🔹 দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর
[প্রতিটি প্রশ্নের মান : ৮]1. আলিগড় আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও কর্মসূচি উল্লেখ করো। 3+5
অথবা,
আলিগড় আন্দোলনের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর : উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের মুসলিম সমাজ নানা দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছিল। এই সময় স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলমানদের শিক্ষাগত ও সামাজিক উন্নতির জন্য যে নতুন চিন্তা ও সংস্কারের পথ দেখান, তাকেই আলিগড় আন্দোলন বলা হয়। আলিগড়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে একটি নতুন সংস্কারধারা যা পরে “আলিগড় আন্দোলন” নামে পরিচিত হয়।
(ক) আলিগড় আন্দোলনের প্রেক্ষাপট :
১. মুসলিম সমাজের পশ্চাৎপদতা উপলব্ধি : স্যার সৈয়দ দেখলেন, হিন্দুরা পাশ্চাত্য শিক্ষায় আগ্রহ দেখিয়ে দ্রুত উন্নতি করছে, কিন্তু মুসলমানরা শিক্ষায় অনীহা ও ব্রিটিশদের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে পিছিয়ে পড়ছে। এই বৈষম্য দূর করা জরুরি ছিল।
২. পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা : তিনি মনে করতেন, আধুনিক বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ ও ইংরেজি শিক্ষার অভাবই মুসলমানদের আর্থ-সামাজিক দুরবস্থার মূল কারণ। তাই সমাজকে আধুনিক শিক্ষার পথে এগিয়ে আনা তাঁর প্রথম লক্ষ্য হয়ে ওঠে।
৩. সংগঠিত শিক্ষাচর্চার উদ্যোগ : শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে তিনি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। যেমন ট্রান্সলেশন সোসাইটি (১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দ), সায়েন্টিফিক সোসাইটি (১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দ), গাজীপুর ইংরেজি স্কুল, এবং পরে মহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স (১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দ)। এগুলোর মধ্য দিয়ে মুসলমানদের মধ্যে নতুন ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ শুরু হয়।
(খ) আলিগড় আন্দোলনের কর্মসূচি :
১. আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে শিক্ষার বিস্তার : আলিগড় কলেজে ভাষা-সাহিত্য ছাড়াও বিজ্ঞান, গণিত, দর্শন, তর্কশাস্ত্র, যুক্তিবাদ ইত্যাদির পাঠ শুরু করা হয়, যাতে মুসলিম সমাজ আধুনিক চিন্তাধারায় অভ্যস্ত হতে পারে।
২. প্রগতিশীল সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবনার প্রচার : ছাত্রদের মধ্যে উদারমনস্কতা, যুক্তিবাদ এবং আধুনিক সমাজচিন্তা গড়ে তোলা আন্দোলনের একটি প্রধান লক্ষ্য ছিল।
৩. ‘তাহজিব-উল-আখলাক’-এ ধর্মীয় চিন্তার সংস্কার : এই পত্রিকায় ধর্মীয় বিষয়ে যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা, কুসংস্কার বর্জন এবং কোরানের মূল আদর্শকে আধুনিক মানসিকতায় বুঝতে উৎসাহ দেওয়া হয়।
৪. ধর্ম ও মানবতা সম্পর্কে উদার ধারণার প্রচার : স্যার সৈয়দ মনে করতেন সকল নবী একই মূল ধর্মবিশ্বাস প্রচার করেছেন, শুধু সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের বিধান ভিন্ন ছিল। এর মাধ্যমে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা গড়ে তুলতে তিনি মানুষকে উৎসাহ দেন।
৫. নারীশিক্ষা ও সামাজিক সংস্কার : পর্দাপ্রথা, বহুবিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) ইত্যাদি এসব নিয়ে তিনি সমাজকে সতর্ক করেন। তিনি বলতেন নারীশিক্ষা ছাড়া মুসলমানদের উন্নতি অসম্ভব।
৬. শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির সমন্বিত আন্দোলন : অধ্যাপক কে কে আজিজের মতে, আলিগড় আন্দোলন ছিল শিক্ষা, সাহিত্য, ধর্ম ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি বড় সংস্কারচেষ্টা।
(গ) সীমাবদ্ধতা :
1. ধর্মশিক্ষার দায়িত্বে থাকা মৌলবীদের অনেকে প্রগতিশীল ব্যাখ্যার বদলে রক্ষণশীল মনোভাব রাখতেন।
