WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বাংলা ভাষার বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর PDF | Class 10 Bangla Bhasha Vigyan Question Answer | Class 10 Bengali Bangla Bhasha Vigyan Question Answer

0

বাংলা ভাষার বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর PDF

ভূ(caps)মিকা : মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষা 90 নম্বরের হবে। এই 90 নম্বরের মধ্যে প্রবন্ধ থেকে মোট 11 নম্বর থাকবে। তাই প্রবন্ধ অংশ থেকে পুরো নম্বর পেতে হলে শ্রীপান্থের লেখা 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' এবং রাজশেখর বসুর লেখা 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধগুলি ভালোভাবে পড়তে হবে। এই দুটি প্রবন্ধ থেকে 11 নম্বরের মধ্যে 3টি MCQ প্রশ্ন আসবে (3 নম্বর), 3টি SAQ প্রশ্ন আসবে (3 নম্বর), এবং 5 নম্বর মানের বড়ো প্রশ্ন পরীক্ষায় দুটি দেওয়া থাকবে তার মধ্যে যে-কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে (5 নম্বর) অর্থাৎ মোট 3+3+5=11 নম্বর। তাই তোমাদের সুবিধার জন্য এখন আমি প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর লেখা 'বাংলা ভাষার বিজ্ঞান' প্রবন্ধ থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ 5 নম্বর মানের প্রশ্ন উত্তর সহ Free PDF নিচে দিলাম। তবে আমাদের প্রকাশিত মাধ্যমিক সাজেশন ই-বুকগুলি (PDF) সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এই ই-বুকগুলি WBBSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এখান থেকে পরীক্ষায় অনেক প্রশ্ন কমন পাবেন। সুতরাং যারা মাধ্যমিক সাজেশন ই-বুকগুলি (PDF) নিতে চাও, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

Class 10 Bangla Bhasha Vigyan Question Answer

🔹 Bangla Bhasar Bigyan Question Answer

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 5]
1. 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চায় এখনও নানা রকম বাধা আছে'- এই বাধা দূর করতে লেখক কী কী পরামর্শ দিয়েছেন, তা আলোচনা করো। [Madhyamik 2017]
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর লেখা 'বাংলা ভাষার বিজ্ঞান' প্রবন্ধে লেখক বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার পথে যে নানা সমস্যা রয়েছে তা আলোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এসব বাধা দূর করার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দিয়েছেন, যাতে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা সহজ ও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে যেতে পারে।
বাধা দূর করতে লেখকের পরামর্শ  : 
1. পরিভাষা সংকলনের উদ্যোগ : বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক পরিভাষা কম। তাই পণ্ডিতদের সম্মিলিতভাবে নতুন পরিভাষা সংকলন করতে হবে। অপরিচিত শব্দের ক্ষেত্রে প্রথমবার তার ব্যাখ্যা ও ইংরেজি নাম দেওয়া উচিত।
2. মাতৃভাষার প্রতি গুরুত্ব : অনেকেই ইংরেজিকে বেশি গুরুত্ব দেন এবং মাতৃভাষাকে অবহেলা করেন। এই মনোভাব ত্যাগ করে বাংলা ভাষাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
3. আক্ষরিক অনুবাদ বর্জন : ইংরেজি ভাষার হুবহু অনুবাদ না করে ভাব অনুযায়ী ভাষা ব্যবহার করলে রচনা স্বাভাবিক ও সহজ হয়।
4. তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন :  বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশের আগে অভিজ্ঞ ব্যক্তির দ্বারা তার তথ্য পরীক্ষা করা উচিত, যাতে ভুল বা বিভ্রান্তি না থাকে।
5. বিজ্ঞান শিক্ষার বিস্তার : সব স্তরের পাঠকের কথা মাথায় রেখে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রবন্ধ লেখা উচিত এবং দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।
6. সহজ ও অলংকারহীন ভাষা : বৈজ্ঞানিক লেখার ভাষা সরল, স্পষ্ট ও আড়ষ্টতামুক্ত হওয়া প্রয়োজন, অতিরিক্ত অলংকার ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।
উপসংহার : এইভাবে লেখক বিভিন্ন পরামর্শের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে সঠিক উদ্যোগ ও সচেতনতার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার বাধাগুলি দূর করা সম্ভব এবং এর ফলে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানভিত্তিক সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।

