🔹 Class 10 Hariye Jawa Kali Kolam Question Answer
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 5]
1. "আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই" - কারা কালি তৈরি করতেন ? তাঁরা কীভাবে কালি তৈরি করতেন ? [Madhyamik 2017]
অথবা, "আমরা এত কিছু আয়োজন কোথায় পাব। আমাদের ছিল সহজ কালি তৈরি পদ্ধতি" - এখানে কোন্ আয়োজনের কথা বলা হয়েছে? তাদের সহজ কালি তৈরির পদ্ধতিটি লেখো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থের লেখা 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে জানা যায়, লেখক শ্রীপান্থ ছেলেবেলায় নিজেই কালি তৈরি করতেন। তাঁর সতীর্থদের পাশাপাশি মা, পিসি ও দিদিরাও এই কাজে সাহায্য করতেন। এটি ছিল তাদের শৈশবের সৃজনশীল এক অভ্যাস।
কালি তৈরির সহজ পদ্ধতি :
1. উপাদান সংগ্রহ : রান্নার কাঠের উনুনে কড়াইয়ের নিচে জমা কালির কিছু অংশ লাউ পাতার সাহায্যে ঘষে বাটিতে রাখা জলে মিশানো হত।
2. উন্নতিকরণ : মিশ্রণে হরীতকী ঘষে বা আতপ চাল ভেজে পুড়িয়ে তা মিশিয়ে কালিকে আরও ঘন ও কালো করা হতো।
3. পরিশোধন : সব উপকরণ ভালোভাবে মেশানো হত, খুন্তির গোড়ার অংশ পুড়িয়ে লাল টকটকে করা হতো।
4. ছেঁকে নেওয়া : মিশ্রণকে ন্যাকড়ায় ছেঁকে মাটির দোয়াতে ঢেলে দেওয়া হতো।
5. প্রস্তুতকরণ : কিছু সময় মিশ্রণ ফুটানো হত, এরপর এটি দোয়াতে ঢেলে কালি ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত করা হতো।
উপসংহার : অতএব, লেখক প্রবন্ধে দেখিয়েছেন, ছেলেবেলায় কালি তৈরি করা ছিল একটি সহজ, সৃজনশীল এবং মজার প্রক্রিয়া। বাড়ির ছোট ছোট উপকরণ ব্যবহার করেই তারা নিজেই লিখন উপকরণ প্রস্তুত করত। এটি শুধু লেখার জন্য নয়, শিশুশৈশবের কল্পনা ও আবিষ্কারের আনন্দও বহন করত।
2. ফাউন্টেন পেন বাংলায় কী নামে পরিচিত ? নামটি কার দেওয়া ? ফাউন্টেন পেনের জন্ম ইতিহাস লেখো। [Madhyamik 2017]
অথবা, "কলমের দুনিয়ায় যা সত্যিকারের বিপ্লব ঘটায় তা ফাউন্টেন পেন"- ফাউন্টেন পেনের জন্ম বৃত্তান্ত লেখো।
অথবা, "জন্ম নিল ফাউন্টেন পেন"- ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক কে? এই পেনের জন্ম বৃত্তান্তটি লেখো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থের লেখা 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধ অনুযায়ী, ফাউন্টেন পেনকে বাংলায় ‘ঝরণা কলম’ বলা হয়। এই নামটি স্বীকৃত প্রাবন্ধিক ও পণ্ডিতদের দ্বারা প্রচলিত।
ফাউন্টেন পেনের জন্ম ইতিহাস : ফাউন্টেন পেনের পূর্বনাম ছিল ‘রিজার্ভার পেন’। এটি কলমের জগতে সত্যিকারের বিপ্লব আনে। আবিষ্কারক ছিলেন লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান, একজন ব্যবসায়ী। একবার তিনি অন্য একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে চুক্তিপত্রে সাক্ষর করতে গিয়েছিলেন। তখন দোয়াতে রাখা কালি ভুলবশত চুক্তিপত্রের ওপর পড়ে যায়। ফলে তাকে কালি সংগ্রহের জন্য বাইরে যেতে হয়। কিন্তু ফিরে এসে দেখেন, আরেকজন