ভূ(caps)মিকা : দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টারে ভূগোল বিষয়ে 35 নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এই 35 নম্বরের মধ্যে ‘ভারতের ভূগোল’ অধ্যায় থেকে মোট 10 নম্বর প্রশ্ন থাকবে। এই অধ্যায় থেকে 2 নম্বর মানের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (4 নম্বর), এবং 3 নম্বর মানের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (6 নম্বর)। অর্থাৎ মোট 4 + 6 = 10 নম্বর। এই ‘ভারতের ভূগোল’ অধ্যায়টি মোট তিনটি ইউনিটে বিভক্ত। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট হল 'জনবসতি এবং মানব উন্নয়ন'। এই ইউনিটটি পরীক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা এই 'জনবসতি এবং মানব উন্নয়ন' ইউনিট থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ 3 নম্বর মানের প্রশ্ন-উত্তর সহ একটি PDF এখানে প্রদান করেছি। এছাড়াও আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এখন থেকে অনেক প্রশ্ন পরীক্ষায় কমন পাবেন। এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুসারে অত্যন্ত সহজ ও পরীক্ষামুখীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আপনাদের অনেক সাহায্য করবে। তাই ই-বুক (PDF)টি কিনতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
🔹 Class 12 4th Semester Geography Question Answer PDF
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 3]
1. গোষ্ঠীবদ্ধ বসতি বা সংঘবদ্ধ হয়ে গড়ে ওঠার কারণগুলি লেখো।
উত্তর : যে বসতিতে বহু পরিবার একসঙ্গে কাছাকাছি অবস্থান করে বসবাস করে, তাকে গোষ্ঠীবদ্ধ বসতি বলা হয়। এই ধরনের বসতি সাধারণত বিশেষ কিছু কারণে গড়ে ওঠে।
গোষ্ঠীবদ্ধ বসতি বা সংঘবদ্ধ হয়ে গড়ে ওঠার কারণ :
(1) প্রাকৃতিক কারণ : নদী উপত্যকার উর্বর সমভূমি অঞ্চলে কৃষিকাজের সুবিধা থাকায় মানুষ একত্রে বসবাস করে। আবার শুষ্ক অঞ্চলে কোনো স্থায়ী জলের উৎসকে কেন্দ্র করেও গোষ্ঠীবদ্ধ বসতি গড়ে ওঠে।
(2) অর্থনৈতিক কারণ : কোনো মাঝারি বা বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বহু শ্রমিক সেখানে বসবাস শুরু করে। ফলে শিল্পাঞ্চলের আশপাশে গোষ্ঠীবদ্ধ বসতি সৃষ্টি হয়।
(3) সাংস্কৃতিক কারণ : ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন মন্দির বা মসজিদকে কেন্দ্র করে মানুষ কাছাকাছি বসতি গড়ে তোলে। এছাড়া বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আগমনের ফলেও গোষ্ঠীবদ্ধ বসতি তৈরি হয়।
মূল্যায়ন : সুতরাং বলা যায়, প্রাকৃতিক সুবিধা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংস্কৃতিক প্রভাব এই তিনটি কারণ গোষ্ঠীবদ্ধ বসতি গড়ে ওঠার প্রধান কারণ।
2. বিক্ষিপ্ত বসতি গড়ে ওঠার কারণগুলি লেখো।
উত্তর : যে বসতিতে অল্প কিছু পরিবার বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করে এবং বসতবাড়ির মধ্যে ব্যবধান অনেক বেশি থাকে, তাকে বিক্ষিপ্ত বসতি বলা হয়।
বিক্ষিপ্ত বসতি গড়ে ওঠার কারণ :
(1) প্রাকৃতিক কারণ : বন্ধুর ভূপ্রকৃতি, অনূর্বর মৃত্তিকা ও প্রতিকূল জলবায়ু মানুষের জীবনধারণকে কঠিন করে তোলে। ফলে এসব অঞ্চলে মানুষ একত্রে না থেকে দূরে দূরে বসতি গড়ে তোলে।
(2) অর্থনৈতিক কারণ : যে অঞ্চলে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত, সেখানে যাতায়াত ও সুবিধার অভাবে জনবসতি ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষিপ্ত বসতি সৃষ্টি হয়।
(3) পশুপালন নির্ভর জীবন : তৃণভূমি অঞ্চলে যাযাবররা ঋতু অনুযায়ী পশুচারণ করে। এই চলমান জীবনের ফলে সেখানে স্থায়ী গোষ্ঠীবদ্ধ বসতির পরিবর্তে বিক্ষিপ্ত বসতি গড়ে ওঠে।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা ও অর্থনৈতিক অসুবিধার কারণে বিক্ষিপ্ত বসতি সৃষ্টি হয় এবং মানুষের বসবাস ছড়িয়ে থাকে।
