WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

আগুন নাটকের প্রশ্ন উত্তর | Agun Natok Class 11 | Agun Natok Question Answer

0

আগুন নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF

ভূ(caps)মিকা : একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা পরীক্ষার জন্য একটি মাত্র নাটক পড়তে হবে তা হল বিজন ভট্টাচার্যের লেখা 'আগুন' নাটক। এই নাটক থেকে লিখিত পরীক্ষায় 40 নম্বরের মধ্যে 5 নম্বর থাকবে। অর্থাৎ পরীক্ষায় দুটি 5 নম্বর মানের বড় প্রশ্ন দেওয়া থাকবে, তার মধ্যে যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। তাই এই নাটকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি নাটক। অতএব তোমাদের সুবিধার জন্য বিজন ভট্টাচার্যের লেখা 'আগুন' নাটক থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর সহ Free PDF নিচে দিলাম। এছাড়াও আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুকটি (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। তাই এখান থেকে পরীক্ষায় অনেক প্রশ্ন কমন পাবেন। সুতরাং যারা বাংলা ই-বুকটি(PDF) কিনতে চান, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

আগুন নাটকের প্রশ্ন উত্তর

🔹 Agun Natok Question Answer PDF

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 5]
1. "আগুন" নাটকের চতুর্থ দৃশ্যে হরেকৃষ্ণ ও মনোরমার সংলাপের মধ্য দিয়ে যে ছবিটি ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় লেখো। HS Model Question 24]
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যের লেখা ‘আগুন’ নাটকটি মন্বন্তরের ভয়াবহ পটভূমিতে রচিত। এই নাটকের চতুর্থ দৃশ্যে হরেকৃষ্ণ ও তার স্ত্রী মনোরমার কথাবার্তার মাধ্যমে মধ্যবিত্ত পরিবারের দুর্দশা, দুশ্চিন্তা ও অসহায় অবস্থার একটি জীবন্ত ছবি ফুটে ওঠে। সামান্য খাদ্য সংগ্রহ করাও যে কত বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, তাদের সংলাপে স্পষ্ট বোঝা যায়।
হরেকৃষ্ণ ও মনোরমার সংলাপে ফুটে ওঠা ছবি : 
(ক) ঘরের চরম অনটন : নাটকের চতুর্থ দৃশ্যের শুরুতেই হরেকৃষ্ণ দুশ্চিন্তার সঙ্গে জানায়, ঘরে চাল, চিনি, চা কোনো প্রয়োজনীয় জিনিসই নেই। এমনকি রান্না করার জন্য কয়লাও অবশিষ্ট নেই। এতে বোঝা যায় সংসার কতটা সংকটে আছে।
(খ) মনোরমার আশা ও অনুরোধ : স্বামীর কথা শুনে মনোরমা হাল ছাড়েন না। তিনি বলেন, কষ্ট হলেও আজ রেশনের লাইনে দাঁড়ানো দরকার। খবর পাওয়া গেছে যে কিছুটা চাল দেওয়া হতে পারে। এই অল্প সম্ভাবনাই তার কাছে বড় ভরসা।
(গ) স্বামীর অসহায়তা ও দুশ্চিন্তা : হরেকৃষ্ণ জানায়, অফিসের কাজ ফেলে এতক্ষণ লাইনে দাঁড়ানো তার পক্ষে কঠিন। আবার দাঁড়ালেও যে নিশ্চিতভাবে চাল পাওয়া যাবে, এমন কথাও কেউ বলতে পারে না। ফলে তার মনে দ্বিধা ও উদ্বেগ কাজ করে।
(ঘ) কালোবাজারির নির্মমতা : মনোরমা অফিস থেকে খাবার জিনিস পাওয়ার প্রসঙ্গ তুললে হরেকৃষ্ণ হতাশ হয়ে জানায়, যাদের দায়িত্ব ছিল কর্মচারীদের দেওয়ার, তারাই সেগুলি বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছে। ফলে ন্যায্য পাওনা থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছে। এতে সমাজের অন্যায় রূপ প্রকাশ পায়।
(ঙ) বিশ্বাসে টানাপোড়েন : রেশনে যাওয়ার আগে মনোরমা স্বামীকে ঠাকুরকে প্রণাম করতে বলেন। যদিও হরেকৃষ্ণের মনে সন্দেহ থাকে এতে আদৌ কোনো ফল হবে কি না, তবু স্ত্রীর কথায় তিনি তা করেন।
উপসংহার : অতএব, এই কথোপকথনের মধ্য দিয়ে মন্বন্তরের চাপে জর্জরিত মধ্যবিত্ত পরিবারের অসহায়তা, হতাশা ও বঞ্চনার বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সামান্য খাদ্যের জন্যও তাদের কত লড়াই করতে হয়, সেটাই এই দৃশ্যে প্রধানভাবে ধরা পড়ে।

