🔹 Digbijoy Er Rupkotha Kobita Class 12
🔹 কবি -পরিচিতি : নবনীতা দেবসেন (১৯৩৮-২০১৯) : নবনীতা দেবসেন ১৯৩৮ সালের ১৩ জানুয়ারি দক্ষিণ কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা-মা ছিলেন কবি নরেন্দ্র দেব ও রাধারাণী দেবী। তাঁর পড়াশোনা শুরু হয় গোখেল মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলে। পরে তিনি লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ, প্রেসিডেন্সি কলেজ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বহু ভাষায় দক্ষ ছিলেন। ১৯৭৫ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনা করেন। বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি অতিথি অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন। আমেরিকার কলোরাডো কলেজে তিনি অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন।
লেখালেখির ক্ষেত্রে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম প্রত্যয়’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালে। এছাড়া ‘স্বাগত দেবদূত’ ও ‘তুমি মনস্থির করো’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। ১৯৭৬ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘আমি অনুপম’ প্রকাশিত হয়। এছাড়া ‘প্রবাসে দৈবের বশে’, ‘অন্যদ্বীপ’, ‘বামাবোধিনী’, ‘ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী’, ‘সীতা থেকে শুরু’, ‘ট্রাকবাহনে ম্যাকমাহনে’ এবং ‘ভালোবাসার বারান্দা’ তাঁর গুরুত্বপূর্ণ রচনা। পুরস্কারের মধ্যে ১৯৯৯ সালে ‘নটী নবনীতা’ গ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ২০০০ সালে তিনি পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত হন। এছাড়া বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে দেশিকোত্তম উপাধি প্রদান করে।
🔹 দিগ্বিজয়ের রূপকথা কবিতাটির উৎস : ‘দিগ্বিজয়ের রূপকথা’ কবিতাটি ১৯৭৩ সালে রচিত। এটি ‘রক্তে আমি রাজপুত্র’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। পরে এই কবিতাটি ‘নবনীতা দেবসেনের শ্রেষ্ঠ কবিতা’ সংকলনেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
🔹 দিগ্বিজয়ের রূপকথা কবিতাটির লাইন ধরে আলোচনা :
রক্তে আমি রাজপুত্র। হলেনই বা দুঃখিনী জননী,
দিগ্বিজয়ে যেতে হবে। দুয়োরানী দিলেন সাজিয়ে।
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : এই অংশে কবিতার কথক নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন যে তাঁর রক্তে রাজপুত্রের সাহস ও গৌরব আছে। যদিও তাঁর মা সুখী রানি নন, তিনি দুঃখে-বঞ্চিত দুয়োরানি। তবু এই দুঃখের মধ্যেই তাঁর জন্ম হয়েছে। কথক মনে করেন, রাজপুত্রের মতো তাকেও বড় কাজে বের হতে হবে। তাই তিনি দিগ্বিজয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে মায়ের দুঃখ কিছুটা দূর করা যায়। এই যাত্রার আগে দুঃখিনী মা নিজের হাতে তাঁকে প্রস্তুত করে দেন। অর্থাৎ মায়ের আশীর্বাদ ও উৎসাহ নিয়েই কথক নতুন পথের দিকে এগিয়ে যেতে চান।
কবচকুন্ডল নেই, ধনুক তৃণীর, শিরস্ত্রাণ
কিছুই ছিল না। শুধু আশীর্বাদী দুটি সরঞ্জাম।
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : এই অংশে বলা হয়েছে, কথকের মা খুব গরিব ও অসহায় ছিলেন। তাই তাঁর কাছে রাজপুত্রের মতো যুদ্ধের কোনো সরঞ্জাম ছিল না। কবচকুণ্ডল, ধনুক, তৃণীর বা শিরস্ত্রাণ এইসব জিনিস তিনি দিতে পারেননি। রূপকথার গল্পে সাধারণত রাজপুত্ররা নানা অস্ত্র ও রক্ষাকবচ নিয়ে বিজয়ের উদ্দেশ্যে বের হয়। কিন্তু এখানে সেই ধরনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তবু মা তাঁর সন্তানকে খালি হাতে পাঠাননি। তিনি ভালোবাসা ও আশীর্বাদ দিয়ে দুটি সামগ্রী দেন। সেই আশীর্বাদই ছিল কথকের সবচেয়ে বড় শক্তি।