3. রৈখিক বসতি বা দণ্ডাকৃতি বসতি গড়ে ওঠার কারণগুলি লেখো।
উত্তর : যে বসতিতে মানুষ সড়কপথ, রেলপথ বা নদীর তীর বরাবর সরলরেখার মতো সারিবদ্ধভাবে বসবাস করে, তাকে রৈখিক বসতি বলা হয়। যেমন বনগাঁ-শিয়ালদহ রেললাইন বরাবর বসতি।
রৈখিক বসতি বা দণ্ডাকৃতি বসতি গড়ে ওঠার কারণ :
(1) প্রাকৃতিক সুরক্ষা ও ভূমির গঠন : বন্যা থেকে বাঁচার জন্য স্বাভাবিক বাঁধের পিছনে রৈখিক বসতি গড়ে ওঠে। আবার মরু অঞ্চলে ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দুটি বালিয়াড়ির মাঝখানে সরলরেখায় বসতি তৈরি হয়।
(2) উপকূলীয় জীবিকা : উপকূলবর্তী অঞ্চলে মৎস্যজীবীরা মাছ ধরার সুবিধার জন্য সমুদ্র বা নদীর তীর বরাবর রৈখিক বসতি গড়ে তোলে।
(3) সামাজিক-অর্থনৈতিক কারণ : ভূমিহীন শরণার্থীরা বসবাসযোগ্য জমির অভাবে সড়কপথ বা রেলপথের দুই ধারে সারিবদ্ধভাবে বসতি স্থাপন করে।
মূল্যায়ন : সুতরাং বলা যায়, প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীবিকা ও সামাজিক প্রয়োজনের কারণে রৈখিক বসতি গড়ে ওঠে।
4. ভারতের নগরায়ণের সমস্যাগুলি লেখো।
উত্তর : কোনো এলাকায় শহর গড়ে ওঠা বা শহরের আয়তন ধীরে ধীরে বড় হয়ে যাওয়াকে নগরায়ণ বলা হয়। যেমন মুম্বাই ও কলকাতা। ভারতে দ্রুত নগরায়ণের ফলে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ভারতের নগরায়ণের সমস্যা :
(1) অপরিকল্পিত বৃদ্ধি ও বস্তি সমস্যা : শহরে জনসংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিকল্পনা ছাড়া ঘরবাড়ি ও অন্যান্য নির্মাণ হচ্ছে। এর সঙ্গে গ্রাম থেকে শহরে অতিরিক্ত মানুষের আগমনের ফলে বহু জায়গায় বস্তি গড়ে উঠছে।
(2) নাগরিক পরিষেবার ঘাটতি : অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপের ফলে শহরে পর্যাপ্ত জল সরবরাহ, শৌচাগার, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পয়ঃপ্রণালীর অভাব দেখা যায়, যা নগর জীবনের বড় সমস্যা।
(3) পরিবেশ ও পরিবহনজনিত সমস্যা : শহরাঞ্চলে যানবাহনের ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য ও শব্দদূষণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি সংকীর্ণ রাস্তা ও ফুটপাত দখলের কারণে যাতায়াতেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
মূল্যায়ন : সব মিলিয়ে বলা যায়, পরিকল্পিত উন্নয়ন না হলে ভারতের নগরায়ণ মানুষের সুবিধার পরিবর্তে নানাবিধ সমস্যার জন্ম দিচ্ছে।
5. গ্রামীণ বসতি ও পৌরবসতির মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : মানুষের বসবাসের ধরন ও কাজের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বসতিকে মূলত গ্রামীণ ও পৌর এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এই দুই ধরনের বসতির মধ্যে নানা দিক থেকে পার্থক্য দেখা যায়।
গ্রামীণ বসতি ও পৌর বসতির পার্থক্য :
(1) কাজ ও গঠন : গ্রামীণ বসতি কৃষি ও প্রাথমিক কার্যকলাপ নির্ভর হওয়ায় বসতি ছড়ানো ও ছোট হয়। পৌর বসতি শিল্প ও পরিষেবা নির্ভর হওয়ায় ঘনবসতিপূর্ণ ও আকারে বড় হয়।
(2) পরিবেশ ও পরিকাঠামো : গ্রামীণ বসতিতে প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রাধান্য থাকে এবং সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক কম উন্নত। পৌর বসতিতে কৃত্রিম পরিবেশ ও উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দেখা যায়।
(3) পরিচালনা ব্যবস্থা : গ্রামীণ বসতি পঞ্চায়েতের দ্বারা পরিচালিত হয়, আর পৌর বসতি পৌরসভা বা কর্পোরেশনের অধীনে পরিচালিত হয়।
মূল্যায়ন : গ্রামীণ বসতি সরল জীবনযাত্রার প্রতীক হলেও সুবিধা কম, আর পৌর বসতি উন্নত পরিষেবার কেন্দ্র হলেও জনঘনত্ব বেশি। তাই উভয় বসতির বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব আলাদা।
6. বিক্ষিপ্ত ও রৈখিক বসতির মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : বসতবাড়ির অবস্থান ও বিন্যাসের ভিত্তিতে বসতিকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা যায়। এর মধ্যে বিক্ষিপ্ত বসতি ও রৈখিক বসতি অন্যতম।
