❖ লেখক-পরিচিতি : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় :
ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নবজাগরণের সময়ের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রায় বিয়াল্লিশ বছর ধরে তিনি সাহিত্যচর্চা করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি উপন্যাস, প্রবন্ধ ও রম্যরচনা লিখে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। বাংলা সাহিত্যে প্রথম উপন্যাস হিসেবে প্যারীচাদ মিত্রের 'আলালের ঘরের দুলাল'-এর নাম উল্লেখ করা হলেও, বঙ্কিমচন্দ্রের 'দুর্গেশনন্দিনী'কে প্রথম সফল ও শিল্পগুণসম্পন্ন উপন্যাস বলা হয়। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ধরনের উপন্যাস লিখেছেন। রোমান্সধর্মী উপন্যাসের মধ্যে আছে মৃণালিনী, যুগলাঙ্গুরীয়, চন্দ্রশেখর ও সীতারাম। আর সামাজিক উপন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষবৃক্ষ, কৃষ্ণকান্তের উইল, ইন্দিরা, রাধারাণী ও রজনী। আর ঐতিহাসিক উপন্যাস হিসেবে তিনি লিখেছেন রাজসিংহ। এছাড়া দেশাত্মবোধক উপন্যাস হল আনন্দমঠ এবং তত্ত্বমূলক উপন্যাস হল দেবী চৌধুরানী। তিনি মোট ১৪টি উপন্যাস রচনা করেছিলেন। তাঁর লেখা বন্দেমাতরম গানটি পরে জাতীয় স্তোত্র হিসেবে সম্মান পেয়েছে। এই মহান সাহিত্যিকের জীবন ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে শেষ হয়। তাঁর অসাধারণ প্রতিভার জন্য তিনি বাংলা সাহিত্যে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
❖ 'বিড়াল' প্রবন্ধের উৎস :
‘বিড়াল’ প্রবন্ধটি ‘কমলাকান্তের দপ্তর’-এর অন্তর্ভুক্ত। ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার ১২৮০ বঙ্গাব্দের ভাদ্র মাসের সংখ্যায় কমলাকান্তের আবির্ভাব দেখা যায়। পরে একই পত্রিকার ১২৮১ বঙ্গাব্দের চৈত্র সংখ্যায় ‘কমলাকান্তের দপ্তর’-এর ত্রয়োদশ প্রবন্ধ হিসেবে ‘বিড়াল’ প্রকাশিত হয়।
❖ 'বিড়াল' প্রবন্ধের প্রেক্ষাপট :
ফরাসি চিন্তাবিদ রুশোর সামাজিক চুক্তি মতবাদ বঙ্কিমচন্দ্রকে অনেকটা প্রভাবিত করেছিল। তাই ‘কমলাকান্তের দপ্তর’-এর প্রবন্ধগুলিতে সমাজ, মানুষ ও তাদের জীবন সম্পর্কে নানা ভাবনা দেখা যায়। এই প্রবন্ধগুলি ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১২৮১ বঙ্গাব্দের চৈত্র সংখ্যায় ‘বিড়াল’ প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়। এই প্রবন্ধে কমলাকান্ত ও বিড়ালের কথোপকথনের মাধ্যমে সমাজে ধনী ও দরিদ্র মানুষের পার্থক্যের বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
❖ 'বিড়াল' প্রবন্ধের বিষয়বস্তু :
‘বিড়াল’ প্রবন্ধটি কমলাকান্তের প্রতিদিনের জীবনের একটি ঘটনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। আফিমের নেশায় কমলাকান্ত শোবার ঘরে বসে নিজেকে নেপোলিয়ান মনে করে ওয়াটার্লু জয়ের কথা ভাবছিল। ঠিক তখন একটি বিড়াল “মেও” শব্দ করে। প্রসন্ন গোয়ালিনি যে দুধ কমলাকান্তকে দিয়েছিল, সেই দুধ খেয়ে বিড়ালটি তৃপ্ত হয়েছিল। কমলাকান্ত লাঠি নিয়ে তাকে মারতে চাইলে হঠাৎ সে যেন বিড়ালের কথা বুঝতে পারে। বিড়াল তাকে মারপিট বন্ধ করে শান্তভাবে বিচার করতে বলে। সে প্রশ্ন তোলে পৃথিবীর সব ভালো জিনিস কি শুধু মানুষই পাবে ? বিড়ালেরও তো ক্ষুধা আছে। এরপর বিড়াল কিছু তত্ত্বের কথা বলে। সে জানায়, অন্যের উপকার করাই আসল ধর্ম। কমলাকান্তের