ভূমিকা : মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষা মোট ৯০ নম্বরের হয়ে থাকে। এই ৯০ নম্বরের মধ্যে পাঠ্য কবিতা অংশ থেকে মোট ১৫ নম্বর থাকবে। পাঠ্য কবিতা গুলি থেকে ৩ নম্বর মানের ২টি প্রশ্ন পরীক্ষায় এসে থাকে, যার মধ্যে যে-কোনো ১টি প্রশ্নের উত্তর করতে হয়। তাই তোমাদের সুবিধার জন্য এই পর্বে মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা 'অভিষেক' কবিতা থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫ নম্বর মানের কিছু প্রশ্নোত্তর নিচে আলোচনা করা হল। তবে অভিষেক কবিতার ৩ নম্বরের প্রশ্নোত্তর পড়তে চাইলে এই কবিতার Part 1 পোষ্টটি পড়তে হবে। এটির লিঙ্ক একদম নিচের টেবিলে দেওয়া হয়েছে।
❖ class 10 abhishek question answer:
1. 'অভিষেক' কাব্যাংশটির নামকরণ কতদূর সার্থক হয়েছে তা আলোচনা করো। [৫]
উত্তর : মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' কাব্যাংশে ইন্দ্রজিতের লঙ্কাপুরীর সেনাপতি পদে বরন বা অভিষেককে কেন্দ্র করেই সমগ্র নাট্যময় কাহিনি ও নামকরণ গড়ে উঠেছে। তাই নামকরণ কতদূর সার্থক হয়েছে তা নিম্নে আলোচনা করছি -
(ক) 'অভিষেক' শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য : অভিষেক শব্দের অর্থ হল কোনো গুরুদায়িত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। এখানে দেশমাতৃকার মহাবিপদে রাক্ষসকুলকে রক্ষা করার জন্য ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করার ঘটনাটিকেই প্রধান আলোকপাত করা হয়েছে।
(খ) ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু : প্রমোদকাননের বিলাসিতা ত্যাগ, বীরবেশ ধারণ কিংবা প্রমীলার আকুল আবেদন সমস্ত ঘটনার মূল চালিকাশক্তি ছিল লঙ্কার সেনাপতি হিসেবে ইন্দ্রজিতের দায়িত্ব গ্রহণ ও রাজপদে বরণ হওয়া।
(গ) রাবণের দ্বিধানিরসন ও দায়িত্ব অর্পণ : পিতা রাবণ মায়াবী রামের বিরুদ্ধে পুত্রকে পাঠাতে দ্বিধা করলেও, ইন্দ্রজিতের আত্মবিশ্বাস ও বীরত্বে আস্থা রেখে অবশেষে সেনাপতির দায়িত্ব অর্পণ করতেই মনস্থ করেন।
(ঘ) আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ও পরিণতি : কাব্যাংশের শেষ পরিণতিতে দেখা যায়, গঙ্গাজল ও শাস্ত্রীয় উপাচারে রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করেন। এখান থেকেই কাব্যের মূল যুদ্ধযাত্রার সূচনা ঘটে।
(ঙ) ভাবগত ও নামকরণের মেলবন্ধন : নামকরণটি কেবল একটি বাহ্যিক ঘটনার নাম নয়, বরং এটি প্রমোদকাননের বিলাসী মেঘনাদের বীর সেনাপতি ইন্দ্রজিতে রূপান্তরের এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, কাহিনির সূচনা, বিকাশ এবং চূড়ান্ত পরিণতি সবই 'অভিষেক' ঘটনাটিকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। তাই বিষয়বস্তু ও ভাবগত তাৎপর্যের নিরিখে 'অভিষেক' নামকরণটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও সর্বতোভাবে সার্থক।
2. 'অভিষেক করিলা কুমারে'- কুমার কে? তাঁর চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। [৫]
অথবা, অভিষেক কবিতায় ইন্দ্রজিতের বীরত্ব ও দেশপ্রেম কীভাবে ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো। [৫]
অথবা, ইন্দ্রজিৎ চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। [৫]