এক: এই জাদু-অশ্ব, মরুপথে সেই হয় উট,
আকাশে পুষ্পক আর সপ্তডিঙ্গা সাজে সিন্ধুজলে,
তেপান্তরে পক্ষীরাজ। তার নাম রেখেছি: 'বিশ্বাস"।
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : এই অংশে বলা হয়েছে, মায়ের দেওয়া আশীর্বাদী দুটি জিনিসের একটি হল জাদুর মতো একটি অশ্ব। এই অশ্ব প্রয়োজন অনুযায়ী নানা রূপ নিতে পারে। মরুভূমিতে এটি উটের মতো কাজ করে, আকাশে পুষ্পকরথ হয়ে উড়ে যায়। আবার সমুদ্রে নৌকার মতো ভেসে চলে এবং দূর প্রান্তরে পক্ষীরাজ ঘোড়ায় পরিণত হয়। অর্থাৎ পথের অবস্থা যেমনই হোক, এই অশ্ব তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। তাই কথক এই অশ্বের নাম দিয়েছেন ‘বিশ্বাস’। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, এটি আসলে কোনো সত্যিকারের ঘোড়া নয়। নিজের ওপর আস্থা ও মনের শক্তিই এখানে জাদু-অশ্বরূপে প্রকাশ পেয়েছে, যা তাকে সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।
দুই: এই হৃদয়ের খাপে ভরা মন্ত্রপূতঃ অসি
শাণিত ইস্পাত খন্ড। অভঙ্গুর। নাম: 'ভালোবাসা।
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : এই অংশে বলা হয়েছে, মায়ের দেওয়া দ্বিতীয় আশীর্বাদী সম্পদটি একটি শক্তিশালী অস্ত্রের মতো। এটি শানিত ইস্পাতের তরবারির মতো দৃঢ় ও ভাঙে না। তবে এই অস্ত্রটি হৃদয়ের খাপে রাখা আছে। এর অর্থ, এটি কোনো বাস্তব তরবারি নয়। এটি মানুষের মনের শক্তি ও দৃঢ়তার প্রতীক। কথক এই অস্ত্রের নাম দিয়েছেন ‘ভালোবাসা’। অর্থাৎ মানুষের প্রতি মমতা, সহানুভূতি ও ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি, যা তাকে সব বাধা অতিক্রম করতে সাহায্য করে।
"নিশ্চিত পৌঁছুবো সেই তৃষ্ণাহর খজুরের দ্বীপে।।"
চরণটির সহজ ব্যাখ্যা : এই লাইনে কথকের দৃঢ় আশা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে তাঁর পথ যত কঠিনই হোক, শেষ পর্যন্ত তিনি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন। কথকের কাছে মায়ের দেওয়া দুটি শক্তি আছে বিশ্বাস ও ভালোবাসা। এই শক্তির সাহায্যে তিনি দুঃখ ও কষ্টে ভরা মরুপ্রান্তর পার হয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন। তাই তিনি মনে করেন, শেষ পর্যন্ত তিনি সেই তৃষ্ণা নিবারণকারী খেজুরগাছ ঘেরা দ্বীপে, অর্থাৎ তাঁর কাঙ্ক্ষিত আশ্রয়ে নিশ্চয়ই পৌঁছে যাবেন।
🔹 দিগ্বিজয়ের রূপকথা কবিতাটির বিষয়সংক্ষেপ : এই কবিতায় কবি নবনীতা দেবসেন প্রচলিত রূপকথার কাহিনি ও উপাদান ব্যবহার করে আধুনিক ভাবনা প্রকাশ করেছেন। রূপকথার গল্পে সাধারণত দু-ধরনের রানির কথা দেখা যায় - সুয়োরানি ও দুয়োরানি। সুয়োরানি সুখে থাকে এবং রাজার স্নেহ পায়, কিন্তু দুয়োরানির জীবন দুঃখ ও বঞ্চনায় ভরা। কবিতার কথক নিজেকে সেই দুঃখিনী দুয়োরানির সন্তান হিসেবে কল্পনা করেছেন এবং বলেছেন যে তাঁর রক্তে রাজপুত্রের সাহস ও আত্মবিশ্বাস রয়েছে। তাই তিনি দিগ্বিজয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার কথা বলেন। কিন্তু রূপকথার রাজপুত্রদের মতো তাঁর কাছে কোনো অস্ত্র, বর্ম বা রক্ষাকবচ নেই। তাঁর মা খুব সামান্য সম্বল নিয়ে তাঁকে বিদায় দেন। তিনি কেবল দুটি আশীর্বাদী সম্পদ দেন। এই দুটি হল বিশ্বাস ও ভালোবাসা। কবিতায় জাদু-অশ্বের কথা বলা