🔹 Pather Dabi Question Answer Class 10
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 3]
1. "লোকটি কাশিতে কাশিতে আসিল”- লোকটিকে দেখে অপূর্বর কী মনে হয়েছিল ? ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' গদ্যাংশে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে থানায় আনার সময় তার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা পাওয়া যায়।
লোকটিকে দেখে অপূর্বর ধারণা : লোকটি কাশতে কাশতে নিমাইবাবুর সামনে এলে অপূর্বর মনে হয় তিনি খুব অসুস্থ। বয়স বেশি না হলেও কাশির কারণে তিনি হাঁপিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি হয়তো কোনো কঠিন রোগে ভুগছেন এবং শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে তার চোখের দৃষ্টি ছিল গভীর ও স্থির, যেখানে এক ধরনের অদ্ভুত শক্তি ও দৃঢ়তা বোঝা যাচ্ছিল।
উপসংহার : অতএব, লোকটির অসুস্থ শরীর অপূর্বর মনে দুঃখ জাগালেও তার গভীর দৃষ্টি তাকে বিস্মিত করেছিল।
2. 'বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ যোলো আনাই বজায় আছে'- একথা কে, কার সম্পর্কে বলেছেন ? তার সম্পর্কে বক্তার এরূপ উক্তির কারণ কী। ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' গদ্যাংশে থানায় আনা এক ব্যক্তির অদ্ভুত সাজপোশাক দেখে নিমাইবাবুর মন্তব্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।
বাঙালি পুলিশ অফিসার নিমাইবাবু থানায় আনা গিরীশ মহাপাত্রকে দেখে তার সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছিলেন।
বক্তার এরূপ উক্তির কারণ : গিরীশ মহাপাত্রকে দেখতে খুব দুর্বল ও অসুস্থ লাগছিল। কিন্তু তার পোশাক ছিল বেশ আড়ম্বরপূর্ণ। তিনি রঙিন সিল্কের পাঞ্জাবি পরেছিলেন এবং বুক থেকে একটি রুমালের অংশ দেখা যাচ্ছিল। পায়ে ছিল ফুলমোজা ও চকচকে জুতো, হাতে ছিল হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি। দুর্বল শরীরের সঙ্গে এত সাজসজ্জা দেখে নিমাইবাবু এই মন্তব্য করেছিলেন।
উপসংহার : অতএব, গিরীশের দুর্বল শরীরের সঙ্গে তার অতিরিক্ত সাজসজ্জার অমিল দেখেই নিমাইবাবু এমন মন্তব্য করেছিলেন।
3. "আর খেয়ো না। বুড়ো মানুষের কথাটা শুনো"- বুড়ো মানুষটি কে ? তিনি কাকে কোন কথাটি শুনতে বলেছিলেন ? ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' গদ্যাংশে এক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখে একজন বৃদ্ধ মানুষের সহানুভূতিশীল মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
বুড়ো মানুষটি হলেন পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিমাইবাবু।
গিরীশকে গাঁজা ত্যাগের পরামর্শ : সন্দেহভাজন ব্যক্তি গিরীশ মহাপাত্রকে পুলিশ ধরে নিমাইবাবুর সামনে নিয়ে আসে। গিরীশ তখন কাশতে কাশতে খুব দুর্বল অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল। তার পকেট থেকে গাঁজা খাওয়ার কলকে পাওয়া যায়, যদিও সে তা অস্বীকার করছিল। অভিজ্ঞতা থেকে নিমাইবাবু বুঝেছিলেন সে নেশা করে। অসুস্থ শরীর দেখে স্নেহভরে তাকে বলেন - আর গাঁজা খেও না, বুড়ো মানুষের এই কথাটি শুনে চল।
