🔹 Proloyullash Kobita Question Answer
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 3]
1. ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর!’ - ‘তোরা’ বলতে কারা ? তাদের জয়ধ্বনি করতে বলা হচ্ছে কেন ? ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় কবি সংগ্রামের মুহূর্তে সাধারণ মানুষকে সাহস ও উদ্দীপনা দিতে চেয়েছেন।
'তোরা' : এখানে ‘তোরা’ বলতে দেশের পরাধীনতায় কষ্ট পাওয়া স্বাধীনতা প্রত্যাশী সাধারণ মানুষদেরই বোঝানো হয়েছে।
জয়ধ্বনি করতে বলার কারণ : কবি মনে করেন, দীর্ঘ দাসত্বের অবসান ঘটাতে এক শক্তিশালী পরিবর্তন আসবে। সেই পরিবর্তন প্রথমে কঠোর রূপে দেখা দিলেও তার ফল হবে মুক্তি ও নতুন সূচনা। তাই তিনি জনগণকে ভয় না পেয়ে সেই আগমনের মুহূর্তকে স্বাগত জানাতে বলেছেন। জয়ধ্বনি মানে হলো আশাবাদ ও সাহসের প্রকাশ।
উপসংহার : অতএব, মুক্তির আগমনী বার্তাকে বরণ করতেই কবি জনগণকে জয়ধ্বনি করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
৩
2. "ওই নূতনের কেতন ওড়ে" - কবি ‘নূতনের কেতন’ বলতে কী বুঝিয়েছেন ? ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও নতুন যুগের আহ্বান প্রকাশ পেতে ‘নূতনের কেতন’ কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে।
নূতনের কেতন : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সমাজে অবক্ষয়, কুসংস্কার ও জড়তার প্রভাব বেড়ে গিয়েছিল। মানুষ সত্য ও সৌন্দর্য থেকে দূরে সরে পড়েছিল। কবি মনে করেছিলেন, পুরোনো অন্যায় ও অচল চিন্তার ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন সমাজ গড়ে উঠবে। তাই ‘নূতনের কেতন’ বলতে তিনি মুক্ত, সুন্দর ও পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থার শুভ সূচনা এবং নবজাগরণের আগমনকে বুঝিয়েছেন।
উপসংহার : অতএব, ‘নূতনের কেতন’ নতুন আশা, পরিবর্তন ও নবযুগের আগমনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
3. "আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশায় নৃত্য পাগল”- নৃত্য পাগল কে ? মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো। ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় পরিবর্তনের শক্তি ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় উদ্দীপ্ত মানুষের রূপক প্রকাশ করতে এই উক্তিটি ব্যবহৃত হয়েছে।
‘নৃত্য পাগল’ বলতে মহাদেব বা প্রলয়ঙ্কর শিব।
মন্তব্যটি ব্যাখ্যা : পরাধীনতা, শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছিল। নতুন সমাজ গড়ার আশায় তরুণরা ভয়হীন সংগ্রামে নেমেছিল। তাদের উদ্দীপনা ও আন্দোলনের তীব্রতা যেন প্রলয়ের নেশায় মত্ত নৃত্যের মতো। পুরোনো অন্যায় ধ্বংস করে প্রগতির পথ তৈরি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য, তাই কবি তাদের ‘প্রলয়-নেশায় নৃত্য পাগল’ বলেছেন।
উপসংহার : অতএব, ‘নৃত্য পাগল’ বলতে ধ্বংসের মাধ্যমে নতুন যুগ আনার জন্য সংগ্রামী শক্তিকেই কবি রূপকভাবে প্রকাশ করেছেন।
4. "সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল।"- ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? সেখানকার আগল ভাঙার কথা বলা হয়েছে কেন ? ১+২
উত্তর : কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও অত্যাচারের অবসানের ভাব প্রকাশ করতে এই চিত্রকল্প ব্যবহৃত হয়েছে।
সিন্ধুপারের সিংহদ্বার : ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ বলতে আন্দামানের সেলুলার জেলের প্রধান প্রবেশদ্বারকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে স্বাধীনতাসংগ্রামীদের বন্দি করে রাখা হতো।
আগল ভাঙার কারণ : ইংরেজ শাসকরা স্বাধীনতা আন্দোলনের কর্মীদের আন্দামান জেলে আটকে রেখে কঠোর অত্যাচার চালাত। এই কারাগার ছিল দাসত্ব ও নিপীড়নের প্রতীক। কবি বিশ্বাস করেন, পরিবর্তনের শক্তি ও ধ্বংসের মাধ্যমে অন্যায় শাসনের অবসান ঘটবে। তাই জেলের আগল ভাঙা বলতে তিনি বন্দিত্ব ভেঙে স্বাধীনতার পথ উন্মুক্ত হওয়ার কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।