বিক্ষিপ্ত ও রৈখিক বসতির পার্থক্য :
(1) অবস্থান ও ব্যবধান : বিক্ষিপ্ত বসতি পার্বত্য, মালভূমি ও দুর্গম অরণ্য অঞ্চলে গড়ে ওঠে এবং এখানে বাড়িগুলির মধ্যে ব্যবধান বেশি থাকে। রৈখিক বসতি সড়ক, রেল বা নদীপথের দুই ধারে গড়ে ওঠে এবং বাড়িগুলি তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি থাকে।
(2) পরিবহন ও জীবিকা : বিক্ষিপ্ত বসতিতে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত এবং মানুষের জীবিকা কৃষি, পশুপালন ও বনজ সম্পদ সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত। রৈখিক বসতিতে পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত এবং মানুষের জীবিকা মৎস্য শিকার ও পণ্য কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত।
(3) নিরাপত্তা : বিক্ষিপ্ত বসতিতে মানুষের নিরাপত্তা তুলনামূলক কম। অন্যদিকে, রৈখিক বসতিতে নিরাপত্তা তুলনামূলক বেশি।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, বিক্ষিপ্ত বসতি ছড়িয়ে গড়ে উঠলেও সুযোগ-সুবিধা কম, আর রৈখিক বসতি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বেশি সুবিধাজনক।
7. গোষ্ঠীবদ্ধ বসতি ও বিক্ষিপ্ত বসতির মধ্যে পার্থক্য লেখো।
উত্তর : মানুষের বসবাসের বিন্যাস অনুযায়ী বসতিকে গোষ্ঠীবদ্ধ বসতি ও বিক্ষিপ্ত বসতিতে ভাগ করা যায়। এই দুই ধরনের বসতির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
গোষ্ঠীবদ্ধ বসতি ও বিক্ষিপ্ত বসতির পার্থক্য :
(1) বসতবাড়ির ব্যবধান ও জনঘনত্ব : গোষ্ঠীবদ্ধ বসতিতে বাড়িগুলি একে অপরের খুব কাছাকাছি থাকে। ফলে এখানে জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব বেশি হয়। অন্যদিকে, বিক্ষিপ্ত বসতিতে বাড়িগুলি অনেক দূরে দূরে অবস্থিত হওয়ায় জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব তুলনামূলকভাবে কম হয়।
(2) নিরাপত্তা ব্যবস্থা : গোষ্ঠীবদ্ধ বসতিতে মানুষ একসঙ্গে বসবাস করায় পারস্পরিক সহযোগিতা বেশি থাকে এবং নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে ভালো হয়। কিন্তু বিক্ষিপ্ত বসতিতে বাড়িগুলি দূরে থাকার কারণে মানুষের নিরাপত্তা তুলনামূলক কম হয়ে থাকে।
(3) সামাজিক বন্ধন : গোষ্ঠীবদ্ধ বসতিতে মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক ও বন্ধন দৃঢ় হয়। অপরদিকে, বিক্ষিপ্ত বসতিতে মানুষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ কম থাকায় সামাজিক বন্ধন সাধারণত শক্তিশালী হয় না।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, গোষ্ঠীবদ্ধ বসতিতে সামাজিক জীবন ও নিরাপত্তা বেশি উন্নত হলেও বিক্ষিপ্ত বসতিতে বসবাস ছড়িয়ে থাকার কারণে এসব দিক তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
8. স্থিতিশীল উন্নয়নের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য বা গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর : পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করে দীর্ঘমেয়াদী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটানোই স্থিতিশীল উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।
স্থিতিশীল উন্নয়নের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য :
(1) সম্পদ সংরক্ষণ ও অপচয় রোধ : লৌহ আকরিক, কয়লা, খনিজ তেল ইত্যাদির মতো সীমিত সম্পদ সংরক্ষণ করা এবং তাদের অপচয় কমানো স্থিতিশীল উন্নয়নের প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়ানো ও পরিবেশ দূষণ কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।
(2) ভবিষ্যত প্রজন্মের চাহিদা নিশ্চিত করা : বর্তমান চাহিদা পূরণ করে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা স্থিতিশীল উন্নয়নের অন্যতম লক্ষ্য।
