WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

নুন কবিতার প্রশ্ন উত্তর | নুন কবিতার বড় প্রশ্ন উত্তর | Nun Kobita Question Answer

0

নুন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF

ভূ(caps)মিকা : একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা পরীক্ষার জন্য তিনটি কবিতা পড়তে হবে। সেগুলি হল - বিদ্যাপতির লেখা 'ভাব সম্মিলন', লালন শাহের লেখা 'লালন শাহ ফকিরের গান' এবং জয় গোস্বামীর লেখা 'নুন' কবিতা। এই তিনটি কবিতা থেকে পরীক্ষায় 40 নম্বরের মধ্যে মোট 5 নম্বর আসবে। অর্থাৎ এই তিনটি কবিতা থেকে পরীক্ষায় 5 নম্বরের বড়ো প্রশ্ন দুটি (তিনটি কবিতার মধ্যে যেকোনো দুটি কবিতা থেকে দুটি বড় প্রশ্ন) থাকবে, তার-মধ্যে যে-কোন একটি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। জয় গোস্বামীর লেখা 'নুন' কবিতা থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর সহ Free PDF নিচে দিলাম। এছাড়াও আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুক (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। তাই এখান থেকে পরীক্ষায় অনেক প্রশ্ন কমন পাবেন। সুতরাং যারা বাংলা ই-বুক (PDF)টি কিনতে চান, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

নুন কবিতার প্রশ্ন উত্তর

🔹 Nun Kobita Question Answer

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 5]
1. "আমাদের শুকনো ভাতে লবণের ব্যবস্থা হোক"- কে কার কাছে এই দাবি জানিয়েছেন এবং কেন ?
অথবা, "আমাদের শুকনো ভাতে লবণের ব্যবস্থা হোক"- কে কার কাছে এই দাবি জানিয়েছেন ? উদ্ধৃতাংশের তাৎপর্য আলোচনা করো। ৩+২ 
উত্তর : মানুষের জীবনে বেঁচে থাকার জন্য সামান্য খাবারের প্রয়োজন। কিন্তু সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে, যাদের সেই ন্যূনতম চাহিদাটুকুও পূরণ হয় না। আধুনিক কবি জয় গোস্বামীর ‘নুন’ কবিতায় এমনই এক অভাবী পরিবারের কষ্ট ও তাদের বাঁচার দাবির কথা প্রকাশ পেয়েছে।
কাদের কাছে কার এই দাবি : বাপ-ছেলের দারিদ্র্যে ভরা সংসারের একজন প্রতিনিধি, অর্থাৎ কবিতার কথক, সমাজের ধনী ও প্রভাবশালী মানুষের কাছে এই আবেদন জানায়। তারা যারা স্বচ্ছল জীবনে থাকে, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেই এই কথা বলা হয়েছে।
এই দাবির কারণ : এই দাবির পেছনে গভীর অভাব ও বঞ্চনার ইতিহাস রয়েছে। সংসারে প্রায়ই উপার্জন থাকে না, ধার-দেনাই নিত্যসঙ্গী। অনেক দিন বাজার করার সামর্থ্যও থাকে না। ফলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তো দূরের কথা, সাধারণ খাবারটুকুও ঠিকমতো জোটে না। আমরা দেখেছি ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে ঈশ্বরী পাটনি দেবী অন্নপূর্ণার কাছে প্রার্থনা করেন, “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।” অর্থাৎ তিনি শুধু সন্তানের খাবারের নিশ্চয়তাই চেয়েছিলেন। ঠিক একি রকম  ভাবে সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করার পর বাড়ি ফিরে যদি শুকনো ভাতের সঙ্গে সামান্য নুনও না মেলে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ জন্মায়। তাই বাঁচতে চাওয়ার প্রবল ইচ্ছা থেকেই তারা প্রতিবাদের ভাষায় বলে ওঠে "আমাদের শুকনো ভাতে লবণের ব্যবস্থা হোক।" কথক বুঝতে পারে, গরিব মানুষের কথা সমাজে খুব একটা গুরুত্ব পায় না। তাই হারিয়ে না গিয়ে, নিজেদের অস্তিত্বের কথা মনে করিয়ে দিতেই তারা এই ন্যূনতম দাবি তোলে।
উপসংহার : অতএব ‘নুন’ শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ানোর বস্তু নয়, এটি মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের প্রতীক। তাই পেটের দায়ে লড়াই করা মানুষগুলো বিলাসিতা নয়, কেবল শুকনো ভাতের সঙ্গে একটু নুন চেয়েই সমাজের বিবেককে জাগাতে চেয়েছে।

