WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সাম্যবাদী কবিতার বিষয়বস্তু PDF | Class 11 Samyabadi Kobita | Sammobadi Kobita Class 11 PDF

0

সাম্যবাদী কবিতার বিষয়বস্তু PDF

ভূ(caps)মিকা : একাদশ শ্রেণির প্রথম সেমিষ্টার বাংলা পরীক্ষার জন্য দুটি কবিতা পড়তে হবে। সেগুলি হল মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা 'ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর' এবং কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'সাম্যবাদী' কবিতা। এই দুটি কবিতা থেকে পরীক্ষায় 40 নম্বরের মধ্যে মোট 7 টি MCQ প্রশ্ন আসবে অর্থাৎ মোট 1×7=7 নম্বর। তাই আমি তোমাদের সুবিধার জন্য এখন কাজী নজরুল ইসলামের লেখা 'সাম্যবাদী' কবিতার কবি-পরিচিত, কবিতার উৎস, কবিতার বিষয়বস্তু, কবিতার প্রেক্ষাপট, এছাড়াও কবিতার শব্দার্থ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। 'সাম্যবাদী' কবিতাটি পড়ার আগে এই বিষয়গুলি সম্পর্কে জানা উচিত। তাহলে মূল 'সাম্যবাদী' কবিতাটি পড়তে বা বুঝতে অনেকটা সুবিধা হবে। তবে WB Semester Team দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে একাদশ শ্রেণির প্রথম সেমিষ্টার সাজেশন ই-বুক(PDF) প্রকাশিত করে। তাই এই সাজেশন ই-বুক(PDF) গুলি নিতে পাবেন। কারণ WBCHSE বোর্ডের সেমিষ্টার সিস্টেম অনুসারে নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এখান থেকে পরীক্ষায় অনেক প্রশ্ন কমন পাবেন। সুতরাং যারা নিতে চাও, তারা আমাদের ওয়েবসাইটের উপরের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন অথবা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

সাম্যবাদী কবিতার বিষয়বস্তু PDF

 কবি-পরিচিতি : কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) :

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি। তিনি ২৪ মে ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া থানার অন্তর্গত চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’য় তাঁর প্রথম মুদ্রিত কবিতা ‘মুক্তি’ প্রকাশিত হয়। পরে তিনি কলকাতায় এসে ‘মোসলেম ভারত’ ও ‘নবযুগ’ প্রভৃতি পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাহিত্যচর্চা শুরু করেন তাঁর কবিতায় শুধু ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধেই নয়, সব ধরনের অন্যায়, অবিচার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘ব্যথার দান’ এবং প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ প্রকাশিত হয়। তার রচিত কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘অগ্নিবীণা’, ‘বিষের বাঁশি’, ‘দোলনচাঁপা’, ‘ভাঙার গান’, ‘ফণি-মনসা’, ‘সাম্যবাদী’, ‘সর্বহারা’, ‘সিন্ধু-হিন্দোল’ ও ‘ঝিঙে ফুল’। তাঁর সংগীতগ্রন্থের মধ্যে ‘চন্দ্রবিন্দু’, ‘সুরসাকী’, ‘রাঙা জবা’ ও ‘সন্ধ্যামালতী’ উল্লেখযোগ্য। ছোটোগল্পের ক্ষেত্রে ‘ব্যথার দান’, ‘রিক্তের বেদন’ ও ‘শিউলিমালা’ বিশেষভাবে পরিচিত। এছাড়া ‘বাঁধনহারা’ ও ‘কুহেলিকা’ তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। নাটকের মধ্যে ‘ঝিলিমিলি’, ‘পুতুলের বিয়ে’ ও ‘ঝড়’ উল্লেখযোগ্য। তিনি ঠুংরি, গজল, কীর্তনসহ নানা ধরনের গান রচনাতেও অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। এই মহান কবি ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট পরলোকগমন করেন।

 'সাম্যবাদী’ কবিতার উৎস :

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘সাম্যবাদী’ কবিতাটি প্রথমে ‘লাঙল’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯২৫খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে (১৩৩২ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসে)। পরে এই কবিতাটি ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়।আর ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে (১৩৩৩ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসে)। এই কাব্যগ্রন্থটি কবি তাঁর মা বিরজাসুন্দরী দেবী-র প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উৎসর্গ করেছিলেন।

 ‘সাম্যবাদী’ কবিতার প্রেক্ষাপট :

