WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

লালন শাহ ফকিরের গান প্রশ্ন উত্তর | Lalon Shah Fakir Gaan Question Answer | Lalon Shah Fakir Gaan Class 11 Question Answer

0

লালন শাহ ফকিরের গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF

ভূ(caps)মিকা : একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা পরীক্ষার জন্য তিনটি কবিতা পড়তে হবে। সেগুলি হল - বিদ্যাপতির লেখা 'ভাব সম্মিলন', লালন শাহের লেখা 'লালন শাহ ফকিরের গান' এবং জয় গোস্বামীর লেখা 'নুন' কবিতা। এই তিনটি কবিতা থেকে পরীক্ষায় 40 নম্বরের মধ্যে মোট 5 নম্বর আসবে। অর্থাৎ এই তিনটি কবিতা থেকে পরীক্ষায় 5 নম্বরের বড়ো প্রশ্ন দুটি (তিনটি কবিতার মধ্যে যেকোনো দুটি কবিতা থেকে দুটি বড় প্রশ্ন) থাকবে, তার-মধ্যে যে-কোন একটি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। লালন শাহের লেখা 'লালন শাহ ফকিরের গান' কবিতার থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর সহ Free PDF নিচে দিলাম। এছাড়াও আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুক (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। তাই এখান থেকে পরীক্ষায় অনেক প্রশ্ন কমন পাবেন। সুতরাং যারা বাংলা ই-বুক (PDF)টি কিনতে চান, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

Lalon Shah Fakir Gaan Question Answer

🔹 Lalon Shah Fakir Gaan Question Answer

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 5]
1. লালন শাহ কে ছিলেন? পাঠ্য "লালন শাহ ফকিরের গান" কবিতার মূল বিষয়টি ব্যাখ্যা করো।
অথবা, পাঠ্য লালন-গীতিকা অবলম্বনে মূল বিষয়টি আলোচনা করো। 
উত্তর : বাংলা বাউল ধারার ইতিহাসে লালন শাহ ফকির এক উজ্জ্বল নাম। তাঁর গান ও ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মানুষ এবং মানবতা। পাঠ্য লালন-গীতিকায় তিনি সহজ ভাষায় মানুষের ভিতর ঈশ্বরকে খুঁজে নেওয়ার পথ দেখিয়েছেন।
(ক) লালন শাহের পরিচয় : লালন শাহ ফকির ছিলেন বাউল মতের অন্যতম প্রধান সাধক ও মানবপ্রেমের প্রচারক। তাঁর জন্ম সাল ও জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশের ধারণা, তিনি ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে অবিভক্ত বাংলার কুষ্টিয়ায় জন্মেছিলেন। তিনি সাধক, দার্শনিক, গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী সব পরিচয়েই সমাদৃত। জীবনে বহু বাউল গান রচনা করেন, যা পরে ‘লালন গীতিকা’ নামে পরিচিত হয়। তাঁর বিশ্বাস ছিল মানুষের মধ্যেই পরম সত্যের বাস।
(খ) কবিতার মূল বক্তব্য : লালনের মতে, মানুষই সৃষ্টির সেরা রূপ এবং মানুষের ভেতরেই ঈশ্বর অবস্থান করেন। তাই সত্য সাধনা মানে মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সেবা। কেবল নিজের সুখের কথা ভাবলে জীবন পূর্ণ হয় না; মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করাই প্রকৃত ধর্ম। তিনি বলেন, অন্যকে সম্মান করতে না পারলে নিজের ভিতরের ঈশ্বরকেও অস্বীকার করা হয়।
বাউল মত অনুসারে, মনকে শুদ্ধ ও সংযত করতে পারলে ঈশ্বরের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। এই পথে গুরু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁরাই সঠিক দিশা দেন। বাউলদের ‘মনের মানুষ’ দূরে নন, তিনি মানুষের জীবনেই অদৃশ্যভাবে জড়িয়ে আছেন। গুরুর উপদেশ ও আত্মচর্চার মাধ্যমে এই অনুভূতি জাগ্রত হয়। বাহ্যিক নিয়ম বা আচার মানলেই ঈশ্বর লাভ হয় না, দরকার অন্তরের শুদ্ধি। তাই কাউকে ছোট করা মানে ঈশ্বরকে ছোট করা। মানুষের প্রেমের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে মানুষ উন্নত অবস্থায় পৌঁছায়।
উপসংহার : অতএব, লালন শাহের গানের মূল কথা হল মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের বাস, তাই মানুষের সেবা ও ভালোবাসাই শ্রেষ্ঠ সাধনা। মানবসেবার পথেই জীবনের সত্য অর্থ ও মুক্তি লাভ সম্ভব।

