয় এবং মানুষের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
সাম্যের অর্থ / সংজ্ঞা : সাম্য বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য সমান সুযোগসুবিধা লাভ। কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণি রাষ্ট্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুবিধা পাবে না এবং আইনের চোখে সকলেই সমান বলে বিবেচিত হবে। এই ধারণাই সাম্যের মূল কথা।
সাম্যের বিভিন্ন রূপ : সাম্য একটি বহুমুখী ধারণা। তাই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা সাম্যকে বিভিন্ন রূপে ব্যাখ্যা করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছয়টি রূপ নিচে আলোচনা করা হল-
১. সামাজিক সাম্য : সামাজিক সাম্য বলতে সমাজে সকল মানুষের সমান সামাজিক মর্যাদাকে বোঝায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য না থাকাই সামাজিক সাম্যের মূল লক্ষ্য।
২. রাজনৈতিক সাম্য : রাজনৈতিক সাম্য হলো সকল নাগরিকের সমান রাজনৈতিক অধিকার ভোগের সুযোগ। ভোটদান, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমান অধিকারই রাজনৈতিক সাম্যের ভিত্তি।
৩. আইনগত সাম্য : আইনগত সাম্য বলতে বোঝায় আইনের চোখে সকল ব্যক্তি সমান এবং আইন সকলকে সমভাবে রক্ষা করবে। অর্থাৎ কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং সকলেই আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।
৪. অর্থনৈতিক সাম্য : অর্থনৈতিক সাম্য বলতে নাগরিকদের আর্থিক সুযোগসুবিধার ক্ষেত্রে সমতা বোঝায়। আয় ও সম্পত্তির অধিকারে বৈষম্য কমিয়ে সকলকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
৫. সাংস্কৃতিক সাম্য : বহু সংস্কৃতির সমাজে প্রত্যেক গোষ্ঠী নিজস্ব সংস্কৃতি লালন ও বিকাশের সুযোগ পাবে এটাই সাংস্কৃতিক সাম্য। এখানে সংস্কৃতিগত পার্থক্যের জন্য কাউকে অবহেলা বা বঞ্চনা করা হয় না।
৬. লিঙ্গ সাম্য : লিঙ্গ সাম্য বলতে নারী ও পুরুষের মধ্যে সমান আচরণ ও সুযোগ নিশ্চিত করাকে বোঝায়। শিক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের সর্বক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণই লিঙ্গ সাম্যের মূল ভাবনা।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, সাম্য শুধু একটি ধারণা নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অপরিহার্য শর্ত। সামাজিক, রাজনৈতিক, আইনগত, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও লিঙ্গ এই সব রূপ মিলিয়েই সাম্যের পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।

3. ন্যায়, স্বাধীনতা ও সাম্যের পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচনা করো। [HS-2018]
উত্তর : একটি আদর্শ ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে ন্যায়, স্বাধীনতা ও সাম্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি ধারণা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একটি ধারণা অন্যটির সাহায্য ছাড়া সম্পূর্ণ রূপে কার্যকর হতে পারে না। তাই সমাজজীবনে ন্যায়, স্বাধীনতা ও সাম্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ পারস্পরিক সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়।
ন্যায়, স্বাধীনতা ও সাম্যের পারস্পরিক সম্পর্ক :
(১) স্বাধীনতা শর্তাধীন ধারণা : স্বাধীনতা কখনোই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হতে পারে না। যদি স্বাধীনতার উপর কোনো সীমা না থাকে, তাহলে তা অন্যের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই প্রকৃত স্বাধীনতা ন্যায় ও সাম্যের নীতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই শর্তেই তা সমাজে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।
(২) ন্যায় সংযোগকারী শক্তি : ন্যায় সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে। একই সঙ্গে এটি স্বাধীনতা ও সাম্যের মতো নীতিগুলিকেও একসূত্রে বেঁধে রাখে। ফলে সমাজে শৃঙ্খলা ও সামঞ্জস্য বজায় থাকে।
(৩) ন্যায় ভারসাম্য রক্ষা করে : স্বাধীনতা, সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্বের মধ্যে অনেক সময় স্বার্থগত বিরোধ দেখা দিতে পারে। এই ধরনের বিরোধ মেটানোর জন্য ন্যায়ের নীতিকেই চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যা সমাজে ভারসাম্য বজায় রাখে।
(৪) ন্যায় বিন্যাসকারী নীতি : সমাজে কিছু মানবিক মূল্যবোধকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমেই স্বাধীনতা ও সাম্য সঠিকভাবে কার্যকর হয়। এই মূল্যবোধগুলিকে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করার কাজ ন্যায়ের নীতিই করে।
(৫) মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তি : ন্যায়, স্বাধীনতা ও সাম্য এই তিনটি ধারণাই মানবিক মূল্যবোধের উপর নির্ভরশীল। এই মূল্যবোধগুলিই সমাজের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি এবং এগুলির মাধ্যমেই সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হয়।
(৬) স্বাধীনতা ন্যায়ের প্রধান শর্ত : যে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী কাজকে সাধারণভাবে অন্যায় বলে গণ্য করা হয়। তাই ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীনতা অপরিহার্য শর্ত। এই কারণেই স্বাধীনতাকে ন্যায়ের প্রথম ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
মূল্যায়ন : উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, ন্যায়, স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। আধুনিক সমাজব্যবস্থায় এই তিনটি ধারণার সমন্বয় ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

4. আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বাধীনতার বিভিন্ন রক্ষাকবচগুলি আলোচনা করো।
উত্তর : স্বাধীনতা মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য অপরিহার্য। স্বাধীন পরিবেশ ছাড়া মানুষের অন্তর্নিহিত ক্ষমতার পূর্ণ প্রকাশ সম্ভব নয়। তবে স্বাধীনতা কখনও সীমাহীন হতে পারে না, কারণ অনিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা অন্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করে। তাই আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা বা রক্ষাকবচ গড়ে তোলা হয়েছে।
আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বাধীনতার রক্ষাকবচসমূহ : রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ল্যাস্কির মতে, সকলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে স্বাধীনতার রক্ষাকবচ অপরিহার্য। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীনতা রক্ষার রক্ষাকবচগুলি নিচে আলোচনা করা হল-
১. সংবিধানে মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ : গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি সংবিধানে লিখিত আকারে সুরক্ষিত থাকে। এই অধিকারগুলি সংবিধানে লিপিবদ্ধ না থাকলে সরকার সহজেই তা অস্বীকার করতে পারে। সংবিধানগত স্বীকৃতির ফলে নাগরিকরা অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতের সাহায্য নিতে পারে।
২. ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ : ক্ষমতা যদি কেবল কেন্দ্রের হাতে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে স্বৈরতন্ত্রের ঝুঁকি বাড়ে। তাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্থানীয় স্বশাসন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ চালু করা হয়। এর ফলে সাধারণ মানুষ প্রশাসনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় এবং স্বাধীনতা সুদৃঢ় হয়।
৩. ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি : রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শাসন, আইন ও বিচার এই তিন বিভাগের ক্ষমতা আলাদা থাকলে স্বৈরাচারিতার সম্ভাবনা কমে। যদি সমস্ত ক্ষমতা এক ব্যক্তি বা এক বিভাগের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তবে ব্যক্তিস্বাধীনতা বিপন্ন হয়। তাই ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ।
৪. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা : শাসনবিভাগ বা আইনসভা ব্যর্থ হলে বিচারবিভাগই নাগরিকের শেষ আশ্রয়স্থল। তাই বিচারপতিদের স্বাধীনভাবে ও পক্ষপাতহীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য সাংবিধানিক নিরাপত্তা দেওয়া হয়। স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম প্রধান রক্ষাকবচ।
৫. আইনের অনুশাসন : আইনের অনুশাসন বা Rule of Law-এর মূল কথা হল আইনের চোখে সবাই সমান এবং আইন সকলকে সমভাবে রক্ষা করবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এই নীতি কার্যকর থাকলে স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে।
৬. সদাজাগ্রত ও সচেতন জনমত : লিখিত অধিকার থাকা সত্ত্বেও নাগরিকরা যদি অসচেতন হয়, তবে স্বাধীনতা বিপন্ন হয়। শিক্ষিত, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিকরাই স্বাধীনতাকে কার্যকরভাবে রক্ষা করতে পারে। তাই জনসচেতনতা স্বাধীনতার সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষাকবচ।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, স্বাধীনতা কখনও খণ্ডিত বা আংশিকভাবে রক্ষা করা যায় না। জনগণের অসচেতনতা শাসকদের স্বেচ্ছাচারিতা বাড়িয়ে তোলে। অন্যদিকে সচেতন জনসমাজ অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলে। সুতরাং আধুনিক রাষ্ট্রে স্বাধীনতা রক্ষার মূল চাবিকাঠি হলো সক্রিয় ও সচেতন জনগণ।

5. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দাও। [HS Model Question ’24]
উত্তর : ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। এই নীতির প্রধান প্রবক্তা ফরাসি রাষ্ট্রদার্শনিক মন্তেস্কু। তাঁর মতে, যদি রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা এক ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে ব্যক্তিস্বাধীনতা বিপন্ন হয়ে পড়ে। যদিও অনেক চিন্তাবিদ মনে করেন যে এই নীতি বাস্তবে প্রয়োগ করলে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
১. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির পক্ষে যুক্তি :
(ক) বিভাগীয় স্বাতন্ত্র্য : এই নীতি অনুযায়ী সরকারের প্রতিটি বিভাগ নিজ নিজ কাজ স্বাধীনভাবে সম্পাদন করে। ফলে এক বিভাগ অন্য বিভাগের ওপর কর্তৃত্ব করতে পারে না এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকে।
(খ) দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি : ক্ষমতা পৃথকভাবে বণ্টিত থাকলে প্রত্যেক বিভাগ নিজেদের কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকে। এর ফলে প্রশাসনিক কাজকর্ম আরও নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল হয়।
(গ) স্বৈরাচার রোধ : ক্ষমতা এক হাতে কেন্দ্রীভূত না হওয়ায় কোনো বিভাগ এককভাবে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারে না। এতে রাষ্ট্রে স্বৈরতন্ত্র গড়ে ওঠার আশঙ্কা হ্রাস পায়।
(৪) ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা : মন্তেস্কুর মতে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা যখন বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে পৃথকভাবে বিভক্ত থাকে, তখন ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হয় এবং নাগরিকদের ব্যক্তিস্বাধীনতা তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকে।
২. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির বিপক্ষে যুক্তি :
(ক) বাস্তবে সম্পূর্ণ প্রয়োগ কঠিন : গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। সম্পূর্ণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব নয়।
(খ) দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা : প্রতিটি বিভাগ আলাদা হয়ে কাজ করলে অনেক সময় নিজেদের ব্যর্থতার দায় অন্য বিভাগের উপর চাপানোর চেষ্টা করে, যা জাতীয় স্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর।
(গ) প্রশাসনিক অকার্যকারিতা : সরকারের তিনটি প্রধান বিভাগের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাফল্য ব্যাহত হয়। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনা সঠিকভাবে সম্ভব হয় না।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এর গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। আধুনিক রাষ্ট্রে এই নীতির আংশিক প্রয়োগ ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

6. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে কী বোঝো? “কঠোর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্ভবও নয়, কাম্যও নয়”-মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো। [HS-2019, 10] [৩+৩ = ৬]
উত্তর : রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ যখন পৃথকভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে, তখন তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলা হয়। এই নীতির মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন রোধ করার চেষ্টা করা হয়। তবে বাস্তবে এই নীতির কঠোর প্রয়োগ নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দেয়। সেই কারণে বলা হয়, কঠোর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্ভবও নয়, কাম্যও নয়।
১. কঠোর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রয়োগযোগ্যতা নেই :
(১) সহযোগিতার অভাব : কঠোরভাবে ক্ষমতা ভাগ করা হলে প্রতিটি বিভাগ কেবল নিজের ক্ষমতা ও কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকে। ফলে এক বিভাগের সঙ্গে অন্য বিভাগের সহযোগিতা কমে যায়, যা সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থার পথে বাধা সৃষ্টি করে।
(২) বাস্তবে অপ্রয়োগযোগ্য : যে দেশকে এই নীতির আদর্শ উদাহরণ বলা হয়, সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও তিনটি বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান। তাই সেখানে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের নীতিও গ্রহণ করা হয়েছে।
(৩) গণতান্ত্রিক শাসনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ : গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল পারস্পরিক সহযোগিতা। কিন্তু কঠোর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ সেই সহযোগিতাকে দুর্বল করে দেয়, ফলে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কার্যকর থাকে না।
২. কঠোর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কাম্য নয়  :
(১) বিভাগীয় দ্বন্দ্ব : এই নীতি কার্যকর হলে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ নিজেদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার জন্য পরস্পরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। অথচ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতাই বেশি প্রয়োজন।
(২) সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় অকার্যকর : সংসদীয় ব্যবস্থায় আইনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই সরকার গঠন করে। ফলে আইনসভা ও শাসন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে এবং কঠোর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ সেখানে সম্ভব হয় না।
(৩) স্বাধীনতার নিশ্চয়তা নেই : শুধু ক্ষমতা আলাদা করলেই ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত হয় না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভাগীয় স্বৈরাচারিতার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
উপসংহার : অতএব বলা যায়, বাস্তব রাষ্ট্রজীবনে পূর্ণ বা কঠোর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রয়োগ সম্ভব নয় এবং তা কাম্যও নয়। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আংশিক ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ অবশ্যই প্রয়োজনীয় ও গ্রহণযোগ্য।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : WB Semester Team প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন ই-বুক(PDF)টিতে পুরো সিলেবাসের প্রশ্ন উত্তর রয়েছে এবং এই ইউনিট থেকে 2 নম্বর মানের এবং আরো অনেকগুলি 6 নম্বর মানের প্রশ্ন উত্তর রয়েছে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ প্রশ্ন উত্তর
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. ডাকঘর নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
2. ক্লাস 12 জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ Click here
3. ক্লাস 12 বায়ুমণ্ডল প্রশ্ন উত্তর Click here
4. নানা রঙের দিন নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
Regards,
WB Semester Team 
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.