2. 'আগুন! আগুন জ্বলছে আমার পেটে'- কোন প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে? উক্তিটির তাৎপর্য আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যের লেখা ‘আগুন’ নাটকে দুর্ভিক্ষে জর্জরিত মানুষের করুণ জীবনচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের ক্ষুধা, হতাশা ও বেঁচে থাকার লড়াই এই নাটকের প্রধান বিষয়। উল্লিখিত সংলাপটি সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিকেই স্পষ্ট করে।
প্রসঙ্গ : নাটকের একটি দৃশ্যে দেখা যায়, দুর্ভিক্ষের সময় মানুষ চাল পাওয়ার আশায় ভোর থেকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে সিভিক গার্ড উপস্থিত। হঠাৎ সন্দেহ হয়, একজন যুবক নিয়ম ভেঙে লাইনে ঢুকতে চাইছে। এ নিয়ে সিভিক গার্ড ও কয়েকজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে এক যুবক দৌড়ে এসে ‘আগুন আগুন’ বলে চিৎকার করে। সবাই কারণ জানতে চাইলে সে হাত জোড় করে আলোচ্য মন্তব্যটি বলেছেন।
উক্তিটির তাৎপর্য : এখানে 'আগুন' বলতে বাস্তব আগুন বোঝানো হয়নি, বোঝানো হয়েছে তীব্র ক্ষুধা। দুর্ভিক্ষ ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সাধারণ মানুষ খাদ্যের জন্য অসহায় হয়ে পড়েছিল। ন্যায্য দামে চাল পাওয়ার আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরেও অন্নের নিশ্চয়তা ছিল না। সেই ক্ষুধাই সবাইকে একই সারিতে দাঁড় করিয়েছে। এমন সময় লাইনে দাঁড়িয়ে কয়েকজনকে ঝগড়া করতে দেখে এক যুবক নিজের পেটের জ্বালা বোঝাতে বলে ওঠে "আগুন জ্বলছে আমার পেটে।" অর্থাৎ যুবকটি আসলে বলতে চেয়েছে, যখন পেটের জ্বালা এত প্রবল, তখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করা অর্থহীন। ক্ষুধার কষ্টই মানুষের সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা এই সত্যটিই তার কথায় প্রকাশ পেয়েছে।
মূল্যায়ন : অতএব, সংলাপটি দুর্ভিক্ষগ্রস্ত মানুষের ভয়াবহ খিদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং পারস্পরিক বিবাদ ভুলে একসঙ্গে থাকার বার্তা দেয়।

