WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

লৌকিক সাহিত্যের নানা দিক প্রশ্ন উত্তর | Class 11 2nd Sem Bengali Loukik Sahityer Nana Dik Question Answer | loukik sahityer nana dik question answer

0

লৌকিক সাহিত্যের নানা দিক প্রশ্ন উত্তর PDF

ভূ(caps)মিকা : একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা পরীক্ষার জন্য বাংলা শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস পড়তে হবে। এখান থেকে পরীক্ষায় 40 নম্বরের মধ্যে 5 নম্বর থাকবে। অর্থাৎ পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে 5 নম্বর মানের বড়ো প্রশ্ন তিনটি দেওয়া থাকবে, তার মধ্যে যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। বাংলা শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসের লৌকিক সাহিত্যে অংশ থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি প্রশ্নোত্তর সহ Free PDF নিচে দিলাম। তবে আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুকটি (PDF) সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। তাই এখান থেকে পরীক্ষায় অনেক প্রশ্ন কমন পাবেন। সুতরাং যারা বাংলা ই-বুকটি(PDF) কিনতে চাও, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

loukik sahityer nana dik question answer

🔹 Loukik Sahityer Nana Dik Class 11

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 5]
1. লোককথার সংজ্ঞা নির্দেশ করে বিভিন্ন প্রকার লোককথার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। [WBCHSE Sample Question]
অথবা, লোককথা কাকে বলে ? লোককথার যে-কোনো দুটি শাখার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। [WBCHSE (XI) '17] ২+৩
অথবা, লোককথা কাকে বলে ? দুটি লোককথার নাম লেখো এবং যে-কোনো একটি লোককথা সম্পর্কে তোমার মত লিপিবদ্ধ করো। [WBCHSE (XI) '20] ২+৩
উত্তর : লোকসমাজের মুখে মুখে যে সব কাহিনি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্দিষ্ট কোনো লেখকের নাম জানা যায় না, সেগুলোকেই সাধারণভাবে লোককথা বলা হয়। এগুলি মানুষের স্মৃতিতে ভর করে টিকে থাকে এবং মূলত মৌখিক ধারায় প্রচারিত হয়।
লোককথার সংজ্ঞা : লোকমুখে প্রচলিত, নির্দিষ্ট ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচারিত এবং স্রষ্টার নামবিহীন যে কাহিনিমূলক রচনা প্রজন্মান্তরে চলে আসে, তাকে লোককথা বলে। এগুলি লোকশ্রুতি থেকে জন্ম নেয় বলে স্মৃতিনির্ভর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গদ্যে বলা হলেও পদ্যে রচিত হলে তাকে ‘গীতিকা’ বলা হয়। লোককথার বিভিন্ন রূপের মধ্যে রূপকথা, উপকথা, ব্রতকথা, পুরাণকথা ও কিংবদন্তি উল্লেখযোগ্য।
লোককথার দুটি শাখা হল :
(ক) রূপকথা : রূপকথা শব্দটি ইংরেজি Fairy Tale বা Household Tale-এর সমতুল্য। এই ধরনের কাহিনিতে রাজা-রানি, রাজপুত্র-রাজকন্যা, পরি, রাক্ষস প্রভৃতি অবাস্তব ও আশ্চর্য চরিত্রের উপস্থিতি দেখা যায়। গল্পের ভিতরে অলৌকিক ঘটনা ও কল্পনার প্রাধান্য থাকে। সাধারণত ন্যায় ও অন্যায়ের সংঘর্ষে শেষে ন্যায়ের জয় দেখানো হয়। পাঠক বা শ্রোতার মনে ইচ্ছাপূরণের আনন্দ জাগানোই এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যেমন -ঠাকুমার ঝুলি।
(খ) উপকথা বা পশুকথা ও নীতিকথা : যে সব লৌকিক কাহিনিতে মানুষ ছাড়াও পশুপাখিকে প্রধান চরিত্র হিসেবে দেখা যায় এবং যার মধ্যে শিক্ষামূলক ভাব থাকে, সেগুলিকে উপকথা বা পশুকথা বলা হয়। এই গল্পগুলি কৌতুকময় হলেও এর মধ্যে জীবনের গভীর সত্য প্রকাশ পায়। দেশ-কাল অতিক্রম করে মানবজীবনের চিরন্তন শিক্ষা তুলে ধরা এদের লক্ষ্য। যখন এই উপকথার সঙ্গে স্পষ্ট নীতিবোধ বা শিক্ষার বার্তা যুক্ত হয়, তখন তাকে নীতিকথা বলা হয়। যেমন - ঈশপের গল্প, হিতোপদেশ, পঞ্চতন্ত্র।
উপসংহার : অতএব, লোককথা হলো লোকসমাজের অভিজ্ঞতা ও কল্পনার মিলিত রূপ। এর বিভিন্ন শাখা  মানুষকে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে। লোকসংস্কৃতির ধারাকে সমৃদ্ধ ও জীবন্ত রাখার ক্ষেত্রে লোককথার গুরুত্ব অপরিসীম।

