🔹 Siraj Ud Daulah Question Answer Class 10
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 4]
1. “বাংলা শুধু হিন্দু নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয়-মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা”- কাদের উদ্দেশ্য করে একথা বলা হয়েছে ? কেন এই উক্তি ? এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বক্তার চরিত্রের কোন্ দিক ফুটে উঠেছে ? [Madhyamik 2018]
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নবাব সিরাজদ্দৌলা উপস্থিত সভাসদস্যদের সামনে এই তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
এই উক্তিটি নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর প্রধান সেনাপতি মীরজাফর, অন্যান্য সেনাধ্যক্ষ এবং রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, দুর্লভ রায় প্রমুখ সভাসদস্যদের উদ্দেশ্যে করেছিলেন।
এই উক্তির কারণ : বাংলা কেবল এক সম্প্রদায়ের নয় এই সত্য বোঝিয়ে হিন্দু-মুসলমানকে একত্রিত করতেই তিনি এই বক্তব্য দেন।
বক্তার চরিত্রের মূল দিক : সিরাজ নিজের ধর্মীয় পরিচয় থাকা সত্ত্বেও বাংলাকে শুধু মুসলমানদের অধিকার বলে মনে করেননি। তিনি বাংলাকে মিলিত মানুষের আবাসভূমি হিসেবে দেখেছেন। ‘গুলবাগ’ উপমার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, যেমন বাগানে নানা ফুল একসঙ্গে ফোটে, তেমনি বাংলায়ও সব সম্প্রদায়ের মিলন হওয়া উচিত। এতে তাঁর উদার মানসিকতা, সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা এবং দেশের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা প্রকাশ পায়।
উপসংহার : সুতরাং, এই উক্তির মাধ্যমে সিরাজদ্দৌলার অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বাংলার ঐক্য রক্ষার আন্তরিক মনোভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
2. "ওখানে কী দেখচ মূর্খ, বিবেকের দিকে চেয়ে দ্যাখো।"- বক্তা কে ? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি বক্তার মনোভাব ব্যক্ত করো। ১+৩ [Madhyamik 2019]
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে এক উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্যে ক্ষোভ ও বেদনায় উত্তাল হয়ে এই কঠোর উক্তিটি উচ্চারিত হয়।
এই উক্তির বক্তা ঘসেটি বেগম, তিনি তাঁর ভাগ্নে নবাব সিরাজদ্দৌলাকেই উদ্দেশ্য করে কথাটি বলেন।
বক্তার মনোভাব : সিরাজের প্রতি ঘসেটি বেগমের মনোভাব ছিল গভীর ক্ষোভে ভরা। পূর্ণিয়ার যুদ্ধে তাঁর পালিত পুত্রের মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং সেই ঘটনার জন্য সিরাজকে দায়ী করেন। ফলে তাঁর মনে প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন -"আমার রাজ্য নাই, তাই আমার কাছে রাজনীতিও নাই-আছে শুধু প্রতিহিংসা।"এই উক্তি থেকেই বোঝা যায়, তাঁর চিন্তায় যুক্তির চেয়ে প্রতিহিংসাই প্রবল হয়ে উঠেছিল। ক্ষমতা হারানোর বেদনা ও ব্যক্তিগত আঘাত মিলিয়ে তিনি সিরাজের প্রতি বিরূপ ও অভিশাপদাত্রী হয়ে ওঠেন। তাই তাঁর কথায় তিরস্কার ও তীব্র বিদ্বেষ প্রকাশ পায়।
উপসংহার : সুতরাং, এই বক্তব্যে ঘসেটি বেগমের প্রতিহিংসাপূর্ণ ও শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
3. "এই দুর্দিনে আপনারা আমাকে ত্যাগ করবেন না"- কে কোন্ প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন ? [ Madhyamik 2019 ]
অথবা, 'বাংলার ভাগ্যাকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা'- কে কোন প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন ?