3. আগুন নাটকে মন্বন্তর জনিত অনাহার ও খাদ্য সংকট কীভাবে ফুটে উঠেছে। 
অথবা, 'আগুন' নাটকে মন্বন্তরের ফলে সৃষ্ট খাদ্যাভাব ও জীবন যন্ত্রণার পরিচয় দাও। 
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যের লেখা ‘আগুন’ নাটকে মন্বন্তরের ভয়াবহ প্রভাব মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে নেমে এসেছিল, তার বাস্তব ছবি ফুটে উঠেছে। ক্ষুধা, অভাব, অপমান ও অনিশ্চয়তা এই সব মিলিয়ে মানুষ কী কঠিন সময়ের মধ্যে বেঁচে ছিল, নাটকের বিভিন্ন দৃশ্য তারই পরিচয় দেয়।
খাদ্যাভাব ও জীবন যন্ত্রণা : 
(ক) নিম্নবিত্ত পরিবারের অনাহারের ছবি : প্রথম দৃশ্যে এক গরিব সবজি বিক্রেতা পরিবারের কথা দেখা যায়। ঘরের চারপাশে দারিদ্র্যের ছাপ স্পষ্ট। সবার চিন্তা কীভাবে চাল জোগাড় হবে। খাওয়ার চেয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে কিছু পাওয়াই যেন বড় কথা হয়ে দাঁড়ায়। এতে তাদের অসহায় জীবনযাত্রা বোঝা যায়।
(খ) কৃষক পরিবারের টিকে থাকার লড়াই : দ্বিতীয় দৃশ্যে গ্রামবাংলার কৃষকের জীবনেও একই দুরবস্থা ধরা পড়ে। ফসল ফললেও তা তাদের পেটে পৌঁছবে কিনা, তার নিশ্চয়তা নেই। রেশনের ওপর নির্ভর করে দিন কাটাতে হচ্ছে। কষ্ট মেনে নিয়ে কোনোভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা চলছে।
(গ) শ্রমিক সংসারের অশান্তি : তৃতীয় দৃশ্যে শ্রমিক সতীশের খাদ্যের অভাব পারিবারিক শান্তি নষ্ট করে দেয়। ক্ষুধা মানুষের ধৈর্য কেড়ে নেয়। স্বামী-স্ত্রীর কথাবার্তায় অভাবের তীব্রতা ধরা পড়ে। পেটের জ্বালা তাদের আচরণেও কঠোরতা এনে দেয়।
(ঘ) মধ্যবিত্ত জীবনের হতাশা : চতুর্থ দৃশ্যে কেরানি হরেকৃষ্ণের ঘরেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নেই। তার ওপর অফিসের বড়রা কর্মচারীদের জন্য আনা জিনিস নিজেরাই অন্য পথে সরিয়ে দিচ্ছে। ফলে অভাবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বঞ্চনার কষ্ট।
(ঙ) রেশন লাইনে মানবতার এক ছবি : পঞ্চম দৃশ্যে বহু ক্ষুধার্ত মানুষ একসঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। সেখানে জাত-ধর্মের পার্থক্য মুছে যায়। সবাই একই যন্ত্রণায় কাতর খাবার চাই। ক্ষুধাই তাদের এক জায়গায় এনে মিলিয়েছে। শেষে একজন বলে,"আগুন জ্বলছে আমাদের পেটে"এই কথাতেই সেই ভয়ংকর ক্ষুধার চিত্র স্পষ্ট হয়।
উপসংহার : অতএব, নাটকটি স্পষ্ট করে যে মন্বন্তরের সময় খাদ্যসংকট মানুষের জীবনকে ভীষণ দুর্বিষহ করে তুলেছিল। ক্ষুধা শুধু শরীরকে নয়, মন ও সমাজকেও ভেঙে দেয়। তাই ‘আগুন’ নাটকে জীবনযন্ত্রণা খুবই তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

4. "যে রক্ষক সেই হল গিয়ে তোমার ভক্ষক"- উক্তিটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করো। এখানে রক্ষক কীভাবে ভক্ষক হয়ে উঠেছে তা আলোচনা করো। ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যের লেখা ‘আগুন’ নাটকে মন্বন্তরের সময়কার খাদ্যসংকট ও মানুষের দুর্দশা বাস্তবভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আলোচ্য উক্তিটি সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই উচ্চারিত।
প্রসঙ্গ : নাটকের চতুর্থ দৃশ্যে হরেকৃষ্ণ ও তার স্ত্রী মনোরমার কথাবার্তায় তাদের ঘরের খাদ্যাভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংসারে চাল-ডাল নেই, তাই মনোরমা জানতে চান অফিস থেকে যে জিনিস দেওয়ার কথা ছিল তার কী হল। উত্তরে হরেকৃষ্ণ হতাশ হয়ে জানায়, যাদের মাধ্যমে পাওয়ার কথা, তারাই অনিয়ম করছে। এই পরিস্থিতিতেই তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন "যে রক্ষক সেই হল গিয়ে তোমার ভক্ষক।"
রক্ষক যেভাবে ভক্ষকে পরিণত হয়েছে : অফিসের কর্তাদের দায়িত্ব ছিল কর্মচারীদের স্বল্প দামে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব পালন না করে উল্টো নিজের লাভের পথ খুঁজেছে। কর্মচারীদের নামে আনা চাল-ডাল তারা বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছে। ফলে যাদের সাহায্য পাওয়ার কথা, তারাই বঞ্চিত হচ্ছে। দুর্ভিক্ষের সময় এই অন্যায় আচরণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়। দায়িত্বে থেকেও সাহায্য না করে তারা মানুষের প্রাপ্য কেড়ে নিচ্ছে এভাবেই রক্ষক ভক্ষকে পরিণত হয়েছে।
উপসংহার : অতএব, এই উক্তির মাধ্যমে দুর্ভিক্ষকালে ক্ষমতাবান মানুষের লোভ ও নিষ্ঠুরতার দিকটি প্রকাশ পায়। হরেকৃষ্ণের কথায় শোষিত মানুষের জমে থাকা ক্ষোভই উচ্চারিত হয়েছে।

