🔹 Class 11 Adda Question Answer
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 5]
1. "বাড়ির আড্ডায় 'মেল' মেলে না" এইরূপ উক্তির কারণ কী ? লেখক কোথায় কাদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন ?
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা ‘পঁচিশে বৈশাখ’ প্রবন্ধে লেখক ঘরোয়া আড্ডার অপূর্ণতা বোঝাতে বলেছেন -"বাড়ির আড্ডায় ‘মেল’ মেলে না।" এই কথার মাধ্যমে তিনি কেন বাড়িতে আড্ডা জমে ওঠে না এবং নিজে কোথায় ও কার সঙ্গে আড্ডা দিতেন, সেই বিষয়ই ব্যাখ্যা করেছেন।
এইরূপ উক্তির কারণ : লেখকের মতে, কারও বাড়িতে আড্ডা হলে তা ঠিক জমে উঠতে পারে না। কারণ বাড়ির মালিক অতিথিদের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করেন। বিনা খরচে আপ্যায়ন পেয়ে অনেকেই বাড়ির কর্তার মন জুগিয়ে চলেন। এতে করে মতের স্বাধীনতা থাকে না, আড্ডা একদিকে ঝুঁকে যায়।
তার ওপর বাড়ির গিন্নীরও অনেক সময় আড্ডা ভালো লাগে না। তিনি কখনো ইঙ্গিতে, কখনো স্পষ্টভাবেই বুঝিয়ে দেন যে আড্ডা শেষ করা দরকার। এই সব মিলিয়ে আড্ডার আনন্দ নষ্ট হয়ে যায়। তাই লেখক বলেছেন, বাড়িতে বসলে আড্ডার ‘মেল’ ঠিক পাওয়া যায় না।
লেখক আড্ডা দিতেন : লেখকের আড্ডার প্রধান জায়গা ছিল “ক্যাফে দ্য নীল” বা "নীলনদ ক্যাফে"-র উত্তর-পূর্ব কোণের কাউন্টারের পাশে। এছাড়া তিনি বাংলার বিভিন্ন চণ্ডীমণ্ডপ ও জমিদারদের হাভেলিতেও আড্ডায় অংশ নিতেন।
নীলনদ ক্যাফের আড্ডায় নানা দেশের মানুষ থাকতেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মিশরীয় মুসলমান রমজান বে ও সাজ্জাদ এফেন্সি, খ্রিস্টান ওয়াহহাব আতিয়া, ফরাসি জুর্নো এবং গ্রিক মার্কোস। অন্য জায়গা, যেমন সমিরামিস ক্যাফে বা চণ্ডীমণ্ডপেও তিনি নিয়মিত আড্ডা দিতেন।
উপসংহার : অতএব বোঝা যায়, ঘরের ভেতরের বাধা ও সংকোচের জন্য বাড়ির আড্ডা প্রাণ পায় না। তাই লেখক মুক্ত পরিবেশে, নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে বাইরে বসে আড্ডা দিতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন।
2. সে 'মহালগনের বর্ণনা' আমি আর কী দেব ?" - 'মহালগনে শব্দটি কার লেখা, কোন্ গান থেকে সংকলিত? প্রাবন্ধিক কীভাবে সেই 'মহালগনের বর্ণনা'টি দিয়েছেন ? ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা ‘পঁচিশে বৈশাখ’ প্রবন্ধে লেখক তাঁর এক বিশেষ প্রথম পরিচয়ের মুহূর্ত বোঝাতে ‘মহালগনে’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এই শব্দের মাধ্যমে তিনি সেই সাক্ষাতের গভীর আবেগকে প্রকাশ করতে চেয়েছেন।
‘মহালগন’ শব্দ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রেমপর্যায়ের বিখ্যাত গান ‘সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে’-র একটি পংক্তিতে আছে “দেখা হয়েছিল তোমাতে আমাতে কী জানি কী মহা লগনে।” প্রাবন্ধিক সেখান থেকেই ‘মহালগনে’ শব্দটি গ্রহণ করেছেন। শব্দরসের প্রতি তাঁর অনুরাগের জন্যই তিনি এই বিশেষ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন।
