WB Semester Display Ads-1

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

ক্লাস 12 দ্বিতীয় পর্ব জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ | Class 12 4th Semester History Question Answer | দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার ইতিহাস প্রশ্ন উত্তর

0
দ্বিতীয় পর্ব : জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ
ভূ(caps)মিকা : দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার ইতিহাস বিষয়ে 40 নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এই 40 নম্বরের মধ্যে ইতিহাস সিলেবাসের চতুর্থ অধ্যায় : 'জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ' থেকে মোট 19 নম্বর আসবে। অর্থাৎ 3 নম্বর মানের 2 টি প্রশ্ন থাকবে, যে-কোন 1 টি করতে হবে এবং 4 নম্বর মানের 4 টি প্রশ্ন থাকবে, যে-কোন 2 টি করতে হবে ও 8 নম্বর মানের 2 টি প্রশ্ন থাকবে, যে-কোন 1 টি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। তাহলে মোট 3+8+8=19 নম্বর। তাই এই অধ্যায়টি পরীক্ষার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম পর্বে 'জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ' অধ্যায় থেকে 3 নম্বর বা 4 নম্বর মানের বেশ কয়েকটি প্রশ্নোত্তর দিয়েছিলাম। আবার আজকে এই দ্বিতীয় পর্বে আরো বেশ কয়েকটি 3 নম্বর বা 4 নম্বর মানের প্রশ্নোত্তরসহ PDF নিচে দিলাম। তবে দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার সাজেশন ই-বুকগুলি(PDF) প্রয়োজন হলে আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option এ ক্লিক করে দেখতে পারেন।

Class 12 4th Semester History Question Answer
🔹 Class 12 4th Semester History Suggestion 
[প্রতিটি প্রশ্নের মান : 3/4] 
7. ভারতের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে লালা লাজপত রায়ের অবদান আলোচনা করো।
উত্তর : চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের তিন নেতার মধ্যে লালা লাজপত রায় ছিলেন অন্যতম মুখ্য ব্যক্তিত্ব। স্বরাজ অর্জনকে জীবনের মূল লক্ষ্য করে তিনি জাতীয় আন্দোলনে বিভিন্নভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তাঁর সাহসী নেতৃত্ব ও সংগঠকসুলভ মানসিকতা স্বাধীনতা সংগ্রামকে নতুন গতি দেয়।
লালা লাজপত রায়ের প্রধান অবদান :
(i) চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের ধারক হিসেবে : প্রথমদিকে নরমপন্থীদের সঙ্গে থাকলেও পরে তিনি সংগ্রামশীল জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী হন। বয়কট, স্বদেশী এবং সক্রিয় আন্দোলনের পক্ষে তিনি দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানান।
(ii) পাঞ্জাবের কৃষক আন্দোলনের সংগঠক : পাঞ্জাবে ভূমি বণ্টন ও করনীতির অন্যায় কৃষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তিনি অজিত সিংকে সঙ্গে নিয়ে বড় কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং কৃষকদের অবিচারের বিরুদ্ধে সংগঠিত করে ব্রিটিশ প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।
(iii) বিদেশে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রচার : পাঞ্জাবের কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় লাজপত রায়কে মান্দালয়ে নির্বাসিত করা হয়। মুক্ত হওয়ার পর তিনি আমেরিকায় গিয়ে ‘হোমরুল লীগ’-এর একটি শাখা প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিদেশে ভারতের স্বাধীনতার দাবিতে জনমত গড়ে তুলতে সক্রিয় হন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী প্রচার চালিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের অবস্থার কথা প্রচার করেন। পরে 1919 সালে দেশে ফিরে কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশনের সভাপতি হয়ে অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করেন।
(iv) সাংবাদিকতা ও জনসচেতনতার প্রসারে ভূমিকা : ‘পাঞ্জাবী’ ও ‘কায়স্থ সমাচার’ পত্রিকার মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ শাসনের ভুলনীতি, অন্যায় ও নরমপন্থীদের দুর্বলতা তুলে ধরে জনমতকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং লেখনীকে জাতীয়তাবাদের প্রচারের শক্তিশালী মাধ্যম বানান।
(v) সাইমন কমিশন-বিরোধী আন্দোলনের নেতা : ভারতীয় সদস্যবিহীন সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশজোড়া প্রতিবাদে তিনি লাহোরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন, যেখানে পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়ে পরে 1928 খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন, যা আন্দোলনে আরও ক্ষোভ ও তীব্রতা সৃষ্টি করে।
মন্তব্য : লালা লাজপত রায়ের সংগ্রাম, সাহস, এবং স্বাধীনতার প্রতি অটল অঙ্গীকার তাঁকে জাতীয় আন্দোলনের চিরস্মরণীয় নায়ক করে তুলেছে। মানসিক শক্তি, নেতৃত্বের ক্ষমতা ও দেশপ্রেমের জন্যই তিনি ‘পাঞ্জাব কেশরী’ নামে ইতিহাসে সম্মানিত।