2."রাত্তিরে দু-ভাই মিলে টান দিই গঞ্জিকাতে।"- গঞ্জিকায় কারা কখন টান দেয়? গঞ্জিকায় টান দেওয়ার যথার্থ কী আলোচনা করো। ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি জয় গোস্বামীর লেখা ‘নুন’ কবিতায় দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের কঠিন বাস্তব জীবনের ছবি ফুটে উঠেছে। তাদের দুঃখ, অপমান ও বঞ্চনার অনুভূতি নানা আচরণের মধ্যে প্রকাশ পায়। ‘টান দিই গঞ্জিকাতে’ কথাটিও সেই বাস্তবতারই ইঙ্গিত বহন করে।
কারা কখন গঞ্জিকায় টান দেয় : এখানে নেশায় আসক্ত হওয়া খেটে খাওয়া দরিদ্র লোকেরা  দিনভর কঠোর পরিশ্রমের পরে, যখন তারা ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়ে, তখনই তারা নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ে। বিশেষ করে জীবনের দুঃসহ পরিস্থিতি যখন অসহ্য হয়ে ওঠে, তখন তারা গঞ্জিকায় টান দেয়।
গঞ্জিকায় টান দেওয়ার যথার্থতা : এই নেশা কোনো আনন্দ বা বিলাসের জন্য নয়। বরং বাস্তব জীবনের কঠোরতা থেকে কিছু সময় দূরে থাকার চেষ্টা। সমাজের অন্যায়, শোষণ, উচ্চ-নীচ ভেদ এবং অপমান তাদের মনে গভীর হতাশা তৈরি করে। সেই কষ্ট ভুলতে ও সামান্য স্বস্তি পেতে তারা গঞ্জিকার আশ্রয় নেয়। এক অর্থে সমাজের নিষ্ঠুরতা ও সহানুভূতির অভাবই তাদের এই পথে ঠেলে দেয়।
উপসংহার : অতএব, গঞ্জিকায় টান দেওয়া তাদের সুখের চিহ্ন নয়, এটি বঞ্চিত মানুষের ক্ষণিক মুক্তি পাওয়ার ব্যর্থ প্রয়াস। এর মাধ্যমে নিম্নবিত্ত জীবনের যন্ত্রণা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

3. "আমরা তো অল্পে খুশি"- এই 'অল্পে খুশি' হওয়ার তাৎপর্য কী? অল্পে খুশি মানুষদের জীবনযাত্রা 'নুন' কবিতায় কিভাবে ফুটে উঠেছে তা লেখো। 
অথবা, "আমরা তো অল্পে খুশি"-পংক্তিটির মধ্যে দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে? অল্পে খুশি মানুষদের জীবনযাত্রা 'নুন' কবিতায় কিভাবে ফুটে উঠেছে তা তা লেখো। 
অথবা, 'আমরা তো সামান্য লোক'- 'আমরা' বলতে কারা ? তাদের জীবন যন্ত্রণার পরিচয় দাও নিজের ভাষায়। ৩+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি জয় গোস্বামীর ‘নুন’ কবিতায় নিম্নবিত্ত মানুষের কঠিন বাস্তব জীবনের ছবি ধরা পড়েছে। এখানে অভাব, অনিশ্চয়তা আর সংগ্রামই তাদের প্রতিদিনের সাথি। সেই কারণেই তারা নিজেদের 'অল্পে খুশি' বলে মানিয়ে নিতে শেখে।
‘অল্পে খুশি’ হওয়ার তাৎপর্য : কথক বলেন "আমরা তো অল্পে খুশি/ কী হবে দুঃখ করে?" এই কথার ভিতরে লুকিয়ে আছে গভীর অসহায়তা। দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো রাস্তা নেই বলেই তারা ভাগ্য মেনে নেয়। তাই অল্পে খুশি হওয়া আসলে আনন্দ নয়, এটি কঠিন বাস্তবের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বাধ্যতা। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা তাদের শিখিয়েছে, বেশি চাওয়ার সাহস করলে কষ্টই বাড়বে।
অল্পে খুশি মানুষদের জীবনযাত্রা : শ্রমজীবী বাপ-ছেলের ছোট সংসারের চাহিদাও খুব সামান্য। তারা সাধারণ ভাত-কাপড় পেলেই সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করে। দারিদ্র্য তাদের ঘিরে থাকলেও হতাশ হয়ে ভেঙে পড়ে না। অভাব তাদের বুঝিয়েছে, শুধু কেঁদে লাভ নেই। তাই তারা বলে “আমরা তো অল্পে খুশি।” রোগ আর ধার-দেনা তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এই প্রতিকূলতার মধ্যেই তাদের টিকে থাকার লড়াই চলতে থাকে। কঠিন জীবন ভুলে থাকতে কখনো তারা নেশার আশ্রয় নেয়, সামান্য সান্ত্বনা খোঁজে। আর বেশিরভাগ দিন বাজার করার সামর্থ্য থাকে না। তবে হঠাৎ কিছু টাকা হাতে এলে তারা প্রয়োজনের বাইরে গিয়েও কিছু কিনে ফেলে, যেমন গোলাপের চারা। কিন্তু দারিদ্র্যের চাপে সেই স্বপ্নও টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। 
উপসংহার : অতএব, "অল্পে খুশি" হওয়া এখানে সুখের প্রকাশ নয়, এটি বেঁচে থাকার কষ্টকে মেনে নেওয়ার ভাষা। সীমাহীন অভাবের মধ্যেও মানুষগুলি যেভাবে সামান্য আশা নিয়ে বাঁচতে চায়, কবিতায় সেই করুণ বাস্তবই ফুটে উঠেছে।