উত্তর : মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর প্রথম সর্গ থেকে গৃহীত 'অভিষেক' কাব্যাংশের মূল আকর্ষণ হল বীরপুত্র ইন্দ্রজিৎ বা মেঘনাদ চরিত্রটি।
ইন্দ্রজিতের বীরত্ব ও দেশপ্রেম :
(ক) আত্মধিক্কার : প্রমোদকাননে বিলাসে মত্ত থাকার সময় ধাত্রীমাতার মুখে লঙ্কার বিপদ ও ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি আত্মধিকারে মগ্ন হয়ে বলে ওঠেন - 'হা ধিক্ মোরে!'। নিজের বিলাসিতাকে তিনি তীব্রভাবে ধিক্কার জানান।
(খ) বীরত্ব ও তেজ : ভাই ও জন্মভূমির রক্ষার জন্য তিনি অবিলম্বে বিলাসিতা ত্যাগ করেন। শান্ত নদ যেমন হঠাৎ অশান্ত ভৈরব মূর্তি ধারণ করে, তেমনি তাঁর সুপ্ত বীরসত্তা জেগে ওঠে এবং তিনি 'আন রথ ত্বরা করি' বলে যুদ্ধযাত্রার সিদ্ধান্ত নেন।
(গ) পত্নীপ্রেম : শৃঙ্গার বেশ ত্যাগ করে স্বদেশে ফেরার সময়ও তিনি স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেন। বীরসত্তাকে জাগ্রত রেখেও তিনি প্রিয়ার উদ্দেশ্যে বলেন - 'ইন্দ্রজিতে জিতি তুমি, সতি, বেঁধেছ যে দৃঢ় বাঁধে'।
(ঘ) আত্মবিশ্বাস ও বিনয় : পিতা রাবণ যুদ্ধে পাঠাতে দ্বিধা করলে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করেন -'আর একবার পিতঃ, দেহ আজ্ঞা মোরে; দেখিবো এবার বীর বাঁচে কি ঔষধে।' পাশাপাশি ধাত্রীমাতাকে সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁর বিনয় প্রকাশ পায়।
(ঙ) দেশপ্রেম : তাঁর চরিত্রের মূল ভিত্তি হল দেশপ্রেম। ধাত্রীমাতাকে দেখেই তাঁর উক্তি 'কহ দাসে লঙ্কার কুশল'। এছাড়া 'বৈরিদল বেড়ে স্বর্ণলঙ্কা, হেথা আমি বামাদল মাঝে?' বলে আক্ষেপ করা এবং সমূলে নির্মূল করিবো বলে প্রতিজ্ঞা করায় তা স্পষ্ট হয়।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, আত্মধিক্কার, বীরত্ব, পত্নীপ্রেম, আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেমের মতো মহৎ গুণাবলির নিখুঁত সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ইন্দ্রজিৎ চরিত্রটি এক অনন্য মহিমান্বিত রূপ লাভ করেছে, যা যথার্থই 'রাক্ষস-কুল-ভরসা'।
3. 'অভিষেক' কবিতা অবলম্বনে লঙ্কেশ্বর রাবণ চরিত্রটি আলোচনা করো। [৫]
উত্তর : মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' কাব্যাংশে বাল্মীকি বর্ণিত অনাচারী রাক্ষসরাজার পরিবর্তে সুখ-দুঃখ-স্মৃতিতে গড়া লঙ্কেশ্বর রাবণের এক অনন্য মানবিক ব্যক্তিত্ব প্রকাশিত হয়েছে। এখন আমি নিচে তাঁর চরিত্র সম্পর্কে আলোচনা করছি -
(ক) দায়িত্বশীল দেশনায়ক : লঙ্কেশ্বর রাবণ একজন প্রকৃত দেশনায়ক। প্রিয় পুত্র ও ভাইয়ের মৃত্যুর মতো ব্যক্তিগত চরম শোককেও তিনি 'বীরমদে' রূপান্তরিত করে দেশরক্ষার গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে পিছপা হননি।
(খ) পিতৃস্নেহ ও হৃদয়াবেগ : আপাত গম্ভীর হলেও রাবণের হৃদয়ে রয়েছে গভীর কোমলতা। পুত্র বীরবাহুর অকাল মৃত্যু ও ভাই কুম্ভকর্ণের পতন তাঁকে গভীরভাবে বেদনার্ত করেছে। তাই একমাত্র জীবিত প্রিয়পুত্র ইন্দ্রজিৎকে তিনি বারবার যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতে দ্বিধাগ্রস্ত।
(গ) ভাগ্যবিড়ম্বিত অসহায়তা : কাব্যাংশে রাবণ এক ভাগ্যবিড়ম্বিত ও অসহায় পিতা। মায়াবী রামের পুনর্জীবন লাভ এবং শিলা জলে ভাসার মতো অলৌকিক ঘটনায় নিজের অসহায়তা প্রকাশ করে তিনি আক্ষেপ করেছেন 'কে কবে শুনেছে পুত্র ভাসে শিলা জলে?'