অথবা, 'আজ বিচারের দিন নয় সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন'/'আপনাদের কাছে আমার এই ভিক্ষা যে'- কে কোন্ প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে বাংলার সংকটময় পরিস্থিতিতে নবাব সিরাজ সভাসদস্যদের উদ্দেশ্যে আবেগভরা এই মন্তব্যগুলি করেন।
বাংলার সংকট ও ঐক্যের আহ্বান প্রসঙ্গ : নাট্যাংশে দেখা যায়, বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি তখন খুবই অস্থির হয়ে উঠেছিল। একদিকে ইংরেজদের আগ্রাসী মনোভাব, অন্যদিকে নবাবের ঘনিষ্ঠ সভাসদস্যদের মধ্যেই গোপন ষড়যন্ত্র চলছিল। এসব কারণে বাংলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সিরাজ গুপ্তচরের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পেলেও তিনি তৎক্ষণাৎ কঠোর শাস্তি দেননি। বরং তিনি মনে করেছিলেন, এই সংকটের সময়ে পরস্পরের মধ্যে ঐক্য ও সৌহার্দ্য স্থাপন করা প্রয়োজন। তাই তিনি সভাসদদের সামনে বাংলার আসন্ন বিপদের কথা তুলে ধরে তাদের সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, এখন বিচার বা দোষারোপের সময় নয়, বরং মিলেমিশে দেশের মান-মর্যাদা রক্ষা করা দরকার। এমনকি ভবিষ্যতে বিচারসভা বসাতে হলে তিনি রাজি আছেন এবং প্রয়োজনে সিংহাসনও ত্যাগ করবেন বলে জানান।
উপসংহার : অতএব, বাংলার সংকটময় পরিস্থিতিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানাতেই সিরাজদ্দৌলা এই মন্তব্যগুলি করেছিলেন।
4. "বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না"- কাদের উদ্দেশ্যে এই মন্তব্য ? কোন্ দুর্দিন নির্দেশিত হয়েছে ? ১+৩ [Madhyamik 2019]
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে সংকটময় মুহূর্তে নবাব সিরাজদ্দৌলা চারদিকের বিপদ অনুভব করে এই আবেদন জানান।
এই মন্তব্যটি নবাব সিরাজদ্দৌলা মীরজাফর, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখ সভাসদস্যদের উদ্দেশ্যে করেছিলেন।
দুর্দিন : এখানে ‘দুর্দিন’ বলতে বাংলার ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটকে বোঝানো হয়েছে। নবাবের চারপাশে ঘনিয়ে ওঠে বিশ্বাসঘাতকতা ও চক্রান্ত। একদিকে মীরজাফরসহ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি গোপন ষড়যন্ত্রে যুক্ত হন, অন্যদিকে ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াট্স ও অ্যাডমিরাল ওয়াটসন চুক্তিভঙ্গ করে শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা চালান। তাদের আগ্রাসী মনোভাব এতটাই তীব্র ছিল যে অ্যাডমিরাল ওয়াটসন ঘোষণা করে-"বাংলায় আমি এমন আগুন জ্বালাইব যা গঙ্গার সমস্ত জল দিয়েও নিভানো যাইবে না।" চন্দননগর আক্রমণ ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের উদ্যোগে বাংলার স্বাধীনতা বিপদের মুখে পড়ে। এই সর্বগ্রাসী সংকটকেই সিরাজ ‘দুর্দিন’ বলে উল্লেখ করেছেন।
উপসংহার : সুতরাং, অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতা ও ইংরেজদের আগ্রাসনের ভয়াবহ সময়কেই এখানে বাংলার দুর্দিন বলা হয়েছে।
5. "কিন্তু ভদ্রতার অযোগ্য তোমরা।"- একথা কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে ? এইরূপ মন্তব্যের কারণ কী ? ১+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে নবাব সিরাজদ্দৌলা ইংরেজদের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে কঠোর মন্তব্য করেন।
এই মন্তব্যটি নবাব সিরাজদ্দৌলা ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াট্সকে উদ্দেশ্য করে প্রকাশ্যে করেন।