4. "চলে যায় দিন আমাদের অসুখে ধারদেনাতে"- এই চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে জীবনের কোন্ বিশেষ তাৎপর্যের দিকে কবি ইঙ্গিত করেছেন ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি জয় গোস্বামীর লেখা ‘নুন’ কবিতায় নিম্নবিত্ত মানুষের প্রতিদিনের টানাপোড়েন ও অভাবের জীবন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বাপ-ব্যাটার ছোট্ট সংসার সামান্য উপার্জনের ওপর নির্ভর করে কোনোমতে দিন কাটায়। তাদের জীবনে বাড়তি চাহিদা বা বিলাসের জায়গা নেই; সাধারণভাবে বেঁচে থাকাই তাদের কাছে বড় কথা।
জীবনের বিশেষ তাৎপর্য : "চলে যায় দিন আমাদের অসুখে ধারদেনাতে"এই পংক্তির মধ্যে সুখ বা স্বস্তির কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না। বরং বোঝা যায়, দিনগুলো যেন নিজের মতো করে হারিয়ে যায় সমস্যার ভিড়ে। অসুখ, ঋণ, অভাব এসবই তাদের জীবনের স্থায়ী সঙ্গী। প্রতিদিনের সময় কাটে এই দুশ্চিন্তা সামলাতে সামলাতেই। তাদের এমন অবস্থা যে দুঃখ নিয়ে আলাদা করে ভাবার সুযোগও নেই। কষ্ট যেন জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে গেছে। তাই তারা কোনোরকমে দিন পার করে, ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস পায় না। এখানে বেঁচে থাকা মানে ভালোভাবে জীবন উপভোগ করা নয়, বরং কঠিন বাস্তবের মধ্যে নিজেকে টিকিয়ে রাখা।
উপসংহার : অতএব, এই ‘দিন চলে যাওয়া’ কথার মাধ্যমে কবি বুঝিয়েছেন নিম্নবিত্ত মানুষের নিরুপায় জীবনসংগ্রাম। আনন্দ বা স্বস্তি নয়, অসুখ ও ধারদেনার মধ্য দিয়েই তাদের দিন কেটে যায়, আর সেই টিকে থাকার লড়াইটাই হয়ে ওঠে জীবনের আসল অর্থ।