(ঘ) প্রাচীন সংস্কার ও কর্তব্যবোধ : প্রাচীন ধর্মীয় সংস্কার ও উপাচারের প্রতি রাবণের অগাধ বিশ্বাস। তাই পুত্রকে যুদ্ধযাত্রার পূর্বে তিনি প্রথমে ইষ্টদেবের আরাধনা ও নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করার উপদেশ দেন।
(ঙ) যোগ্য নেতৃত্বের স্বাক্ষর : পুত্রের বীরত্ব ও আত্মবিশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে রাবণ যথাবিধি উপাচারে পবিত্র গঙ্গাজলে ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করেন।
উপসংহার : সুতরাং বলা যায়, লঙ্কেশ্বর রাবণ কেবল কোনো দুরাচারী রাক্ষসরাজ নন, বরং তিনি স্বমহিমায় উজ্জ্বল সন্তানস্নেহে অন্ধ ও ভাগ্যবিড়ম্বিত এক অসহায় পিতা।
4. 'নমি পুত্র পিতার চরণে'- পিতা ও পুত্রের পরিচয় দাও। পাঠ্যাংশ অবলম্বনে পিতা ও পুত্রের কথোপকথন নিজের ভাষায় লেখো। [মাধ্যমিক 2018] [১+৪]
অথবা, অভিষেক কবিতায় রাবণ ও ইন্দ্রজিতের মধ্যে যে কথোপকথন পাওয়া যায় তা লেখ । [৫]
উত্তর : মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা 'মেঘনাদবধ কাব্য'-এর অন্তর্গত 'অভিষেক' কবিতায় 'পিতা' বলতে লঙ্কেশ্বর রাবণ এবং 'পুত্র' বলতে রাবণনন্দন ইন্দ্রজিৎ বা মেঘনাদকে বোঝানো হয়েছে।
রাবণ ও ইন্দ্রজিতের কথোপকথন :
(ক) ইন্দ্রজিতের প্রশ্ন ও আক্ষেপ : রণসজ্জায় সজ্জিত হয়ে পিতৃভক্ত ইন্দ্রজিৎ লঙ্কাপুরে ফিরে পিতার চরণে প্রণতি জানান। এরপর মায়ার বলে শত্রুর বেঁচে ওঠার খবর শুনে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন 'শুনেছি মরিয়া না কি বাঁচিয়াছে পুনঃ রাঘব?'।
(খ) যুদ্ধযাত্রার প্রার্থনা ও প্রতিজ্ঞা : শত্রুনিধনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ইন্দ্রজিৎ পিতার কাছে যুদ্ধযাত্রার অনুমতি চান এবং জানান 'অনুমতি দেহ, সমূলে নির্মূল করিব পামরে আজি।' তিনি রাঘবকে ভস্ম করা বা বেঁধে আনার কথা বলেন।
(গ) রাবণের শঙ্কা ও অপারগতা : পুত্রশোকে কাতর লঙ্কেশ্বর রাবণ ইন্দ্রজিৎকে জানান 'তুমি রাক্ষস-কুল-ভরসা।; তাই এই কাল সমরে পাঠাইতে মন চাইছে না।' ভাগ্য বিরূপ হওয়ায় তিনি বারবার তাঁকে যুদ্ধে পাঠাতে শঙ্কিত ছিলেন।
(ঘ) ইন্দ্রজিতের সাহসিকতা : পিতার এই শঙ্কাকে ইন্দ্রজিৎ গ্রাহ্য করেন না। বীর পুত্রের জীবদ্দশায় পিতা যুদ্ধ করতে যাবেন এটি কলঙ্ক মনে করে তিনি পিতাকে সাহস জুগিয়ে বলেন 'পিতঃ, দেহ আজ্ঞা মোরে; দেখিব এবার বীর বাঁচে কি ঔষধে !'