ব্যবসায়ী ইতিমধ্যেই চুক্তিপত্রে সাক্ষর শেষ করে চলে গেছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে ওয়াটারম্যান প্রতিজ্ঞা করেন, ভবিষ্যতে এমন সমস্যা যেন না হয়। তাঁর জেদ এবং আত্মবিশ্বাসের কারণে তিনি অবশেষে ফাউন্টেন পেন আবিষ্কার করেন। এই পেনের মাধ্যমে দোয়াতে রাখা কালি আর চুক্তিপত্রে দুর্ঘটনার সৃষ্টি করতে পারত না। এই আবিষ্কার বিশ্বজুড়ে লেখালিখিকে সহজ ও দ্রুত করার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে।
উপসংহার : তাই ফাউন্টেন পেন বা ঝরণা কলমের আবিষ্কার কেবল একটি লেখনী নয়, বরং মানুষের লেখার অভ্যাসে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল।
3. "হারিয়ে যাওয়া কালি কলম" প্রবন্ধে প্রাবন্ধিকের কালি কলমের প্রতি যে ভালোবাসা তা আলোচনা করো।
অথবা, "তাঁরা হয়তো বুঝবেন কলমের সঙ্গে আমাদের কী সম্পর্ক"- কলমের সঙ্গে প্রাবন্ধিকের সম্পর্ক আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থের লেখা 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে দেখা যায়, প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থ কালি ও কলমের প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করতেন। তাঁর স্মৃতিমেদুর বর্ণনায় এই ভালোবাসা প্রতিটি অংশে ফুটে উঠেছে।
কালি কলমের প্রতি প্রাবন্ধিকের ভালোবাসা :
1. আঁকড়ে ধরে রাখা : লেখক অফিসে কম্পিউটারের কিবোর্ড ব্যবহার করলেও কলম কখনো ছাড়তেন না। কালি-কলমের প্রতি তার অদম্য ভালোবাসাই কম্পিউটারের দিকে হাত বাড়াতে বাধা দিয়েছিল।
2. শৈশবের টান : ছোটবেলা থেকেই তিনি কালি-কলমের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। কঞ্চি কেটে কলম তৈরি করা এবং বাড়িতে কালি তৈরি করা তার শৈশবের অভ্যাস ছিল।
3. জন্মান্তরের ভালোবাসা : লেখক স্বীকার করেছেন, যদি তিনি জিশুখ্রিস্টের আগে জন্মাতেও কালি-কলমের প্রতি তার টান অম্লান থাকত।
4. তথ্য সংগ্রহ : প্রবন্ধে কলমের বিভিন্ন ধরন, বিজ্ঞাপন, ইতিহাস, নানাবির্তন ও দোয়াতের বৈচিত্র্য প্রমাণ করে, তিনি কালি-কলমকে কতটা ভালোবাসতেন।
5. অবলুপ্তিতে কষ্ট : কম্পিউটারের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে কালি-কলমের প্রাসঙ্গিকতা হারানো তাঁকে বেদনাবিধুর করেছে।
উপসংহার : এইভাবে প্রবন্ধে লেখকের কালি ও কলমের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, শৈশব থেকে জীবনভর তার সৃজনশীল সম্পর্ক এবং নস্টালজিক অনুভূতি পরিষ্কারভাবে প্রকাশ পায়।
4. "তাই কেটে কাগজের মতো সাইজ করে নিয়ে আমরা তাতে হোমটাস্ক করতাম।'- কিসে হোমটাস্ক করা হত? বিবরণ দাও। [Madhyamik 2020] ১+৪
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থের লেখা 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে লেখক তাঁর ছোটবেলার পড়াশোনা ও লেখালেখির সহজ গ্রামীণ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেছেন। সেই সময় আধুনিক লেখার সামগ্রী সহজলভ্য ছিল না, তাই ছাত্রদের স্বল্প উপকরণ দিয়েই হোমটাস্ক সম্পন্ন করতে হত।