8. ভারতের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে বাল গঙ্গাধর তিলকের অবদান আলোচনা করো।
উত্তর : ভারতের জাতীয় আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে যে কয়েকজন নেতা পথ দেখিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে বাল গঙ্গাধর তিলক ছিলেন অন্যতম। তিনি ছিলেন “লাল-বাল-পাল” ত্রয়ীর প্রধান। জনসাধারণ তাঁকে বলতেন "লোকমান্য", গান্ধিজি তাঁকে দেখতেন "আধুনিক ভারতের নির্মাতা" হিসেবে, আর ব্রিটিশদের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন “ভারতীয় অস্থিরতার জনক” এই উপাধিগুলো তাঁর সংগ্রামী চরিত্রের শক্তি বোঝায়। 
মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে বাল গঙ্গাধর তিলকের অবদান :
(i) চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের প্রসার : কংগ্রেসে যোগ দিয়েই তিলক নরমপন্থীদের ‘বিনীত আবেদন’ নীতির বিরোধিতা করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন যে ভারতের লক্ষ্য শুধু সংস্কার নয়, স্বরাজই প্রকৃত লক্ষ্য। তাঁর ঐতিহাসিক উক্তি “স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার এবং আমি তা অর্জন করবই,” দেশবাসীর মনে প্রবল আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে এবং ব্রিটিশ শাসকদের আতঙ্কিত করে।
(ii) পত্রপত্রিকা ও লেখনীর মাধ্যমে জনমত গঠন : তিনি জনমতকে সজাগ রাখার জন্য দুটি প্রভাবশালী পত্রিকা প্রকাশ করেন ‘কেশরী’ ও ‘মারাঠা’। এই পত্রিকাগুলোতে তিনি ব্রিটিশ শাসনের অন্যায়, অর্থনৈতিক লুট এবং দমননীতির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে লিখতেন। পরে মান্দালয়ের কারাগারে থাকাকালীন তিনি রচনা করেন ‘গীতা রহস্য’, যা তাঁর চিন্তা-মননের পরিচয় বহন করে।
(iii) গণসংযোগ ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তার উত্থান : তিলক বিশ্বাস করতেন যে আন্দোলন শক্তিশালী হতে হলে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করতেই হবে। তাই গণপতি উৎসব এবং শিবাজী উৎসবকে তিনি সমাজব্যাপী গণোৎসবে রূপ দেন। এই অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে মানুষ একত্রিত হয়, নিজেদের শক্তি উপলব্ধি করে এবং জাতীয়তাবাদী ভাবনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
(iv) হোম রুল আন্দোলনের সূচনা : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে তিলক অ্যানি বেসান্তের সঙ্গে মিলে ১৯১৬ সালে হোম রুল আন্দোলন শুরু করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত থেকেও ভারতের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার প্রতিষ্ঠা। এই আন্দোলন দেশব্যাপী সাড়া ফেলে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে নতুন গতি যোগায়।
(v) হিন্দু-মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা : জাতীয় আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে তিলক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর গুরুত্ব দেন। তাই ১৯১৬ সালে তিনি জিন্নাহর সঙ্গে ঐতিহাসিক লক্ষ্ণৌ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এর ফলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে সাময়িক হলেও গুরুত্বপূর্ণ ঐক্য গড়ে ওঠে, যা ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামকে নতুন শক্তি দেয়।
মূল্যায়ন : বাল গঙ্গাধর তিলক ভারতের জাতীয় আন্দোলনে এক নতুন ধারা সৃষ্টি করেন। তাঁর স্বরাজের দাবি, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ এবং জনসাধারণকে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা স্বাধীনতা সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করে। তিলকের চিন্তা ও কর্মই পরবর্তীতে সর্বভারতীয় গণআন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। তাই তিনি ভারতীয় মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য ও পথপ্রদর্শক নেতা।