এইরূপ মন্তব্যের কারণ : ইংরেজরা বাইরে থেকে নবাবের প্রতি অনুগত থাকার আশ্বাস দিলেও গোপনে ভিন্ন পরিকল্পনা করছিল। আলিনগরের সন্ধি অনুযায়ী তাদের শান্তিপূর্ণ আচরণ করার কথা থাকলেও তারা সেই শর্ত মানেনি। ওয়াট্স ও ওয়াট্সনের ব্যক্তিগত চিঠিতে নবাবের প্রতি অবিশ্বাস প্রকাশ এবং চন্দননগর আক্রমণের ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল। গুপ্তচরের মাধ্যমে সেই চিঠিপত্র নবাবের হাতে পৌঁছায় এবং সভায় তা পাঠ করে শোনানো হয়। এতে বোঝা যায়, ইংরেজরা বাংলায় নিজেদের শক্তি বাড়াতে এবং সুযোগ বুঝে আক্রমণ করতে প্রস্তুত হচ্ছিল। উপরন্তু, দেশের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রেও তারা পরোক্ষভাবে সহায়তা করছিল। এই দ্বিচারিতা, চুক্তিভঙ্গ এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোভাব সিরাজকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। এতদিন শান্তির স্বার্থে তিনি ভদ্রতা দেখালেও তাদের আচরণে তিনি অপমানিত ও প্রতারিত বোধ করেন। সেই কারণেই তিনি কঠোর ভাষায় এই মন্তব্য করেন।
উপসংহার : অতএব, ইংরেজদের গোপন ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসভঙ্গের কারণেই সিরাজদ্দৌলা ক্ষোভ প্রকাশ করে এ কথা বলেছিলেন।
6. ঘসেটি চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
অথবা, "আমার রাজ্য নাই, তাই আমার কাছে রাজনীতিও নাই, আছে শুধু প্রতিহিংসা'- এই উক্তির মাধ্যমে বক্তার চরিত্রের কোন দিক ফুঁটে উঠেছে আলোচনা করো।
অথবা, "ছল করে ধরে এনে, পাপপুরীতে বন্দিনী করে রাখলে, তোমাদের আমি ক্ষমা করব"- বক্তা কে ? উক্তির মাধ্যমে বক্তার চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
অথবা, "ওর নিঃশ্বাসে বিষ, দৃষ্টিতে আগুন, অঙ্গ সঞ্চালনে ভূমিকম্প"- এই উক্তির মাধ্যমে বক্তার চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে ঘসেটি বেগম একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু কুটিল নারী চরিত্র। অল্প কয়েকটি সংলাপের মধ্যেই তার স্বভাব ও মানসিকতার প্রকৃতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঘসেটি চরিত্রের বৈশিষ্ট্য :
১. ষড়যন্ত্রকারী স্বভাব : সিরাজের বিরুদ্ধে যে গোপন চক্রান্ত চলছিল, তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ঘসেটি বেগম। তিনি সিরাজের বিপদের সময় সহানুভূতি না দেখিয়ে তার পতনেই সন্তুষ্ট হন।
২. প্রতিহিংসাপরায়ণা : নিজের পালিত পুত্রকে সিংহাসনে বসানোর আশা ভেঙে যাওয়ায় তার মনে তীব্র প্রতিশোধস্পৃহা জন্মায়। তাই তিনি বলেন - “আমার রাজ্য নাই, তাই আমার কাছে রাজনীতিও নাই - আছে শুধু প্রতিহিংসা।”
৩. ক্ষমতালোভী মনোভাব : সিংহাসনের প্রতি তার প্রবল লোভ ছিল। ক্ষমতা অর্জনের জন্য তিনি নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নেন।
৪. হৃদয়হীনা স্বভাব : তার কথাবার্তায় মমতা বা সহানুভূতির প্রকাশ খুব কম দেখা যায়। তার ভাষা প্রায়ই তিরস্কার, অভিশাপ ও কঠোরতার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ক্ষমতা ও প্রতিহিংসার কারণে তার হৃদয়ে কোমলতার কোনো স্থান ছিল না।
৫. স্বার্থপর মানসিকতা : নিজের স্বার্থ ও উদ্দেশ্য পূরণই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। সে কারণে অন্যের ক্ষতি হলেও তিনি তা নিয়ে চিন্তা করতেন না। ব্যক্তিগত লাভের জন্য তিনি যেকোনো পথে এগোতে দ্বিধা করতেন না।
উপসংহার : উদ্ধৃত উক্তির মাধ্যমে ঘসেটি বেগমের প্রতিহিংসাপরায়ণ ও কুটিল স্বভাব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