2. প্রবাদ' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করো। প্রবাদের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। ২+৩
অথবা, প্রবাদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্ণয় করো। ৫ [WBCHSE Sample Question]
উত্তর : বাংলা লোকসাহিত্যে প্রবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও জীবনবোধ সংক্ষিপ্ত বাক্যের মাধ্যমে প্রকাশ পেলে তাকে প্রবাদ বলা হয়। অল্প কথায় গভীর অর্থ প্রকাশই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
ব্যুৎপত্তিগত অর্থ : ‘প্রবাদ’ শব্দটি গঠিত হয়েছে- প্র + √বদ্ (বলা) + অ (ঘঞ্)-ভা থেকে। এখানে ‘বদ্’ ধাতুর অর্থ বলা। অর্থাৎ যা পরম্পরায় বলা হয়ে আসছে, তাই প্রবাদ। এর অর্থ দাঁড়ায়  জনশ্রুতি, লোকমুখে প্রচলিত উক্তি বা পরম্পরাগত বাক্য। অর্থাৎ জ্ঞানী বা অভিজ্ঞ মানুষের এমন সংক্ষিপ্ত উক্তি, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে লোকমুখে টিকে আছে, তাকেই প্রবাদ বলা হয়।
প্রবাদের বৈশিষ্ট্য :
(ক) রচয়িতা ও রচনাকাল অজ্ঞাত : প্রবাদের নির্দিষ্ট কোনো স্রষ্টার নাম জানা যায় না এবং কবে তা সৃষ্টি হয়েছে, তাও নির্দিষ্ট নয়। যেমন- “নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো।”
(খ) প্রসঙ্গনির্ভর প্রয়োগ : প্রবাদ যে কোনো সময় বলা যায় না; সঠিক পরিস্থিতিতে প্রয়োগ না করলে এর অর্থ স্পষ্ট হয় না। যেমন - “দুষ্ট গোরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।” এটা অনুপযুক্ত জিনিসের চেয়ে শূন্য থাকাই ভালো বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
(গ) গভীর ও রূপক অর্থ : প্রবাদের আসল শক্তি তার অন্তর্নিহিত অর্থে। শব্দের সরল অর্থের চেয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বা রূপক অর্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এতে ব্যঙ্গ, শ্লেষ বা তির্যক ভাব থাকতে পারে। যেমন- “নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা।” এটা নিজের অক্ষমতা ঢাকতে অজুহাত দেওয়া বোঝায়।
(ঘ) লোকঅভিজ্ঞতার সংহত প্রকাশ : প্রবাদ সাধারণ মানুষের জীবন-অভিজ্ঞতা ও বাস্তব জ্ঞানকে সংক্ষিপ্ত ভাষায় প্রকাশ করে। তাই এগুলি সর্বজনীন ও সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য হয়ে ওঠে। যেমন- “অতি লোভে তাঁতি নষ্ট।” এটা অতিরিক্ত লোভের ক্ষতি বোঝায়।
উপসংহার : সুতরাং, প্রবাদ হলো লোকসমাজের অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ ভাষাগত রূপ। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ যেমন পরম্পরায় প্রচলিত উক্তিকে নির্দেশ করে, তেমনি এর বৈশিষ্ট্যগুলি প্রবাদের গভীরতা ও সার্বজনীনতাকে প্রকাশ করে। বাংলা লোকসাহিত্যে প্রবাদের গুরুত্ব তাই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

