🔹 Chuti Golpo Class 11 Question Answer
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 5]
১। "মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি" - কখন বা কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি? উক্তিটির তাৎপর্য আলোচনা করো। ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের গল্পকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'ছুটি' গল্প থেকে উদ্ধৃতাংশটি নেওয়া হয়েছে। এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ফটিক তার মাকে উদ্দেশ্য করে বলেছে।
প্রসঙ্গ : ফটিককে তার মামা বিশ্বম্ভরবাবু পড়ার জন্য কলকাতায় নিয়ে এলেও সেখানে সে ভালোবাসা পায়নি। মামী তাকে বাড়তি বোঝা মনে করতেন। স্নেহহীন পরিবেশে থাকতে থাকতে সে মায়ের কাছে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পালানোর পর পুলিশ তাকে ফিরিয়ে আনে। পরে মা কাছে এলে অসুস্থ ও দুর্বল ফটিক তখন এই কথাটি বলে।
উক্তিটির তাৎপর্য : ফটিকের বলা এই কথাগুলির মধ্যে গল্পের গভীর ট্র্যাজেডি লুকিয়ে রয়েছে। এখানে ‘ছুটি’ বলতে কেবল পড়াশোনার বিরতি বোঝানো হয়নি; বরং তার দুঃখভরা জীবন থেকে চূড়ান্ত মুক্তির আভাস দেওয়া হয়েছে। মামাবাড়ির অবহেলা, অপমান এবং স্নেহের অভাবে সে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। মায়ের মুখ দেখতে পেয়ে তার মনে হয়, সব কষ্টের অবসান ঘটতে চলেছে। তাই বাড়ি যাওয়ার কথা বলার মধ্য দিয়ে সে আসলে মৃত্যুকেই আপন করে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এই সংলাপ পাঠকের মনে তীব্র করুণ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
উপসংহার : অতএব, ফটিকের এই শেষ উক্তি তার জীবনের বেদনার পরিণতিকে স্পষ্ট করে এবং পাঠকের হৃদয়ে গভীর করুণার সৃষ্টি করে।
২। 'ছুটি' গল্পে মামাবাড়িতে গিয়ে ফটিকের যে দুরবস্থা হয়েছিল তা আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের গল্পকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'ছুটি' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হল ফটিক। এই গল্পে ফটিক পড়াশোনার উদ্দেশ্যে মামার সঙ্গে শহরে আসে। সে ভেবেছিল সেখানে হয়তো নতুন আনন্দের জীবন পাবে, কিন্তু বাস্তবে মামাবাড়ির পরিবেশ তার কাছে ক্রমে দুঃখ ও অপমানের জায়গা হয়ে ওঠে।
মামাবাড়িতে ফটিকের দুরবস্থা :
(ক) মামীর অস্বস্তি ও অনাগ্রহ : ফটিকের আগমন মামী মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। গ্রামের এক কিশোর হঠাৎ সংসারে এসে পড়ায় তিনি বিরক্ত হন। তাই তার আচরণে সবসময় এমন ভাব থাকত, যেন ফটিক বাড়ির অপ্রয়োজনীয় সদস্য।
(খ) স্বাধীনতা হারানো : গ্রামের খোলা প্রকৃতিতে অভ্যস্ত ফটিক শহরের চার দেওয়ালের মধ্যে নিজেকে বন্দি মনে করত। ইচ্ছেমতো চলাফেরা বা খেলাধুলার সুযোগ না থাকায় তার মন আরও অস্থির হয়ে উঠেছিল।
(গ) স্নেহের বদলে কঠোর ব্যবহার : মামীর কাছ থেকে সে ভালোবাসা পায়নি। কোনো কাজ যত যত্ন করেই করুক না কেন, তার ভাগ্যে জোটত না প্রশংসা। এই অবহেলা তাকে ভীষণ কষ্ট দিত এবং সে বুঝতে পারত, এখানে সে আপন নয়।
