🔹 Andhakar Lekhaguchho in Bengali Class 12
🔹 কবি-পরিচিতি : শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় : তাঁর জন্ম ১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর কলকাতায়। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে তিনি সাহিত্যজগতে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর লেখা প্রথম বই ১৯৯৯ সালে ‘শেষ চিঠি’ প্রকাশিত হয়। এরপর ধীরে ধীরে তিনি বাংলা কবিতায় একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলেন। শ্রীজাতের কবিতার ভাষা সাধারণত সহজ ও স্বাভাবিক। তবে সেই সরল শব্দের মধ্যেও গভীর ভাব প্রকাশ পায়। তাঁর কবিতায় মূলত সাধারণ মানুষের জীবন, অনুভূতি ও সময়ের নানা দিক ফুটে ওঠে। এই বৈশিষ্ট্যের জন্য তিনি পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘উড়ন্ত সব জোকার’, ‘ছোটদের চিড়িয়াখানা’, ‘বর্ষামঙ্গল’, ‘অকালবৈশাখী’, ‘কফির নামটি আইরিশ’, ‘বান্ধবীগাছ’, ‘প্রেমের কবিতা’ প্রভৃতি। ২০০৪ সালে ‘উড়ন্ত সব জোকার’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি আনন্দ পুরস্কার ও কৃত্তিবাস পুরস্কার লাভ করেন। পরে ‘কর্কটক্রান্তির দেশ’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ২০১৪ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান। কবিতার পাশাপাশি তিনি উপন্যাসও লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলির মধ্যে রয়েছে ‘শালিমারে সংঘাত’, ‘বৃক্ষ অনুবাদক’ ও ‘তারাভরা আকাশের নীচে’ ইত্যাদি। এছাড়া তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্রের জন্য গানও লিখেছেন। ২০১৪ সালে ‘মিশর রহস্য’ ছবির ‘বালির শহর’ গানের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন। এর পাশাপাশি তিনি সম্পাদনার কাজের সঙ্গেও যুক্ত এবং বর্তমান সময়ে তিনি সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি চিত্রনাট্য লেখার কাজেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
🔹 'অন্ধকার লেখাগুচ্ছ' কবিতার উৎস : পাঠ্য ‘অন্ধকার লেখাগুচ্ছ’ কবিতাটি কবি শ্রীজাতের 'অন্ধকার লেখাগুচ্ছ’ কাব্যগ্রন্থের ১৪ নম্বর কবিতা। ২০১৫ সালে তিনি ‘অনধকার লেখাগুচ্ছ’ শিরোনামে প্রায় তেতাল্লিশটি কবিতা একটি ধারাবাহিক হিসেবে ফেসবুকে প্রকাশ করা শুরু করেন। সেই সময়েই এই কবিতাটি লেখা হয়। পরে এই কবিতাগুলি সিগনেট প্রেস থেকে বই আকারে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে কবির ‘কবিতা সমগ্র’-এর তৃতীয় খণ্ডেও (আনন্দ পাবলিশার্স) এই কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
🔹 'অন্ধকার লেখাগুচ্ছ' কবিতার বিষয়বস্তু :
"আবদুল করিম খাঁ-র ধর্ম ছিল গান।
আইনস্টাইনের ধর্ম দিগন্ত পেরনো।
কবীরের ধর্ম ছিল সত্যের বয়ান।
বাতাসের ধর্ম শুধু না-থামা কখনও।"
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : এই চরণগুলিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক মহান মানুষের জীবনে তার কাজই ছিল তার আসল ধর্ম। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী আবদুল করিম খাঁ-এর জীবনে সংগীতই ছিল প্রধান। তাঁর গানের সুর মানুষকে আনন্দ দিত এবং শ্রোতাদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করত। তাই বলা হয়েছে, তাঁর ধর্ম ছিল গান। আবার, বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বিজ্ঞানের মাধ্যমে নতুন নতুন সত্যের সন্ধান করেছিলেন। গবেষণা ও আবিষ্কারের মাধ্যমে তিনি মানুষের জ্ঞানের সীমা আরও দূরে এগিয়ে দেন। তাই তাঁর ধর্মকে বলা হয়েছে দিগন্ত পেরোনো। অন্যদিকে, সন্তকবি কবীর সারা জীবন সত্য ও মানবপ্রেমের কথা বলেছেন। তিনি মানুষকে সত্যের পথে চলতে শিখিয়েছেন। তাই তাঁর ধর্ম ছিল সত্যের বাণী প্রচার করা। আর শেষ চরণে বলা হয়েছে, বাতাসের স্বভাব হল সবসময় চলতে থাকা। তেমনি সত্য, জ্ঞান ও সুর মানুষের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং অন্ধকার দূর করে নতুন পথ দেখায়। তাই এই মহাপুরুষদের কাছে কাজই ছিল তাদের প্রকৃত ধর্ম।
"ভ্যান গঘের ধর্ম ছিল উন্মাদনা আঁকা।
গার্সিয়া লোরকা-র ধর্ম কবিতার জিত।
লেনিনের ধর্ম ছিল নতুন পতাকা।
আগুনের ধর্ম আজও ভস্মের চরিত।"
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : এই চরণগুলিতে বলা হয়েছে, মহান মানুষদের জীবনে তাদের কাজই ছিল তাদের আসল ধর্ম। চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ সবসময় ছবি আঁকার জগতে ডুবে থাকতেন। নতুন নতুন ছবি এঁকে মানুষকে মুগ্ধ করাই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য। তাই বলা হয়েছে, তাঁর ধর্ম ছিল উন্মাদনার মতো ছবি আঁকা। অন্যদিকে, কবি ফেদেরিকো গারসিয়া লোরকা তাঁর কবিতায় প্রতিবাদ, আশা ও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করতেন। মানুষের মনে সাহস ও নতুন আশার আলো জাগানোই ছিল তাঁর কবিতার উদ্দেশ্য। তাই তাঁর ধর্ম বলা হয়েছে কবিতার জয়। আবার, লেনিন শ্রমজীবী মানুষকে একত্রিত হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন। তিনি নতুন সমাজ ও নতুন ভাবনার কথা মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলেন। তাই বলা হয়েছে, তাঁর ধর্ম ছিল নতুন পতাকা তোলা। আর শেষে বলা হয়েছে, আগুনের স্বভাব হল পোড়ানো এবং সবকিছু ভস্ম করে দেওয়া। তেমনি এই মহান মানুষদের চিন্তা ও কাজ অন্যায় ও বিভেদ দূর করে সমাজকে নতুন পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
"এত এত ধর্ম কিন্তু একই গ্রহে থাকে।
এ-ওকে, সে-তাকে আরও জায়গা করে দেয়।
তবে কেন অন্য পথ ভাবায় তোমাকে?
