WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

ক্লাস 12 জনসংখ্যা ভূগোল প্রশ্ন উত্তর | জনসংখ্যা ভূগোলের বড়ো প্রশ্ন উত্তর | Class 12 4th Semester Geography Question Answer

0

Unit 1 : জনসংখ্যা ভূগোল (3 মার্ক) PDF

ভূ(caps)মিকা : দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টারে ভূগোল বিষয়ে 35 নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এই 35 নম্বরের মধ্যে ‘মানবীয় ভূগোলের ধারণা’ অধ্যায় থেকে মোট 10 নম্বর প্রশ্ন থাকবে। এই অধ্যায় থেকে দুই নম্বরের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (4 নম্বর), এবং তিন নম্বরের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (6 নম্বর)। অর্থাৎ মোট 4 + 6 = 10 নম্বর। এই ‘মানবীয় ভূগোলের ধারণা’ অধ্যায়টি মোট দুটি ইউনিটে বিভক্ত। এর মধ্যে প্রথম ইউনিট হল 'জনসংখ্যা ভূগোল'। এই ইউনিটটি পরীক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা এই 'জনসংখ্যা ভূগোল' ইউনিট থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ 3 নম্বর মানের প্রশ্ন-উত্তর সহ একটি PDF এখানে প্রদান করেছি। এছাড়াও আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এখন থেকে অনেক প্রশ্ন পরীক্ষায় কমন পাবেন। এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুসারে অত্যন্ত সহজ ও পরীক্ষামুখীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আপনাদের অনেক সাহায্য করবে। তাই ই-বুক (PDF)টি কিনতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

ক্লাস 12 ভূগোল জনসংখ্যা ভূগোল প্রশ্ন উত্তর

🔹 Class 12 Semester 4 Geography Question Answer

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 3]
1. পরিব্রাজনের কারণগুলি লেখো।
উত্তর : মানুষ বিভিন্ন কারণে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যায়, এটিকে পরিব্রাজন বলা হয়। এটি ঘটতে পারে প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক কারণে।
মূল কারণসমূহ :
i. প্রাকৃতিক কারণ : প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা বা ভূমিকম্পের কারণে মানুষ তাদের এলাকায় নিরাপদ জীবন যাপন করতে পারে না। ফলে তারা নিরাপত্তা খুঁজে অন্য জায়গায় চলে যায়।
ii. অর্থনৈতিক কারণ : মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য বা ভালো কাজের সুযোগ খুঁজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে। যেমন, কেউ নতুন শহরে চাকরি করতে যায় বা বাণিজ্যিক সুবিধা পেতে ব্যবসা স্থাপন করে।
iii. সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কারণ : 1. বিবাহের কারণে বিশেষ করে নারীরা প্রথাগতভাবে নিজের বাড়ি ত্যাগ করে স্বামীর বাড়িতে চলে যায়, 2. উচ্চশিক্ষা বা পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীরা নতুন শহর বা দেশের দিকে চলে যায় এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সময় মানুষ বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যায়। যেমন ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান বিভাজনের সময় মানুষ ব্যাপকভাবে গমন করেছিল।
মূল্যায়ন : পরিব্রাজন প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নানা কারণে ঘটে। এটি শুধু মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে না, বরং সমাজ ও অর্থনীতির কাঠামোয়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে।

2. ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তর : ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১১ খ্রিস্টাব্দে ভারতের বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ১.৭৬%। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে কিছু প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে।
ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ :
১) উচ্চ জন্মহার ও সামাজিক রীতি : ভারতে জন্মহার এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি। এর সঙ্গে বাল্যবিবাহ ও পুত্রসন্তানের আকাঙ্ক্ষার মতো সামাজিক রীতিনীতিও যুক্ত আছে। কম বয়সে বিবাহ হলে সন্তানসংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়, ফলে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
২) মৃত্যুহার হ্রাস ও চিকিৎসার উন্নতি : আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, টিকাকরণ, স্বাস্থ্যপরিসেবার উন্নতির ফলে মৃত্যুহার অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে শিশুমৃত্যু হ্রাস পাওয়ায় জন্মহার বেশি থাকার সঙ্গে সঙ্গে মোট জনসংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে।
৩) অনুপ্রবেশ ও অশিক্ষা : ভারতের প্রতিবেশী দেশ যেমন নেপাল, বাংলাদেশ ও মায়ানমার থেকে অনুপ্রবেশ ও শরণার্থীর আগমন জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি শিক্ষার হার কম থাকায়, বিশেষত নারী শিক্ষার অভাবে সচেতনতার অভাব দেখা যায়, যা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে।
মূল্যায়ন : সব মিলিয়ে বলা যায়, ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে সামাজিক, চিকিৎসাগত ও অভিবাসনজনিত কারণ একসঙ্গে দায়ী। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য শিক্ষা বিস্তার, বিশেষ করে নারী শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক সংস্কার অত্যন্ত প্রয়োজন।

3. পরিব্রাজনের সমস্যাগুলি আলোচনা করো।
উত্তর : বিভিন্ন কারণে মানুষ যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে গমন করে, তখন তাকে পরিব্রাজন বলা হয়। পরিব্রাজনের ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়।
পরিব্রাজনের মূল সমস্যাগুলি হল :
i. সামাজিক বিভাজন ও অস্থিরতা : পরিব্রাজনের ফলে বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির মানুষের আগমন ঘটে, যার ফলে অনেক সময় সামাজিক বিভেদ, দাঙ্গা, অপরাধ ও বর্ণবিদ্বেষ বৃদ্ধি পায়।
ii. শরণার্থী সমস্যা : পরিব্রাজনের কারণে বহু মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেয়। এতে গন্তব্য দেশের উপর চাপ বাড়ে এবং শরণার্থী সমস্যা সৃষ্টি হয়। যেমন - ১৯৭১ সালের পরে বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল।
iii. ব্রেন ড্রেন ও ব্রেন গ্রেন : অনুন্নত দেশ থেকে শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ উন্নত দেশে চলে গেলে অনুন্নত দেশে মেধার অভাব দেখা দেয় এবং উন্নত দেশ আরও শক্তিশালী হয়।
মূল্যায়ন : পরিব্রাজনের ফলে সামাজিক অস্থিরতা, শরণার্থী সংকট ও মেধা পাচারের মতো সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাই পরিব্রাজন অনেক ক্ষেত্রে সমাজের ভারসাম্য নষ্ট করে।

4. ভারতের জনবিবর্তন মডেল কোন পর্যায়ে আছে আলোচনা করো।
উত্তর : ভারত বর্তমানে জনবিবর্তন মডেলের দ্বিতীয় পর্যায়ের শেষ ও তৃতীয় পর্যায়ের শুরুতে আছে। এই পর্যায়ে সাধারণত দেখা যায় জন্মহার এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি, কিন্তু মৃত্যুহার অনেক কমে গেছে। ফলে জনসংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ের প্রবণতা দেখাচ্ছে জন্মহার ধীরে ধীরে কমছে।
মূল কারণসমূহ :
i. উচ্চ জন্মহার ও কম মৃত্যুহার : স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসার উন্নতির ফলে মৃত্যুহার কমেছে, কিন্তু জন্মহার এখনও বেশি থাকায় জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ii. জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা : জন্মহার বেশি থাকায় জনসংখ্যা বেড়েছে, যদিও ধীরে ধীরে জন্মহার কমার কারণে বৃদ্ধির গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
iii. সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন : শিক্ষার প্রসার, নগরায়ণ, নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ইত্যাদির কারণে জন্মহার ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে।
মূল্যায়ন : এই পর্যায়ের বৈশিষ্ট্য হলো জন্মহার এখনও উচ্চ, মৃত্যুহার কম, শিশু জনসংখ্যার অনুপাত বেশি এবং ধীরে ধীরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে আসছে। এই কারণে বলা যায়, ভারত দ্বিতীয় পর্যায়ের শেষ এবং তৃতীয় পর্যায়ের শুরুতে অবস্থান করছে।