উপসংহার : অতএব, ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ ভাঙা মানে অত্যাচারের শৃঙ্খল ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতার সূচনা হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
5. "বজশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর!"- এই ভয়ংকরের আগমনের তাৎপর্য লেখো। ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় ধ্বংস ও পরিবর্তনের শক্তিকে রূপকভাবে প্রকাশ করতে ‘ভয়ংকর’-এর আগমনের কথা বলা হয়েছে।
ভয়ংকরের আগমনের তাৎপর্য : কবি ভয়ংকর রূপে বিদ্রোহী ও মুক্তির শক্তির আগমন কল্পনা করেছেন, যা অন্যায় ও দাসত্ব ধ্বংস করবে। এই শক্তি প্রলয়ের মতো পুরোনো অবক্ষয় ভেঙে নতুন সমাজ গঠনের পথ তৈরি করে। কালবৈশাখির ঝড় যেমন ধ্বংসের সঙ্গে নবজীবনের বার্তা আনে, তেমনি ভয়ংকরের আগমন স্বাধীনতা, পরিবর্তন ও নতুন যুগের সূচনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
উপসংহার : অতএব, ভয়ংকরের আগমন ধ্বংসের মধ্য দিয়ে মুক্তি ও নবযুগ প্রতিষ্ঠার আশাকেই প্রকাশ করে।
6. "আসছে নবীন-জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন!"- কবি কথাটির মধ্য দিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছেন ? ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় কবি নতুন শক্তির আবির্ভাবকে সমাজ পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখিয়েছেন।
নবশক্তির আগমনবার্তা : কবি বুঝিয়েছেন, এক নতুন শক্তি এগিয়ে আসছে, যার লক্ষ্য পুরোনো ও অশুভ ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়া। এই ভাঙন কেবল ধ্বংসের জন্য নয়; এর ভিতরেই রয়েছে গড়ার আশা। অন্যায় ও কুৎসিত রূপ দূর না করলে সুন্দর প্রতিষ্ঠা পায় না। তাই নবীনের কঠোর রূপ আসলে নির্মল ভবিষ্যৎ গড়ার প্রস্তুতি।
উপসংহার : অতএব, উক্তিটির মাধ্যমে কবি ধ্বংসের মধ্য দিয়ে সুন্দর ও নবজীবনের প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
7. "ওরে ওই হাসছে ভয়ংকর!" - ভয়ংকর কে ? তার হাসির কারণ কী ? ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় ধ্বংস ও সৃষ্টির শক্তিকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ করতে ‘ভয়ংকর’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
‘ভয়ংকর’ বলতে ধ্বংস ও নবসৃষ্টির প্রতীক মহাকালরূপী শিবকে বোঝানো হয়েছে, যিনি পুরাতন অন্যায় বিনাশের শক্তির প্রতিরূপ।
তার হাসির কারণ : শিবের হাসি ধ্বংসের উল্লাসকে প্রকাশ করে। তিনি জীর্ণ, অসুন্দর ও অন্যায় শক্তিকে বিনাশ করে নতুন সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলেন। তাই তাঁর অট্টহাসি প্রলয়ের আনন্দের প্রতীক। পুরোনো অশুভ শক্তি ধ্বংস হয়ে নতুন সৃষ্টির পথ খুলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের উচ্ছ্বাসই তাঁর হাসির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
উপসংহার : অতএব, ভয়ংকরের হাসি ধ্বংসের মধ্য দিয়ে সুন্দর ও নতুন সৃষ্টির আগমনের আনন্দকেই নির্দেশ করে।
8. “ঝাপটা মেরে গগন দুলায়” - এখানে গগন কে দোলায় ? এর মাধ্যমে কবি কী উদ্দেশ্য প্রকাশ করেছেন ? ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির ভাবনা প্রতীকীভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
মহাকালরূপী সংহারক শিব তাঁর প্রলয়শক্তির প্রকাশ ঘটাতে ঝাপটা মেরে গগন দুলিয়ে দেন, যা পরিবর্তনের শক্তির প্রতীক।
কবির উদ্দেশ্য : গগন দোলানোর মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন পুরোনো, জড় ও অবক্ষয়ী সমাজব্যবস্থার ধ্বংসকে। শিবের প্রলয়শক্তি সব অন্যায় ও জীর্ণতা দূর করে নতুন সৃষ্টির পথ তৈরি করে। অর্থাৎ এই আঘাত ধ্বংসের জন্য নয়, বরং পৃথিবীকে নবজীবন দেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই প্রকাশিত হয়েছে।