তোমার ধর্মের পথে কেন অপব্যয় ?"
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : এই চরণগুলিতে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে অনেক ধরনের ধর্ম ও বিশ্বাস থাকলেও সবাই একই পৃথিবীতে একসঙ্গে বাস করে। একে অপরকে জায়গা দিয়ে চলাই মানুষের স্বাভাবিক নিয়ম। আইনস্টাইন, কবীর, ভ্যান গঘ, লোরকা ও লেনিনের পথ আলাদা হলেও তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল সত্য ও মানুষের মঙ্গল খোঁজা। তাই তাঁদের চিন্তার মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না, বরং সহনশীলতা ছিল। কিন্তু কিছু স্বার্থপর মানুষ ধর্মের নামে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে। এর ফলে সমাজে হিংসা ও অশান্তি বাড়ে। তাই কবি প্রশ্ন করেছেন যেখানে সবাই একসঙ্গে থাকতে পারে, সেখানে নিজের ধর্মের পথ ছেড়ে অন্য পথে গিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করার প্রয়োজন কেন।
"যে তোমাকে শিখিয়েছে দখলের কথা-
জেনো সে ধর্মই নয়। প্রাতিষ্ঠানিকতা।"
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : এই চরণগুলিতে কবি বলতে চেয়েছেন, সত্যিকারের ধর্ম মানুষকে দখল বা জোর করে কিছু নেওয়ার শিক্ষা দেয় না। প্রকৃত ধর্মের মূল কথা হল মানবকল্যাণ এবং শান্তি। কিন্তু কিছু মানুষ ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ পূরণ করতে চায়। তাদের প্রভাবে মানুষ অনেক সময় একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং সমাজে হিংসা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে। তাই কবি বলেছেন, যে ধর্ম মানুষকে দখল ও বিরোধের কথা শেখায়, সেটি আসল ধর্ম নয়। সেটি কেবল প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম, যার সঙ্গে প্রকৃত মানবধর্মের কোনো মিল নেই।
🔹 'অন্ধকার লেখাগুচ্ছ' কবিতার শব্দার্থ :
গান : সংগীত / ধর্ম : শাস্ত্রানুযায়ী আচার, রীতি, অহিংসা,যা মানুষকে পাপ-তাপ-ক্লোষ-দ্বেষ-গ্লানি থেকে রক্ষা করে তাই-ই ধর্ম / দিগন্ত : দিকের অন্ত / সত্য : খাঁটি, প্রকৃত / পেরনো : পার হওয়া / বয়ান : ব্যাখ্যা / উন্মাদনা : প্রবল উত্তেজনা / না-থামা : গতি সংবরণ না করা / আঁকা : রেখা টেনে টেনে চিত্র নির্মাণ করা / জিত : জয় করা / কবিতা : ছন্দোবন্ধ রচনা, পদ্য / নতুন : ধ্বজা, কেতন। পাঠা কবিতায় 'নতুন পতাকা' কথাটি লেনিনের গঠনমূলক চিন্তা, নব্য চেতনা ও অভিনব আদর্শ দ্বারা নতুন দিনের শুভ সূচনা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে / আজও : বর্তমান / ভন্ম : ছাই / চরিত : গাথা, আখ্যান / গ্রহ : সূর্যকে প্রদক্ষিণকারী জ্যোতিষ্কসমূহ, এখানে পৃথিবী অর্থে ব্যবহূত / তোমাকে : পাঠক, এখানে মোহগ্রস্ত মানব অর্থে ব্যবহৃত / অন্য পথ : ভিন্ন মত অর্থে ব্যবহৃত / দখল : অধিকার / অপব্যয় : অকারণ ব্যয় / দখল : অধিকার / প্রাতিষ্ঠানিকতা : প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক আচারসর্বস্বতা।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমিষ্টার সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমিষ্টার সাজেশন ই-বুক(PDF)গুলি নিতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা, আমাদের ওয়েবসাইটের উপরে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : অন্ধকার লেখাগুচ্ছ কবিতার বিষয়বস্তু PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 2. কোনি উপন্যাসের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 3. জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 4. আদরিণী গল্পের বিষয়বস্তু PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