7. 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে সিরাজের চরিত্র বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। [Madhyamik 2017]
অথবা, 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে সিরাজের দেশপ্রেমের পরিচয় ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে নবাব সিরাজ প্রধান চরিত্র। তার কথাবার্তা ও আচরণের মাধ্যমে তার ব্যক্তিত্বের নানা দিক প্রকাশ পায়। নিচে সিরাজের কয়েকটি প্রধান চরিত্র বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হল।
সিরাজের চরিত্র বৈশিষ্ট্য :
১. দেশপ্রেমিক মনোভাব : সিরাজ নিজের স্বার্থের চেয়ে বাংলার মঙ্গলকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। তাই কঠিন সময়ে বাংলাকে বাঁচাতে তিনি সবার কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন।
২. ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি : তিনি মনে করতেন হিন্দু ও মুসলমান একসঙ্গে থাকলেই দেশ শক্তিশালী হবে। তাই তিনি দুই সম্প্রদায়ের মিলনের কথা জোর দিয়ে বলেছেন।
৩. বাগ্মিতা ও আবেগপূর্ণ ভাষা : সিরাজের কথা বলার ক্ষমতা ছিল প্রবল। আবেগময় ভাষায় তিনি সভাসদদের বোঝাতে এবং তাদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
৪. আত্মসমালোচনার মনোভাব : তিনি নিজের ভুল স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি। সভাসদদের সামনে নিজের ত্রুটি স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছিলেন।
৫. মানসিক দুর্বলতা : ষড়যন্ত্রকারীদের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তিনি কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেননি। নিজের কোমল স্বভাবের কারণে তিনি কঠোর হতে পারেননি।
উপসংহার : এই সব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বোঝা যায় যে সিরাজ ছিলেন দেশপ্রেমিক ও আবেগপ্রবণ এক শাসক, যার চরিত্রই নাটকে তাকে একটি করুণ নায়কে পরিণত করেছে।
8. 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে মীরজাফরের চরিত্রটি আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে মীরজাফর একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র । তার আচরণ ও কথাবার্তার মাধ্যমে তার স্বার্থপর ও কুটিল স্বভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিচে মীরজাফরের কয়েকটি প্রধান চরিত্র বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো।
মীরজাফরের চরিত্র বৈশিষ্ট্য :
১. উগ্র ও অসহিষ্ণু স্বভাব : দরবারে হোসেনকুলী খাঁকে প্রাণদানের প্রসঙ্গ উঠলে মীরজাফর বিরক্ত হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান। মীরমদন তাকে নবাবের প্রতি কর্তব্যের কথা স্মরণ করালে তিনি রাগ প্রকাশ করেন এবং সভাসদদের নিয়ে দরবার ত্যাগ করতে চান। এতে তার অস্থির ও উগ্র স্বভাব প্রকাশ পায়।
২. অহংকারী মানসিকতা : মোহনলালকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন যে নিচু পদস্থ কেউ উঁচু পদস্থ ব্যক্তির সমালোচনা করতে পারে না। এই কথার মধ্য দিয়ে নিজের পদমর্যাদা নিয়ে তার অহংকার স্পষ্ট বোঝা যায়।
৩. ষড়যন্ত্রে জড়িত মনোভাব : বাংলার সংকটের সময়েও তিনি নবাবের বিরুদ্ধে গোপনে চক্রান্তে যুক্ত ছিলেন। ওয়াটসের চিঠির প্রসঙ্গ উঠলেও তিনি লজ্জা বা অনুশোচনা প্রকাশ করেননি।
৪. স্বার্থপর প্রবৃত্তি : নিজের লাভ ও ক্ষমতার আশায় তিনি দেশের স্বার্থের কথা গুরুত্ব দেননি। ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য।
৫. কপট আচরণ : বাহ্যিকভাবে তিনি নবাবের অনুগত বলে পরিচয় দিলেও ভিতরে ভিতরে ভিন্ন পরিকল্পনা করছিলেন। তার এই দ্বিমুখী আচরণ চরিত্রের কপটতা প্রকাশ করে।