2. 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনায় এখনও নানাকরম বাধা আছে।"- কোন বাধাগুলির কথা বলা হয়েছে তা লেখো ? ৫
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর লেখা 'বাংলা ভাষার বিজ্ঞান' প্রবন্ধে লেখক বলেছেন যে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানভিত্তিক রচনা এখনও সহজভাবে গড়ে ওঠেনি। এর প্রধান কারণ হল এই কাজে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। তাই প্রবন্ধে তিনি সেগুলির কথা উল্লেখ করেছেন।
বাধাসমূহ :
1. পরিভাষার স্বল্পতা : বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক পারিভাষিক শব্দ যথেষ্ট পরিমাণে গড়ে ওঠেনি, ফলে অনেক বিষয় সহজভাবে প্রকাশ করা কঠিন হয়।
2. পরিভাষা সংকলনের অসম্পূর্ণতা : বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কিছু উদ্যোগ নিলেও সব সমস্যার সমাধান হয়নি।
3. বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা : পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞান সম্পর্কিত জ্ঞান তুলনামূলকভাবে কম।
4. আক্ষরিক অনুবাদের সমস্যা : ইংরেজি ভাষা থেকে হুবহু অনুবাদ করলে বাংলা ভাষার স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয় এবং রচনা আড়ষ্ট হয়ে পড়ে।
5. ইংরেজিতে ভেবে লেখা : অনেক লেখক প্রথমে ইংরেজিতে চিন্তা করেন এবং পরে বাংলায় প্রকাশ করার চেষ্টা করেন, ফলে লেখার সাবলীলতা নষ্ট হয়।
6. পরিভাষা ব্যবহার এড়িয়ে চলা : কিছু ক্ষেত্রে পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার না করে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়, এতে বিষয়টি পরিষ্কার না হয়ে বরং জটিল হয়ে ওঠে।
7. একই পরিভাষার বারবার ব্যাখ্যা : একটি শব্দের ব্যাখ্যা বারবার দিলে রচনা অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় হয়ে যায় এবং পাঠকের অসুবিধা সৃষ্টি করে।
8. অতিরিক্ত অলংকার ও জটিল শব্দের ব্যবহার : বৈজ্ঞানিক লেখায় অতিরিক্ত অলংকার, অতিশয়োক্তি বা অদ্ভুত শব্দ ব্যবহার করলে মূল বৈজ্ঞানিক ভাব স্পষ্ট থাকে না।
উপসংহার : অতএব, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার পথে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা রয়েছে। এই সমস্যাগুলি দূর করা গেলে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা আরও সহজ ও সুসংগঠিতভাবে বিকশিত হতে পারবে।

3. 'এই কথাটা সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত।' - বক্তা কে ? লেখকের কী মনে রাখা উচিত ? ১+৪
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর লেখা 'বাংলা ভাষার বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বৈজ্ঞানিক রচনার ভাষার সরলতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
বক্তা হলেন প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু। 
লেখকের যা মনে রাখা উচিত : বৈজ্ঞানিক বিষয় সহজ, স্পষ্ট ও সরল ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে। পাঠকের জ্ঞানের সীমা বোঝা জরুরি। ইংরেজি ভাবনা থেকে সরাসরি অনুবাদ এড়িয়ে চলা উচিত। পারিভাষিক শব্দ প্রয়োগ করলে তা ব্যাখ্যা করতে হবে। ভাষা জটিল হলে পাঠক বোঝে না, তাই ব্যঞ্জনা ও উৎপ্রেক্ষা কমিয়ে সরলীকরণ করতে হবে। বৈজ্ঞানিক ভাষা সাহিত্যের ভাষার মতো নয়, এ বিষয়টি সব লেখকের মনে রাখা জরুরি।
উপসংহার : অতএব, বৈজ্ঞানিক রচনায় ভাষা সহজ ও স্পষ্ট রাখা সকল লেখকেরই মনে রাখতে হবে।

