এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মাধ্যমিক সংলাপ রচনা উত্তরসহ | Class 10 Songlap Rochona WBBSE

3

ভূমিকা : পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) অনুমোদিত দশম শ্রেণি তথা মাধ্যমিক পরীক্ষার বাংলা প্রশ্নপত্রের ১০ নম্বর দাগে ৫ নম্বরের দুটি প্রশ্ন (একটি প্রতিবেদন রচনা এবং অপরটি সংলাপ রচনা) দেওয়া থাকে। পরীক্ষার্থীদের এর মধ্যে থেকে যেকোনো একটির উত্তর লিখতে হয়। তাই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আজকের এই পোস্টে বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ রচনা উত্তরসহ নিচে আলোচনা করা হলো।

(toc)
মাধ্যমিক সংলাপ রচনা

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ রচনা :

1. পরিবেশ দূষণ ও সভ্যতার সংকট নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।

উত্তর : রাজু : ভাইকে নিয়ে সকালে কোথায় গিয়েছিলি বিজয়? কোথাও ঘুরতে?
বিজয় : না রে, ডাক্তারখানায়। কয়েকদিন ধরে ও কানে খুব কম শুনছে।
রাজু : চারপাশের যে অবস্থা, তাতে কানের দোষ কী! চারদিকে যেভাবে শব্দদূষণ বাড়ছে, তা তো কমার নামই নেই।
বিজয় : শুধু কি শব্দদূষণ? ভেবে দ্যাখ, প্রতিদিন চারপাশে আরও কতভাবে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
রাজু : ঠিক বলেছিস। বায়ু, জল, মাটি- সব জায়গায় এখন শুধু দূষণ আর দূষণ।
বিজয় : বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বাতাস দূষিত হচ্ছে। কারখানার বর্জ্য আর রাসায়নিক মিশে নষ্ট হচ্ছে নদীর পানীয় জলও।
রাজু : আর যত্রতত্র পড়ে থাকা প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা একেবারে শেষ করে দিচ্ছে। মানুষ নিজেই নিজের সর্বনাশ ডেকে আনছে।
বিজয় : খাঁটি কথা। মানুষ প্রযুক্তির উন্নতি করছে ঠিকই, কিন্তু সভ্যতার নামে সুন্দর পৃথিবীটাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রাজু : দূষণ কমানোর প্রধান উপায় হলো গাছ লাগানো। অথচ জঙ্গল কেটে আমরা পৃথিবীকে মরুভূমি বানাচ্ছি।
তবে ভালো খবর হলো, স্কুল-কলেজে এখন পরিবেশবিদ্যা পড়ানো বাধ্যতামূলক হয়েছে।
বিজয় : শুধু বইয়ের পাতায় পড়ে পরীক্ষায় পাশ করলে তো হবে নিরাপদ নয়! পরিবেশ বাঁচাতে গেলে আমাদের সবার প্রকৃত সচেতনতা আর আন্তরিক উদ্যোগ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

2. অনলাইন পঠন-পাঠনের সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।

উত্তর : রিয়া : কাল তুই অনলাইন ক্লাস করলি না কেন?
সোনালী: ধুর! অনলাইনে কি আর পড়াশোনা হয়? আমার কাছে পুরোটাই ফালতু মনে হয়।
রিয়া : কে বলল ফালতু? দিদিমণি তো খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দেন। তাছাড়া ক্লাসরুমের মতো হইহট্টগোল থাকে না বলে আমার বেশ ভালোই লাগে।
সোনালী : সে তো বুঝলাম, কিন্তু আমার বাড়িতে ইন্টারনেটের অবস্থা খুব খারাপ। নেটওয়ার্ক না থাকলে ক্লাস করব কী করে?
রিয়া : এটা ঠিক, ইন্টারনেটের সমস্যা থাকলে ক্লাস করা মুশকিল। তাছাড়া আমাদের অনেক বন্ধুর তো ফোনই নেই, তারা বেচারা কীভাবে ক্লাস করবে!
সোনালী: যাদের ফোন আছে, তারাই বা ক-জন মন দিয়ে ক্লাস করে? অনেকেই তো ক্লাস চালু করে গেম খেলতে বসে পড়ে!
রিয়া : কথা সত্যি। তবে গুটি কয়েক অমনোযোগী ছাত্রছাত্রীর জন্য অনলাইন ক্লাসকে খারাপ বলা যায় না। ফাঁকিবাজরা ক্লাসরুমেও ফাঁকি দেয়।
সোনালী: তা ঠিক। তবে তুই কি বলতে চাইছিস যে, অনলাইন ক্লাস স্কুলের চেয়েও বেশি ভালো?
রিয়া : একদমই না, এটা কখনোই স্কুলের বিকল্প হতে পারে না। তোর অসুবিধা হলে তুই আমাদের বাড়িতে চলে আসিস, দুজনে একসঙ্গে ক্লাস করব।
সোনালী: হ্যাঁ, এটা তুই খুব ভালো বলেছিস। ঠিক আছে, কাল থেকে আমি তোদের বাড়িতেই ক্লাস করতে যাব।

3. নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।

উত্তর : বিকাশ : কী ব্যাপার মনোজ, তোর বাজারের থলেটা আজ এত খালি কেন?
মনোজ : বাজারে সবকিছুর যে আগুন দাম, থলে ভরে বাজার করার দিন শেষ।
মাছ-মাংস তো বটেই, সবজি বাজারে গিয়েও কোনো স্বস্তি নেই।
বিকাশ : এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকাই দায় হবে!
মনোজ : শৌখিন জিনিস বাদ দে। চাল, ডাল, তেল, নুনের মতো দরকারি জিনিসগুলো সাধ্যের বাইরে গেলে মানুষ খাবে কী? জামাকাপড়ের দামও তো আকাশছোঁয়া!
বিকাশ : শুধু জামাকাপড় নয়, জীবনদায়ী ওষুধ থেকে শুরু করে সবকিছুরই তো দাম বেড়েছে।
মনোজ : আসল সমস্যা হলো, জিনিসের দাম যে হারে বাড়ছে, মানুষের আয় সেভাবে বাড়ছে না। অথচ মূল্যবৃদ্ধি রুখতে সরকারের কোনো মাথাব্যথাই নেই।
বিকাশ : কিছু অসাধু ব্যবসায়ীও তো ইচ্ছে করে বাজারে জিনিসের অভাব তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়।
মনোজ : একদম ঠিক বলেছিস। বেশি লাভের আশায় এটা ওদের পুরনো ফন্দি।
বিকাশ : তাহলে সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের কি কিছুই করণীয় নেই?
মনোজ : নিশ্চয়ই আছে। এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে আমাদের একজোট হয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে হবে। আজ চলি, বাজার নিয়ে না গেলে মা রান্না বসাতে পারবে না।

4. জলের অপচয় রোধ ও সংরক্ষণ নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।

উত্তর : আকাশ : শুভ সকাল নয়ন! আজ রাস্তায় দেখলাম অনেকেই জলের কল খোলা রেখেই চলে যাচ্ছে। দেখে খুব খারাপ লাগল।
নয়ন : ঠিক বলেছিস। কেউ হাত ধোয়ার পর ট্যাপকল খোলাই রাখছে। জল যে একটা সীমিত সম্পদ, সেটা কেউ বুঝতে চাইছে না।
আকাশ : পৃথিবীর ৭০ শতাংশ জল হলেও পানযোগ্য অংশ খুবই কম। এখনই জল সংরক্ষণে গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতে বড়ো বিপদে পড়ব।
নয়ন : ভূগর্ভস্থ জলের স্তরও দিন দিন নামছে। অনেক গ্রামে দিনে একবার জল আসে, শহরেও এই সমস্যা আসতে দেরি নেই।
আকাশ : আমি ভাবছি, স্কুলে 'এক ফোঁটা জলও যেন অপচয় না হয়' স্লোগান দিয়ে একটা পোস্টার ক্যাম্পেইন করলে কেমন হয়?
নয়ন : দারুণ আইডিয়া! বাড়িতেও ব্রাশ করার সময় কল বন্ধ রাখা বা বালতি ব্যবহার করার মতো সহজ নিয়মগুলো মানা উচিত।
আকাশ : একদম। জল সংরক্ষণ শুধু সরকারের নয়, আমাদের সবার দায়িত্ব। জল বাঁচানো মানেই তো জীবন বাঁচানো।
নয়ন : তাহলে চল, আমরা মিলে একটা ছোটো দল গড়ি। বাকি বন্ধুদেরও এর সঙ্গে যুক্ত করে কাজ শুরু করব।
আকাশ : হ্যাঁ, স্কুলপড়ুয়া হিসেবে আমাদেরই সচেতনতার এই বার্তা সবার কাছে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।
নয়ন : ঠিক বলেছিস আকাশ। ছোটোবেলা থেকেই সচেতন হলে ভবিষ্যতের পৃথিবীকে আমরা সুন্দর ও টেকসই করে তুলতে পারব।

5. গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।

উত্তর : মুকেশ : কী রে তাপস, জানিস গতকাল মালদহের জেলা লাইব্রেরিতে মেম্বারশিপ কার্ড করিয়ে এলাম। তোর কি সেখানে কার্ড করানো আছে?
তাপস : অবশ্যই আছে। স্কুলের লাইব্রেরিতে তো আর সব ধরনের বই পাওয়া যায় না, তাই জেলা গ্রন্থাগারেই যেতে হয়।
মুকেশ : ঠিক বলেছিস। ছাত্রজীবন থেকেই সিলেবাসের বাইরের বই পড়ার অভ্যাস শুরু করা খুব প্রয়োজন।
তাপস : একদম। চিন্তাভাবনার পরিসর শুধু পাঠ্যক্রমে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বাইরের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কেও আমাদের জানা দরকার।
মুকেশ : তাছাড়া জেলা লাইব্রেরিতে গেলে দেশ-বিদেশের কত জার্নাল আর একাধিক খবরের কাগজের খোঁজও পাওয়া যায়।
তাপস : ঠিক তাই। নতুন প্রজন্মের ছাত্র হিসেবে শিল্প-সাহিত্য থেকে শুরু করে নিত্যনতুন আবিষ্কার বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকতে গ্রন্থাগারের বিকল্প নেই।
মুকেশ : আমার তো মনে হয়, স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আমাদের বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারটিও নতুন করে সাজানো উচিত।
তাপস : হ্যাঁ, বাজারে নতুন যেসব বই প্রকাশিত হচ্ছে, স্কুলের লাইব্রেরিতেও সেগুলোর জায়গা পাওয়া উচিত।
মুকেশ : লেখাপড়া মানে তো শুধুই পরীক্ষায় নম্বর পাওয়া নয়, নিজের ধারণা ও জ্ঞানকে যতটা সম্ভব বিস্তৃত করা।
তাপস : একদম ঠিক। সেখানে নিজের পছন্দমতো বই বেছে পড়ার সুযোগ থাকে। আর এভাবেই আমাদের সেরা বন্ধু ‘বই’-কে আরও আপন করে নেওয়া যায়।

6. খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।

উত্তর : রাহুল : কীরে সুভাষ, এত সেজেগুজে কোথায় যাচ্ছিস? বিকেল চারটে থেকে টিভিতে একটা দারুণ সিনেমা দিচ্ছে, দেখবি নাকি?
সুভাষ : না ভাই, আজ বিকেল চারটে থেকেই মাঠে আমার একটা ক্রিকেটের ম্যাচ আছে। আমি তো সেখানেই যাচ্ছি।
রাহুল : ধুর! ওইসব ম্যাচ খেলে কোনো লাভ নেই। খামোখা তুই ক্লান্ত হয়ে পড়বি, উলটে তোর শরীরের ক্ষতি হবে।
সুভাষ : একদমই না! খেলাধুলা হলো অনেকটা আগাছা দমনের মতো। এতে শরীরের তো কোনো ক্ষতি হয়ই না।
রাহুল : আগাছা দমন মানে? তোর এই কথার মানে তো ঠিক বুঝতে পারলাম না!
সুভাষ : চাষিরা যেমন জমি থেকে আগাছা উপড়ে ফেলে, ঠিক তেমনই শরীর থেকে আলস্য ও ক্লান্তির আগাছা দূর করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
রাহুল : হ্যাঁ, এটা অবশ্য তুই একদম ঠিকই বলেছিস। খেলাধুলা করলে শরীর সত্যি খুব ফুরফুরে থাকে।
সুভাষ : খেলাধুলা অলসতা দূর করার পাশাপাশি মানসিক আনন্দও দেয়। মাঠে গেলে অনেক নতুন বন্ধু পাবি। ক্রিকেট ভালো না লাগলে অন্য খেলাও খেলতে পারিস।
রাহুল : তুই আমার চোখ খুলে দিলি। চল তাহলে, আমিও আজ তোর সঙ্গে মাঠে গিয়ে ক্রিকেট খেলব।
সুভাষ : যাক, শেষপর্যন্ত তোর তাহলে সুবুদ্ধি হলো! চল, দুজনে একসঙ্গেই আজ মাঠে যাই।

❖ লেখকের শেষ কথা : আশা করছি, তোমরা এই পোস্টের সংলাপ রচনাগুলি পড়ে খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছো। ঠিক একইভাবে মাধ্যমিক বাংলা বিষয়ের আরো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর পড়তে চাইলে নীচের অংশটি দেখো, সেখানে বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় পোস্টের লিংক দেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক বাংলা বিষয়ের অন্যান্য পোস্টসমূহ :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

3 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
  1. আমি ২০২৭ এরমাধ্যমিকের আরো প্রশ্ন পেতে চাই

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. আমাদের ওয়েবসাইটের মেনু অপশনে গিয়ে দেখুন সেখানে বাংলা বিষয়ের নোটসগুলির লিংক দেওয়া রয়েছে।

      মুছুন

আপনার কোনো মতামত থাকলে কমেন্ট করুন।