3. প্রবাদ ও প্রবচন বলতে কী বোঝো ? কয়েকটি প্রবাদ-এর উদাহরণ বাক্য-সহ লেখো। [WBCHSE (XI) '2023, '14] ২+৩
উত্তর : বাংলা লোকসাহিত্যে ‘প্রবাদ’ ও ‘প্রবচন’ এই দুটি শব্দ প্রায় পাশাপাশি ব্যবহৃত হয়। দুটিই লোকমুখে প্রচলিত উক্তি হলেও অর্থ ও গুরুত্বের দিক থেকে কিছু পার্থক্য আছে। নিচে সংজ্ঞা ও উদাহরণসহ আলোচনা করা হল।
প্রবাদ : কোনো জাতির দৈনন্দিন জীবন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও জীবনদর্শন যখন সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ বাক্যে প্রকাশ পায় এবং লোকপরম্পরায় প্রচলিত থাকে, তখন তাকে প্রবাদ বলা হয়। এতে গভীর ভাব ও সার্বজনীন সত্য প্রকাশ পায়।
প্রবচন : ‘প্রকৃষ্ট বচন’ অর্থেই প্রবচন শব্দের ব্যবহার। কোনো প্রচলিত উক্তি বা সদালাপ প্রবচন নামে পরিচিত হতে পারে। তবে এর নিজস্ব আলাদা অবস্থান নেই; প্রবাদকে ঘিরেই এর প্রচলন ঘটে। প্রবাদ তুলনায় সংক্ষিপ্ত ও গম্ভীর, আর প্রবচন তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ ও সাধারণ কথার মতো।
কয়েকটি প্রবাদ-এর উদাহরণ (বাক্য-সহ) :
(ক) শূন্য কলশির আওয়াজ বেশি হয়। এর অর্থ : যার ভিতরে জ্ঞান কম, সে বেশি বাড়াবাড়ি করে।
বাক্য : সে খুব বড়াই করে, কিন্তু কাজে কিছুই পারে না - একেবারে শূন্য কলশির আওয়াজ বেশি হয়।
(খ) যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা। এর অর্থ : যাকে অপছন্দ করা হয়, তার সব কিছুই খারাপ মনে হয়।
বাক্য : ওকে তুমি এমনিই অপছন্দ করো, তাই তার সব আচরণ তোমার চোখে বাঁকা লাগে - যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা।
(গ) কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরোলেই পাজি। এর অর্থ : প্রয়োজন ফুরোলেই মানুষ বদলে যায়।
বাক্য : দরকার থাকলে সে খুব কাছে আসে, পরে আর খোঁজ নেয় না - কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরোলেই পাজি।
(ঘ) রাখে হরি মারে কে? এর অর্থ : ঈশ্বর রক্ষা করলে কারও ক্ষতি করা সম্ভব নয়।
বাক্য : এত বিপদের পরেও সে বেঁচে গেছে - সত্যিই রাখে হরি মারে কে ?
উপসংহার : অতএব, প্রবাদ ও প্রবচন উভয়ই লোকসমাজের ভাষাগত সম্পদ। প্রবাদে গভীর অভিজ্ঞতা ও তীক্ষ্ণ ভাব প্রকাশ পায়, আর প্রবচন সাধারণ উক্তির রূপে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণগুলি থেকে বোঝা যায়, অল্প কথায় বড় সত্য প্রকাশ করাই প্রবাদের আসল শক্তি।