4. 'আমাদের আলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন' - শব্দের ত্রিকথা কী ? বিজ্ঞান নির্ভর রচনার ক্ষেত্রে এদের ব্যবহার কতদূর গ্রহণযোগ্য তা লেখো ? ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর লেখা 'বাংলা ভাষার বিজ্ঞান' প্রবন্ধে লেখক ভাষা ব্যবহারের বিভিন্ন দিক আলোচনা করেছেন। সেই প্রসঙ্গেই তিনি আলংকারিকদের মতে শব্দের বিভিন্ন অর্থ প্রকাশের পদ্ধতির কথাও উল্লেখ করেছেন, যাকে শব্দের ত্রিকথা বলা হয়।
শব্দের ত্রিকথা :
1. অভিধা : শব্দের যে সরল ও আভিধানিক অর্থ থাকে, তাকে অভিধা বলা হয়। এতে শব্দ তার মূল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। যথা -'দেশ' শব্দের আভিধানিক অর্থ কোনো স্থান বা আমাদের ভারত।
2. লক্ষণা : যখন শব্দের মূল অর্থ ছেড়ে তার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য অর্থ বোঝানো হয়, তখন তাকে লক্ষণা বলা হয়।যেমন - "এই রিকশা, এদিকে এসো"- রিকশা জড়পদার্থ। কিন্তু বাক্যে রিকশা শব্দটির মধ্যে দিয়ে রিকশাওয়ালাকে বোঝানো হয়েছে।
3. ব্যঞ্জনা : কোনো শব্দের দ্বারা সরাসরি অর্থ প্রকাশ না হয়ে ভেতরের ভাব বা ইঙ্গিত প্রকাশ পেলে তাকে ব্যঞ্জনা বলা হয়। যেমন-'অরণ্যের রোদন' শব্দটির অর্থ 'বনের কান্না' নয়, ব্যঞ্জনার সেই শব্দটির অর্থ হল 'নিষ্ফল খেদ'।
বিজ্ঞানভিত্তিক রচনায় ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য : এই তিন ধরনের ব্যবহার বাংলা সাহিত্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করলেও বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে এগুলির প্রয়োগ যত কম করা যায় ততই ভালো। কারণ বেশি ব্যবহার করলে বৈজ্ঞানিক আলোচনা জটিল হয়ে যেতে পারে। প্রাবন্ধিকের মতে, বিশেষ প্রয়োজন হলে কখনো কখনো উপমা বা রূপক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বৈজ্ঞানিক লেখায় ছন্দ বা অতিরিক্ত অলংকার ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়।
উপসংহার : সুতরাং শব্দের ত্রিকথা ভাষার সৌন্দর্য বাড়ালেও বিজ্ঞানভিত্তিক রচনায় এগুলির ব্যবহার সীমিত রাখাই অধিক গ্রহণযোগ্য।

5. 'এই রকম ভুল লেখা সাধারণ পাঠকের পক্ষে অনিষ্টকর।'- এখানে কোন ধরনের ভুল লেখার কথা বলা হয়েছে ? তা সাধারণ পাঠকের কাছে অনিষ্টকর কেন ? ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর লেখা 'বাংলা ভাষার বিজ্ঞান' প্রবন্ধে সাধারণ পাঠকের জন্য ভুল লেখার প্রভাব ব্যাখ্যা করেছেন।
ভুলটি হল : 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধে উল্লিখিত হয়েছে যে, লেখক রাজশেখর বসু একবার এক পত্রিকায় দেখেছিলেন- 'অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন স্বাস্থ্যকর বলে বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই। তারা জীবের বেঁচে থাকার পক্ষে অপরিহার্য অঙ্গ মাত্র। তবে ওজন গ্যাস স্বাস্থ্যকর।' এই ধরনের ভুল লেখার কথাই এখানে বলা হয়েছে।
অনিষ্টকর হওয়ার কারণ : বৈজ্ঞানিক বিষয় পাঠককে সত্যের ওপর বিশ্বাস করার সুযোগ দেয়। ভুল তথ্য দিলে তারা ভুল সিদ্ধান্ত নেবে, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার জন্য ক্ষতি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি লেখা হয়, নাইট্রিক অ্যাসিড তৃষ্ণা মেটায়’ তবে সাধারণ পাঠক সেই লেখাটি পড়ে নাইট্রিক অ্যাসিড পান করতে পারে, তা বিপজ্জনক হবে। সুতরাং, রচনা প্রকাশের আগে অভিজ্ঞ লোক দ্বারা যাচাই অপরিহার্য।
উপসংহার : অতএব, বৈজ্ঞানিক রচনায় ভুল তথ্য সাধারণ পাঠকের জন্য ক্ষতিকর, তাই প্রকাশের আগে সতর্ক যাচাই করা উচিত।