(ঘ) পড়াশোনায় অপমান : লেখাপড়ায় পিছিয়ে থাকায় স্কুলে তাকে নিয়মিত বকাঝকা শুনতে হতো। বই হারিয়ে ফেলায় শিক্ষকের রাগ আরও বাড়ে, ফলে শাস্তি ও অপমান তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।
(ঙ) আত্মীয়দের দূরত্ব ও চরম পরিণতি : মামাতো ভাইয়েরাও তাকে নিজেদের থেকে আলাদা করে রাখত। চারদিকের এই অবহেলা সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ শরীরেই সে মায়ের কাছে ফিরতে বেরিয়ে পড়ে। পরে মাকে সামনে পেয়ে তার মনে হয় সব কষ্টের শেষ আসছে।
উপসংহার : অতএব, মামাবাড়িতে ফটিক যে জীবন পেয়েছিল তা সুখের ছিল না; ছিল অবহেলা, অপমান ও একাকিত্বে ভরা। আপনজনের স্নেহ না পেয়ে তার মন দিন দিন ভেঙে পড়েছিল। এই কঠিন পরিস্থিতিই তাকে শেষ পর্যন্ত করুণ পরিণতির দিকে ঠেলে দেয় এবং গল্পটিকে গভীর বেদনাময় করে তোলে।
৩। "বেশ করেছ, আমি তোমাকে মাসের মধ্যে পাঁচবার বই কিনে দিতে পারিনে" কোন্ প্রসঙ্গে এই মন্তব্য? বক্তার এরূপ মন্তব্যের কারণ কী ? ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের গল্পকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'ছুটি' গল্প থেকে প্রদত্ত অংশটি নেওয়া হয়েছে। এই গল্পে দেখা যায় মামাবাড়িতে থাকা ফটিককে প্রায়ই অবহেলা ও তিরস্কার সহ্য করতে হয়। এমনই এক পরিস্থিতিতে তার মামী রাগের মাথায় এই কথাটি বলেন।
প্রসঙ্গ : স্কুলে পড়ায় অমনোযোগী থাকার পাশাপাশি ফটিক একদিন নিজের পাঠ্যবই হারিয়ে ফেলে। বই না থাকায় মাস্টারমশাই তাকে প্রায়ই বকাঝকা ও শাস্তি দিতেন, ফলে সে ভীষণ ভীত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে লজ্জিত মুখে সে মামীর কাছে গিয়ে বই হারানোর কথা স্বীকার করে। এই কথা শুনেই মামী রাগে ফেটে পড়েন এবং বই কিনে দিতে অনীহা জানিয়ে বিরক্ত ভঙ্গিতে উক্ত মন্তব্যটি করেন।
মন্তব্যের কারণ : মামীর চোখে ফটিক কখনো আদরের ছিল না, বরং সে ছিল বাড়তি বোঝা। ফলে তার সামান্য ভুলও বড় অপরাধ হয়ে উঠত। বই হারানোর কথা শুনে মামী ধরে নেন, ফটিক অসাবধান এবং ইচ্ছে করে খরচ বাড়াচ্ছে। আসলে এটি প্রথম ঘটনা হলেও তিনি বাড়িয়ে বলে যেন বহুবার বই কিনতে হয়েছে এমন অভিযোগ তোলেন। এতে তার বিরক্তি, রাগ এবং ফটিককে হেয় করার মনোভাবই প্রকাশ পায়। এইভাবে কথা বলে তিনি তাকে আরও লজ্জিত ও অপমানিত করতে চেয়েছিলেন।
উপসংহার : অতএব এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায় যে মামাবাড়িতে ফটিক সহানুভূতি বা সমবেদনার বদলে তিরস্কারই বেশি পেয়েছিল। তার অসহায় অবস্থাকে বুঝে নেওয়ার পরিবর্তে মামী তাকে দোষারোপ করেছিলেন, যা ফটিকের মানসিক কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
