🔹 Nadir Bidroho Class 10 Question Answer
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 3]
1. “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে”- কে বুঝতে পেরেছে ? নদীর বিদ্রোহের কারণ কী ? [Madhyamik 2017]
অথবা, "আজ যেন সেই নদী খেপিয়া গিয়াছে"- এখানে কোন্ নদীর কথা বলা হয়েছে ? সে নদী কেন খেপে গিয়াছে ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে প্রকৃতির উত্তাল রূপ দেখে এক চরিত্র তার অন্তর্নিহিত কারণ উপলব্ধি করে।
নদীটি হল : এখানে নদেরচাঁদের কর্মস্থলের পাশে বয়ে যাওয়া বড়ো ও প্রবল স্রোতের নদীর কথাই বলা হয়েছে। তিনি এই নদীর অস্বাভাবিক আচরণের প্রকৃত কারণ বুঝতে পেরেছিল।
নদীর বিদ্রোহের কারণ : টানা বৃষ্টিতে নদী ফুলে ওঠার পাশাপাশি নদেরচাঁদ বুঝেছিল, মানুষের স্বার্থে নদীর গতিপথ আটকে দেওয়া হয়েছে। বাঁধ ও সেতু নির্মাণ করে তার স্বাভাবিক চলা ব্যাহত করা হয়েছে। স্বাধীন স্রোতকে রোধ করায় নদী যেন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তাই সে বাধা ভেঙে নিজের স্বাভাবিক পথে ফিরে যেতে চেয়েছে। এটাই তার ‘বিদ্রোহ’।
উপসংহার : অতএব, মানুষের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়াই নদীর বিদ্রোহের মূল কারণ বলে নদেরচাঁদ উপলব্ধি করেছিল।
2. নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে"- এখানে কার কথা বলা হয়েছে? তার ‘পাগলামিটি’ লেখো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে এক দায়িত্ববান মানুষের অন্তরের গভীর টানকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এখানে গল্পের প্রধান চরিত্র নদেরচাঁদের কথাই বলা হয়েছে।
তার পাগলামি : নদেরচাঁদ পেশায় স্টেশন মাস্টার, তাই তাকে সবসময় সতর্ক থেকে ট্রেন চলাচল সামলাতে হয়। তবু স্টেশনের পাশের নদীর প্রতি তার গভীর টান ছিল। কাজের ফাঁকেও সে নদীর কাছে যেতে চাইত। এই অস্বাভাবিক আকর্ষণকেই সে নিজের ‘পাগলামি’ বলে জানত, আর তাতেই সে আনন্দ খুঁজে পেত।
উপসংহার : অতএব, নদীর প্রতি নদেরচাঁদের প্রবল টানকেই এখানে তার ‘পাগলামি’ বলা হয়েছে।
3. “এই নদীর মতো এত বড়ো ছিল না।”- এখানে কোন্ নদীর কথা বলা হয়েছে? সেই নদী কেমন ছিল ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদেরচাঁদের শৈশবস্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক নদীর প্রসঙ্গ এসেছে।
এখানে নদেরচাঁদের জন্মভূমির পাশে বয়ে যাওয়া তার ছোটো, পরিচিত গ্রাম্য নদীর কথাই বলা হয়েছে।
নদীটির গঠন : নদেরচাঁদের কর্মস্থলের নদীটি বড়ো ও প্রবল স্রোতের হলেও তার গ্রামের নদী ছিল ছোটো ও শান্ত স্বভাবের। শৈশব থেকে কৈশোর পর্যন্ত সে ওই নদীর ধারেই বড়ো হয়েছে। একবার খরায় নদী শুকিয়ে যেতে বসলে সে গভীর কষ্ট পেয়েছিল। নদীটি তার কাছে আপনজনের মতো স্নেহের ছিল।
উপসংহার : অতএব, আকারে ছোটো হলেও শৈশবস্মৃতিবাহী সেই গ্রাম্য নদী নদেরচাঁদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিল।
