❖ কবি-পরিচিতি : মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) :
তিনি ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি যশোহর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে এই স্থানটি বাংলাদেশের অন্তর্গত। তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন। জীবনের শুরুতে তিনি ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনা করতেন। তখন তিনি The Captive Ladie এবং Visions of the Past নামে দুটি কাব্যগ্রন্থ লেখেন। পরে বেলগাছিয়া রঙ্গমঞ্চের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ফলে তিনি নাটক লেখার প্রতি আগ্রহী হন। এর ফলেই তিনি ‘শর্মিষ্ঠা’ (১৮৫৯), ‘পদ্মাবতী’ (১৮৬০) ও ‘কৃষ্ণকুমারী’ (১৮৬১) নাটক রচনা করেন। এছাড়া তিনি ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ এবং ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নামের দুটি প্রহসনও লিখেছিলেন। মধুসূদন বাংলা কাব্যে নতুন ছন্দের ব্যবহার শুরু করেন। ইংরেজি Blank Verse অনুসরণ করে তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দ চালু করেন এবং প্রথমে এই ছন্দ ব্যবহার করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। পরে একই ছন্দে তিনি ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ রচনা করেন। ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’-এও তিনি নতুন রীতির প্রয়োগ করেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত ও স্মরণীয় সৃষ্টি হল ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ (১৮৬১)। এছাড়া ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ পত্রকাব্যের একটি বিশেষ উদাহরণ। প্রবাস জীবনে তিনি ‘চতুর্দ্দশপদী কবিতাবলী’ (১৮৬৬) নামে সনেটের একটি সংকলন প্রকাশ করেন। এছাড়া ‘হেক্টর বধ’ (১৮৭১) তাঁর একটি অনুবাদ কাব্য। এই মহান কবি ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুন মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
❖ ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ কবিতার উৎস :
রাজনারায়ণ বসুকে লেখা একটি চিঠিতে মাইকেল মধুসূদন দত্ত জানান যে তিনি বাংলা ভাষায় সনেট প্রবর্তন করতে চান। এই ভাবনা থেকেই তিনি সনেট রচনায় আগ্রহী হন। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে অবস্থানকালে তিনি একের পর এক সনেট রচনা করেন। পরে সেই সনেটগুলো ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে একটি গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটির নাম দেওয়া হয় ‘চতুর্দ্দশপদী কবিতাবলী’। এই সংকলনের মধ্যেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বহু সনেট রয়েছে। তার মধ্যে ৮৬ নম্বর সনেটটি হল ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’। এই কবিতায় কবি বিদ্যাসাগরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রকাশ করেছেন।
❖ ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ কবিতার প্রেক্ষাপট :
মাইকেল মধুসূদন দত্ত যখন বিদেশে ছিলেন, তখন তিনি তীব্র অর্থকষ্টে পড়েন। ১৮৬৩ সালের দিকে তিনি লন্ডন থেকে প্যারিস হয়ে ভার্সাই নগরীতে যান। সেই সময় তাঁর আর্থিক অবস্থা এত খারাপ হয়ে যায় যে ঋণের কারণে জেলে যাওয়ার অবস্থাও তৈরি হয়। এই কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি নিজের দুঃখের কথা জানিয়ে বিদ্যাসাগর মহাশয়কে চিঠি লেখেন। ১৮৬৪ সালের ২ জুন ভার্সাই থেকে প্রথম চিঠিটি পাঠানো হয়। বিদ্যাসাগর তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে একাধিকবার আর্থিক সাহায্য করেন। এই সাহায্যের ফলে কবির কিছুটা ঋণমুক্তি হয়। বিদ্যাসাগরের এই উদারতা মধুসূদন কখনও ভুলে যাননি। তাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য তিনি সনেট আকারে ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ কবিতাটি রচনা করেন। এতে বিদ্যাসাগরের মহান চরিত্রের প্রশংসা করা হয়েছে।
❖ ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ কবিতার লাইন ধরে ব্যাখ্যা :
"বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে।
করুণার সিন্ধু তুমি, সেই জানে মনে,
দীন যে, দীনের বন্ধু !"
