ভূ(caps)মিকা : দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টারে ভূগোল বিষয়ে 35 নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এই 35 নম্বরের মধ্যে ‘ভারতের ভূগোল’ অধ্যায় থেকে মোট 10 নম্বর প্রশ্ন থাকবে। এই অধ্যায় থেকে 2 নম্বর মানের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (4 নম্বর), এবং 3 নম্বর মানের প্রশ্ন চারটি থাকবে, যার মধ্যে যেকোনো দুটি করতে হবে (6 নম্বর)। অর্থাৎ মোট 4 + 6 = 10 নম্বর। এই ‘ভারতের ভূগোল’ অধ্যায়টি মোট তিনটি ইউনিটে বিভক্ত। এর মধ্যে তৃতীয় ইউনিট হল 'ভৌগোলিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্বাচিত কিছু সমস্যা ও বিষয়'। এই ইউনিটটি পরীক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা এই 'ভৌগোলিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্বাচিত কিছু সমস্যা ও বিষয়' ইউনিট থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ 3 নম্বর মানের প্রশ্ন-উত্তর সহ একটি PDF এখানে প্রদান করেছি। এছাড়াও আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক (PDF) শিক্ষার্থীরা অল্প কয়েক টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারেন। কারণ এখন থেকে অনেক প্রশ্ন পরীক্ষায় কমন পাবেন। এই ই-বুকটি WBCHSE বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম অনুসারে অত্যন্ত সহজ ও পরীক্ষামুখীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আপনাদের অনেক সাহায্য করবে। তাই ই-বুক(PDF)টি কিনতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
🔹 WB Class 12 4th Semester Geography Question Answer PDF
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 3]
1. বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলি লেখো।
অথবা, কলকাতায় বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলি লেখো ।
উত্তর : বর্তমানে শহর ও নগরাঞ্চলে বায়ুদূষণ একটি গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা। মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপের ফলে বাতাসের স্বাভাবিক মান নষ্ট হচ্ছে।
বায়ুদূষণের প্রধান কারণসমূহ :
i. যানবাহন ও নগর কার্যকলাপজনিত কারণ : শহরে যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং যানজটের ফলে কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও ধূলিকণার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও গাছ কাটার কারণে সবুজায়ন কমে গিয়ে বায়ুর মান আরও খারাপ হচ্ছে।
ii. নির্মাণ কাজ ও শিল্পকারখানার প্রভাব : বাড়ি ভাঙা ও নির্মাণকাজ থেকে ওঠা ধুলো, পাশাপাশি ইটভাটা ও বিভিন্ন শিল্পকারখানার ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করছে। এসব বর্তমানে বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস।
iii. বর্জ্য পোড়ানো ও গৃহস্থালি কার্যকলাপ : আবর্জনা ও বিভিন্ন বর্জ্য পোড়ানোর ফলে ক্ষতিকর ধোঁয়া বাতাসে মিশে যায়। বস্তি ও ছোট দোকানে কাঠকয়লা দিয়ে রান্না, ইলেকট্রনিক বর্জ্যের সঠিক নিষ্পত্তি না হওয়াও বায়ুদূষণ বাড়াচ্ছে। শুষ্ক আবহাওয়া ও কম বৃষ্টির ফলে দূষণ দীর্ঘসময় বাতাসে রয়ে যায়।
মূল্যায়ন : এই সব কারণের সম্মিলিত প্রভাবে বায়ুদূষণ ক্রমেই বাড়ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
2. গঙ্গায় জলদূষণের মূল কারণগুলি লেখো।
উত্তর : ভারতের বহু নদীর মধ্যে গঙ্গা সবচেয়ে বেশি দূষণের শিকার। মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম, শিল্পকাজ ও ধর্মীয় আচরণের ফলে গঙ্গার জলের স্বাভাবিক মান নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে।
গঙ্গায় জলদূষণের মূল কারণসমূহ :
i. মানব ও গৃহস্থালীর বর্জ্যজনিত দূষণ : গঙ্গানদীতে মানুষের মলমূত্র, নোংরা জল ও ঘরের বর্জ্য অনেক জায়গায় কোনো রকম পরিশোধন ছাড়াই ফেলা হয়। এর ফলে জলে ক্ষতিকর জীবাণুর পরিমাণ বেড়ে যায় এবং জল ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
ii. শিল্প ও কৃষিজ বর্জ্যের প্রভাব : নদীর তীরবর্তী শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ সরাসরি গঙ্গায় মেশে। পাশাপাশি কৃষিক্ষেতে ব্যবহৃত সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলের সঙ্গে নদীতে এসে পড়ে, যা জলের স্বাভাবিক গুণমান নষ্ট করে।
iii. ধর্মীয় কার্যকলাপ ও নদীর প্রবাহগত সমস্যা : ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বর্জ্য, পূজার সামগ্রী এবং মানুষ ও পশুর মৃতদেহ নদীতে ফেলার ফলে জল আরও দূষিত হয়। এছাড়া বাঁধ নির্মাণ ও অতিরিক্ত জল উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কমে গিয়ে দূষিত পদার্থ জমে থাকে।