হোমটাস্কের লেখার পাত্র : তখন কাগজের অভাব থাকায় লেখক ও তাঁর সহপাঠীরা কলাপাতা কেটে কাগজের মতো আকার বানিয়ে তাতেই হোমটাস্ক লিখতেন। কলাপাতাই ছিল তাদের প্রধান লেখার মাধ্যম।
হোমটাস্কের বিবরণ : সেই সময় হোমটাস্ক করার পুরো ব্যবস্থাই ছিল ঘরোয়া ও অত্যন্ত সাধারণ উপকরণের উপর নির্ভরশীল। বাড়ির কাঠের উনুনে রান্না করার সময় কড়াইয়ের তলায় যে কালি জমত, সেটি যত্ন করে সংগ্রহ করা হত। লাউপাতা দিয়ে ঘষে সেই কালিকে তুলে পাথরের বাটিতে জলের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া হতো। পরে আতপচাল ভিজিয়ে বেটে তাতে যোগ করা হত, যাতে কালি ঘন ও টেকসই হয়। গরম খুন্তির পোড়া অংশ দিয়ে মিশ্রণ ফুটিয়ে ব্যবহারযোগ্য কালি তৈরি করা হত। লেখার জন্য রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম বানানো হতো এবং কালি ঠিকভাবে নামার জন্য তার মুখ চিরে দেওয়া হত। প্রস্তুত কালি নেকড়ায় ছেঁকে মাটির তৈরি দোয়াতে রাখা হতো। এরপর কাগজের মতো কেটে নেওয়া কলাপাতায় সেই কলম ও কালি দিয়ে হোমটাস্ক লেখা হত। কাজ শেষ হলে কলাপাতাগুলি গুছিয়ে স্কুলে নিয়ে যাওয়া হতো; শিক্ষক দেখে ছিঁড়ে দিতেন, আর ছাত্ররা ফেরার পথে তা ফেলে আসত।
উপসংহার : অতএব, অল্প উপকরণ ও সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে কলাপাতা, ঘরে তৈরি কালি ও বাঁশের কলম ব্যবহার করে ছাত্রদের হোমটাস্ক সম্পন্ন হত, যা সেই সময়ের সরল শিক্ষাজীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
5. "কোনও কারণে কলম নিয়ে যেতে ভুলে যাই তবেই বিপদ"- কোথায় কলম না নিয়ে গেলে বিপদ ? কেন এই বিপদ আলোচনা করো।
অথবা, "আমি যেখানে কাজ করি সেটা লেখালেখির আপিস"- প্রাবন্ধিক লেখালেখির আপিস সম্পর্কে যে বর্ণনা দিয়েছেন তা লেখো।
অথবা, "সবাই এখানে লেখক। কিন্তু আমি ছাড়া কারও হাতে কলম নেই"-'এখানে' বলতে কোথাকার কথা বলা হয়েছে ? সেই জায়গাটির বর্ণনা দাও? লেখক হয়েও সেখানে কারো হাতে কলম না থাকার কারণ কী ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থের লেখা 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে দেখা যায়, লেখক সংবাদপত্রের অফিসে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।
এখানে ‘এখানে’ বলতে সেই অফিসকেই বোঝানো হয়েছে যেখানে সকলেই লেখক হলেও কলম হাতে থাকত না।
জায়গার বর্ণনা : সংবাদপত্রের অফিসটি আসলে ‘লেখালেখির কারখানা’। প্রতিটি লেখকের সামনে একটি কাচের স্ক্রিন এবং তার নীচে টাইপরাইটারের মতো কিবোর্ড থাকে। প্রতিটি বোতামে একটি করে হরফ, যা ব্যবহার করে লেখকরা লিখতেন। লেখা কাচের স্ক্রিনে ফুটে উঠত এবং তারপর ছাপার জন্য প্রস্তুত হতো। সবাই কম্পিউটারের সাহায্যে লিখতেন, কিন্তু লেখক ব্যতিক্রম, তিনি কলম দিয়েই লিখতেন।