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : বিদ্যার সাগর অর্থাৎ সীমাহীন বিদ্যার অধিকারী। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর অসাধারণ জ্ঞান ও শিক্ষার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সমাজের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর রচিত ‘বর্ণপরিচয়’ বই বাংলা ভাষার শিক্ষাকে সহজ করে তোলে এবং নতুন প্রজন্মকে শিক্ষার পথে এগিয়ে দেয়। তিনি শুধু সাহিত্য ও ব্যাকরণ রচনা করেননি, প্রাচীন সাহিত্যও সহজ বাংলায় অনুবাদ করে বাঙালি পাঠকদের সামনে অতীত ভারতের গৌরবময় আদর্শ তুলে ধরেছিলেন। আরেক মহৎ গুণ তাঁর দয়াময়তা। দুঃখী, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কষ্ট তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করত। কেউ সাহায্যের জন্য এলে তিনি কখনও তাকে ফিরিয়ে দিতেন না। তাঁর হৃদয় যেমন জ্ঞানে সমৃদ্ধ ছিল, তেমনি করুণায়ও পরিপূর্ণ ছিল। এই দয়ার স্পর্শে অনেক অসহায় মানুষ নতুন করে জীবনের আশা পেয়েছিল। আলোচ্য অংশে দীন অর্থাৎ হতদরিদ্র এবং দীনের বন্ধু বলতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকেই বোঝানো হয়েছে। তিনি সত্যিই দরিদ্র মানুষের প্রকৃত বন্ধু ছিলেন এবং সবসময় তাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতেন। তাঁর অসীম জ্ঞান ও অপরিসীম দয়ার জন্যই তিনি মানুষের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
"উজ্জ্বল জগতে
হেমাদ্রির হেম-কান্তি অম্লান কিরণে।"
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে কবি মধুসূদন দত্ত কৃতজ্ঞতার সঙ্গে ‘হেমাদ্রি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। হেমাদ্রি অর্থাৎ সোনার মতো উজ্জ্বল পর্বত। বিদ্যাসাগরের হৃদয় কোমলতা ও দৃঢ়তার মিশ্রণে গড়া ছিল এবং সেখানে দয়া, মায়া, করুণা ও মানবিকতার উজ্জ্বল গুণগুলি প্রকাশ পেত। সোনার কিরণ যেমন নির্মল ও চিরউজ্জ্বল থাকে, তেমনি বিদ্যাসাগরের জ্ঞান ও করুণার আলোও ছিল নির্মল ও স্থায়ী। এই গুণগুলির জন্যই তাঁর ব্যক্তিত্ব সবসময় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। তিনি দরিদ্র মানুষের আশ্রয় ছিলেন এবং হেমাদ্রির মতোই সজাগ রক্ষকের ভূমিকা পালন করতেন। তাঁর বিশাল ব্যক্তিত্ব ও মহৎ গুণাবলি দেখে মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁকে ‘হেম-কান্তি হেমাদ্রি’র উজ্জ্বল কিরণের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
"কিন্তু ভাগ্য-বলে! পেয়ে সে মহা পর্বতে,
যে জন আশ্রয় লয় সুবর্ণ চরণে,
সেই জানে কত গুণ ধরে কত মতে
গিরীশ !"
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : বাংলা গদ্যসাহিত্যের অন্যতম নির্মাতা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর শুধু জ্ঞানের জন্যই ‘বিদ্যার সাগর’ নামে পরিচিত ছিলেন না, তিনি ছিলেন দয়ার সাগরও। বহু দরিদ্র ও অসহায় মানুষ তাঁর আশ্রয় ও সাহায্যে জীবনধারণের সুযোগ পেয়েছিল। বিদেশে কঠিন অবস্থায় থাকা কবি মধুসূদন দত্ত যদি তাঁর উদার সহায়তা না পেতেন, তবে হয়তো ‘মহাকবি’ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন হয়ে যেত। হেমাদ্রির মতো উচ্চ ও মহৎ ব্যক্তিত্বের অধিকারী বিদ্যাসাগরের স্নেহ পেয়ে মধুসূদন এই অংশে নিজের আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। যেমন একটি বিশাল পর্বত বহু জীবের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে, তেমনি বিদ্যাসাগরও তাঁর উদার হৃদয়ের জন্য অসহায় ও আশ্রয়হীন মানুষের ভরসাস্থল হয়ে উঠেছিলেন। মধুসূদন নিজেও সেই আশ্রয় পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেছিলেন। ‘গিরীশ’ বা পর্বতের রাজা যেমন জীবনের পক্ষে প্রয়োজনীয় নানা দিককে ধারণ করে, তেমনি বিদ্যাসাগরের চরিত্রেও নানা মানবিক গুণ একসঙ্গে দেখা যায়। তাঁর এই মহান গুণাবলি অনেক দুর্ভাগা মানুষের জীবনে নতুন আশা ও শান্তি এনে দিয়েছিল। তাই যাঁরা তাঁর কাছে আশ্রয় পেয়েছেন, তাঁরাই সত্যিই বুঝতে পারেন যে তিনি হিমালয়ের মতোই মহিমান্বিত ও শ্রদ্ধার যোগ্য।