2. এই আন্দোলনের প্রভাব মূলত শহরের ধনী মুসলমানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, গ্রামীণ ও দরিদ্র মুসলমানরা খুব একটা উপকৃত হয়নি।
মূল্যায়ন : আধুনিক শিক্ষা ও চিন্তার বিস্তারে আলিগড় আন্দোলন মুসলমান সমাজকে নতুন পথ দেখালেও পরবর্তীকালে কিছু ইংরেজ অধ্যক্ষ ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির আচরণ সাম্প্রদায়িক বিভেদ বাড়িয়ে দেয়। তবুও মুসলিম সমাজে আধুনিকতার বীজ বপনে এই আন্দোলনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
2. নরমপন্থী নামে কারা পরিচিত? ১৮৮৫ থেকে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জাতীয় কংগ্রেসের নরমপন্থী নেতৃবৃন্দের কার্যাবলির মূল্যায়ন করো।
অথবা,
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের আদি পর্বের নরমপন্থী নেতাদের কার্যকলাপ ও সীমাবদ্ধতা আলোচনা করো।
উত্তর : ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠনের পর প্রথম প্রায় কুড়ি বছর কংগ্রেসের নেতৃত্বে ছিলেন যাঁরা আবেদন-নিবেদনের পথে বিশ্বাসী, তাঁরা 'নরমপন্থী' নামে পরিচিত হন। এঁরা মনে করতেন যে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলে সংস্কারের দাবিগুলি আদায় করা সম্ভব। এই কারণে অনেকেই তাঁদের পদ্ধতিকে দুর্বল বলে সমালোচনা করলেও, জাতীয় রাজনীতিতে তাঁদের প্রথম উদ্যোগগুলি ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ।
(ক) নরমপন্থী কারা :
1. পরিচিতি : ১৮৮৫ থেকে ১৯০৫ পর্যন্ত কংগ্রেসের যে নেতারা অহিংস, যুক্তিনির্ভর এবং আবেদনভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন, তাঁদেরকেই নরমপন্থী বলা হয়। এঁরা সকলেই উচ্চশিক্ষিত, পাশ্চাত্য ধ্যানধারণায় প্রভাবিত এবং সংস্কারমুখী ছিলেন।
2. উল্লেখযোগ্য নেতা : সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, গোপালকৃষ্ণ গোখলে, উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, বদরুদ্দিন তৈয়বজি, রমেশচন্দ্র দত্ত প্রমুখ।
3. আন্দোলন পদ্ধতি : এঁরা সরাসরি সংঘর্ষ বা ব্রিটিশবিরোধী কঠোর পথ গ্রহণ করেননি। তাঁরা ছিলেন আবেদন, অনুরোধ এবং প্রতিবাদের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। তাঁদের এই আন্দোলন পদ্ধতিকে অনেকেই 'A pocicy of 3 Ps' (pray, please, protest) বলে অভিহিত করেছেন।
(খ) নরমপন্থীদের কার্যাবলি (১৮৮৫–১৯০৫) :
নরমপন্থী নেতাদের দাবি ও কার্যক্রমকে সাধারণভাবে চারটি ভাগে দেখা যায়। যেমন সাংবিধানিক, শাসনতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কিত। এই চার ক্ষেত্রেই তাঁরা ব্রিটিশ সরকারের কাছে ধাপে ধাপে সংস্কারের কথা তুলে ধরেছিলেন।
১. সাংবিধানিক সংস্কার : নরমপন্থী নেতারা চাইতেন ভারতীয়রা যেন শাসনকার্যে বেশি সুযোগ পায়। তাই তাঁরা আইনসভায় ভারতীয় সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর দাবি তোলেন এবং ভারত-সচিবের কাউন্সিল বাতিলের প্রস্তাব করেন। প্রথম অধিবেশনেই ভারতীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি রাজকীয় কমিশন গঠনের কথা বলেন। একই সঙ্গে তাঁরা বিশেষভাবে দাবি করেন যে, ভারত–সচিবের মন্ত্রণাপরিষদে কমপক্ষে তিনজন ভারতীয় সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই সব প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল শাসনব্যবস্থায় ভারতীয়দের কার্যকর ভূমিকা বৃদ্ধি করা।
২. শাসনতান্ত্রিক সংস্কার : প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ভারতীয়দের নিয়োগ নিশ্চিত করা নরমপন্থীদের বড় দাবি ছিল। তাঁরা চেয়েছিলেন শাসনব্যবস্থার ‘ভারতীয়করণ’ ঘটুক। তাই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বয়স বাড়ানো এবং ভারত-ব্রিটেনে একই সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি পুলিশ, বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রস্তাবও তাঁরা তুলে ধরেন। এমনকি সেনাবাহিনীর উচ্চপদে ভারতীয়দের নেওয়ার বিষয়েও তাঁরা আওয়াজ তোলেন।