(3) পতিত জমি পুনরুদ্ধার ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা : পতিত জমি পুনরুদ্ধার করে সঠিক ভূমি ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন ঘটানো স্থিতিশীল উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
মূল্যায়ন : অতএব, স্থিতিশীল উন্নয়ন পরিবেশ, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আজ ও ভবিষ্যতের জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
9. ভারতের স্থিতিশীল উন্নয়নের প্রধান বাধাগুলি লেখো।
উত্তর : স্থিতিশীল উন্নয়ন মানে এমন একটি প্রক্রিয়া যা অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে দেশের দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে। ভারতের ক্ষেত্রে কিছু প্রধান বাধা এই উন্নয়নকে সীমিত করে।
ভারতের স্থিতিশীল উন্নয়নের বাধা :
(1) জনসংখ্যা ও কর্মসংস্থান : ভারতের দ্রুত জনবৃদ্ধি বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তৈরি করে। অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সত্ত্বেও পর্যাপ্ত চাকরি সৃষ্টি না হওয়ায় বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতা দেখা দেয়।
(2) পরিবেশ ও জলবায়ু সমস্যা : জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দূষণ এবং জলের অভাব দেশের স্থিতিশীল উন্নয়নে বড়ো বাধা সৃষ্টি করে।
(3) সামাজিক ও সম্পদের অসাম্য : দারিদ্র্য, আয়ের বৈষম্য, লিঙ্গ ও সামাজিক বৈষম্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগে অসাম্য এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা স্থিতিশীল উন্নয়নের বড়ো বাধা।
উপসংহার : এই বাধাগুলো মোকাবিলা না করলে ভারতের স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করা কঠিন। তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সমতা এবং সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
10. ভারতের স্থিতিশীল উন্নয়ন সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর : ভারতের স্থিতিশীল উন্নয়ন মানে এমন একটি প্রক্রিয়া যা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রেখে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
প্রধান ক্ষেত্রসমূহ : কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, বিনিয়োগ ও রপ্তানি ভারতের উন্নয়নের মূল চালক। অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সবুজ শক্তির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক অগ্রগতি : স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নত করা হচ্ছে এবং মানব সম্পদ শক্তিশালী হচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ ও অগ্রগতি : বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতা ও রাজনৈতিক সংঘাত ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ, তবে শক্তিশালী নীতি ও বিনিয়োগের কারণে ভারত দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীল ও দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।
11. স্থিতিশীল উন্নয়নের মূলনীতিগুলি লেখো।
উত্তর : স্থিতিশীল উন্নয়ন বলতে বোঝায় এমন উন্নয়ন যা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করে দীর্ঘমেয়াদে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটায়। এর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতি অনুসরণ করা হয়।
স্থিতিশীল উন্নয়নের মূলনীতি :
(1) পরিবেশগত নীতি : এই নীতিতে সম্পদের অপচয় কমানো, সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহার, দূষণ হ্রাস এবং জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করা হয়। এতে পরিবেশ সংরক্ষিত থাকে এবং টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়।
