🔹 Class 10 Bengali Sindhutire Question Answer
[প্রতিটি প্রশ্নের মান 3]
1.'অনুমান করে নিজ চিতে'- কে কী অনুমান করেছিল ? ৩ [Madhhyamik 2017]
উত্তর : আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা 'পদ্মাবতী' কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রকন্যা পদ্মা একটি অচেতন সুন্দরী কন্যাকে দেখে তার সম্পর্কে নিজের মনে কিছু ধারণা করেন।
অচেতন অপরূপা কন্যাকে দেখে পদ্মা প্রথমে তাকে স্বর্গ থেকে পতিত কোনো বিদ্যাধরী বলে মনে করেছিলেন।
তার অনুমান : সিন্ধুতীরে ভেলার ওপর এক অচেতন সুন্দরী কন্যাকে দেখে পদ্মা বিস্মিত হয়ে যান। তার অসাধারণ রূপ দেখে পদ্মা মনে করেন, সে সাধারণ মানুষ নয়। হয়তো দেবরাজ ইন্দ্রের অভিশাপে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে নেমে আসা কোনো বিদ্যাধরী। পরে কন্যার চুল, চোখ ও পোশাক দেখে বোঝা যায় ঝড়ের কারণে তার নৌকা ভেঙে গেছে।
উপসংহার : অতএব, অচেতন কন্যার অদ্ভুত রূপ দেখে পদ্মা তাকে প্রথমে স্বর্গভ্রষ্ট বিদ্যাধরী বলে অনুমান করেছিলেন।
2. “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ”- কন্যা কে ? সর্বক্ষণ কোথায় থাকেন ? ১+২
উত্তর : আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা 'পদ্মাবতী' কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় এক মনোরম স্থানের বর্ণনার সঙ্গে সমুদ্রকন্যা পদ্মার বাসস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানে কন্যা বলতে সমুদ্রকন্যা পদ্মাকে বোঝানো হয়েছে; তিনি নিজের নির্মিত প্রাসাদে বসবাস করেন।
কন্যার অবস্থান : মান্দাসে ভেসে আসা পদ্মাবতীকে যে স্থানে আনা হয়, সেই দেশটি খুব সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ছিল। সেখানে দুঃখ বা কষ্টের চিহ্ন ছিল না এবং মানুষ সত্য ও সদাচার মেনে চলত। একটি পাহাড়ের ওপর পদ্মা নানা ফুল ও ফলের গাছে ভরা উদ্যান তৈরি করেছিলেন। সেই উদ্যানের মধ্যে সোনা ও মূল্যবান রত্নে সাজানো প্রাসাদে তিনি সর্বক্ষণ বসবাস করতেন।
উপসংহার : অতএব, ‘তথা’ শব্দটি পদ্মার সেই সুন্দর প্রাসাদকে বোঝায়, যেখানে সমুদ্রকন্যা পদ্মা সর্বদা থাকতেন।
3. 'বিস্মিত হইল বালা'- বালা কে ? তাঁর বিস্ময়ের কারণ কী ? ১+২
উত্তর : আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা 'পদ্মাবতী' কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রতীরে এক অচেতন সুন্দরী কন্যাকে দেখে এক চরিত্রের বিস্ময়ের কথা বলা হয়েছে।
বালা : ‘বালা’ বলতে সমুদ্রকন্যা পদ্মাকে বোঝানো হয়েছে; অচেতন অপরূপা কন্যাকে দেখে তিনি বিস্মিত হন।
তাঁর বিস্ময়ের কারণ : একদিন ভোরবেলা পদ্মা তার সখীদের নিয়ে উদ্যানে যাওয়ার সময় সমুদ্রতীরে একটি ভেলা দেখতে পান। কৌতূহলবশত সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, ভেলার উপর চার সখীসহ এক অসাধারণ সুন্দরী কন্যা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। সেই কন্যার অতুলনীয় রূপ ও অদ্ভুত পরিস্থিতি দেখে পদ্মা অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে পড়েন।
উপসংহার : অতএব, ‘বালা’ বলতে সমুদ্রকন্যা পদ্মাকে বোঝানো হয়েছে এবং অচেতন সুন্দরী কন্যাকে দেখেই তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন।