2. 'লালন শাহ ফকিরের গান'- কবিতায় বাউল সাধনার বিভিন্ন দিক ফুটে ওঠা তা আলোচনা করো। ২+৩
উত্তর : লালন শাহ ফকিরের গানে বাউল ভাবধারার গভীর পরিচয় পাওয়া যায়। মানুষের ভিতরে সত্যকে খোঁজা, আত্মজ্ঞান লাভ করা এবং মানবপ্রেম এইসব বিষয় তাঁর গানের প্রধান ভিত্তি। আলোচ্য কবিতাতেও বাউল সাধনার নানা দিক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বাউল সাধনার বিভিন্ন দিক :
(ক) মানবপ্রেমের শিক্ষা : লালন মানুষের মধ্যেই পরম সত্যকে দেখতে শিখিয়েছেন। তাই তিনি বলেন, "মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি"। অর্থাৎ মানুষের সেবা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়েই উন্নত জীবনের পথ পাওয়া যায়।
(খ) আত্মসন্ধান : বাউল সাধনা নিজের অন্তরের মানুষকে খুঁজে পাওয়ার শিক্ষা দেয়। কবিতার কথায়, "এই মানুষে মানুষ গাঁথা/দেখনা যেমন আলেক লতা" এর মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে পরম সত্তার গভীর সম্পর্কের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
(গ) প্রতীক ও বিশেষ শব্দ : কবিতায় ‘দ্বি-দলের মৃণাল’, ‘আলেক লতা’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে গুপ্ত সাধনার ভাব প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রতীকগুলি পাঠককে গভীর অর্থের দিকে নিয়ে যায়।
(ঘ) দেহকেন্দ্রিক ভাবনা : বাউলদের মতে, সাধনার ক্ষেত্র এই মানবদেহ। শরীরের মধ্যেই ‘মনের মানুষ’-এর অবস্থান এই বিশ্বাসই দেহকেন্দ্রিক ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েছে। উল্লেখিত প্রতীকগুলো সেই ধারণাকেই বুঝিয়ে দেয়।
(ঙ) আত্মজ্ঞান লাভের চেষ্টা : নিজেকে জানা এবং নিজের অন্তরের সত্যকে অনুভব করা বাউল সাধনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই আত্মঅন্বেষণের মধ্য দিয়েই মানুষ উন্নত হয়ে ওঠে।
উপসংহার : অতএব, কবিতায় মানবপ্রেম, আত্মসন্ধান, দেহতত্ত্ব ও প্রতীকের মাধ্যমে বাউল দর্শনের আসল রূপ ফুটে উঠেছে। এই পথ মানুষকে সত্য ও মুক্তির দিকে নিয়ে যায়।