৪। "বিধবা এ প্রস্তাবে সহজেই সম্মত হইলেন।"-কে, কী প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং কখন? সেই প্রস্তাবে বাড়ির সকলের প্রতিক্রিয়া কী ছিল? ৩+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের গল্পকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'ছুটি' গল্প থেকে প্রদত্ত অংশটি নেওয়া হয়েছে। এই গল্পে ফটিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই উক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
প্রস্তাবের প্রেক্ষিত : অনেকদিন বাইরে কাজ করার পর বিশ্বম্ভরবাবু বোনের বাড়িতে আসেন। বিদায়ের আগে তিনি ছেলেদের পড়াশোনার খবর নেন। ফটিকের দুষ্টুমি ও অমনোযোগের কথা শুনে তিনি তাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে নিজের কাছে রেখে শিক্ষা দেওয়ার কথা বলেন। এই প্রস্তাবই ফটিকের মাকে দেওয়া হয়েছিল, এবং তখনই তিনি তাতে রাজি হন।
প্রস্তাবে বাড়ির সকলের প্রতিক্রিয়া : ফটিকের মা ছেলের দুষ্টুমি ও অবাধ্যতায় অনেকদিন ধরেই অতিষ্ঠ ছিলেন। তার মনে ভয় ছিল, ফটিক কখন যে ছোট ভাইকে বিপদে ফেলবে বলা যায় না। তাই মামার সঙ্গে পাঠানোর সুযোগ পেয়ে তিনি একরকম হালকা বোধ করেন এবং দ্রুত সম্মতি দেন। অন্যদিকে, ফটিক শহরে গিয়ে নতুনভাবে থাকার ভাবনায় ভীষণ উৎসাহিত হয়ে ওঠে। আনন্দে সে মামাকে নানা প্রশ্ন করে বিরক্ত করে তোলে, এমনকি রাতে উত্তেজনায় তার ঘুমও আসে না। যাওয়ার সময় উদার মনে নিজের প্রিয় খেলাধুলার জিনিস ভাইকে দিয়ে দেয়। তবু ছেলের এত খুশি হওয়া দেখে মায়ের মনে সামান্য কষ্টের অনুভূতিও জেগেছিল।
উপসংহার : অতএব বিশ্বম্ভরবাবুর প্রস্তাবে মা স্বস্তি পেয়ে সম্মতি দিলেও এবং ফটিক আনন্দে উচ্ছ্বসিত হলেও, এই সিদ্ধান্তের ভিতরেই ভবিষ্যতের দুঃখের বীজ লুকিয়ে ছিল। তখন কেউ বুঝতে পারেনি, এই যাওয়াই শেষ পর্যন্ত ফটিকের জীবনে করুণ পরিণতি ডেকে আনবে।
৫। "পরদিন প্রাতঃকালে ফটিককে আর দেখা গেল না।"-ফটিককে পরদিন সকালবেলা কেন দেখা যায়নি? কীভাবে তার খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল? ৩+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের গল্পকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'ছুটি' গল্প থেকে প্রদত্ত অংশটি নেওয়া হয়েছে। এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ফটিক। মামাবাড়িতে ফটিকের জীবন ছিল অবহেলা ও তিরস্কারে ভরা। সেই কষ্টই তাকে একসময় হঠাৎ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করে।
ফটিককে পরদিন সকালবেলায় দেখতে না পাওয়ার কারণ : একদিন স্কুল থেকে ফিরে ফটিকের মাথা ব্যথা শুরু হয় এবং তার শরীরে জ্বর আসার লক্ষণ দেখা দেয়। সে বুঝতে পারে, অসুস্থ হলে মামী তাকে বিরক্তিকর বোঝা বলেই মনে করবেন। তখন তার মনে হয়, এখানে থাকলে সবাইকে কেবলই কষ্ট দেওয়া হবে। মায়ের স্নেহ পাওয়ার আশাই তার মনে সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে। তাই কাউকে কিছু না জানিয়ে সে চুপিচুপি বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এই কারণেই পরদিন সকালে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