উপসংহার : অতএব, গগন দোলানোর উদ্দেশ্য ছিল পুরাতন ভেঙে নতুন ও সুন্দর বিশ্বের সূচনা ঘটানো।
9. "সর্বনাশী জ্বালামুখী ধূমকেতু তার চামর ঢুলায়!"- একথা কোন্ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে লেখো। ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় নতুন যুগের আগমনকে ধ্বংস ও সংগ্রামের প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গ : স্বাধীনতা ও নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সহজ নয়; তা রক্ত, ত্যাগ ও সংঘর্ষের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে। তাই কবি নবীন শক্তির আগমনকে শান্ত রূপে নয়, বরং প্রলয়ময় শক্তি হিসেবে কল্পনা করেছেন। ধ্বংসের মধ্য দিয়েই সুন্দর ভবিষ্যৎ জন্ম নেবে। এই ভাব প্রকাশ করতেই অগ্নিময় ধূমকেতুর চামর দোলানোর চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
উপসংহার : অতএব, ধ্বংস ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নতুন ও সুন্দর যুগের আগমন বোঝাতেই উক্তিটি বলা হয়েছে।
10. "মাভৈঃ মাভৈঃ! জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে।"- কবি প্রলয় ঘনিয়ে আসা সত্ত্বেও ‘মাভৈঃ মাভৈঃ’ বলেছেন কেন ? ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় ধ্বংসকে ভয় নয়, বরং নবসৃষ্টির পূর্বসূচনা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
‘মাভৈঃ মাভৈঃ’ বলার কারণ : কবি বিশ্বাস করেন, পুরোনো ও জীর্ণ ব্যবস্থা না ভাঙলে নতুন জীবন জন্ম নেয় না। ঝড় যেমন শুকনো পাতা ঝরিয়ে গাছকে নতুন করে তোলে, তেমনি প্রলয়ও সমাজের জড়তা দূর করে নবজাগরণের পথ খুলে দেয়। তাই এই ধ্বংসকে তিনি ভয়ের নয়, আশার সূচনা হিসেবে দেখেছেন এবং সবার উদ্দেশ্যে নির্ভয় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
উপসংহার : অতএব, প্রলয়ের মধ্যেই নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিশ্বাস থেকেই কবি ‘মাভৈঃ মাভৈঃ’ উচ্চারণ করেছেন।
11. "অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ চরাচর।”- সপ্রসঙ্গ ব্যাখ্যা লেখো। ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় মহাকালরূপী ধ্বংসশক্তির আগমন ও তার প্রভাব প্রকাশ করতে এই উক্তিটি ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রসঙ্গ : মহাকালরূপী শিব প্রলয়ের তাণ্ডব নৃত্যে আবির্ভূত হলে চারদিকে ভীষণ আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তাঁর বজ্রসম অট্টহাসি ও প্রবল শক্তির প্রকাশে আকাশ-বাতাস কেঁপে ওঠে। কালবৈশাখীর ঝড়ের মতো সেই শক্তি পুরোনো জড়তা ভেঙে দেয়। এই ভয়াবহ রুদ্ররূপের অভিঘাতে বিশ্বজগৎ স্তব্ধ ও বিস্মিত হয়ে পড়ে। এ কথাই এখানে বোঝানো হয়েছে।
উপসংহার : অতএব, মহাকালের প্রলয়ময় আগমনের তীব্র অভিঘাতেই চরাচর স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এই ভাব প্রকাশ করতেই উক্তিটি ব্যবহৃত হয়েছে।
12. "বিশ্বমায়ের আসন তাঁরই বিপুল বাহুর পর।"-'বিশ্বমা' কে ? কার বাহুর ওপর কেন তাঁর আসন ? ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় ধ্বংস ও রক্ষার শক্তিকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ করতে ‘বিশ্বমা’ ও মহাকালের চিত্র ব্যবহৃত হয়েছে।
বিশ্বমা : ‘বিশ্বমা’ বলতে কবি সমগ্র পৃথিবী বা বিশ্বজগৎকেই মাতৃরূপে কল্পনা করেছেন।
শিবের বাহুতে বিশ্বরক্ষা : মহাকালরূপী শিবের শক্তিশালী বাহুর ওপরই বিশ্বমায়ের আসন স্থাপিত বলে কবি কল্পনা করেছেন। কারণ তিনিই ধ্বংসের মাধ্যমে অসুন্দর ও পাপ দূর করেন এবং পৃথিবীকে রক্ষা করেন। তাঁর প্রলয়শক্তি অন্যায় দূর করে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে। তাই বিশ্বমায়ের নিরাপদ অবস্থান তাঁরই বিপুল বাহুর ওপর স্থির হয়েছে।
