🔹 Class 10 Koni Question Answer
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 5]
1. কোনি চরিত্রটি আলোচনা করো। [Madhaymik 2018] ৫
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মতী নন্দীর লেখা 'কোনি' উপন্যাসে কোনি প্রধান চরিত্র। দরিদ্র পরিবারে জন্ম হলেও সে নিজের পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তির জোরে সাঁতারের জগতে সাফল্য অর্জনের স্বপ্ন দেখে। নানা বাধা ও অপমানের মধ্যেও সে লক্ষ্য অর্জনের জন্য এগিয়ে যায়।
কোনি চরিত্রের বৈশিষ্ট্য :
সংগ্রামী মনোভাব : কোনির জীবন শুরু থেকেই কষ্টে ভরা। দারিদ্র্য ও নানা বাধার মধ্যেও সে হাল ছাড়েনি। জীবনের কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করেই সে এগিয়ে যেতে চেয়েছে।
একাগ্রতা ও জেদ : সাঁতারে সফল হওয়ার জন্য কোনির মধ্যে প্রবল জেদ ও মনোযোগ দেখা যায়। লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সে কঠোর পরিশ্রম করতে প্রস্তুত ছিল।
খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা : কোনির মধ্যে প্রকৃত খেলোয়াড়ের মনোভাব ছিল। ক্ষিতীশ তার এই গুণ চিনতে পেরেছিলেন এবং তাকে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। এর ফলে সে প্রতিযোগিতায় সাফল্যের দিকে এগিয়ে যায়।
আত্মমর্যাদাবোধ : কোনির আত্মসম্মানবোধ খুব প্রবল। কারও দয়া বা অবজ্ঞা সে সহজে মেনে নেয় না। অপমানজনক আচরণ হলে সে তার প্রতিবাদও করে।
পরিশ্রমী স্বভাব : কঠোর পরিশ্রম ও সহনশীলতার মাধ্যমে কোনি নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠে। দুঃখ ও অভাবের মধ্যেও সে চেষ্টা চালিয়ে যায় এবং সাফল্যের পথে এগিয়ে যায়।
উপসংহার : অতএব বলা যায়, কোনি চরিত্রটি সংগ্রাম, আত্মসম্মান ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতীক। তাই এই চরিত্রটি উপন্যাসে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে।
2. লীলাবতী চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য লেখো।
অথবা, 'প্রথম দিকে লীলাবতী বিদ্রোহী হয়েছিল' - লীলাবতী কে ? তার চরিত্র সম্পর্কে আলোচনা করো। ১+৪
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মতী নন্দীর লেখা 'কোনি' উপন্যাসে প্রধান চরিত্র কোনি ও ক্ষিতীশ সিংহ হলেও কিছু পার্শ্বচরিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মধ্যে ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
লীলাবতী চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য :
(ক) পরিশ্রমী স্বভাব : লীলাবতী খুব পরিশ্রমী ও কর্মঠ মহিলা। সংসারের নানা দায়িত্ব তিনি দক্ষতার সঙ্গে সামলাতেন। তাঁর পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধের জন্যই পরিবারের কাজকর্ম সঠিকভাবে চলত এবং সংসার টিকে ছিল।
(খ) ব্যবসায়িক দক্ষতা : তিনি বাস্তববুদ্ধি ও ব্যবসায়িক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। দোকানের অবস্থার উন্নতির জন্য তিনি নানা পরিবর্তন করেন এবং নতুনভাবে কাজ শুরু করে ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যান।
(গ) দায়িত্বশীল গৃহিণী : লীলাবতী সংসারের সব কাজ ও প্রয়োজনীয় বিষয় নিজে দেখাশোনা করতেন। পরিবারের প্রতিটি বিষয় তিনি গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করতেন।
(ঘ) স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা : তিনি স্বামীর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। ক্ষিতীশের স্বভাব ও সাঁতারের প্রতি ভালোবাসা বুঝে তিনি তাকে সবসময় সমর্থন করেছেন।