(2) সামাজিক নীতি : সামাজিক নীতি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণের উপর গুরুত্ব দেয়। এটি সমাজে সমতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
(3) অর্থনৈতিক নীতি : অর্থনৈতিক নীতি দেশের উৎপাদন, মানুষের আয় ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে। এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
(4) রাজনৈতিক নীতি : রাজনৈতিক নীতি শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করে, হিংসা কমায় এবং আন্তর্জাতিক স্থিরতা নিশ্চিত করে। রাজনীতি যদি সমাজকল্যাণমুখী হয়, তবে তা স্থিতিশীল উন্নয়নে সহায়ক হয়।
মূল্যায়ন : সুতরাং স্থিতিশীল উন্নয়নের নীতিগুলি পরিবেশ, সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতি সব ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রেখে সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
12. কৃষি পরিকল্পনার গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর : কৃষি পরিকল্পনা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবেশ রক্ষা করা এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। এটি কৃষি কার্যক্রমকে আরও পরিকল্পিত ও ফলপ্রসূ করে।
কৃষি পরিকল্পনার গুরুত্ব :
(1) খাদ্য ও উৎপাদন বৃদ্ধি : পরিকল্পিত কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। উন্নত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে জমির উর্বরতা ও ফসলের ফলন বাড়ানো সম্ভব।
(2) পরিবেশ ও মৃত্তিকা রক্ষা : স্থিতিশীল কৃষি পরিকল্পনা মাটির স্বাস্থ্য, জলধারণ ক্ষমতা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়তা করে, ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
(3) অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন : কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে গ্রামীণ কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হয়।
মূল্যায়ন : অতএব, কৃষি পরিকল্পনা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কৃষকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
13. ভূমির উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা বা গুরুত্বগুলি লেখো।
উত্তর : পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো অঞ্চলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ভূমির উন্নয়নকে সহজ করেছে। এর ফলে ফসলের উৎপাদন বেড়ে গেছে এবং চাষাবাদ আরও কার্যকর ও সাশ্রয়ী হয়েছে।
ভূমির উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা বা গুরুত্ব :
(1) আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার : পাওয়ারটিলার, ট্রাক্টর ও হার্ভেস্টারের মতো আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করলে কৃষকের শ্রম ও সময় কমে এবং উৎপাদনের খরচও হ্রাস পায়।
(2) উন্নত উৎপাদন ও ফলন প্রযুক্তি : উন্নত সেচ ব্যবস্থা, সার ব্যবস্থাপনা ও উচ্চফলনশীল বীজ ব্যবহার করে জমির উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং ফসলের ফলন বৃদ্ধি পায়।
(3) প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ ও মাটির যত্ন : স্প্রিঙ্কলার, সিড ড্রিল, রেটাভেটরের মতো যন্ত্র ব্যবহার করে জমি প্রস্তুতি, বীজ বপন, সেচ ও আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তথ্য প্রযুক্তি ও অনলাইন সার সুপারিশের মাধ্যমে মাটির পুষ্টি বজায় রাখা সহজ হয়।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, সাশ্রয়ী এবং টেকসই করে তুলেছে।
14. ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার উদ্দেশ্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তর : ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো এলাকার পরিবেশগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য অবস্থার কথা ভেবে জমিকে পরিকল্পিত ও স্থায়ীভাবে ব্যবহার করা হয়।
ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার উদ্দেশ্য :
(1) জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নির্ধারণ : নির্দিষ্ট এলাকার জীববৈচিত্র্য, সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিচার করে জমির সবচেয়ে উপযোগী ব্যবহার ঠিক করা ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য।
(2) পরিবেশ রক্ষা ও ভূমি সংরক্ষণ : জমি ব্যবহারের ফলে পরিবেশের উপর যে প্রভাব পড়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর মাধ্যমে পরিবেশের গুণগত মান বজায় রাখা এবং ভূমি সম্পদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হয়।
(3) স্থিতিশীল উন্নয়ন ও ভারসাম্য রক্ষা : স্থিতিশীল উন্নয়নের লক্ষ্যে জমি ও জলের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হয় এবং বিকল্প ব্যবহারের দিকনির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে সামাজিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
মূল্যায়ন : সুতরাং বলা যায়, ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার মাধ্যমে জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থায়ী উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব।
15. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে আধুনিক প্রযুক্তি কী ভাবে সহায়তা করে?
উত্তর : বর্তমানে নানা ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর পাশাপাশি ফসলের মান উন্নত হচ্ছে এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও সহায়তা মিলছে।
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা :
(1) আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার : ট্রাক্টর, হার্ভেস্টার ও পাওয়ার টিলারের মতো আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারে চাষাবাদের কাজ দ্রুত ও সহজ হয়েছে। এতে কম সময়ে বেশি জমিতে চাষ করা সম্ভব হওয়ায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
(2) জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার : জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে রোগ ও পোকা প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যেমন বিটি বেগুন। এছাড়া জীবাণুভিত্তিক সার ও জৈব কীটনাশক ব্যবহারে ফসলের গুণগত মান উন্নত হয়েছে।
(3) নতুন ও প্রযুক্তিনির্ভর চাষব্যবস্থা : ভাসমান বেডে সবজি চাষ, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও তরমুজ চাষের মতো আধুনিক পদ্ধতিতে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার করা যাচ্ছে। পাশাপাশি ড্রোন ও সেন্সারের সাহায্যে ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করে সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
মূল্যায়ন : অতএব বলা যায়, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব করে তুলেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : WB Semester Team প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক(PDF)টিতে পুরো সিলেবাসের প্রশ্ন উত্তর রয়েছে এবং এই ইউনিট থেকে 2 নম্বর মানের এবং আরো অনেকগুলি 3 নম্বর মানের প্রশ্ন উত্তর রয়েছে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : ক্লাস 12 মানব উন্নয়ন প্রশ্ন উত্তর
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. ডাকঘর নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 2. ক্লাস 12 জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ | Click here |
| 3. ক্লাস 12 বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া | Click here |
| 4. ক্লাস 12 শিক্ষাবিজ্ঞান প্রথম অধ্যায় শিখন PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