4. 'সিন্ধুতীরে দেখে দিব্যস্থান'- কোন্ স্থানকে দিব্যস্থান বলা হয়েছে ? তা কেন বলা হয়েছে ? ১+২
অথবা, 'দিব্য পুরী সমুদ্র মাঝার'- কোন স্থানের কথা বলা হয়েছে ? সেই স্থানটির বর্ণনা দাও। ১+২
অথবা, 'তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ'- কন্যা কে ? তিনি যে স্থানে সর্বক্ষণ থাকে তার বর্ণনা দাও। ১+২
অথবা, 'অতি মনোহর দেশ'- এই মনোহর দেশের সৌন্দর্যের বর্ণনা দাও। ৩
অথবা, 'কন্যারে ফেলিলা যথা'- কন্যাটি কে? তাকে যে স্থানে ফেলা হয়েছিল তার বর্ণনা দাও। ১+২
উত্তর : আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা 'পদ্মাবতী' কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় এক মনোরম সমুদ্রতীরবর্তী স্থানের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কবি সেই স্থানের সৌন্দর্যকে অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরেছেন।
এখানে সমুদ্রতীরবর্তী এক মনোরম দিব্যস্থানের কথা বলা হয়েছে; সেখানে সমুদ্রকন্যা পদ্মা সর্বদা বাস করতেন।
মনোহর দেশের সৌন্দর্য / স্থানটির বর্ণনা : কবির বর্ণনায় এই স্থানটি অত্যন্ত সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ। চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা মনোরম উদ্যান এবং চারপাশে সমুদ্রের পরিবেশ তাকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। সেখানে দুঃখ বা কষ্টের কোনো চিহ্ন নেই। মানুষজন আনন্দে ও মিলেমিশে বসবাস করে, তাই জায়গাটি খুবই সুখময় মনে হয়।
উপসংহার : এই কারণে সমুদ্রতীরের সেই স্থানটিকে কবি ‘অতি মনোহর দেশ’ বা দিব্যস্থান বলে উল্লেখ করেছেন।
5. ‘মনেতে কৌতুক বাসি’- কার মনে, কেন কৌতুকের উদয় হয়েছিল ? ১+২
উত্তর : আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা 'পদ্মাবতী' কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রতীরে এক আশ্চর্য দৃশ্য দেখে পদ্মার মনে কৌতূহল জাগার কথা বলা হয়েছে।
এখানে কৌতুকের অনুভূতি জেগেছিল সমুদ্রকন্যা পদ্মার মনে, অচেনা দৃশ্য দেখে তিনি বিস্মিত হন।
কৌতুক উদয় হওয়ার কারণ : একদিন পদ্মা সখীদের সঙ্গে নিজের সুন্দর উদ্যানে যাচ্ছিলেন। সেই সময় সমুদ্রতীরে একটি কলার ভেলা পড়ে থাকতে দেখেন। ভেলার মধ্যে এক অপূর্ব সুন্দরী কন্যা অচেতন অবস্থায় ছিল এবং তার চারজন সখী তাকে ঘিরে ছিল। নির্জন সমুদ্রতীরে এমন অদ্ভুত দৃশ্য হঠাৎ দেখে পদ্মার মনে কৌতূহল ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছিল।
উপসংহার : অতএব, সমুদ্রতীরে অচেনা ভেলা ও অচেতন কন্যাদের দৃশ্য দেখেই পদ্মার মনে কৌতুকের উদয় হয়েছিল।
6. ‘চিত্রের পোতলি সমা/নিপাতিত মনোরমা’- মনোরমা কে? তিনি কেন নিপতিতা হয়েছিলেন ? ১+২
উত্তর : আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা 'পদ্মাবতী' কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রতীরে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা এক রাজকন্যার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
এখানে ‘মনোরমা’ বলতে সিংহল দেশের অপরূপা রাজকন্যা পদ্মাবতীকে বোঝানো হয়েছে, যিনি অতুল সৌন্দর্যের অধিকারিণী।