উপসংহার : অতএব, এই কথার মাধ্যমে অসুস্থ গিরীশের প্রতি নিমাইবাবুর সহানুভূতি ও স্নেহপূর্ণ মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
4. 'যাঁকে খুঁজছেন তাঁর কালচারের কথাটা একবার ভেবে দেখুন।'- কে, কাকে খুঁজছিলেন ? তাঁর কালচারের কথা ভেবে দেখতে বলা হয়েছে কেন ? ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' গদ্যাংশে পুলিশের সন্দেহভাজন একজন ব্যক্তিকে ঘিরে এই ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।
বাঙালি পুলিশ অফিসার নিমাইবাবু বিপ্লবী রাজবিদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিককে খুঁজছিলেন।
তাঁর কালচারের কথা ভেবে দেখতে বলার কারণ : পুলিশ গিরীশ মহাপাত্র নামে এক ব্যক্তিকে ধরে এনেছিল। কিন্তু তার চেহারা খুব দুর্বল ও অসুস্থ লাগছিল এবং পোশাকও ছিল অদ্ভুত ধরনের। একজন শিক্ষিত ও খ্যাতিমান বিপ্লবীর আচরণ ও পোশাক সাধারণত মার্জিত হয়। তাই বোঝাতে চাওয়া হয়েছিল যে গিরীশের সঙ্গে সব্যসাচীর স্বভাব ও সংস্কৃতির মিল নেই।
উপসংহার : অতএব, গিরীশ মহাপাত্র যে প্রকৃতপক্ষে সব্যসাচী মল্লিক নন এই কথাটিই বোঝাতে তার কালচারের কথা ভাবতে বলা হয়েছিল।
5. "রাত্রি তো আমার তুমি ঘুমের বিঘ্ন করিতে পারো না'- একথা কে, কাকে বলেছে ? কীভাবে তার ঘুমের বিঘ্ন ঘটানো হয়েছিল ? ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' গদ্যাংশে অপূর্বের প্রতিবাদী মনোভাব ও পরিস্থিতির প্রতি তার অসন্তোষ ফুটে উঠেছে।
অপূর্ব ট্রেনে ঘুম ভাঙানোর কারণে বর্মা সাব-ইন্সপেক্টর সাহেবের উদ্দেশ্যে এই কথাটি বলেছিল।
ঘুমের বিঘ্ন ঘটানোর কারণ : অপূর্ব রেঙ্গুন থেকে ভামোনগরের পথে ট্রেনে যাচ্ছিল এবং ভেবেছিল রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবে। কিন্তু কয়েকটি স্টেশন পার হওয়ার পর পুলিশের লোক বারবার তাকে জাগিয়ে তোলে। তারা তার নাম, ঠিকানা ও পরিচয় জানতে চাইছিল। এভাবে তিনবার ঘুম ভেঙে যাওয়ায় অপূর্ব বিরক্ত হয়ে প্রতিবাদ করেছিল।
উপসংহার : অতএব, এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়, বারবার ঘুম ভাঙানোর জন্য অপূর্ব বিরক্ত হয়ে প্রতিবাদী ভাষায় নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
6. 'সহসা আশঙ্কা হয় সংসারে মিয়াদ বোধ করি বেশি দিন নাই' - কার সম্পর্কে এই উক্তি ? তাকে দেখে এমন কেন মনে হয় ? ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' গদ্যাংশে এক অসুস্থ মানুষের করুণ শারীরিক অবস্থার বর্ণনা পাওয়া যায়। তাকে দেখে উপস্থিত লোকদের মনে তার জীবন নিয়ে গভীর উদ্বেগ জন্মেছিল।
রেঙ্গুন থানায় ধরা পড়া পলিটিক্যাল সাসপেক্ট গিরীশ মহাপাত্র সম্পর্কে এই কথাটি বলা হয়েছে।
এমন মনে হওয়ার কারণ : গিরীশ মহাপাত্রকে থানায় আনা হলে দেখা যায় তিনি বারবার কাশছিলেন এবং সামান্য কাশিতেই হাঁপিয়ে উঠছিলেন। বয়স খুব বেশি না হলেও তাকে অত্যন্ত দুর্বল ও অসুস্থ দেখাচ্ছিল। তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল দীর্ঘদিনের কোনো কঠিন রোগে ভুগছেন এবং ধীরে ধীরে শরীর ক্ষয়ে যাচ্ছে।