(ঙ) সহায়ক জীবনসঙ্গিনী : লীলাবতী স্বামীর কাজে বাধা না দিয়ে বরং তাকে সাহায্য করতেন। তার সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্যই ক্ষিতীশ নিজের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে পেরেছিলেন।
উপসংহার : অতএব লীলাবতী চরিত্রটি পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল ও স্বামীর সহায়ক রূপে উপন্যাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্র হিসেবে মনে হয়।
3. "ফাইট কোনি ফাইট"- এই কথাটি কোনির জীবনকে কীভাবে অনুপ্রাণিত করেছে ? ৫
অথবা, দারিদ্র্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কোনির জীবন সংগ্রাম আলোচনা করো। ৫
অথবা, "পরিশ্রম আর ইচ্ছাশক্তির জোরে এক সাধারণ মেয়ের অসাধারণ হয়ে ওঠার কাহিনি হল কোনি"- কোনির জীবন সংগ্রাম আলোচনা করো। ৫
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মতী নন্দীর লেখা 'কোনি' উপন্যাসে এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ের কঠোর সংগ্রামের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও নানা বাধা অতিক্রম করে কোনি কীভাবে নিজের ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের জোরে ধীরে ধীরে সাফল্যের পথে এগিয়ে যায়, সেই অনুপ্রেরণামূলক গল্পই এখানে প্রকাশ পেয়েছে।
দারিদ্র্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কোনির জীবন সংগ্রাম :
(ক) দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রথম লড়াই : অভাবী পরিবারে বড় হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই কোনিকে কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। একবার বন্ধুদের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে সে গাছে উঠে কাঁচা আম পেড়ে বাজারে বিক্রি করে কিছু টাকা আয় করেছিল। এভাবেই ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে লড়াই করার মনোভাব তৈরি হয়।
(খ) ব্যর্থতা থেকে নতুন শক্তি : দাদা কমলকে কথা দিয়েও সাঁতার প্রতিযোগিতায় জিততে পারেনি কোনি। এই ব্যর্থতা তাকে ভেঙে দেয়নি। বরং সেই ঘটনা তার মনে জেদ ও নতুনভাবে চেষ্টা করার ইচ্ছা আরও শক্ত করে তোলে।
(গ) গুরুর উৎসাহ ও প্রশিক্ষণ : কোনির প্রতিভা বুঝতে পেরে ক্ষিতীশ সিংহ তাকে সাঁতারের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। তিনি সবসময় তাকে সাহস জোগাতেন এবং বারবার বলতেন— “ফাইট কোনি ফাইট।” এই কথাই কোনিকে লড়াই চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
(ঘ) নানা বাধা ও বঞ্চনা : জুপিটার সুইমিং ক্লাবে তাকে ভর্তি করা হয়নি এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেও বাধা দেওয়া হয়েছিল। পরে জাতীয় প্রতিযোগিতাতেও নানা ষড়যন্ত্র ও অপমানের শিকার হতে হয় তাকে। তবুও কোনি হাল ছাড়েনি।
(ঙ) শেষ পর্যন্ত সাফল্য : মাদ্রাজের জাতীয় প্রতিযোগিতায় হঠাৎ সুযোগ পেয়ে কোনি নিজের সর্বশক্তি দিয়ে সাঁতার কাটে। গুরুর কথা মনে রেখে সে সাহসের সঙ্গে লড়াই করে এবং শেষ পর্যন্ত দলের জয় এনে দেয়।
উপসংহার : এইভাবে দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও নানা বাধা অতিক্রম করে কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির জোরে কোনি শেষ পর্যন্ত সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।