উপসংহার : এইসব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বোঝা যায় যে নাটকে মীরজাফর স্বার্থপর, অহংকারী ও ষড়যন্ত্রপ্রবণ ব্যক্তি হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন, যা তার চরিত্রকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
9. "আমার এই অক্ষমতার জন্য তোমরা আমাকে ক্ষমা করো'- এই ক্ষমা কাদের কাছে প্রার্থনা করেছেন এবং কেন এই ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ? ১+৩
অথবা, "তোমাদের কাছে আমি লজ্জিত"- বক্তা কাদের কাছে কেন লজ্জিত ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে এক করুণ পরিস্থিতিতে নবাব সিরাজদ্দৌলা নিজের অসহায়তা স্বীকার করে এই কথা বলেন।
এই ক্ষমা প্রার্থনা নবাব সিরাজদ্দৌলা ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে-লা এবং বাংলায় অবস্থানকারী ফরাসি বণিকদের কাছে করেছিলেন।
এই ক্ষমা প্রার্থনার কারণ : ইংরেজ ও ফরাসিরা পরস্পরের শত্রু হওয়ায় বাংলায়ও তাদের বিরোধ দেখা দেয়। ইংরেজরা আলিনগরের সন্ধির শর্ত ভেঙে চন্দননগর আক্রমণ করে এবং ফরাসিদের কুঠি দখল করে নেয়। এতে ফরাসিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নবাবের কাছে প্রতিকার চান। কিন্তু সেই সময় সিরাজ নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। পূর্বের যুদ্ধ ও সংঘর্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় তাঁর শক্তি কমে গিয়েছিল। উপরন্তু, মন্ত্রিসভারও নতুন করে সংঘর্ষে জড়ানোর ইচ্ছা ছিল না। তাই সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও তিনি ফরাসিদের রক্ষা করতে পারেননি। নিজের এই অক্ষমতার কারণেই তিনি লজ্জিত হয়ে তাদের কাছে ক্ষমা চান।
উপসংহার : অতএব, ফরাসিদের সাহায্য করতে না পারার জন্যই সিরাজদ্দৌলা অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন।
10. "সুতরাং আমি মুসলমান বলে আমার প্রতি আপনারা বিরূপ হবেন না।”- বক্তা কে ? তাঁর এরূপ বিলাপের কারণ কী ? ১+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে নবাব সিরাজের বক্তব্যে সেই সময়ের সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ফুটে উঠেছে। এই উক্তির মধ্যেও তার উদ্বেগ ও আবেদন প্রকাশ পেয়েছে।
এই উক্তির বক্তা বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলা। তিনি দরবারে উপস্থিত সভাসদদের উদ্দেশে আবেগভরে এই কথা বলেন।
তাঁর এরূপ বিলাপের কারণ : সেই সময় বাংলার পরিস্থিতি খুব জটিল হয়ে উঠেছিল। একদিকে ইংরেজদের শক্তি ক্রমে বাড়ছিল, অন্যদিকে নবাবের নিজের দরবারেই অনেকেই তার বিরোধিতা করছিল। জগৎশেঠ, মীরজাফর প্রমুখের অসহযোগিতা এবং ঘসেটি বেগমের প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব তাকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। ফলে নবাব বুঝতে পারেন যে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকলে দেশের বড় ক্ষতি হবে। তাই তিনি সবাইকে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানান। তিনি নিজের ভুলও স্বীকার করেন এবং হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কোনো বিভেদ না রাখার কথা বলেন। সেই কারণেই তিনি অনুরোধ করেন, তিনি মুসলমান বলে যেন কেউ তার প্রতি বিরূপ না হন।
উপসংহার : অতএব বোঝা যায়, দেশের ঐক্য বজায় রাখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই সিরাজদ্দৌলা এই বক্তব্য করেছিলেন।
11. "এইবার হয়তো শেষ যুদ্ধ"- বক্তা কেন এই মন্তব্য করেছেন ?