5. 'লাইন ভেঙে তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।' - রেশনের লাইনে এই হট্টগোল কেন হয়েছিল তা আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যের লেখা ‘আগুন’ নাটকে দুর্ভিক্ষের সময় সাধারণ মানুষের দুর্দশা খুব বাস্তবভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষুধার্ত মানুষদের মধ্যে সামান্য ঘটনাকেও কেন্দ্র করে কীভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়, সেই ছবিই এখানে ফুটে উঠেছে।
রেশনের লাইনে হট্টগোলের কারণ :
(ক) সিভিক গার্ডের অন্যায় সন্দেহ : লাইনের মধ্যে সিভিক গার্ড চতুর্থ পুরুষকে দোষী প্রমাণ করতে চায়। সে বোঝাতে থাকে, লোকটি অসৎ এবং চাল চুরি করেছে। এই অভিযোগে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
(খ) প্রতিবাদ ও তর্কের সূত্রপাত : চতুর্থ পুরুষ নিজের সম্মান রক্ষার জন্য প্রতিবাদ জানায়। তৃতীয় পুরুষও গার্ডের আচরণ মেনে নিতে পারে না। তাদের কথাবার্তার ফলে পরিস্থিতি ক্রমে তর্কাতর্কিতে বদলে যায়।
(গ) লাইনে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ : হরেকৃষ্ণ মনে করে, যে করেই হোক চাল পাওয়াটাই আসল কথা। তাই সে বলে, লাইনের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেই তো সমস্যার সমাধান হতে পারে। কিন্তু তৃতীয় পুরুষ এতে রাজি হয় না। ফলে মতের অমিল থেকে গোলমাল আরও বাড়ে।
(ঘ) অপমানজনক ব্যবহার : সিভিক গার্ড যখন চতুর্থ পুরুষকে সরে যেতে বলে এবং তাকে গুরুত্ব না দিয়ে অপমান করে, তখন সে গভীরভাবে আহত হয়। দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষদের মানুষ হিসেবেই যেন ধরা হচ্ছে না এই বোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
(ঙ) উত্তেজনার বিস্ফোরণ : শেষ পর্যন্ত চতুর্থ পুরুষ অপমান সহ্য করতে না পেরে রেগে গিয়ে গালিগালাজ করে। গার্ডও মারতে উদ্যত হয়। দুজনের ধস্তাধস্তিতে লাইন ভেঙে যায় এবং চারদিকে চিৎকার, মারামারির পরিবেশ তৈরি হয়।
উপসংহার : সুতরাং বোঝা যায়, দীর্ঘদিনের ক্ষুধা, অবিচার আর অপমান মানুষের সহ্যের সীমা ভেঙে দিয়ে