3. 'লালন শাহ্ ফকিরের গান'-এ বাউল সাধনার মানবতত্ত্বের যে প্রকাশ ঘটেছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর : লালন শাহ ফকিরের গানে বাউল সাধনার মূল ভিত্তি হল মানুষকে কেন্দ্র করে ভাবনা। তিনি মনে করেন, মানবদেহের মধ্যেই সব সত্য লুকিয়ে আছে। আলোচ্য কবিতায় এই মানবতত্ত্ব নানা ভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
বাউল সাধনার মানবতত্ত্বের বিভিন্ন দিক :
(ক) মানুষই সাধনার কেন্দ্র : বাউল মতে, মানুষ হল সাধনার আসল জায়গা। মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর ও সত্যের বাস। তাই মানুষকে ছেড়ে অন্য কোথাও খুঁজলে সেই সত্য পাওয়া সম্ভব নয়। মানুষের সেবা ও ভজনার মধ্য দিয়েই সাধনা সম্পূর্ণ হয়।
(খ) সহজ মানুষের ধারণা : লালন যে মানুষকে ভজনা করতে বলেন, তিনি হলেন ‘সহজ মানুষ’। তাকে না চিনতে পারলে জীবনের আসল উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।
(গ) ‘মূল’ রক্ষার ভাবনা : অন্তরের মানুষকে না জানলে নিজের আসল সত্তা হারিয়ে যায়। তাই মানবতাকে বুঝতে না পারলে সাধনা ব্যর্থ হয়ে পড়ে।
(ঘ) ‘সোনার মানুষ’-এর সন্ধান : গানে বারবার ‘সোনার মানুষ’-এর কথা এসেছে। এই সোনার মানুষ হল মানুষের সর্বোত্তম, উন্নত রূপ। তাকে পেলে জীবন সার্থক ও পূর্ণ হয়ে ওঠে।
(ঙ) মানুষ-গুরুর কৃপা : বাউল পথে গুরুর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুরুর দয়া ও নির্দেশ ছাড়া অন্তরের মানুষের সাক্ষাৎ পাওয়া কঠিন।
উপসংহার : অতএব, দেখা যায় যে লালনের গানে মানুষকে ভালোবাসা, নিজের ভেতরের সত্যকে জানা এবং গুরুর পথ অনুসরণ করার মাধ্যমেই বাউল সাধনার মানবতত্ত্ব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

4. "ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি।"- এখানে 'মূল' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? তা কীভাবে হারিয়ে যাবে ? ২+৩
উত্তর : বাউল সাধক লালন ফকিরের গানে মানুষ ও আত্মসাধনার কথা বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। আলোচ্য পঙ্ক্তিতে তিনি মানুষকে নিজের আসল সত্তা চিনে রাখার জন্য সতর্ক করেছেন।
(ক) ‘মূল’ হল : এখানে ‘মূল’ বলতে মানুষের অন্তরের আসল সত্তাকে বোঝানো হয়েছে। বাউল মতে, এই অন্তরেই বাস করেন ‘মনের মানুষ’ বা ঈশ্বর। তাই জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য হল নিজের ভিতরে থাকা সেই সত্যকে উপলব্ধি করা। এই কারণেই ‘মূল’ শব্দটি আত্মা বা মনের মানুষের অর্থে ব্যবহৃত।
(খ) ‘মূল’ হারিয়ে যাওয়ার কারণ : লালনের মতে, ঈশ্বরকে দূরে কোথাও খুঁজতে যাওয়ার দরকার নেই, তিনি মানুষের হৃদয়ের মধ্যেই অবস্থান করেন। তাই মানুষের প্রতি প্রেম, সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা দেখানোই প্রকৃত সাধনার পথ। কিন্তু যখন কেউ মানুষকে অপমান করে, অন্যের দুঃখ বুঝতে চায় না বা মানবতাবোধ থেকে দূরে সরে যায়, তখন সে নিজের ভিতরের ঐশ্বরিক সত্তার সঙ্গেও সম্পর্ক হারায়। ধীরে ধীরে তার মন অন্ধকার হয়ে যায়, সে আত্মজ্ঞান থেকে বঞ্চিত হয় এবং ‘মনের মানুষ’-এর অনুভূতি আর পায় না। এইভাবেই তার ‘মূল’ হারিয়ে যায়।
উপসংহার : অতএব, লালন ফকির এখানে সতর্ক করে বলেছেন মানুষ যদি মানবতাকে অস্বীকার করে ও অন্যকে অবহেলা করে, তবে সে নিজের অন্তরের ‘মনের মানুষ’-এর সঙ্গে সম্পর্ক হারায়। এভাবেই তার ‘মূল’ নষ্ট হয়ে যায়।