4. "অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল" - কোনি কীভাবে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল তা সংক্ষেপে লেখো। [Madhyamik 2018] ৫
অথবা, 'কোনি মাদ্রাজে যাবার মনোনয়ন অবশেষে পেল"-এই মনোনয়ন কীভাবে পেয়েছিল তা লেখো।
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মতী নন্দীর লেখা 'কোনি' উপন্যাস থেকে প্রদত্ত অংশটি নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বিরোধিতা : জুপিটার সুইমিং ক্লাবের কিছু কর্মকর্তা ক্ষিতীশ সিংহের প্রতি রাগের কারণে নির্বাচন সভায় কোনিকে দলে না নেওয়ার পক্ষে মত দেন। ফলে প্রথমে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এরপর ঘটনা বদলে যায়।
কোনি বাংলা সাঁতার দলে অংশগ্রহণ :
(ক) প্রণবেন্দুর সমর্থন : বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের প্রশিক্ষক প্রণবেন্দু বিশ্বাস কোনির প্রতিভা বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে তাকে বাংলা দলে রাখার পক্ষে জোর দিয়ে মত প্রকাশ করেন।
(খ) যুক্তি উপস্থাপন : প্রণবেন্দু সভায় জানান যে আগের প্রতিযোগিতায় পক্ষপাতিত্বের জন্য কোনি বারবার হারেছে। তিনি বলেন, বাংলার স্বার্থের কথা ভেবে তাকে দলে নেওয়া প্রয়োজন।
(গ) যোগ্যতার উল্লেখ : প্রণবেন্দু আরও বলেন যে মহারাষ্ট্রের সাঁতারু রমা যোশীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো দক্ষতা কোনির আছে। তাই তাকে বাদ দেওয়া ঠিক হবে না।
(ঘ) কঠোর অবস্থান : কোনিকে দলে না নিলে তিনি বালিগঞ্জ ক্লাবের সাঁতারুদের প্রতিযোগিতা থেকে তুলে নেবেন বলেও সতর্ক করেন। এই দৃঢ় অবস্থানের ফলে অন্যরা আর আপত্তি করতে পারেনি।
উপসংহার : এইভাবে প্রণবেন্দু বিশ্বাসের জোরালো সমর্থন ও যুক্তির ফলে কোনি শেষ পর্যন্ত বাংলা সাঁতার দলে স্থান লাভ করে এবং মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
5. 'এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক'- কী পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে ? কী কারণে এই পুষে রাখা ? [Madhyamik 2019] ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মতী নন্দীর লেখা 'কোনি' উপন্যাসে খেলাধুলার জগতে সংগ্রাম, অপমান ও প্রতিযোগিতার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কোনির একটি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।
অপমানবোধ ও আক্রোশ পুষে রাখা : চিড়িয়াখানায় ঘোরার সময় কোনি ও ক্ষিতীশ খাবার খেতে বসে জল না পেয়ে পাশের স্কুলের মেয়েদের কাছে জল চাইতে যায়। কিন্তু সেখানে থাকা শিক্ষিকা কোনিকে অপমান করে ফিরিয়ে দেন। পরে হিয়া নামের একটি মেয়ে দু’গ্লাস জল এনে ক্ষমা চাইতে এলে রাগে কোনি গ্লাস ফেলে দিয়ে বলে- 'চাইনা তোমাদের জল। আমাদের কলের জলই ভালো।' এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে হিয়ার প্রতি কোনির মনে যে অপমানবোধ ও আক্রোশ তৈরি হয়েছিল, সেটিকেই বুকের মধ্যে পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে।
পুষে রাখার কারণ : ক্ষিতীশ প্রথমে কোনির আচরণ দেখে তাকে বকতে চেয়েছিল, কিন্তু পরে তা করেনি। কারণ সে বুঝতে পেরেছিল হিয়া ভবিষ্যতে কোনির প্রতিযোগী হতে পারে। তাই কোনির মনে জন্মানো অপমান ও রাগকে নষ্ট করতে চায়নি। এই অনুভূতি কোনিকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে এবং ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় জয়ের ইচ্ছা জাগিয়ে তুলবে। এই ভাবনা থেকেই ক্ষিতীশ সেটিকে মনে ধরে রাখতে চেয়েছিল।