নিপতিতা হয়ে থাকার কারণ : রানা রত্নসেনের সঙ্গে বিবাহের পর পদ্মাবতী সমুদ্রপথে চিতোরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে প্রবল ঝড়ে তাদের জাহাজ ভেঙে যায়। পরে তারা একটি কলার ভেলায় আশ্রয় নেন, কিন্তু সেটিও টিকে থাকতে পারেনি। ফলে পদ্মাবতী স্বামীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ভয় ও বিপদের চাপে তিনি জ্ঞান হারান এবং সমুদ্রতীরে চার সখীসহ অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকেন।
উপসংহার : অতএব, এই কারণে সিংহল রাজকন্যা পদ্মাবতী সমুদ্রতীরে অচেতন হয়ে নিপতিত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল।
7. 'বাহুরক কন্যার জীবন'- বাহুরক কথার অর্থ কী ? কোন্ প্রসঙ্গে এই মন্তব্য ? ১+২
অথবা, 'বাহুরক কন্যার জীবন'- এখানে কোন কন্যার জীবনের কথা বলা হয়েছে ? কোন্ প্রসঙ্গে এই মন্তব্য? ১+২
উত্তর : আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা 'পদ্মাবতী' কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রতীরে অচেতন এক সুন্দরী কন্যাকে ঘিরে পদ্মার উদ্বেগ ও প্রার্থনার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।
বাহুরক কথার অর্থ : ‘বাহুরক’ অর্থ অমূল্য বা অত্যন্ত দামী, এখানে পদ্মাবতী কন্যার অতি মূল্যবান জীবনের কথাই বোঝানো হয়েছে।
প্রসঙ্গ : সমুদ্রতীরে ভেলার মধ্যে চার সখীসহ এক সুন্দরী কন্যাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পদ্মার মনে গভীর দয়া জাগে। তিনি বুঝতে পারেন যে কন্যাটির মধ্যে সামান্য প্রাণ এখনো আছে। তাই তাকে বাঁচানোর জন্য পদ্মা চেষ্টা করতে থাকেন এবং বিধাতার কাছে কাতরভাবে প্রার্থনা করেন। তখনই তিনি কন্যার জীবনকে ‘বাহুরক’ বলে উল্লেখ করেন।
উপসংহার : অতএব, অচেতন পদ্মাবতী কন্যার অমূল্য জীবন রক্ষার আকাঙ্ক্ষা থেকেই পদ্মা ‘বাহুরক কন্যার জীবন’ এই মন্তব্য করেছিলেন।
8. “রূপে অতি রম্ভা জিনি/নিপতিতা চেতন রহিত” - কার রূপের কথা বলা হয়েছে ? মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো। ১+২
উত্তর : আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা 'পদ্মাবতী' কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া অপূর্ব সুন্দরী কন্যা পদ্মাবতীর রূপের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্যটির ব্যাখ্যা : এক সকালে সমুদ্রকন্যা পদ্মা সখীদের নিয়ে উদ্যানে যাওয়ার পথে সমুদ্রতীরে একটি ভেলা দেখতে পান। কৌতূহলবশত সেখানে গিয়ে দেখেন, চারজন সখী চারদিকে পড়ে আছে এবং মাঝখানে এক অপরূপা কন্যা অচেতন অবস্থায় রয়েছে। তার সৌন্দর্য এতই অসাধারণ ছিল যে, তা স্বর্গের বিখ্যাত অপ্সরা রম্ভার সৌন্দর্যকেও যেন হার মানায়। তাই কবি এই মন্তব্য করেছেন।
উপসংহার : অতএব, অচেতন অবস্থায় পাওয়া পদ্মাবতীর অসাধারণ সৌন্দর্য প্রকাশ করতেই এই মন্তব্যটি করা হয়েছে।
9. 'সখী সবে আজ্ঞা দিল'- সখীদের কে, কী আজ্ঞা দিয়েছিল ? ১+২
উত্তর : আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা 'পদ্মাবতী' কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রতীরে অচেতন কয়েকজন কন্যাকে দেখে পদ্মা তাদের বাঁচানোর জন্য সখীদের কিছু নির্দেশ দেন।