১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লব সফল হয়ে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের মধ্যে নতুন জাগরণ দেখা দেয়, যা কবি Kazi Nazrul Islam-এর মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে মিল ও সম্প্রীতি চাইতেন এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বাহ্যিকতার বিরোধিতা করতেন। সাম্যবাদী চেতনা বলতে মানুষের মৌলিক সমস্যা দূর করার জন্য সংগ্রামের মনোভাবকে বোঝায়, যা 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলিতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে কলকাতায় তিনবার হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা ঘটে। কবি কাজী নজরুল ইসলাম যেন আগেই সেই পরিস্থিতির ইঙ্গিত অনুভব করেছিলেন। তিনি শুধু ধর্মীয় বিরোধের বিরুদ্ধেই নয়, সব ধরনের অসাম্য ও অন্যায়ের বিরোধিতা করেছেন। তাই ‘সাম্যবাদী’ কবিতায় তিনি মানবতার পক্ষে কথা বলেছেন এবং সব মানুষের সমান অধিকারের কথা তুলে ধরেছেন।

 ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর’ কবিতার লাইন ধরে ব্যাখ্যা :

"গাহি সাম্যের গান -
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান, 
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম ক্রিশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!
কে তুমি?-পার্সি? জৈন? ইহুদি? সাঁওতাল, ভীল, গারো?
কনফুসিয়াস্? চার্বাক-চেলা? বলে যাও, বল আরও!
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : এই অংশে কবি কাজী নজরুল ইসলাম সাম্য বা সমতার কথা বলেছেন। তিনি এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। সব ধর্মের মানুষ যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান একসঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করবে। মানুষের মধ্যে ধর্ম বা সম্প্রদায়ের কারণে কোনো বাধা বা দূরত্ব থাকবে না। কবি আরও বলতে চান যে পার্সি, জৈন, ইহুদি, সাঁওতাল, ভীল, গারো এই সব জাতি বা গোষ্ঠীর পরিচয় থাকলেও আসলে সবাই মানুষ এবং সবার অধিকার সমান। কেউ কনফুসিয়াসের মতবাদ মানতে পারে, আবার কেউ চার্বাকের দর্শন অনুসরণ করতে পারে। কিন্তু এসব ভিন্ন মত বা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানুষের আসল পরিচয় হলো মানবতা। তাই সকল মানুষের মধ্যেই সমতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ থাকা প্রয়োজন।

"বন্ধু, যা খুশি হও,
পেটে-পিঠে, কাঁধে-মগজে যা-খুশি পুঁথি ও কেতাব বও,
কোরান-পুরাণ-বেদ-বেদান্ত-বাইবেল-ত্রিপিটক-
জেন্দাবেস্তা-গ্রন্থ-সাহেব পড়ে যাও যত সখ,
কিন্তু কেন এ পণ্ডশ্রম, মগজে হানিছ শূল?
দোকানে কেন এ দর-কষাকষি?- পথে ফোটে তাজা ফুল!"
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : এই অংশে কবি সব মানুষকে ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছেন। তিনি বলতে চান যে মানুষের আসল পরিচয় হলো তার মানবতা। পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে এবং প্রত্যেক ধর্মের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থও রয়েছে। কিন্তু শুধু ধর্মগ্রন্থ পড়লেই মানুষের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় না। যখন মানুষ ধর্মের নামে একে অন্যের সঙ্গে বিরোধ বা হিংসায় জড়িয়ে পড়ে, তখন সেই ধর্মপাঠের কোনো অর্থ থাকে না। ধর্মকে নিয়ে অহংকার করা বা তর্ক করা ঠিক যেন দোকানে জিনিস কেনার সময় দরাদরি করার মতো। এতে ধর্মের আসল গুরুত্ব নষ্ট হয়ে যায়। কবি বোঝাতে চেয়েছেন, মানুষের চারপাশেই মানবতার সুন্দর উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু সেগুলো উপেক্ষা করে মানুষ অকারণে জটিল বিষয় নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। ঠিক যেমন পথের ধারে ফুটে থাকা তাজা ফুলকে না দেখে দূরের জঙ্গলে ফুল খুঁজতে যাওয়া এক ধরনের বোকামি।

"তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল কালের জ্ঞান, 
সকল শাস্ত্র খুঁজে পাবে সখা খুলে দেখ নিজ প্রাণ!
তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম, সকল যুগাবতার, 
তোমার হৃদয় বিশ্ব-দেউল সকলের দেবতার।
কেন খুঁজে ফের দেবতা-ঠাকুর মৃত-পুথি-কঙ্কালে?
হাসিছেন তিনি অমৃত-হিয়ার নিভৃত অন্তরালে!"
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : এই অংশে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে মানুষের নিজের মন ও হৃদয়ের মধ্যেই সব জ্ঞান ও শাস্ত্রের আসল অর্থ লুকিয়ে আছে। মানুষ যদি নিজের হৃদয়কে উদার ও বিস্তৃত করে, তাহলে সে সব ধর্মের মূল শিক্ষা নিজের মধ্যেই অনুভব করতে পারবে। কবির মতে, মানুষের অন্তরেই সব ধর্মের অবতার ও মহান আদর্শের উপস্থিতি রয়েছে। মানুষের হৃদয় যেন এক বিশাল মন্দির, যেখানে সব ধর্মের দেবতার স্থান আছে। তাই শুধু পুরোনো বই বা মৃত পুঁথির মধ্যে দেবতাকে খুঁজে বেড়ানো অর্থহীন। আসলে সত্যিকারের দেবত্ব মানুষের নিজের হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকে। যে মানুষ নিজের অন্তরের দিকে তাকাতে পারে, সে সেখানেই ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করতে পারে।

"বন্ধু, বলিনি ঝুট,
এইখানে এসে লুটাইয়া পড়ে সকল রাজমুকুট 
এই হৃদয়ই সে নীলাচল, কাশী, মথুরা, বৃন্দাবন, 
বুদ্ধ-গয়া এ, জেরুজালেম এ, মদিনা, কাবা-ভবন, 
মসজিদ এই, মন্দির এই, গির্জা এই হৃদয়,
এইখানে বসে ঈসা মুসা পেল সত্যের পরিচয়।"
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : এই অংশে কবি পাঠকদের উদ্দেশে বলেন যে তাঁর কথা কোনো মিথ্যা নয়। মানুষের হৃদয়ে যদি সত্যিকারের ভালোবাসা থাকে, তবে সব অহংকার ও গর্ব সেখানে এসে নত হয়ে যায়। কবির মতে, মানুষের হৃদয়ই আসল তীর্থস্থান। আলাদা করে বিভিন্ন তীর্থে গিয়ে ঈশ্বরকে খোঁজার প্রয়োজন নেই। মানুষের হৃদয়ের মধ্যেই নীলাচল, কাশি, মথুরা, বৃন্দাবন, বুদ্ধগয়া, জেরুজালেম, মদিনা, কাবা-র মতো পবিত্র স্থানগুলির মহত্ত্ব লুকিয়ে আছে। এই হৃদয়ই মসজিদ, মন্দির ও গির্জার মতো পবিত্র। মানুষের অন্তরের ডাকে সাড়া দিয়েই ঈসা (যিশু খ্রিস্ট) ও মুসা সত্যের সন্ধান পেয়েছিলেন। তাই কবি বোঝাতে চান, সত্য ও ঈশ্বরের আসল অবস্থান মানুষের নিজের হৃদয়ের মধ্যেই।

"এই রণ-ভূমে বাঁশির কিশোর গাহিলেন মহা-গীতা, 
এই মাঠে হলো মেষের রাখাল নবিরা খোদার মিতা। 
এই হৃদয়ের ধ্যান-গুহা মাঝে বসিয়া শাক্যমুনি 
ত্যজিল রাজ্য মানবের মহা-বেদনার ডাক শুনি।"
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : এই অংশে কবি বোঝাতে চান যে মানুষের জীবনসংগ্রামের মধ্যেই মহান সত্যের বাণী প্রকাশ পায়। সমাজের এই সংগ্রামময় ক্ষেত্রেই বাঁশি বাজানো কিশোর কৃষ্ণ হৃদয়ের অনুপ্রেরণায় গীতার বাণী উচ্চারণ করেছিলেন। কবির মতে, মানুষের হৃদয়ের মধ্যেই সেই স্থান আছে যেখানে মেষের রাখাল নবিরা ঈশ্বরের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। মানুষের হৃদয় যেন এক ধ্যানগুহার মতো শান্ত ও গভীর জায়গা। এই হৃদয়ের গভীর ভাবনার মধ্যেই রাজপুত্র গৌতম বুদ্ধ মানুষের দুঃখ ও কষ্টের কথা অনুভব করেছিলেন। সেই বেদনার ডাক শুনে তিনি রাজ্যের ঐশ্বর্য ত্যাগ করেন এবং পরে সাধনার মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করে শাক্যমুনি বা বুদ্ধ নামে পরিচিত হন।