উপসংহার : অতএব, এই কারণেই গিরীশকে দেখে মনে হয়েছিল যে তিনি যেন অল্প সময়ের অতিথি, সংসারে তার মেয়াদ আর বেশিদিন নেই অর্থাৎ মৃত্যু যেন খুব কাছে এসে গেছে।
7. 'বাস্তবিক, এমন তৎপর, এতবড়ো কার্যকুশলা মেয়ে আর যে কেহ আছে মনে হয় না।'- মেয়েটি সম্পর্কে এরূপ মন্তব্যের কারণ কী ? ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' গদ্যাংশে অপূর্বর ঘরে চুরির ঘটনার সময় এক মেয়ের বুদ্ধি ও তৎপরতার পরিচয় পাওয়া যায়।
এরূপ মন্তব্যের কারণ : অপূর্ব বাড়িতে না থাকাকালে তার ঘরে চুরি হয়েছিল। তখন উপরতলার ক্রিশ্চান মেয়েটি চোরকে তাড়িয়ে দেয় এবং নিজের তালা লাগিয়ে ঘরটি বন্ধ করে রাখে। পরে অপূর্ব ফিরে এলে সে তালা খুলে দেয় এবং ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র গুছিয়ে দেয়। এমনকি কী কী জিনিস হারিয়েছে তার সঠিক হিসাবও সে করে দেয়।
উপসংহার : এই তৎপরতা ও কাজের দক্ষতা দেখেই অপূর্ব মেয়েটির সম্পর্কে এমন প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন।
8. 'তাছাড়া এত বড়ো বন্ধু' - কাকে বন্ধু বলা হয়েছে ? তাকে বন্ধু বলা হয়েছে কেন ? ১+২
অথবা, 'এত বড়ো কার্যকুশলা মেয়ে'- কাকে কেন কার্যকুশলা মেয়ে বলা হয়েছে ? ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' গদ্যাংশে অপূর্বের জীবনের একটি ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়। সেই ঘটনার সূত্রে একটি মেয়েকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অপূর্ব তার বাসার উপরতলায় থাকা ক্রিশ্চান মেয়েটিকে ব্যঙ্গ করে ‘বন্ধু’ বলেছিল।
বন্ধু বলার কারণ : অপূর্ব বাইরে থাকাকালে রাতে তার ঘরে চুরি হয়। তখন উপরতলার ক্রিশ্চান মেয়েটি চোর তাড়িয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়। পরে অপূর্ব ফিরে এলে সে ঘরের জিনিসপত্র গুছিয়ে দেয় এবং চুরি যাওয়া জিনিসের তালিকাও বানায়। তবে অপূর্বের সন্দেহ ছিল, চুরির পেছনে মেয়েটিরই কোনো ভূমিকা আছে।
উপসংহার : অতএব, এই সন্দেহ ও ব্যঙ্গের ভাব থেকেই অপূর্ব ক্রিশ্চান মেয়েটিকে ‘এত বড়ো বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছিল।
9. 'তার আমি জামিন হতে পারি'- বক্তা কে ? একথা কেন বলেছেন ? ১+২
অথবা, 'যাকে খুঁজছেন সে যে এ নয়'- বক্তা কে ? তিনি একথা কেন বলেছেন ? ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' গদ্যাংশে পুলিশ স্টেশনে ধরা পড়া এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নিয়ে এই ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।
বক্তা হলেন অপূর্ব, যিনি গিরীশ মহাপাত্রের জন্য এই কথা বলেছিলেন।
একথা বলার কারণ : পুলিশ বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে গিরীশ মহাপাত্রকে ধরে থানায় আনে। কিন্তু গিরীশের পোশাক, আচরণ ও কথাবার্তা দেখে অপূর্বের মনে হয় তিনি সেই বিপ্লবী নন। কারণ একজন শিক্ষিত ও খ্যাতিমান ব্যক্তির চেহারা ও ব্যবহার এমন হাস্যকর হতে পারে না। তাই অপূর্ব নিমাইবাবুর কাছে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে এবং তার জামিন হওয়ার কথাও বলে।