দুধ খেয়ে সে উপকার পেয়েছে, তাই এতে কমলাকান্তেরই পুণ্য হয়েছে। তাই তাকে মারার বদলে প্রশংসা করা উচিত। বিড়াল আরও বলে, সে ইচ্ছা করে চোর হয়নি। খেতে না পেলে তবেই চুরি করতে হয়। যারা প্রয়োজনের বেশি জিনিস জমিয়ে রাখে কিন্তু কাউকে দেয় না, তারাই আসলে চুরির কারণ তৈরি করে। তাই কৃপণ ধনী চোরের চেয়েও বেশি দোষী। ধনী মানুষ অনেক সময় বাড়তি খাবার নষ্ট করে, তবু ক্ষুধার্তকে দেয় না। এটাকে বিড়াল বলেছে “তেলা মাথায় তেল দেওয়া” অর্থাৎ বড়লোকদেরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া। যে ক্ষুধার কারণে বিনা ডাকে ধনীর অন্ন খায়, তাকে চোর বলে শাস্তি দেওয়া হয়। বিড়াল জানায়, পৃথিবীর মাছ-মাংসে তাদেরও কিছু অধিকার আছে। তাই খাবার না পেলে সে চুরি করতেই পারে।
কমলাকান্ত বোঝাতে চায়, চুরি করলে সমাজে অশান্তি বাড়বে এবং ধনও বাড়বে না। কিন্তু বিড়াল বলে, সমাজে ধন বাড়া মানে ধনীর ধন বাড়া। তাতে গরিবের কী লাভ? কমলাকান্ত বুঝতে পারে, বিড়ালটি খুব যুক্তি দিয়ে কথা বলে। তাই সে তাকে উপদেশ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে। বিড়ালের ক্ষুধা মেটাতে না পেরে সে তাকে হাঁড়ির বদলে আফিম খাওয়ার কথাও বলে। কিন্তু বিড়াল আফিম নিতে রাজি হয় না। সে বলে, ক্ষুধা পেলে হাঁড়ি খাওয়ার কথাই ভাববে। এই বলে বিড়াল চলে যায়। তখন কমলাকান্ত মনে করে, সে যেন একটি পথভ্রষ্ট প্রাণকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনতে পেরেছে। এতে সে খুব সন্তুষ্ট হয়।
❖ 'বিড়াল' প্রবন্ধের লাইন ধরে আলোচনা :
"বুঝিলাম যে, বিড়াল বলিতেছে, "মারপিট কেন ? স্থির হইয়া, হুঁকা হাতে করিয়া .......... তোমাদের বিদ্যালয়সকল দেখিয়া আমার বোধ হয়, তোমরা এত দিনে এ কথাটি বুঝিতে পারিয়াছ।
এই অংশে সহজ ব্যাখ্যা : কমলাকান্ত বুঝতে পারল, বিড়াল যেন তাকে বলছে কেন তাকে মারতে হবে? বরং শান্ত হয়ে হুঁকা হাতে বসে তার কথা শোনা উচিত। পৃথিবীর সব সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার কি শুধু মানুষই খাবে? মানুষ ও বিড়ালের ক্ষুধা তো প্রায় একই রকম। মানুষ খেলে বিড়ালের আপত্তি নেই, তবে বিড়াল খেলে মানুষের আপত্তি কেন—এই প্রশ্নই সে তুলছে। বিড়ালটি খুব বুদ্ধিমান। তার কথায় বোঝা যায়, মানুষের এখনও অনেক কিছু শেখার বাকি আছে। মানুষের জ্ঞান বাড়ানোর জন্য শিক্ষা খুব দরকার। মানুষের বিদ্যালয়গুলির অবস্থা দেখে বিড়ালের মনে হয়, মানুষ হয়তো ধীরে ধীরে এই কথাটি বুঝতে শিখছে।
"দেখ, শয্যাশায়ী মনুষ্য! ধর্ম কী? পরোপকারই পরম ধর্ম। ......... অতএব আমাকে প্রহার না করিয়া, আমার প্রশংসা কর। আমি তোমার ধর্মের সহায়।"
এই অংশের সহজ ব্যাখ্যা : বিড়াল কমলাকান্তকে কিছু জ্ঞানভরা কথা বোঝাতে চায়। সে বলে, মানুষের সবচেয়ে বড় ধর্ম হলো অন্যের উপকার করা। কমলাকান্তের দুধ খেয়ে বিড়াল উপকার পেয়েছে, তাই এতে কমলাকান্তেরই ভালো হয়েছে। অর্থাৎ কমলাকান্তের এই কাজের জন্য তার পুণ্য হয়েছে। তাই বিড়ালকে মারার কোনো দরকার নেই। বরং তাকে প্রশংসা করা উচিত, কারণ সে-ই কমলাকান্তের ধর্মকর্ম বাড়াতে সাহায্য করেছে।
"দেখ আমি চোর বটে, কিন্তু আমি কি সাধ করিয়া চোর হইয়াছি? খাইতে পাইলে কে চোর হয়? .......... চোর দোষী বটে, কিন্তু কৃপণ ধনী তদপেক্ষা শত গুণে দোষী। চোরের দণ্ড হয়; চুরির মূল যে কৃপণ, তাহার দণ্ড হয় না কেন?"