মূল্যায়ন : এই সব কারণ মিলিয়ে গঙ্গার জল মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে উঠেছে। এর ফলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং নদীর জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই গঙ্গার জলদূষণ রোধ করা আজ অত্যন্ত জরুরি।
3. জলদূষণ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলি লেখো।
অথবা, গঙ্গার দূষণ কমাতে নেওয়া পদক্ষেপগুলি লেখো।
উত্তর : ভারতের নদীগুলির মধ্যে গঙ্গা সবচেয়ে বেশি দূষিত। এই দূষণ কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
জলদূষণ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপসমূহ :
i. সরকারি পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ : গঙ্গার দূষণ কমানোর উদ্দেশ্যে ‘নমামি গঙ্গে’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নদীর দূষণ হ্রাস, অববাহিকার উন্নয়ন ও তীরবর্তী এলাকার স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ১৯৮৫ সালে শুরু হওয়া গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যানের মাধ্যমে ঘরোয়া ও শিল্প বর্জ্য নদীতে পড়া নিয়ন্ত্রণ এবং জল শোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ii. প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত উদ্যোগ : ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা (NMCG)-এর মাধ্যমে গঙ্গা পরিষ্কারের জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন, দূষণপ্রবণ এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন, নদীর নাব্যতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত জলমান পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাহাজ ও ভেসেল থেকে বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
iii. স্থানীয় অংশগ্রহণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি : নদীর দুই পাড়ের বসতি ও শিল্পকারখানার বর্জ্য সরাসরি গঙ্গায় পড়া বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘাট সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন প্রচার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, যাতে স্থানীয় জনগণও গঙ্গা রক্ষায় অংশ নেয়।
মূল্যায়ন : এই সব পদক্ষেপের মাধ্যমে গঙ্গার দূষণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও নিয়মিত নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
4. সুন্দরবন অঞ্চলে মানুষ বন্যপ্রাণী সংঘাতের প্রধান কারণগুলি লেখো।
উত্তর : সুন্দরবন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার দক্ষিণাংশে অবস্থিত একটি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। এই অঞ্চলে মানুষের সঙ্গে বাঘের সংঘাত একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
মূল কারণসমূহ :
i. জীবিকার প্রয়োজনে মানুষের জঙ্গলে প্রবেশ : সুন্দরবনের আশপাশের মানুষ মাছ ও কাঁকড়া ধরা, মধু সংগ্রহ, কাঠ ও বনজ সম্পদ আহরণের জন্য নিয়মিত জঙ্গলে যান। এই কাজে যুক্ত থাকার সময় তারা বাঘ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হন, ফলে সংঘাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
ii. বনভূমি হ্রাস ও খাদ্যসংকট : বনাঞ্চল কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঘের স্বাভাবিক শিকার প্রাণীর সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে। খাদ্যের অভাবে বাঘ লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসে এবং তখন মানুষ বা গৃহপালিত পশুর ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে।
iii. জনসংখ্যার চাপ ও প্রাকৃতিক পরিবর্তন : মানুষের সংখ্যা বাড়ার ফলে বনাঞ্চলের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং মানুষের বসতি ক্রমশ বনের কাছাকাছি চলে আসছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক সমস্যার কারণে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাস নষ্ট হয়ে তারা লোকালয়ে প্রবেশ করতে বাধ্য হচ্ছে।
মূল্যায়ন : এই সব কারণের সম্মিলিত প্রভাবে সুন্দরবনে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। তাই এই সমস্যার সমাধানে পরিকল্পিত ব্যবস্থা ও সচেতনতা অত্যন্ত প্রয়োজন।
5. সুন্দরবন অঞ্চলে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতের প্রভাব বা ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর : সুন্দরবন অঞ্চলে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংঘাত একটি গুরুতর সমস্যা। এই সংঘাতের প্রভাব মানুষের জীবন, পরিবেশ ও অর্থনীতির উপর স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