অথবা, "আজও তার বুকে রক্তের তৃষা জানিনা কার রক্ত চায় সে পলাশী রাক্ষসী পলাশী"- কোন প্রসঙ্গে এই মন্তব্য।
অথবা, 'মাত্র পনেরোটি মাস আমি রাজত্ব করেছি'- বক্তার রাজত্ব করার অভিজ্ঞতাটি কেমন তা লেখ ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে এক সংকটপূর্ণ মুহূর্তে নবাব সিরাজদ্দৌলা নিজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা প্রকাশ করতে গিয়ে এই কথাগুলি বলেন।
সংকট ও শেষ যুদ্ধের আশঙ্কা : সিরাজের রাজত্বের সময়টা খুব অশান্ত ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে নানা বিপদের মুখোমুখি হতে হয়। আত্মীয়-স্বজন ও সভাসদস্যদের মধ্যে অনেকেই তার বিরুদ্ধে গোপনে ষড়যন্ত্র করছিল। একই সঙ্গে ইংরেজদের আগ্রাসী মনোভাব পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। সিংহাসন রক্ষা করতে গিয়ে তাকে বারবার যুদ্ধ করতে হয়েছে। যেমন কলকাতা দখলের যুদ্ধ ও শওকৎ জঙ্গের বিরুদ্ধে লড়াই। ফলে রাজত্ব তার কাছে শান্তির নয়, বরং উদ্বেগ ও সংগ্রামের অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়। এসব কারণেই তিনি বুঝতে পারেন সামনে আরেকটি কঠিন যুদ্ধ আসছে। পলাশীর প্রান্তর যেন রক্তের তৃষ্ণায় অপেক্ষা করছে। এই ভাবনা থেকেই তিনি মনে করেন এটাই হয়তো তার শেষ যুদ্ধ।
উপসংহার : অতএব, চারদিকে ষড়যন্ত্র ও যুদ্ধের আশঙ্কা থেকেই সিরাজদ্দৌলা পলাশীর যুদ্ধকে নিজের শেষ যুদ্ধ বলে মনে করেছিলেন।
12. 'আমরা নবাবের নিমক বৃথা খাই না, এ কথা তাদের মনে রাখা উচিত'- এই মন্তব্যটি কে, কোন্ প্রসঙ্গে করেছেন ?
অথবা, 'নবাব থাকুন তার কর্মক্ষম, শক্তিমান পরম বিচক্ষণ মন্ত্রী আর সেনাপতিদের নিয়ে'- এই মন্তব্যটি কে, কোন্ প্রসঙ্গে করেছেন ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা 'সিরাজদ্দৌলা' নাট্যাংশে কিছু সংলাপের মাধ্যমে চরিত্রগুলোর মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই সংলাপও তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য, যেখানে নবাবের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পেয়েছে।
এই মন্তব্যের বক্তা হলেন নবাব সিরাজদ্দৌলার বিশ্বস্ত সেনাপতি মীরমদন। তিনি নবাবের প্রতি অনুগত ও সাহসী একজন সৈনিক।
মন্তব্যের কারণ / মন্তব্যের প্রসঙ্গ : দরবারে ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর নবাব সিরাজদ্দৌলার সঙ্গে কিছু সভাসদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। তখন অনেক অমাত্য ইংরেজদের পক্ষ নিয়ে নবাবের বিরোধিতা করছিল। তারা নবাবকে দুর্বল প্রমাণ করার চেষ্টা করছিল এবং গোপনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এই পরিস্থিতিতে নবাবের দুই বিশ্বস্ত অনুগত মোহনলাল ও মীরমদন তার পাশে দাঁড়ান। তখন মীরমদন দৃঢ় কণ্ঠে বলেন- “আমরা নবাবের নিমক বৃথা খাই না, এ কথা তাদের মনে রাখা উচিত।” এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে যারা নবাবের অন্ন খেয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করছে তারা ভুল করছে। নবাবের সম্মান ও সিংহাসন রক্ষার জন্য তার মতো বিশ্বস্ত সৈনিকরা এখনও প্রস্তুত।
উপসংহার : অতএব বোঝা যায়, নবাবের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ এবং বিশ্বাসঘাতকদের সতর্ক করতেই মীরমদন এই মন্তব্য করেছিলেন।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টি নিতে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : সিরাজদ্দৌলা নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 2. অভিষেক কবিতা প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 3. নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 4. হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