5. থম্পসনের জনবিবর্তন মডেলের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করো
উত্তর : 1929 খ্রিস্টাব্দে ওয়ার্নার থম্পসন জনবিবর্তন মডেল প্রস্তাব করেন। মডেলটি জন্মহার ও মৃত্যুহারের পরিবর্তনের ভিত্তিতে জনসংখ্যার বৃদ্ধির ধারা বোঝায়।
মডেলের গুরুত্ব :
i. জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রভাব বোঝা : মডেলটি জন্মহার ও মৃত্যুহারের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে জনসংখ্যার বৃদ্ধি ও তার অর্থনৈতিক প্রভাব সহজে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।
ii. সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ : এটি দেখায় কিভাবে কৃষিভিত্তিক সমাজ থেকে শিল্পভিত্তিক সমাজে রূপান্তর জনসংখ্যার বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে।
iii. উন্নয়ন ও নীতি পরিকল্পনা : বিভিন্ন দেশের উন্নয়নের স্তর নির্ধারণ এবং জনসংখ্যা নীতি তৈরিতে মডেলটি ব্যবহার করা যায়।
মূল্যায়ন : সার্বিকভাবে, থম্পসনের মডেল জনসংখ্যার ধারা ও প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর, তবে আধুনিক বিশ্বের পরিবর্তনশীল বাস্তবতা ও বহিরাগত প্রভাব পুরোপুরি ধরতে পারে না।

6. নোটেস্টটিনের জনবিবর্তন মডেল আলোচনা করো। 
উত্তর : নোটেস্টটিনের জনবিবর্তন মডেল দেখায় কিভাবে সমাজ ও অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে জন্মহার ও মৃত্যুহার কমে আসে এবং জনসংখ্যার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত হয়।
নোটেস্টটিনের জনবিবর্তন মডেলের তিনটি পর্যায় :
১) প্রথম পর্যায় : জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই খুব বেশি থাকে। সমাজ কৃষিনির্ভর, অশিক্ষিত এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বল। মৃত্যুহারের কারণে জনসংখ্যা ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং প্রায় স্থিতিশীল থাকে। উদাহরণ: আফ্রিকার নাইজার ও গ্যাবন।
২) দ্বিতীয় পর্যায় : জন্মহার এখনও বেশি থাকলেও উন্নত চিকিৎসার ফলে মৃত্যুহার কমে যায়। কৃষি থেকে শিল্পভিত্তিক সমাজে রূপান্তর হওয়ায় জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। উদাহরণ: ভারত, বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া।
৩) তৃতীয় পর্যায় : জন্মহার দ্রুত কমে এবং মৃত্যুহারও কম থাকে। শিক্ষা, সচেতনতা ও নারীর স্বাধীনতার কারণে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হয়। উদাহরণ: ব্রাজিল, চীন, মেক্সিকো, মিশর।
মূল্যায়ন : এই মডেল দেখায় যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে জন্মহার ও মৃত্যুহারের পরিবর্তন ঘটায় এবং জনসংখ্যার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত হয়। যদিও এটি ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তবুও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জনসংখ্যার ধারা বোঝাতেও প্রযোজ্য।