"কি সেবা তার সে সুখ-সদনে!"-
চরণটির সহজ ব্যাখ্যা : ‘গিরীশ’ বা হিমালয় পর্বতের মতোই বিশাল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি সত্যিই দয়ার সাগর ছিলেন এবং নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও দীনদরিদ্র মানুষকে সাহায্য করতেন। তাঁর কাছে কেউ আশ্রয় বা সাহায্য চাইলে কখনও নিরাশ হয়ে ফিরতে হতো না। যেমন বৃহৎ পর্বতের আশ্রয়ে নানা প্রাণী ও প্রকৃতি নিরাপদে থাকে, তেমনি বিদ্যাসাগরের উদার হৃদয়ের কারণে অনেক অসহায় মানুষ নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছিল। কবি মধুসূদন দত্ত নিজেও জীবনের কঠিন সময়ে তাঁর সাহায্য পেয়ে বুঝেছিলেন, সেই সেবার প্রকৃত মূল্য কত মহান। তাই এই সনেটে তিনি বিদ্যাসাগরের প্রতি নিজের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
"দানে বারি নদীরূপ বিমলা কিঙ্করী;"
চরণগুটির সহজ ব্যাখ্যা : নদীর মতো নির্মল জল যখন পর্বতের পাথরে পৌঁছায়, তখন কঠিন মাটি কোমল হয়ে ওঠে এবং চাপা পড়ে থাকা বীজ অঙ্কুরিত হয়ে নতুন প্রাণের সৃষ্টি হয়। এইভাবে নদীর স্বচ্ছ জল গিরিরাজের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে এবং সৃষ্টিকে প্রাণবন্ত করে তোলে। নিজের স্বাভাবিক গতিতে প্রবাহিত ‘বিমলা’ নদীর মধ্যে কোনো দাসত্বের লজ্জা নেই; বরং আছে নিঃস্বার্থভাবে দান করার আনন্দ।
"যোগায় অমৃত ফল পরম আদরে
দীর্ঘ-শিরঃ তরুদল, দাসরূপ ধরি ;"
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : গিরিরাজের আশ্রয়ে ছোট চারাগাছ ধীরে ধীরে বড় হয়ে বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়। নদীর কোমল জলের স্পর্শে কঠিন মাটিও নরম হয় এবং চাপা বীজ অঙ্কুরিত হয়ে সবুজ জীবনের সৃষ্টি করে। পরে সেই বৃক্ষগুলো শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে পাখিদের আশ্রয় দেয় এবং মিষ্টি ফল ফলিয়ে অন্য প্রাণীদের উপকার করে। এইভাবে তারা যেন গিরিরাজের সেবক হয়ে সৃষ্টির কল্যাণে কাজ করে। ব্যক্তিজীবনে কঠিন দারিদ্র্যের সময় কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত অনেক কষ্ট পেয়েছিলেন। কিন্তু ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর অমৃতফল দানকারী বৃক্ষের মতো তাঁর অভাব দূর করে জীবনে শান্তি ও ভরসা এনে দিয়েছিলেন। তাই এই অংশে কবি বিদ্যাসাগরের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
"পরিমলে ফুল-কুল দশ দিশ ভরে,
দিবসে শীতলশ্বাসী ছায়া, বনেশ্বরী
নিশায় সুশান্ত নিদ্রা, ক্লান্তি দূর করে।"
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : বনেশ্বরীর মতো বিশাল বৃক্ষ শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে চারদিকে ফুলের সুগন্ধ ছড়িয়ে দেয় এবং পরিবেশকে আনন্দময় করে তোলে। দিনের বেলায় তার শীতল ছায়ায় ক্লান্ত পথিক ও জীবজন্তু বিশ্রাম নেয়, আর রাতে সেই বৃক্ষই নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে শান্ত ঘুমের সুযোগ করে দেয়। এইভাবে সে সবাইকে স্নেহ ও সুরক্ষা দেয়। তেমনি জীবনের কঠিন সময় ও দুঃখে ক্লান্ত কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত সহমর্মিতা ও আশ্রয় পেয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কাছে। তাঁর দয়া, মমতা ও স্নেহের ছায়ায় কবির জীবনের কষ্ট অনেকটা দূর হয়েছিল। তাই এই অংশে কবি তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
❖ ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর' কবিতার বিষয়বস্তু :