মহালগনের বর্ণনা : কায়রোর ‘ক্যাফে দ্য নীল’-এর আড্ডায় প্রথম দিন উপস্থিত হয়ে লেখক অনুভব করেন, সেখানকার সদস্যরা মুহূর্তের মধ্যেই তাঁকে আপনজন বলে মেনে নিয়েছে। সেই মিলনের আবেগ বোঝাতে তিনি প্রেমকাহিনির উদাহরণ টেনেছেন। যেমন-কৃষ্ণ-রাধা, ইউসুফ-জোলেখা, লায়লা-মজনু বা ত্রিস্তান-ইজোলদেতের চোখে চোখ পড়ার মতোই তাঁদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। এই প্রথম সাক্ষাতে উভয়ের মনেই আকর্ষণ জন্মায় এবং ভবিষ্যতের আনন্দময় সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। লেখকের মনে হয়, যেন দীর্ঘ পথ পেরিয়ে হঠাৎ শান্ত, সুন্দর জায়গায় পৌঁছানোর মতো এক মুক্তির সুখ তিনি পেলেন।
উপসংহার : অতএব, আড্ডার সদস্যদের সঙ্গে প্রথম মিলনের তীব্র আবেগ ও আনন্দ বোঝাতেই লেখক ‘মহালগনে’ শব্দটি ব্যবহার করে সেই স্মরণীয় মুহূর্তকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন।
3. "এ আড্ডার সদস্যদের সবাই সবজান্তা"- এখানে কোন্ আড্ডার কথা বলা হয়েছে ? সেই আড্ডার পরিচয় দাও। ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা ‘পঁচিশে বৈশাখ’ প্রবন্ধে তিনি একটি বিশেষ আড্ডার লোকদের ব্যঙ্গ করে বলেছেন "এ আড্ডার সদস্যদের সবাই সবজান্তা।" উক্তিটির মাধ্যমে তিনি সেই আড্ডার স্বভাব ও পরিবেশ তুলে ধরেছেন।
আড্ডাটি হল : এখানে লেখকের বাড়ির খুব কাছেই থাকা সেমিরামিস ক্যাফে-তে যে আড্ডা বসত, সেই আড্ডার কথাই বলা হয়েছে। লেখক নিয়মিত এই জায়গায় যেতেন এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের মানুষের ভিড়ে জমে উঠত আলোচনা।
আড্ডার পরিচয় : এই আড্ডায় নানা ধরনের মানুষ জড়ো হতো চ্যাংড়া যুবক, কলেজের ছাত্র, কেরানি, বেকার তরুণ, এমনকি ইন্সুরেন্সের কর্মচারীরাও থাকত। তাদের আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল রাজনীতি, কিন্তু আসল জায়গা দখল করে নিত পরচর্চা। কখনো শোনা যেত, কোনো মন্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার জন্য কারও বোন ভালো চাকরি পেয়ে গেছে। আবার কেউ বলত, কোনো প্রকাশক কম বই দেখিয়ে বেশি ছেপে অনেক লাভ করেছেন। প্রেম, চাকরি, সাহিত্য, বই প্রকাশ এমন অসংখ্য বিষয় নিয়ে আড্ডা হতো। সব বিষয়ে নিজেদের বিশেষজ্ঞ ভাবার এই প্রবণতার জন্যই লেখক মজা করে তাদের ‘সবজান্তা’ বলেছেন।
উপসংহার : অতএব বোঝা যায়, সেমিরামিস ক্যাফের আড্ডায় অংশ নেওয়া মানুষরা নানা বিষয়ে অগাধ জ্ঞান আছে বলে ভান করত। সেই কারণেই লেখক ব্যঙ্গের সুরে উক্ত মন্তব্যটি করেছেন।
4. "তত্ত্বটা হৃদয়ঙ্গম হল সেই ব্রাহ্মমুহূর্তে।"- 'ব্রাহ্মমুহূর্তে কথাটির অর্থ কী ? এখানে কোন্ তত্ত্বের কথা বলা হয়েছে ? ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা ‘পঁচিশে বৈশাখ’ প্রবন্ধে একটি স্মরণীয় প্রথম সাক্ষাতের কথা বলতে গিয়ে লেখক বলেছেন - “তত্ত্বটা হৃদয়ঙ্গম হল সেই ব্রাহ্মমুহূর্তে।” এই উক্তির মাধ্যমে বিশেষ এক উপলব্ধির সময়কে বোঝানো হয়েছে।
ব্রাহ্মমুহূর্তের কথাটির অর্থ : ব্রাহ্মমুহূর্ত বলতে সাধারণভাবে সূর্য ওঠার আগের পবিত্র সময়কে বোঝায়। ধর্মমতে এই সময় ঈশ্বরস্মরণ করলে আশীর্বাদ পাওয়া যায়। কিন্তু প্রবন্ধে লেখক কায়রোর ‘ক্যাফে দ্য নীল’-এর আড্ডায় সদস্যদের সঙ্গে হৃদয়ের মিলনের যে শুভ ক্ষণ, তাকেই রসিকতার ভঙ্গিতে ব্রাহ্মমুহূর্ত বলেছেন।