6. 'বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান' প্রবন্ধ অবলম্বনে প্রথম শ্রেণি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠক সম্পর্কে আলোচনা করো। [Madhyamik 2023] ৫
অথবা, "তাদের মোটামুটি দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে।”- কাদের কথা বলা হয়েছে ? দুই শ্রেণির পরিচয় দাও। ১+৪
অথবা, বাংলা বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের পাঠকদের লেখক যে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন তা আলোচনা করো। ৫
অথবা, 'যাদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থ বা প্রবন্ধ লেখা হয় তাদের মোটামুটি দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যেতে পারে'- শ্রেণি দুটি সম্পর্কে আলোচনা করো। ৫
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর লেখা 'বাংলা ভাষার বিজ্ঞান' প্রবন্ধে রাজশেখর বসু যাদের জন্য বাংলা বিজ্ঞান গ্রন্থ লেখা হয় তাদের মোটামুটি দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন।
মূল পাঠক শ্রেণি :
(ক) প্রথম শ্রেণির পাঠক :  যারা ইংরেজি জানে না বা খুব অল্প জানে; সাধারণভাবে ছোট ছেলে-মেয়ে ও অল্প শিক্ষিত বয়স্করা; বিজ্ঞানের সঙ্গে পূর্ব পরিচয় নেই, কিছু সাধারণ শব্দ ও তথ্য জানে; বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শেখার ক্ষেত্রে ভাষা কোনো বাধা নয়। প্রথম শ্রেণির পাঠকদের বিজ্ঞানের সঙ্গে পূর্ব পরিচয় নেই। কিছু ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ বা সাধারণ তথ্য তারা জানে, কিন্তু আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞান নেই। এরা ইংরেজির প্রভাবমুক্ত, তাই বাংলা পরিভাষা আয়ত্ত করে বাংলায় বিজ্ঞান শেখায় কোনো অসুবিধা হয় না। সমস্যা হয় যারা ইংরেজি জানে। প্রথম শ্রেণির পাঠকের ক্ষেত্রে সুবিধা হল বিষয়টি বোঝলেই তারা বাংলায় বিজ্ঞান শেখা শুরু করতে পারে, ভাষা বাধা হয় না।
(খ) দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠক : যারা ইংরেজি জানে এবং কিছু বৈজ্ঞানিক পড়াশোনার অভিজ্ঞতা রাখে, তাদের আগে ইংরেজির প্রভাব ও অভ্যস্ততা ত্যাগ করতে হয়। ইংরেজির প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য ছাড়তে হয়। এ কারণে তাদের জন্য বাংলা বিজ্ঞান পড়া কিছুটা কঠিন ও কষ্টকর হয়ে যায়।
উপসংহার : লেখক দেখিয়েছেন যে পাঠকের দক্ষতা ও জ্ঞান অনুযায়ী বাংলা বিজ্ঞান গ্রন্থ লেখা গেলে শিক্ষণীয়তা বৃদ্ধি পায় এবং পাঠকের জন্য বিজ্ঞান শিক্ষা গ্রহণ সহজ ও কার্যকর হয়।