9. ভারতের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে বিপিনচন্দ্র পালের অবদান আলোচনা করো। 
উত্তর : বাংলার বিপিনচন্দ্র পাল ছিলেন ভারতের চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের অন্যতম। “লাল-বাল-পাল” ত্রয়ীর একজন হিসেবে তিনি শুধু বক্তৃতা বা লেখনী নয়, চিন্তা ও সংগ্রামের মাধ্যমে জাতীয় আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেন। তাঁর দৃঢ় অবস্থান, নির্ভীক মনোভাব এবং আপসহীন দেশপ্রেম তাঁকে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ভারতের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে বিপিনচন্দ্র পালের অবদান :
(i) চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের উত্থানে তাঁর ভূমিকা : কংগ্রেসের নরমপন্থী ‘আবেদন-অনুরোধ’ নীতিতে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাই তিলক ও লাজপত রায়ের সঙ্গে মিলিত হয়ে তিনি অধিকারের জন্য সক্রিয় সংগ্রামের পথ বেছে নেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল সংস্কার আদায় নয়, ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন।
(ii) স্বদেশী আন্দোলনে নেতৃত্বদানের ভূমিকা : ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা স্বদেশী আন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান নেতা। তাঁর তেজস্বী বক্তৃতা যুবসমাজকে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। বিপিনবাবু বয়কটকে শুধু বিদেশি পণ্য বর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি, বরং ব্রিটিশ শিক্ষা, আদালত, চাকরি সবকিছুর বর্জনের মাধ্যমে এটিকে সর্বাত্মক আন্দোলনে রূপ দেন।
(iii) নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ চিন্তার প্রসার : তিনি ভারতে প্রথমবারের মতো নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ অর্থাৎ ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে সর্বাত্মক অসহযোগের ধারণাকে জনপ্রিয় করে তোলেন। তাঁর এই ভাবনা পরবর্তীকালে গান্ধিজির সত্যাগ্রহ নীতিতেও প্রভাব ফেলেছিল।
(iv) জাতীয়তাবাদী সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনমত গঠন : বিপিনচন্দ্র পাল “নিউ ইন্ডিয়া” এবং “বন্দেমাতরম্” পত্রিকার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন। তাঁর লেখনী শুধু সমালোচনা নয়, মানুষের মধ্যে স্বদেশপ্রেম, আত্মবিশ্বাস ও যুক্তিনির্ভর জাতীয়তা জাগিয়ে তুলেছিল। আলিপুর বোমা মামলায় অরবিন্দ ঘোষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করে তিনি কারাবরণ করেন-এটি তাঁর নিঃশর্ত নীতিবোধের উজ্জ্বল উদাহরণ।
মূল্যায়ন : রাজনৈতিক জীবনশেষে মতাদর্শের কিছু পরিবর্তন দেখা গেলেও, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিপিনচন্দ্র পালের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। গণ-আন্দোলন, বয়কট, নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ এসব সংগ্রামী ধারার প্রথম শক্তিশালী ভিত্তি তিনি-ই গড়ে দেন। তাঁর ভাবনা ও পথনির্দেশ পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম মূল শক্তিতে পরিণত হয়।

10. ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অরবিন্দ ঘোষের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর : ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অরবিন্দ ঘোষ এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবনের প্রথম পর্বে তিনি ছিলেন এক দৃঢ় জাতীয়তাবাদী ও বিপ্লবী নেতা, আর পরবর্তী পর্বে হয়ে ওঠেন আধ্যাত্মিক সাধক। উভয় অবস্থান থেকেই তিনি জাতির মানসিক শক্তিকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলেছিলেন। তাই তাঁর ভূমিকা শুধু রাজনীতিতে নয়, জাতীয় চেতনার মধ্যেও স্থায়ী ছাপ রেখে যায়।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অরবিন্দ ঘোষের ভূমিকা :
(i) চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের নেতৃত্বদান : ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে অরবিন্দ ঘোষ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেন। কংগ্রেসের নরমপন্থী আবেদন–নিবেদন নীতিকে তিনি দুর্বল বলে মনে করতেন। তাই তিলক ও বিপিনচন্দ্র পালের মতো নেতাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি তোলেন এবং সংগ্রামে যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করেন।
(ii) ‘বন্দেমাতরম্’ পত্রিকার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ প্রচার : ইংরেজি সাপ্তাহিক ‘বন্দেমাতরম্’ সম্পাদনার সময় তাঁর লেখনী জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে নতুন মাত্রা দেয়। এখানে তিনি বয়কট, নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ ও স্বরাজের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তাঁর তীব্র যুক্তি ও ভাষাশক্তি সাধারণ মানুষের মনে স্বাধীনতার ভাবনা জাগিয়ে তোলে।
(iii) বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয় ভূমিকা : অরবিন্দ ঘোষ মনে করতেন, ব্রিটিশ শাসন হঠাতে শুধু অসহযোগ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজনে সশস্ত্র সংগ্রামের পথেও হাঁটতে হবে। তাই তিনি ‘অনুশীলন সমিতি’র মতো বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং তাঁদের কার্যকলাপে দিকনির্দেশ দেন।
(iv) আলিপুর বোমা মামলায় ঐতিহাসিক ভূমিকা : ১৯০৮ সালের আলিপুর বোমা মামলায় তাঁকে হত্যাচক্রান্তে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর চিত্তরঞ্জন দাশের সওয়ালে তিনি খালাস পান। এই মামলা তাঁকে ভারতজুড়ে পরিচিত করে তোলে এবং বিপ্লবী আন্দোলনের মনোবল বাড়ায়।
(v) আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে জাতীয় চেতনার বিস্তার : কারাবাসের অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে গভীর পরিবর্তন আনে। তিনি রাজনীতি ছেড়ে ১৯১০ সালে পন্ডিচেরিতে গিয়ে যোগসাধনায় মনোনিবেশ করেন। ‘পূর্ণযোগ’-এর দর্শন, ‘আর্য’ পত্রিকার মাধ্যমে ভাবনা প্রকাশ এবং 'দ্য লাইফ ডিভাইন', 'দ্য সিন্থেসিস অফ যোগা', 'সাবিত্রী' প্রভৃতি রচনার মাধ্যমে তিনি স্বাধীনতার দার্শনিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করেন। তাঁর মতে, ভারতের প্রকৃত মুক্তি আসবে আত্মিক শক্তির জাগরণে।
উপসংহার : অরবিন্দ ঘোষ কেবল একজন বিপ্লবী নেতা নন, তিনি ছিলেন ভারতের জাতীয় চেতনার নির্মাতা। একদিকে তিনি সশস্ত্র সংগ্রাম ও চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, আবার অন্যদিকে আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে মানুষের অন্তর্গত শক্তিকে জাগাতে চেয়েছেন। তাই তাঁর অবদান শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভারতের মানসিক ও আধ্যাত্মিক জাগরণের ইতিহাসেও তিনি এক স্থায়ী ও অনন্য স্থান অধিকার করে আছেন।
🔹 ইতিহাস শিক্ষকের শেষ মন্তব্য :
দ্বাদশ শ্রেণির চতুর্থ সেমিস্টার ইতিহাস সিলেবাসের চতুর্থ অধ্যায় : 'জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ' অধ্যায় থেকে আমাদের সাজেশন E-Book(PDF)গুলিতে আরো অনেকগুলি 3 নম্বর মানের ও 4 নম্বর মানের খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আছে। সেগুলি পেতে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন অথবা উপরের Menu Option ক্লিক করে দেখতে পারেন।
File Details :
PDF Name : ক্লাস 12 দ্বিতীয় পর্ব জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ
Size : 1 MB
No. of Pages : 2
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download

আরো পড়ুন প্রশ্নোত্তর
1. ক্লাস 12 বিদ্রোহ এবং ব্রিটিশরাজ PDF  Click here
2. ক্লাস 12 জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ  Click here
3. ক্লাস 12 : আলিগড় আন্দোলন, মুসলিম লিগের Click here

Regards
WB Semester Team 
📞 & 💬 9883566115

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.