4. "নদেরচাঁদ সব বোঝে, নিজেকে কেবল বুঝাইতে পারে না’- কে, কী বোঝে ? তা কেন সে নিজেকে বোঝাতে পারে না ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে এক দায়িত্ববান মানুষের মনে যুক্তি ও আবেগের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নদেরচাঁদ বোঝে : শিশু যেমন মায়ের কোল ছাড়া থাকতে পারে না, তেমনি নদেরচাঁদও নদী থেকে দূরে থাকতে পারে না। নদীর প্রতি তার টান যে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এই কথা সে নিজেই বোঝে।
নিজেকে বোঝাতে না পারার কারণ : সে জানে, একজন দায়িত্ববান স্টেশন মাস্টারের পক্ষে এভাবে নদীর জন্য ব্যাকুল হওয়া মানানসই নয়। তার বুদ্ধি তাকে বাস্তব কথা মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু হৃদয়ের আকর্ষণ এত প্রবল যে সে নিজেকে সংযত করতে পারে না। তাই বুঝলেও সেই সত্য মেনে চলা তার পক্ষে কঠিন হয়ে ওঠে।
উপসংহার : অতএব, নিজের আবেগের তীব্রতার কথা বুঝলেও তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাই নদেরচাঁদের অসহায়তার কারণ।
5. “কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের?”- কোন্ ব্রিজের কথা বলা হয়েছে? ব্রিজ অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে কেন ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে উক্ত প্রশ্নটি নেওয়া হয়েছে। এখানে নদেরচাঁদের ভাবনার পরিবর্তন প্রকাশ পেয়েছে।
নদীর ওপর নির্মিত কংক্রিটের ব্রিজ : নদেরচাঁদের কর্মস্থলের কাছাকাছি নদীর উপর তৈরি কংক্রিটের সেতুটির কথাই এখানে বলা হয়েছে।
ব্রিজ অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হওয়ার কারণ : এক সময় নদেরচাঁদ এই ব্রিজ নিয়ে গর্ব বোধ করত। কিন্তু বর্ষাকালে নদী যখন জলে ভরে উঠল, তখন তার মনে হলো সেতুটি যেন নদীর চলার পথে বাঁধা সৃষ্টি করছে। ব্রিজের থামগুলো স্রোতকে আটকে দিচ্ছে, যেন নদীর পায়ে শেকল পরানো হয়েছে। নদীর মুক্ত গতিকে রুদ্ধ করে এমন নির্মাণ তার ভালো লাগেনি। তাই সে মনে করেছিল, এই ব্রিজের আদৌ প্রয়োজন ছিল না।
উপসংহার : অতএব, নদীর স্বাধীন প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করায় নদেরচাঁদের কাছে সেই ব্রিজটি অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছিল।
6. ‘আজ তার মনে হল কী প্রয়োজন ছিল এই ব্রিজের’- কার, কেন এমন মনে হয়েছিল ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখে এক মানুষের চিন্তাভাবনায় বড়ো পরিবর্তন আসে।
এখানে স্টেশনের দায়িত্বে থাকা নদেরচাঁদের কথাই বলা হয়েছে, যার ভাবনায় হঠাৎ বদল এসেছিল।
নতুন ব্রিজ অপ্রয়োজনীয় মনে হওয়ার কারণ : আগে নতুন ব্রিজটি নিয়ে নদেরচাঁদের গর্ব ছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টির পর উত্তাল নদী দেখে সে বুঝতে পারে, মানুষের নির্মাণ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে আটকে দিচ্ছে। স্বাধীন স্রোতকে বেঁধে রাখার এই প্রয়াস নদীকে যেন কষ্ট দিচ্ছে। তাই যে ব্রিজ একসময় তার কাছে গৌরবের ছিল, সেটিকেই পরে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়।