5. "পড়বি রে তুই শূন্যকার"-  "লালন শাহ ফকিরের গান" কবিতা অনুসারে এই মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো। 
উত্তর : লালন ফকির মানুষের ভিতরে ঈশ্বরকে খোঁজার কথাই তাঁর গানে বারবার বলেছেন। মানবতাবোধ ছাড়া সেই অনুসন্ধান অসম্পূর্ণ। আলোচ্য মন্তব্যে তিনি মানুষকে এই সত্য বুঝতে শেখাতে চেয়েছেন।
মন্তব্যটির ব্যাখ্যা : লালনের মতে, যদি মন মানবপ্রেমে ভরে না ওঠে, তবে ‘মনের মানুষ’-কে পাওয়া যায় না। তখন মানুষের সমস্ত সাধনা ব্যর্থ হয়ে পড়ে এবং তার জীবন শূন্য বলে মনে হয়। মানবতত্ত্ব না জানলে ঈশ্বরকে খোঁজাও অর্থহীন হয়ে যায়। এই কারণেই তিনি বলেছেন, এমন অবস্থায় মানুষ ‘শূন্যকার’-এ গিয়ে পড়ে।
মানুষ যখন নিজের ভিতরের সত্যকে অনুভব করতে পারে না, তখন চারপাশের সবকিছুই ফাঁকা মনে হয়। প্রার্থনা, পূজা বা সাধনা কিছুতেই তৃপ্তি আসে না। অন্তরের মানুষকে না পাওয়ার জন্যই এই শূন্যতার অনুভূতি জন্ম নেয়। কিন্তু যদি মানুষকে ভালোবাসা যায়, মানবসেবায় নিজেকে যুক্ত করা যায়, তবে সেই শূন্যতা দূর হয়। তখন হৃদয়ে আনন্দ আসে এবং মানুষ সত্যিকার শান্তির স্বাদ পায়।
উপসংহার : অতএব, লালনের কথার অর্থ মানবতাবোধ ছাড়া সাধনা করলে জীবন শূন্য হয়ে যায়। মানুষভজনের মাধ্যমেই এই শূন্যতা দূর করা সম্ভব।

6. "সোনার মানুষ উজ্জ্বলে"-'সোনার মানুষ' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? সে কীভাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ? ২+৩
উত্তর : লালন ফকিরের বাউল ভাবনায় মানুষ ও আত্মজ্ঞানই প্রধান বিষয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, সাধনার মাধ্যমে মানুষ নিজের ভিতরের শ্রেষ্ঠ রূপকে প্রকাশ করতে পারে। আলোচ্য পঙ্ক্তিতে সেই উন্নত মানুষের কথাই বলা হয়েছে।
(ক) সোনার মানুষ : ‘সোনার মানুষ’ বলতে বাউল সাধনার চরম লক্ষ্য, অর্থাৎ ‘মনের মানুষ’-কে বোঝানো হয়েছে। মানুষের দেহ ও মনের মধ্যেই ঈশ্বরের উপস্থিতি রয়েছে এই বিশ্বাস থেকেই এই ধারণার জন্ম। যে ব্যক্তি মানবতাবোধে বিশ্বাসী, নিজের ভিতরের সত্যকে জানার চেষ্টা করে, সে-ই ধীরে ধীরে উৎকৃষ্ট মানুষে পরিণত হয়। তাকেই ‘সোনার মানুষ’ বলা হয়।
(খ) ‘সোনার মানুষ’ যে ভাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে : বাউল মতে, মানুষ যখন আত্মচর্চা করে এবং মনকে শুদ্ধ করার চেষ্টা করে, তখন তার ভিতরে এক বিশেষ জাগরণ ঘটে। এই জাগরণের ফলে অন্তরের আলো প্রকাশ পায়। হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা চেতনা জেগে উঠলে মানুষ সত্য উপলব্ধি করতে পারে এবং শান্তি লাভ করে। তখন তার জীবন আলোকিত হয়ে ওঠে, আচরণে মহত্ত্ব প্রকাশ পায়। এইভাবেই ‘সোনার মানুষ’ দীপ্ত ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
উপসংহার : অতএব, সাধনা ও মানবপ্রেমের মাধ্যমে মানুষ নিজের ভিতরের ঈশ্বরসত্তাকে জাগিয়ে তুললে তবেই সে ‘সোনার মানুষ’-এ পরিণত হয় এবং তার জীবন আলোয় ভরে ওঠে।