উপসংহার : এই কারণেই অপূর্ব মনে করেছিল গিরীশ নির্দোষ এবং তাই সে তার জামিন হতে চেয়েছিল।
10. 'আমার দেশের চেয়ে তো তিনি আপন নন' - কার সম্পর্কে কেন এই মন্তব্য আলোচনা করো। ১+২
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' গদ্যাংশে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও বিপ্লবীদের প্রতি সহানুভূতির একটি দৃষ্টান্ত দেখা যায়।
দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করা রাজদ্রোহী বা বিপ্লবীদের সম্পর্কে অপূর্ব এই মন্তব্য করেছিল।
এই মন্তব্যের কারণ : অপূর্ব মনে করত, পুলিশকর্তা নিমাইবাবু তার পরিচিত ও শুভাকাঙ্ক্ষী হলেও দেশের চেয়ে বেশি আপন নন। কারণ তিনি ইংরেজ সরকারের হয়ে বিপ্লবীদের খুঁজে ধরে দিতেন। কিন্তু যাদের রাজদ্রোহী বলা হতো, তারা আসলে দেশের স্বাধীনতা ও সম্মান রক্ষার জন্য লড়াই করছিলেন। তাই অপূর্ব তাদেরই সত্যিকারের 'আপনজন' মনে করেছিল।
উপসংহার : এই মন্তব্যের মাধ্যমে অপূর্ব দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামকারী বিপ্লবীদের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা ও আত্মীয়তার অনুভূতি প্রকাশ করেছে।
11. 'অপূর্ব হঠাৎ চকিত হইয়া বলিয়া উঠিল'- অপূর্ব স্টেশনে কী দেখে চমকে উঠেছিল ? ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' গদ্যাংশে স্টেশনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়।
অপূর্ব চমকে যাওয়ার কারণ : অপূর্ব রেঙ্গুন থেকে ভামোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। ট্রেন ছাড়ার আগে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সে হঠাৎ গিরীশ মহাপাত্রকে দেখতে পায়। পুলিশ স্টেশনে যেভাবে তাকে দেখেছিল, এখানেও প্রায় একই রকম সাজে ছিল সে। তার গায়ে ছিল আগের মতোই বাহারি জামা, পায়ে সবুজ মোজা ও পাম্পশু, হাতে ছড়ি। শুধু রুমালটি গলায় জড়ানো ছিল।
উপসংহার : অতএব, হঠাৎ স্টেশনে গিরীশ মহাপাত্রকে সেই পরিচিত সাজে দেখে অপূর্ব বিস্মিত হয়ে উঠেছিল।
12. "কিন্তু ইহা যে কত বড় ভ্রম"- এখানে কোন্ ভ্রমের কথা বলা হয়েছে ? ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' গদ্যাংশে ট্রেনযাত্রার সময় অপূর্বের একটি ভুল ধারণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ভ্রমটি হল : ভামো যাওয়ার পথে অপূর্ব ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কামরায় ভ্রমণ করছিল। সে মনে করেছিল, প্রথম শ্রেণির যাত্রী হওয়ায় রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবে এবং কেউ তাকে বিরক্ত করবে না। কিন্তু কয়েকটি স্টেশন পার হতেই পুলিশের লোক বারবার তাকে জাগিয়ে তোলে এবং তার নাম-ঠিকানা লিখে নেয়। ফলে অপূর্ব বুঝতে পারে, তার সেই নিশ্চিন্তে ঘুমানোর ধারণা আসলে ভুল ছিল।
উপসংহার : অতএব, প্রথম শ্রেণির যাত্রী হওয়ায় শান্তিতে ঘুমোতে পারবে এই ভুল ধারণাকেই এখানে ‘ভ্রম’ বলা হয়েছে।