উপসংহার : অতএব, নদীর স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার উপলব্ধি থেকেই নদেরচাঁদের মনে ব্রিজটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সন্দেহ জাগে।
7. "নদীকে এভাবে ভালোবাসার একটি কৈফিয়ৎ নদেরচাঁদ দিতে পারে"- কী কৈফিয়ৎ দিতে হবে ? তার ভালোবাসার পরিচয় দাও।
অথবা, "নদীর জন্য নদেরচাঁদের এত মায়া একটু অস্বাভাবিক"- নদীর প্রতি নদেরচাঁদের অস্বাভাবিক মায়া কেন ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদেরচাঁদের নদীর প্রতি গভীর আবেগের কারণও ইঙ্গিত করা হয়েছে।
কৈফিয়ৎ : নদেরচাঁদের কৈফিয়ৎ হল শৈশব থেকে গ্রাম্য নদীর তীরেই বড়ো হওয়ায় নদী তার আপনজনের মতো হয়ে উঠেছে।
তার ভালোবাসার পরিচয় : সে ছোটোবেলা থেকেই ক্ষীণস্রোতা সেই নদীর পাশে দিন কাটিয়েছে। তাই নদীটি তার কাছে নিছক জলধারা নয়, বরং আত্মীয়ের মতো প্রিয়। একবার খরায় নদী প্রায় শুকিয়ে গেলে সে গভীর কষ্ট পেয়েছিল। প্রিয়জন অসুস্থ হলে যেমন দুশ্চিন্তা হয়, নদীর অবস্থাতেও তার তেমনই ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে।
উপসংহার : অতএব, শৈশবস্মৃতি ও আত্মীয়তাবোধই নদেরচাঁদের নদীপ্রেমের কৈফিয়ৎ হিসেবে ধরা যায়।
8. "সে প্রায় কাঁদিয়া ফেলিয়াছিল"- কে, কী কারণে প্রায় কেঁদে ফেলেছিল ?
অথবা, "দুরারোগ্য ব্যধিতে ভূগিতে ভূগিতে পরমাত্মীয়া মরিয়া যাওয়ার উপক্রম করলে মানুষ যেমন কাঁদে"- এই উক্তির কোন্ প্রসঙ্গে করা হয়েছে।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্পে নদেরচাঁদের নদীর প্রতি গভীর মমতার এক আবেগঘন মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে।
এখানে স্টেশন মাস্টার নদেরচাঁদের কথাই বলা হয়েছে।
কেঁদে ফেলার কারণ : শৈশবের সেই ক্ষীণস্রোতা গ্রাম্য নদী ছিল তার অত্যন্ত প্রিয়। এক বছর বৃষ্টির অভাবে নদীর জল প্রায় শেষ হয়ে যায়। নদীটিকে এমন অবস্থায় দেখে তার মনে হয়েছিল, যেন আপনজনকে হারাতে চলেছে। এই আশঙ্কা ও কষ্টেই তার চোখে জল এসে গিয়েছিল।
উপসংহার : অতএব, প্রিয় গ্রাম্য নদী শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় নদেরচাঁদ প্রায় কেঁদে ফেলেছিল।
9. 'ব্রিজের কাছাকাছি আসিয়া প্রথমবার নদীর দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল"- নদেরচাঁদ কেন স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল ?
অথবা, "আজ যেন সেই নদী খেপিয়া গিয়াছে"- এখানে কোন্ নদীর কথা বলা হয়েছে? ক্ষেপে যাওয়ার নদীটির রূপ দেখতে কেমন ?
অথবা, "চেনা নদীর মূর্তিকে তাই যেন আরও বেশি ভয়ঙ্কর আরও বেশি অপরিচিত মনে হইল"- বক্তা কে ? কেন তার এমন মনে হয়েছিল ?