7. অভিবাসন ও অধিবাসনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : মানুষের স্থান পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় অভিবাসন ও অধিবাসন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। এই দুটি একই ঘটনার দুই দিক হলেও তাদের অর্থ ও প্রভাব এক নয়।
অভিবাসন ও অধিবাসনের মূল পার্থক্য :
১. ধারণাগত পার্থক্য : অভিবাসন বলতে বোঝায় যখন মানুষ নিজের বসবাসের স্থান ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। অর্থাৎ এটি উৎসস্থান ত্যাগের সঙ্গে যুক্ত। অপরদিকে অধিবাসন হলো বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের একটি নির্দিষ্ট স্থানে এসে বসবাস করা, যা গন্তব্যস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
২. কারণ ও প্রকৃতিগত পার্থক্য : অভিবাসন সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কাজের অভাব বা রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো বিকর্ষণমূলক কারণে ঘটে এবং এটি অন্তর্মুখী পরিব্রাজনের রূপ। অন্যদিকে অধিবাসন ঘটে কর্মসংস্থানের সুযোগ বা উন্নত নাগরিক সুবিধার আকর্ষণে এবং এটি বহির্মুখী পরিব্রাজনের সঙ্গে যুক্ত।
৩. জনসংখ্যাগত প্রভাব : অভিবাসনের ফলে উৎসস্থলে মানুষের সংখ্যা কমে যায়, কারণ মানুষ সেই স্থান ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু অধিবাসনের ক্ষেত্রে গন্তব্যস্থলে মানুষের আগমন ঘটায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
মূল্যায়ন : সুতরাং বলা যায়, অভিবাসন ও অধিবাসন পরিব্রাজনের দুটি বিপরীত দিক একটি জনসংখ্যা হ্রাস ঘটায়, অন্যটি জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটায়।

8. জনস্বল্পতা এবং জনাকীর্ণতার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : কোনো দেশ বা অঞ্চলে জনসংখ্যা ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে বিভিন্ন জনসংখ্যাগত সমস্যা দেখা যায়। এই প্রসঙ্গে জনস্বল্পতা ও জনাকীর্ণতা দুটি বিপরীত অবস্থা লক্ষ্য করা যায়।
জনস্বল্পতা এবং জনাকীর্ণতার মূল পার্থক্য :
১) ধারণাগত পার্থক্য : যে অঞ্চলে নির্দিষ্ট সময়ে প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় মানুষের সংখ্যা কম থাকে, তাকে জনস্বল্পতা বলা হয়। অন্যদিকে, একই সম্পদের তুলনায় মানুষের সংখ্যা বেশি হলে সেই অবস্থাকে জনাকীর্ণতা বলা হয়।
২) জমির ওপর চাপ ও আয় : জনস্বল্প অঞ্চলে জমির ওপর মানুষের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং সাধারণত মাথাপিছু আয় বেশি হয়। কিন্তু জনাকীর্ণ অঞ্চলে জমির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং মাথাপিছু আয় কমে যায়।
৩) জীবনযাত্রা ও আর্থসামাজিক অবস্থা : জনস্বল্পতার ফলে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং দেশের আর্থসামাজিক পরিকাঠামো শক্তিশালী থাকে। কিন্তু জনাকীর্ণতার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মান নিম্ন হয় এবং আর্থসামাজিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।
মূল্যায়ন : সার্বিকভাবে বলা যায়, জনস্বল্পতা উন্নয়নের পক্ষে সহায়ক হলেও জনাকীর্ণতা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই উন্নয়নের জন্য জনসংখ্যা ও সম্পদের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।