যেভাবে খোঁজ পাওয়া গেল : ফটিক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর বাড়ির লোকজন ও আশপাশে অনেক খোঁজ করা হয়, কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায় না। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও অনুসন্ধান চলতে থাকে। শেষে তার মামা পুলিশে খবর দেন। দিনের শেষে পুলিশই ভিজে-অসুস্থ ফটিককে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে।
উপসংহার : অতএব, স্নেহ ও সহানুভূতির অভাবেই ফটিক অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। তাকে খুঁজে পাওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে, তার এই পালিয়ে যাওয়া ছিল গভীর মানসিক যন্ত্রণার ফল, যা শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতিকে আরও করুণ করে তোলে।
৬। ‘ছুটি’ গল্প অবলম্বনে ফটিকের মামির চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের গল্পকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘ছুটি’ গল্পে ফটিকের মামি এমন একজন গৃহিণী, যিনি ফটিককে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবে সহজে মেনে নিতে পারেননি। তাঁর ব্যবহার অনেক সময় কঠোর মনে হলেও তার ভিতরে সংসারের দায়িত্ব ও চিন্তার প্রভাব ছিল।
ফটিকের মামির চরিত্রের বৈশিষ্ট্যসমূহ :
(ক) অনীহা : ফটিক যখন মামার সঙ্গে কলকাতার বাড়িতে আসে, তখন থেকেই মামির মনে তাকে নিয়ে আপত্তি ছিল। তিনি মনে করেছিলেন, এতে সংসারে বাড়তি ঝামেলা ও খরচ বাড়বে। তাই শুরু থেকেই তিনি ফটিককে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করতে পারেননি।
(খ) তিরস্কার করার প্রবণতা : ফটিক কোনো কাজ করতে গেলে যদি একটু ভুল করত বা বেশি উৎসাহ দেখাত, তিনি তাকে ধমক দিতেন। তাঁর এই রূঢ় ব্যবহারে ফটিক ধীরে ধীরে ভীত ও নিরুৎসাহ হয়ে পড়ে এবং নিজেকে বাড়ির বোঝা বলে ভাবতে শুরু করে।
(গ) পড়াশোনার ব্যাপারে কঠোরতা : ফটিক পড়াশোনায় খুব মনোযোগী ছিল না। যখন সে বই হারিয়ে ফেলে, তখন মামি বিরক্ত হয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে বারবার বই কিনে দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এতে বোঝা যায় তিনি সংসারের খরচ নিয়ে সচেতন ছিলেন।
(ঘ) সংসারমুখী মানসিকতা : নিজের তিন ছেলেকে নিয়েই তাঁর সমস্ত ভাবনা ও দায়িত্ব ছিল। তাদের যত্ন নেওয়ার মধ্যেই তিনি ব্যস্ত থাকতেন। তাই বাইরের এক গ্রাম থেকে আসা ছেলেকে আপন করে নিতে তাঁর অসুবিধা হওয়াটাই স্বাভাবিক।
(ঙ) অন্তরের দায়িত্ববোধ : তবুও তিনি সম্পূর্ণ নির্দয় ছিলেন না। ফটিক বাড়ি থেকে চলে গেলে তিনি ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েন, খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত করতে পারেননি। এতে বোঝা যায় তাঁর ভেতরে মানবিকতা ও কর্তব্যবোধ ছিল।
মূল্যায়ন : ফটিকের মামি বাইরে থেকে কঠোর ও রাগী বলে মনে হলেও তিনি পুরোপুরি হৃদয়হীন নন। সংসারের চাপ, দায়িত্ব ও বাস্তব চিন্তার কারণে তিনি ফটিককে স্নেহ দিতে পারেননি, কিন্তু সংকটের সময় তাঁর মনের কোমল দিক প্রকাশ পেয়েছে।