তত্ত্বটি হল : লেখকের সঙ্গে আড্ডার লোকদের প্রথম পরিচয় ঘটার মুহূর্তটিকে তিনি বিখ্যাত প্রেমকাহিনির প্রথম মিলনের সঙ্গে তুলনা করেছেন রাধা-কৃষ্ণ, ইউসুফ-জোলেখা, লায়লা-মজনু কিংবা ত্রিস্তান-ইজোলদেতের চোখে চোখ পড়ার মতো।
এক ফরাসি কবির মতে, প্রেমের সবচেয়ে বড় দিন সেই দিন, যেদিন প্রথম ভালোবাসার কথা বলা হয়। লেখকও মনে করেন, যেদিন তাঁকে কায়রোর আড্ডায় আপনজন হিসেবে গ্রহণ করা হলো, সেই দিনটি তাঁর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রইল। তিনি বুঝতে পারলেন, যে কোনো সম্পর্কের শুরুটিই ভবিষ্যৎকে গড়ে দেয় এবং সেই প্রথম মুহূর্ত সহজে ভোলা যায় না। অচেনা দেশে নিজের মানুষ হয়ে ওঠার অনুভূতিই তাঁকে এই উপলব্ধিতে পৌঁছে দেয়।
উপসংহার : অতএব, আড্ডার সদস্যদের সঙ্গে প্রথম গ্রহণযোগ্যতার আনন্দেই লেখকের মনে এই তত্ত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই কারণেই তিনি ওই শুভ সময়টিকে ‘ব্রাহ্মমুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন।
5. "স্বপ্ন নু মায়া নু মতিভ্রম নু"- 'আড্ডা' রচনায় ব্যবহৃত এই উক্তিটি কার লেখা কোন্ রচনা থেকে নেওয়া হয়েছে? কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তিটি ব্যবহৃত হয়েছে? ২+৩
উত্তর : বাংলা সাহিত্যের প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা ‘পঁচিশে বৈশাখ’ প্রবন্ধে নানা মজার ঘটনার মধ্যে একটি বিশেষ উক্তি ব্যবহৃত হয়েছে - “স্বপ্ন নু মায়া নু মতিভ্রম নু।” এর মাধ্যমে লেখকের বিস্ময় প্রকাশ পেয়েছে।
উক্তিটি হল : এই সংলাপটি মহাকবি কালিদাস রচিত ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’ নাটক থেকে নেওয়া। উক্তিটির বাংলা অর্থ হল - এটি স্বপ্ন নয়, মায়া নয়, কিংবা মনের ভুলও নয়।
উক্তিটির প্রসঙ্গ : ক্যাফে দ্য নীলের আড্ডায় একদিন গ্রিক মার্কোস ক্যাফের মালিকের কাছে শ্যাম্পেন চান। এতে লেখক ভয় পেয়ে বলেন, এই দোকানে তো মদ বিক্রির অনুমতি নেই। তখন মার্কোস জানান, ক্যাফের পেছনের ঘরে আফিম, হেরোইন, ককেইনসহ নানা নেশার জিনিস পাওয়া যায়। তারপর তিনি এক কর্মচারীকে তামাক তৈরি করতেও বলেন।
এ কথা শুনে লেখক অবাক হয়ে যান। মিশরের মতো জায়গায় এমন ব্যবস্থা থাকতে পারে, তা তাঁর কল্পনার বাইরে ছিল। তাই বিস্ময়ে তাঁর মনে হয় এ কি সত্যিই ঘটছে, না তিনি স্বপ্ন দেখছেন, না কি সবই ভুল মনে হচ্ছে।
উপসংহার : অতএব, আকস্মিক ও অবিশ্বাস্য পরিস্থিতির মুখে পড়েই লেখকের মনে ওই সংলাপটি জেগে ওঠে। বিস্ময় প্রকাশ করতেই তিনি এই উক্তি ব্যবহার করেছেন।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : আড্ডা প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. বই কেনা প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 2. আজব শহর কলকেতা প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 3. নুন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 4. আগুন নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