9. জনঘনত্ব এবং মানুষ-জমি অনুপাতের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : কোনো দেশ বা অঞ্চলের জনসংখ্যা ও জমির সম্পর্ক বোঝাতে জনঘনত্ব এবং মানুষ-জমি অনুপাত এই দুটি ধারণা ব্যবহার করা হয়। দুটির উদ্দেশ্য এক হলেও দৃষ্টিভঙ্গিতে স্পষ্ট পার্থক্য আছে।
জনঘনত্ব এবং মানুষ-জমি অনুপাতের মূল পার্থক্য :
১) ধারণাগত পার্থক্য : জনঘনত্ব বলতে মোট জনসংখ্যা ও মোট জমির মধ্যে গাণিতিক সম্পর্ককে বোঝায়। অন্যদিকে মানুষ-জমি অনুপাত হলো মোট জনসংখ্যা ও কার্যকর বা ব্যবহারযোগ্য জমির পারস্পরিক সম্পর্ক।
২) পরিমাপের ভিত্তি : জনঘনত্ব নির্ণয়ের সময় কোনো অঞ্চলের মোট জমির পরিমাণ ধরা হয়।
কিন্তু মানুষ–জমি অনুপাত নির্ধারণে কেবল উৎপাদনযোগ্য বা কার্যকর জমিকে বিবেচনা করা হয়।
৩) গুরুত্ব ও প্রয়োগ : জনঘনত্বের মাধ্যমে জনসংখ্যা কতটা ঘনভাবে ছড়িয়ে আছে তা জানা যায়।
মানুষ-জমি অনুপাত থেকে জনবণ্টনের কারণ, জমির উৎপাদন ক্ষমতা ও কাম্য জনসংখ্যা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
মূল্যায়ন : সুতরাং বলা যায়, জনঘনত্ব জনসংখ্যার সংখ্যাগত চিত্র তুলে ধরে, আর মানুষ-জমি অনুপাত একটি অঞ্চলের জনসংখ্যা ও জমির বাস্তব সামর্থ্যকে ব্যাখ্যা করে, যা পরিকল্পনা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর।

10. জনসংখ্যা বণ্টনে পরিব্রাজনের প্রভাব লেখো।
উত্তর : পরিব্রাজন মানুষের বসবাসের স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে জনসংখ্যার বণ্টনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এই কারণেই বিজু গার্নিয়ার বলেছেন যে, পরিব্রাজন মানব সম্পদের পুনর্বিন্যাসে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
মূল প্রভাবসমূহ :
i. উৎস ও গন্তব্য অঞ্চলের জনসংখ্যার পরিবর্তন : বহির্মুখী পরিব্রাজনের ফলে উৎস অঞ্চলের জনসংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যায়। অপরদিকে অন্তর্মুখী পরিব্রাজনের কারণে গন্তব্য অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। যেমন - আমেরিকায় পরিব্রাজনের ফলে জনসংখ্যা বেড়েছে।
ii. জনঘনত্ব ও জনসংখ্যার বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন : পরিব্রাজনের ফলে কোনো কোনো অঞ্চলে জনঘনত্ব কমে যায় আবার কোনো অঞ্চলে বেড়ে যায়। পাশাপাশি স্ত্রী-পুরুষের অনুপাত, শিক্ষার হার, জন্মহার ও মৃত্যুহারের মতো জনসংখ্যাগত বৈশিষ্ট্যেও পরিবর্তন দেখা যায়।
iii. নতুন জনবসতির সৃষ্টি : বিভিন্ন অঞ্চল ও দেশ থেকে মানুষ এসে নতুন বসতি গড়ে তোলে। এর ফলে নতুন এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ে।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, পরিব্রাজন জনসংখ্যার বণ্টনে অসমতা সৃষ্টি করলেও একই সঙ্গে নতুন জনবসতি গঠন ও মানব সম্পদের পুনর্বিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

11. জনবসতির বৈশিষ্ট্য অনুসারে পরিব্রাজনের শ্রেণিবিভাগ করো।
উত্তর : বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে গমন করে, তাকে পরিব্রাজন বলা হয়। জনবসতির ধরন অনুযায়ী পরিব্রাজনকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
শ্রেণিবিভাগ :
i. গ্রাম থেকে শহরে পরিব্রাজন : গ্রামাঞ্চল থেকে মানুষ কাজের সুযোগ ও উন্নত জীবনযাত্রার আশায় শহরে যায়। ভারতের পরিব্রাজনের সবচেয়ে বড় অংশ এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
ii. গ্রাম থেকে গ্রামে পরিব্রাজন : কৃষিকাজের প্রয়োজনে বা বিবাহ সূত্রে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে মানুষ গমন করে।
iii. শহর থেকে গ্রামে পরিব্রাজন : সরকারি বদলি, অবসর গ্রহণ, বিবাহ বা রাজনৈতিক কারণে কিছু মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যায়।
iv. শহর থেকে শহরে পরিব্রাজন : ভালো চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও বেশি আয়ের আশায় এক শহর থেকে অন্য শহরে মানুষ গমন করে।
মূল্যায়ন : জনবসতির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পরিব্রাজন বিভিন্ন রূপে দেখা যায় এবং প্রতিটি শ্রেণি জনসংখ্যার বণ্টনে প্রভাব ফেলে।