৭। ফটিক চরিত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের গল্পকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘ছুটি’ গল্পের প্রধান চরিত্র হল ফটিক। তাকে ঘিরেই গল্পের ঘটনা তৈরি হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তার ভাগ্যই কাহিনিকে করুণ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। ফটিকের স্বভাব, অনুভূতি ও আচরণের মধ্য দিয়ে একটি কিশোর মনের নানা দিক প্রকাশ পেয়েছে।
ফটিক চরিত্রের বৈশিষ্ট্য :
(ক) দুরন্ত ও নেতৃত্বপ্রবণ : গল্পের শুরুতে গ্রামের ছেলেদের মধ্যে ফটিকই সবার আগে এগিয়ে থাকে। শালকাঠের গুঁড়ি গড়িয়ে খেলার পরিকল্পনা তার মাথা থেকেই আসে। অন্যরা তাকে অনুসরণ করে। এতে বোঝা যায়, সে সাহসী এবং দলকে নেতৃত্ব দিতে ভালোবাসে। তবে এই নেতৃত্বের মধ্যেই তার দুষ্টুমি ও বেপরোয়া ভাবও ছিল।
(খ) স্বাধীন জীবনের আকাঙ্ক্ষা ও গ্রামের টান : কলকাতায় যাওয়ার কথা শুনে প্রথমে সে আনন্দ পেলেও পরে শহরের নিয়মের মধ্যে সে নিজেকে আটকে পড়া মনে করে। গ্রামের খোলা মাঠ, নদীর ধারে ঘোরাঘুরি, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা এই সব স্মৃতি তাকে কষ্ট দেয়। সে বুঝতে পারে, তার মন আসলে গ্রামের মুক্ত পরিবেশেই পড়ে আছে।
(গ) আত্মসম্মানবোধ ও অনুতাপ : বই হারানোর ঘটনায় যখন তাকে বকাঝকা করা হয়, তখন সে গভীর লজ্জায় ডুবে যায়। তার মনে হয়, সে অন্যের টাকায় অযথা ক্ষতি করছে। এই অনুভূতি তাকে ভিতরে ভিতরে কষ্ট দেয়। নিজের ভুল সে বুঝতে পারত এবং তা নিয়ে অনুতপ্ত হত।
(ঘ) মায়ের প্রতি গভীর টান : মা থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণা তাকে সবসময় কাতর করে রাখে। শহরে কেউ তাকে আপন করে নেয়নি, তাই তার মনে মায়ের স্নেহের অভাব আরও বেশি করে ধরা দেয়। অসুস্থ অবস্থায় তার একমাত্র ইচ্ছে ছিল মায়ের কাছে ফিরে যাওয়া।
(ঙ) কোমল ও সংবেদনশীল হৃদয় : বাইরে থেকে তাকে যতই দুষ্ট মনে হোক, ভেতরে সে ছিল খুবই আবেগপ্রবণ। অবহেলা ও রূঢ় কথা তাকে আহত করত। কিন্তু সে প্রতিবাদ না করে চুপচাপ সহ্য করত, যা তার মনের কোমলতা প্রকাশ করে।
মূল্যায়ন : অতএব ফটিকের চরিত্রে যেমন চপলতা ছিল, তেমনি ছিল গভীর অনুভূতি। ভালোবাসা ও স্বীকৃতির অভাবই তাকে ভেঙে দেয়। এই কারণেই সে পাঠকের মনে মায়া ও সহানুভূতি জাগায় এবং গল্পটিকে হৃদয়স্পর্শী করে তোলে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : WB Semester Team প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টিতে পুরো সিলেবাসের প্রশ্ন উত্তর রয়েছে এবং ছুটির গল্প থেকে আরো অনেকগুলি প্রশ্ন উত্তর রয়েছে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. ক্লাস 11 রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহ | Click here |
| 2. ক্লাস 11 মৌলিক অধিকারসমূহ প্রশ্ন উত্তর | Click here |
| 3. ক্লাস 11 প্রবন্ধ রচনা PDF | Click here |
| 4. নানা রঙের দিন নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