সমুদ্রকন্যা পদ্মা সখীদের অচেতন পদ্মাবতীসহ পাঁচ কন্যাকে উদ্ধার করে যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পদ্মার আজ্ঞা : সমুদ্রতীরে ভেলার মধ্যে পদ্মাবতী ও তার সখীদের অচেতন অবস্থায় দেখে পদ্মার মনে গভীর দয়া জাগে। তিনি বুঝতে পারেন যে তাদের প্রাণ এখনো আছে। তাই তিনি সখীদের আদেশ দেন কন্যাদের উদ্যানের মধ্যে নিয়ে আসতে। এরপর নতুন বস্ত্রে তাদের দেহ ঢেকে আগুন জ্বালিয়ে সেঁক দেওয়া ও বিভিন্ন উপায়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।
উপসংহার : অতএব, অচেতন কন্যাদের জীবন রক্ষার উদ্দেশ্যেই পদ্মা সখীদের তাদের উদ্ধার ও চিকিৎসার জন্য এই নির্দেশ দিয়েছিলেন।
10. ‘অচৈতন্য পড়িছে ভূমিতে’- কে অচৈতন্য হয়ে ভূমিতে পড়েছিলেন ? তাঁর অচৈতন্য হওয়ার কারণ কী ? ১+২
উত্তর : আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা 'পদ্মাবতী' কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রতীরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া এক রাজকন্যার দুঃখজনক ঘটনার কথা বলা হয়েছে।
এখানে সিংহল রাজ্যের রাজকন্যা পদ্মাবতী সমুদ্রতীরে অচৈতন্য অবস্থায় ভূমিতে পড়ে থাকার কথা বলা হয়েছে।
অচৈতন্য হওয়ার কারণ : পদ্মাবতী তাঁর স্বামী রানা রত্নসেনের সঙ্গে সমুদ্রপথে চিতোরে ফিরছিলেন। সেই সময় সমুদ্রের প্রচণ্ড ঝড়ে তাদের জলযান বিপদে পড়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে তারা একটি ভেলায় আশ্রয় নেন। পরে ভেলাটিও ভেঙে যায় এবং পদ্মাবতী স্বামীর থেকে আলাদা হয়ে পড়েন। প্রবল ঝড় ও মৃত্যুভয়ের কারণে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং অচৈতন্য হয়ে পড়েন।
উপসংহার : অতএব, সমুদ্রঝড়ের ভয় ও স্বামীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণেই পদ্মাবতী অচৈতন্য হয়ে ভূমিতে পড়ে ছিলেন।
11. 'বিধি মোরে না করো নৈরাশ'- এখানে কে, কেন বিধাতার কাছে প্রার্থনা করেছিলেন ? ১+২
অথবা, 'কৃপা করো নিরঞ্জন'- নিরঞ্জনের কাছে কে, কেন এই প্রার্থনা করেছিলেন ?
উত্তর : আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা 'পদ্মাবতী' কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় এক অচেতন সুন্দরী কন্যাকে দেখে সমুদ্রকন্যা পদ্মার মনের গভীর উদ্বেগ ও প্রার্থনার কথা প্রকাশ পেয়েছে।
সমুদ্রকন্যা পদ্মা অচেতন সুন্দরী কন্যাকে বাঁচানোর আশায় বিধাতার কাছে কাতরভাবে প্রার্থনা করেছিলেন।
বিধাতার কাছে প্রার্থনা করার কারণ : সমুদ্রতীরে ভেলার মধ্যে এক অপরূপা কন্যাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পদ্মার মন খুবই ব্যথিত হয়। তিনি বুঝতে পারেন যে কন্যাটির মধ্যে সামান্য প্রাণশক্তি এখনো আছে। তাই তাকে বাঁচানোর জন্য পদ্মা তৎপর হয়ে ওঠেন। চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তিনি বিধাতার কাছে কাতরভাবে প্রার্থনা করেন, যেন কোনোভাবেই এই কন্যার প্রাণ রক্ষা হয়।
উপসংহার : অতএব, অচেতন কন্যার জীবন রক্ষার আশায় সমুদ্রকন্যা পদ্মা বিধাতার কাছে ‘বিধি মোরে না করো নৈরাশ’ বলে প্রার্থনা করেছিলেন।
12. 'পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন'- পঞ্চকন্যা কারা ? তারা কীভাবে চেতন ফিরে পেয়েছিল? ১+২
অথবা, 'চিকিৎসিমু প্রাণপণ'- কে কাদের কীভাবে চিকিৎসা করেছিলেন ?