সুন্দরবন অঞ্চলে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতের প্রধান প্রভাবসমূহ :
i. মানবজীবন ও জীবিকার ক্ষতি : বন্যপ্রাণীর আক্রমণে অনেক সময় মানুষ নিহত বা আহত হয়। পাশাপাশি গবাদি পশু ও ফসল নষ্ট হওয়ায় স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরবাড়ি ও খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও একটি সাধারণ সমস্যা।
ii. বন্যপ্রাণী ও আবাসের ক্ষয় : মানুষের আত্মরক্ষার চেষ্টা, চোরা শিকার ও বনদস্যুদের কারণে অনেক সময় বন্যপ্রাণী আহত বা নিহত হয়। একই সঙ্গে বসতি বিস্তার, চাষাবাদ ও বন উজাড়ের ফলে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাস ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
iii. প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত জটিলতা : ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক সমস্যার কারণে মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়েই ক্ষতির মুখে পড়ছে। এর ফলে প্রাণীর সংকট, রোগবালাই ও সংঘাতের প্রবণতা আরও বাড়ছে।
মূল্যায়ন : যদিও টহল ব্যবস্থা জোরদার, ক্ষতিপূরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে মানুষ-বাঘ সংঘাত কিছুটা কমেছে, তবুও সুন্দরবন অঞ্চলে এই সংঘাত এখনো মানুষের জীবন-জীবিকা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
6. পশ্চিমবঙ্গে আর্সেনিক দূষণের কারণগুলি কারণ লেখো।
উত্তর : পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগণা, মালদা, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি এলাকায় আর্সেনিক দূষণ একটি বড় সমস্যা। এটি মূলত ভূগর্ভস্থ জল ও মৃত্তিকার মাধ্যমে মানুষ ও পরিবেশে ক্ষতি ঘটায়।
মূল কারণসমূহ :
i. প্রাকৃতিক উৎস : ভূগর্ভস্থ খনিজ, বিশেষ করে আর্সেনোপাইরাইট, জলের সঙ্গে মিশে আর্সেনিক দূষণ সৃষ্টি করে। অনেক সময় ভূগর্ভস্থ শিলাতেও আর্সেনিক থাকে, যা ধীরে ধীরে জল ও মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে।
ii. ভূগর্ভস্থ জলের অতিমাত্রায় উত্তোলন : ভূগর্ভস্থ জল স্তর কমে গেলে নিম্ন অঞ্চলের আর্সেনিক সমৃদ্ধ জল উপরের দিকে উঠে আসে এবং পানির সঙ্গে মিশে দূষণ বাড়ায়।
iii. কৃষিকাজ ও অতিরিক্ত জলসেচ : কৃষিক্ষেত্রে বেশি জল ব্যবহার ও আর্সেনিক সমৃদ্ধ সার প্রয়োগের কারণে মাটির আর্সেনিকের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
মূল্যায়ন : এই সব কারণে পশ্চিমবঙ্গের জলের আর্সেনিক দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও কৃষিজমির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
7. পশ্চিমবঙ্গে আর্সেনিক দূষণের প্রভাব বা ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর : পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলা যেমন মালদা, উত্তর ২৪ পরগণা, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ভূগর্ভস্থ জল ও মাটিতে আর্সেনিক উপস্থিতি বেশি। এতে পানি, মানুষ ও পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
পশ্চিমবঙ্গে আর্সেনিক দূষণের প্রভাব :
i. পানি ও মাটির দূষণ : আর্সেনিকযুক্ত জল মাটির সঙ্গে মিশে মৃত্তিকাও দূষিত হয়। এই দূষিত জল পানীয় ও কৃষিকাজের জন্য ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ে।
i. স্বাস্থ্য সমস্যা : আর্সেনিক দূষণের কারণে মানুষের ত্বকে ঘা, ব্ল্যাকফুট বা ক্যানসারের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া ফুসফুস, কিডনি, লিভার এবং স্নায়ুতন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
iii. সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব : দূষিত জল ব্যবহার ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে, চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে যায় এবং কৃষি উৎপাদন কমে যায়। ফলে পরিবার ও এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থা প্রভাবিত হয়।
মূল্যায়ন : আর্সেনিক দূষণ মানুষের স্বাস্থ্য, কৃষিজমি এবং পরিবেশ উভয়ের জন্য বিপজ্জনক। আর্সেনিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ না করলে মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ উভয়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
8. আর্সেনিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধের উপায়গুলি লেখো।
উত্তর : পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগণা, মালদা ও মুর্শিদাবাদে ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিকের মাত্রা বেশি। এতে পানি, মানুষ এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। তাই আর্সেনিক দূষণ প্রতিরোধ করা জরুরি।