12. ভারতের অসম জনবণ্টনের প্রাকৃতিক কারণগুলি লেখো।
উত্তর : ভারতের জনসংখ্যা সমানভাবে ছড়ায়নি। ভারতের জনসংখ্যা সমানভাবে ছড়ায়নি। প্রধানত প্রাকৃতিক পরিবেশের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব ভিন্ন।
ভারতের অসম জনবণ্টনের প্রাকৃতিক কারণ :
১) ভূপ্রকৃতি : পার্বত্য অঞ্চলে মানুষের চলাচল সীমিত, কৃষিকাজ সীমিত এবং ধসের ঝুঁকি থাকায় জনসংখ্যা কম থাকে। উদাহরণ: দার্জিলিং। অন্যদিকে সমভূমি অঞ্চলে মৃত্তিকা উর্বর, যোগাযোগ সুবিধা এবং কৃষি-শিল্পের সুযোগ বেশি থাকায় এখানে জনসংখ্যা বেশি। উদাহরণ: গাঙ্গেয় সমভূমি।
২) জলবায়ু : অনুকূল জলবায়ু মানুষের বসবাস সহজ করে, কিন্তু অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা জলবায়ু জনবসতির জন্য অনুকূল নয়। উদাহরণ: ব্যাঙ্গালুরুতে অনুকূল জলবায়ু, আর রাজস্থান ও সিকিমে প্রতিকূল জলবায়ু।
৩) মৃত্তিকা ও নদনদী : উর্বর মৃত্তিকা কৃষিকাজকে সহজ করে এবং নদনদী জলসেচ ও পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করে। এই কারণে নদী অববাহিকা অঞ্চলে জনবসতি বেশি। উদাহরণ: গাঙ্গেয় অববাহিকা।

13. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বা বৃদ্ধির নিয়ন্ত্রক গুলি আলোচনা করো।
উত্তর : বর্তমানে ভারতসহ সারা বিশ্বে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করা সমাজ ও অর্থনীতির জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির নিয়ন্ত্রকসমূহ : 
i. শিক্ষা ও সচেতনতা : শিক্ষার প্রসার ঘটলে মানুষ জনসংখ্যা সমস্যার গুরুত্ব বুঝতে পারে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার হার বাড়লে পরিবার ছোট রাখার প্রবণতা গড়ে ওঠে, ফলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হয়।
ii. বিবাহের বয়স ও পরিবার পরিকল্পনা : পুরুষ ও নারীর বিবাহের বয়স বেশি হলে সন্তান জন্মের হার কমে। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনার মাধ্যমে অনেক দম্পতি সীমিত সন্তান নীতি গ্রহণ করে, যা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
iii. পরিব্রাজন ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি : বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষের আগমনে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তাই পরিব্রাজন নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া আধুনিক চিকিৎসা-ভিত্তিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করছে।
মূল্যায়ন : অতএব শিক্ষা, বিবাহের বয়স ও পরিবার পরিকল্পনা, পরিব্রাজন নিয়ন্ত্রণ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এই পরিমাপগুলি একসঙ্গে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিষ্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক (PDF)টিতে এই Unit থেকে আরো অনেকগুলি 2 এবং 3 নম্বর মানের প্রশ্নোত্তর দেওয়া আছে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : জনসংখ্যা ভূগোল প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. ক্লাস 12 ভূগোল বারিমন্ডল প্রশ্ন উত্তর Click here
2. ক্লাস 12 বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া Click here
3. ক্লাস 12 শিক্ষাবিজ্ঞান প্রথম অধ্যায় শিখন PDF Click here
Regards,
WB Semester Team 
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.