🔹 Potraj Golpo Class 12
🔹 লেখক-পরিচিতি : শঙ্কর রাও খারাট (১৯২১-২০০১) : মারাঠি ভাষার বিশিষ্ট সাহিত্যিক এবং দলিত সাহিত্য আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন শঙ্কর রাও রামচন্দ্র খারাট। তিনি ১৯২১ সালের ১১ জুলাই মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলার আটপাদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি মাহার সম্প্রদায়ের মধ্যে বড় হন, যে সম্প্রদায় সেই সময় সমাজে তীব্র বর্ণভিত্তিক বৈষম্যের শিকার ছিল। এই অভিজ্ঞতা পরবর্তীকালে তাঁর লেখালেখির বিষয়বস্তুকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। পরিণত বয়সে তিনি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ড. বি. আর. আম্বেদকরের আদর্শ ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। কর্মজীবনে তিনি মারাঠওয়াড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া কিছু সময় মহারাষ্ট্র আইন পরিষদের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। খারাটের সাহিত্যকর্মে প্রধানত দলিত সমাজের মানুষের জীবনসংগ্রাম, বঞ্চনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার চিত্র ফুটে উঠেছে। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি ‘নবযুগ’ পত্রিকার দীপাবলি সংখ্যায় প্রকাশিত ‘সাতুচি পদ জামিন’ গল্পের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যজীবনের সূচনা হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে আত্মজীবনী ‘তারাল-অন্তরাল’ (১৯৮১) এবং উপন্যাস ‘মানুস্কি চি হক’ (১৯৫৭–৫৮)। এছাড়া ‘বড় বালুতেদার’, ‘তাদিপার’, ‘গাভ-চি-শিব’ ও ‘তিতভিচা ফেরা’ তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটোগল্প। সমাজে সমতা ও ন্যায়বিচারের ভাবনা তাঁর লেখায় বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এই বিশিষ্ট লেখকের মৃত্যু ২০০১ সালের ৯ এপ্রিল ঘটে।
🔹 ‘পোটরাজ’ গল্পের উৎস : শঙ্কর রাও খারাটের মারাঠি ছোটোগল্প ‘পোর্টরাজ’ তাঁর ‘বড় বালুতেদার’ গল্পসংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে। এই গল্পটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন সুনন্দন চক্রবর্তী। তাঁর রচিত ‘সুন্দরবন নিশীথে জ্বলে ওঠে’ গ্রন্থে ‘পোর্টরাজ’ গল্পটি প্রকাশিত হয়েছে।
🔹 ‘পোটরাজ’ গল্পের চরিত্রসমূহ :
কেন্দ্রীয় চরিত্র - পোটরাজ দামা
দামার স্ত্রী - দূরপত
দামা পোটরাজের অসুস্থতা - মায়ের দয়া
আনন্দ - দামার বড়ো ছেলের নাম
দামার আরাধ্যা দেবী - মারী-আই
🔹 ‘পোটরাজ’ গল্পের বিষয়বস্তু : মারাঠি সাহিত্যিক শঙ্কর রাও খারাটের ‘পোটরাজ’ গল্পে একটি গ্রামের সংকটময় পরিস্থিতি এবং মানুষের বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে। গল্পে দেখা যায়, দামা ছিল গ্রামের পোটরাজ বা দেবীর সেবক। হঠাৎ সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বাড়ির পরিবেশ খুব চিন্তাময় হয়ে ওঠে। একই সময়ে গ্রামের অনেক বাড়িতেই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণে গ্রামের লোকেরা মনে করতে থাকে যে দেবী মারী-আই রাগ করেছেন এবং তাঁর কোপেই এই বিপদ নেমে এসেছে। দামার স্ত্রী দুরপত দেবীর যথাযথ সেবা করেও স্বামীর অসুখ ভালো করতে না পারায় খুব দুঃখ পায়। সে বারবার দেবীর কাছে প্রার্থনা করতে থাকে যাতে তার স্বামী বেঁচে যায়। কিন্তু গ্রামের অবস্থা দিনদিন খারাপ হতে থাকে। চারদিকে অসুস্থ মানুষ, কান্না আর চিৎকারে পুরো গ্রাম ভরে যায়। এই পরিস্থিতিতে গ্রামের মোড়ল কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দামার বাড়িতে আসে। দামার অসুস্থতার কথা শুনে সে অবাক হলেও সবাই মনে করে দেবীর কোপ শুরু হলে যে কেউই এর শিকার হতে পারে। এই দুর্দশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মোড়ল আবার দেবীর যাত্রা করার কথা তোলে। কিন্তু দেবীর প্রধান সেবক দামা অসুস্থ থাকায় সেই যাত্রা করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই সমস্যার সমাধান হিসেবে মোড়ল প্রস্তাব দেয় যে দামার বড় ছেলে আনন্দ যেন পোটরাজের দায়িত্ব নেয়। কিন্তু দুরপত এই সিদ্ধান্ত সহজে মানতে পারে না। তার মনে হয় এভাবে হঠাৎ করে পোটরাজ হওয়া ঠিক নয়। অন্যদিকে আনন্দও রাজি হতে চায় না, কারণ সে তখন হাইস্কুলে পড়াশোনা করছে এবং এখনই