অথবা, 'দন্ড চারি এই মতে/ বহু যত্নে চিকিৎসিতে'- কীভাবে চিকিৎসা করেছিল ?
উত্তর : আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা 'পদ্মাবতী' কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় সমুদ্রতীরে অচেতন কয়েকজন কন্যাকে উদ্ধারের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা করে সুস্থ করার কথাও বলা হয়েছে।
পঞ্চকন্যা : পদ্মাবতী ও তার সঙ্গে থাকা চার সখী এই পাঁচজন মিলে পঞ্চকন্যা; তারা সমুদ্রতীরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
চিকিৎসা পদ্ধতি : সমুদ্রতীরে ভেলার মধ্যে পদ্মাবতী ও তার চার সখী অচেতন হয়ে পড়ে ছিল। সমুদ্রকন্যা পদ্মা তাদের উদ্ধার করে নিজের উদ্যানের মধ্যে নিয়ে আসেন। তিনি প্রথমে নিরঞ্জনের কাছে তাদের জীবনের জন্য প্রার্থনা করেন। এরপর সখীদের দিয়ে নতুন বস্ত্রে ঢেকে আগুনের সেঁক দেওয়া, তন্ত্র-মন্ত্র ও মহৌষধির সাহায্যে চিকিৎসা করান। দীর্ঘ যত্নের পর তারা ধীরে ধীরে চেতনা ফিরে পায়।
উপসংহার : অতএব, পদ্মাবতী ও তার চার সখীই পঞ্চকন্যা এবং পদ্মা ও তার সখীদের যত্নশীল চিকিৎসার ফলেই তারা চেতনা ফিরে পেয়েছিল।
13. "শ্রীযুত মাগন গুণী"- মাগন গুণী কে ? এই মন্তব্য বলার কারণ কি ? ১+২
অথবা, 'মোহন্ত আরতি শুনি/ হীন আলাওল সুরচন'- এই মন্তব্যটির প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করো।
উত্তর : আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওলের লেখা 'পদ্মাবতী' কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় মাগন গুণীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। কবি সেখানে তাঁর প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতার ভাব প্রকাশ করেছেন।
মাগন গুণী : মাগন গুণী বলতে আরাকান রাজসভার প্রধানমন্ত্রী ও সাহিত্যপৃষ্ঠপোষক মাগন ঠাকুরকে বোঝানো হয়েছে।
এই মন্তব্য বলার কারণ : মাগন ঠাকুর ছিলেন আরাকান রাজসভার একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং বিদ্বান ও গুণী মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির বড় সমর্থক ছিলেন। তাঁর উৎসাহ ও নির্দেশের ফলেই কবি আলাওল পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেছিলেন। তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে কবি নিজের রচনায় তাঁকে ‘শ্রীযুত মাগন গুণী’ বলে সম্মানের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন।
উপসংহার : অতএব, মাগন ঠাকুরের গুণ ও পৃষ্ঠপোষকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই কবি তাঁকে ‘শ্রীযুত মাগন গুণী’ বলে উল্লেখ করেছেন।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ই-বুক(PDF)টি নিতে হলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের ওয়েবসাইটের Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : সিন্ধুতীরে কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 2. বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 3. অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
| 4. সিরাজদ্দৌলা নাটকের প্রশ্ন উত্তর PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