উপসংহার : অতএব, বিশ্বমা নিরাপদ ও রক্ষিত থাকেন মহাকালরূপী শিবের শক্তির আশ্রয়ে এই ভাব প্রকাশ করতেই উক্তিটি বলা হয়েছে।
13. "এবার মহানিশার শেষে/আসবে ঊষা অরুণ হেসে”- এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে কবি কোন্ ইঙ্গিত দিয়েছেন লেখো। ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় কবির দৃষ্টিতে অন্ধকার স্থায়ী নয়, তার পরেই আসে নতুন আলোর সূচনা।
কবির মূল ইঙ্গিত : কবি বোঝাতে চেয়েছেন, পরাধীনতা ও অন্যায়ের দীর্ঘ অন্ধকার একদিন শেষ হবে। সমাজে যে দুঃখ ও শোষণ জমে আছে, তা চিরকাল থাকবে না। ধ্বংসের ভেতর দিয়েই নতুন দিনের সূচনা হবে। যেমন রাত্রির শেষে সূর্য ওঠে, তেমনি দুঃসময়ের পরেই ন্যায় ও আশার নতুন যুগ আসবে।
উপসংহার : অতএব, এই মন্তব্যে কবি অন্ধকার কাটিয়ে আলোকিত ভবিষ্যতের আশাবাদী ইঙ্গিত দিয়েছেন।
14. "দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু-চাঁদের কর”- দিগম্বর শব্দের অর্থ ? প্রসঙ্গটি উল্লেখের কারণ কী ? ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় ধ্বংসকে ভয় নয়, বরং নবসৃষ্টির পূর্বসূচনা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
‘দিগম্বর’ বলতে এখানে মহাদেব শিবকেই বোঝানো হয়েছে, যিনি তাণ্ডবরত।
প্রসঙ্গটি উল্লেখের কারণ : শিব ধ্বংসের নৃত্যে মত্ত হলেও তাঁর শিরে থাকে চাঁদের কোমল আলো। এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে, কঠোর রূপের আড়ালেও সৃষ্টির স্নিগ্ধতা লুকিয়ে থাকে। সমাজ বদলের পথে ভাঙন এলেও তা শেষ পর্যন্ত সুন্দর ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠাই ঘটায়। তাই এই চাঁদের আলো ভবিষ্যতের আশা ও দিকনির্দেশের প্রতীক।
উপসংহার : অতএব, দিগম্বরের প্রসঙ্গ তুলে কবি ধ্বংসের মাঝেও সুন্দরের নিশ্চিত আগমনের কথা বুঝিয়েছেন।
15. "বধূরা প্রদীপ তুলে ধর।”- কবি বধূদের প্রদীপ তুলে ধরতে আহ্বান করেছেন কেন ? ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় কবি ধ্বংসের মধ্যেও শুভ আগমনের সম্ভাবনা অনুভব করেছেন।
কবির এই আহ্বানের কারণ : কবি বুঝিয়েছেন, যে শক্তি পুরোনো ও জীর্ণ সমাজব্যবস্থাকে ভেঙে দেবে, তার আগমনকে ভয় না পেয়ে স্বাগত জানানো উচিত। কারণ এই ভাঙনের মধ্যেই সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠা ঘটবে। তাই তিনি বধূদের প্রদীপ জ্বালাতে বলেছেন, যাতে প্রলয়ের মধ্যেও নবযুগের সূচনাকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করা যায়।
উপসংহার : অতএব, ধ্বংসের আড়ালে থাকা শুভসৃষ্টিকে বরণ করতেই কবি প্রদীপ তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
16. "প্রলয় বয়েও আসছে হেসে/ মধুর হেসে।”- কার আগমনের কথা বলা হয়েছে ? প্রলয় বয়েও তার হাসির কারণ কী ? ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'প্রলয়োল্লাস' কবিতায় কবি ধ্বংসের মধ্যেও নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখেছেন।
এখানে ধ্বংসদেবতা মহাকালরূপী শিবের আবির্ভাবের কথাই বলা হয়েছে।
প্রলয় বয়েও তার হাসির কারণ : শিবের প্রলয়রূপ কঠোর হলেও তার উদ্দেশ্য শুধু বিনাশ নয়। তিনি জীর্ণ ও অসুন্দর সবকিছু সরিয়ে দেন, যাতে নতুন জীবন গড়ে ওঠে। পৃথিবীকে পবিত্র ও নির্মল করার জন্যই তাঁর এই আগমন। তাই প্রলয় বয়ে আনলেও তিনি হাসেন, কারণ এই ধ্বংসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে নবযুগের সূচনা।
উপসংহার : অতএব, ধ্বংসের ভিতরেই সৃষ্টির আনন্দ থাকায় তিনি মধুর হাসিতে আবির্ভূত হন।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টি নিতে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 2. বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 3. জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 4. হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