হয়েছে, যা মরুভূমিতে উট, আকাশে পুষ্পকরথ, সমুদ্রে নৌকা এবং তেপান্তরে পক্ষীরাজ ঘোড়া হয়ে যায়। কথক এই জাদু-অশ্বের নাম দিয়েছেন ‘বিশ্বাস’। অর্থাৎ নিজের ওপর আস্থা মানুষকে সব জায়গায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। আবার ‘অসি’ বা তরবারি এখানে ভালোবাসার প্রতীক। এটি হৃদয়ের ভেতরে থাকা শক্তি, যা মানুষকে দৃঢ় করে তোলে। এই দুই শক্তি বিশ্বাস ও ভালোবাসা থাকলে মানুষ যেকোনো বাধা অতিক্রম করতে পারে। তাই কবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে এই দুই অমূল্য সম্বল নিয়ে তিনি একদিন অবশ্যই তাঁর কাঙ্ক্ষিত সুখের স্থানে, অর্থাৎ স্বপ্নের মরূদ্যানে পৌঁছে যাবেন।
🔹 দিগ্বিজয়ের রূপকথা কবিতাটির শব্দার্থ :
রূপকথা : রাজপুত্র : রাজার ছেলে, রাজকুমার / রূপকথা : অবাস্তব কাল্পনিক কাহিনি / দুঃখিনী : দুঃখে আছে এমন নারী / দুয়োরানী : রাজার অবহেলিতা রানি / রক্ত : শোণিত / জননী : মাতা, মা / দিগ্বিজয় : যুদ্ধ বা পান্ডিত্য দ্বারা চতুর্দিক জয় করা / কবচকুণ্ডল : দেহরক্ষার জন্য ব্যবহৃত দুর্ভেদ্য বা অভেদ্য বর্ম, রাজবেশ / ধনুক : তির / শিরস্ত্রাণ (কবিতানুসারে মাথা ঢাকার বর্ম) শিরস্ত্র, পাগড়ি / তূণীর : তির বা শর রাখার আধারবিশেষ / আশীর্বাদী : আশীর্বাদ-সহ বা আশীর্বাদকালে প্রদত্ত, বরযুক্ত / জাদু-অশ্ব : ঐন্দ্রজালিক ঘোড়া / সরঞ্জাম : উপকরণ / মরুপথ : জল ও বৃক্ষহীন বালুকাময় স্থান / পুষ্পক : পৌরাণিক রথবিশেষ, যা আকাশপথে উড়ে যেতে পারে / সাজে : সজ্জিত হয় / তেপান্তর : জনমানবশূন্য বিস্তীর্ণ মাঠ / সপ্তডিঙ্গা : সাতটি ডিঙ্গা বা নৌ-বহর / পক্ষীরাজ : রূপকথার ডানাওয়ালা কাল্পনিক ঘোড়া / মন্ত্রপূতঃ : মন্ত্র দ্বারা পবিত্র করা হয়েছে এমন, মন্ত্র দ্বারা শোষিত / খাপ : তরবারি বা অস্ত্র রাখার কোশ বা আধার / অসি : তরবারি / শাণিত : অত্যন্ত ধারালো / ইস্পাত : কার্বন বা রাসায়নিক উপাদান যুক্ত করে বিশেষভাবে কঠিন করা লোহা / তৃষ্ণাহর : যা তৃষ্ণা দূর করে / অভঙ্গুর : যা সহজে ভাঙে না বা ধ্বংস হয় না / খর্জুর : খেজুর গাছ বা তার। ফল / দ্বীপ : চারদিক জল বা সমুদ্রবেষ্টিত ভূভাগ।
🔹 দিগ্বিজয়ের রূপকথা কবিতাটির প্রশ্ন উত্তর পর্ব : আমি আগেই বলেছি দ্বাদশ শ্রেণীর তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা পরীক্ষায় 40 নম্বরের মধ্যে কবিতা থেকে মোট 7 টি MCQ প্রশ্ন আসবে। তাই 7 নম্বর পেতে চাইলে 'অন্ধকার লেখাগুচ্ছ' ও 'দিগ্বিজয়ের রূপকথা' কবিতাগুলি ভালোভাবে পড়তে হবে। তাই 'দিগ্বিজয়ের রূপকথা' কবিতা থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর পড়তে চাইলে নিচে দেখুন লিংক দেওয়া আছে। তবে PDF নিতে চাইলে এই ওয়েবসাইটের উপরে Menu Option-এ ক্লিক করে দেখুন।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমিষ্টার সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমিষ্টার সাজেশন ই-বুক(PDF)গুলি নিতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা, আমাদের ওয়েবসাইটের উপরে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : দিগ্বিজয়ের রূপকথা কবিতার বিষয়বস্তু PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. অন্ধকার লেখাগুচ্ছ কবিতার বিষয়বস্তু PDF | Click here |
| 2. কোনি উপন্যাসের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 3. জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 4. আদরিণী গল্পের বিষয়বস্তু PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