এই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত নয়। তবুও মোড়ল ও তার সঙ্গীরা দৃঢ়ভাবে বলে যে আনন্দ যদি রাজি না হয়, তাহলে পুরো গ্রাম দেবী মারী-আই-এর কোপে পড়বে। ফলে পড়াশোনা আর ধর্মীয় দায়িত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। মোড়ল দুরপতের ওপরও চাপ দিতে থাকে যাতে সে ছেলেকে রাজি করায়। মোড়লরা চলে যাওয়ার পরে আনন্দ চুপচাপ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। অনেক রাত পর্যন্ত সে বাড়ি ফেরে না। গভীর রাতে সে ফিরে আসে। পরদিন সকালে স্নান করে অসুস্থ বাবার পাশে বসে থাকে। তখন গ্রামের লোকদের মুখে শোনা যায় যে দেবী মারী-আই নাকি গ্রামের সীমানার দিকে চলে গেছেন। এই খবর শুনে গ্রামবাসীরা খুব আনন্দিত হয়। তারা মনে করে দেবীর রাগ এবার কেটে যাবে। গ্রামের লোকেরা তখন দেবী মারী-আই-এর সঙ্গে দামারও জয়ধ্বনি দিতে থাকে। তাদের বিশ্বাস, দামা খুব পুণ্যবান বলেই দেবী গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। দামার বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল বের হয় এবং অসুস্থ দামা এই আওয়াজ শুনে যেন নতুন শক্তি পায়। মিছিলের লোকেরা তাকে মালা পরিয়ে সম্মান জানায়। মিছিল চলে যাওয়ার পর আনন্দ তার মায়ের কাছে এসে জানায় যে আসলে সেই নিজেই মারী-আই-কে গ্রামের সীমানার ধারে রেখে এসেছে। এই কথা শুনে দুরপত অবাক হয়ে যায় এবং ছেলেকে সতর্ক করে দেয় যেন এই কথা কাউকে না বলে। এইভাবেই গল্পের ঘটনা শেষ হয়।
🔹 ‘পোটরাজ’ গল্পের শব্দার্থ : মারী-আই : মারী-আই দক্ষিণ ভারতের এক লোকায়ত দেবী। বিশ্বাস করা হয়, তাঁর রাগ থেকে মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। অঞ্চলভেদে তিনি মারীআম্মা, রেণুকা, একভীরা বা ইয়েলাম্মা নামেও পরিচিত / পোটরাজ : পোটরাজ হল এক ধরনের লোকায়ত উপাসক সম্প্রদায়। মহারাষ্ট্র, গুজরাত, রাজস্থান ও দমন অঞ্চলে এদের দেখা যায়। মাঙ বা মাতঙ্গ সম্প্রদায়ের একটি শাখা এই পোটরাজ / ঝি : মেয়ে / দোরে : দরজায় / বেজন্মা : যার জন্মের ঠিক নেই / আর্তি : প্রার্থনা / সাপমন্যি : অভিশাপ / গোর : কবর / গুমোটি : ভ্যাপসা গরম / নিদয়া : নিষ্ঠুর / হেলা : তাচ্ছিল্য / সোয়ামি : স্বামী / মানত : মনোবাসনা পূরণ হলে দেবতার উদ্দেশ্যে কিছু উৎসর্গ করার প্রতিশ্রুতি বা সংকল্প / যাত্রা : এখানে দেবতার গমনকেন্দ্রিক উৎসব / ইস্তক : পর্যন্ত / কুমকুম : একধরনের প্রসাধনী / কুঁকড়ো : কুঁকড়ো-মোরগ / পিদিম : প্রদীপ / চক্কর : চক্রাকারে ঘোরা / লিলে : লীলা, মহিমা / পলক : চোখের পাতা ফেলতে যে সময় লাগে / মোড়ল : গ্রামের প্রধান / ফিশ-ফিশানি : চুপিচুপি কথা বলা / রোঁদ : পরিক্রমা / মায়ের দয়া : বসন্ত রোগ / সেবাইৎ : পূজারি / শলা : পরামর্শ / গ্রামমণ্ডল : গ্রামের মোড়ল / সবজান্তা : সব কিছু জানে এমন ভাব / পেত্যয় : বিশ্বাস / একরোখা : জেদি / ঠিকরে : ছড়িয়ে পড়া / নিঃসৃত : বেরিয়ে আসা ।
🔹 ‘পোটরাজ’ গল্পের প্রশ্ন উত্তর পর্ব : আমি আগেই বলেছি দ্বাদশ শ্রেণীর তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা পরীক্ষায় 40 নম্বরের মধ্যে একটি ভারতীয় গল্প ও একটি আন্তর্জাতিক কবিতা থেকে মোট 5 টি MCQ প্রশ্ন আসবে। তাই 5 নম্বর পেতে চাইলে একটি ভারতীয় গল্প 'পোটরাজ' এবং একটি আন্তর্জাতিক কবিতা ‘তার সঙ্গে’ ভালোভাবে পড়তে হবে। সুতরাং 'পোটরাজ' গল্প থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর পড়তে চাইলে নিচে দেখুন লিংক দেওয়া আছে। তবে PDF নিতে চাইলে এই ওয়েবসাইটের উপরে Menu Option-এ ক্লিক করে দেখুন।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমিষ্টার সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমিষ্টার সাজেশন ই-বুক(PDF)গুলি নিতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা, আমাদের ওয়েবসাইটের উপরে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : পোটরাজ গল্পের বিষয়বস্তু PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. অন্ধকার লেখাগুচ্ছ কবিতার বিষয়বস্তু PDF | Click here |
| 2. দিগ্বিজয়ের রূপকথা কবিতার বিষয়বস্তু PDF | Click here |
| 3. বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধের বিষয়বস্তু PDF | Click here |
| 4. তার সঙ্গে কবিতার বিষয়বস্তু PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