5. 'মাঝে মাঝে চলেও না দিন'- কার কেন দিন মাঝে মাঝে চলে না? এর মাধ্যমে নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার যে ছবি ফুটে উঠেছে তা লেখো। 
উত্তর : জয় গোস্বামীর লেখা ‘নুন’ কবিতায় সমাজের দরিদ্র মানুষের কঠিন বাস্তব জীবন খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এখানে এক অভাবগ্রস্ত বাপ-ব্যাটার সংসারের কথা বলা হয়েছে। তাদের জীবনের নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে বোঝা যায় কেন তাদের দিন সবসময় স্বাভাবিকভাবে কাটে না।
দিন না চলার কারণ : বাপ-ব্যাটার সংসারে মাঝে মাঝে দিন চলতে চায় না।। এর পেছনে মূলত অভাব, তাদের কিছু ভুল স্বভাব এবং সমাজের বৈষম্য দায়ী। অসুখ, ঋণ আর অল্প রোজগারের চাপ তাদের নিত্য সমস্যা। তার ওপর নেশার কারণে সামান্য অর্থও নষ্ট হয়ে যায়। আবার সমাজের উঁচু-নিচু বিভেদ তাদের নুনের মতো সামান্য জিনিস থেকেও বঞ্চিত করে। তাই অনেক সময় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ছবি :
(ক) অল্পে সন্তুষ্ট থাকা : অভাব তাদের চারদিক থেকে ঘিরে রাখলেও তারা খুব বেশি কিছু চায় না। সাধারণ ভাত-কাপড় পেলেই তারা নিজেদের মতো করে খুশি থাকতে পারে।
(খ) দুঃখকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া : দারিদ্র্য তাদের শিখিয়েছে বেশি আক্ষেপ করে লাভ নেই। তাই কষ্ট থাকলেও তারা সেটা নিয়ে বাড়তি বিলাপ করে না। অল্প পাওয়া নিয়েই জীবন মানিয়ে নেয়।
(গ) অসুখ ও ধারদেনার চাপ : রোগভোগ আর ঋণ যেন তাদের সংসারের স্থায়ী সঙ্গী। এই বাধা নিয়েই প্রতিদিন বেঁচে থাকার লড়াই চালাতে হয়।
(ঘ) নেশার মাধ্যমে কষ্ট ভুলতে চাওয়া : কঠিন বাস্তব থেকে কিছু সময় দূরে থাকতে তারা গঞ্জিকা খেয়ে ভুলে থাকার চেষ্টা করে। এতে সাময়িক সান্ত্বনা মিললেও অভাব আরও বাড়ে।
(ঙ) স্বপ্ন ও দারিদ্র্যের দ্বন্দ্ব : বেশিরভাগ দিন বাজার করার সামর্থ্য না থাকলেও হঠাৎ টাকা পেলে তারা প্রয়োজনের বাইরে জিনিস কিনে ফেলে, যেমন গোলাপ গাছ। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।
উপসংহার : অতএব, ‘মাঝে মাঝে চলেও না দিন’ কথাটির মাধ্যমে কবি দেখিয়েছেন নিম্নবিত্ত মানুষের টিকে থাকার কঠিন সংগ্রাম। অভাব, ঋণ, অসুখ, নেশা আর অপূর্ণ স্বপ্ন সব মিলিয়ে তাদের জীবন অনিশ্চয়তায় ভরা, তাই অনেক সময় দিন আর ঠিকমতো এগোতে পারে না।

6. 'আমি তার মাথায় চড়ি'- কোন্ প্রসঙ্গে উক্তি ? পংক্তিটির তাৎপর্য আলোচনা করো ।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কবি জয় গোস্বামীর লেখা ‘নুন’ কবিতায় দরিদ্র মানুষের দৈনন্দিন অভাব-অনটন ও মানসিক যন্ত্রণা অত্যন্ত বাস্তবভাবে ধরা পড়েছে। বাপ-ব্যাটার ছোট্ট সংসারকে কেন্দ্র করে এই কষ্টের চিত্র গড়ে উঠেছে।
উক্তিটির প্রসঙ্গ : অভাবের চাপে অনেক দিনই তাদের সংসার ঠিকমতো চলে না। এমনই একদিন সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করার পর গভীর রাতে বাড়ি ফিরে কথক খেতে বসে। কিন্তু শুকনো ভাতের সঙ্গে সামান্য নুনটুকুও সে পায় না। এই ছোট্ট জিনিসের অভাব তার জমে থাকা ক্ষোভকে হঠাৎ বিস্ফোরিত করে তোলে। সেই তীব্র রাগের মুহূর্তেই সে বলে ওঠে "আমি তার মাথায় চড়ি।"
পংক্তিটির তাৎপর্য : এই উক্তির মধ্যে দরিদ্র জীবনের চাপা কষ্ট ও অপমানের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। তারা সাধারণত অল্পে সন্তুষ্ট থাকে, বেশি দাবি করে না। কিন্তু দিনের পর দিন বঞ্চনা মানুষকে ভিতরে ভিতরে উত্তেজিত করে তোলে। পরিশ্রমের পর নুন না পাওয়ার ঘটনা সেই জমে থাকা ক্রোধকে বাইরে এনে দেয়। ফলে বাপ–ব্যাটার মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হয় এবং তাদের চেঁচামেচি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
এই রাগ আসলে কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং বেঁচে থাকার ন্যূনতম প্রাপ্য থেকেও বঞ্চিত হওয়ার যন্ত্রণা।
উপসংহার : অতএব "আমি তার মাথায় চড়ি" পংক্তিটি নিম্নবিত্ত মানুষের দমিয়ে রাখা ক্ষোভের হঠাৎ বিস্ফোরণকে প্রকাশ করে। সামান্য নুনের অভাবই তাদের জীবনের গভীর দারিদ্র্য ও অসহায়তার সত্যকে সামনে এনে দেয়।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : নুন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1.  লালন শাহ ফকিরের গান প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
2. তেলেনাপোতা আবিষ্কার গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
3. ক্লাস 11 প্রবন্ধ রচনা PDF Click here
4. ভাব সম্মিলন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
Regards,
WB Semester Team 
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.