৩. অর্থনৈতিক দাবি : নরমপন্থীরাই প্রথম দেখান যে ব্রিটিশ নীতির কারণে ভারতের দারিদ্র্য বাড়ছে। কৃষকদের করের চাপ কমানো, সারাদেশে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করা, সেচব্যবস্থা বাড়ানো এবং বৈষম্যমূলক শুল্কনীতির বিরোধিতা তাঁদের প্রধান অর্থনৈতিক দাবি ছিল। সরকারি ব্যয় কমানোর কথাও তাঁরা বলেন। দাদাভাই নৌরজি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থে স্পষ্টভাবে জানান যে ভারতের দারিদ্র্যের আসল কারণ ব্রিটিশ শাসনের অর্থনৈতিক শোষণ।
৪. গণতান্ত্রিক অধিকার সংক্রান্ত দাবি : নরমপন্থীরা বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন। ব্রিটিশ সরকারের দমননীতি, জাতিভেদমূলক আচরণ, এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁরা ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ করেন। এভাবে তাঁরা ভারতীয় সমাজে গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ান।
(গ) সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটি :
1. প্রত্যক্ষ সংগ্রামের বিরোধী : নরমপন্থীরা ব্রিটিশদের ওপর আস্থা রাখতেন। তাঁরা সরাসরি আন্দোলন বা সংঘর্ষে যেতেন না। এ কারণে তাঁদের ‘রাজনৈতিক ভিক্ষুক’ বলা হয়েছে।
2. সাংগঠনিক দুর্বলতা : কংগ্রেস তখন শক্তিশালী সংগঠন হয়ে ওঠেনি। আর্থিক তহবিল ও সুসংহত সংগঠন না থাকায় বড় আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।
3. পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি ছিল না : তাঁদের লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের অধীনে সীমিত স্বায়ত্তশাসন অর্জন, পূর্ণ স্বাধীনতা নয়। এজন্য অরবিন্দ ঘোষ কংগ্রেসকে তৎকালীন সময়ে ‘বিজাতীয় কংগ্রেস’ বলে বিদ্রূপ করেন।
মূল্যায়ন : নরমপন্থীরা সীমাবদ্ধ হলেও জাতীয় রাজনীতির ভিত্তি গড়ে দেন। ব্রিটিশ শাসনের অর্থনৈতিক শোষণ ও প্রশাসনিক ত্রুটি প্রথম প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি ও আন্দোলন ভারতীয়দের রাজনৈতিক চেতনা জাগিয়ে তোলে। তবে নরমপন্থীদের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা পরবর্তীতে চরমপন্থী গোষ্ঠীর উত্থানের পথ তৈরি করে।
4. ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো এবং এই আন্দোলনে মহিলাদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করো। 4+4
উত্তর : ১৯৪২ সালের আগস্ট মাসে দেশকে পূর্ণ স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে যে ব্যাপক গণআন্দোলন শুরু হয়, সেটিই ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’ নামে পরিচিত। নানা বাধা ও দমন-পীড়ন সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে জাতীয় সংগ্রামের ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরে।
(ক) ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য :
1. ব্রিটিশ শাসকদের উপলব্ধি তৈরি : এই আন্দোলনের ভয়াবহ বিস্তার দেখে ব্রিটিশরা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারে যে ভারতবাসীর স্বাধীনতার বাসনা আর দমন করে রাখা যাবে না। জনগণের এই ব্যাপক বিদ্রোহ তাদের মনে এ ধারণা স্পষ্ট করে দেয় যে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সময় শেষ হয়ে এসেছে। ফলে পরবর্তীকালে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি দ্রুততর হয়।
2. কংগ্রেসের জাতীয় মর্যাদা পুনর্ব্যক্ত : নেতৃত্ব গ্রেপ্তার হলেও দেশের মানুষ যেভাবে কংগ্রেসের পাশে দাঁড়ায়, তাতে পরিষ্কার হয়ে যায় যে কংগ্রেসই জাতির প্রধান ভরসাস্থল। গান্ধিজির অনশন, অন্যান্য কংগ্রেসী নেতাদের ত্যাগ-ত্যাগী ভূমিকা মানুষের মনে কংগ্রেসের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করে তোলে এবং হারানো সম্মান ফিরে আসে।
3. বিস্তৃত গণ-অভ্যুত্থানের রূপ : জওহরলাল নেহরুর ভাষায় এই আন্দোলন প্রকৃত অর্থেই ‘স্বতঃস্ফূর্ত গণ অভ্যুত্থান’। ছাত্র, যুবক, কৃষক, শ্রমিক সমাজের সব স্তরের মানুষ একযোগে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সংগঠন বা নেতৃত্ব অনুপস্থিত থাকলেও জনগণের আত্মপ্রেরণাই আন্দোলনকে বিশাল আকার দেয়।
4. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিরল উদাহরণ : মুসলিম লীগ আন্দোলনে যোগ না দিলেও হিন্দু-মুসলিম সাধারণ মানুষের মধ্যে ঐক্য অটুট ছিল। চট্টগ্রাম, শিলচর, বিহার, উত্তরপ্রদেশসহ বহু এলাকায় মুসলমানরা সক্রিয়ভাবে বিদ্রোহে অংশ নেয়। এই সময়ে বড় ধরনের কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি, যা আন্দোলনের অন্যতম ইতিবাচক দিক।
(খ) ভারত ছাড়ো আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ :
1. নেতৃত্বের শূন্যস্থান পূরণে নারীর অগ্রণী ভূমিকা : শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারির পর আন্দোলন থমকে না গিয়ে নতুন গতি পায় নারীদের উদ্যোগে। অরুণা আসফ আলি বোম্বাইয়ের গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে পতাকা উত্তোলন করে আন্দোলনের সূচনা করেন। ঊষা মেহতা গোপন রেডিও “Voice of Freedom” চালু করে আন্দোলনের খবর ও বার্তা ছড়িয়ে জনগণের মনোবল দৃঢ় রাখেন। সুচেতা কৃপালিনী ও সরোজিনী নাইডুরাও গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন।
2. বাংলায় নারীদের সংগ্রাম ও বলিদান : মেদিনীপুরের মাতঙ্গিনী হাজরা ছিলেন এই পর্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ৭৩ বছর বয়সেও তিনি তমলুক থানা অভিযানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে পতাকা রক্ষার মধ্যেই শহিদ হন। তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের ‘ভগিনী সেনা’ প্রমাণ করে যে নারীরা প্রয়োজনে সশস্ত্র ভূমিকা নিতেও প্রস্তুত ছিলেন।
3. পূর্ব ও উত্তর–পূর্ব ভারতে কিশোরী ও সাধারণ নারীদের আত্মত্যাগ : আসামে কনকলতা বড়ুয়ার মতো কিশোরী তরুণীরা পতাকা হাতে জীবন বিসর্জন দেন। ভোগেশ্বরী ফুকনানী-র মতো সাধারণ গৃহবধূরাও ব্রিটিশ অত্যাচারের সামনে মাথা নত করেননি। এই অংশগ্রহণ দেখায় যে নারী আন্দোলন সীমাবদ্ধ ছিল না শহর বা শিক্ষিত সমাজে।
4. ওড়িশা, বিহার ও অন্যান্য অঞ্চলে নারীর ব্যাপক সক্রিয়তা : ওড়িশায় রমা দেবী, মালতী চৌধুরী ও পার্বতী গিরি আন্দোলনকে সংগঠিত করেন। বিহারের ভাগলপুরে তারা রানী শ্রীবাস্তব স্বামীর মৃত্যুর শোক সামলেও তেরঙ্গা হাতে মিছিল চালিয়ে যান। দেশের প্রায় সব অঞ্চলে নারীরা গ্রেপ্তার, লাঠিচার্জ ও নির্যাতন সহ্য করে অদম্য সাহসে সংগ্রাম চালিয়ে যান।
মূল্যায়ন : ভারত ছাড়ো আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ শুধু সংখ্যায় বেশি ছিল না, গভীরতায়ও ছিল অসাধারণ। নেতৃত্ব, সংগঠন, বার্তা–পৌঁছানো, সশস্ত্র প্রতিরোধ প্রতিটি স্তরেই নারীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁদের ভূমিকা ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে নতুন দিশা এনে দেয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনির্বাণ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে।
🔹 লেখকের শেষ মন্তব্য :
দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার ইতিহাস চতুর্থ অধ্যায় : 'জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ' এই অধ্যায় থেকে আমাদের সাজেশন E-Book(PDF)গুলিতে আরো অনেকগুলি 3 নম্বর মানের, 4 নম্বর মানের, ও 8 নম্বর মানের খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আছে। সেগুলি পেতে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন অথবা উপরের Menu Option ক্লিক করে দেখতে পারেন।
File Details :
PDF Name : ক্লাস 12 জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ ৮ মার্কের প্রশ্ন PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 3
Mode : Read-only (Online)
Download Link : (Tomorrow)
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. ক্লাস 12 বিদ্রোহ এবং ব্রিটিশরাজ PDF | Click here |
| 2. ক্লাস 12 শিক্ষাবিজ্ঞান শিখন এবং শিখন কৌশল | Click here |
| 3. দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা সাজেশন 2026 PDF | Click here |
WB Semester Team
📞 & 💬 9883566115