7. 'পরিভাষা রচনা একজনের কাজ নয়'- এই পরিভাষা সম্পর্কে লেখকের মতামত এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগ সম্পর্কে লেখো।
অথবা, 'বাংলা পারিভাষিক শব্দ প্রচুর নেই'- এই সমস্যা দূর করার জন্য কোন্ কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ? 
উত্তর : বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে পারিভাষার অভাব একটি বড় সমস্যা। রাজশেখর বসু তাঁর প্রবন্ধে এই সমস্যার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন এবং এর সমাধানের জন্য অতীতে গৃহীত উদ্যোগগুলি আলোচনা করেছেন।
(ক) পরিভাষা সম্পর্কে লেখকের মতামত : লেখকের মতে, পরিভাষা রচনা কখনো একজনের কাজ নয়; সমবেত প্রচেষ্টা দরকার। পরিভাষার মূল উদ্দেশ্য হলো ভাষাকে সংক্ষিপ্ত ও অর্থ সুনির্দিষ্ট করা। কিছু ক্ষেত্রে পারিভাষিক শব্দ বাদ দেওয়া যেতে পারে, তবে সব জায়গায় তা বিপদজনক।
(খ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগ : সাহিত্য পরিষদের লেখকরা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক বিষয়ের পরিভাষা রচনায় চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সমন্বয়ের অভাবে একই ইংরেজি সংজ্ঞার একাধিক প্রতিশব্দ তৈরি হয় এবং সংকলনের সাম্য রক্ষা হয় না। ফলে সেই উদ্যোগ সম্পূর্ণ সফল হয়নি।
(গ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ : ১৯৩৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরিভাষা সমিতি গঠন করে। এখানে বিভিন্ন বিজ্ঞানের অধ্যাপক, ভাষাতত্ত্বজ্ঞ ও লেখক একত্রে কাজ করেছিলেন। সমন্বয় থাকার কারণে সংকলন তুলনামূলকভাবে সফল হয়েছিল। যদিও সংকলন বড় হয়নি, তবুও নতুন রাসায়নিক বা বৈজ্ঞানিক বস্তুগুলির ইংরেজি নাম বাংলায় ব্যবহারের বিধান রাখা হয়।
উপসংহার : এই দুই উদ্যোগ বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। লেখকের পরামর্শ অনুযায়ী, সমবেত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ও সতর্কভাবে পরিভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করলে বাংলা বিজ্ঞানচর্চা আরও উন্নত হবে।

8. "যে লোক আজন্ম ইজার পরেছে তার পক্ষে হঠাৎ ধুতি পরা অভ্যেস করা একটু শক্ত।"- মন্তব্যটির তাৎপর্য আলোচনা করো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর লেখা 'বাংলা ভাষার বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বাংলায় বিজ্ঞান শেখার ক্ষেত্রে সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।
মন্তব্যটির তাৎপর্য : মন্তব্যটির অর্থ হল ইংরেজিতে অভ্যস্ত মানুষদের জন্য হঠাৎ বাংলায় বৈজ্ঞানিক ধারণা গ্রহণ করা কঠিন। যারা আজীবন ইংরেজিতে বিজ্ঞান পড়েছেন, তাদের মনে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। ফলে বাংলা পরিভাষা আয়ত্ত করা তাদের জন্য পরিশ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ হয়। তবে যারা ইংরেজিতে দক্ষ নন, তাদের জন্য বাংলায় বিজ্ঞান শেখা সহজ। লেখকের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী মনোযোগ ও ধৈর্য দিয়ে মাতৃভাষায় নিয়মিত অধ্যয়ন করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব। এটি একইসঙ্গে মাতৃভাষায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞান প্রসারের গুরুত্বকেও প্রমাণ করে।
উপসংহার : অতএব, এই মন্তব্য আমাদের বুঝায় ইংরেজিতে অভ্যস্ত পাঠকের জন্য বাংলায় বিজ্ঞান শিখা প্রথমে কষ্টকর, তবে ধৈর্য ও মনোযোগে তা সম্ভব।