উপসংহার : অতএব অপমানের স্মৃতি কোনিকে শক্তি ও প্রেরণা দেবে এই কারণেই সেই অনুভূতিকে বুকের মধ্যে পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে।
6. 'তোর আসল লজ্জা জলে, আসল গর্বও জলে'- এই উক্তি কোন্ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে ? উক্তিটির তাৎপর্য লেখো। ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মতী নন্দীর লেখা 'কোনি' উপন্যাসে ক্ষিতীশ সিংহ একজন কঠোর কিন্তু আদর্শবাদী প্রশিক্ষক। তিনি সাঁতারকে জীবনের সবচেয়ে বড় মানদণ্ড মনে করতেন। কোনির জীবনে ঘটে যাওয়া একটি অপমানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি তাকে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দেন।
প্রসঙ্গ : একবার বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন অমিয়া ‘প্রজাপতি’ ক্লাবে গিয়ে কোনিকে ছোটখাটো কাজ করতে দেখে তাকে বিদ্রুপ করে। সে কোনিকে ‘ঝি’ বলে অপমান করে। এই কথা শুনে কোনি খুব কষ্ট পায় এবং লজ্জিত বোধ করে। পরে সে পুরো ঘটনাটি ক্ষিতীশকে জানায়। সব কথা শুনে ক্ষিতীশ তাকে সাহস দেওয়ার জন্য বলেন- “তোর আসল লজ্জা জলে, আসল গর্বও জলে।”
উক্তির তাৎপর্য : ক্ষিতীশের কথার মূল উদ্দেশ্য ছিল কোনিকে সঠিক মানসিকতা শেখানো। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে একজন ক্রীড়াবিদের সম্মান তার ব্যক্তিগত অবস্থা, দারিদ্র্য বা সামাজিক অবস্থানের উপর নির্ভর করে না। তার আসল পরিচয় তৈরি হয় খেলাধুলার মাঠে। কোনি যদি জলে নেমে হার মানে, তখনই তা তার জন্য লজ্জার কারণ হবে। আবার প্রতিযোগিতায় জিততে পারলে সেটাই হবে তার গর্বের বিষয়। তাই অপমানকে মনে না রেখে সাঁতারের মাধ্যমেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।
উপসংহার : এই কথার মাধ্যমে ক্ষিতীশ কোনিকে বুঝিয়েছিলেন যে একজন সাঁতারুর প্রকৃত সম্মান নির্ধারিত হয় সাঁতারের ফলাফলের দ্বারা। তাই জলের মধ্যেই তার লজ্জা ও গৌরব নির্ভর করে।
7. "খাওয়ার আমার লোভ নেই। ডায়েটিং করি'- বক্তা কে ? তার ডায়েটিং এর পরিচয় দাও। [Madhyamik 2020] ১+৪
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মতী নন্দীর লেখা 'কোনি' উপন্যাসে বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে হাস্যরসাত্মক দিকও দেখা যায়। তেমনই একটি চরিত্র হল বিষ্ণুচরণ ধর। নিজের খাবার নিয়ন্ত্রণের কথা বলতে গিয়ে তিনি মজার ভঙ্গিতে ডায়েটিং করার কথা উল্লেখ করেন।
উদ্ধৃত কথাটির বক্তা হলেন বিষ্ণুচরণ ধর মহাশয়।
তার ডায়েটিং এর পরিচয় :
(ক) জলখাবারের সংযম : আগে তিনি সকালে প্রায় কুড়িটি লুচি ও আধ কিলো ক্ষীর খেতেন। কিন্তু ডায়েটিং শুরু করার পরে তা কমিয়ে পনেরোটি লুচি ও প্রায় তিনশো গ্রাম ক্ষীর খাওয়ার কথা বলেন।
(খ) দুপুরের খাবারের নিয়ম : দুপুরে তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাত খান। চার চামচ ঘি দিয়ে প্রায় আড়াইশো গ্রাম চালের ভাত খাওয়াকেই তিনি নিজের নিয়ন্ত্রিত খাদ্য বলে মনে করেন।
(গ) বিকেলের খাবার : বিকেলে কয়েকটি কড়া পাকের মিষ্টি খাওয়ার সঙ্গে দুই গ্লাস মিছরির শরবত পান করেন। এটাকেও তিনি ডায়েটের অংশ হিসেবে দেখান।
(ঘ) রাতের খাবার : রাতে তিনি মাত্র বারোটি বুটি খাওয়ার কথা বলেন এবং এটিকেই নিজের খাদ্যসংযম বলে গর্ব করেন।
