WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

ক্লাস 12 ভূগোল জীবমণ্ডল প্রশ্ন উত্তর | জীবমণ্ডলের বড়ো প্রশ্ন উত্তর | Class 12 4th Semester Bhugol Question Answer

0

Unit 6 : জীবমণ্ডল (3 এবং 5 মার্ক) PDF

ভূ(caps)মিকা : দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টারে ভূগোল বিষয়ে 35 নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এই 35 নম্বরের মধ্যে ‘প্রাকৃতিক ভূগোলের ধারণা’ অধ্যায় থেকে মোট 15 নম্বর প্রশ্ন থাকবে। এই অধ্যায় থেকে দুই নম্বরের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (4 নম্বর), তিন নম্বরের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (6 নম্বর) এবং পাঁচ নম্বরের প্রশ্ন দুটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো একটি করতে হবে (5 নম্বর)। অর্থাৎ মোট 4 + 6 + 5 = 15 নম্বর। এই ‘প্রাকৃতিক ভূগোলের ধারণা’ অধ্যায়টি মোট ছয়টি ইউনিটে বিভক্ত। এর মধ্যে ষষ্ঠ ইউনিট হল 'জীবমণ্ডল'। এই ইউনিট থেকে শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা খুব গুরুত্বপূর্ণ 3 এবং 5 নম্বর মানের প্রশ্ন-উত্তর সহ একটি PDF এখানে প্রদান করেছি। এছাড়াও আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এখন থেকে অনেক প্রশ্ন পরীক্ষায় কমন পাবেন। এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুসারে অত্যন্ত সহজ ও পরীক্ষামুখীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আপনাদের অনেক সাহায্য করবে। তাই ই-বুক (PDF)টি কিনতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।

ক্লাস 12 ভূগোল জীবমণ্ডল প্রশ্ন উত্তর

🔹 Class 12 4th Semester Bhugol Question Answer

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 3]
1. ইন-সিটু সংরক্ষণ ও এক্স-সিটু সংরক্ষণের পার্থক্য লেখো।
উত্তর : জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বিপন্ন ও বিপদগ্রস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীকে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাই বিপন্ন জীব ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য ইন-সিটু ও এক্স-সিটু এই দুই ধরনের সংরক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
ইন-সিটু সংরক্ষণ ও এক্স-সিটু সংরক্ষণের পার্থক্য :
i. সংরক্ষণের স্থান : ইন-সিটু সংরক্ষণে প্রজাতিকে তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক আবাসস্থলেই রক্ষা করা হয়, আর এক্স-সিটু সংরক্ষণে প্রাকৃতিক আবাসের বাইরে কৃত্রিম পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়।
ii. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ : ইন-সিটু পদ্ধতিতে প্রজাতিগত, জিনগত ও বাস্তুতন্ত্রগত জীববৈচিত্র্য একসঙ্গে সংরক্ষিত হয়, কিন্তু এক্স-সিটু পদ্ধতিতে এগুলি আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
iii. বিস্তার ও উদ্দেশ্য : ইন-সিটু সংরক্ষণের বিস্তার বেশি এবং এর মূল লক্ষ্য জীববৈচিত্র্য রক্ষা, অপরদিকে এক্স-সিটু সংরক্ষণের বিস্তার কম এবং এর প্রধান উদ্দেশ্য শিক্ষা, গবেষণা ও বিশেষ প্রজাতি সংরক্ষণ।
মূল্যায়ন : অতএব দুটি পদ্ধতিই জীবসংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রাকৃতিকভাবে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইন-সিটু সংরক্ষণ বেশি কার্যকর।

2. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উপায় বা পদ্ধতিগুলি লেখো।
উত্তর : বর্তমানে মানুষের নানা কার্যকলাপের ফলে জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে। তাই বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ-প্রাণীকে রক্ষা করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সংরক্ষণ পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উপায় বা পদ্ধতি :
i. সংরক্ষিত জীবমণ্ডল ও আইন প্রয়োগ : জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বিভিন্ন সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত জীবমণ্ডল গড়ে তোলা হয়, যাতে বিপন্ন প্রজাতিগুলি নিরাপদে টিকে থাকতে পারে। একই সঙ্গে জীবপ্রজাতি ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষার জন্য বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন (১৯৭২), অরণ্য সংরক্ষণ আইন (১৯৮০) এবং জীববৈচিত্র্য আইন (২০০২) কার্যকর করা হয়েছে।
ii. আন্তঃক্ষেত্রীয় সংরক্ষণ (ইন-সিটু) : এই পদ্ধতিতে বিপন্ন ও বিলুপ্তিপ্রায় জীবপ্রজাতিকে তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক আবাসস্থল, যেমন বনভূমির মধ্যেই সংরক্ষণ করা হয়। ফলে প্রজাতিগুলি স্বাভাবিক পরিবেশে বংশবিস্তার করার সুযোগ পায়।
iii. বহিঃক্ষেত্রীয় সংরক্ষণ (এক্স-সিটু) : অতিমাত্রায় বিপন্ন জীবপ্রজাতিকে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বাইরে কৃত্রিম পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে বিশেষ যত্ন নিয়ে প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, সংরক্ষিত জীবমণ্ডল সৃষ্টি, আইন প্রয়োগ এবং ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণ পদ্ধতি একসঙ্গে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ দীর্ঘমেয়াদে সফল করা সম্ভব।

3. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের নীতি বা পদ্ধতিগুলি আলোচনা করো।
অথবা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের কৌশলগুলি আলোচনা করো।
উত্তর : বর্তমান মানুষের প্রয়োজন মেটানোর সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতকে রক্ষা করার প্রক্রিয়াকেই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বলা হয়। প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রধান নীতি বা পদ্ধতি :
i. সংরক্ষণ পরিকল্পনা গ্রহণ : বিপন্ন ও বিপদগ্রস্ত প্রজাতিগুলিকে চিহ্নিত করে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের রক্ষা করা হলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্ভব হয়।
ii. সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ : বিভিন্ন আইন চালু করে বিপন্ন ও প্রায় বিলুপ্ত জীবপ্রজাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো হয়। যেমন - বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন (১৯৭২), অরণ্য সংরক্ষণ আইন (১৯৮০), জীববৈচিত্র্য আইন (২০০২)ইত্যাদি।
iii. ইন-সিটু সংরক্ষণ : যে সব জীব বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে, তাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক আবাসস্থলেই সংরক্ষণ করা হলে তাকে ইন-সিটু সংরক্ষণ বলা হয়। যেমন - সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার সংরক্ষণ।
iv. এক্স-সিটু সংরক্ষণ : যখন কোনো বিপন্ন বা অতিবিপন্ন প্রজাতিকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থলের বাইরে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হয়, তখন তাকে এক্স-সিটু সংরক্ষণ বলা হয়। যেমন - আলিপুর চিড়িয়াখানা।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের এই নীতি ও পদ্ধতিগুলি সঠিকভাবে অনুসরণ করলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান জীবসম্পদ সংরক্ষিত থাকে।

4. ক্রান্তীয় অঞ্চলে জীববৈচিত্র্য অধিক হওয়ার কারণ কী ?
উত্তর : পৃথিবীর মোট জীবপ্রজাতির প্রায় অর্ধেকই ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে বসবাস করে। এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ জীবের বেঁচে থাকা ও বিস্তারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
ক্রান্তীয় অঞ্চলে জীববৈচিত্র্য বেশি হওয়ার কারণ :
i. দীর্ঘকাল স্থিতিশীল জলবায়ু : ভূতাত্ত্বিক যুগে যুগে ক্রান্তীয় অঞ্চলের জলবায়ু তুলনামূলকভাবে খুব একটা বদলায়নি। ফলে এখানকার জীবেরা দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপদ পরিবেশে বসবাস ও বিকাশের সুযোগ পেয়েছে।
ii. জীবগোষ্ঠীর প্রাচীনত্ব ও অভিযোজন : ক্রান্তীয় অঞ্চলের জীবগোষ্ঠীগুলি অত্যন্ত প্রাচীন। দীর্ঘ সময় ধরে বিবর্তনের সুযোগ পাওয়ায় তারা নিজ নিজ পরিবেশের সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছে।
iii. বেশি উষ্ণতা, আর্দ্রতা ও সংকরায়ণ : এই অঞ্চলে উষ্ণতা ও আর্দ্রতা বেশি থাকায় নতুন নতুন জীবপ্রজাতির সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি নিরক্ষীয় ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের জীবের সংকরায়ণের ফলে প্রজাতির বৈচিত্র্য আরও বৃদ্ধি পায়।
মূল্যায়ন : অতএব উপরোক্ত কারণগুলির সম্মিলিত প্রভাবে ক্রান্তীয় অঞ্চল পৃথিবীর সবচেয়ে জীববৈচিত্র্যপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

[প্রতিটি প্রশ্নের মান 5]
1. জীববৈচিত্র্যে গুরুত্ব কী ?
উত্তর : প্রাকৃতিক পরিবেশে আণুবীক্ষণিক জীব থেকে শুরু করে বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমষ্টিতে যে বৈচিত্র্যময় জীবজগৎ গড়ে ওঠে, তাকে জীববৈচিত্র্য বলা হয়। এই জীববৈচিত্র্য প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জীববৈচিত্র্যে গুরুত্ব :
i. বাস্তুতন্ত্রের স্থায়িত্ব রক্ষা : জীববৈচিত্র্য জলবায়ু ও মাটির স্বাভাবিকতা বজায় রেখে জীবমণ্ডলের স্থিতিশীলতা রক্ষা করে। এর ফলে পৃথিবীতে জীবনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
ii. প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা : জীববৈচিত্র্য পরিবেশে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বিভিন্ন জৈব-ভূরাসায়নিক চক্র সচল রাখে। জীববৈচিত্র্য কমে গেলে এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়।
iii. খাদ্যের উৎস হিসেবে গুরুত্ব : বহু উদ্ভিদ প্রজাতি মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর খাদ্যের প্রধান উৎস। গম, ভুট্টা প্রভৃতি শস্য জীববৈচিত্র্যেরই অংশ, যা মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করে।
iv. বস্ত্র ও পোশাক শিল্পে গুরুত্ব : জীববৈচিত্র্যের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে বস্ত্র তৈরির উপাদান পাওয়া যায়। তুলা ও রেশম এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
v. শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ : কাগজ শিল্প, বস্ত্রবয়ন শিল্প, রেশম শিল্প এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে উদ্ভিদ ও প্রাণীজাত কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়, যা জীববৈচিত্র্যের উপর নির্ভরশীল।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, জীববৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করার পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

2. জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব লেখো ?
উত্তর : প্রাকৃতিক পরিবেশে আণুবীক্ষণিক জীব থেকে শুরু করে নানা উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমন্বয়ে যে বৈচিত্র্যময় জীবজগৎ গড়ে ওঠে, তাকে জীববৈচিত্র্য বলা হয়। এই জীববৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব : 
i. জীবমণ্ডলের স্বাভাবিকতা বজায় রাখা : জীববৈচিত্র্য মৃত্তিকা ও জলবায়ুর স্থিতিশীলতা রক্ষা করে জীবমণ্ডলকে স্বাভাবিক অবস্থায় ধরে রাখে। জীববৈচিত্র্য নষ্ট হলে বাস্তুতন্ত্র বিপন্ন হয়ে পড়ে।
ii. পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা : পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে বাস্তুতন্ত্রকে বাঁচাতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অপরিহার্য। জীববৈচিত্র্য কমে গেলে O₂ ও CO₂-এর ভারসাম্য এবং জলচক্র ব্যাহত হয়।
iii. প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা : জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে বন, জল, মাটি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষিত থাকে, যা পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
iv. অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণ : জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত থাকলে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও ওষুধের মতো মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জোগান বজায় থাকে। বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার জীবপ্রজাতি মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
v. লুপ্তপ্রায় প্রজাতি রক্ষা : বিপন্ন ও বিপদগ্রস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মূল্যায়ন : সব দিক বিবেচনা করে বলা যায়, পরিবেশের ভারসাম্য, সম্পদ সংরক্ষণ ও মানবকল্যাণ নিশ্চিত করতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অপরিহার্য।

3. জীববৈচিত্র্য বিনাশের কারণগুলি লেখো।
উত্তর : কোনো নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক পরিবেশে আণুবীক্ষণিক জীবসহ বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমষ্টিতে যে বৈচিত্র্যময় জীবজগৎ গড়ে ওঠে, তাকে জীববৈচিত্র্য বলা হয়। বর্তমানে নানা প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে এই জীববৈচিত্র্য দ্রুত বিনষ্ট হচ্ছে।
জীববৈচিত্র্য বিনাশের কারণ : 
i. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব : বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর পরিবর্তন, বিশেষ করে উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ম্যামথের বিলুপ্তি এর একটি উদাহরণ।
ii. প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষয় : বন্যা, খরা ও দাবানলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জীবগোষ্ঠী ধ্বংস হয়। যেমন ২০১৯ সালে আমাজন বনভূমিতে ভয়াবহ দাবানলে বহু জীবপ্রজাতি নষ্ট হয়েছে।
iii. বনভূমি ধ্বংসের প্রভাব : মানুষের বসতি স্থাপন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তারের ফলে ব্যাপক হারে বন উজাড় হচ্ছে। যেহেতু অধিকাংশ জীবপ্রজাতির আবাসস্থল অরণ্য, তাই অরণ্যবিনাশ জীববৈচিত্র্য বিনাশের অন্যতম প্রধান কারণ।
iv. জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চলের সংকোচন : জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলির আয়তন কমে যাচ্ছে। এর ফলে খাদ্যসংকট দেখা দেয় এবং দুর্বল প্রজাতিগুলি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়।
v. অবৈধ শিকার ও দূষণজনিত ক্ষতি : মূল্যবান পশুজ সম্পদ সংগ্রহের জন্য অবৈধ শিকার ও বৃক্ষচ্ছেদ জীববৈচিত্র্য হ্রাস করে। পাশাপাশি শিল্প ও প্রযুক্তিগত বিকাশের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ বহু প্রাণীর অস্তিত্ব বিপন্ন করেছে, যেমন শকুনের সংখ্যা হ্রাস।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, প্রাকৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অপরিকল্পিত কার্যকলাপই জীববৈচিত্র্য বিনাশের প্রধান কারণ। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সচেতনতা ও কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিষ্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক (PDF)টিতে এই Unit থেকে আরো অনেকগুলি 2, 3 এবং 5 নম্বর মানের প্রশ্নোত্তর দেওয়া আছে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : ক্লাস 12 ভূগোল জীবমণ্ডল প্রশ্ন উত্তর
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. ক্লাস 12 ভূগোল বারিমন্ডল প্রশ্ন উত্তর Click here
2. ক্লাস 12 বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া Click here
3. ক্লাস 12 শিক্ষাবিজ্ঞান প্রথম অধ্যায় শিখন PDF Click here
Regards,
WB Semester Team 
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.