এই অংশের সহজ ব্যাখ্যা : বিড়াল বলছে, সে চোর ঠিকই, কিন্তু ইচ্ছা করে চোর হয়নি। খেতে না পেয়ে সে চুরি করতে বাধ্য হয়েছে। যদি খাবার পেত, তবে সে চোর হতো না। কিন্তু অনেক ধনী মানুষ আছে, যাদের অনেক অর্থ ও খাবার রয়েছে, তবু তারা গরিবদের কিছু দেয় না। তারা দানও করে না। তাই বিড়ালের মতে, চোরের চেয়ে কৃপণ ধনী বেশি দোষী। তবু সমাজে চোর শাস্তি পায়, কিন্তু কৃপণ ধনীরা কোনো শাস্তি পায় না।
''দেখ আমি প্রাচীরে প্রাচীরে মেও মেও করিয়া বেড়াই, কেহ আমাকে মাছের কাঁটাখানাও ফেলিয়া দেয় না। ............ তবে ছোটলোকের দুঃখে কাতর। ছি। কে হইবে?"
এই অংশের সহজ ব্যাখ্যা : বিড়াল বলছে, সে যখন দেওয়াল থেকে দেওয়াল ঘুরে “মেও মেও” করে, তখনও কেউ তাকে মাছের কাঁটাও দেয় না। অনেক সময় মানুষ বাড়তি খাবার ফেলে দেয়, তবু তাকে দেয় না। যাদের পেট ভরা, তারা ক্ষুধার কষ্ট বোঝে না। ধনী মানুষের দুঃখে সবাই সহানুভূতি দেখায়, কিন্তু গরিবের দুঃখে কেউ তেমন ভাবেনা। বরং গরিবের কষ্টে দুঃখ করা অনেকেই লজ্জার বিষয় মনে করে। তাই ছোটলোকের দুঃখে তারা কাতর হতে চায় না।
"দেখ, যদি অমুক শিরোমণি, কি অমুক ন্যায়ালঙ্কার আসিয়া তোমার দুধটুকু খাইয়া যাইতেন .......... আহ্বানেই তোমার অন্ন খাইয়া ফেলে, চোর বলিয়া তাহার দণ্ড কর- ছি! ছি!"