(ঙ) সেনাপতি পদে অভিষেক : অবশেষে পুত্রের বীরত্বে ভরসা রেখে রাবণ তাঁকে ইষ্টদেব ও নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাঙ্গ করার পরামর্শ দেন এবং গঙ্গাজলে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করেন।
উপসংহার : সুতরাং দেখা যায়, লঙ্কার চরম সংকটের মুহূর্তে পিতা রাবণের দ্বিধাগ্রস্ত মনকে জয় করে আত্মবিশ্বাসী ইন্দ্রজিৎ যেভাবে যুদ্ধের অনুমতি আদায় করেন, তা এই কাব্যের একটি অত্যন্ত নাটকীয় অংশ।
5. 'অভিষেক' কবিতা অবলম্বনে প্রমীলা ও ইন্দ্রজিতের কথোপকথন আলোচনা করো। [৫]
অথবা, "হেন কালে প্রমীলা সুন্দরী ধরি পতি-কর-যুগ"- প্রমীলা সুন্দরী/ধনি কে? প্রমীলা সুন্দরী কোন্ পরিস্থিতিতে স্বামীর হাত দুটি কী বলেছিলেন ? [১+৪]
অথবা, 'কেমনে ধরিবে প্রাণ তোমার বিরহে এ অভাগী'- এ অভাগী কে এবং নিজেকে অভাগী বলেছেন কেন? কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি ? [১+৪]
উত্তর : মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা 'অভিষেক' কবিতায় 'প্রমীলা সুন্দরী' বা 'ধনি' হলেন ইন্দ্রজিতের বা মেঘনাদের পরমা সুন্দরী ও পতিপ্রাণা স্ত্রী। স্বামীর যাত্রালগ্নে তাঁদের বীরত্ব ও প্রেমের কথোপকথন নিচে আলোচনা করা হল :
(ক) প্রমীলার আকুল আহ্বান : স্বামীর হঠাৎ যুদ্ধযাত্রায় বিরহকাতরা হয়ে প্রমীলা ইন্দ্রজিতের হাত দুটি ধরে ক্রন্দনরত অবস্থায় প্রশ্ন করেন যে, এই অভাগী দাসীকে ত্যাগ করে 'নাথ' কোথায় যাচ্ছেন এবং তাঁর বিরহে সে কীভাবে প্রাণ ধারণ করবে।
(খ) লতার উপমা ও আশ্রয় প্রার্থনা : প্রমীলা উপমা দিয়ে বলেন, গজের পদে লতা জড়িয়ে ধরলে গজ তাকে ফেলে দেয় না। তেমনই স্বামী 'গুণনিধি' হলেও কেন তাঁকে ত্যাগ করছেন। এই প্রশ্ন তুলে প্রমীলা স্বামীর চরণে নিজের ঠাঁই প্রার্থনা করেন।
(গ) ইন্দ্রজিতের সান্ত্বনা ও প্রেমের স্বীকৃতি : স্ত্রীর ব্যাকুলতা দেখে ইন্দ্রজিৎ মৃদু হেসে তাঁকে 'সতী' সম্বোধন করেন। তিনি জানান যে, প্রমীলা ভালোবাসার যে দৃঢ় বাঁধে ইন্দ্রজিৎকে বেঁধেছেন, তা ছেঁড়ার সাধ্য কারও নেই।
(ঘ) প্রমোদকানন ত্যাগের কারণ ও প্রতিশ্রুতি : ইন্দ্রজিৎ স্ত্রীকে 'কল্যাণী' ও 'বিধুমুখী' বলে সম্বোধন করে প্রমোদকানন ত্যাগের কারণ জানান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুকে সমূলে বিনাশ করে তিনি দ্রুত প্রমীলার বুকেই ফিরে আসবেন।
(ঙ) বিদায় প্রার্থনা ও ক্ষত্রিয়ধর্ম : অবশেষে বীরধর্ম ও দেশধর্ম পালনের জন্য ইন্দ্রজিৎ প্রমীলার কাছে বিদায় প্রার্থনা করেন। প্রমীলাও শেষ পর্যন্ত অশ্রুসজল চোখে স্বামীকে যুদ্ধের অনুমতি দেন।
উপসংহার : অতএব, প্রমীলার আকুল বিরহাবেগ এবং ইন্দ্রজিতের বীরধর্মের এই কথোপকথন কেবল বিদায়লগ্নের বাক্যালাপ নয়, বরং তা দাম্পত্য প্রেম ও দেশপ্রেমের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।
6. 'অভিষেক' কবিতা অবলম্বনে ধাত্রীমাতার সঙ্গে ইন্দ্রজিতের কথোপকথন নিজের ভাষায় আলোচনা করো। [৫]
অথবা, "কি হেতু মাতঃ, গতি তব আজি এ ভবনে? / কহ দাসে লঙ্কার কুশল"- এখানে 'মাতঃ' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? তার সঙ্গে ইন্দ্রজিতের যে কথোপকথন তা আলোচনা করো।
অথবা, "হায় পুত্রঃ! কি আর কহিব কনক লঙ্কার দশা"- বক্তা কে? তিনি তার কাছে কনকলঙ্কার কোন্ দশার কথা করেছেন তা আলোচনা করো।