7. "জেনে শুনে মুড়াও মাথা"- এ কথা কবি কাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন? এ কথা বলা কারণ কী ছিল ? ২+৩
উত্তর : লালন ফকির তাঁর গানে বারবার মানবধর্ম ও অন্তরের সাধনার গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছেন। বাহ্যিক আচার নয়, আত্মজ্ঞানই তাঁর মতে সত্য পথ। আলোচ্য পঙ্ক্তিতে তিনি সেই ভাবনা থেকেই বিশেষ একটি শ্রেণির মানুষকে লক্ষ্য করে কথা বলেছেন।
(ক) প্রসঙ্গ : যারা ধর্ম পালন করার নামে মাথা মুন্ডন বা নানা বাহ্যিক নিয়ম মানাকে বড় বলে মনে করে, তাদের উদ্দেশ্যেই কবি এই কথা বলেছেন। তারা মনে করে বাইরের আচার পালন করলেই ঈশ্বরকে পাওয়া যাবে। লালন সেই ধারণাকেই ইঙ্গিত করেছেন।
(খ) এ কথা বলা কারণ : লালনের বিশ্বাস, সত্য সাধনা মানুষের ভিতরে। নিজেকে জানা, মানবতাকে গ্রহণ করা এবং অন্যকে ভালোবাসাই ঈশ্বরলাভের আসল পথ। কিন্তু যারা কেবল নিয়মকানুন, অনুষ্ঠান বা বাহ্যিক চিহ্ন নিয়েই ব্যস্ত থাকে, তারা আসল উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে যায়। এই ভুল বোঝাবুঝি দূর করার জন্যই তিনি সতর্ক করেছেন। তিনি বুঝিয়েছেন, শুধু মাথা মুন্ডন বা বাহ্য আচরণে ভক্তি প্রকাশ পেলেও তাতে অন্তরের পরিবর্তন আসে না।
উপসংহার : অতএব লালনের এই উক্তির মর্ম হল বাহ্যিক আচার নয়, মানবতাবোধ ও আত্মজ্ঞানই প্রকৃত ধর্মের পথ। তাই তিনি মানুষকে ভেতরের সাধনার দিকে ফিরে তাকাতে বলেছেন।

8. "জাতে তরবি"-'জাত' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? সেই জাতে উত্তরণ ঘটে কীভাবে ? ২+৩
উত্তর : লালন ফকির মানুষের ভেতরের সত্যকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে বাহ্যিক পরিচয় নয়, আসল পরিচয় লুকিয়ে থাকে মনুষ্যত্বে। আলোচ্য উক্তিতেও তিনি সেই গভীর ভাবনাকেই তুলে ধরেছেন।
(ক) ‘জাত’-এর অর্থ : এখানে ‘জাত’ শব্দটি সমাজে প্রচলিত বর্ণ, গোত্র বা ধর্মের অর্থে ব্যবহার হয়নি। লালনের দৃষ্টিতে প্রকৃত জাত হল মানুষের মানবধর্ম। তিনি মনে করেন, পৃথিবীতে আসলে একটাই জাত তা হল মানুষ। তাই মানুষ হিসেবেই নিজেকে জানা ও অন্যকে গ্রহণ করাই এখানে মূল কথা।
(খ) জাতে উত্তরণের অর্থ : লালনের মতে, মানুষের ভিতরে যে চেতনা ও আত্মার শক্তি আছে, তাকে জাগিয়ে তুলতে পারলেই প্রকৃত উন্নতি ঘটে। যখন কেউ হিংসা, লোভ কিংবা স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিজের অন্তরের ‘মনের মানুষ’-কে অনুভব করে, তখন সে সত্যিকার মনুষ্যত্বে পৌঁছায়। বাহ্যিক ভেদ ভুলে ভিতরের সত্যকে চিনতে পারাই এই উত্তরণ। এই অবস্থাতেই মানুষ মুক্তি ও শান্তির স্বাদ পায়।
উপসংহার : সুতরাং এখানে ‘জাত’ বলতে মনুষ্যত্বকেই বোঝানো হয়েছে। মানুষ যখন নিজের অন্তরের ‘মনের মানুষ’-কে চিনতে পারে এবং সব ভেদ ভুলে মানবধর্মে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই তার সেই জাতে উত্তরণ ঘটে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : WB Semester Team প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টিতে পুরো সিলেবাসের প্রশ্ন উত্তর রয়েছে এবং 'লালন শাহ ফকিরের গান' কবিতা থেকে আরো অনেকগুলি প্রশ্ন উত্তর রয়েছে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : লালন শাহ ফকিরের গান প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1.  ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
2. তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
3. ক্লাস 11 প্রবন্ধ রচনা PDF Click here
4. ভাব সম্মিলন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
Regards,
WB Semester Team 
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.