এই অংশের সহজ ব্যাখ্যা : বিড়াল বলছে, যদি কোনো শিরোমণি বা ন্যায়ালঙ্কার পণ্ডিত এসে কমলাকান্তের দুধ খেয়ে যেতেন, তবে কেউ তাকে মারতে যেত না। বরং মানুষ তাকে সম্মান করে আরও খাবার দিতে চাইত। কিন্তু একটি ক্ষুধার্ত বিড়াল দুধ খেলে মানুষ লাঠি নিয়ে তাকে মারতে আসে। বিড়ালের মতে, এটিই মানুষের এক খারাপ স্বভাব তেলা মাথায় তেল দেওয়া, যা মনুষ্যজাতির একটি রোগ। অর্থাৎ বড়লোক বা সম্মানিত মানুষকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, আর ক্ষুধার্ত গরিবকেই শাস্তি দেওয়া হয়।
"দেখ আমাদিগের দশা দেখ, দেখ প্রাচীরে প্রাচীরে, প্রাঙ্গণে প্রাঙ্গণে প্রাসাদে প্রাসাদে ............. তবে দরিদ্র অবশ্য তাহার নিকট হইতে চুরি করিবে; কেন না, অনাহারে মরিয়া যাইবার জন্য এ পৃথিবীতে কেহ আইসে নাই।"
এই অংশের সহজ ব্যাখ্যা : বিড়াল বলছে, অনেক বিড়াল দেওয়াল ও উঠানে ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু কেউ তাদের মাছের কাঁটাও দেয় না। শুধু যে বিড়াল মানুষের পোষা হয়, সে ভালো ও পুষ্টিকর খাবার পেয়ে সুন্দর ও সবল হয়ে ওঠে। এই কথার মধ্যে আসলে দরিদ্র মানুষের অবস্থারই ইঙ্গিত আছে।
এই অংশে বিড়াল নিজের অবস্থার কথা বলতে গিয়ে আসলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অবস্থারই ছবি তুলে ধরেছে। কৃশ শরীর, শুকনো মুখ আর দুর্বল আর্তনাদ এই সব দেখে মনে হয়, অনেক মানুষের জীবনও বিড়ালের মতোই দুঃখে ভরা। প্রশ্ন ওঠে, পৃথিবীর খাবারের উপর গরিব মানুষের অধিকার থাকবে না কেন? দরিদ্র যদি খাবার চুরি করে, তবে ধনীদের নিষ্ঠুরতা ও কৃপণতার শাস্তি হবে না কেন? যদি ধনী মানুষ তাদের বাড়তি খাবার গরিবদের দিত, তবে তাদের চুরি করার প্রয়োজন পড়ত না। পৃথিবীর ভোগসুখে সবার সমান অধিকার থাকা উচিত। কিন্তু অনেক ধনী মানুষ তা মানতে চায় না। তারা অনেক দরিদ্র মানুষকে বঞ্চিত করে একাই সব খাবার ভোগ করে। তাদের এই নিষ্ঠুরতা ও কৃপণতার কোনো শাস্তি হয় না। তাই দরিদ্র যদি খাবার না পায়, তবে সে চুরি করতে বাধ্য হয়। কারণ এই পৃথিবীতে কেউ অনাহারে মরার জন্য জন্মায়নি।
আমি আর সহ্য করিতে না পারিয়া বলিলাম, “থাম! থাম মার্জার পন্ডিতে। তোমার কথাগুলি ............ বিড়াল রাগ করিয়া বলিল যে, "আমি যদি খাইতে না পাইলাম তবে সমাজের উন্নতি লইয়া কী করিব?"
এই অংশের সহজ ব্যাখ্যা : বিড়ালের কথা শুনে কমলাকান্ত আর সহ্য করতে না পেরে তাকে থামতে বলে। কমলাকান্তের মতে, যার যত ক্ষমতা আছে, সে তত ধন সঞ্চয় করবে এটাই স্বাভাবিক। যদি ধনীরা তাদের ধন ঠিকভাবে ভোগ করতে না পারে বা চোরের ভয়ে থাকে, তবে কেউ ধন সঞ্চয় করতে চাইবে না। এতে সমাজের ধনও বাড়বে না। কিন্তু এর উত্তরে বিড়াল রাগ করে বলে, সমাজের ধন বাড়ল কি না তাতে তার কিছু যায় আসে না। কারণ সে যদি নিজে খেতে না পায়, তবে সমাজের উন্নতি নিয়ে ভাবার কোনো মানে নেই।
"বিড়ালকে বুঝান দায় হইল। যে বিচারক বা নৈয়ায়িক, কস্মিনকালে কেহ তাহাকে কিছু বুঝাইতে পারে না .............. নসীরাম বাবুর ভাণ্ডারঘরে ধরা না পড়, তবে আমাকে ঠেঙ্গাইয়া মারিও, আমি আপত্তি করিব না।"