অথবা, "নদীর দিকে দৃষ্টিপাত করিয়াই নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল"- নদেরচাঁদ কেন স্তম্ভিত হয়েছিল ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে উক্ত প্রশ্নটি নেওয়া হয়েছে। এখানে নদেরচাঁদের মনের অবস্থার একটি বিশেষ মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে।
নদেরচাঁদের প্রিয় নদী : স্টেশনের কাছে অবস্থিত, চার বছর ধরে চেনা সেই নদী।
নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হওয়ার কারণ : টানা পাঁচ দিন প্রবল বৃষ্টির জন্য নদেরচাঁদ নদীটিকে দেখতে পারেনি। এর আগে সে নদীর ভরা জল ও শান্ত স্রোতে এক ধরনের আনন্দ অনুভব করেছিল। কিন্তু এবার ব্রিজের কাছে এসে নদীর দিকে তাকাতেই সে সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা দেখতে পেল। নদী যেন প্রচণ্ড রাগে ফুঁসছে, জলধারা অস্থির ও উন্মত্ত। দীর্ঘদিনের পরিচিত নদীকে হঠাৎ এমন রূপে দেখে তার মনে ভয় জন্মায়। এই অচেনা ও প্রচণ্ড রূপ দেখেই সে স্তব্ধ হয়ে যায়।
উপসংহার : অতএব, দীর্ঘদিনের চেনা নদী হঠাৎ ভয়ংকর ও অপরিচিত রূপ ধারণ করায় নদেরচাঁদ বিস্মিত ও স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল।
12. "আমি চললাম হে"- এই কথাটি কে, কখন বলেছিলেন? বক্তা কোথায় গিয়েছিলেন?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে উক্ত প্রশ্নটি নেওয়া হয়েছে।
স্টেশনমাস্টারের উক্তি : স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদ বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের প্যাসেঞ্জার ট্রেন ছাড়ানোর পর, নতুন সহকারীকে উদ্দেশ্য করে “আমি চললাম হে” কথাটি বলেছিলেন।
নদী দর্শনে গমন : টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির কারণে নদেরচাঁদ তার প্রিয় নদীর কাছে যেতে পারেননি। বৃষ্টি থামতেই তিনি আর দেরি না করে নদীর অবস্থা দেখতে সেখানে রওনা দেন।
উপসংহার : অতএব, ট্রেনের দায়িত্ব শেষ করে নদেরচাঁদ প্রিয় নদীকে দেখতে যাওয়ার সময়ই “আমি চললাম হে” উক্তিটি করেছিলেন।
13. "নদেরচাঁদের ভারি আমোদ বোধ হইতে লাগিল"- নদেরচাঁদের আমোদ বোধ হওয়ার কারণ কী ? তারপর সে কী করেছিল?
অথবা, "একটু মমতাবোধ করিল বটে, কিন্তু নদীর সঙ্গে খেলা করার লোভটা সে সামলাইতে পারিল না"- কীসের প্রতি এই মমতা ? বক্তা লোভ সামলাতে না পেরে কী করেছিল ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে উক্ত প্রশ্নটি নেওয়া হয়েছে। এখানে নদেরচাঁদের মানসিক অবস্থার একটি বিশেষ দিক ফুটে উঠেছে।
নদেরচাঁদের আমোদ বোধের কারণ : প্রবল বৃষ্টিতে ফুলে ওঠা নদীর জল ব্রিজের স্তম্ভে ধাক্কা খেয়ে ফেনা তুলে ঘুরপাক খাচ্ছিল। সেই উচ্ছ্বল দৃশ্য দেখে নদেরচাঁদের মনে আনন্দ জাগে।
জলে চিঠি নিক্ষেপ : নদীর ওই চঞ্চল রূপ দেখে তার মনে এক ধরনের খেলার ইচ্ছে জাগে। পকেট থেকে সে একটি পুরোনো চিঠি বের করে। একটু মায়া হলেও শেষ পর্যন্ত সে নিজেকে আটকাতে পারেনি। নদীর স্রোতের ঘূর্ণির দিকে লক্ষ্য করে চিঠিটি ছুঁড়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই কাগজটি জলের টানে মিলিয়ে যায়।
উপসংহার : অতএব, নদীর উত্তাল ও ফেনিল রূপ দেখে আনন্দিত হয়ে নদেরচাঁদ লোভ সামলাতে না পেরে নিজের চিঠিটি জলে ফেলে দিয়েছিল।
14. “চার বছরের চেনা এই নদীর মূর্তিকে তাই যেন আরও বেশি ভয়ংকর, আরও বেশি অপরিচিত মনে হইল।”- কেন নদেরচাঁদের কাছে নদীর মূর্তি অপরিচিত বলে মনে হল ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে নদেরচাঁদের অনুভূতির পরিবর্তন প্রকাশ পেয়েছে।
নদেরচাঁদের কাছে নদীর মূর্তি অপরিচিত হওয়ার কারণ : স্টেশনমাস্টারি করতে এসে নদেরচাঁদের সঙ্গে নদীর পরিচয় হয়েছিল। এতদিন সে নদীকে গভীর, প্রশস্ত ও শান্ত রূপেই দেখেছে। কিন্তু টানা পাঁচ দিনের প্রবল বর্ষার পর যখন সে নদীর কাছে গেল, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা চোখে পড়ল। পঙ্কিল জল ফুলে উঠে তীব্র স্রোতে ছুটে চলছিল। নদী যেন বাঁধন ছিঁড়ে মুক্তি চাইছে। আগে কখনও এমন উগ্র রূপ সে দেখেনি। তাই পরিচিত নদীকেই তার অচেনা ও ভয়ংকর বলে মনে হয়।
উপসংহার : অতএব, দীর্ঘদিনের শান্ত নদী হঠাৎ উত্তাল ও বিদ্রোহী রূপ ধারণ করায় নদেরচাঁদের কাছে সেটি অপরিচিত ও ভীতিকর বলে মনে হয়েছিল।
15. "চোখের পলকে কোথায় যে অদৃশ্য হইয়া গেল চিঠিখানা"- এখানে কোন্ চিঠির কথা বলা হয়েছে ? সেটি কীভাবে অদৃশ্য হয়েছিল ?