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ কবিতাটি একটি সনেট, যেখানে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিদ্যাসাগর তাঁর অসাধারণ জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের জন্য দেশ-বিদেশে ‘বিদ্যার সাগর’ নামে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। কিন্তু তিনি শুধু জ্ঞানের জন্যই মহান ছিলেন না, তাঁর হৃদয়ও ছিল সমুদ্রের মতো উদার ও করুণায় ভরা। অসংখ্য দীনদরিদ্র, নিপীড়িত ও অসহায় মানুষ তাঁর দয়া ও সহায়তায় বাঁচার ভরসা পেয়েছিল। কবি নিজের জীবনেও তাঁর এই উদারতার স্পর্শ পেয়েছিলেন। জীবনের কঠিন সময়ে বিদ্যাসাগরের অকৃপণ সাহায্য মধুসূদনকে হতাশা ও দুঃখ থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করেছিল। তাই কবি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর মহৎ চরিত্রকে এই কবিতায় তুলে ধরেছেন। কবিতায় বিদ্যাসাগরকে ‘হেমাদ্রি’ বা স্বর্ণময় পর্বতের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যেমন হিমালয় পর্বত তার বিশালতা ও শক্তির জন্য সবাইকে আশ্রয় দেয়, তেমনি বিদ্যাসাগরের মহৎ ব্যক্তিত্বের ছায়ায় বহু দীনহীন মানুষ নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছিল। পর্বতের কোলে যেমন নদী, অরণ্য ও নানা জীবজন্তু বিকশিত হয়ে ওঠে, তেমনি তাঁর দয়া, মায়া ও মানবিকতার প্রভাবে সমাজে কল্যাণ ও মানবতার বিকাশ ঘটেছে। এইভাবে কবি নিজের অভিজ্ঞতা ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি থেকে বিদ্যাসাগরকে হেমাদ্রি ও বনেশ্বরীর মতো মহান আশ্রয়দাতা রূপে চিত্রিত করেছেন। তাঁর অসীম দয়া, মমতা ও মানবিক গুণের জন্যই তিনি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
❖ 'ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর' কবিতার শব্দার্থ :
সাগর : সমুদ্র / করুণার সিন্ধু : দয়ার সাগর / বিখ্যাত : খ্যাতিসম্পন্ন / দীন : দরিদ্র / দীনের বন্ধু : দরিদ্রের আশ্রয়দাতা / হেমাদ্রি হেম : সুবর্ণ কান্তি, পর্বত / উজ্জ্বল : আলোকিত / সুবর্ণ : সোনা / হেম-কান্তি : সোনার বরণ / অম্লান : উজ্জ্বল / চরণ : পা / গিরীশ : হিমালয় / সদন : গৃহ / সুখ সদন : সুখী গৃহ / বারি : জল / বিমলা : পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ / অমৃত : সুধা / কিঙ্করী : দাসী / যোগায় : সরবরাহ করা / অমৃত ফল : জীবনের রসদ / পরম আদর : পরম যত্নে / তরু-দল : বৃক্ষরাজি / দীর্ঘ-শিরঃ : সুউচ্চ, সুদীর্ঘ / পরিমল : সুগন্ধ / দশদিশ : সর্বব্যাপ্ত / বনেশ্বরী : বনস্পতি / দিবস : দিন / সুশান্ত : গভীর, নিবিড় / নিশা : রাত্রি / ক্লান্তি : পরিশ্রান্তি / নিদ্রা : ঘুম।
❖ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কবিতাটির প্রশ্ন উত্তর পর্ব :
আমি আগেই বলেছি একাদশ শ্রেণির প্রথম সেমিষ্টার বাংলা পরীক্ষায় 40 নম্বরের মধ্যে কবিতা থেকে মোট 7 টি MCQ প্রশ্ন আসবে। তাই 7 নম্বর পেতে চাইলে 'ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর' এবং 'সাম্যবাদী' কবিতাগুলি ভালোভাবে পড়তে হবে। তাই 'ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর' কবিতা থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর পড়তে চাইলে নিচে দেখুন লিংক দেওয়া আছে। তবে PDF নিতে চাইলে এই ওয়েবসাইটের উপরে Menu Option-এ ক্লিক করে দেখুন।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির প্রথম সেমিষ্টার সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই একাদশ শ্রেণির প্রথম সেমিষ্টার সাজেশন ই-বুক(PDF)গুলি নিতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা, আমাদের ওয়েবসাইটের উপরে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কবিতার বিষয়বস্তু PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. অন্ধকার লেখাগুচ্ছ কবিতার বিষয়বস্তু PDF | Click here |
| 2. দিগ্বিজয়ের রূপকথা কবিতার বিষয়বস্তু PDF | Click here |
| 3. বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধের বিষয়বস্তু PDF | Click here |
| 4. তার সঙ্গে কবিতার বিষয়বস্তু PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