উত্তর : মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'অভিষেক' কবিতায় 'মাতঃ' বা বক্তা বলতে ইন্দ্রজিতের ধাত্রীমাতা প্রভাষাকে বোঝানো হয়েছে, যার ছদ্মবেশ ধরে স্বয়ং দেবী লক্ষ্মী উপস্থিত হয়েছিলেন। এখন আমি নিচে ইন্দ্রজিৎ ও ধাত্রীমাতার কথোপকথন আলোচনা করছি-
(ক) শ্রদ্ধাজ্ঞাপন ও লঙ্কার কুশল জিজ্ঞাসা : প্রমোদকাননে ধাত্রী মাতাকে দেখে ইন্দ্রজিৎ তৎক্ষণাৎ স্বর্ণসিংহাসন ত্যাগ করে তাঁর চরণে প্রণাম করেন। বিনীতভাবে তিনি জানতে চান মায়ের আগমনের কারণ এবং লঙ্কার সমস্ত কুশল।
(খ) লঙ্কার শোচনীয় দশা ও দুঃসংবাদ : ধাত্রীমাতা ইন্দ্রজিতের মাথায় স্নেহের চুম্বন দিয়ে জানান যে, স্বর্ণলঙ্কার দশা অত্যন্ত শোচনীয়। ভয়ংকর যুদ্ধে প্রিয় ছোটোভাই বীরবাহু নিহত হয়েছেন এবং শোকগ্রস্ত রাবণ নিজে যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
(গ) ইন্দ্রজিতের বিস্ময় প্রকাশ : ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে বিস্মিত হয়ে ইন্দ্রজিৎ প্রশ্ন করেন কে তাঁর ভাইকে বধ করল। কারণ তিনি নিজেই নিশারণে রামচন্দ্রকে তীরের বর্ষণে খণ্ড খণ্ড করে কেটে হত্যা করেছিলেন।
(ঘ) মায়াবী রামের কথা ও যুদ্ধযাত্রার নির্দেশ : ধাত্রীমাতা জানান যে রামচন্দ্র এক মায়াবী মানব, তাই মরে গিয়েও বেঁচে উঠেছেন। তিনি সতর্ক করেন যে, প্রমোদকাননে সময় নষ্ট না করে ইন্দ্রজিৎ যেন 'রক্ষঃ-চূড়ামণি' হিসেবে অবিলম্বে কাল সমরে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
(ঙ) বীরত্ব ও দেশপ্রেমের জাগরণ : ধাত্রীমাতার দেওয়া ভাইয়ের মৃত্যুর খবর এবং লঙ্কার বিপদের বার্তা ইন্দ্রজিতের ভেতরের ঘুমন্ত দেশপ্রেম ও সুপ্ত বীরত্বকে জাগিয়ে তোলে এবং তিনি যুদ্ধযাত্রার সংকল্প নেন।
উপসংহার : পরিশেষে বলা যায়, ধাত্রীমাতা ও ইন্দ্রজিতের এই কথোপকথনই প্রমোদকাননের বিলাসিতা থেকে ইন্দ্রজিৎকে লঙ্কার চরম সংকটকালে রণক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
❖ অভিষেক কবিতার ৫ নম্বর বড়ো প্রশ্ন উত্তর পর্ব-২ PDF
File Details :
PDF Name : অভিষেক কবিতার ৫ নম্বর প্রশ্ন উত্তর পর্ব-২ PDF
Size : 1.1 MB
No. of Pages : 8
Mode : Read-only (Online)
🔗 Link :
Click here To
View PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. অভিষেক কবিতার ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর পর্ব 1 | Click here |
| 2. বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর | Click here |
| 3.অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর | Click here |
| 4. ক্লাস 12 তৃতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর | Click here |
| 5. ক্লাস 12 তৃতীয় সেমিস্টার পরিবেশবিদ্যা Mock Test [Part-2] | Click here |
WB Semester Team
Registered under MSME, Govt. of India
E-Book Publisher & Digital Learning Platform
© WB Semester | All Rights Reserved
📩 Email : wbsemester.help@gmail.com

আপনার কোনো প্রশ্ন, নোটস বা সাজেশন প্রয়োজন হলে কিংবা আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে নিচে কমেন্ট করুন। আমরা দ্রুত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। ধন্যবাদ !