4. ছড়া কী এবং 'ছড়া শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ লেখো। ছড়া-র বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। ২+৩
উত্তর : বাংলা লোকসাহিত্যের একটি প্রাণবন্ত ধারা হলো ছড়া। ছোটো আকারের হলেও এতে ছন্দ, মিল ও শ্রুতিমাধুর্যের বিশেষ ভূমিকা থাকে। শিশু থেকে বড় সব বয়সের মানুষই ছড়া শুনে আনন্দ পায়।
ছড়া : ছড়া হল ছন্দে বাঁধা, আবৃত্তিযোগ্য এবং চরণের শেষে মিলযুক্ত ছোটো লোককবিতা। এটি মূলত লোকমুখে সৃষ্টি ও প্রচলিত। সচেতনভাবে পরিকল্পনা করে নয়, বরং স্বতঃস্ফূর্ত ভাব থেকেই ছড়ার জন্ম হয়। তাই একে দলগত বা সমষ্টিগত রচনাও বলা যায়। ইংরেজিতে একে Rhyme বলা হয়।
ব্যুৎপত্তিগত অর্থ : ‘ছড়া’ শব্দটি দেশজ বলে মনে করা হয়। কেউ কেউ মনে করেন, এটি সংস্কৃত ‘ছটা’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘সমূহ’ বা ‘পরম্পরা’। আবার মত আছে যে ‘ছন্দ’ শব্দের অপভ্রংশ রূপ থেকেই ‘ছড়া’ শব্দের উৎপত্তি। অভিধানকারদের মতে, এর অর্থ গ্রাম্য কবিতা বা ছন্দে গাঁথা পদ্যকথা। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের মুখে রচিত ছন্দময় কবিতাই ছড়া।
ছড়া-র বৈশিষ্ট্যসমূহ :
(ক) মৌখিক ও লোকপ্রচলিত রূপ : ছড়া প্রধানত লোকমুখে তৈরি ও প্রচারিত হয়। এটি লিখিত সাহিত্যের চেয়ে মৌখিক ধারাতেই বেশি বেঁচে থাকে। যেমন -শিশুদের মুখে মুখে বলা খেলাধুলার ছড়া।
(খ) রচয়িতা ও সংখ্যা অজ্ঞাত : অধিকাংশ ছড়ার স্রষ্টার নাম জানা যায় না। কত ছড়া রচিত হয়েছে, তারও সঠিক হিসাব পাওয়া কঠিন। যেমন -গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত বিভিন্ন নামহীন গ্রাম্য ছড়া।
(গ) দ্রুত লয় ও সহজ ভঙ্গি : ছড়ার ভাষা গুরুগম্ভীর নয়; এতে দ্রুত ছন্দ ও মিল থাকে, যা শুনতে মনোরম লাগে। যেমন -মিলযুক্ত ছোটো চরণের ছড়া, যা সহজে আবৃত্তি করা যায়।
(ঘ) লৌকিক জীবনের ছাপ : ছড়ার বিষয় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে নেওয়া। তাই এর মধ্যে গ্রাম্য পরিবেশ ও সহজ অভিজ্ঞতার প্রতিফলন দেখা যায়। কখনও কখনও অর্থের অসংগতি থাকলেও তা স্বাভাবিক। যেমন - গ্রাম্য জীবনের ঘটনা নিয়ে রচিত সরল ও চটুল ছড়া।
উপসংহার : অতএব, ছড়া হল লোকসমাজের স্বতঃস্ফূর্ত সৃষ্টি, যা ছন্দ ও মিলের মাধ্যমে আনন্দ দেয়। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ যেমন গ্রাম্য কবিতার দিক নির্দেশ করে, তেমনি বৈশিষ্ট্যগুলি প্রমাণ করে যে ছড়া বাংলা লোকসাহিত্যের এক স্বতন্ত্র ও জনপ্রিয় ধারা।