অথবা "এক একখানি পাতা ছিঁড়িয়া দুমড়াইয়া মোচড়াইয়া জলে ফেলিয়া দিতে লাগিল"- কীসের পাতা ছেঁড়ার কথা বলা হয়েছে ? তা কেন জলে ফেলা হয়েছিল ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে উক্ত প্রশ্নটি নেওয়া হয়েছে। এখানে নদেরচাঁদের একটি আবেগঘন মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে।
পত্নীর উদ্দেশে লেখা চিঠি : কর্মস্থলে একা থাকাকালীন বর্ষার দিনে স্ত্রীকে লেখা, বিরহ ভোলার জন্য তৈরি সেই ব্যক্তিগত চিঠি।
জলে ফেলার কারণ : ব্রিজের উপর বসে নদেরচাঁদ উত্তাল নদীর ফেনিল ঘূর্ণি দেখছিল। জলস্তম্ভে ধাক্কা খেয়ে স্রোত প্রায় হাতের কাছে উঠে আসছিল। দৃশ্যটি দেখে তার মনে খেলার ইচ্ছে জাগে। পকেট থেকে পুরোনো চিঠি বের করে সামান্য মায়া হলেও শেষ পর্যন্ত নিজেকে থামাতে পারেনি। নদীর ঘূর্ণির দিকে ছুঁড়ে দিলে মুহূর্তেই স্রোত তা ভাসিয়ে নিয়ে অদৃশ্য করে দেয়।
উপসংহার : অতএব, স্ত্রীর উদ্দেশে লেখা ব্যক্তিগত চিঠিটিই নদেরচাঁদ নদীর স্রোতে ফেলে দিয়েছিল, এবং প্রবল স্রোতের টানে তা চোখের পলকে হারিয়ে যায়।
16. “নদীর জন্য এমনভাবে পাগল হওয়া কি তার সাজে?”- কে, কেন এরূপ প্রশ্ন করেছে ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'নদীর বিদ্রোহ' গল্প থেকে উক্ত প্রশ্নটি নেওয়া হয়েছে। এখানে নায়কের আত্মসমালোচনার ভাব প্রকাশ পেয়েছে।
নদেরচাঁদের আত্মপ্রশ্ন : স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদ নিজেকেই এই প্রশ্ন করেছিল।
এরূপ প্রশ্ন করার কারণ : নদেরচাঁদ পেশায় একজন স্টেশনমাস্টার। ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুতর কাজ তার ওপর ন্যস্ত। দিনরাত যাত্রী ও মালগাড়ির নিরাপত্তা দেখা তার দায়িত্ব। এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত একজন মানুষের পক্ষে সব সময় নদী নিয়ে অতি আসক্ত হয়ে পড়া মানানসই কি না। এই ভাবনা থেকেই সে নিজেকে প্রশ্ন করেছিল।
উপসংহার : অতএব, নিজের দায়িত্বের কথা ভেবে নদেরচাঁদই নদীর প্রতি অতিরিক্ত টান নিয়ে নিজেকে এই প্রশ্ন করেছিল।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টি নিতে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 2. অভিষেক কবিতা প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 3. জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 4. হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