কলম না থাকার কারণ : অফিসের অন্য কারো হাতে কলম থাকত না। কেউ যদি দিত, তাও অর্ধেক বা খারাপ অবস্থায়। লেখক যখন কলম না নিয়ে যেতেন, তখন তার কাজ স্থগিত হত। অফিসের সকলেই কম্পিউটারের সাহায্যে লিখলেও, লেখক প্রথাগতভাবে কলম দিয়েই লিখতেন। তাই কলম ছাড়া তার কাজ কার্যকর করা সম্ভব হত না। এ কারণে তিনি প্রবাদমতো বলতেন, ‘কালি নেই, কলম নেই, বলে আমি মুনশি’। লেখকের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, কলমের অভাব তার জন্য একটি বড় বিপদ তৈরি করত, কারণ অফিসে অন্য কারো কাছে সাহায্য পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না।
উপসংহার : তাই প্রবন্ধে দেখা যায়, যদিও সবাই লেখক, তবুও কলমের অনুপস্থিতি লেখকের জন্য বিপদ সৃষ্টি করত এবং অফিসের পরিবেশকে বিশেষভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
6. "ভাবি, আমি যদি জিশু খ্রিস্টের আগে জন্মাতাম!”- কোন্ প্রসঙ্গে লেখকের এই ভাবনা? জিশু খ্রিস্টের আগে জন্মালে তিনি কী করতেন? ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থের লেখা 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে দেখা যায়, লেখক অতীত স্মৃতি মনে করেই ভাবছেন, কীভাবে প্রাচীন যুগে জন্মালে নিজের লেখালিখি করতেন। এই ভাবনাটি তার শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত, যখন তিনি বাঁশের কলম, মাটির দোয়াত, ঘরে তৈরি কালি ও কলাপাতা ব্যবহার করতেন।
লেখকের ভাবনা : লেখক ভেবেছেন, যদি তিনি জিশু খ্রিস্টের আগে জন্মান, তাহলে প্রাচীন সভ্যতার বিভিন্ন উপায়ে তিনি কলম তৈরি করে লেখালিখি করতেন। নীলনদের তীরে জন্মালে নল-খাগড়া ভেঙে তুলি বানাতেন। প্রাচীন সুমোরিয়ান বা ফিনিসিয়ান হলে বনপ্রান্ত থেকে হাড় কুড়িয়ে কলম তৈরি করতেন। রোমের সম্রাট হলে ব্রোঞ্জের শলাকা বা স্টাইলাস ব্যবহার করে লিখতেন। চিনাদের মতো সভ্যতায় জন্মালে তুলি ব্যবহার করতেন। লেখকের কল্পনায়, তিনি কলম আবিষ্কারের প্রাগৈতিহাসিক যুগেও নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগাতেন।
উপসংহার : অতএব, প্রবন্ধে দেখা যায়, লেখকের এই ভাবনা তার শৈশবের লেখালেখির অভিজ্ঞতা ও প্রাচীন যুগের সাহিত্যিক কল্পনাকে একত্রিত করে, কীভাবে মানুষের সৃজনশীলতা যুগে যুগে প্রমাণিত হতে পারে তা তুলে ধরেছে।
7. "আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে"- কোন্ জিনিস আজ অবলুপ্তির পথে ? এই অবলুপ্তির কারণ কী? এই বিষয়ে লেখকের মতামত কী ? [Madhyamik 2018]
অথবা, "আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে'- সবই আজ কীভাবে অবলুপ্তির পথে আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থের লেখা 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে দেখা যায়, লেখক কালি, কলম, দোয়াত ও ফাউন্টেন পেনের অবলুপ্তির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বিস্ময় ও আক্ষেপের সুরে বলেন, সবই আজ ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে।