5. ধাঁধার বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো অন্তত দুটি ধাঁধার উদাহরণ দাও। [WBCHSE (XI) 18, 15] ৫
উত্তর : লোকসাহিত্যের একটি আকর্ষণীয় ও বুদ্ধিনির্ভর শাখা হলো ধাঁধা। এতে প্রশ্নের আকারে কোনো বিষয় উপস্থাপন করা হয় এবং তার উত্তর সরাসরি বলা থাকে না। রূপক ও কৌতুকের আড়ালে লুকিয়ে থাকে আসল অর্থ।
ধাঁধার বৈশিষ্ট্যসমূহ :
(ক) রূপকের ব্যবহার স্পষ্ট : ধাঁধায় বিষয়টি সরাসরি বলা হয় না; রূপক বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ফলে প্রকৃত অর্থ বুঝতে ভাবতে হয়। যেমন -“আল্লার কি কুদরৎ, লাঠির মধ্যে সরবৎ।” উত্তর : আখ।
(খ) প্রশ্নোত্তর নির্ভর রূপ : ধাঁধা একা উপভোগ করা যায় না। এখানে একজন প্রশ্ন করে এবং অন্যজন উত্তর খুঁজে বের করে। তাই দুই পক্ষের মানসিক সক্রিয়তা প্রয়োজন। 
উদাহরণ : “এক মায়ের দুই ছেলে / কেউ কাউকে দেখতে নারে।” উত্তর : চোখ।
(গ) বুদ্ধি ও ভাষার চাতুর্য : ধাঁধার ভাষায় কৌশল থাকে এবং প্রশ্নের মধ্যেই আড়ালে উত্তর লুকিয়ে থাকে। সমাধান করতে চিন্তাশক্তির দরকার হয়। যেমন -“শহর থেকে এল সাহেব, কোট প্যান্ট পরে / কোট প্যান্ট খোলার পরে চক্ষু জ্বালা করে।” উত্তর : পেঁয়াজ।
(ঘ) হাস্যরস ও মানসিক আনন্দ : ধাঁধা সমাধান করতে পারলে আনন্দ পাওয়া যায়। এতে কৌতুকের ছোঁয়াও থাকে। যেমন -“বন থেকে বেরোলো চিতি / চিতি বলে তোর পাতে মুতি।” উত্তর : পাতিলেবু।
(ঙ) সংক্ষিপ্ত ও ছন্দময় রচনা : ধাঁধা সাধারণত ছোটো আকারের এবং অন্ত্যমিলযুক্ত ছন্দে রচিত হয়। বিষয়বস্তু হিসেবে দৈনন্দিন জীবনের জিনিস থেকে প্রকৃতির নানা উপাদান পর্যন্ত থাকতে পারে। যেমন -“ছোটো প্রাণী হেঁটে যায়, আস্ত পা-টা গিলে খায়।” উত্তর : জুতো।
উপসংহার : অতএব, ধাঁধা হলো রূপক-আবৃত, ছন্দময় ও বুদ্ধিনির্ভর প্রশ্নরূপী রচনা। এতে ভাষার কৌশল, চিন্তার উৎকর্ষ ও কৌতুক একসঙ্গে মিলিত হয়। উদাহরণগুলি থেকে বোঝা যায়, ধাঁধা শুধু বিনোদনই দেয় না, বুদ্ধির চর্চাও ঘটায়।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
File Details :
PDF Name : লৌকিক সাহিত্যের নানা দিক প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. ভাব সম্মিলন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
2. আধুনিক বাংলা সাহিত্য (পর্ব-২) PDF Click here
3. ছুটি গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
4. আগুন নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF Click here
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.