(ঙ) নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস : বাড়িতে রাধাগোবিন্দের মূর্তি থাকার কারণে তিনি মাছ বা মাংস স্পর্শ করেন না। এই কারণেও তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের মানুষ বলে মনে করেন।
উপসংহার : এই ঘটনায় দেখা যায়, বিষ্ণুচরণ ধরের ডায়েটিং আসলে খুবই অদ্ভুত ও হাস্যকর ছিল। তবুও তিনি এটিকে বড় সংযম বলে মনে করে গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন।
8. 'হঠাৎ তার চোখে ভেসে উঠলো '৭০' সংখ্যাটি'- '৭০' সংখ্যাটির তাৎপর্য কী ? তা কখন উদ্দিষ্ট ব্যক্তির চোখে ভেসে উঠেছিল ? ২+৩
অথবা, 'হঠাৎ তার চোখে ভেসে উঠলো '৭০' সংখ্যাটি'- কোন ঘটনায় এমন হয়েছিল ? কোনির কাছে এই সংখ্যাটার তাৎপর্য কি ছিল ? ২+৩
অথবা, '৭০' লিখে ক্লাবের বারান্দায় দেয়ালে সেটে দিলেন'- ৭০ সংখ্যাটি কে, কেন দেওয়ালে টাঙিয়ে ছিলেন ? ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মতী নন্দীর লেখা 'কোনি' উপন্যাসে ক্ষিতীশ সিংহ একজন কঠোর ও দূরদর্শী প্রশিক্ষক। তিনি কোনিকে ভালো সাঁতারু হিসেবে গড়ে তুলতে সবসময় নতুন লক্ষ্য সামনে রাখতেন। একটি বিশেষ সংখ্যার মাধ্যমে তিনি কোনিকে কঠিন লক্ষ্য অর্জনের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।
‘৭০’ সংখ্যাটির তাৎপর্য : ক্ষিতীশ খবরের কাগজে দেখেছিলেন যে মহারাষ্ট্রের সাঁতারু রমা যোশী স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সফল হয়েছে। এই সাফল্যকে সামনে রেখে তিনি কোনির জন্য আরও কঠিন লক্ষ্য স্থির করেন। যেহেতু রমা তার লক্ষ্যমাত্রা ৭০ সেকেন্ড পার করেছিল, তাই ক্ষিতীশ বড় করে ৭০ সংখ্যাটি লিখে ক্লাবের দেওয়ালে টাঙিয়ে দিয়েছিলেন। এটি ছিল সময়ের দিক থেকে রমা যোশীর সাফল্যকে অতিক্রম করার লক্ষ্যচিহ্ন।
লক্ষ্যের কথা স্মরণ হওয়া : মাদ্রাজে গিয়ে যখন কোনি রমা যোশীকে সামনে থেকে দেখে, তখন তার মনে নিজের লক্ষ্য ও প্রতিজ্ঞার কথা জেগে ওঠে। সেই সময় ক্লাবের দেয়ালে টাঙানো ‘৭০’ সংখ্যাটি তার মনে ভেসে ওঠে। এটি তাকে মনে করিয়ে দেয় যে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হবে।
উপসংহার : এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়, ‘৭০’ সংখ্যাটি কোনির কাছে একটি বিশেষ লক্ষ্য ও অনুপ্রেরণার প্রতীক ছিল, যা তাকে আরও বেশি পরিশ্রম করে সাফল্য অর্জনের কথা মনে করিয়ে দিত।
9. "জোচ্চুরি করে আমাকে বসিয়ে রেখে এখন ঠেকায় পড়ে এসেছ আমার কাছে"- কোনির এই অভিমানের কারণ কী ? এর পরবর্তী ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা করো। [Madhyamik 2017] ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মতী নন্দীর লেখা 'কোনি' উপন্যাসে কোনি একটি সংগ্রামী ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন চরিত্র। সাঁতারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সে মাদ্রাজে গেলেও নানা কারণে তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই ঘটনাকে ঘিরেই তার মনে গভীর অভিমান জন্মেছিল।
কোনির এই অভিমানের কারণ :
(ক) সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া : কোনি বড় আশা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে মাদ্রাজে গিয়েছিল। কিন্তু তালিকায় নাম না থাকার অজুহাতে তাকে কোনো ইভেন্টে নামতে দেওয়া হয়নি। ফলে সে খুব হতাশ হয়েছিল।
(খ) অপমান ও উপহাস সহ্য করা : সেখানে অন্য প্রতিযোগীদের কাছ থেকে তাকে টিটকিরি ও কটূক্তি শুনতে হয়েছিল। এমনকি তাকে ‘চোর’ বলেও অপমান করা হয়েছিল। এই ঘটনাগুলি তার মনে গভীর আঘাত দিয়েছিল।