এই অংশের সহজ ব্যাখ্যা : বিড়ালের কথায় কিছু যুক্তি আছে বুঝে কমলাকান্ত তাকে আর তর্ক করে বোঝাতে চাইল না। সে ভাবল, বিড়ালটি বুদ্ধিমান ও যুক্তি দিয়ে কথা বলছে, তাই তার উপর রাগ করা ঠিক নয়। এরপর কমলাকান্ত বোঝাতে চেষ্টা করল যে সমাজের উন্নতিতে গরিবের প্রয়োজন থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। কিন্তু ধনীদের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। তাই তার মতে, চুরি করা অন্যায় এবং চোরের শাস্তি হওয়া উচিত। বিড়াল বলল, চোরকে ফাঁসি দেওয়ার আগে বিচারকের উচিত তিন দিন উপবাস করে থাকা। তখন দেখা যাবে, তারও চুরি করতে ইচ্ছা হয় কি না। একইভাবে কমলাকান্ত যে লাঠি নিয়ে তাকে মারতে এসেছিল, তারও আগে তিন দিন না খেয়ে থাকা উচিত। তারপর যদি সে নসীরাম বাবুর ভাঁড়ার ঘরে চুরি করতে গিয়ে ধরা না পড়ে, তবে সে যত খুশি বিড়ালকে মারতে পারে।
"বিজ্ঞ লোকের মতো এই যে, যখন বিচারে পরাস্ত হইবে, তখন গম্ভীরভাবে উপদেশ প্রদান করিবে। আমি সেই প্রথানুসারে মার্জারকে বলিলাম যে, ............ মার্জার বিদায় হইল। একটি পতিত আত্মাকে অন্ধকার হইতে আলোকে আনিয়াছি, ভাবিয়া কমলাকান্তের বড় আনন্দ হইল।"
এই অংশের সহজ ব্যাখ্যা : তর্কে হারার পরে কমলাকান্ত বিড়ালকে উপদেশ দিতে শুরু করল। সে বলল, অন্যায় কথা না বলে ধর্ম ও নীতির পথে চলা উচিত। চাইলে নীতির বই পড়তে পারে, এমনকি ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ পড়লেও কিছু শেখা যাবে। কমলাকান্ত আরও বলল, পরের দিন এলে সে তাকে একটু ছানা দেবে এবং দরকার হলে সামান্য আফিমও দিতে পারে। তবে সে যেন আর কারও হাঁড়ি না খায়। বিড়াল বলল, তার আফিমের দরকার নেই, আর হাঁড়ি খাওয়ার কথা ক্ষুধা হলে ভাবা যাবে। এই কথা বলে বিড়াল চলে গেল। তখন কমলাকান্ত মনে করল, সে যেন একটি পথভ্রষ্ট প্রাণকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনতে পেরেছে, এতে তার খুব আনন্দ হল।
❖ বিড়াল প্রবন্ধের শব্দার্থ :
শয়নগৃহ : শোবার জন্য নির্দিষ্ট ঘর / নিমীলিতলোচনে : চোখ বুজে / চতুস্পদ : চারটি পা-যুক্ত প্রাণী, পশু / চারপায়ী : চারটি পায়া যুক্ত আসন / হুঁকা : নারকেলের খোল দিয়ে তৈরি নল লাগানো ধূমপানের যন্ত্রবিশেষ / আহার : খাদ্য / উদরসাৎ : খেয়ে ফেলা হয়েছে এমন / বিচারক : যিনি বিচার করেন / প্রস্তুত : তৈরি / যথোচিত : উচিতমতো / নিঃশেষ : পুরোপুরি / অপরিমিত : প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি / চক্ষু : চোখ / সাহসহীন : সাহস নেই এমন ব্যক্তি / নির্জল : জল না মেশানো দুধ / মার্জার : বিড়াল / ব্যূহ-রচনা : কৌশলে সৈন্য সাজানো / প্রকটিত : স্পষ্ট বা ব্যক্ত হয়েছে এমন / অভিপ্রায়ে : ইচ্ছায়, উদ্দেশ্যে / অবমাননা : অপমান / মুখপানে : মুখের দিকে / কুলাঙ্গার : বংশের কলঙ্ক /অনুসন্ধানে : খোঁজ, খুঁজে / বিজ্ঞ : জ্ঞানী ব্যক্তি / ভীত : ভয় পেয়েছে এমন / লক্ষণ : চিহ্ন / চিরাগত : বহুকাল ধরে চলে আসছে এমন / কাপুরুষ : ভীতু / যষ্টি : লাঠি / শাস্ত্রানুসারে : নীতি মেনে / ঠেঙ্গা : লাঠি / সকাতরচিত্তে : দুঃখভরা মনে / ধাবমান : দ্রুতগতিতে যাচ্ছে এমন / বক্তব্যসকল : বলার বিষয় / ক্ষুৎপিপাসা : খিদে ও তেষ্টা / উন্নতি : অগ্রগতি / প্রশংসা : গুণগান, সুখ্যাতি / সহায় : সাহায্যকারী, সমর্থক / প্রহার : মারা / অধার্মিক : পাপী / তদপেক্ষা : তার চেয়ে / দণ্ড : শাস্তি / কৃপণ : কিপটে / অগৌরব : নিন্দা / মুষ্টি-ভিক্ষা : এক মুঠো পরিমাণ ভিক্ষা / শিরোমণি : শ্রেণির মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি / পণ্ডিত : জ্ঞানী ব্যক্তি / কৃশ : রোগা / অস্থি : হাড় / পরিদৃশ্যমান : দেখা যাচ্ছে এমন / মন / সকরুণ : কাতরতার সুর আছে এমন / উপবাস : না খেয়ে থাকা / নিশ্চয়তা : নিশ্চিত অবস্থা / দয়াহীনতা : দয়া নেই এমন অবস্থা / দূরদর্শী : যিনি ভবিষ্যৎ দেখতে পারেন / আফিংখোর : যিনি আফিমের নেশা করেন / সমাজবিশৃঙ্খলা : সমাজের নিয়ম ভেঙে যাওয়া / সোশিয়ালিস্ট : সমাজতন্ত্রবাদী, যাদের মতে সকলেই সমাজের সম্পদের সমান অধিকারী / নির্বিঘ্নে : কোনো বাধা ছাড়াই / জলযোগ : জলখাবার / ধর্মাচরণ : ধর্মনীতি মেনে আচরণ করা / কস্মিনকালে : কোনো কালে / কর্তব্য : দায়িত্ব / স্বচ্ছন্দে : নিজের ইচ্ছায়, অনায়াসে / অদ্য : আজ, এখন / পরিত্যাগ : ছেড়ে দেওয়া / ভাণ্ডারঘর : ভাড়ার ঘর, যেখানে খাবার ও রান্নার সামগ্রী রাখা হয় / নীতিবিরুদ্ধ : নিয়মবিরুদ্ধ, অনৈতিক / পতিত : পথভ্রষ্ট, সমাজ থেকে বিচ্যুত ব্যক্তি / পাঠার্থে : পড়ার জন্য / মহিমা : মাহাত্ম্য / নৈয়ায়িক : ন্যায়শাস্ত্রে পণ্ডিত।
❖ বিড়াল প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর পর্ব :
আমি আগেই বলেছি একাদশ শ্রেণির প্রথম সেমিষ্টার বাংলা পরীক্ষায় 40 নম্বরের মধ্যে প্রবন্ধ থেকে মোট 5 টি MCQ প্রশ্ন আসবে। তাই 5 নম্বর পেতে চাইলে 'বিড়াল' প্রবন্ধটি ভালোভাবে পড়তে হবে। সুতরাং 'বিড়াল' প্রবন্ধ থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর পড়তে চাইলে নিচে দেখুন লিংক দেওয়া আছে। তবে PDF নিতে চাইলে এই ওয়েবসাইটের উপরে Menu Option-এ ক্লিক করে দেখুন।
🔹লেখকের শেষ মন্তব্য : আমাদের প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির প্রথম সেমিষ্টার সাজেশন ই-বুকটিতে(PDF) বোর্ডের নতুন সিলেবাস ও নতুন প্রশ্নপত্রের নিয়ম মেনে প্রতিটি অধ্যায় থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সহজ ও পরিষ্কারভাবে সাজানো হয়েছে। তাই একাদশ শ্রেণির প্রথম সেমিষ্টার সাজেশন ই-বুক(PDF)গুলি নিতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা, আমাদের ওয়েবসাইটের উপরে Menu Option-এ ক্লিক করে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিতে পারেন।
File Details :
PDF Name : বিড়াল প্রবন্ধের বিষয়বস্তু PDF
Size : 1 MB
No. of Pages : 4
Mode : Read-only (Online)
Download Link : Click here To Download PDF
| আরো পড়ুন | প্রশ্নোত্তর |
|---|---|
| 1. চারণ কবি কবিতার বিষয়বস্তু PDF | Click here |
| 2. পুঁইমাচা গল্পের বিষয়বস্তু PDF | Click here |
| 3. সাম্যবাদী কবিতার বিষয়বস্তু PDF | Click here |
| 4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কবিতার বিষয়বস্তু PDF | Click here |
Regards,
WB Semester Team
Registered under MSME (Udyam), Govt. of India
All Legal Rights Reserved
Call & WhatsApp : 9883566115