আর্সেনিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধের উপায় :
i. নিরাপদ পানি ব্যবহার : আর্সেনিক দূষণ কমাতে RO ফিল্টার বা বোতলজাত আর্সেনিকমুক্ত পানি ব্যবহার করা উচিত। এতে আর্সেনিক অপসারণ হয় এবং পানীয় জল নিরাপদ হয়।
ii. গভীর নলকূপ ও বৃষ্টির জল সংরক্ষণ : শর্ট নলকূপের তুলনায় গভীর নলকূপের জলে আর্সেনিকের মাত্রা কম থাকে। এছাড়া বর্ষাকালে ছাদে বা পাত্রে বৃষ্টির জল ধরে রাখলে তা পানীয় ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যায়, যা দূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
iii. জলের নিয়মিত পরীক্ষা : ব্যবহৃত পানির আর্সেনিকের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। এতে সময়মতো সমস্যার সনাক্তকরণ সম্ভব হয় এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
মূল্যায়ন : এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে আর্সেনিক দূষণ কমানো সম্ভব। এর ফলে মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা হয়, কৃষিজমির উর্বরতা বজায় থাকে এবং পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে।
9. সুন্দরবন অঞ্চলে মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাত নিয়ন্ত্রণের উপায়/পদ্ধতি লেখো।
উত্তর : সুন্দরবনে মানুষের সঙ্গে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সংঘাত একটি সাধারণ সমস্যা। এই সমস্যা কমাতে নানা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সুন্দরবন অঞ্চলে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত নিয়ন্ত্রণের উপায় :
i. নিরাপত্তা ও সরঞ্জাম : স্থানীয় জেলে ও কাঠুরেরা বিশেষ হেলমেট বা প্যাড ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষা করেন। সরকারি কর্মকর্তারা শক্ত প্যাড ব্যবহার করে ঘাড় ও গলার অংশ ঢেকে রাখেন, যাতে বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচা যায়।
ii. আইন, সংরক্ষণ ও বন নিয়ন্ত্রণ : বন্যপ্রাণী হত্যা বা দখলের ওপর কঠোর আইন আছে। সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা ও বন রক্ষার জন্য কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে।
iii. সচেতনতা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা : স্থানীয় মানুষদের সচেতন করা, বনভ্রমণের সময় সতর্ক থাকার প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বন্যপ্রাণীর চলাচল পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকি কমানো হচ্ছে।
iv. বিকল্প জীবিকা : জীবিকার জন্য বননির্ভরতা কমাতে বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করা হচ্ছে, যাতে মানুষ কম ঝুঁকিতে পড়ে।
মূল্যায়ন : এই সব উদ্যোগ সুন্দরবনে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত কমাতে কার্যকর হলেও সমস্যা পুরোপুরি শেষ হয়নি। নিয়মিত নজরদারি, সচেতনতা ও স্থানীয় অংশগ্রহণ এখনো অপরিহার্য।
10. ডুয়ার্সে মানুষ এবং বন্যপ্রাণী সংঘাতের কারণগুলি লেখো।
উত্তর : ডুয়ার্স, পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় অবস্থিত, যেখানে মানুষ ও গণ্ডার, হাতি, বাইসন, সাপ প্রভৃতি বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত ঘটে। এই সংঘাতের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ আছে।
মূল কারণসমূহ :
i. বনভূমি হ্রাস ও জনসংখ্যা চাপ : নতুন বসতি, চা-বাগান ও কৃষিজমি তৈরি করতে বন কাটা হচ্ছে। এতে বন্যপ্রাণীর আবাস ও খাদ্য কমে যাচ্ছে, ফলে তারা মানুষের বসতি এলাকায় আসে।
ii. খাদ্য ও সম্পদের অভাব : প্রাকৃতিক খাদ্য কমে গেলে হাতি, চিতাবাঘ, বাইসন প্রভৃতি প্রাণী খাবারের খোঁজে গ্রাম বা চা-বাগানে প্রবেশ করে, যা সংঘাত বাড়ায়।
iii. আধুনিক জীবন ও পর্যটনের প্রভাব : হোটেল, রিসর্ট, পার্টি বা উচ্চ শব্দ ও আলো বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করে এবং তাদের আবাস পরিবর্তনে বাধ্য করে।
iv. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বনজ সম্পদ আহরণ : বর্ষার সময়ে বন প্লাবিত হলে বন্যপ্রাণী নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মানুষের এলাকা প্রবেশ করে। এছাড়া স্থানীয়দের কাঠ, জ্বালানি ও বনজ সম্পদ সংগ্রহও বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত করে।
মূল্যায়ন : এই সব কারণে ডুয়ার্সে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত নিয়মিত ঘটে, যার ফলে মানুষের জীবন, সম্পত্তি এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা উভয়ই হুমকির মুখে পড়ে।
11. গঙ্গা অববাহিকায় জলদূষণের ফলাফল আলোচনা করো।