(গ) প্রয়োজনে ডাকা হওয়া : প্রতিযোগিতার শেষ মুহূর্তে অমিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে বাংলার দল বিপদে পড়ে। তখন বাধ্য হয়ে সবাই কোনিকে সাঁতারে নামতে বলে। এতদিন অবহেলা করার পর হঠাৎ ডাকা হওয়ায় কোনির মনে তীব্র অভিমান জন্মায়।
এর পরবর্তী ঘটনা :
(ক) হিয়ার অনুরোধ : প্রথমে কোনি রাগের কারণে সাঁতারে নামতে রাজি হয়নি। পরে হিয়ার অনুরোধে এবং বাংলার দলের কথা ভেবে সে অংশগ্রহণ করতে সম্মত হয়।
(খ) ক্ষিতীশের উৎসাহ : ঠিক রেস শুরু হওয়ার আগে সে দূর থেকে ক্ষিতীশ সিংহের কণ্ঠে “ফাইট কোনি ফাইট” কথাটি শুনতে পায়। এই কথা তার মনে নতুন শক্তি জাগিয়ে তোলে।
(গ) অসাধারণ সাফল্য : এরপর কোনি সর্বশক্তি দিয়ে সাঁতার কাটতে থাকে। ধীরে ধীরে প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে শেষ পর্যন্ত সে আগে গিয়ে বোর্ড স্পর্শ করে এবং বাংলার দলকে চ্যাম্পিয়ন করে।
উপসংহার : এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়, গভীর অভিমান থাকা সত্ত্বেও কোনি শেষ পর্যন্ত নিজের দায়িত্ব ও লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়েছিল এবং অসাধারণ সাফল্যের মাধ্যমে দলের জয় নিশ্চিত করেছিল।
10. "বুকের মধ্যে প্রচণ্ড মোচড় সে অনুভব করল। চিকচিক করে উঠল চোখ দুটো”- কার, কেন এমন হয়েছিল ? ১+৪
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের লেখক মতী নন্দীর লেখা 'কোনি' উপন্যাসে সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের জীবনসংগ্রাম ও আবেগের নানা দিক ফুটে উঠেছে। একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষিতে এই অনুভূতির প্রকাশ ঘটে।
এই অনুভূতি হয়েছিল সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের, যখন তিনি জুপিটার ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
এমন হওয়ার কারণ : ক্ষিতীশ সিংহের সঙ্গে জুপিটার ক্লাবের সম্পর্ক ছিল প্রায় পঁয়ত্রিশ বছরের। সাঁতারই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বিষয় এবং নতুন সাঁতারু তৈরি করাই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু ক্লাবের কিছু স্বার্থপর মানুষের ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি অপমানিত হন এবং চিফ ট্রেনারের পদ ছাড়তে বাধ্য হন। পরে তিনি কোনিকে ক্লাবে ভর্তি করাতে চাইলেও সংকীর্ণ মানসিকতার জন্য তা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে তিনি বাধ্য হয়ে জুপিটার ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে অ্যাপোলো ক্লাবের দিকে এগিয়ে যান। দীর্ঘদিনের স্মৃতি ও আবেগে ভরা সেই জায়গা ছেড়ে যাওয়ার কষ্টেই তাঁর বুকের মধ্যে তীব্র মোচড় অনুভূত হয় এবং চোখে জল এসে যায়।
উপসংহার : অতএব প্রিয় ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার গভীর কষ্ট থেকেই ক্ষিতীশ সিংহের এমন অনুভূতি হয়েছিল।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টি নিতে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : কোনি উপন্যাসের প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. প্রলয়োল্লাস কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 2. অদল বদল গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 3. জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 4. সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