"এই কন্দরে আরব-দুলাল শুনিতেন আহ্বান, 
এইখানে বসি গাহিলেন তিনি কোরানের সাম-গান!
মিথ্যা শুনিনি ভাই, 
এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই।"
চরণগুলির সহজ ব্যাখ্যা : এই অংশে কবি বোঝাতে চান যে মানুষের হৃদয়ই সত্য উপলব্ধির প্রধান স্থান। কবির কথায়, হৃদয়ের গভীর নিভৃত স্থানে আরব দেশের প্রিয় সন্তান হজরত মহম্মদ খোদার আহ্বান অনুভব করেছিলেন এবং সেখান থেকেই কোরানের সাম্যের বাণী প্রচার করেছিলেন। কবি মনে করেন, মানুষের নিজের হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির বা কাবা নেই। কারণ মানুষের অন্তরের মধ্যেই ঈশ্বরের সত্য উপলব্ধি করা যায়। তাই কবি জোর দিয়ে বলেন, তিনি যে কথা বলেছেন তা মিথ্যা নয়। মানুষের মধ্যে থাকা মানবতাই সবচেয়ে বড় ধর্ম। সব ধর্মের মূল শিক্ষা মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। এজন্য বাইরে দেবতাকে খোঁজার চেয়ে মানুষের হৃদয়ের মানবতাবোধ জাগিয়ে তোলাই বেশি প্রয়োজন।

 ‘সাম্যবাদী’ কবিতার বিষয়বস্তু :

এই কবিতায় কবি মানুষের মধ্যে সমতা ও ভ্রাতৃত্বের কথা বলেছেন। তিনি এমন একটি সমাজের কল্পনা করেছেন যেখানে সব মানুষ সমান অধিকার পাবে এবং ধর্ম বা জাতি নিয়ে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। কবির মতে, এই ভেদাভেদ ও বিরোধ থেকেই মানুষের মধ্যে হিংসা ও ঝগড়া বাড়ে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, শুধু ধর্মগ্রন্থ পড়লেই সত্যিকারের মানবতা পাওয়া যায় না। মানুষ যদি নিজের মনকে উদার করে, তবে সে নিজের হৃদয়ের মধ্যেই সব ধর্মের মূল শিক্ষা বুঝতে পারবে। কবির মতে, মানুষের অন্তরের ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। মানুষের হৃদয়েই মন্দির, মসজিদ ও গির্জার মতো সব পবিত্র স্থানের গুরুত্ব রয়েছে। তাই ধর্ম, বর্ণ বা জাতির পরিচয় মানুষের আসল পরিচয় নয়। যখন মানুষের মধ্যে মানবতার বোধ জাগবে, তখন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আর বিরোধ থাকবে না। কোরান, পুরাণ, বেদ বা বেদান্তের মতো ধর্মগ্রন্থ থেকে পাওয়া জ্ঞানকে সত্যভাবে বুঝতে হলে মানুষের মধ্যে মানবিকতা থাকা দরকার। মানুষের মধ্যে যদি মনুষ্যত্ব জাগে, তবে সমাজে সমতা ও বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠা হবে। কবি মনে করেন, মানুষের হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির বা দেবতার স্থান নেই। মানুষ যদি এই সত্য বুঝতে পারে, তবে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। সব মানুষের সমান অধিকার ও মানবতার বিকাশই এই কবিতার প্রধান বক্তব্য।

 ‘সাম্যবাদী’ কবিতার শব্দার্থ :

সাম্য : সমতা / পণ্ডশ্রম : বৃথা পরিশ্রম / চেলা : শিষ্য / কেতাব : পুস্তক / শূল : তীক্ষ্ণাগ্র অস্ত্রবিশেষ / যুগাবতার : কোনো যুগের শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা, যুগের অবতার / দর-কষাকষি : দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে দরাদরি / পুঁথি : হাতে লেখা প্রাচীন বই / নিভৃত : অন্তরালে আছে এমন, অপ্রকাশিত / খোদা : ঈশ্বর, আল্লাহ / অন্তরাল : আড়াল, দৃষ্টির বাইরে থাকা / আরব-দুলাল : আরব সন্তান / রাজমুকুট : রাজার পদমর্যাদাসূচক শিরোভূষণ / মিতা : বন্ধু / ত্যজিল : ত্যাগ করল / আহ্বান : আমন্ত্রণ / কন্দর : পর্বতের গুহা / দেউল : মন্দির / হিয়া : হৃদয় / সাম্যবাদ : উচ্চনীচ বা নরনারী নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল মানুষের সমান অধিকার প্রাপ্য।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির প্রথম সেমিষ্টার সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই একাদশ শ্রেণির প্রথম সেমিষ্টার সাজেশন ই-বুক(PDF)গুলি নিতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা, আমাদের ওয়েবসাইটের উপরে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : সাম্যবাদী কবিতার বিষয়বস্তু PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কবিতার বিষয়বস্তু PDF Click here
2. দিগ্বিজয়ের রূপকথা কবিতার বিষয়বস্তু PDF Click here
3. বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধের বিষয়বস্তু PDF Click here
4. তার সঙ্গে কবিতার বিষয়বস্তু PDF Click here
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.