উত্তর : ভারতের নদীগুলির মধ্যে গঙ্গা সবচেয়ে বেশি দূষণের শিকার। এই দূষণ শুধু নদীর জলকেই নয়, গঙ্গা অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষ, জীবজগৎ ও অর্থনীতির উপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।
গঙ্গা অববাহিকায় জলদূষণের ফলাফল :
i. মানবস্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব : গঙ্গার জল দূষিত হওয়ার ফলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। এর ফলে মানুষের মধ্যে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, পেটের অসুখ, ফুসফুস ও যকৃতের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি আর্সেনিক ও ভারী ধাতুর উপস্থিতির কারণে ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
ii. জলজ পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের অবনতি : দূষণের কারণে গঙ্গার জলে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে, যার ফলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও ভারী ধাতুর প্রভাবে নদীর স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী বিষক্রিয়ার শিকার হচ্ছে।
iii. সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা : জলদূষণের কারণে বিশুদ্ধ পানীয় জল ও সেচের জলের সংকট দেখা দিয়েছে, যা কৃষিকাজ ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় মৎস্যজীবীদের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
মূল্যায়ন : গঙ্গা অববাহিকায় জলদূষণের ফলে মানবস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতি সব দিকেই গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তাই এই দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
12. জঙ্গলমহল এলাকায় ভূমির অবনমনের প্রধান কারণগুলি লেখো।
উত্তর : জঙ্গলমহল অঞ্চল পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত একটি বনপ্রধান এলাকা। এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে ধীরে ধীরে ভূমির মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জঙ্গলমহল এলাকায় ভূমির অবনমনের প্রধান কারণসমূহ :
i. বন উজাড় ও অনিয়ন্ত্রিত ভূমি ব্যবহার : এই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে গাছ কাটা ও জমির চরিত্র পরিবর্তনের ফলে মাটির স্বাভাবিক গঠন দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি ভুল চাষ পদ্ধতি, বারবার একই জমিতে চাষ ও অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে মৃত্তিকার উর্বরতা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
ii. জলাভাব ও সংরক্ষণের ঘাটতি : যদিও জঙ্গলমহলে বৃষ্টি হয়, তবুও জল ধরে রাখার উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় শুষ্ক পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর ফলে মৃত্তিকা ক্ষয় বৃদ্ধি পায় এবং ভূমি ধীরে ধীরে অবনমনের দিকে এগোয়।
iii. প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানবচাপের প্রভাব : এই এলাকার ল্যাটেরাইট মাটি ও উঁচুনিচু ভূমিরূপ সহজেই ক্ষয়ের শিকার হয়। নদীর গতিপথ বদল, জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিত বসতি গঠন এবং অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন ভূমির অবনমনকে আরও দ্রুত করছে।
মূল্যায়ন : সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রাকৃতিক কারণ ও মানুষের অসচেতন ব্যবহারের যৌথ প্রভাবে জঙ্গলমহল এলাকায় ভূমির অবনমন বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষি ও পরিবেশের জন্য বড় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : WB Semester Team প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুক(PDF)টিতে পুরো সিলেবাসের প্রশ্ন উত্তর রয়েছে এবং এই ইউনিট থেকে 2 নম্বর মানের এবং আরো অনেকগুলি 3 নম্বর মানের প্রশ্ন উত্তর রয়েছে।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত দ্বাদশ শ্রেণীর চতুর্থ সেমিস্টার ভূগোল সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই এই ই-বুক(PDF)টি কিনতে হলে মেনু অপশনে ক্লিক করে বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
File Details :
PDF Name : ভৌগোলিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্বাচিত কিছু সমস্যা ও বিষয় প্রশ্ন উত্তর
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. ডাকঘর নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 2. ক্লাস 12 জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ | Click here |
| 3. ক্লাস 12 বহির্জাত ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া | Click here |
| 4. ক্লাস 12 ভারত সরকারের বিভিন্ন বিভাগসমূহ PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