6. 'আগুন' নাটকের প্রথম দৃশ্যের প্রথমে মঞ্চ পরিস্থিতির যে বর্ণনা পাওয়া যায় তা আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যের লেখা ‘আগুন’ নাটকের প্রথম দৃশ্যের শুরুতেই মঞ্চের যে পরিবেশ ফুটে ওঠে, তা থেকে দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রা, তাদের অভাব আর ক্লান্তির ছবি স্পষ্ট বোঝা যায়। ভোরের আলো ধীরে ধীরে চারপাশকে দৃশ্যমান করে তোলে এবং সেই আবহেই নাটকের সূচনা হয়।
প্রথম দৃশ্যের প্রথমে মঞ্চ পরিস্থিতির বর্ণনা :
(ক) সময় ও আলোর চিত্র : সময়টা ভোরবেলা। আলো পুরোপুরি ফোটেনি, তাই সব কিছু আবছা ও অস্পষ্ট লাগে। এই আধো-অন্ধকার পরিবেশ নাটকের গম্ভীর মেজাজ তৈরি করে।
(খ) ঘরের অবস্থা : মঞ্চে সাধারণ ঘরোয়া কিছু জিনিস ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। দেখে বোঝা যায়, ঘরটি খুবই সাদামাটা এবং অভাবের সংসার।
(গ) অপরিচ্ছন্নতা ও কাপড়চোপড় : একটি মেটে জালের পাশে বাঁশের তৈরি আলনায় ঝুলছে দু-একখানা ময়লা জামাকাপড়। তার সঙ্গে আছে ছেঁড়া চট ও পুরোনো কাঁথা। এগুলি পরিবারের দীনতার পরিচয় দেয়।
(ঘ) ঘুমন্ত মানুষদের দৃশ্য : মাটির মেঝেতে তিনজন মানুষ কাপড় মুড়িয়ে শুয়ে আছে। তারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। মোরগ ডাকার পর একজন একটু নড়ে উঠে পাশ ফেরে। আবার কেউ ঘুমের মধ্যেই কিছু বিড়বিড় করে থেমে যায়। এতে তাদের ক্লান্ত শরীরের আভাস পাওয়া যায়।
(ঙ) ভোরের শব্দ ও জেগে ওঠা : মোরগের ডাকের পাশাপাশি দূর থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে। এই শব্দে একজন পুরুষ হাই তুলে আড়মোড়া ভেঙে ধীরে ধীরে জেগে ওঠে, যেন নতুন দিনের শুরু হচ্ছে।
উপসংহার : অতএব, এই মঞ্চবর্ণনার মাধ্যমে নাট্যকার খুব অল্প কথায় দরিদ্র মানুষের বাস্তব জীবন, তাদের ক্লান্তি এবং ভোরবেলার পরিবেশকে জীবন্ত করে তুলেছেন। এর ফলে দর্শক শুরুতেই নাটকের আবহের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়।

7. ".. বাব্বা! 'লুঙ্গি, টিকি, পৈতে, টুপি সব একাকার হয়ে গেছে।'- কোন্ প্রসঙ্গে এই মন্তব্যটি বলা হয়েছে? মন্তব্যটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যের লেখা ‘আগুন’ নাটকে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের খাদ্যের জন্য সংগ্রামের ছবি ফুটে উঠেছে। রেশনের দোকানের সামনে বিভিন্ন জাতি-ধর্মের মানুষ অন্নের আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। এই অবস্থাতেই দোকানদারের মুখে উক্ত মন্তব্যটি উচ্চারিত হয়।
প্রসঙ্গ : নাটকের পঞ্চম দৃশ্যে দেখা যায়, চাল নেওয়ার জন্য বহু মানুষ দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করছে। সিভিক গার্ড সেই ভিড় সামলাচ্ছে। সবাই খুব কষ্টে কিছু খাদ্য নিয়ে বেরিয়ে যেতে চাইছে। এমন সময় লুঙ্গি পরা এক মুসলমান ব্যক্তি দোকানিকে জিজ্ঞেস করে সবার জন্য যথেষ্ট চাল আছে কি না, কেউ বাদ পড়বে কি না। তার এই কথার উত্তরে দোকানি ব্যঙ্গের সুরে বলে ওঠে, “লুঙ্গি, টিকি, পৈতে, টুপি সব একাকার হয়ে গেছে।”
মন্তব্যটির তাৎপর্য : এই কথার মধ্যে দিয়ে দুর্ভিক্ষের নির্মম সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তীব্র ক্ষুধা মানুষের আলাদা পরিচয় মানে না। এখানে মুসলমান, হিন্দু, ভিন্ন প্রদেশের মানুষ সবাই একই কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে, কারণ সবার প্রয়োজন একটাই, তা হল অন্ন। খিদের চাপে তাদের ভেদাভেদ মুছে গেছে, সামাজিক দূরত্বের দেয়াল ভেঙে পড়েছে। তবে দোকানদার কথাটি সহানুভূতির সঙ্গে বলেনি; তার কথায় কটাক্ষ লুকিয়ে ছিল। সে আসলে ব্যঙ্গ করে বোঝাতে চেয়েছে যে, অভাব মানুষকে বাধ্য করেছে সব পার্থক্য ভুলে যেতে।
উপসংহার : অতএব, উক্ত মন্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যায় দুর্ভিক্ষ মানুষের পরিচয়ের গর্ব ভেঙে দিয়ে তাকে এক সারিতে এনে দাঁড় করায়। ক্ষুধাই এখানে সবচেয়ে বড় সত্য হয়ে ওঠে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : আগুন নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1.  লালন শাহ ফকিরের গান প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
2. তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
3. নুন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
4. ভাব সম্মিলন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
Regards,
WB Semester Team 
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.