অবলুপ্তির কারণ : বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে কম্পিউটার ব্যবহার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ যন্ত্রের ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে। এই কারণে, কলম ও কালি-দোয়াতের মতো প্রথাগত লেখালিখির উপকরণগুলো কম্পিউটারের সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারছে না এবং ধীরে ধীরে ব্যবহারে হারিয়ে যাচ্ছে। অতীতের মূল্যবান উপকরণ এখন আধুনিকতার ছাপে অপরিহার্যতা হারাচ্ছে।
লেখকের মতামত : এই পৃথিবী সবসময় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। অতীতের মূল্যবান কঞ্চির কলম, খাগের কলম, পালকের কলম ও ফাউন্টেন পেন আজ অবলুপ্তির পথে। মানুষ যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যার ফলে কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়ছে। লেখক কলম দিয়ে লিখতে গৌরব অনুভব করতেন, কিন্তু কম্পিউটার সেই ঐতিহ্যকে জাদুঘরে পাঠাচ্ছে। হাতের লেখা হারালে চিরন্তন মানও হারাবে। এজন্য লেখক কালি-কলমের অবলুপ্তিতে নস্টালজিকভাবে বিপন্ন বোধ করছেন।
উপসংহার : তাই প্রবন্ধে লেখক দেখাতে চেয়েছেন, কালি ও কলমের অবলুপ্তি শুধু উপকরণের হার নয়, বরং লেখালিখির ঐতিহ্য ও শিল্পের ক্ষয়ও বোঝায়।
8. "কাল গুণে বুঝি বা আজ আমরাও তা-ই।”- এখানে কোন্ বিশেষ অবস্থার কথা বলা হয়েছে ? এহেন অবস্থার কারণ কী ? ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক শ্রীপান্থের লেখা 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, 'কালি নেই, কলম নেই, বলে আমি মুনশি !' এখানে তিনি এমন পরিস্থিতির কথা বলছেন, যখন তাঁর হাতে কলম বা কালি নেই।
বিশেষ অবস্থার কারণ : লেখক সংবাদপত্রের অফিসে কাজ করতেন, যেখানে সবাই কম্পিউটারের মাধ্যমে টাইপ করতে অভ্যস্ত। প্রত্যেকের সামনে মনিটর ও কিবোর্ড ছিল, কিন্তু কারো হাতে কলম ছিল না। লেখক যদি কোনো কারণে কলম না নিয়ে যেতেন, তাহলে কাজ সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হতো। কেউ সাহায্য করতে পারতো না, বা থাকলেও সেই কলম ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় থাকত না। অফিসটি ছিল ‘লেখকের কারখানা', যেখানে লেখালিখি চলত নিয়মিত।মানুষের ক্রমবর্ধমান যন্ত্রনির্ভরতা, প্রথাগত কলমের অভাব, এবং স্বাভাবিকভাবে কলমের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে প্রবন্ধিক নিজেকে কলম ছাড়া মুনশি হিসেবে ভাবতেন। এই পরিস্থিতি তাঁকে হতাশ ও চিন্তিত করত, কারণ পুরোনো অভ্যাস ও লেখার অহংকার বজায় রাখা এখন কঠিন হয়ে গেছে।
উপসংহার : তাই প্রবন্ধে লেখক কলমহীন অবস্থার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এবং দেখিয়েছেন, কিভাবে আধুনিক ব্যবস্থায় প্রচলিত উপকরণ হারিয়ে গিয়ে নস্টালজিক অনুভূতি তৈরি করে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টি নিতে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 2. আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 3. জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 4. আফ্রিকা কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