13. 'আমি ভীরু, কিন্তু তাই বলে অবিচারের দন্ড ভোগ করার অপমান আমাকে কম বাজে না'- বক্তা কে ? তিনি কোন্ অবিচারের দণ্ড ভোগ করেছিলেন ? ১+২
অথবা, 'এই অন্যায়ের প্রতিবাদ যখন করতে গেলাম'- এখানে কোন্ অন্যায়ের কথা বলা হয়েছে ? প্রতিবাদ করতে গেলে কী ঘটেছিল ? ১+২
অথবা, 'তুমি ইউরোপিয়ান নও'- একথা কে, কাকে, কখন বলেছিল ? ১+২
অথবা, 'তার লাঞ্ছনা এই কালো চামড়ার নীচে কম বাজে না'- বক্তা কে ? তিনি কীভাবে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন ? ১+২
অথবা, 'কই এ ঘটনা তো আমাকে বলেননি'- ঘটনাটি নিজের ভাষায় লেখো। ৩
অথবা, 'আমার অপমান কারোর গায়েই ঠেকলো না, এমনি তাদের অভ্যাস হয়ে গেছে'- বক্তা কীভাবে অপমানিত হয়েছিলেন ?
অথবা, 'মনে হল দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশে যাই'- বক্তার কেন এমন মনে হয়েছিল ? ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' গদ্যাংশে পরাধীন দেশের মানুষের উপর অন্যায়ের একটি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।
অপূর্ব তার সহকর্মী ও বন্ধু রামদাসের উদ্দেশ্যে এই কথাটি বলেছিল।
অবিচারটি হল : একদিন কয়েকজন ইউরোপীয় যুবক কোনো কারণ ছাড়াই অপূর্বকে রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম থেকে লাথি মেরে বের করে দেয়। আশেপাশে অনেক মানুষ থাকলেও কেউ প্রতিবাদ করেনি। পরে অপূর্ব স্টেশনমাস্টারের কাছে অভিযোগ করতে গেলে, সে অপূর্ব ইউরোপীয় নয় বলে তার কথা শোনেনি এবং অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। এই ঘটনাই তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছিল।
উপসংহার : অতএব, অন্যায়ের এই অপমানজনক আচরণই অপূর্বের মনে গভীর আঘাত করেছিল এবং সে এই কথাটি বলেছিল।
14. "তার লাঞ্ছনা এই কালো চামড়ার নীচে কম জ্বলে না, তলওয়ারকর।”- কোন্ লাঞ্ছনার কথা এখানে বলা হয়েছে? ৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের দাবী' গদ্যাংশে পরাধীন দেশের মানুষের প্রতি বিদেশিদের অপমানজনক আচরণের একটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
তার লাঞ্ছনা : কয়েকজন ইউরোপীয় যুবক কোনো কারণ ছাড়াই অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বার করে দিয়েছিল শুধুমাত্র দেশি লোক বলে। আশেপাশে অনেক মানুষ থাকলেও কেউ প্রতিবাদ করেনি। পরে অপূর্ব অভিযোগ জানাতে গেলে স্টেশনমাস্টারও তার কথা শোনেনি এবং তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। নিজের দেশেই এই অপমান তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছিল।
উপসংহার : অতএব, এই অপমানজনক ঘটনাকেই এখানে অপূর্বের সহ্য করা লাঞ্ছনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টি নিতে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : পথের দাবী গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 2. বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 3. অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 4. কোনি উপন্যাসের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