9. 'তাতে পাঠকের অসুবিধে হয়'- পাঠকের অসুবিধা হওয়ার কারণ কি ? কেমন ধরনের অসুবিধা হয় এবং এই অসুবিধা দূর করার জন্য কী করা প্রয়োজন ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর লেখা 'বাংলা ভাষার বিজ্ঞান' প্রবন্ধে বৈজ্ঞানিক লেখায় পাঠকের অসুবিধার কারণ ও সমাধান আলোচনা করেছেন।
অসুবিধার কারণ : পাঠককে অসুবিধা হয় তখন, যখন রচনায় একই বিষয় বারবার বলা হয় এবং অনাবশ্যক পরিভাষা ব্যবহৃত হয়। এতে বক্তব্য জটিল, অস্পষ্ট ও পুনরাবৃত্তিমূলক হয়ে যায়। কিছু পরিভাষা যেমন "আলোরতরঙ্গ" বা "অমেরুদন্ডী" বুঝতে কষ্ট হয়, ফলে পাঠকের মনোযোগ বিভ্রান্ত হয় এবং লেখার অর্থ স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায় না।
অসুবিধা দূর করার উপায় : পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান কম। তাই কঠিন বৈজ্ঞানিক নাম বা পরিভাষা অনেকের কাছে বোঝা কঠিন মনে হয়। আবার পরিভাষা বাদ দিলে একই কথার পুনরাবৃত্তি হয়, যা লেখাকে জটিল করে তোলে। এই সমস্যা দূর করার জন্য প্রাবন্ধিক বলেছেন - নতুন বা কম পরিচিত বৈজ্ঞানিক শব্দ প্রথমবার ব্যবহার করলে তার পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে হবে, প্রয়োজনে ইংরেজি নামও দেখাতে হবে। কিন্তু পরবর্তী ব্যবহার শুধু বাংলা পরিভাষা দিয়েই চলবে।
উপসংহার : অতএব, বৈজ্ঞানিক বা জটিল রচনায় পরিভাষার সঠিক ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ পাঠকের অসুবিধা দূর করে রচনাকে সহজ ও বোধগম্য করে তোলে।

10. এই দোষ থেকে মুক্ত না হলে বৈজ্ঞানিক সাহিত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হবে না - এখানে কোন দোষের কথা বলা হয়েছে? এই দোষ থেকে কীভাবে মুক্ত হওয়া যাবে ?
উত্তর : বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনা করার সময় কিছু সাধারণ ত্রুটি দেখা যায়। প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু এই ত্রুটিগুলি চিহ্নিত করেছেন এবং সঠিক রচনার উপায় নির্দেশ করেছেন।
দোষের পরিচয় : প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসু বলেছেন, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার সঠিক পদ্ধতি অনেক লেখক এখনও আয়ত্ত করতে পারেননি। ফলে তারা ভাষা সাবলীলতা হারিয়ে ইংরেজির আক্ষরিক অনুবাদে ভুল করে ফেলেন।
এই দোষ থেকে মুক্ত পাওয়ার উপায় :
(ক) সঠিক শব্দ প্রয়োগ : লেখকরা অনেক সময় ইংরেজি শব্দের সরাসরি অনুবাদ করতে গিয়ে অদ্ভুত ও অপ্রাকৃত শব্দ ব্যবহার করেন। প্রাবন্ধিকের মতে, বাংলায় ইংরেজি শব্দের অর্থ বোঝাতে যথাযথ বাংলা প্রতিশব্দ ব্যবহার করা উচিত।
(খ) ত্রুটিমুক্ত অনুবাদ : লেখকরা প্রায়ই ইংরেজিতে ভাবা ভাবনাকে হুবহু বাংলায় অনুবাদ করেন, যা রচনাকে জটিল ও অসুবিধাজনক করে তোলে। এই সমস্যা এড়াতে প্রাবন্ধিক বলেছেন, ভাবানুবাদকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
(গ) পারিভাষিক শব্দের সঠিক ব্যবহার : অনেক লেখক পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে বারবার একই অর্থ পুনরায় বলার চেষ্টা করেন, যা রচনাকে দীর্ঘ ও পাঠকের জন্য কঠিন করে তোলে। সঠিক বৈজ্ঞানিক সাহিত্য তৈরির জন্য পরিভাষার সঠিক ব্যবহার অপরিহার্য।
উপসংহার : এই ত্রুটিগুলি দূর করলে বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। লেখকদের উচিত সঠিক শব্দ ব্যবহার, ভাবানুবাদে মনোযোগ দেওয়া এবং পরিভাষার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টি নিতে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : বাংলা ভাষার বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
2. কোনি উপন্যাসের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
3. জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
4. আফ্রিকা কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.